তাজমহল দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৩৯
প্রিমা ফারনাজ চৌধুরী
সবাই খেতে বসছিল ঠিক তখুনি কলিং বেল বেজে উঠলো। তাসনুভা বলল,”আমি দেখছি।”
দরজা খোলামাত্রই সে আনিসকে দেখতে পেল। আনিসের হাতে একটা থলে। তাতে শাকসবজি আর অনেক বাজার সদাই দেখা যাচ্ছে। শাহিদা বেগম পাঠিয়েছেন। তাসনুভা জানতে চাইল,”বাড়িতে গিয়েছেন?”
“হুম।”
“আর আমাকে ফোন দিতে মনে নেই?”
“আমি তাড়াহুড়ো করছিলাম এখানে আসার জন্য। ফোনের দিকে মনোযোগ ছিল না। চার্জও ছিল না। রাগ করো না। খাওয়াদাওয়া হয়েছে?”
“মাত্র বসেছি।”
“আচ্ছা যাও। খেয়ে নাও। আমি খেয়ে এসেছি।”
“আশ্চর্য খেয়ে এলেন কেন? আমি ভাইয়াকে বলেছি আপনি এখানে খাবেন।”
“আচ্ছা চলো আমি ওকে বুঝিয়ে বলবো।”
তিতলি খেতে খেতে শাওনকে বলল,”শাওন ভাই আপনার আরও দুটো ভিডিও করার কথা। এর পরের গানটা কি হবে?”
শাওন বলল,”মনের যে নাই কোনো কাম রে বন্ধু।”
“মনেরও আবার কাজ থাকে?”
“তা জানি না।”
“আপনি দেব-এর গানের পাগল কেন?”
“আমার ভালো লাগে।”
“ভাইয়ে তুমি আজকে একটা গান গাইবে?”
তৌসিফ খেতে খেতে মাথা নাড়লো।
“কেন কেন? একটা গান গাইবে আজকে প্লিজ প্লিজ? ওই গানটা। মনের কিনারে চলে আয়। এলোমেলো করে দে আমায়।”
তাসনুভা বলল,”তুমি পড়া মুখস্থ করতে পারো না। কিন্তু তোমার অন্য সব মুখস্থ হয়ে যায়। সব গানের লিরিক্স তোমার মুখস্থ।”
তৌসিফ বলল,”তুই বড়ো বোন হয়ে করিস কী? ধরে দুটো দিতে পারিস না?”
তাসনুভা তিতলির দিকে তাকালো।
“তিতলি তাড়াতাড়ি খাও। খেয়ে বাবুকে কোলে নাও। শাইনা খেতে আসবে।”
“আনিস ভাই আছে না? উনাকে দাও। আমার খেতে সময় লাগে।”
“উনি বাচ্চা সামলাতে পারবেন না। কথা কম বলবে।”
তিতলি হাড্ডিতে কামড় বসালো। তৌসিফকে বলল,”ভাইয়ে তুমি সত্যি গান গাইবে না?”
“ধরে দেব একটা। আমি কি গায়ক যে গান গাইবো?”
“তুমি তো মাঝেমধ্যেই বলো তিতলিনী এদিকে আয়। তোকে একটা গান শোনাই। কি করে তোকে বলবো তুই কে আমার।”
ধুম করে একটা কিল বসিয়ে দিল তৌসিফ। তিতলির কাশি উঠে গেল। সে কাশি সামলে তৌসিফকে উল্টো একটা কিল বসিয়ে দিল।
তাসনুভা চেঁচিয়ে বলল,”মেজো ভাইয়া দেখো এরা মারামারি করছে।”
তাজদার গর্জন করে উঠলো পাশের রুম থেকে।
“সমস্যা কী? দুটোকে কান ধরে বের করে দেব।”
তিতলি বলল,”ও আমাকে আগে মেরেছে।”
তাজদার বলল,”তৌসিফ তুই কি ছোটো বাচ্চা?”
তৌসিফ কিছু না বলে খাওয়া শেষ করে উঠে গেল ঝটপট। যাওয়ার সময় তিতলির মাথায় চড় মেরে দিল। তিতলি অভিশাপ দিল,”তোর জীবনেও বিয়ে হবে না তৌসিপ্পে।”
শাওন তাদের ঝগড়াঝাটি দেখে মনে মনে বলল,”মেয়েমানুষ ঝগড়া করার জন্য সেরা রে।”
তাজদার শাইনা দুজনেই খেতে এল। বাবু আনিসের কোল থেকে তিতলির কোলে গিয়েছে। তিতলির চুল টেনে ধরেছে। আজকাল চুল ধরলে সে আর চুল ছেড়ে দেয় না। তাজদার চেয়ার টেনে বসতে বসতে আনিসকে বলল,”চলে আয়।”
“আরেহ না। আমি খেয়ে এসেছি।”
“আরও একবার খাওয়া যায়।”
“অসম্ভব।”
তাসনুভা বলল,”থাক আর বলার দরকার নেই। উনি না খেয়েও তো আসতে পারতো।”
শাইনা বলল,”আম্মা নিশ্চয়ই জোর করেছে। না খেয়ে বেরোতে দেয় না।”
তারা তিনজন বসে খেয়ে নিল। তাসনুভা অল্প করে খেয়ে আগেভাগে উঠে গেছে। বাবুকে নিয়ে তিতলি, তৌসিফ আর শাওন বাইরে চলে গিয়েছে। নিশ্চয়ই তিতলির আবদারে। খাওয়াদাওয়া করে তার একটু হাঁটাহাঁটি করতে হয়। ইদানীং ভীষণ গুলুমুলু হয়ে যাচ্ছে সে। তার বরের খুব কষ্ট হবে কোলে নিতে। বরের কথা সে খুব ভাবে এখন থেকে।
তাসনুভা এসে দেখলো আনিস একা একা বসে ফোনে টিপছে। তাসনুভা বলল,”আপনি অফিস থেকে আজ দেরীতে ফিরেছেন।”
আনিস মাথা তুলে তাকালো।
“হ্যাঁ, কলিগদের সাথে ছিলাম। সবারই দেরী হয়েছে আজ।”
আনিস আবারও ফোনে চোখ রাখলো। আর কিছুক্ষণ পর ফোন ধরা যাবে না। তাই সময়ের মধ্যে তার কাজ সেড়ে নিচ্ছে। তাসনুভা বলল,
“সেখানে নাহিদা ফাইজাও ছিল?”
“হুম।”
“ওহ, আপনার ওই কলিগটা অনেক সুন্দরী।”
আনিস উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,”ওই কলিগটা?”
তাসনুভা অন্যত্র মুখ ফিরিয়ে রেখে বলল,”ইয়েস।”
আনিস কপাল কুঁচকে বলল,”হ্যাঁ সুন্দর। এখন?”
তাসনুভা ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলল,”আবার সুন্দরও বলছেন?”
“তুমিই তো বললে সুন্দরী।”
“আপনি আমার সাথে কোনো কথা বলবেন না।”
“কার সাথে বলবো?”
তাসনুভা রেগে যাচ্ছে। সে কথা বলতে বারণ করেছে বলে তৎক্ষনাৎ কার সাথে কথা বলবে সেই সুযোগ খুঁজবে? লম্পট পুরুষ মানুষ! বিয়ের আগে তো দেখে ভদ্রলোক মনে হয়েছিল।
আনিস তার হাত ধরে সামনে এনে বসালো।
“বসো, তুমি বোধহয় রেগে আছ।”
“না আমি ভীষণ আনন্দে আছি। হাসছি। এই দেখুন।”
তাসনুভা জোরপূর্বক হেসে দেখালো। আনিস বলল,”তাও ভালো। তুমি তো হাসো না সহজে।”
“কারণ আছে।”
“কি কারণ?”
তাসনুভা গম্ভীর মুখে বলল,”কারণ হাসলে স্মাইল লাইন পড়ে।”
“স্মাইল লাইন পড়লে তো ভালোই। সামান্য স্মাইল লাইনের জন্য তুমি হাসবে না? হাসলে তোমাকে ভালো লাগে।”
“থ্যাংকস। চেষ্টা করবো। আমি আপনাকে একটা কথা বলতে চাই।”
“বলো।”
“আমি আর বাড়ি ফিরবো না।”
আনিস একটু চমকালো।
“মানে?”
“মানে আপনার এই ফোন, কাজ, কলিগ আর বন্ধু বান্ধবের উপরে যেদিন আমি প্রায়োরিটি পাব সেদিন ফিরবো। আমি এখানে থাকব। আর মাঝেমধ্যে আমাদের বাড়িতে যাব। টেক ইয়োর টাইম আনিসুজ্জামান।”
আনিস ফোন রেখে দিয়েছে। সর্বনাশ! এই মেয়ে তো তাকে হাড়জ্বালানো জ্বালাবে।
তাসনুভা সোফা থেকে উঠে চলে যাচ্ছিল। আনিস তার হাত ধরে ফেললো।
“চলো।”
তাসনুভা অবাক হলো,”কোথায়?”
“তোমাকে সময় দিতে হবে। এখনো দোকানপাট খোলা। খাওয়াদাওয়া করবে, ঘুরবে। দিনের বেলায় সময় দেয়া হচ্ছে না। অফডেতেও কাজ থাকে প্রচুর। চলো। রাগারাগি দূরে রাখো। এইসব সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।”
তাসনুভা হাত ছাড়িয়ে বলল,”এইসব চাকরি টাকরি আমার ভালো লাগেনা। সারাক্ষণ ওখানেই থাকেন আপনি। সারাদিন চলে যায় কাজে আর কাজে। আমরা ঘুরতে যাব কখন? আমার ইচ্ছে ছিল আপনার পাসপোর্ট চলে এলে বাইরে ঘুরতে যাব।”
আনিস তার হাত ধরে বলল,”আচ্ছা যাব একসময়। এখন চলো। আমি তাজকে ফোনে জানিয়ে দেব। চলো চলো।”
তাসনুভা বলল,”ব্যাগ?”
“কিচ্ছু দরকার নেই।”
শাইনা খাওয়াদাওয়া সেরে ফিরে এসে দেখল কেউ নেই। ঘরটা ফাঁকা। এরা সবাই গেল কোথায়?
“বাবুকে কোথায় নিয়ে গেল? একটু দেখবেন?”
তাজদার নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল,“ঘুরছে। তুমিও যাবে নাকি?”
শাইনা ক্লান্ত হয়ে বলল,“নো। আমার ঘুম পাচ্ছে। আমি শুয়ে পড়ছি। আপনি আপনার মেয়েকে নিয়ে আসবেন। গুডনাইট।”
বলেই সে আর পেছনে তাকাল না। ধীর পায়ে হেঁটে ঘরের দিকে চলে গেল। তাজদার বিরক্ত স্বরে বলল,“আমি এখন ওদের কোথায় খুঁজতে যাব? আবারও ঝড়বৃষ্টি নামতে পারে। হুট করে চলে গেল কোথায়?”
“নিচেই আছে ওরা। খুঁজে দেখুন।”
তাজদার পায়চারি করতে করতে ফোন দিয়ে যাচ্ছে তৌসিফ আর শাওনকে। তৌসিফ ফোন রিসিভ করে বলল,
“আমরা সবাই একসাথে আছি। বৃষ্টি নামার আগে ফিরে যাব। তুমি শাইনাকে নিয়ে আসতে পারো চাইলে। আমরা এখন ফিরছি না। বাবু হাসিখুশি আছে। কাঁদছে না।”
তাজদার বলল,”বাতাস বইছে?”
“হালকা।”
“ওর ঠান্ডা লাগতে পারে।”
“লাগবে না। সারাক্ষণ মেয়েকে ঘরের ভেতরে বসিয়ে রাখবে নাকি? তুমি চলে গেলে তোমার মেয়ে গোটা পাড়ায় টোটো করে সবার কোলে ঘোরাঘুরি করে। তুমি ঘুমাও।”
তৌসিফ ফোন রেখে দিল। তাজদার কিছুক্ষণ সোফায় বসে রইলো। বাবা, চাচা, বড়ো মামা শেষে রায়হানের সাথে কথা বলে ঘরে গেল। দরজায় খিল দিয়ে দেখলো শাইনা ঘুমিয়ে পড়েছে। কাজবাজ রান্নাবান্নার পর সে ক্লান্ত। ঘুমটা জরুরি।
বৃষ্টি হওয়ায় ঠান্ডা লাগছে বেশ। সে শাইনার গায়ে লেপ টেনে দিয়ে কিছুক্ষণ পা টেনে পিঠের নিচে বালিশ দিয়ে বসে রইলো। ঘুম আসছে না। নানান দুশ্চিন্তা মাথায় খেলা করছে। শাইনা এখানে একা একা থাকতে পারবে কিনা।
নুভা থাকবে শো রুমে। তিতলির উপর এখনো ভরসা করা যায় না। পরক্ষনেই মনে পড়লে শাহিদা বেগমের কথা। তিনি আসবেন কাল। মেয়ের সাথে কিছুদিন থাকবেন। সবাই আশ্বাস দিয়েছে চিন্তা না করতে। সবাই আছে। মা মেয়েকে দেখেশুনে রাখবে।
সে পিঠের নিচ থেকে বালিশটা টেনে বের করে মাথার নিচে হাত গুঁজে শুয়ে রইল। ঘরের আলো নিভে এসেছে, চারপাশ ধীরে ধীরে নীরব হয়ে যাচ্ছে। সে ভাবলো, আম্মুকে একবার কল দেবে কিনা? ফোনটা হাতে নিল। ডায়াল করার আগমুহূর্তে থেমে গেল। ফোনটা আবারও রেখে দিল।
কিছুক্ষণ পর শাইনা নীরবে এগিয়ে এসে তার বুকের ওপর মাথা রাখল। তাজদারের বাহুর বেষ্টনীতে নিজেকে গুঁজে নিতে নিতে সে অস্ফুট স্বরে কী যেন বলল। বোঝা গেল না।
তাজদার আলতো করে তার কপালে চুমু এঁকে চোখ বন্ধ করল। মাঝরাতে স্বপ্নে দেখল লন্ডনের এয়ারপোর্টে শাইনা নামছে তাজনাহাকে কোলে নিয়ে। আর সে দাঁড়িয়ে আছে একটু দূরে, তাদের অপেক্ষায়। শাইনা তাকে দেখামাত্রই হাসছে। বাবুও হাত নাড়ছে।
ড্রয়িং রুমে তৌসিফ তিতলির গলার আওয়াজ শুনে চোখ ছুটে গেল। সে দরজা খুলে বেরিয়ে এসে ঘুমন্ত বাবুকে কোলে নিয়ে ঘরে এল। বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে রেখে কিছুক্ষণ হেঁটে হেঁটে ছোট্ট গাল, কপালে আদরে ভরিয়ে দিল। তারপর কটে শুইয়ে দিয়ে শাইনাকে ডাকলো। শাইনা ঘুম জড়ানো চোখে বলল,
“কি হলো?”
“একটা স্বপ্ন দেখেছি মমতাজ। তাকাও।”
“আরেকটা বিয়ে করেছেন। জানি।”
তাজদার আর কিছু বললো না। ভীষণ রেগে গেছে সে। তাকে কি মনে করে এই মেয়ে? তার এত আদুরে বউ থাকতে সে আবার বিয়ে করবে কোন দুঃখে?
শাইনা প্রায় অনেকক্ষণ পর চোখ মেলতেই দেখলো মেয়ে হাত পা নেড়ে খেলছে। আর তার বাবা ঘুমিয়ে। মাথাটা কাত হয়ে আছে। সে ধীরেধীরে আলতো হাতে মাথাটা বালিশে তুলে দিয়ে কপালে চুম্বন করলো। তাজদার আচমকা বুকে হাত ভাঁজ করে পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো। শাইনা তার বাহুতে থুঁতনি ঠেকিয়ে বলল,
“জেগে থেকে আদর নেয়া হচ্ছে!”
সে তাজদার চুলে হাত গলিয়ে দিল।
“স্বপ্নে কি দেখলেন? বাবুমশাই। এমা ঘুমিয়ে পড়েছে নাকি?”
“আমি ঘুমাচ্ছি। নো ডিস্টার্ব।”
সে শাইনাকে সরিয়ে দিতে চাইলো। শাইনা তাকে শক্ত হাতে ফিরিয়ে এনে তার বুকের উপর শুয়ে আঙুল দিয়ে মুখে আঁকিবুঁকি করতে করতে বলল,
“স্বপ্নে নিশ্চয়ই দেখেছেন আমার কোমরে চিমটি কাটছেন। গাল ছিঁড়ে দিচ্ছেন। অসভ্য অভদ্রলোক।”
বলতে না বলতেই শাইনা নিজের কোমরে বেশ জোরে একটা চিমটি টের পেল। ফলস্বরূপ ভীষণ রেগেমেগে সে তাজদার সিদ্দিকী গালে কামড় বসিয়ে দিল। তারপর সরে গিয়ে কোমরে হাত বুলাতে বুলাতে বলল,
“উফ পুরুষ মানুষ কিভাবে এত জোরে চিমটি কাটে। এইসব তো মেয়েমানুষের কাজ।”
তাজদার ফোনের স্ক্রীনে নিজের চেহারা দেখতে লাগলো। তারপর শাইনার দিকে চেয়ে বলল,
“দাঁত বত্রিশটার মধ্যে বিশ পঁচিশটা বসিয়ে দিয়েছ। এই মুখ নিয়ে আমি লন্ডন ফিরবো কি করে? মানুষ কি বলবে?”
“মাত্র পঁচিশ? তাহলে তো বত্রিশটা দাঁত বসানো জরুরি।”
সে তাজদারের দিকে তেড়ে এল। তাজদার বালিশ দিয়ে ধমাধম মারলো তাকে। শাইনা তার বালিশ তুলে তাকে দ্বিগুণ মারলো। বালিশ ছোঁড়াছুড়ি হতে গিয়ে যখন তাজনা কেঁদে উঠলো তখন দুজনকেই শান্ত হয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লো। শাইনা ধীরেধীরে মাথা তুলে একচোখ মাঝেমধ্যে খুলে খুলে দেখছে তাজনা আর কাঁদছে কিনা। তাজদারও একচোখ খুলতেই শাইনার সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল। সাথে সাথে দুজনেই একসাথে হেসে উঠলো। শাইনা হাত ছুঁড়তে ছুঁড়তে তার গলা জড়িয়ে ধরলো। তাজদার সিদ্দিকী তখুনি তার গালে ঠোঁট চেপে ধরে বলল,
“কাল থেকে আর পাবেন না। স্টক আউট।”
পরদিন সন্ধ্যায় তাজদার এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছে। এয়ারপোর্টে রওশনআরাকে নিয়ে আসার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে রায়হান। শেষপর্যন্ত সে সফল হয়েছে। তাজদার পুরোটা সময় মন খারাপ করে বসেছিল গাড়িতে। এইবারের যাত্রাটা সবচেয়ে জঘন্য। তবে শেষমুহুর্তে মাকে এয়ারপোর্টে দেখে সে কিছুটা স্তব্ধ হয়ে গেল। খুশি হলেও তা প্রকাশ করলো না।
রওশনআরা বেশিক্ষণ ছেলের দিকে চেয়ে থাকতে পারলেন না। চোখের পাতা কাঁপছে।
সবার ইশারায় তাজদার নিজেই গেল মায়ের কাছে। সালাম করে বলল,”এলাম।”
রওশনআরা ভেবেছেন সে বলবে, তার বউ বাচ্চাকে দেখে রাখতে। কিন্তু সে তা বললো না। শুধু এটুকু বলল,
“আপনার রাগ পড়লে নাতনিকে একবার গিয়ে দেখে আসবেন। কিছুদিন পর হয়তো দাদা দাদু ডাকা শিখবে। আসি তবে।”
রওশনআরা বোরকার ওড়নায় নিজের চোখদুটো আলতোভাবে চেপে ধরলেন।
“তাজ দাঁড়াও।”
তাজদার থেমে গেল। রওশনআরা চোখের কোণটা মুছতে মুছতে নিজের ব্যাগ খুলে কিছু খুচরো হাজার টাকার নোট বের করে দিলেন। এই বয়সে, এই অবস্থায় এসব টাকা তাজদারের কোনো প্রয়োজন নেই। তবু ছোটবেলা থেকে মা যেমন করে দিয়ে আসছেন, আজও তেমন করেই দিলেন।
আর তাজদার এইবারও নিল। মায়েদের কাছে ছেলেরা কোনোদিন বড়ো হয় না।
আর মায়ের হাতের খুচরো টাকা সন্তানের কাছে কখনোই অপ্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে না।
টাকাগুলো নিয়ে সে নিজের হাতের মুঠোর দিকে তাকালো। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর পকেটে ভরে এগিয়ে এসে মাকে জড়িয়ে ধরলো।
তাজমহল দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ৩৮
“আম্মু..।”
রওশন তার ডাকে হু হু করে কেঁদে উঠলেন এইবার। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে পিঠে হাত বুলিয়ে ছেলের মাথায় চুমু খেলেন।
তাজদার মায়ের হাত নিয়ে চোখে ছুঁয়ে বলল,”সরি। আমি এইবার দেরীতে ফিরবো। তাজনা আর ওর মাকে যত্ন করে পাঠিয়ে দেবেন ফাইনাল পরীক্ষার পর। আমি তিতলির বিয়ের সময় আসবো, ইনশাআল্লাহ।”

Comment:eto deri keno korchen taratari plz din apu
Comment: ar koto deri korben 10 din to hoye gelo
23 feb tau ki golpo dauar smy hoy nai lekhikar ar koto deri korbe boin