Home তিন তরঙ্গের আলোকছটা তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ১৮

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ১৮

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ১৮
রাফিয়া জান্নাত রিফা

সকলেই টিকিট কেটে চড়কিতে উঠেলো। কপালের লিখন ইতিকে আলবানের পাশেই বসতে হলো।দির্শক বিথীর বসেছে, কারণ একটাই ইতি আলবানের পাশে বসেছে!নিধি বসেছে আর্দ্রের সঙ্গে, আর ওদিকটায় সুন্দর নিঝুমের পাশে জায়গা পেয়েছে, মুহিন বসেছে পিকির সাথে,সুহানা তার এক চেনা পরিচিত বান্ধবীর সঙ্গে বসেছে।
এখন শুধু বাকি রইল সুন্দরের বন্ধু নিন্দুক।সে তো বিথীর পাশে বসার জন্য তেড়ে এল, কিন্তু তখনই তড়াৎ করে দির্শক খপ করে বসে পড়লো!বিথী অন্য পাশে মুখ ঘুরিয়ে মিষ্টি করে হাসলো।দির্শক নিন্দুকের দিকে তাকিয়ে শুধু এক চিলতে মুচকি হাসি দিলো।
চরকি আস্তে করে ঘুরতে লাগলো,ইতি, বিথী,নিধি যেবারই চরকিকে উঠেছে সে বারই কোন না কোন ইতিহাস করেছে,এবার কি করে তাই দেখার পালা?
ইতি তো মাথা নিচু করে এক ধেয়ে তাকিয়ে বিরবির করে বললো,,

__ আগের বারের মতো ভয় পেলে চলবে না ইতি, দাবানল ভাইয়ের সামনে একদইম ভয় পেলে চলবে না, হার্ট অ্যাটাক হয়ে মরলে মরবি তাও টু শব্দটি ও করবি না। কেমন?
নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দিলো।
নিধি তো জড়োসড়ো হয়ে আর্দ্রের গা ঘেঁষে বসে আছে, এদিকে আর্দ্র নিধিকে ধরতেও পারছে,কোন এক দোটানায় বেধে রইল আর্দ্র,বারবার শুধু নিধি মুখের দিকে তাকাতেই থাকলো।
এবার চরকি বেশ জোরে জোরে ঘুরতে লাগলো, মুহূর্তেই বিথীর বুক ধকধক করতে লাগলো মনে হলো এই বুঝি পড়ে যায় যায় অবস্থা,আর কিছুই না ভেবে এতক্ষণ যাবৎ দির্শকের কাছ থেকে নিজের দুরুত্বকে ঘুচে দির্শকের বাহু আঁকড়ে ধরলো ভয়ে চোখ বন্ধ করে রাখলো বিথী।দির্শক মোটেও ভয় পাচ্ছে না, বরং বিথী যাতে ভয় পায় এটাই মনে মনে ভাবছিল ,ব্যাস হয়েও গেল।

ইতি ও আর ভয়কে দমিয়ে রাখতে না পেরে তড়াৎ করে আলবানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে মুখ লুকিয়ে রাখলো আলবানের পিটে, এমনভাবে জড়িয়ে ধরেছে যে আলবান নড়তেও পাচ্ছে না।ইতির থেকে নিজেকে ছাড়ানোর অনেক চেষ্টা করলো আলবান কিন্তু পেল না, সর্বশক্তি দিয়ে জড়িয়ে রেখেছে আলবানকে,,
__ এতো ভয় পাশ তা ওঠার দরকার টা কি ছিলো?
ইতি ভয়ে তটস্থ, উওর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না। আলবান আবার গর্জে বলে,,,
__ আরে আসতে করে ধর, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে?
ইতি এবার আলবানের শার্ট হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরলো,আলবান আবার বলে,,
__ এবার শার্টটাকে কেন কষ্ট দিচ্ছিস বল তো?
ইতি ঠোঁট তিরতির করে কাঁপতে লাগলো ভয়ে মনে হচ্ছে এই বুঝি পড়ে যায় যায় অবস্থা,এবার জোরে জোরে চিৎকার করতে লাগলো।
এবার আলবানের প্রচুর রাগ হলো,এখানে ভয়ের কি আছে সে এটা বুঝতে পারছে না?কই তার তো ভয় লাগছে না?আর এতই যদি ভয় লাগে তো এই চরকিতে ওঠার কি দরকার ছিল?আলবান বিরক্তি প্রকাশ করে বলে,,,

__ এই বয়সে কানটাকে কালা করে দিস না ইতি,ধিরে চিল্লা কানে এসে প্রচুর পরিমাণে লাগছে ঢকঢক করে উঠছে কানটা।
ইতি কানে আলবানের কথা খানা পৌঁছালো ও না,পোছাবেই বা কি করে যে জোরে চিৎকার করছে।আলবান দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আকাশ পানে তাকালো, তারপর নিজের এক হাত ইতির পিটে রাখলো,পিটে আলতো করে মোলায়েম করতে লাগলো, এবং শীতল কন্ঠে বলল,,
__ কিছু হবে না ইতি,আমি আছি তো?
__
বিথীর ভয় যেমন হচ্ছে রাগো তেমনিই হচ্ছে,চরকিতে বিথী উঠতেই চায় না কিন্তু ইতি,নিধি প্রতিবছরই জোর করে তুলে বিথীকে,প্রতেক বার যা ইচ্ছা তাই করে গালিগালাজ করে চরকির ইঞ্জিন স্টাট করা লোকদের, সামনাসামনি গিয়ে ও সে কি যে ঝগড়া করছিল। কিন্তু এখন?এখন তো দির্শক স্যার তার সাথে আছে যতই হোক স্যার তো, ভয়ে দির্শকের বাহুতে মুখ গুঁজে রেখেছে বিথী,না পারলো না নিজেকে আটকাতে,মুখ দিয়ে স্পট স্বরে জোরে জোরে বলল,,,

__ মাদারবাহিনী,খালি নামতে দে আমারে,দেখ তোর কি অবস্থা করি, বাঁচতে চাস তো করে চড়কি আস্তে ঘোরা।শালা কথা শোন রে বাল। মাদারেরবাচ্চা আগের বার কি অবস্থা করেছিলাম তা ভুলে গেছিস?
দির্শক স্পট সব কথা শুনলো, এখন মুখে হাত চেপে হাসছে,দির্শক এক হাত দিয়ে বিথীর বাহু শক্ত করে চেপে রেখেছে,দির্শক হাঁসি সংযত রেখে বলে,,,
__ ভয় নেই, আমিও ধরে রেখেছি,শুনছো কি? শক্ত করে ধরে রেখিছি ,পড়ে যাওয়ার চান্স নেই, আই থিঙ্ক তুমি পড়লে আমাকে নিয়েই পড়বে?
বিথী লাগছে ভয় এটা কি আদৌ পড়ে যাওয়ার ভয় ?না এটা পড়ে যাওয়ার ভয় নয়,এতো জোরে চরকি ঘোরার ফলে মাথা চক্কর দিচ্ছে,মনে হচ্ছে শুন্য ভাসছে,এটাই মুল ভয়ে কারণ।

এতো বছরের মেলায় কখনো কোনদিনই সুন্দর চড়কিতে উঠেনি। কারণ হলো, ভয়ে? চড়কিতে চরলে মানুষ এতো চিল্লিচিল্লি কান্না করে যে এতেই সুন্দরের কষ্ট বুক ফেটে যায়।তাই সে ও আর চড়কিতে ওঠার সৎ সাহস দেখায় নি। কিন্তু আজ তার শালির একমাত্র বোন চড়কিতে উঠছে বলে কথা,এখন সে কি করে না উঠে থাকতে পারে? অনেক সাহস নিয়ে উঠেছে,বেচারা ভেবেছিল নিঝুম ভয় পেয়ে তাকে আকড়ে ধরবে,এটা অনেকটা সিনেমার মতো হবে, সুন্দরের তখন প্রেম প্রেম পাবে,যাকে বলে জমে ঘি একেবারে? কিন্তু নিঝুমের মধ্য তেমন কোন রিয়েকশন দেখলোই না সুন্দর, নিঝুম তো সুন্দরের থেকে মুখ ফিরিয়ে লোহার গ্রিল রডে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে, কিন্তু সুন্দর ভয়ে অবস্থা খারাপ,সে ও একই ভাবে চড়কির গ্রিলে হাত দিয়ে রেখেছে,নিঃশব্দ কান্না করছে আরা বলছে,,,

__ আল্লাহ এই যাএায় রক্ষা কইরা লও,আর জিন্দেগিতেও এই চড়কি ফরকি তে উঠমু না। আমার জাঙ্গিয়ার কসম।
কিছুক্ষণ পড়ে চড়কি আরো জোরে ঘুরতে লাগলো, সুন্দর এবার শরীরে ভারসাম্য হারিয়ে নিঝুমের কোলে পড়ে গেল, সেখানেই নিঝুম পেট বরাবর দু হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে, কাঁদো স্বরে, আবার রাগ মিশ্রিত কন্ঠে জোরে জোরে বলতে লাগলো,,,
__ নাউয়া চড়কি থামা রে,নামলে তো খবর খারাপ কইরা ছাড়মু, বালছিড়া কথা শোন।ওরে মা বাঁচাও, তোমার একমাত্র ছাওয়ালটারে মাইরা ফালাইলো আম্ময়য়য়য়য়য়।
নিঝুম কটমট করতে রাগে ফোঁস ফোঁস করছে মেয়েটা, তার ও কি কম ভয় লাগছে নাকি,ভয়ের চোটে সে ও তো চোখ বন্ধ করে রেখেছিল। কিন্তু এখন জুটলো আর এক আপদ “এটাকে আস্ত একটা আপদ ছাড়া কিইই বা বলা যায়”,রাগে গর্জে নিঝুম বলে,,,

__ এই অভদ্র লোক আমার পেট থেকে হাত ছাড়ুন, ছাড়ুন বলছি?
সুন্দর হাত জোড় করার মতো করে বলে,,
__ শালির সিস্টার আমার,এমনে কইয়ো না,ভয়ে ইয়ে টিয়ে হয়ে যেতে পারে সিস্টার,একটু ধইরা থাকি?
ছ্যা মানসম্মান শেষ সুন্দরের? চেয়েছিল কি আর হলো কি?এই জীবন?এটাই হয় তার সাথে? নিঝুম আরো গর্জে বলে,,,
__ আরেয়য় এই লোক আমার পেটে কাতুকুতু লাগছে?
সুন্দর ভয়ে তটস্থ হয়ে কাঁপা কন্ঠে বলে,,,
__ এটা ভালো লক্ষণ?
__ কিভাবে??
__ এতে হার্ট ভালো থাকে?
__ কাতুকুতুর সাথে হার্টের কি কানেকশন?
__ ও তুমি বইঝবা না?
নিঝুম বিরক্তি আরো বেরে গেল তাই আর কোন কথা বলল না।নিজেও ভয় লাগতে লাগলো প্রচুর।

নিধি আর আর্দ্র তো রোমান্টিকতার ছড়াছড়ি চলছে, নিধি আর্দ্র তো একটুও ভয় পাচ্ছে না বরং তারা এখন বাংলাদেশের কেন পৃথিবীর কোন প্রান্তেই নেই, তাঁরা তো রোমান্টিকতার ছড়াছড়ি এক কাল্পনিক দেশে প্রেমের বিচরণ করছে।তেমন কিছুই না শুধু জরিয়ে ধরেই আছে,এই আরকি?
হয়েছে অনেক হয়েছে, এখন চড়কির দোল খাওয়ার সময় শেষ এখন সবাই নামছে, প্রত্যেকে মুখ শুকিয়ে খাঁঠ হয়ে আছে,টুলে টুলে চরকি থেকে নামচে সবাই।

ইতি টলতে টলতে আলবানের হাত ধরে নামছে,আলবানের তেমন কোন প্রতিক্রিয়া নেই,বলা চলে চরকি উঠে তার কোন পটপরিবর্তনেরই হয় নি। কিন্তু ইতির প্রচুর বেগে মাথা ঘুরছে,নিধিও সেম অবস্থা আর্দ্র ধরে নামাচ্ছে নিধিকে, নিধি চোখে মুখে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া না থাকলে ও ভিষন পরিমানে মাথা ঘুরছে।
বিথী তো মাথা ঘুরা অবস্থা নিয়েই গটগট পায়ে নামছে,এবার সহ তিন বার পড়ে যেতে ধরলো বিথী তিনবারই দির্শক এসে ধরলো, কিন্তু বিথী তো দমে যাওয়ার মেয়ে না,সে গটগট পায়েই চড়কি পাশে থাকা ইঞ্জিনের ঘরে যেতে লাগলো অর্থাৎ চড়কি যে ঘুরিয়েছে তার মাথা ফাটাতে।

নিঝুম, সুন্দর দুজনেই টুলছে বারবার একে অপরের গায়ে ঢলাঢলি করছে আবার নিজেরাই এঁকে অপরের গা থেকে গা সরিয়ে ঠিক হয়ে যাচ্ছে ,দুইবার নিঝুম সুন্দরের গায়ে পড়লো তো সুন্দর চারবারই নিঝুমের গায়ে পড়েছে, নিঝুম কি এত ভারী শরীরকে বইতে পারে নাকি?তাও চেষ্টা করলো কিন্তু একদমই ফেলায় দিলো না সুন্দর কে।
এদিকে পিকি ও মুহিন এরা মাতালের মতো করে টুলছে,পিকি তো টুলতে টুলতে এঁকে বেঁকে হাঁটছে, এটাকে হাঁটাও বলে না আবার দৌড় ও বলে, বারবার উষ্ঠা খেয়ে পড়ে যেতে ধরেও পড়ছে না, মুহিনের ও একই অবস্থা,
এখন মজার ব্যাপার হলো যে” পিকির লুঙ্গি আবার খুলে গেছে “। খুলে যাবে না আবার ভয়ে সে কি অবস্থা,মুহিন তো পিকিকেই আঁকড়ে ধরে রেখেছিল,এক কথায় দুজনেই দুজনকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে সে কি জোরে জোরে চিৎকার,পিকি যদি জানতো যে চরকিতে উঠলে এমন হয় তবে কখনোই উঠতো না। সেই সময় লুঙ্গি কখন খুলে গেছে তা অজানা পিকির।সেই লুঙ্গির গোছ পেটে চেপে ধরেই টুলে টুলে হাঁটছে।টুলতে টুলতেই আলবানের নিকটে এসে জোরে শ্বাস নিতে নিতে বলে,,,

__ আলবান লুঙ্গি কুলে গেছে, পড়িয়ে দে?
আলবানের ও মাথা ঘুরছে তবে এদের মতো না, এদের সবার অবস্থা দেখে চোখ মুখ কুঁচকে নিলো আলবান।
আলবান আবার পিকি লুঙ্গি ঠিক করে দিতে দিতে বলে,,,
__ এতো শক্ত গিট করে তখন পড়িয়ে দিলাম তাও খুলে কি করে?
পিকি কিছু বলে না সে এখন টুলতে ব্যস্ত,।
বিথি চারকির ইঞ্জিনে গিয়ে গর্জে চিৎকার করে বলে,,,
__ কোন বাল চড়কি ঘুরিয়ে?কে সে?কার এতো সাহস?
ইঞ্জিনের পাশে থাকা লোকটি হকচকিয়ে উঠলো এবং বিথীর দিকে তাকিয়ে বলল,,,

__ তুমিইইই।
__ হ্যাঁ আমি আগের বারের কথা ভুলে গেছোচ।
লোকটা গলার খাদ নামিয়ে বলে,,
__ আমি তো জানতাম এ না যে তুমরা চড়কিতে উইঠছো, তাহলে আস্তে করেই ঘুরাইতাম।
__ তোর আস্তে ঘুরানোর মাইরি বাপ,বাল ছিঁড়া আর একটু হলেই আমার হার্ট অ্যাটাক হতো,চরকিতে কত ছোট বাচ্চা উঠেছিল সে সব দেখেননি,হাতে কি কুড়কুড়ি উঠেছিল।
তখনি বিথীর পিছোন থেকে দির্শক রাগি কন্ঠে হাক ছাড়ে,,,
__ বিথীইইই,এ্যাবু্সাইভ ল্যাংগুয়েজে ইগনোর করো। এভোয়েড সাচ বিহেভইউর,নাউ লেটস গো।
বিথী মুখে ভঙ্গিমা পরিবর্তন করলো,রাগ উবে গেল,সে তো জানেই না যে দির্শক তার পিছনে দ্বারিয়ে আছে, গলার খাদ নামিয়ে বিথী বলে,,,

__ আপনি আমার পিছোনে পিছোন আসতে গেলেন কেন?
দির্শক ক্রুদ্ধ চোখে বিথীর দিকে গর্জে বলে,,,
__ আই সেইড লেটস গো কুইক।
বিথী গলার স্বর নামিয়ে ছোট করে বলে,,
__ আমি পরে যাচ্ছি আপনি যান?
দির্শক এবার রাগ দমিয়ে রাখতে না পেরে ক্রুদ্ধ ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে,,,
__ ফাকিং ইয়ুর মেলোড্রামা,নাউ আম সেইড লেটস গো,আর একটা ওর্য়াড উচ্চারণ করলে, টেইক এ্যাকশন, পুঁতে ফেলবো?

এমন ঝাঁঝালো কন্ঠে আত্না পর্যন্ত কেঁপে উঠলো বিথীর,বুক ধকধক করে উঠলো ভয়ে, শুকনো ঢোঁক গিলতে লাগলো ক্ষনে ক্ষনে, বিথী ভয় পেল?নাহ এটাই বোধগম্য হলো না বিথীর, বিথী কেন দির্শকে ভয় পেলো?ভয়ে দির্শকের পানে তাকানোর ও সাহস হলো না বিথীর।তাও একবার তার চোখ জোরো দেখলো, অত্যধিক পরিমানে লাল সে চোখ,রাগ উপছে পরছে সেই চোখে, চোখে চোখ রাখার সাহস হলো না বিথীর,চোখ নামিয়ে গটগট পায়ে চলে যেতে লাগলো বিথী।
দির্শক বিথীর যাওয়ার পানে তাকিয়ে চোখ বন্ধ জোরে শ্বাস ফেলল,রাগকে কন্ট্রোলে আনলো। হুটহাট এমন রাগ ইদানিং বেশিই হচ্ছে দির্শকের,তবে আগের তুলনায় কম,আগে মাএাতিক্ত রাগ,জেদ ছিলো। সময়ের সাথে তা সব নিয়ন্ত্রনে এসেছে।
এদিকে ইতি পরেছে আর এক মহা ফ্যাশাদে,চারকিতে ভয় পেয়ে আলবানের শার্ট আঁকড়ে ধরেছিল, এখন আলবানের শার্টের তিনটে বোতাম নেই প্লাস শার্টের এক পাশ ছিঁড়েও গিয়েছে।এই নিয়েই ইতি প্রচুর বকা খাচ্ছে আলবানের। আলবান বারবার নিজের শার্টের বেহাল দশা দেখছে আর রেগে মেগে ইতিকে বলছে,,,

__ এত ভয় তা কেন চড়কিতে উঠলি, বারবার বললাম যে আস্তে করে ধর, আমি আছি, কিছু হবে না,তা তো শুনলি না, ইডিয়ট,এখন শার্টার কি অবস্থা দেখতো।রাসকেল?
ইতি কি বা বলবে?এমনি সময় হলে কথা এদিক ওদিক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তর্ক করতে পারতো, কিন্তু এখন,এখন তো পুরো দোষটাই ইতি?বলার কোন জো এ রইল না ইতির, চুপচাপ মাথা নিচু করে আলবানের বকবক শুনলো।

সন্ধ্যা সাতটার বাজছে,একটু আগে মাগরিবের নামাজ শেষ করে তিন বোনেই খাটের উপর বসে আছে। এতো তাড়াতাড়ি মেলা থেকে এসেছে বলে মনটা বেজায় খারাপ হয়ে আছে।আরো একটু ঘোরাঘুরির করা ইচ্ছা ছিল,অথচ তারা মেলার প্রথম থেকেই শেষ প্রান্ত পর্যন্ত এমনকি ভুলবশত ,পাবলিক টয়লেটে ও ঘুরে এসেছে, দোলনায় চড়েছে,চরকি উঠেছিল, স্পিড বোর্ডে উঠেছিল,তাও নাকি কিছুই দেখা হয়নি।

তাড়াতাড়ি মঞ্জিলে আসার কারণ হলো পিকি,তার তো এতো জোরে মুতে চাপ দিয়েছিল তা বলার মতো না, মেলার পাবলিক টয়লেটে গিয়েছিল কিন্তু সেখানে এতো ভীর যে মূএ ত্যাগ করা হয়ে উঠলো না।সে কি লাফালাফি পিকির।মুহিন তো নির্জন জায়গায় ও নিয়ে গিয়েছিল মূএ ত্যাগ করার জন্য, সেখানেও দু একজন মানুষ ছিলো,আবার যথেষ্ট সম্মানের ব্যপার স্যাপার আছে পিকির।সে সব ভেবেই মূএ ত্যাগ করা হলো না। তারপরই সবাইকে তাড়া দিতে লাগলো মঞ্জিলে ফেরার জন্য।সবাই পিকির এহেন কান্ডে রেগে মেগে আগুন। সর্বশেষ মুহিন পলিথিন দিলো, কিন্তু তাতেও পিকি মূএ ত্যাগ করবে না। অবশেষে পিকির এমন এক রোখা কথায় বাড়ি আসতে বাধ্য হয়।
খাটের উপর বসে মেলা থেকে তিনজনেরই কিনে আনা মালা, চুরি,দুল,জামা যত কিছু কিনেছে তা সব একএে করলো।এখন যার যেটা পছন্দ হবে সে সেটাই নিবে।

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ১৭

এদিকে ইতিকে যে চুরি দুল আলবান দিয়েছে তা সে লুকিয়ে রেখেছে অন্যকোথাও,আবার বিথীকে আর্দ্র যে চুরি,দুল আর সুন্দর ফমের তৈরি পাখি,পুতুল দিয়েছে সেও তা লুকিয়ে রেখেছে।নিধি ও আর্দ্র দেওয়া সব জিনিস লুকিয়ে রেখেছে।
বাসাতা,জিলাপি , কুলফি এনেছে। মেলায় ফুচকা চটপটি আইসক্রিম এগুলো কত খেয়েছে তা বলাই বাইরে।এখন বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে কুলফি খাচ্ছে,আর হাবিজাবি গল্প করছে।

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ১৯