তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ২৬
রাফিয়া জান্নাত রিফা
দির্শক কে অনুসরণ করেই তার ঘরে এলো বিথী,দির্শকের সাথে একান্ত ভাবে কথা বলা জন্য সেই সকাল থেকে সময় সুযোগ খুঁজছে বিথী কিন্তু পাচ্ছে না। আলবানের ঘরে ওমন হটকারী সিদ্ধান্ত মোটেও মজার কথা ছিল না ।আসলেই তো তার তো কোন মনের মানুষ নেই,তাকে তো বিয়ে করতে হবে নাকি, হরলিক্স ছেলেটা, সে ও মোটেও খারাপ ছেলে নয়।তাই বলে যে হরলিক্স কে পছন্দ হয়েছে এমন টা না। কিন্তু আলবানের ঘরে ওমন কথা বলার পর দির্শকের এমন রিয়েকশনের কারণ টা ঠিক বুঝলো না বিথী।
দির্শকের ঘরে প্রবেশ করেই দেখলো দির্শক নেই, ওয়াস রুমে গেছে বোধহয়, বিথী বিছানার একটু সামনে দাঁড়িয়ে রইল। ঠিক তখনি বিছানায় দির্শকের সাইলেন্ট করা ফোনে আলো জ্বলে উঠলো কেউ ফোন দিয়েছে বোধহয়। বিথী কি করবে বুঝতে পারছে না,মনে ঘুরপাক খাচ্ছে ফোনটা সে কি ধরবে,নাকি ধরবে না। কিছুক্ষণ ভেবে ফোনটার দিকে এগিয়ে গেল,ফোন হাতে নিয়ে রিসিভ করলো,ফোনটা কানে ধরে চুপ রইল বিথী ফোনের ওপাশ থেকে কেউ একজন দির্শক ভেবে মেয়েলি কন্ঠস্বরে বলতে লাগলো,,,
__বেবস, হোয়াটস রং উইথ ইউ? আর ইউ টেলিং নিথেক্স নট টু লেট, গো টু মি বাংলাদেশ? হ্যাভ ইউ গন ক্রেজি, ডি.কে.? আই’ম ডেফিনিটলি গোইং টু বাংলাদেশ। উই’ল সি ইচ আদার ভেরি সুন। বাই, বেবি,আই লাভ ইউ। উম্মাহ..
ইংরেজিতে ফরফর করে বলা কথাগুলো বুঝতে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হলো বিথীকে, কিন্তু আই লাভ ইউ এর অর্থটা বেশ বুঝতে পারলো,আর চুমু দেওয়ার রিয়েকশন টা।কথা খানা শোনার পর বিথীর কানটা কেমন যেন ঝিম ঝিম করতে লাগলো। বিথী কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনি বিথীর কান থেকে কেউ ঝড়ের বেগে ফোনটা পিছোন দিক দিয়ে টেনে নিল। বিথী বুঝতে বাকি রইল না যে ওটা দির্শকেই ছিল,তাও বিথী সেসবে যেন কোন যায়ই আসলো না,সে তো আই লাভ ইউ” আর চুমুর দেওয়ার ঘোরটাই কেটে উঠতে পারছে না, বারবার রিপিট হয়ে কানে বাজছে কথা খানা।সেভাবে ভাবতেই লাগলো।
দির্শক বিথীর বাহু ধরে এক ঝটকায় নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল, এবং লাল চোখে তাকিয়ে বলল,,
__ এখানে কি চাই?
দির্শকের ওমন জলন্ত চোখ দেখে বিথীর ভয় পাওয়ার কথা ছিল বোধহয় কিন্তু ভয় পেলো না, বিথী ও বড় বড় চোখে তাকিয়ে রইল দির্শকের দিকে,সেভাবেই তাকিয়ে বলল,,
__ এসেছিলাম কোন এক কাজ, কিন্তু এসে যে ভুল করছি তা বুঝতে বাকি রইল না?
__ আমি তোমার শিক্ষক হই আমার সাথে তোমার কি কাজ থাকতে পারে?
দির্শকের হাত থেকে নিজের বাহু ছেড়ে নিয়ে বিথী বলে,,
__ ভুলে গেছি?
এই বলে বিথী রুম থেকে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায় তখনি বিথীর বেনুনিতে টান পড়তেই চোখ মুখ কুঁচকে নিলো ,পিছনে তাকলো দেখলো দির্শক তার বিনুনি টা ধরে রেখেছে, বাঁকা হাসি দিয়ে বিথী বলে,,
__ আমি আপনার স্টুডেন্ট হই,আমার বেনুনি ধরে আপনার কি কাজ থাকতে পারে?
দির্শক বুঝলো যে তা কথা তাকেই ফিরত দিল বিথী,ফট করে বিনুনিটা ছেড়ে দিল দির্শক। দুহাত বুকে গুজে বলল,,
__ হাত ধরার চেয়ে চুল ধরে আটকানোটাই শ্রেয় ছিল।পিছিয়ে আসো?
__ কেনো?
হঠাৎ বিথীর দৃষ্টি মেঝেতে আটকে গেল,বড় বড় চোখ করে দেখলো একটা তেলাপোকা ও একটা টিকটিকি পড়ে। বিথী একবার দির্শকের পানে দেখলো আবার তেলাপোকা ও টিকটিকি পানে তাকলো, বিথী চোখে মুখে কোন প্রকার ভয় ভীতি প্রদর্শন হলো না।দির্শক বোধহয় আশা করেছিল,যে মেঝেতে থাকা টিকটিকি ও তেলাপোকারে দেখে বিথী ভয় পাবে,এবং ভয়ে আঁতকে উঠে দির্শকের কাছে আসবে। কিন্তু আদৌ ও কি তেমন কিছু হলো,না তেম কিছুই হলো না।
তেলাপোকাটা বিথীর দিকেই এগিয়ে আসছে, বিথী সেটাকেই সুক্ষ্ম চোখে দেখছে।দির্শক ও মনোযোগ সহকারে বিথীর দিকে চেয়ে রইল। পরক্ষণেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল বিথী ঝুঁকে তেলাপোকাটাকে হাতে নিয়ে জানালা দিয়ে ফেলে বলল,,
__ দুঃখিত আমি এসব ভয় পাই না?
আবার এসে মেঝেতে পড়ে থাকা টিকটিকিটার লেজ ধরে জানালার কাছে যেতে যেতে বলল,,
__ পরের বার আমাকে ভয় দেখানোর জন্য আসলে,আর একটু বড় হয়ে আছিস।
এই বলে টিকটিকিটাকে জানালা দিয়ে ফেলে দিল।
দির্শক থ মেরে বিথী কান্ডারী দেখলো,দির্শকের চোখে বড় বড় হয়ে গেছে, বিথী এবার দির্শকের দিকে এসে বুকে হাত গুজে,এক ভ্রু উঁচিয়ে বোঝায় “কি”
দির্শক চোখ মুখ ঠিক স্বাভাবিক করে বিথী কে বলে,,
__ ম্যাক্সিমাম মেয়ে তেলাপোকা টিকটিকিকে ভয় পায়,তুমি ভয় পাও নি?
__ আপনার ইন্টারভিউ দিতে আইম নট ইন্টারেস্ট।
কিছুক্ষণ বিথীর মুখে অপলক তাকিয়ে থাকলো পরক্ষণে বাঁকা হেসে বিরবির করে দির্শক বলে,,
__ লাইক দিস।
বিথী ভাবসাব নিয়ে ঠিক রেম্প ওর্য়াকের মতো একটু জোরেই হাঁটতে লাগলো। এদিকে দির্শক হাতে কাউন্ট করতে লাগলো,,
__ এক, দুই,তিন।
তিন বলার সাথে সাথেই বিথী পায়ের সাথে পা প্যাঁচ খেয়ে মেঝেতে পড়ে গেল। বিথী বুঝলো বেশি ঢং এবং ভাব দেখানোর ফল এটা,পা দুটো ছড়িয়ে আছে বিথীর, কোমড়ে বেশ লেগেছে ও কোমড়ের মাঝায় হাত দিয়ে ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো বিথী,,
__ ওমা গেলো গো।
দির্শক ঠোঁট দিপে হাসছে, এগিয়ে আসলো বিথীর সামনে, হাঁটুতে ভর দিয়ে ঝুঁকে বলে,,
__ ওভারএক্টিংয়ের ফল।
বিথী রাগ হলো খুব,তাও নিজেকে সংযত রেখে উঠে দাড়ানোর প্রচেষ্টা চালানো কিন্তু প্রতেকবারই ব্যর্থ হলো।এবার দির্শক তার হাত খানা বিথী দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,,
__ মাই হ্যান্ড নিডস ইউ।
বিথী কিছু একটা ভেবে হাতটা বাড়ালো আবার কিছু একটা ভেবে হাতটা সরিয়ে নিয়ে।নিজেই নিজের হাঁটুতে ভর দিয়ে টেনেটুনে উঠে দাড়ালো, কোমড়ে হাত দিয়ে দির্শকের পাশ কেটে চলে যেতে যেতে বলল,,
__ আই অ্যাম ইনাফ ফর মাইসেলফ।
এই বলে চলে যায় বিথী।দির্শক এখনো সেভাবেই হাত বাড়িয়ে ঝুঁকেই আছে,উঠে দাঁড়িয়ে হো হো করে হাসতে লাগলো দির্শক। সু গভীর কন্ঠে বলল,,
__ মস্তিষ্ক ফাটল,মনে অশান্তির মূল,তুমিই, একমাত্র আমার ভুল।
সুন্দরের মাথা আজ আগুনের মতো গরম।
কাল রাতেই এক ভয়ংকর খবর কানে এসেছে তার প্রিয় বোনটিকে নাকি হরলিক্স নামের এক বীরপুরুষ চুমু খেয়েছে।
বস্তুত, সেই মুহূর্ত থেকে সুন্দরর ব্রেনের তারগুলো শর্ট সার্কিট হয়ে গেছে। ভাবনাটা মাথায় এমনভাবে গেঁথে গেছে যে ঘুমিয়েও যেন প্রতিশোধের প্ল্যান করছিল ।
সুন্দর এখন তার পড়নের জঙ্গিয়া খুঁজতে ব্যাস্ত সেটাও খুঁজে পাচ্ছে না,মেজাজ টা এবার আরো চরম পর্যায়ে।আলমারি সব কাপড় এলোমেলো করে খুঁজলো সেখানেও নেই,খাটের তলা খুঁজলো,সব খোসখাসড়িতে খুজা শেষ কিন্তু পেল না।দুইটা জাঙ্গিয়াই এনেছিল, কষ্টের কথা হলো গোসল করে জাঙ্গিয়া খানা কোথায় শুকাতে দিবে এই জন্যই সুন্দর বহুত চিন্তায় থাকত।যতই হোক এখানে টুনটুনির মা অর্থাৎ নিঝুম আছে বলে কথা।সে যদি তার ওমন ছিড়া ফাটা জাঙ্গিয়া দেখে তাহলে নিশ্চয়ই সুন্দরকে অনেক কিপ্টা ভাববে, কিন্তু সুন্দর মোটেও কিপ্টা না।এই সংকোচেই নিজের কাপড় নিজেই ধৌত করে সুন্দর ,সেটা কে নিজেই ছাদে শুকাতে দেয়,আবার সচেতন ভাবে নিজেই সেই কাপড় তুলে এনে গুছিয়ে রাখে। সুন্দর নিজের জাঙ্গিয়া খুঁজে না পেয়ে মাথা চুল গুলো টানতে টানতে বলতে লাগলো,,
__ ওই ছিড়া ফাটা জাঙ্গিয়াটাই এত হাড়ায় কেন রে বাবা।
এই বলে গটগট পায়ে জানালর ধরের কাছে যায়,জানালা দ্বারা তালুকদার বাড়ির উঠোনে দৃশ্যেমান, সুন্দরের চোখ যায় উঠোনের মেঝে পরিষ্কার করা মালতি খাতুনের দিকে ওনি তালুকদার বাড়ির বিশ্বস্ত পরিচারিকা। সুন্দর মালতি খাতুনের হাতে পানে তাকাতেই দেখলো,তারই জাঙ্গিয়া দিয়া মেঝে মুসছেন মালুতি খাতুন , সুন্দর আরো ভালো করে মেঝে পরিষ্কার করা ন্যাতাটাকে পরখ করলো,মনে মনে বলল,,
__ আরেব ব্যাস,এটা তো আমারই জাঙ্গিয়া,ওই তো লাল ডোরা দেখা যাচ্ছে,কেমনটা লাগে ক তো?,হতে কি আঙ্কেল হুসের মাথা খাইয়া ওইটারে চিপপা চিপপা মেঝে মুইচতাছে।
সুন্দর কিছু একটা ভেবে মালতি খাতুনকে ডাক দেয়,মালতি বেগম দ্বিধা সংকোচ নিয়ে জানালা ধারে এসে বলে,,
__ কিছু কইবেন আব্বাজান।
সুন্দর ফেচেল হেসে বলে,,
__ আপনার হাতে ওইডা কি আম্মাজান?
মালতি খাতুনের এবার হাতে থাকা ত্যানাটাকে দুই হাত দিয়ে মেলে ধরে বলে,,
__ কেন আব্বাজান?
সুন্দর কথা পাল্টে আবার বলে,,
__ ওটা কই থাইকা পাইছেন?
মালতি খাতুন হেঁসে বলেন,,
__ ছাদে পাইছি আব্বা ? দেখেন জাঙ্গিয়াটার কত জায়গায় ছিড়া,এটা তালুকদার বাড়ির কেউ ব্যবহার করতেই পারেই না,তাই এটাকে কাজে লাগালাম আরকি?যে এটা ব্যবহার করতো সে নির্দ্বিধায় গবির বা কিপ্টবাজ হবে হয়তো।
এখন মালতি বেগমরে কে বোঝাবে যে ওটা সুন্দরের ,মালতি বেগমের কথা গুলো সুন্দরের মস্তিষ্কে তীরের মতো বিঁধে গেল, সুন্দরকে গরিব ও টিপ্পনিবাজ বাজ বলল,যদি মলতি খাতুন তা না বুঝে বলেছেন, তবুও জাঙ্গিয়াটা তো সুন্দরেই ছিল নাকি। সুন্দর মুখে টেনেটুনে হাঁসি এনে বলে,,
__ যান আম্মজান।
মালতি বেগম চলে যান,নিজ কাজে আবার মন দেন।
সুন্দর মনে মনে বলে,,
__ আমি যে গরিব ও কিপ্টাবাজ না এটা মানুষরে কেমনে বোঝামু।
সুন্দর মনে মনে পন করেই নিল,,,
__ একদিন বিশ্বের সেরা জাঙ্গিয়ার দোকান দিবো,দেশী বিদেশী সব মাইনসে আমারে চিনবো, লজ্জার কারনে যে জাঙ্গিয়া কিনতে পাই নাই, তারই লজ্জা ঘুচামু,হু।
তারপরই নিঝুমের মুখ খানা ভেসে উঠলো সুন্দরের চোখে,তারপর টুলতে টুলতেই শার্ট কামড়ে লুঙ্গির গিট বাঁধতে বাঁধতে বলে,,
__ যাই দেহি টুকটুকির মা করেটা কি,যাই একটু জ্বালায় আসি শালির বোনরে।
নিধি এখন আলিফা বেগমের পিছুপিছু ঘুরঘুর করছে।সেই তখন থেকেই আলিফা বেগম বলছে “কি বলবি বল”
কিন্তু নিধি মুখে একদম কুলুপ পেটেছে, এদিকে নিধি তো মনে মনে কথা গোচ্ছাছে বলার জন্য।আলিফা বেগম দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বুঝলেন,এই মেয়ে হয়তো কিছু বলবে না তাই তিনি কাপড় গুছিয়ে তা আলমারিতে রাখছেন, এদিকে আলিফা বেগমের শাড়ির আঁচলে আঙ্গুল পেঁচিয়ে ভোঁতা মুখ করে তাকে অনুসরণ করছে নিধি।আলিফা বেগম এবার বিছানায় বসলেন,নিধি ও তার পাশের বসলেন,আলিফা বেগম আস্তে করে শ্বাস ফেলে বলে,,
__ তখন থেকে পিছনে ঘুরঘুর করছিস কেন? কি বলবি বল?
নিধি আলিফা বেগমের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল,আলিফা বেগম এক হাত নিজের মাথা রাখলো,আলিফা বেগম বুঝলেন নিধি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানালো,আলিফা বেগম ও নিধির চুলে হাত গুজে বুলিয়ে দিতে লাগলো,নিধি কোন দিব্ধা সংকোচ ছাড়াই কাটকাট গলায় বলে দিলো,,
__ তোমার পূএবধু বানিয়ে নেও বড় মা?
আলিফা বেগম চওড়া হাসি দিয়ে বলে,,
__ না বানালে?
আলিফা বেগমের কোল থেকে উঠে আলিফা বেগমে দু হাত ধরে বলল,,
__ এমন করো না বড় মা,আমাকে একবার তোমার বউমা করে দেখো শুধু,আমি তোমার সব কাজবাজ করে দিবো,তুমি যা বলবা আমি তাই শুনবো।একদম ভদ্র ও শ্রেষ্ঠ বউমা হয়ে দেখাবো।পাকা গিন্নি হয়ে যাবো প্রমিস।তুমি বিয়েতে রাজি হয়ে যাও বড় মা।
আমাকে তোমার পুএবধু বানিয়ে নেও না বড় মা,তোমার ছেলেকেই আমার লাগবে বড় মা, তোমার ছেলে আমার মনে গেঁথে গেছে , যেভাবে সুরা ফাতিহা মনে থাকে ঠিক সেভাবেই। তোমার ছেলেকে ভুলের যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না বড় মা সে থেকেই যাবে আমার মনে যেভাবে জন্মদাগ থেকে যায়। হৃদয়ে প্রেম উৎপত্তি হলে, প্রেমের ইন্তেজার মাকবুল হয়।
জানো বড়মা?কথায় আছে ,
যে কৃতদাস হও,পচে মরো তাও ভালোবাসার খপ্পরে পড়ো না।
কিন্তু আমি ফেঁসে গেছি তোমার ছেলের কাছে,তার ভালোবাসার খপ্পরে আটকে গেলাম আমি। এখন তাকে আমার লাগবেই লাগবে, ভালোবাসা দহন পীড়া চাই না আমি। ভালোবেসে পূর্ণতা দিয়ে শান্তিময় সুখ চাই।
আলিফা বেগম খুব মনোযোগ সহকারে শুনলো নিধির কথা,কিছুটা অবাক ও হলেন এটা ভেবে,এই এক রতি মেয়ের এত সুন্দর কথাও বলতে শিখলো কোথা থেকে,কবে এতো বড় হলো নিধি।ঠোঁট কামড়ে আবার হাসলেন তিনি,আবার দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলেন,,
__ আমি তো সেই কবে থেকেই রাজি কিন্তু তোর বাবাই তো রাজি নয়।
নিধি অসহায় মুখ করে বলে,,
__ সেটাই তো,কি করা যায় বলো তো কিভাবে যে বাবাকে রাজি করাই, সেদিনের থাপ্পড়ের পর আর বাবার আশেপাশে ও যাইনি আমি।
আলিফা বেগম দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলেন,,,
__ আমার তো তোদের দুটোকে নিয়ে বড্ডো চিন্তা হয়?
নিধি তখন কিছু একটা ভাবতে ব্যাস্ত,আলিফা বেগমের কথা কানে গেল কিন্তু তা গ্রাহ্য করলো না।আলিফা বেগম নিধির বাহুতে হালকা ধাক্কা দিয়ে বলে,,
__ কি রে?
এবার ধ্যানে আসলো নিধি,তড়াৎ রে আলিফা বেগমের গালে চুমু খেয়ে বিছানা থেকে নামতে নামতে বলে,,,
__ আইডিয়া পেয়ে গেছি।আসছি বড় মা,কাল থেকে তোমার ভদ্র বউমা হয়ে যাবো প্রমিস।
আলিফা বেগম হাসতে হাসতে নিধির যাওয়ার পানে তাকিয়ে বলে,,
__ তা না হয় হোস,বলে তো যা কি আইডিয়া পেলি।
নিধি দৌড়াতে দৌড়াতেই উওর দেয়,,
__ পরে বলবো।
রাত ঠিক ১০টা।
ইতি, বিথী, আর নীধির ঘরে তখন হালকা আলো জ্বলছে। তাদের সঙ্গে পিকি, মুহিন, নিঝুম, আর সুহানা। শুধু এক জন নেই সুন্দর।
তিন বোনের রাজকীয় হুকুম এল,,
__পিকি, যাও তো, সুন্দরটাকে ডেকে আনো।
হুকুমের ভার কাঁধে নিয়ে পিকি গম্ভীর ভঙ্গিতে রওনা দিল।
সুন্দরের ঘরের দরজাটা আধখোলা। ভেতরে উঁকি দিতেই দৃশ্য দেখে পিকির চক্ষু চড়কগাছ।সুন্দর মশাই এমন ঘুমোচ্ছেন যেন রাজা দশরথও ঈর্ষা করেন! মুখ হাঁ করে খোলা, একপাশ দিয়ে টপটপ করে লালা ঝরছে, আর মাঝেমধ্যে হালকা হেসেও দিচ্ছেন যেন স্বপ্নে লটারিতে এক কোটি টাকা জিতে গেছে,আর সেই টাকা দিয়ে নিঝুম কে নিয়ে ঘুরছে।
ওদিকে আবহাওয়াও কম খেল দেখাচ্ছে না এই উষ্ণ, এই শীতল। সুন্দর সেই আবহে পুরো রাজত্ব বিস্তার করেছে বিছানাজুড়ে। খাটের এক প্রান্তে মাথা, আরেক প্রান্তে পা এমনভাবে যেন নিজের শরীরটা মানচিত্রের মাপ নিচ্ছে।
খাওয়াটা আজ একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল। পেটের ভারে ঘুমটা নাকি আরো গভীর, আর লুঙ্গির অবস্থা আহা!
পিকির ভ্রু কুঁচকে গেল, মুখে বিরক্তি-মেশানো হাসি। লুঙ্গিটা পেটের ওপর উঠে গেছে, ।
পিকি অনেক বার সুন্দরকে ডাকলো কিন্তু কোন সাড়া শব্দ নেই।পিকি সুন্দরের বিছানার একপাশে বসে বাহু ঝাকাতে লাগলো। কিন্তু তাও উঠার কোন নামই নেই সুন্দরের।
এদিকে সুন্দর তো স্বপ্ন দেখছে নিঝুম তাকে জড়িয়ে ধরছে,ব্যাস সে ভাবেই সে পিকির কোমড় আঁকড়ে ধরলো এবং বিড়বিড় করে বলতে লাগলো,,
__ ও টুকটুকির মা,ওই শোনো?
পিকি বলে,,
__ এ্যাঁ আমি টুকটুকির মা।
চোখ মুখ কুঁচকে পিকি বলে,,
__ সুন্দর আমার কাতুকুতু করছে,ছাড়ো দুষ্টু ছেলে।
সুন্দর তো স্বপ্নেই মগ্ন।পিকি বিরক্তি হয়ে আবার ডাকতে লাগলো কিন্তু তাও উঠলো না বরং আরো আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো।পিকি আর কিছু না ভেবে সুন্দরকে পাঁজাকোল তুলে নিয়ে ইতি, বিথী, নীধির ঘরে চলতে লাগলো।
পিকির কোলে সুন্দরকে দেখে সবার চোখ বড় বড় হয়ে ।তা দেখে সবাই একসাথে হাসতে লাগলো।পিকি সুন্দর কাউচের উপরের ফেলায় দিলো,এমন ধাক্কার ফলে সুন্দর কোমড়ে ব্যাথা পেল, ব্যাস ঘুম গেল ছুটে হকচকিয়ে উঠলো সুন্দর জোরে জোরে চেঁচাতে লাগলো,,
__ এ চোর চোর চোর,ধর ধর ধর।
উপস্থিত থাকা সবার হাঁসি তোড় আরো বেড়ে গেল, জোরে জোরে হাসতে,ওমন অট্টহাসি শুনে সুন্দরের ভ্রোম কাটলো। সামনে তাকিয়ে দেখলো সবাই হাসতে হাসতে একে অপরের গায়ে ঢলাঢলি করছে। দুবার চোখ কচলে নিলো সুন্দর , পরক্ষণেই নিজের অবস্থান বুঝতে পারলো,একটু সংকোচিত হয়ে প্রশ্ন করে,,
__ আমি এখানে কেন?
বিথী বলে,,
__ সুন্দর ভাই এই রাতে আমাদের একটা মিশন আছে সেটাই সাকসেস করতে হবে।
ঘুম ঘুম গলায় হাই তুলে সুন্দর বলে,,
__ কি মিশন?
__ ভূতের?
ব্যাস চোখ বড় বড় হয়ে গেল সুন্দরের হকচকিয়ে উঠালো সোফা থেকে ওঠে দাঁড়িয়ে বলল,,
__ বিথী এইসব কী কও তুমি,মজা কইরো না,সরো আমি গিয়া ঘুমাই।
বিথী বুঝলো যে এভাবে কোনো কাজ হবে না,তাই অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করে বলল,,
__ ওই দেখো সুন্দর ভাই, নিঝুম ও আমাদের মিশনে থাকছে।
সুন্দর এখনি খাটের কোনে বসে থাকা নিঝুম কে দেখতে পেলো। ব্যাস সুন্দর তো মহা খুশি আগ পাছ কিছু না ভেবে বলে দিল,,
__ আমি ও এই মিশনে কাজ করবো?
কথাটা বলার পরপরই সুন্দরের গলা শুকিয়ে আসলো ভয়ে।
পিকি সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল,,
__ ওকে গাইস,এক এক করে রেডি হও সবার ম্যাকআপ ড্রেস ঠিক করিয়ে দিবো আমি।
সেই সকাল বেলা নিধির কাছ থেকে ভুতুড়ে প্লান খানা শুনার পর, সবার জন্য নিজ হাত দিয়ে ভুতুড়ে ড্রেস ডিজাইন করে, ভুতুড়ে ভাবে ফুটিয়ে তোলে পিকি।
১ ঘন্টা ৩০ মিনিট লাগলো সবার রেডি হতে।
১. ইতি, বিথী নীধি হালকা ধূসর রঙের কাপড়, যেন ধোঁয়া ভাসছে।লম্বা আড়াআড়ি কপড় একদম পা পর্যন্ত ঢাকা।দেখে মনে হবে তিনটে ভুত উড়ছে, তিনজনেরই চোখের দুই জায়গা ফুটো করা,সেই চোখ আবার কালো সানগ্লাস দার আবৃত করেছে।ইতি হাতে রইল অ্যাকসেসরিজ ছোট একটা ধোঁয়া মেশিন বা কুয়াশা স্প্রে। এদের তিনবোনের ভুতের বিশেষত্ব হলো ধীরে ধীরে ভেসে চলবে, কখনো হঠাৎ তিনজনই গায়েব হয়ে যায়।
২ . মুহিন সেজেছে কঙ্কাল ভুত পোশাক, কালো জামা ও প্যান্টের ওপর সাদা হাড়ের প্রিন্ট করা।পিকি সর্বশরীরে এঁকে দিয়েছে তা,তখন মুহিনের কাতুকুতু লাগায় সে কি হাসাহাসি।
মেকআপ করছে মুখে সাদা রঙ, চোখের চারপাশে কালো গাঢ় শেড। মুহিন ভুত হওয়ার বিশেষত্ব হলো খটখট শব্দ করে হাঁটবে, মাঝে মাঝে শরীর দুলিয়ে হাড়ের কটমটের মতো আওয়াজ করবে।
৩. সুন্দর। সেজেছে জম্বি ভুত,এই লুক তার একদমই পছন্দ হয়নি,কেমন পাগল পাগল লাগছে, আবার নিজেই নিজেকে আয়নায় দেখে ভয়ে আঁতকে উঠছে, বুকে থুতু দিচ্ছে,থুতু দেওয়ায় মেকআপ নষ্ট হবে বলে পিকির বকাঝকা ও খেলো।
পোশাক পড়ছে ছেঁড়া জামা-কাপড়, কিছু জায়গায় কৃত্রিম রক্তের দাগ।মেকআপ করেছে ধূসর-সবুজ মুখ, চোখের নিচে কালো দাগ, ফাটা ঠোঁট। সুন্দরের বিশেষত্ব হলো ধীরে ধীরে উউউউ… আওয়াজ করে সামনে আসে।
৪. শ্মশান ভূতনি সেজেছে নিঝুম পোশাক পড়েছে সাদা শাড়ি, এলোমেলো চুল, পায়ের নিচে কোনো চটি নয়। সুন্দর তো বারবার নিঝুম কে দেখে প্যান্টে ভিজে যায় যায় অবস্থা।মেকআপ করেছে মুখ একদম সাদা, ঠোঁট কালো, চোখের চারপাশে গাঢ় লাইন।
নিঝুমের ভুতুরে বিশেষত্ব হলো শুধু হাসবে, কথা বলবে না; মোমবাতি হাতে নিয়ে ঘোরবে।
৫.সুহানা সেজেছে আয়না ভুত পোশাক রূপালি ও কালো মিশ্র পোশাক, মুখে চকচকে সিলভার মেকআপ।
অ্যাকসেসরিজ ছোট একটা আয়না হাতে।এর ভুতের বিশেষত্ব হলো মানুষ যখন তাকায়, সে নিজের বিকৃত প্রতিবিম্ব দেখাবেত্ কোট ও হুডি। মুখে ভয়ঙ্কর মুখোশ (একটা অর্ধেক পোড়ানো যতবা বিকৃত মুখের মতো)।পিকি ভুতুড়ে বিশেষত্ব হলো সব সময় নীরব থাকে শুধু হঠাৎ সামনে এসে মুখোশ খুলে দেখাবে।
৮ জনই মারাত্মক ভয়ংকর ভূত সেজেছে। তাদের মধ্যে এমন অবস্থা যে তারা নিজেরাই নিজেদের দেখে ভয় পাচ্ছে।বেশি ভয়ংকর লাগছে নিঝুম কে,ভয়ে সবাই চুপচাপ কেউ কোনো কথা বলছে না কেউ তাদের ভয় প্রকাশ ও করছে না, কিন্তু ভিতরে ভিতরে বারবার আঁতকে উঠছে। সুন্দর ভয় ভয় করে সামনে এগিয়ে গেল তখনি নিঝুম ঘুরে দাড়াতেই দুজনেরই ধাক্কা লাগলো কিছুক্ষণের জন্য নিঝুম কে আসল ভূত মনে করে চেঁচাতে লাগলো,,,
__ এএএএ আম্মা এএএ।
বলেই মেঝেতে ছিটকে পড়ে, সুন্দর আরো চিৎকার করতে যাবে ঠিক তখনি নিধি এসে সুন্দরের মুখ চেপে বলে,,
__ সুন্দর ভাই চুপ, চুপ করেন,কেউ জেগে গেলে আজ সব প্লান ভিজতে যাবে ।
এবার সুন্দর নিধিকে এমন সাদা পোশাকে দেখে ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু চিল্লাতে পারলো না কারণ নিধি মুখ চেপে রেখেছে, সুন্দর ভয়ে তটস্থ হয়ে পা গুলো অনবরত ছুটাছুটি করতে লাগলো, উপস্থিত থাকা সবাই অবাক হলো সুন্দরের এহেন কান্ডে।নিধি হকচকিয়ে বলতে লাগলো,,
__ সুন্দর ভাই চুপেন,আমি নিধি।
সুন্দর একটু শান্ত হলো। উপস্থিত থাকা সবাই দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। নিঝুম তো রাগ হয়ে বলতে লাগলো,,
__ নিধি এই লোকরে বাতিল কর।এই লোক সব ভেস্তে দিবে দেখিস।
সুন্দর তড়িৎ বেগে উঠে দাঁড়িয়ে বলে,,
__ এই যে আমি একদম ঠিক আর ভয় পামু না কথা দিলাম।
সবাই মেনে নিল সুন্দরের কথা এবার বিথী সবার প্রসঙ্গে বলে,,
__ সবাই রেডি তো।
সবাই একসাথে হ্যাঁ বলল।নিধি নিঝুমের হাতে একটা পুতুল দিল যেটার চোখ নেই গায়ে রক্তের রং লাগনো। ভয়ংকর লাগছে প্রচুর।নিধি বলে,,
__ সবার আগে কিন্তু তোকে যেতে হবে,কোন ভুল ক্রুটি করবে না।
পিকি বলে,,
__ গলা ভারী রাখবে,আর মেকআপ যেন নষ্ট না হয়।
ইতি বলে,,
__ পারবি তো?
নিঝুম বলে,,
__ হ্যাঁ।
রাত ১ টি ৩০
৮ জনেই লম্বা লাইন ধরে যাচ্ছে নাঈম তালুকদারের ঘরে,নিধি রাতের খাবারে নরমাল ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছে। শুধু নাঈম তালুকদার ছাড়া।এমনকি আলবান,দির্শক, আর্দ্র এরাও ছাড় পায়নি,সবাই এখন বিভোর ঘুমে।
সারাবাড়ি ঘুটঘুটে অন্ধকার। ৮ জনেই চলে এলো নাঈম তালুকদারের ঘরে, মজার ব্যাপার এই অন্ধকার নিজেরা একে অপরেকে দেখে প্রচুর ভয় পাচ্ছে,সবাই শুকনো ঢোঁক গিলে ভয় সংবরন করছে। নিঝুম কে ইতি ফিসফিসিয়ে বলে,,
__ যাহহ।
নিঝুম শুকনো ঢোঁক গিলে একপা দুপা করে সেদিকে যেতে লাগলো। নিঝুমের পিছনে পিছনে ইতি, বিথী, নীধি ও যেতে লাগলো,নিধি তার হাতে থাকা স্পেরে দিয়ে সারা ঘর ধোঁয়াশা করে দিল।পিকি, মুহিন, সুহানা , সুন্দর এরা আপাতত টেবিলের এককোণে লুকিয়ে রইল।
নাঈম তালুকদার সামনে গিয়ে নিঝুম একটু ঝুঁকে দাঁড়াল, ভুতুড়ে পুতুল টাকে বুকে চপে ধরলো,ইতি, বিথী, নীধি তিনজনেই তিনদিকে দাঁড়ালো ওদের দেখে মনে হচ্ছে সাদা ভূত কোন মেঘে ভাসছে। নিঝুমের খুব ভয় লাগলো ,মনে সংশয় তৈরি হলো,”যদি মেজো মামা বুঝতে পায় এটা আমি” ইতি নিঝুমের বাহুতে থাপ্পড় মেরে বলল,,
__ কি রে।
নিঝুম ভয় গুলোকে একদিকে রেখে ঢোঁকের পর ঢোক গিলে কন্ঠটাকে ভারী করে ঘুমান্ত নাঈম তালুকদারকে বলতে লাগলো,,,
__ ওই কি রেয়য়য়য়য়,আমাকে মেরে শান্তিতে ঘুমাই আছিস,উঠ আমাকে দেখ,আমি আবার এসে গেছি।
নাঈম তালুকদারের কানে কথা খানা পৌঁছালো কিন্তু তা পাত্তা না দিয়ে মুখ আমুট চুমুট করে চিত হয়ে আবার ঘুমালেন। নিঝুম আবার বলতে থাকে,,,
__ ওই ওঠ,ওঠ বলছি নাহলে এই ঘাড় মটকালাম, রক্ত চুষে খেয়ে ফেলবো,ওঠ?
এবার কিছু শব্দ নাঈম তালুকদারের কানে গেলেন,মুখের উপর মশা তাড়ানোর মতো করলেন, এবার বিথী ফোনে অদ্ভুত ভুতুড়ে আওয়াজ ছেঁড়ে দিল।
এমন ভুতুড়ে আওয়াজে মুহিন,পিকি, সুহানা সুন্দরের কানে যাওয়া মাএই চারজনেই কাঁপতে লাগলো,মুহিন ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে পিকিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো,,
__ পিকি সত্যিই ভুত আসলো নাকি?
পিকি ও কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে,,
__ আমিও বুঝতে পারছি না?
এদিকে সুহানা সুন্দরের বাহু আকারে ধরে বলে,,
__ ও সুন্দর ভাই লো, সত্যি ভুত আইলো নাকি।
সুন্দর ভয়ে কাঁপছে কিন্তু কিছুতেই তা সুহানাকে বুঝতে দেবে না, শুকনো ঢোঁক গিলে টানটুন গলায় বলতে লাগলো,,
__আরে আসুক ভুত ভয় পাস নে,ভুত যখন আসবে তখন আমার কথা বলবি ব্যাস চলে যাবে।
সুহানা সুন্দরের বাহুতে চিমটি কেটে বলে,,
__ আইচে ভুত তাড়ানোর দাতা রে।
সুন্দর নিজ বাহুতে হাত দিয়ে মোলায়েম করে বলে,,
__ উফফ এত জোরে কেউ চিমটি দেয়,খালি ভুত মামায় আসুক তোর খবর খারাপ আছে বলে দিলাম।
ব্যাস দুই ভাই বোনের লগে গেল তর্ক,তা দেখে মুহিন বিরক্ত হয়ে বলে,,
__ উফফ ভাইয়া আপু তোমরা চুপ করবে?
দুজনেই চুপ করে যায়।
এবার পিটপিট করে চোখ খুলল নাঈম তালুকদার,খুলেই দেখলো তার সামনে সাদা মুখ,কালো চোখ,কালো ঠোঁট,চুল গুলো সামনে পড়ে আছে, নিঝুমকে দেখতে একদম ভয়ংকর ভুত দেখতে লাগছে।তা দেখে যে কেউই আঁতকে উঠবে সেভাবেই নাঈম তালুকদার ও ভয়ে আঁতকে উঠেন, আসল ভুত মনে করে ভয়ে চিৎকার করতে লাগলেন,এমন চিৎকার শুনে,নিঝুম ও ভয়ে ছিটকে পড়ে,ইতি, বিথী, নীধি তিনজনই ভয় পেয়ে গেল, নিঝুম আবার তড়িৎ বেগে উঠে দাড়ালো চুল সামনে দিয়ে নাঈম তালুকদারের দিকে আবার এগোতে লাগলো,ভয় ভয় করে নিঝুম কন্ঠ ভারী করে বলল,,,
__ কি রে ভুলে গেছিস আমায়?
নাঈম তালুকদার ভয়ে জড়সড় হয়ে বসে রইলেন, এবং কাঁপা কাঁপা স্বরে বললেন,,
__ ক কে আপনি,ক ক কি চাই?
নিঝুম মাথাটা চারিদিকে ঘুরাতে ঘুরাতে বলল,,
__ তোর রক্ত চাই?
একেকটা কথা বলছে আর মনে মনে নিঝুম বলছে,,
__ সরি,মেজো মামা,আমায় ক্ষমা করে দিও,এছাড়া আর উপায় নেই।
নাঈম তালুকদার বলেন,,
__ কে আ আপনি?
__ ভুলে গেছিস আমায়?আমি তো সেই যার বিয়ে হতে দিস নাই তুই? আমাকে আমার ভালোবাসার মানুষটাকে পেতে দিস নাই?
নাঈম তালুকদার ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ভাবলো এবং কিছুক্ষণ পড় মনেও পড়ে গেল “একবার পাড়ায় এক মেয়ে এক ছেলেকে ভালোবাসত,ছেলেটা শুধু মেয়েটাকে তার টাকার জন্য ভালোবাসত কিন্তু মেয়েটা তা জানতো না,মেয়েটা ছেলেটাকে অসম্ভব ভালোবাসতো,বিয়ে ও করতে চাইতো, কিন্তু মেয়ের বাড়ি থেকে দিত না,মেয়েটা তিন পালিয়েছি ওই ছেলের সাথে তিনবারই ছেলেটা মেয়েটাকে ভুজুং ভাজুং বুঝিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়ে মেয়েটা আবার তার বাবার বাড়ি রেখে আসতো, চতুর্থ বার পালানোর সময় পারার লোক ধরে ফেলে এবার বিচার বসে “ছেলেটা অনেকে মেয়ের সাথেই এমন করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল তাই প্রমানিত হয়।তাই বিচার সভায় ছেলেটাকে পুলিশে দেয়।এটা মেয়েটা মানতে পারে না তারপর মেয়েটা মানসিক রোগী হয়ে যায় কয়েকদিন পর শোনা যায় যে মেয়েটা গলায় ফাঁস দিয়ে অত্নহত্য করেছে।
এ কথা শোনার পর থেকেই নাঈম তালুকদার কেমন যেন মন মরা হয়ে থাকতো,মনে মনে এক অনুশোচনা কাজ করেছিল হয়তো।এই কথা আজ সকালে নিধি তার মায়ের কাছ থেকে শুনলো ব্যাস এই ভুতুড়ে প্লান তৈরি করলো।
নাঈম তালুকদারের সব মনে পড়তেই তিনি স্তব্ধ হয়ে যান, কাঁপা কাঁপা স্বরে নিঝুম ভুতকে আবার,,
__ এখন কি চা চাই তোমার?
নিঝুম সামনের চুল গুলো ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে বলে,,
__ শুনলাম তোর মেয়ে ও নাকি এক ছেলেকে ভালোবাসে?
__ হ্যাঁ।
__ বিয়ে দিচ্ছিস না কেন?
__ ওই ছেলে আমার লুঙ্গি খুলে দিয়েছে,আরো মেলা কারণ আছে,ওই ছেলেকে আমি আমার মেয়ে দিবো না।
__ ঠিক আছে?
এই বলে নিঝুম ভয়ংকর ভাবে ডাক দিলো,,
__ রক্ত চোষা, এদিকে আয়?
এবার পিকির আসার পালা,পিকি হকচকিয়ে মুহিন কে বলে,,,
__ মুহিন ছাড়ো আমায় যেতে হবে?
মুহিন কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে,,
__ আমায় একা রেখে যেও না পিকি।
__ উফফ মুহিন এটা একটা প্লান, সত্যি ভুত নয়।
মুহিনের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে টুলতে টুলতে যেতে লাগলো নিঝুমের দিকে। এদিকে মুহিন, সুহানা,ও পিকি তিনজনেই একে অপরকে ধরে বসে রইল।
পিকি নিঝুমের কাছে আসতেই তাকে দেখে নাঈম তালুকদার হকচকিয়ে উঠলেন।ভয়ে আরো জড়োসড়ো হলেন, নিঝুম পিকিকে হুকুম করে,,
__ ওর রক্ত খেয়ে ঘাড়টা মটকে দাও।
নিঝুমের আদেশ মতো পিকি এগোতে লাগলো নাঈম তালুকদারের দিকে। নাঈম তালুকদার ভয়ে চোখ জোড়া বন্ধ করে বলে,,
__ না না এমন করো না তোমরা যা বলবে আমি তাই করবো।
নিঝুম বলল,,,
__ সত্যি আর্দ্র আর নিধির বিয়ে দিবে তো?
__ হ্যাঁ হ্যাঁ দিবো?
__ যদি না দিস?
__ দিবো দিবো?
__ যদি বিয়ে না দিস তো কাল আবার আসবো ঘাড় মটকাতে।
নাঈম তালুকদার মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে। নিঝুম আবার কন্ঠ ভারী করে ডাক দেয়,,
__ মানিক কালা চাঁদ।
এবার ডাক পড়েছে সুন্দরের , সুন্দর নিঝুমে এমন ডাকে ধরফরিয়ে উঠলো,ভয় নিয়ে যাওয়া জন্য আগ্রসর হলো কিন্তু মুহিন ও সুহানা সুন্দরের দুহাত শক্ত করে ধরে আছে, সুন্দর বিরক্ত হয়ে বলে,,
__ ছাড় তো ,এমনিই ফাটাফুটা শার্ট, তোরা এমন চিপ্পা ধরে আরো ছিঁড়া দেয়।
সুন্দর নিঝুমের কাছে যেতে যেতে বিড়বিড় করে বলল,,
__ এই মেয়ে সাংঘাতিক,বাবাগো কিরম করে আসল ভুতের মতো অভিনয় করেছে দেহো, ভয়ংকর রাক্ষুসে মেয়ে লো।
সুন্দর নাঈম তালুকদারের সামনে গিয়ে পাগলের মতো হাসতে লাগলো।নাঈম তালুকদার ভয়ে তটস্থ হলেন, নিঝুম এবার সুন্দরকে হুকুম করলো,,
__ ওনারে কালা জাদু করো?
সুন্দর পড়লো এবার মহা ফেসাদে, কিভাবে কালোজাদু করবে এটাই ভাবতে লাগলো,দেরী হচ্ছে বলে নিঝুম সুন্দরের বাহুতে চিমটি কাটে। সুন্দর আর কিছু না ভেবে বলতে লাগলো,,
__ ইড়িং বিড়িং তিড়িং চায়য়য়,কালা কুত্তার পানি খায়য়য়,নিধি আর্দ্রের বিয়ে না দিলে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে ফাইসা যায়য়য়।নিধির বিয়ে দিলে মানিক কালা চাঁন্দের কালোজাদুতে প্রতিদিন হাগতে যাহহ।ছু মন্তর ছু কালা কুত্তার গু য়য়য়।
সুন্দরের এমন মন্ত্র শুনে ইতি,বিথী নীধি তিনজনেই নিজেদের কপালে হালকা চাপ্পড় দিলো, নিঝুম আড়ালেই মুচকি মুচকি হাসতে লাগল। নাঈম তালুকদার ও এমন মন্ত্রে চোখ মুখ কিছুটা কুঁচকে নিলেন সন্দেহ হতে লাগলো,তখনি ইতি, বিথী, নীধি, সুহানা, মুহিন, সবাই একসাথে জড়ো হলো নাঈম তালুকদারের সামনে,নাঈম তালুকদার ভয়ে আরো আঁতকে উঠলো,তিনি তার পাশে সুয়ে থাকা সিদ্দিকী বেগমের বাহু ঝাঁকিয়ে ডাকতে লাগলেন,,
__ কই গো ওঠো।দেখো?আমি আজ শেষ গো।তুমি ঠিকই বলেছিলে নিধি আর আর্দ্রের বিয়ে দিবোই আমি।এখন আমাকে বাঁচাও ওঠো।
কিন্তু সিদ্দিকী বেগম ঘুমের ওষুধের পাওয়ারে নড়াচড়ার কোন প্রতিক্রিয়াই করলো না। নাঈম তালুকদারের সামনে থাকা ৮ জন ভুতেই মুখ দিয়ে অদ্ভুত আওয়াজ বের করতে লাগলো, পরক্ষণেই ইতি তার হাতে থাকা লিডোকেইন স্প্রে নাঈম তালুকদারের নাকে স্পেরে করে।এটা দ্বারা সাময়িক সময়ের জন্য নাঈম তালুকদার অজ্ঞান হবেন, তার সাথে এতক্ষন যাবৎ যে ঘটনা গুলো ঘটে গেল তা সপ্ন মনে হবে।
ব্যাস নাঈম তালুকদার অজ্ঞান হয়ে গেলেন ।ইতি, বিথী নিধি বাবাকে ভালো করে শুয়ে দিলেন।আট জনেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রুম থেকে বেড়ালো।নিধি তো খুশিতে বারবার ইতি, বিথী, আবার নিঝুম, সুহানাকে জড়িয়ে ধরতে লাগলো।
আট জনই ড্রয়িং রুমে আসলো। হঠাৎ করেই পিছোন থেকে সুন্দরের চিৎকার আওয়াজ ভেসে আসলো।সবাই পিছনে তাকাতেই দেখলো তাদের দাদি অর্থাৎ আছিয়া বেগম সুন্দরের কোলে উঠেছে,সুন্দর তো থর থর করে কাঁপছে।
তখনি ইতির মনে পড়লো তার দাদির তো ঘুমে হাটার অভ্যাস আছে এবং হাঁটতে হাঁটতে যাকে পথে পাবে তারই কোলে লাফিয়ে উঠবে।সেভাবেই দাদিমা সুন্দরের কোলে উঠে গেল।ইতি, বিথী, নীধি,পিকি, মুহিন, নিঝুম, সুহানা এরা শুধু হা হয়ে দেখতে কেউ এগানোর সাহস পাচ্ছে না কারণ যেই যাবে তারই কোলে দাদি লাফিয়ে উঠবে।
সুন্দর কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে,,
__ আমায় বাচায়ও কেউ,দাদি এমন করে কেন?ওরেয়য় আল্লাহ?
দাদির চোখ বন্ধ অনবরত সুন্দর গলার মুখ গুঁজে ঘ্রাণ নিয়ে বলছে,,
__ এই তো, এটাই তো আমার পরানের স্বামী,সেই ঘ্রাণ আহা।
দাদিমা আবার অসহায় কন্ঠে বলে,,
__ এতদিন কই ছিলা নাজিমের বাপ।
সুন্দর কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে,,
__ ওরে বুড়ি আমার তো বিয়াই হয় নি।
সুন্দর পিকিকে বলে,,
__ পিকি বাঁচাও আমারে।
পিকি সুন্দরের কাছে এগোতে গেলে মুহিন হাত ধরে বলে,,
__ পিকি যেও না দাদিমার কাছে, এখন তুমি গেলে দাদিমা তোমার ও কোলে উঠবে ।
পিকি ভয়ে আর সেদিন পাও বাড়ালো না।
সুন্দর অসহায়ত্ব বেরে গেল বেচারা দাদিমাকে কোল থেকে নামানোর জন্য ছটফট করতে লাগলো,তা দেখে ইতি, বিথী, নীধি, নিঝুম, সুহানা জোরে জোরে হাসতে লাগলো।তাতে সুন্দরের খুব রাগ হলো এবং সেই রাগে এক ঝটকায় দাদিমাকে কোল থেকে নামিয়ে দাঁড় করিয়ে দিল। কিন্তু তাও কোলে ওঠার জন্য দাদিমা পা দাপাতে লাগলো। তারপর দাদিমাকে কোন রকমে দাড় করিয়ে রেখেই সুন্দর ভো দৌড় দেয় কোন দিকে দৌড়াচ্ছে তা জানে না, দাদিমা তার পিছোন পিছোন দৌড়াতে লাগলো, দাদিমা এখন কোন দিকে টার্গেট করে আসছে তা বলা বাহুল্য।এই কারণেই ইতি, বিথী, নীধি, সুহানা,পিকি, সুন্দর তাঁরাও এলোমেলো ভাবে দৌড়াতে লাগলো।
দাদিমা এখন ইতির পিছনেই দৌড়াচ্ছে,ইতি কই যাবে বুঝতে পারছে না, এদিকে দাদি ও তার পিছোন ছাড়ছে না। ইতি সিঁড়ি বেয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে বলল,,
__ দাদিমা তুমি আমার কোলে উঠলে আমি তোমায় সামলাতে পাবো না এতে তোমার কোমড়টাও যাবে প্লাস আমার কোমরটাও যাবে,চলে যাও দাদি,হুস হুস।
কিন্তু কার কথা কে শোনে! দাদিমা তখন সমানে ইতির পেছনে ছুটেই চলেছেন। বিপর্যস্ত ইতি বুঝে উঠতে পারছে না কোথায় আশ্রয় নেবে। তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ির ধারে থাকা আলবানের ঘরে ঢুকে পড়ল সে। দুর্ভাগ্যবশত, ঘরে ঢুকেই দরজাটা বন্ধ করতে ভুলে গেল ইতি। মুহূর্তের মধ্যেই দাদিমাও তার পিছু নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন।
এবার ইতি একেবারে দিশেহারা। কী করবে, কিছুই মাথায় আসছে না। হঠাৎ তার চোখ পড়ল আলবানের বিছানার দিকে। সাদা কম্ফোর্টারের নীচে শান্ত মুখে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন আলবান।
মুহূর্তের সিদ্ধান্তে, কোনো কিছু না ভেবে, ইতি ছুটে গেল বিছানার দিকে। আলতো করে কম্ফোর্টারের ফাঁক গলিয়ে সে ঢুকে পড়ল ভিতরে, আর নিঃশব্দে শুয়ে পড়ল আলবানের পাশে।
ঘুমের ওষুধের প্রভাবে আলবান তখন গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন। ঘুমের ঘোরেই বাস্তব ও স্বপ্নের সীমারেখা আচ্ছন্ন আলবান। ইতি, নিঃশব্দে বিছানায় শুয়ে আছে। হঠাৎ, অচেতন ভঙ্গিতে আলবান ইতিকে বোধহয় কোলবালিশ ভেবে নিল এক পা এলিয়ে দিল তার পায়ের উপর, এক হাত গিয়ে থামল ইতির কোমরে, আর মুখ গুঁজে দিল গলার কাছে।
ইতির শরীর মুহূর্তেই জমে গেল। বুকের ভেতর ধুপধুপ শব্দটা যেন গোটা ঘরে প্রতিধ্বনি তুলছে। গা শিউরে উঠছে বারবার, নিঃশ্বাস কাঁপছে।
এদিকে দাদিমা, অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর কাউকে না পেয়ে অবশেষে চলে গেছেন।
কিন্তু বিপদ এখনো কাটেনি ইতি এখন যেন এক অনিশ্চিত বন্দিদশায়। আলবানের শক্ত বাহু থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারছে না কিছুতেই। ভুতুড়ে লম্বা পোশাকটা আরও বিপাকে ফেলেছে তাকে যত নড়াচড়া করছে ইতি, আলবান ততই আরও শক্ত করে জড়িয়ে নিচ্ছে তাকে।
নিজেকে ছাড়ানোর অনেক চেষ্টা করলো কিন্তু বারবারই ছাড়াতে ব্যর্থ হলো ইতি।,,
__ উফফ বাবা এতো জোরে ধরে কেউ, ইচ্ছা করছে সব চুল গুলো ছিঁড়ে দেই এই লোকের। ছাড়ুন দাবানল ভাই,কেউ দেখে ফেললে কেলেংকারি হয়ে যাবে।
আলবান ঘুমের ঘোরেই ভারী গলায় বলতে লাগলো,,
__ ঘুমিয়েও শান্তি দিবি না তুই,এর জন্য তোকে একদিন খুব কঠিন শাস্তি দিবো দেখিস।
কোন স্বপ্নের ঘোরেই বললো বোধহয়।
সে কথা উপেক্ষা করলো ইতি,আলবানের নিঃশ্বাস এসে ইতির নাকে মুখে আচছে পড়ছে এতে আরো বিরক্ত হলো ইতি।
নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা চালালো প্রায় বিশ মিনিট কিন্তু ফলাফল শূন্য।তাও নিজেকে ছাড়ানোর প্রচেষ্টা চালাতে চালাতেই অবশেষে ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত ইতি হাল ছেড়ে দিল। বুকের ভেতর এখনও দ্রুত চলতে থাকা হৃদস্পন্দনের শব্দে নিজেকে স্থির করতে চাইল। কম্ফোর্টারের ভেতর নিঃশব্দ অন্ধকারে নিঃশ্বাসের উষ্ণতায় এক অদ্ভুত শান্তি জেগে উঠল ধীরে ধীরে।
তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ২৫
চেষ্টা করতে করতেই, বুঝতেও পারল না কখন ইতির চোখ বুজে এল।অবশেষে ঘুমিয়ে গেল ইতি।কম্ফোর্টারের গভীরে, পাশাপাশি নিঃশব্দে ঘুমিয়ে রইল দুজন আলবান ও ইতি।বাইরে তখন চাঁদের আলো জানলার ফাঁক গলে নরমভাবে ঘরে ঢুকছে, এই নিঃশব্দ রাতের গল্প কাউকে না জানাতে বলে দিচ্ছে।পরম আবেশে দুজনেই এক শান্তির সুখের ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে গেল।
