তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৩০
রাফিয়া জান্নাত রিফা
আর্দ্র নিধিকে তার রুমে নিয়ে আসে। আর্দ্রের মুখে হাসি নেই, গম্ভীর মুখে বুকে হাত গুজে তার বিছানায় বসে থাকা নিধিকে চুপচাপ এক ধেয়ে দেখছে।নিধি মাথা নিচু করেই সমানে বিরবির করেই যাচ্ছে, মাঝে মাঝে আড়চোখে আর্দ্রকেও দেখছে। আর্দ্র চেয়ার টেনে নিধির সামনে বসলো,নিধির হাত দুটো নিজের হাত বব্দ করে নিধি দিকে তাকিয়ে বলে,,
__ হোয়াট হ্যাপেন নিধি,এসব পাগলামির মানে কি?
নিধি চোখ তুলে আর্দ্রের চোখে চোখ রাখলো কিন্তু বেশি ক্ষন আর্দ্রের চোখে নিজ চোখ স্থায়ী রাখতে পারলো না,অজানা লজ্জা আড়ষ্ট হলো মেয়েটা।নিধি চোখ নামিয়ে কোন রকমে বলল,,
__ কি করলাম ।
__ আমার চোখ দিকে তাকাও নিধি।
নিধি কোনোরকমে নিজের লজ্জকে এক পাশে রেখে আর্দ্র চোখো তাকালো, আর্দ্র ফের বলে,,
__ দাদিদের সাথে এভাবে কেন ঝগড়া করলে।
আমতা আমতা করে নিধি বলে,,
__ তো করবো না,ইস কোথায় কোথায় হাত দিয়ে হলুদ ম মাখাচ্ছিল আর আপনি খিলখিল করে হাসছিলেন।
আর্দ্র হাসতে চাইলো না কিন্তু তাও হাসলো,,
__ আমার তো কাতুকুতু পাচ্ছিলো।
নিধি গাল ফুলিয়ে বলে,,
__ ঠিক আছে আমিও তাহলে কাতুকুতু দেবো এখন।
__এ্যা ।
__ এ্যাঁ নয় হ্যাঁ।
এই বলে নিধিও আর্দ্রকে কাতু কুতু দেওয়া শুরু করলো এদিকে আর্দ্র না চাইতেও হাসছে আর নিধি কে বলছে,,
__ আহহ নিধি থামো,লাগছে।
নিধি থামলো না। ওদিকে দরজার ওপাশে আড়ি পেতে আছে,ইতি, বিথী, নিঝুম,ও মুহিন,মুলত এখন তাদের কোন কাজ নেই তাই চলে এলো আড়ি পাততে।চারটায় এঁকে অপরের গাঁয়ে টলে পড়ে পড়ে আড়ি পাতছে। বিথী কিছুটা সংকোচ নিয়ে বলে,,
__ কিরে, আর্দ্র ভাই এতো হাসে কেন?
ইতি বলে,,
__ নিধি বোধহয় আর্দ্র ভাইয়ের ইজ্জত হরণ করছে তাই।
মুহিন বলে,,
__ কি যে বলিস ইতিপু।
নিঝুম বলে,,
__ বিয়ের আগে এমন করাটা মোটেও ঠিক না কিন্তু।
বিথী কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে বলে,,
__ এই বাচ্চা কাচ্চা গুলো কেন আনলি ইতি,এরা আমাদের ভাষা বোঝেই না।
মুহিন বলে,,
__ আমি বুঝার মতো বাংলা ভাষা বুঝি,দির্শক স্যারের থেকে ইংরেজি ভাষা বলাও শিখছি,বুজলি বিথীপু।
ইতি ঠোঁট টিপে হাসলোও মুহিনের মাথায় একটা বাড়ি মেরে বলল,,
__ আমাদের ভাষা হলো গ্রামারটিক্যাল ভাষা, যা প্যাঁচানো,তুই ওসব বুঝবি না।
আর্দ্র বেচারা কাতুকুতুর বশে শরীর নেতিয়ে মেঝেতে পড়েছে,নিধি ও কাতুকুতু দেওয়া থামিয়েছে কিন্তু মুখ কালো মেঘের অন্ধকারে ঢাকা, সেভাবেই বুকে হাত গুজে মুখ ফুলিয়ে মেঝেতে বসে আসে। আর্দ্র তা দেখে হাঁসি থামিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসলো, কিছু একটা ভেবে টুক করে নিধির কাঁচা হলুদ মাখানো গালে চুমু এঁকে দিয়ে আবার স্বাভাবিক হয়ে বলল,,
__ এর চেয়ে বেশি কিছু এখন করলে পাপ হবে।
আর্দ্রের চুমু খাওয়াতে কোন আবাক হওয়ার প্রতিক্রিয়া নিধির মাঝে দেখা গেল না। বরং সে ভাবেই মুখ ফুলিয়ে বসে রইল নিধি।তা আড়চোখে তাকিয়ে আদ্র দেখলো,কিছুটা হতাশ হয়ে,নিধিকে জড়িয়ে ধরে বলল,,
__ তোমাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে চুড়ুই পাখি।এই যে কাঁচা হলুদের গন্ধ তোমার গালে, তুমিময় নেশায় ডুবে যাচ্ছে আমি অতলে।
আদুরে কন্ঠে আবার আর্দ্র বলো,,
__এমন ফুলানো মুখে একদম ভালো লাগছে না আমার চুড়ুই পাখিকে।
নিধির মন কিছুটা গলে যায় কিন্তু তা বুঝতে দিলো না আর্দ্র কে, সন্দিহান কন্ঠে আর্দ্র আবার বলে,,
__ আচ্ছা নিধি, দুই দাদিমার জায়গায় যদি দুটো মেয়ে থাকতো তাহলে কি করতে তুমি?
নিধি রাগি কন্ঠের নিড়েট জবাব,,
__ রক্ত গঙ্গা বইয়ে দিতাম।
নিধি আরো কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনি মায়ের গলা শুনতে পেলো,কাউকে ডাকছে হয়তো।নিধির ভ্রম কাটলো।বিয়ের আগেই আর্দ্রের ঘরে নিধি এটা মোটেও শোভা পায় না।সে তো আলিফা বেগমের আদর্শ বউমা হবে,এখন যদি আলিফা বেগম দেখে বিয়ে না হতেই নিধি আর্দ্র ঘরে তাও আবার দরজা বন্ধ করে এটা মোটেও ভালো চোখে দেখবেন না আলিফা বেগম।নিধি কিছুতেই তার শাশুড়ি মা কে ক্ষুব্ধ করতে পারবে না কোনমতেই না,জামাইয়ের আগে শাশুড়িকে পটানো বেশি জরুরি।এসব ভাবনা নিধির মস্তিষ্ক ঘিরে নিলো আর কিছু না ভেবে তড়িঘড়ি করে উঠে দাড়ালো,চলে যাওয়ার জন্য উদিত হলেই আবার কিছু একটা ভেবে বসে থাকা আর্দ্রকে দেখে ঝুঁকে তার গালে টুক করে একটা চুমু দিয়ে ভো দৌড় দেয় দরজার দিকে,দরজা খুলতেই “ধপাসসসসসস”
ইতি, বিথী, নিঝুম, মুহিন চারজনই একেঅপরের গাঁয়ে পড়ে গেল মেঝেতে। লজ্জায় আড়ষ্ট হওয়া নিধি এসব দেখে অবাক হলো না কেনোই বা হবে,তারই তো বোন,এখন তাকে লজ্জা ঘিরে রেখেছে সেজন্যই তাঁদের আর পাত্তা না দিয়ে শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে ভো দৌড় দিলো। এদিকে মেঝেতে পড়ে থাকা চার অবলা প্রাণী,কেউ হাতে,কেউ কোমড়ে,কেউ পায়ে,কেউ মুখে ব্যাথা পেল। টেনেটুনে উঠে দাড়ালো, চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ালো বিথী কেন এমন লজ্জা পেল এবং আর্দ্র কেন গালে হাত দিয়ে হা হয়ে বসে আছে।ইতি, বিথী দৌড় গেল আর্দ্রের কাছে, বিথী হাঁসি মুখে শুধালো,,
__ গালে হাত দিয়ে বসে আছো কেন,পাদরো ভাই।
এবার ইতি বলে,,
__ ইটিসপিটিস হলো নাকি।
বিথী ইতিকে বলে,,
__ আরে দুর,ওসব না,অন্য কিছু।
আর্দ্র বেচারা থমথমে খেয়ে গেল ইতি, বিথীর কথায়,এক পাগলির থেকে নিস্তার পেতে পেতে আর এক পাগলি হাজির হলো। আর্দ্র মেঝে থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আমতা আমতা করে বলে,,
__ ক কি বলছো এসব।
ইতি বলে,,
__ প্যাকটিকালি নাকি ফিজিক্যালি।
আর্দ্র নাক ছিটকিয়ে বলে,,
__ মানে
এবার বিথী বলে,,
__ নিধি সব প্যারটিক্যালি বুঝালো নাকি ফিজিক্যালি।
আর্দ্র নাক মুখ কুঁচকে আমতা আমতা করে বলল,,
__ আ আমাকে গোসল করতে হবে গেলাম।
এই আর্দ্র ওয়াজরুমে হনহনিয়ে চলে যায়, নিঝুম ইতি বিথীকে বলে,,
__ লজ্জা পেল আর্দ্র ভাই এত লজ্জা কেউ দেয়।
বিথী নিঝুমের দিকে কটমট চোখে তাকিয়ে বলে,,
__ ওরে বাল,এতে লজ্জার কি আছে,আমরা দুজন তো বোঝাতে চাইলাম যে,নিধি পাদরো ভাইকে প্র্যাকটিক্যালি মেরেছে নাকি ফিজিক্যালি মেরেছে।
ইতির মস্তিষ্কে এবার বিরাজ করলো আলবানকে সেদিন সকালে চুল ধরে মারার স্মৃতিতে, মুহূর্তেই মাথাটা ঝাঁকিয়ে বিরক্তির সহিত বলে,,
__ ধ্যাত, বিথী চলতো এদের সাথে কথা বলা মানেই নেগেটিভ মাইন্ডে থাকা।
এই বলে দুই বোনেই নাচতে নাচতে চলে যায়। নিঝুম ও মুহিন একে অপরের দিকে হা হয়ে চাওয়া চাওয়ি করলো।
___ স্যার মে আই কামিং।
দির্শক তখন নিজের শার্ট গুছিয়ে কাবাটে রাখছিল,মেয়েলি বাচ্চার আওয়াজ শুনে দির্শক দরজার দিকে তাকালো,দেখলো হাতে বই নিয়ে দশ বছরের মেয়ে মিশকাত হাঁসি মুখে দাঁড়িয়ে আছে,দির্শক ও হাঁসি মুখে বলে,,
__ ইয়েস কাম।
মিশকাত হাঁসি দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে দির্শকের পাশে দাঁড়ালো।দির্শক তার শার্টটাকে আলমারিতে রেখে মিশকাতের কাছে এসে বলে,,
__ বিয়েতে সবাই ইনজয় করতে ব্যস্ত,আর এদিকে মিশু আমার ঘরে, ব্যাপারটা কেমন হলো,হু।
মিশকাত খিলখিল করে হেসে উঠলো এবং বললো,,
__ আমি তোমার কাছে পড়তে এসেছি?
দির্শক কিছুটা অবাক হয়ে হাসলো,,
__ আজকেও পড়বে তুমি।
__ হ্যাঁ।
__ আজ তো বৃহস্পতিবার,আজকেও পড়তে হবে।
__ হ্যাঁ।
__ ওকে,বলো কি পড়বে?
মিশকাত দির্শকের দিকে বই এগিয়ে দিয়ে বলে,,
__ এটা পড়বো।
দির্শক বই দেখে বলে,,
__ ওকে।
__ হুম পড়াও।
__ বলো কংগ্রাচুলেশন।
__ কাংঙ্গচুলোশোনচচ
বলেই হাসতে থাকে মিশকাত সাথে দির্শক ও জোরে জোরে হাসতে লাগলো। হাঁসি থামিয়ে দির্শক আবার বলে,,
__ হচ্ছে না,বলো কংগ্রাচুলেশন।
__ কাংচুগালালেশন।
বলে মিশকাত আবার হাসতে থাকে,একই ভাবে দির্শক ও হাসতে লাগলো,দির্শক হাসতে হাসতে আবার বলতে লাগলো,,
__ সত্যিই করে বলো,কেন এসেছো আমার এখানে।
__ সত্যি বলবো।
__ ওফ কোর্স।
মিশকাত দুলতে দুলতে বলতে লাগলো,,
__ আমার না।
__ কি তোমার না।
__ আমার না মনটা চুরি হয়েছে।
__ ওমা তাই।
__ হ্যাঁ।
__ তা কবে চুরি হলো।
__ অনেক আগে।
__ কত আগে।
মিশকাত কিছুটা রাগ হয়ে বলল,,,
__ কত আগে আবার কি?
দির্শক প্রসঙ্গ পাল্টে বলে,,
__ আচ্ছা, তোমার মন কে চুরি করেছে।
__ তুমি?
দির্শক আবাক হওয়ার ভান করে বলে,,
__ এই না না আমি চোর না।
__ তুমি তো চোর না,তুমি তো অনেক ভালো।
__ তবে যে বললে আমি তোমার মন চুরি করছি।
__ ওটাকে চুরি বলে না তো?
__ বলে না?
__ না।
মিশকাত আবার বলে,,,
__ আই লাভ ইউ।
দির্শক আবাক হয়ে য়ায় চোখ দুটো গোল গোল হয়ে গেলো, মুচকি হেসে বলল,,
__ তাই।
__ হ্যাঁ, এবার আপনিও বলুন আই লাভ ইউ।
দির্শক কিছু একটা ভেবে বলে,,
__ ওটা তো বলতে পাবো না।
মিশকাত মুখে রাগি ভাব এনে বলে,,
__ কেনো।
__ কারণ ওটা আপাতত অন্য কারো জন্য তুলে রাখছি।
__ তার মানে তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসো।
__ তুমি ভালোবাসার কি বুঝো মিশকাত?
মিশকাত কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে,,
__ তুমি অনেক সুন্দর দেখতে,তোমাকে প্রথম দেখে আমি ফিদা হয়ে গেছি,এখন আমি কিছু জানি না,ভালো তোমাকে বাসতেই হবে?না হলে মাকে গিয়ে বলে দিবো তুমি আমায় মেরেছো।
__ এই এই আমি তো তোমাকে মারিই নি।
__ আমি মিথ্যা বলতে জানি?আমি তোমাকে প্রোপোজ করেছি,এখন রাজি হয়ে যাও।
__ যদি রাজি না হই।
__ তাহলে এই গেলাম পুলিশের কাছে, তোমার নামে মামলা করতে।
এই বলে চলে যায় মিশকাত, পিছন থেকে দির্শক হাক ছাড়ে,,,
__ সাবধানে যেয়ো মিশু।
বলেই মুচকি হাসতে লাগলো দির্শক। কিছু স্মৃতিচারণ হওয়াতে দির্শকের চোখের কর্নিশে পানি চিকচিক করতে লাগলো, দুফোঁটা পানি গাল বেয়ে পড়লো,তা হাতে নিয়ে বেলকনিতে চলে যায় আকাশ পানে তাকায় দির্শক, অতঃপর হেঁসে ওঠে এবং বলে,,
__ মা আমি কান্নাকে ঘৃণা করি কিন্তু তাও কান্না আসে।আগে কিন্তু কান্না আসতো না মা,এই বাড়িতে এসে এদের এই ভালোবাসা,যত্ন দেখে নিজের অজান্তেই কান্না আসে মা,আমি ইমোশনাল হয়ে যাই তখন,আমি আমার গন্তব্য থেকে সড়ে দ্বারাই, এদের সাথেই জীবটা ভাগাভাগি করে চলতে ইচ্ছা করে যা সম্ভব না।এত আনন্দ,এত হাসি সব আমার ও হতো মা আমার ও হতো,সব কেন কেড়ে নিল,কেন আমার হতে হতেও হলো না, উওর আমার কাছে নেই মা,তুমিও সেই উওর না দিয়ে একা করে চলে গেলে, সমস্যা নেই বদলা তো আমি নিবো।
দির্শক ভারাক্রান্ত গলায় আবার বলে,,
__ ওরা সবাই আমাকে ভুল বুঝবে মা,এটা ভাবতেই আমার কলিজায় পানি শুকিয়ে আছে মা, তাদের বিশ্বাসের স্থান টা নষ্ট হয়ে যাবে,ইসসস।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে দির্শক আবার বলে,,
__ অবিশ্বাস করুক আর ভুল বুঝুক তাদের ও তো সত্যি টা জানতে হবে নাকি।
বলেই দির্শক শব্দ করে হেসে ওঠে,দিনের বেলা কিন্তু দির্শকের সব কিছুই অন্ধকারে ঘেরা। কারণ তার জীবনটাই অন্ধকাছন্ন।
তখনি ফোন বেজে ওঠে দির্শকের, প্যান্টের পকেট থেকে ফোন বের করে কানে ধরে।
__ তাড়াতাড়ি নিচে আয়।
আলবান ফোন করেছিল, দির্শক বেলকনি থেকে দেখলো আলবান,ইতি, বিথী তালুকদার বাড়ির বড় গেটে দাঁড়িয়ে আছে।দির্শক নিজের চোখ মুখ ঠিক করে মুখে হাঁসি এনে চলতে লাগলো।
পথিমুহূর্তে দেখা হলো নাজিম তালুকদারের সাথে তাকে দেখে মুচকি হাসি দিয়ে দির্শক বলল,,
__ আসসালামুয়ালাইকুম।
__ ওয়ালাইকুম আসসালাম।
__ কিছু বলবেন?
নাজিম তালুকদার কিছুটা ইতস্তত বোধ করে বলে,,
__ তোমার চোখ…
__ কেন চেনা চেনা লাগে।
__ হ্যাঁ না,তবে তোমাকে বাংলাদেশীদের থেকে একটু আলাদা লাগে।
__ হুম সবাই বলে।
নাজিম তালুকদার আরো কিছু বলতে যাবে তখনি দির্শক তাড়া দিয়ে বলে,,
__ সব ক্লিয়ার হবে আঙ্কেল, ডোন্ট ওয়ারি, সময়ে সাথে সব স্পষ্ট হবে,একদম পানির মতো স্বচ্ছ।
এই বলে চলে যায় দির্শক নাজিম তালুকদার বেশ ভাবনায় পড়ে গেল,তবে আর বেশি কিছু ভাবলেন না,চলে গেলেন নিজ কাজে।
দির্শক আলবানের কাছে আসতেই বিথী ছ্যাত করে বলে ওঠে,,
__ এত সময় লাগে।
আলবান রাগ দেখিয়ে বলে,,
__ বিথী বি হেভ ইয়ুর সেল্ফ।
দির্শক আলবানকে বলে,,
__ আহহ আলবান বলতে দে, বলুক।
বিথী মুখ গোমড়া করে বলে,,
__ সরি।
দির্শক মুচকি হেসে বলে,,
__ হোয়াই?
বিথী কিছু বললো না, কিন্তু ইতি বললো,,
__ সরি ইজ সরি ওভার ওভারে সরি, তোমাদের সরির পর্ব শেষ হলে চলো প্লিজ।
আলবান নিরেট কন্ঠে বলে,,
তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ২৯
__ তুই বেশি কথা বললে আমি যাবো না কিন্তু।
__ আপনাকে যেতে কে বলছে?আমরা দু বোনেই একাই যেতে পারতাম।
__ তুই তো যেখানে যাস সেখানেই বিপদ ডেকে আনিস তাই যাচ্ছি, নাহলে আমার মতো ছেলে কখনোই তোর মতো নাগিনের সাথে যেত না।
__ এই যান তো যেতে হবে না?
__ মেজাজটা বিগড়ে দিস না ইতি।
বিথী জোরে বলে,,
__ তোমরা চুপ করবে প্লিজ।
আলবান ইতি চুপ করে গেল, তারপর গাড়িতে উঠে চলতে লাগলো মার্কেটের উদ্দেশ্য।
