তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৬
রাফিয়া জান্নাত রিফা
__কালনাগিনীর দল দরজা খোল??
দরজা জোরে জোরে ধাক্কানোর শব্দ পেয়ে তিন বোনেই বিছানা থেকে তড়িৎ বেগে উঠে পড়লো। অসহায় মুখে তিনজনই তিনজনের দিকে চাওয়া চাওয়ি করলো। বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে তিনজনই চিংড়ি মাছের মতো তিড়িং বিড়িং করে নাচতে শুরু করলো কে আগে দরজা খুলবে এ নিয়ে।ইতি বললো,,,
__দেখ বইন, আমার মেলা সাহস কিন্তু লজ্জার কাছে আমার সাহস মিউ মিউ।তাই আমি দরজা খুলতে পাবো না।তোরা কেউ যা।
নিধি ওরনা মুচড়াতে মুচড়াতে বলে,,,,
__ আমি যদি দরজা খুলে দেই তাহলে আবার আর এক আকাম কুকাম করে বসতে পারি।যেমন ধর,লজ্জার ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে পাদরো ভাইকে সত্যিই ওই মুভির মতো করে বসলাম।তখন আর এক কেলেংকারি হবে।তাই আমি দরজা খুলবো না।
বিথী নিধি কথায় হাতে তালি দিতে দিতে বলে,,,
__বাহ বাহ বাহ,এ তো দেখি সিরিয়াস সময় ও রোমান্সের ধান্দায় থাকে।
আবার দরজার ওপাশে থেকে ষাঁড়ের মতো চিল্লানী দিয়ে আলবান বলে,,,
__দরজা খোল নাহলে ভেঙে ভিতরে ঢুকবো।
পাশে থাকা আর্দ্র কানে আঙ্গুল দিয়ে কর্ণরোধ করে আর বলে,,,
__উফফ আলবান একটু আসতে চিল্লা ,তোর এই ডাক আমার কানে ষাঁড়ের গর্জনের মতো কানে এসে দ্রিমদ্রিম করে বাজছে।
আর্দ্রের কথায় দির্শক শব্দ করেই হেসে ফেললো আলবানের দিকে তাকিয়ে মুখে হাত চেপে হাসতে লাগলো।আলবান রাগী চোখে একবার আর্দ্র ও একবার দির্শকের দিকে তাকাতেই তারা দুজনেই ভড়কে গেল।
বিথী ইতি ও নিধির উপর রাগ দেখিয়ে বলে,,,
__ওই পাটা গুলারে এতো ভয় পাওয়ার কি আছে।না মানে খুব বেশি লজ্জা হচ্ছে এই আর কি??
ইতি বলে,,,
__বিথী তুই দরজাটা খোল?
বিথী বেশ কনফিডেন্স নিয়ে এক পা দু পা করে দরজা খুলতে গেল। দরজা কাছে গিয়ে তিন জনেই জড়োসড়ো হলো। বিথী আসতে করে দরজাটা খুলে দিল। হুড়মুড়িয়ে প্রবেশ করলো আলবান সাথে আর্দ্র ও দির্শক।আলবান রুমে ঢুকে রাগে গর্জে বলে,,,
__এতক্ষণ লাগে দরজা খুলতে।
ইতি বলে,,
__ ওসব বাদ সাদ কেন এসেছেন আমাদের রুমে এটা বলুন
।
আর্দ্র বলে,,,
__পড়াতে এসেছে তোমাদের।
বিথী বলে,,,
__কে পড়াবে??
__দির্শক।
বিথী কিছুক্ষণ দির্শক কে দেখে মুখটা আমুট-চামুট করে বলে,,,
__উনি পড়াবে আমাদের,এনার কাছে পড়বো না আমরা,যে কিনা এমন ইংরেজি বলে যা আমরা ধরতেই পারি।
দির্শক বলে,,
__আমি তো ভালোই ইংরেজি বলেছিলাম কিন্তু তোমারই তো সেই ইংরেজিকে নিহত করে দিলে।
ইতি বলে,,,
__সব শিক্ষকেই এমন নিজের দোষটা কখনোই দেখবে না??
আলবান বলে,,,
__দ্বারা তোদেরটা করছি,?
এই বলে পকেট থেকে একটা প্লাস্টিকের নকল তেলাপোকা বের করে আলোকছটাদের দিকে আনতে লাগলো।
ব্যাস হয়ে গেল,এই তেলাপোকাই তো তিন বোনের দূর্বলতা।সহ্য করতে পারে না তেলাপোকা। তিন বোনেই একসাথে পিছাতে পিছাতে বললো,,
__দাবালন ভাই না,একদম না।
আর্দ্র বলে,,,
__যেদিন আমাদের এমন করেছিলে, সেদিনের কথা মনে নেই। আমরাও ওমন চিংড়ি মাছের মতো ছটফটিয়েছি।এখন তোমাদের পালা।
নিধি বলে,,,
__পাদরো ভাই রিভেঞ্জ নিচ্ছেন
আর্দ্র বলে,,,
__ভালো ভাবে কথা শুনলে এমন হতো না।
দির্শক কিছুক্ষণ নিধির দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভেবে বললো,,,
__একটু আগে যে ইংরেজিতে রিভেঞ্জ বললে এর বাংলা মিনীং কি বলো তো??
বিথী দাঁত কিরমিরিয়ে বলে,,,
__নিজে তো খুব পারেন,তা আমাদের বলছেন কেন??
ইতি বলে,,,
__আমরা ওতোটা ইংরেজি মুর্খ না ??
আলবান বলে,,
__তাহলে বাংলা মিনিং বল?
তিন বোনেই কিছুক্ষণ ভাবে তারপর ইতি দির্শককে দেখিয়ে বলে,,,
__ উনি তো আমাদের আজ থেকে পড়াবেন তাই এর মানে উনি ভালো জানেন। এখন এটাকে সরান দাবানল ভাই প্লিজ।
দির্শক আবার বলে,,,
__প্লিজের বাংলা টা একটু বলবে প্লিজ??
বিথীর খুব ইচ্ছে হলো এই লোককে তেলাপোকার চাটনি করে ধরে বেঁধে একটা একটা করে থাপ্পড় মেরে মেরে খাওয়াতে আর সব ইংরেজি ভুলিয়ে দিতে।
বিথী দাঁতে দাঁত চেপে ইতি কে ফিসফিস করে বলে,,
__বলদি ফটফট করে খালি ইংরেজি বলিস, এদিকে বাংলা তো বাল ও জানিস না।এখন বল প্লিজ এর বাংলা।
__আরে মনে পড়ছে না কেন?এটা তো অনেক পড়ছি। কোথায় যেন পড়ছি?? ধুর বাল মনে পড়ে না কেন?
নিধি বলে,,,
__এখন কিছু একটা বলে সামাল দে।পরে এলা বই দেখে মুখস্থ করবো।
বিথী গলা খাঁকারি দিয়ে দির্শক কে বলে,,,
__আসসালামুয়ালাইকুম স্যার আমি বিথী, সাতদিন আগে এইচএসসি পরীক্ষা দিলাম, পরিক্ষা অনেক ভালো দিয়েছি, শুধু কমন আসে নাই, গোল্ডেন আসবেই এটা নিশ্চিত, শুধু ওই টাকলা স্যারটা যদি প্রতিদিন পাঁচবার করে খাতা কেড়ে না নিতো তাহলে গোল্ডেনের উপরে যে ড়ায়মন্ট থাকে ওটা পাইতাম।
টাকলা স্যার আমাদের বলছিল আমরা নাকি একে অপরের দেখে লেখছিলাম। বিশ্বাস করেন স্যার আমরা কেউ কারো দেখে লিখি নাই। বরং আমাদেরই সবাই দেখে লিখেছিল।
ওই টাকলা স্যারকে দেখে আমার খুব ইচ্ছা হয়েছিল যে বাড়ি থেকে একটু সরিষার তেল নিয়ে গিয়ে মাথায় জবজবে করে মেখে দেই,যেভাবে ছোট বেলায় মা আমাদের মাথায় তেল দিয়ে দিতো ঠিক ওভাবে,ইসস টাক টা দেখতে কি যে কিউট ছিল। ইচ্ছা করছিল একটা টোকা মেরে ছোট বেলার কবিতাটা বলতে,,
মাথায় চকচকে টিন
বৃষ্টি নামলে ঝিঁনঝিন
বিথী এমন কথায় আর্দ্র,দির্শক সাথে আলবান ও শব্দ করেই হেসে উঠলো।
ইতি ও ভদ্রতার সহিত বলে,,,
__আসসালামুয়ালাইকুম স্যার আমি ইতি,আমি ও এইসএসসি পরিক্ষা সাতদিন আগে দিলাম, আমার তো মেজিস্ট্রেট এসে খাতা কেড়ে নিয়েছিল।মেলা বকঝকা দিল আমাকে, কিন্তু আমি উদর মনে তখন ওনার বউ কথা ভাবছিলাম স্যারকে বললাম ও “স্যার আপনার বউয়ের নাম কি”। স্যার উওর না দিয়ে আমাকে ইডিয়েট বললো আমি মনে করলাম ইডিয়েট বলে আমার প্রশংসা করলো তাই আবার বললাম ” স্যার আপনার সন্তান আছে,কয়টা সন্তান, আপনি অনেক হ্যান্ডসাম তো তাই জিগাস করা “।
এ কথাটা স্যারের অনেক ভালো লাগছে বোধহয় ব্যাস আমার খাতা খানা আমাকে দিয়ে হাঁসি মুখে চলে গেল। মেজিস্ট্রেটকে ইমপ্রেস করেছি মানে, আমি রেজাল্টে, গোল্ডেন, ডায়মন্ড, সোনা দানা, রুপা সব পাবো।
আর্দ্র,দির্শক মুখে হাত চেপে হাসছে,আলবান ও নিজের হাসিকে কিছুতেই দমিয়ে রাখতে পাড়লো না।
এবার নিধি বলে,,,
__আসসালামুয়ালাইকুম স্যার আমার নাম নিধি, আমিও এইচএসসি পরীক্ষার শেষ দিলাম মাএ। অনেক ভালো পরিক্ষা দিয়েছি, শুধু আমার পাশে বসা মেয়েটার ভালো করে কপি করতে পারি নাই, ওই আর কি।
দির্শক হাসতে হাসতে বলে,,,
__আমি হলাম তোমাদের শিক্ষক যার মধ্যে তোমাদের জ্ঞানের মতো এক চুল পরিমান ও জ্ঞান নেই। আসলেই তোমাদের জ্ঞানের কোনো তুলনা হয় না, তোমাদের মতো আমার জ্ঞান থাকলে সেই কবেই পাবনার পাগলা গারদে ভর্তি হতাম।আমার নাম দির্শক প্রধান।
বিথী আবাক হয়ে বলে,,,
__কি?? দুষ্শমন প্রাধান।
__আরে দির্শক প্রধান।
আর্দ্র জোরে হাসতে হাসতে দির্শকের ঘাড়ে চাপ্পর মেড়ে বলে,,,
__আর নামের ব্যাখ্যা দিয়ে লাভ নেই,একবার যখন বলেছে দুষ্শমন তাহলে ওটাই তোর ফিক্স নাম বন্ধু।কি নাম দিলা বিথী??জোস নাম।
এই বলে হাসতে হাসতে পাশে থাকা চেয়ারে বসে পড়ে আর্দ্র
দির্শক বলে,,,
__এমন ভাবে বলছিস যেন তোর নামটা কত ভালো দিয়েছে।
মূহুর্তেই আর্দ্রের মুখ খানা চুপছে গেল।
আলবান অনেক কষ্টে নিজের হাঁসিকে সংযত রেখে বলে,,,
__ ইতি, বিথী, নীধি তোরা মনোযোগ দিয়ে পড় তাহলে আমরা আসি। একদম ফাজলামি করবি না,নাহলে এবার বাবাকে ফোন দিয়ে বলে দিবো,আর্দ্র চল??
আলবান ও আর্দ্র দুজনেই হাসতে হাসতে চলে যায়।দির্শক তাদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,,
__ এ কোন নরকে রেখে গেলি, ভাই আমার।
বিথী দির্শক কে বলে,,,
__দুষ্শমন স্যার আসুন,বসুন, বসেজান।
টেবিলে দির্শক বসলো।ইতি বিথী নীধি ও বসে পড়লো চেয়ারে।দির্শক গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,,
__কোন সাবজেক্ট এ বেশি সমস্যা।
ইতি বলে,,
__ইংরেজি।
__সোর্স টেস্ট পেপারটা আছে।
বিথী বলে,,
__ হ্যাঁ।
__আনো।
__ওই তো চোখের সামনে।
__ওহহ আচ্ছা।
এই বলে গাইডটা নিয়ে পড়ানো শুরু করে,ইতি বিথী নীধি ও বেশ মনোযোগ দিয়ে পড়া গুলো শোনে, কিন্তু কিছু বুঝতে পারছে না।এক কান দিয়ে ঢুকছে তো অন্য কান দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।
এতোযোগ দিয়ে শোনর কারণ একটাই বড় বাবা,আর বাবা এদের কথা রাখতে হবে,এরা যেহেতু বলেছে ভার্সিটিতে চান্স নিতে হবে মানে নিতেই হবে নাহলে হেব্বি রাগ হবে।যেটা একদম এ চায় না ইতি বিথী নীধি।
পড়ানো শেষ হয়েছে অনেক ক্ষণেই তারপর আছরের নামাজ পড়েই এখন তিন আলোকছটা ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে আছে। আলবানের মা আলিফা বেগম রান্না ঘর থেকে ইতিকে ডাকলেন,,,,
__ইতি মা একটু এদিকে আয় তো।
__যাচ্ছি।
ইতি রান্নাঘরে এসে আলিফা বেগমকে বললেন,,
__বড় মা বলো??
আলিফা বেগম ইতি হাতে কফির কাপ দিয়ে বলেন,,,
__আলবানের রুমে দিয়ে আয় মা যা??
অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ইতি বলে,,
__আচ্ছা যাচ্ছি।
এই বলে কফি নিয়ে যেতে থাকে পেছন থেকে নিধি বলে,,
__সাবধান।
ডেভিল হাসি দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে থাকে ইতি।
আলবানের রুমের দরজাটা খুলায় ছিলো তাই ইতি আর কিছু না ভেবে ঢুকে পড়লো।আলবানের রুমে সেভাবে কেউ একটা আসে না।ইতি ঘুরে ফিরে ঘরটা দেখলো বেড সাইডের টেবিলে কফির মগটা রেখে দিলো।
তখনি ওয়াস রুমের দরজা খুলে বের হলো আলবান পড়েনে শুধু টাওয়েল জড়ানো, চুল গুলো থেকে টুপটাপ পানি পড়ছে। বলিষ্ঠ চেহারার পেশি গুলো উন্মুক্ত হয়ে বেশ আকর্ষণীয় লাগছে,ইতির তা দেখতে বেশ ভালো লাগলো।
কিছুক্ষণ দেখে লজ্জা সিটিয়ে গেল তড়িৎ বেগে অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়ালো।
আলবান ও বেশি একটা ভাবান্তর দেখালো না বিষয়টিতে সোজা চলে গেল আলমারির দিকে।
হঠাৎ ইতির চোখ গেল একটু দুরত্বে থাকা বক্সের দিকে।চারকোণি বাক্সটি খুবই চকচক করছে যা দেখতে বেশ আকর্ষণীয় লাগছে।সেটার প্রতি প্রবল ভাবে আকর্ষিত হলো ইতি ,যেতে লাগলো বাক্স টির দিকে।
বাক্সটিকে হাতে তুলে নিবে এমন সময় আলবান ঝড়ের গতিতে এসে ইতির হাত শক্ত করে ধরে ফেললো।ইতি তাতে ভড়কে গেল। গম্ভীর কন্ঠে আলবান বললো,,
__একদম হাত দিবি না ওটায়।যে কাজ করতে এসেছিস সেটা করে চলে যা।
__আমি দেখবো ওটা, খুবই সুন্দর দেখতে।
__বললাম তো না।
__আমি দেখবো
আলবান ইতির হাত ধরে সেখান থেকে টেনে এনে আলমারির সাথে চেপে ধরে ,ইতির চোখের সামনে আবার সেই তেলাপোকাকে এনে বলে,,,
__দেই এটাকে গায়ে ফেলে?
ইতি একটু ভয় পেলো কিন্তু তাও দমে গেল না মুচকি হাসি দিয়ে বলে,,,
__আচ্ছা তাহলে আমিও টাওয়ালটা খুলে ফেলে দেই।
আলবান তার পড়নের টাওয়ালের দিকে তাকিয়ে দেখে ইতি টাওয়ালের এক পাশ হাতে ধরে আছে।
__ভালো হবি না তুই ইতি??
__নো চান্স??
__আমাকে ভয় করে না তোর??
__ইতি কাউকে ভয় পায় না, আপনাকে তো একদম এ না??
আলবান ইতিকে আরো চেপে ধরে বলে,,,
__আগের কথা সব ভুলে গেলি??
তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে ইতি বলে,,
__ওই জন্যই ভয় পাই না, আপনার মতো দাম্ভিক মানুষকে।
__তারমানে ভয় পেতি।
__হুম আগের সেই ঘটনার আগে ভয় পেতাম, ঘটনাটি ঘটার পর আর ভয় পাই না।
__রিজন।
__কতবার বললে বুঝবেন ইংরেজীর বাংলা মিনিং গুলো না পারায় ইংরেজি ধরতে পারি না।
বাঁকা হাসি দিয়ে আলবান বলে,,,
__আচ্ছা, আমার খুবই ইচ্ছে করছে তেলাপোকাটাকে তোর গায়ে ফেলায় দিতে।
__আমারো খুব ইচ্ছে করছে টাওয়াল টা খুলে দিয়ে সব স্ক্যান করে নিতে।
__বাই মিচটেক সেটা হচ্ছে না।
__আপনি জাস্ট তেলাপোকাটা আমার গায়ে দিয়ে দেখন,আমিও চিচিং ফাঁক করে দিয়ে চলে যাবো।যাকে বলে ইজ্জতের দফারফা।
ইতির কপালে টোকা মেরে আলবান বলে,,
__ তুই ছেলে হলে খুব ভালো হতো , যাকে বলে জমে ঘি হয়ে যেত একেবারে।
__আর আপনি মেয়ে হলে আমার ইফ্টিজিং এর স্বীকার হতেন। ব্যাপারটা সত্যিই তখন দারুন হতো।
আলবান বুঝলো এই মেয়ের সাথে সে কথায় পাবে না।তাই আলবান ও শয়তানি হাসি দিয়ে দিয়ে কিছুক্ষণ ইতির মুখটা ভালোভাবে দেখলো, গালে আসা চুলগুলোকে কানের পিছনে গুজে দিলো।
পরক্ষণেই হাতে থাকা প্লাস্টিকের নকল তেলাপোকাকে ইতি দিকে দিতে লাগলো।
ইতি সেটা বুঝতে পেরে দ্রুত বেগে আলবানের পড়েনের টাওয়ালটা খুলে হাতে নিয়ে আলবান কে ধাক্কা মেরে টাওয়াল টা নিয়েই ভো দৌড় দিল, ভুলেও পিছনে ঘুরে তাকালো না আর।
দৌড়াতে দৌড়াতে ইতি বললো,,
__কিছু না দেখে আজ আপনার ইজ্জত বাঁচিয়ে দিলাম, কিন্তু পরের বার আর ছার দেব না, বলে দিলাম।
আলবান আর কি বলবে,সে তো হতবাক স্তম্ভ হয়ে হাতে নকল তেলাপোকাটা কে নিয়েই দাঁড়িয়ে রইল। বোঝার চেষ্টা করছে যে সেকেন্ডে মধ্যে তার সাথে ঠিক কি হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ হাঁ হয়ে ভেবে চিন্তে আসতে করে নিচের দিকে তাকালো,যা হবার হয়েই গেছে, আলবানের পড়েনে একটা সুতো ও নেই। নিজের উলঙ্গ শরীর নিজে দেখেই আঁতকে গেল।
আর কিছু না ভেবে আলমারি থেকে প্যান্ট নিয়ে দৌড়ে গেল ওয়াস রুমে।
মুহিনের হয়েছে আর এক জ্বালা ফেইসবুক মেসেঞ্জারে ১৪ টা প্রেম করে।তার মধ্যে এখনি একটা মেয়ের সাথে ব্রেকআপ হলো একটু আগে, ব্রেকআপ হবে না আবার,ওই মেয়ে মুহিনকেই বলে,,
__তুই হাজার ঘাঁটের পানি খাওয়া ছেলে,তোর একটা জিএফ দিয়ে মন ভরে না , হাজারটা লাগে।
এখন মুহিনের কথা,,
__না বেবি আমি তোমাকেই ভালবাসি,আমি তুমিময় এক নারীতে আসক্ত।
__ভাগ শালা তোর দরকার নেই,তোর মতো থার্ডক্লাস ছেলের সাথে আমি রিলেশন কান্টিনিউ করবো না।
ব্যাস থার্ড ক্লাস বলে মুহিনের মেজাজ টাও তুঙ্গে উঠলো।লেগে গেল দুজনের মধ্যে তুলকালাম ঝগড়া।কেউ কারো থেকে কম না, ইচ্ছা মতো গালিগালাজ করে ব্রেকআপ করলো।
এখন দ্বিতীয় কথা হচ্ছে মুহিনে আর একটা প্রেম অর্থাৎ জিএস নিয়ে।আইডির নাম হলো পিংকি সাঁইজা। তিন মাস ধরে কথা বলে এই আইডিটার সাথে, মুহিনের কথা বলতে খুব ভালো লাগে যেহেতু মেয়ে তাই। পিংকি সাঁইজা ইউএসএ থাকে ওটাই নাকি তার স্থায়ী ঠিকানা, বাংলা ভাষায় বেশ ভালোই কথা বলতে পারে।
কত ধরনের কথা যে বলেছে তার ঠিক নেই,সেই মেসেজ গুলোই বিছানায় সুয়ে অসহায় কাঁদো কাঁদো মুখে পড়ছে মুহিন,,,
মুহিন বলেছিল: জান কেমন আছো??
_ভালো আছি, বেবি তুমি কেমন আছো?
_ভালো,আই মিচ ইউ বেবি ?
_আই মিচ ইউ টু।
_বেবি আমরা হানিমুন কোথায় করবো?
_চান্দে করবো বেবি।
_আমাদের কয়টা বাবু হবে বেবি?
_১৫-২০টা।
_আই লাভ ইউ জান।
_লাভ ইউ টু জান।জান বিয়ের পর আমি বাঙালি মেয়ের মতো সুন্দর করে সংসার সামলাবো
।
_ আচ্ছা জান,আর আমি অফিস থেকে এসে তোমাকে একটা চুমু খাবো।
_যাও তোমার খালি চুমুর ধান্দা।বিয়েতে তুমি আমাকে কি উপহার দিবে বেবি।
_সাতনলি হার দিবো বেবি।
_সত্যি??
_ হ্যাঁ জান।আমি তো ভাবছি সূর্যটাকে এনে দেওয়ার জন্য। কিন্তু পৃথিবীতে বাস করা অসহায় লোক গুলো কথা ভেবে বাদ দিলাম। কিন্তু একদিন আমি তোমাকে আকাশের তারা না হয় চাঁদ উপহার দিবোই দিবো।
_উফফ আমি খুবই এক্সাইটেড আকাশর তারা ও চাঁদ গিফ্ট পাওয়ার জন্য। বেবি আমি আর কয়েকদিনের মধ্যেই বাংলাদেশ যাচ্ছি।দেখা করবো কিন্তু।
_সত্যি বেবি, তুমি বাংলাদেশ আসছো।
__ হ্যাঁ বেবি।
তার তিন দিন পর । মেসেঞ্জারে মেসেজ আসলো পিংকি সাঁইজার,,
__বেবি আমি বাংলাদেশে।
__সত্যি বেবি।
__ হ্যাঁ।
আজকের পিংকি সাঁইজাকে মেসেজ দিয়েছিল মুহিন,,
__বেবি তুমি বাংলাদেশ কোথায় আছো বলে??আমি দেখা করতে যাবো।
_বেবি আমি তালুকদার বাড়িতে এটা আমার বন্ধুর বাড়ি।
_বন্ধুর নাম কি??
_আলবান তালুকদার?
মুহিনের আর বুঝতে বাকি রইল না যে এটা পেটেটা পিকি ভাই।
এ কথা শুনে মুহিনের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো, অবাকের চরম পর্যায়ে মুহিন এ কষ্ট এখন কাকে দেখাবে মুহিন।
মুহিন তো সত্যি সত্যি ভালোবেসেছিল।
তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৫
সে আরো কত রকমের সাংসারিক কথপোকথন করতো। মেসেজ গুলো পড়তে পড়তে কেন্দেই দিলো মুহিন।
এদিকে পিংকি ওরফে পিকি অনবরত মেসেজ দিয়েই যাচ্ছে”,বেবি,জান, সোনা,বর,কলিজা,কথা বলো”।
মুহিন মেসেজ গুলো সিন করছে আর রাখছে,রাগে, দুঃখে, কষ্টে আর রিপ্লাই দিলো না। খুব রাগ হচ্ছে ইচ্ছে করছে পিকি কে গিয়ে বেধারম পেটাতে। মুহিন বলে,,,
_ও আল্লাহ আমাকেও গান্জা,বিড়ি টানতে হবে নাকি। ছ্যা শেষে কিনা এমন করে ছ্যাঁকা খেলাম সি সি।পিকি ভাই আল্লাহ আপনার ভালো করবে না,একদমই করবে না, অভিশাপ দিলাম আমি।
