Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৫

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৫

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৫
জান্নাতি আক্তার জারা

আজকে আরিশার বৌভাত, তালুকদার বাড়ি থেকে আরিশার শশুর বাড়ি যাওয়ার আয়োজন চলছে। নানারকমের মিষ্টির হাঁড়ি দিয়ে ডায়িং টেবিল ভরা। আতিফ শেখ আর মিমের বাবা মিলে মিষ্টির হাঁড়ি গুলো গাড়ির উদ্দেশ্য নিয়ে যাচ্ছেন। আদনান তালুকদার ড্রয়িং রুমে দাঁড়িয়ে হাতের ঘড়িটা বারবার দেখছেন। আহাদ তালুকদার সবার উদ্দেশ্য ডাক ছাড়লেন দ্রুত বের হওয়ার জন্য। বাকি গেস্টরা গাড়ি তে ওঠে পড়েছে। আহিন আদনান তালুকদারের কথায় আলভী কে সঙ্গে নিয়ে আরাত দের ডাকতে আরাতের রুমে গিয়েছিলো। আহিন আলভী সিড়ি দিয়ে দৌড়ে নামতেই ভদ্রলোক রা ব্যস্ত চোখে সিড়ির দিকে তাকালো। আরাত সন্ধ্যা মায়া মিম একসঙ্গে এডি হয়ে নিচে নেমে আসছে। বৌভাতে সবাই শাড়ি পড়ে যাবে। আরাত সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে রশ্মির ফোনে ফোন দিচ্ছে বারংবার। প্রতিবারের মতো ফোন বেজেয় যাচ্ছে। রিসিভ না করায় আবারো কেটে যাওয়া দেখে। আরাত ঠোঁট উল্টো ফোন থেকে চোখ উঠিয়ে নিয়ে নিচে নামতে লাগলো। আইরা কে সবার সঙ্গে দেখতে না পেয়ে আদনান তালুকদার চারজনের উদ্দেশ্য জিজ্ঞেস করলেন,

“তোমাদের সঙ্গে আইরা কই?
আরাত আদনান তালুকদারের কথায় উওর করলো,
” বড়আব্বু! আইরা আপুর বের হইতে একটু লেট হবে আমাদের শাড়ি পড়িয়ে দিতে দিতে আপুর লেট হয়ে গেলো।
“ঠিক আছে, আমরা এগুলাম তোমরা আনাস সের গাড়িতে এসো!
কথাটা বলেই আদনান আর আহাদ তালুকদার গাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্য পা বাড়ালেন। বাড়ির মহিলারা আগেই গাড়িতে ওঠে পড়েছেন। আনাস ফোন টিপতে টিপতে গেস্টরুম থেকে বের হইলো। আনাস সের সঙ্গে হাবীব আর আশিক কেউ বের হতে দেখে গেলো। হাবীব বের হয়েই সন্ধ্যার দিকে তাকালো। হাবীবের তাকিয়ে থাকার মধ্যেই সন্ধ্যা দুষ্টু হেসে হাবীব কে চোখটিপ দিলো। আর হাবীব সন্ধ্যার চোখটিপ মারা দেখে সঙ্গে সঙ্গে কেঁশে উঠলো। আশিক হাবীবের কাছে এসে পিঠে হাত বোলাতে বোলাতে সন্ধ্যার দুষ্টুমি হাসির দিকে তাকিয়ে বলল,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

” দোস্ত তোর কাশি ওঠে গেলো! আর আমাকে কেউ এমন ভাবে চোখ মারলে আমি তো ফিদা হয়ে মাটিতে এক সেকেন্ড অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকতাম ।
আশিকের কথায় সন্ধ্যা বেশ লজ্জা পেলো। আর বাকি সবাই মুচকি মুচকি হাসতাছে! আনাস ফোন থেকে চোখ উঠিয়া সবার মধ্যে আইরা কে দেখতে না পেয়ে আরাত কে জিজ্ঞেস করলো,
“ইরা কই ?
” ভাইয়া আপুর একটু লেট হবে!
“কেনো?
” শাড়ি পড়ছে তো এজন্য।
“ও কী নিজের শশুর বাড়িতে যাচ্ছে, এতো সাজতে হবে কেনো! বোরকা পড়ে বেরিয়ে আসতে বল
আশিক আনাস সের কথায় বাঁধা দিয়ে বলে উঠলো,
“শশুর বাড়ি তে সবসময় থাকতে দেখা যায়! এখন যাচ্ছে হবু শশুর বাড়ি তে, বলা তো যায় না টুকুস করে রাফি মির্জার বউ হয়ে গেলো।
আনাস রাগী চোখে আশিকের দিকে তাকালো, আশিক আনাস সের তাকানো কে পাওা না দিয়ে আনাস কে জ্বালাতে পুনরায় বলল,

” বিয়ে হইলে কিন্তু মন্দ হয় না। দুজন কে দারুণ মানাবে। আর তোদের টাকাও বেঁচে গেলো এক মিষ্টির হাঁড়ি নিয়ে দুইবোনের বাড়িতে ঘুরতে যেতে পারবি বল আনাস ঠিক না?
আনাস কে আগের ন্যায় রাগী লুকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আশিক বলল,
“কী রে দোস্ত, এভাবে রাগী লুক দিচ্ছিস কেনো! মনে হচ্ছে আমি তোর বউ কে অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে বলছি ?
সবাই আনাস কে রেগে যেতে দেখে মিটিমিটি হাসতাছে। আনাস আশিকের কথায় পা থেকে এক হাত দিয়ে জুতা খুলছে আশিক কে মারতে। আশিক আনাস কে জুতা খুলতে দেখে বেঁচে বেঁচে মায়ায় পিছনে গিয়ে মায়া কে ধরে লুকালো। মায়া এতে বেশ বিরক্তি চোখে আশিকের দিকে তাকালো। তখনই আইরা কে সিড়ি বেড়ে নামতে দেখে মিম চিল্লিয়ে উঠলো,

” ওইতো আইরা আপু এসে পড়েছে!
মিমের কথায় সবাই সিড়ির দিকে তাকালো। আনাস জুতা খুলা বন্ধ করে সিড়ির দিকে তাকিয়ে আইরা কে শাড়ির আঁচল ঠিক করতে করতে নিচে নামতে দেখে পুনরায় রাগটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।আইরা আনাস সের দেওয়া শাড়ি না রাফির দেওয়া লাক্সারি পার্ট শাড়িটা পড়েছে। আনাস সেদিকে তাকিয়ে নিজের রাগ সামলাতে না পেয়ে ড্রয়িং রুম থেকে বড়বড় পা ফেলে বেরিয়ে গেলো। আইরা আনাস সের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে একটা বাঁকা হাসি দিলো। আনাস কে রেগে চলে যেতে দেখে আশিক মায়ার পিছনে দাড়িয়েই চিল্লিয়ে বলল,
“কার জন্য লয়াল আছিস দোস্ত, তোর লয়াল এর চক্করে দিন দিন সালমান খান হয়ে যাচ্ছিস এ খবর তোর আছে!
আশিকের কথায় এবার সবাই শব্দ করে হেঁসে উঠলো।আনাস পিছু না ঘুড়ে বাড়ির বাহিরে চলে গেলো। আশিক কে এখানো আগের ন্যায় ধরে থাকতে দেখে মায়া দাঁতে দাঁত খিঁচে আশিকের পায়ে হিল দিয়ে দিলো এক গুটা। আশিক চিৎকার দিয়ে পা ধরে লাফাতে শুরু করলো।

“ওমাগো আমার শশুর শাশুড়ী এই জল্লাদ মেয়েকে সামলায় কিভাবে!
” হ্যাঁ এই জল্লাদ মেয়ে কে সামলানোর ক্ষমতা আমার আব্বু আম্মু রয়েছে। আপনার নেই সো আমার সঙ্গে সবসময় লাগতে আসবেন না লুচ্চা বেডা! মাইন্ড ইট।
“তোমাকে আমি সামলাতে যাবো কেনো! তোমাকে আমি আমার সঙ্গে বেসামাল করবো!
” উমমমমম, সালা লুচ্চা খাটাশ একটা।
আশিক বাঁকা হেসে মায়ার কানের কাছে এসে ফিসফিস করে কথাটা বলে চোখটিপ দিয়ে সড়ে দাঁড়াতেই। মায়া রাগে দুহাত দিয়ে আশিকের গলা চেপে ধরতে গিয়েও ফিরিয়ে নিয়ে উপরদিকে মুঠ করে বড়বড় পা ফেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো। আশিক মায়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে শব্দ করে হেসে উঠলো। বাকি সবাই অবাক হয়ে দেখতে লাগলো দুজন কে। আশিক কী-বা মায়ার কানে ফিসফিস করে বললো আর মায়া বা কেনো রাগ করে চলে গেলো কেও বুঝলো না। সবাই বাড়ির বাহিরে যাওয়ার উদ্দেশ্য হাঁটতে হাঁটতে আইরা আশিক কে বলল,
” ভাইয়া প্লিজ মায়াকে আরিশা আপুর শশুর বাড়িতে গিয়ে রাগাতে যাইয়েন না। ওখানে মায়ার বাবা মানে খালেক আঙ্কেল আসবে। ওনি এ-সব পছন্দ করে না।
আইরা কথায় আশিক উওর না করে উল্টে হাবীবের ঘারে হাত রেখে সামনে এগুতে এগুতে বলল,
“ভাবি এখনো সময় আছে, আমাকে আপনার বান্ধবীর হাতে তুলে দেন, যোগ্য দুলাভাই হারালে কাঁদতে হবে আড়ালে।

আরিশার শশুর বাড়িতে এসে গাড়ি থেকে নামাতে গেটের সামনে বড়ো করে ঝাড়বাতি দিয়ে, আমান প্লাস আরিশার পূর্নতা, লেখাটা চোখে পড়লো সাবার। একে একে সবাই ভিতরে প্রবশ করল। আরিশা নতুন বউ সেজেগুজে টেজে মিরার সঙ্গে বসে থাকতে থাকতে নিজের মা-বাবা কে দেখতে পেয়ে মুখে হাসি ফুটে উঠলো। যেন কতযনম পড় সবার দেখা মিলছে। আনহা শেখ প্রথমে মেয়ের কাছে এগিয়ে গেলেন। আতিফ শেখ আহাদ তালুকদার আদনান তালুকদার নতুন বেয়াই বিয়াইনের সঙ্গে কৌশল বিনিময় করতে লাগলো। আরিশা মন মলিন করে মা কে কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে রাখলো। আনহা শেখ কান্নাভরা চোখে মেয়েকে জড়িয়ে রাখছে। আদিবা তালুকদার রাহিমা সুলতানা মিলে আনহা শেখ কে কান্না না করতে ধমক দিলেন। আরিশা মা কে জড়িয়ে ধরার মধ্যে দিয়ে দেখতে পেলো একদল শাড়ি পরিহিত রমনীদের। আরিশার মুখে পুনরায় হাসি ফুটে উঠলো। রমণীরা আরিশার কাছে আসতেই চঞ্চল আরাত প্রশ্ন করলো,

” আপু শশুর বাড়ি প্রথম দিন কেমন কাটলো?
আরিশা আনহা শেখ কে ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। আনহা শেখ রাবেয়া তালুকদার রা ছোটদের একা ছেড়ে চলে গেলেন। আরিশা হাসি মুখটা বাঁকা করে বলে উঠলো,
“আমি বউ হয়ে গেলাম এটা মেনে নিলাম। কিন্তু ছোট্ট ছোট্ট পিচ্চিরা এসে বলছে আরিশা ভাবি আরিশা কাকি আরিশা মামি, লাইক সিরিয়াসলি আমি মামি। আমাকে কী মামি মামি লাগছে বল…
সবাই আরিশার কথায় হেঁসে দিলো। আনাস আশিক হাবীব এগে এসে আরিশার সঙ্গে কথা বলল,আরিশা সবাই কে লক্ষ করে বলল,
” তাকবীর ভাইয়া আর আদিল কই আনাস ভাই?
” ভাইয়া আদিল কে সঙ্গে নিয়ে একটা মিটিংয়ে আছে, মিটিং শেষ করে এসে পড়বে।
“আজকে দিনও মিটিং?
” এসে পরবে, আমান কই দেখছিনা?
“সম্বন্ধীবাবু এইতো আমি।

আমান টেজের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে আনাস সের কথায় উওর করলো। আমান এসে একে একে সবার সঙ্গে কোলাকুলি করে হাসি মুখে গল্প করতে লাগলো। ঠিক তখনই মাহমুদ ইসলাম নতুন বউ দেখতে মাহিরের সঙ্গে টেজে আসলেন। মাহমুদ ইসলাম কে দেখে আজ আরাত আর আগের ন্যায় ঝগড়া করলো না ভদ্রমেয়ের মতো সালাম দিলো। আরাত কে সালাম দিতে দেখা সবাই বেশ অবাক চোখে আরাত কে দেখতে লাগলো। মাহমুদ ইসলাম আরাত কে এতটা ভদ্রটা দেখাতে বেশ অবিশ্বাস্য আর সন্দেহ চোখে আরাত কে দেখতে লাগলো। সন্ধ্যা মিরার দিকে তাকিয়ে ইশারায় বলল,
” কেমন যেন পুরো পরিবেশ টা পরিবর্তন পরিবর্তন লাগছে, তাই-না মিরা?
“তাই তো দেখছি।
দুজনের কথাকথনে আরাত মাহিরের দিকে তাকিয়ে একটু লজ্জা পেলো। মাহির আরাতের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে ছিলো। মাহমুদ ইসলাম আরিশা কে দেখে আমানের সঙ্গে টুকিটাকি কথা বলে চলে গেলেন। আশিক দুষ্টু হেসে আমান কে বলল,

” আমান বিয়ে করে কেমন ফিলিংস ফিল করছো?
আমান কিছু বলতে নেবে তার আগেই আহিন তারাহুরো করে বলে,
“ভাইয়া আমি বলছি! আমি বলছি।
সবাই আহিন কে দেখতে লাগলো। বিয়ের ফিলিংস বুঝবে কী করে এটা ভন্ড। আহিন এবার সবার দিকে চেয়ে আলভী কে ইশারায় দেখিয়ে বলল,
” আলভী তুই আরিশা আপু, আর আমি হইলাম আমান ওকে!
আলভী বেশ জোরে বলল, ওকে!
আহিন আলভী কে আরাতের শাড়ির আঁচলের নিচে দাঁড়াতে বলল, আহিনের কথা মতো আলভী আরাতের আঁচল টা মাথার উপর ওড়নার মতো করে রাখলো। এবার আহিন বলে উঠলো,
“আমান ভাইয়ের বিয়ের পর রিঅ্যাকশন এমন হয়ে গেছে__মেরে আরিশা পছন্দ, মেরে আরিশা পছন্দ, মেরা আরিশা পছন্দ…আরিশা….

“জ্বি….
আলভী আরাতের আঁচলের নিচে থেকে মুখে লজ্জা মুখে বলল,সবাই মিটিমিটি হাসতে লাগলো। আহিন পুনরায় বলল,
“মেরে সোনি সনি…
” জ্বি…..
“মেরে বুলবুল
“জ্বি…
“মেরে বক্ষ…
“জ্বি…
সবাই এবার একসঙ্গে শব্দ করে হেঁসে উঠলো। সবার হাসির শব্দ বাকি গেস্টরা অদ্ভুত চোখে তাদের কে দেখতে লাগলো। রাফি আরশ মেহমান দের খাওয়ানো হেল্প করছিলো। হাসির শব্দ পেয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে টেজের দিকে আসলো রাফি। আরশ আসতে যাবে আরশের পথ রাখতে দাঁড়ালো রুপোলী বেগম,

” ভালো আছো বাবা?
আরশ রুপোলী বেগম কে দেখে সৌজন্যে মূলক হাসার চেষ্টা করে উওর করলো,
“হ্যাঁ আন্টি! আপনি কেমন আসেন?
” আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি বাবা! বাবা তেমার মাও বাপ আসি না-ই?
এবার আরশ বেশ ভালো করেই ধরতে পারলো রুপোলী বেগমের মনের কথাগুলো। আরশ হাসার চেষ্টা করে রুপোলী বেগম কে মিথ্যা বলে উঠলো,
“আসলে আন্টি আমার বাবা মা বাংলাদেশে থাকেন না। উনারা আমেরিকা থাকেন এজন্য বিয়েটা এটেন করতে পাড়ে নাই!
“আমেরিকা মানে বিদেশ…? তোমার বাবা-মা বিদেশ থাকে?
” হ্যাঁ আন্টি!

আরশের কথায় রুপোলী বেগমের মধ্যে আরো বেশি উৎফুল্লতা দেখা গেল। আরশের সামনে রুপোলী বেগম মিমের বাবা কে ডাকলেন। ভদ্রলোক তাদের কাছে এসে আরশ কে উওর নিচ দেখতে লাগলো। আরশ শুধু অবাক চোখে একবার রুপোলী বেগম কে দেখছে আরেকবার মিমের বাবা কে দেখছে। তাদের দেখাদেখির মধ্যে রুপোলী বেগম উৎফুল্লতা কন্ঠে মিমের বাবা কে বললো,
“মিমের বাবা তোমাকে একটা মেলা সুন্দর পোলার কথা কইছিলাম না! এটাই সেই পোলা, যানো পোলার বাবা-মা বিদেশে থাকে।
আরশ বেশ অপ্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। ভদ্রলোক রুপোলী বেগমের কথায় আরশ কে দেখতে দেখতে বলল,
” হুম পোলা দেখতে শুনতে তো ভালা লাগছে, লম্বাও আছে! হ মিমের মা তুমি সত্যি কইছো, মোগেরে গ্রামের মধ্যে মোর বেতিজামাই সবচেয়ে সুন্দর হবি।
আরশ ভদ্রলোকের কথা শুনে কাশতে লাগলো। রুপোলী বেগম মাথা নাড়ে মুচকি হেসে স্বামীর সঙ্গে একমত বুঝালো। ভদ্রলোক কিছু বলতে যাবে আরশ পানির কথা বলে দ্রুত পায়ে জায়গায় ত্যাগ করলো।

আইরা কে রাফির দেওয়া শাড়ীতে দেখে রাফি কয়েক মুহূর্ত থমকে যাওয়া মুগ্ধ চোখে দেখছিলো। রাফির চোখের চাহনি বেশ অপ্রস্তুত করে তুলছিলো আইরা কে। আরিশার শশুর বাড়িতে আসার পরথেকে আনাস সবসময় আইরা কে ফলো করতে দেখে। আইরা বেশি বেশি করে রাফির আশেপাশে ঘুরঘুর করছিলো। আনাস সের মনোযোগ শুধু আইরা আর রাফির উপরে। এই সুযোগে রাফিও আইরা কে সময় নিয়ে নিজের কাছে অনুভব করছে। রাফি আইরার পাগলামো বুঝতে পেয়ে নতুন করে যেন আইরার প্রেমে পরতে লাগলো।
“আইরা তোমার সঙ্গে আলেদা কথা যাবে! বেশি না দুমিনিট?
সবাই মিলে খাবার খেয়ে মেয়েরা আরিশার রুমে যাচ্ছিল। মাঝপথে আশিকের ডাকে সবাই একবার পিছু ঘুরলো। আইরা মুচকি হেসে বলল,

” হ্যাঁ ভাইয়া বলেন?
“তোমরা যাও, আইরা দুমিনিট পড়ে আসবে!
আশিকের কথায় সবাই আরিশার রুমে চলে গেলো। মায়া শুধু ভ্রু কুঁচকে আশিকের দিকে চেয়ে রইলো। আশিক মায়া কে দেখে, মুখে সিটি বেজে ভ্রু নাচিয়ে দুষ্টুমি হেসে বলল,
” ওই বন্ধুর ভবিষ্যৎ বউয়ের ফ্রেন্ড! কী চাই?
“আমার ফ্রেন্ড কে!
” কেনো আমাদের দুজন কে একা কথা বলায় তোমার কী জ্বলছে! আর ইউ জেলাস?
” আমি জেলাসি তাও আবার আপনার মতো লুচ্চা কে হু! এমন দূরদশা এখনো এই মায়ার আসে নাই মিস্টার লুচ্চা।
” হয়তো আসে নাই বাট এই লুচ্চা মুখ দিয়ে যে বাণী বের করে। কেনো জানি না মাওলা বাণীগুলা কবুল করে নেয়।
“তোমরা দুজন আবার শুরু হয়ে যাচ্ছো! ভাইয়া আপনার কিন্তু দুমিনিট মায়ার সঙ্গে ঝগড়া করতে করতে শেষ।
” ওকে ওকে এখান থেকে চলো! সবার সামনে এভাবে দুজনের কথাকথন বলা যাবে না।

আশিকের কথায় মায়া অপমানিত হয়ে মুখে রাগ নিয়ে চলে গেলো। আশিক সেদিকে তাকিয়ে হেঁসে উঠলো। আইরা হাসতে হাসতে আশিক কে বলল,
” হ্যাঁ ভাইয়া এখন বলেন?
আশিক এবার সিরিয়াস হইলো, আইরা দিকে তাকিয়ে আইরা কে প্রশ্ন করলো,
“আনাস কে ভালোবাসো?
আইরা মলিন হেসে উঠলো, আশিক আইরার হাসির দিকে তাকিয়ে রইলো
” জানতে চাইছেন! আপনার বন্ধুর মতো আপনিও জেনেও অজানা সাজিতেছেন ভাইয়া?
” না আমি জানতে চাইনি তোমাকে জিজ্ঞেস করছি! ভালোবাসো আনাস কে?
আইরা কোনো ভনিতা ছাড়া বলল,

“হ্যাঁ!
” আনাস কে কখনো ভালোবাসি বলছো?
“আমি তো আমার অনুভূতি গুলো পাগলামির মধ্যে তার কাছে তুলে ধরি! তারপরও আপনার বন্ধু বুঝে-ও অবুঝ সাজে।
” শুধু তুলে ধরলে হবে! তার কাছে প্রকাশ করতে হবে, তাকে জানাতে হবে তুমি ওকে ভালোবাসো, একবার সরাসরি বলে দেখো!
“যদি আনাস ভাই আম্মু কে বলে দেয়?
আশিক আইরার কথায় হাসলো। আইরা আশিকের দিকে তাকিয়ে নিজেকে বোকা ভাবলো। হয়তো কথাটা যুক্তিসহ না এজন্য আশিক হাসতাছে। আশিক হাসতে হাসতে আইরা কে আরিশার রুমে যেতে বলল। আইরা ঠোঁট উল্টিয়ে চলে গেলো আরিশার রুমের উদ্দেশ্য।

আরিশা কে নিয়ে তালুকদার বাড়িতে এসেছে। আরিশা আমানের সঙ্গে রাফি মাহির আরশ এসেছে। এসেছে আধাঘন্টা হবে। আশিক হাবীব যে গেস্ট রুমে ছিলো তার পাশেরটা মাহির আরশ রাফি কে থাকতে দেওয়া হয়ছে। মায়া তার বাবা-মা সঙ্গে আরিশার শশুর বাড়ি থেকে চলে গেছে। বিয়ের বাড়িতে এখন আর আগের মতো মেহমান দেখা যাচ্ছে না। তাকবীর আদিল এখনো বাড়িতে ফিরে নাই। আনাস আশিক হাবীব তিনজন ছাঁদে গল্প করছে বেশ কিছুক্ষণ। হটাৎ হাবীব দু’জন কে ওয়াশরুমের কথা বলে নিচে নেমে গেলো। হাবীব কে নামতে দেখে আনাস আশিক মিলে মজা নিলো। হাবীব চলে যাওয়ার কয়েক সেকেন্ড মাথায় আশিক রুম থেকে ফোন নিয়ে আসতে ভুলে গেছে ফোন নিয়ে আসার বাহানায় নিচে নেমে গেলো।

আনাস ছাঁদে একা একা আকাশের দিকে তাকিয়ে আজকের পুরোদিনের কথাগুলো ভাবছিলো। হটাৎ আইরার কথা মনে আসতেই আনাস সের নেবে যাওয়া রাগটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। দাঁতে দাঁত খিঁচে চোখ বন্ধ করে নিজের রাগ ঠান্ডা করার মধ্যে হটাৎ রাতের অন্ধকারে চিকন ঠান্ডা এক কণ্ঠ কানে আসতেই আনাস সের বন্ধ চোখ খুলে গেলো,
“আনাস ভাই!
আনাস পিছন না ঘুড়ে রাগী গলায় উওর করলো,
“কী চাই এত রাতে ছাঁদে কেনো এসেছিস?
আইরা হটাৎ করে দৌড়ে এসে পিছন থেকে আনাস কে জরিয়ে ধরে বলে উঠলো,
” ভালোবাসি আনাস ভাই! তোমাকে খুব বেশি ভালোবাসি, আমার অনূভুতি গুলো তোমাকে জানান দিতে এসেছি। বিশ্বাস করো তোমাকে ঘিরে পাগলামি গুলো আমার আবেগ না ভালোবাসা….
আনাস নিজের বুক থেকে আইরার হাত টেনে একঝাক-কায় ছড়িয়ে নিয়ে সামনে এনে গালে দিলো এক থাপ্পড়। দরজার পাশ থেকে কেউ একজন দৃশ্যটা দেখে নিজের চোখ বন্ধ করে নিলো। আনাস সের হটাৎ থাপ্পড়ে আইরা তাল সামলাতে না পেয়ে ছাঁদের মেঝেতে পড়ে গেলো। আনাস রাগী হাতেই পুনরায় আইরা কে ছাঁদ থেকে তুলে বলতে লাগলো,

“তুই বুঝিস না আমি তোকে ভালোবাসি না! কেনো ছ্যাঁচড়ার মতো বারবার আমার পিছনে পড়ে থাকোস। এতদিন তোকে ছোট ভেবে ছেড়ে দিয়েছি, কিন্তু আর না। তোকে খুন করে দিতে মন চাইতাছে।
আনাস আইরার হাত পুনরায় ঝাড়া দিয়ে আইরা কে নিজের কাছ থেকে দূরে সরে দিলো। আইরা গালে হাত দিয়ে চোখ ভরা পানি নিয়ে আনাস সের রাগী চোখের দিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলো। আনাস আইরা কে কাঁদতে দেখে পুনরায় নিজেকে সামলাতে না পেয়ে আইরার কান্নাভেজা মুখটা চেপে ধরে বলতে লাগলো,
” কিছু না বলতেই চোখের বন্যা বয়ে যায় না! কার জন্য কান্না করছিস হ্যাঁ, আমার জন্য! কি বললি আমাকে ভালোবাসিস! লাইক সিরিয়াসলি, আমাকে ভালোবেসে অন্য ছেলের পিছু পিছু কি করিস তাহলে! তাকে-ও কী এভাবে জরিয়ে ধরে ভালোবাসিস বলিস, হুম বল! ওহ সিট আমি তো ভুলেই গেয়েছিলাম তার দেওয়া শাড়িও পড়েছিস, দারুণ অভিনেত্রী দারুণ ?
আইরা কিছু মুহূর্ত আনাস সের দিকে নীরবে তাকিয়ে থাকলো। আনাস পুনরায় বড়ো বড়ো নিঃশ্বাস নিলে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করছে। আইরা সেদিকে তাকিয়ে দু-হাত দিয়ে দুগালে হাত দিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে মুখে তাচ্ছিল্য স্বরূপ হেসে বলতে শুরু করল,

কাউকে পাত্তা না দেওয়া আমি, বারবার তোমার কাছে ভালোবাসার পাগলামো নিয়ে হাজির হয়েছি।
জীবনে কখনো কাউকে এতটা গুরুত্ব দিইনি। অথচ তোমার কাছে এসে আমি নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমার চোখে তুমি ছাড়া কেউ ছিল না। অথচ তুমি সেই মানুষ। যার কাছে আমি নিজের অহংকার, নিজের শক্তি, সবকিছু ঢেলে শুধু একটুখানি ভালোবাসা চেয়েছি। আমি ভেবেছিলাম, ভালোবাসা ভিক্ষা করে নিতে হয় না, ভালোবাসা অনুভূতি দিয়ে পাওয়া যায়। কিন্তু তুমি আমাকে এমন জায়গায় দাঁড় করালে। যেখানে আমি প্রতিদিন তোমার সামান্য মনোযোগ পাওয়ার জন্য কত-না পাগলামি করলাম অথচ তুমি দেখলে না। তোমার চোখে আমার ভালোবাসা শুধুই আবেগ মনে হইলো। আমাকে কখনোই দেখলে না। আমি কতটা ছোট হয়ে গেছি তোমার কাছে।
আরাত কান্না করতে করতে কথাগুলো বলতে বলতে থেমে গেল। আনাস অবাক নয়নে আইরা দিকে চেয়ে রইলো। চুপচাপ নিজের পাগলামোর মধ্যে অনুভূতি বুঝানো আইরা আজকে হতাশা মুখে মনের সব কিছু তুলে ধরছে। আইরা কান্নাভাঙ্গা গলায় কথাগুলো চুপচাপ মনোযোগ দিয়ে শুনতে লাগলো। আইরা হাত দিয়ে চোখমুখ মুছে চোখে পানি নিয়ে পুনরায় বলতে শুরু করল,

“আমি মানতাছি আমি তোমার জন্য পাগলামো করে বেড়ায়। তোমাকে দেখার আশায় ওই বাড়ি থেকে এই বাড়িতে হুটহাট চলে এসেছি। আমি তোমার জন্য কী না করেছি। তোমার সঙ্গে কথা বলার বাহানা খুঁজেছি। আচ্ছা আনাস ভাই আমার এই পাগলামোর মধ্যে ভালোবাসা কেনো খুজে পেলে না তুমি?
আনাস নিশ্চুপ নির্বিকার হয়ে আইরা কে দেখতে লাগলো, আজকে আইরা কে আনাস সের কাছে অচেনা লাগছে। আইরা মুখে ক্ষুদ্রতা ফুটে উঠলো ক্ষুদ্র মুখে বলে উঠলো আইরা,

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৪

“আস্তে আস্তে নিজেকে এতটা সার্থপর বানাবো তোমার প্রতি আমার মায়া কে দূরত্ব করবো।
এইবার তুমি ফিরিয়ে দিচ্ছো তো আমাকে। দেখবে একদিন আসবে,আমি তোমাকে ফিরিয়ে দিবো। সেদিন তুমি আমার মতো করে চাইবে কিন্তু আমি তোমার দিকে ফিরেও চাইবো না, প্রমিস করলাম তোমাকে।
আইরা কথাগুলো বলে আনাস সের থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে ছাঁদ থেকে নেমে চলে গেলো। আনাস শুধু আইরা-র যাওয়ার পথে নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৬