তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩৫
জান্নাতি আক্তার জারা
আরাত মাহিরের সঙ্গে রশ্মির পাশে শুয়ে থেকে মেসেজ করছে। পুরো রাত রশ্মি কে নিয়ে দুজনের মধ্যে মেসেজ চলছে। মাহির রশ্মি আর পার্থর সবকিছু জানার পরেও বারবার রশ্মি কে নিয়ে কথা তুলছে। রশ্মির কী পছন্দ, কী রং পছন্দ কী খাবার পছন্দ, সবকিছু আরাতের থেকে রশ্মির মন ভালো করার বাহানা দিয়ে জানে নিচ্ছে। আরাত রশ্মি আর পার্থর সবকিছু বলে দিলো। রশ্মি বিছানায় নড়াচড়া করে আরাত কে ফোনে মগ্ন দেখে রশ্মির ভ্রু কুঁচকে এলো।
___” তুই ঘুমাস নাই?
রশ্মি কে কথা বলতে দেখে আরাত তরিঘরি করে ফোনটা বালিশের পাশে রেখে দিয়ে রশ্মি কে জরিয়ে ধরলো।
___” উঠে পেরেছিস! চল, আমরা আজকে কোথাও ঘুরতে যাই?
___” উঁহু সব কিছুই বিরক্ত লাগে, যাবো না তোর কলেজ নেই?
___” হ্যাঁ।
___” উঠে পর তাহলে, আমাকে ছাড় উঠবো আমি ।
আরাত রশ্মি কে ছেড়ে দিলো। রশ্মি বিছানা থেকে ওঠে ওয়াশরুমে চলে গেলো। আরাত পুনরায় ফোন হাতে নিয়ে মগ্ন হয়ে গেলো। কয়েক মিনিট পড়ে রশ্মি ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এসে আরাত কে ফোনে মগ্ন হতে দেখে গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
___” আমার মনে হয় তোর আর মাহিরের রিলেশনশিপ ফ্যামিলিতে জানানো প্রয়োজন।
আরাত ফোন বুকের উপর রেখে দিয়ে রশ্মির দিকে তাকালো। রশ্মি কে আয়নার সামনে চুল বাঁধতে দেখে বিছানা থেকে ওঠে দাঁড়ালো। বিছানা গুছাতে গুছাতে রশ্মির উদ্দেশ্য বলে উঠলো,
___” হ্যাঁ জানাবো, বাট দুবছর পড়ে। মাহির ডাক্তার হয়ে বের হবে, ফ্যামিলি যেন মাহির কে বেকার বলে প্রত্যাখান করতে না পারে।
রশ্মি আরাতের দিকে চেয়ে বলল,
___” মাহির কে নিয়ে একদম সিরিয়াস?
___” অবশ্যই, ও আমার প্রথম ভালোবাসা। ওর জন্য ভালোবাসার মানে কী জানতে শিখেছি, চিনেছি। ওকে কখনো ছাড়তে পারবো না। জানিস মাহির এমন একটা ছেলে, ওর সঙ্গে দুইদিন কথা বললে যে কেউ ওর প্রেমে পড়ে যাবে। তুই তো কখনো আমাদের কলেজে যাস নাই। কলেজে ওর অ্যাটিটিউড দেখলে তুইও প্রেমে পড়ে যাবি।
আরাত হাসি মুখে মাহিরের গুনগান করতে করতে বিছানা গুছিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। রশ্মি আরাতের কথায় নিজেকে নিয়ে ভাবতে লাগলো। কিছুদিন আগে পার্থ কে নিয়ে রশ্মি এভাবেই বলছিল আরাতের কাছে। আজকে আরাত বলছে। রশ্মি অন্যমনস্ক হয়ে কথাগুলো ভাবছে। আরাত রশ্মির কাছে এসে মাথা বাঁধতে বাঁধতে বলে উঠলো,
___”ওই, তোর মন খারাপ কেন! কি হয়েছে?
___” কিছু না।
___” মন থেকে পার্থর বাচ্চা কে সাইটে রেখে তোর ক্যারিয়ারে ফোকাস কর। তুই অনেক সুন্দর আর ট্যালেন্টেড, আমি তো বলি তু ইতনি খুব সুরত হে, ফিদা দীদার পে তেড়ে,আমি তো মেয়ে হয়ে তোর উপর ফিদা।
___” তুই কী গে?
___” ছি, তোর মন-মানসিকতা পরিবর্তন কর। আমি বলছি ওই পার্থর বাচ্চার মতো হাজার হাজার ছেলে আমার বান্ধবীর পিছনে ঘুরে বুঝলি?
আরাতের নাক সিটকানো দেখে রশ্মি শব্দ করে হেঁসে উঠলো, আরাত রশ্মি কে হাসাতে পেয়ে নিজেও মুচকি হাসলো। রশ্মি কে জরিয়ে ধরে বলে উঠলো,
___” তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, তোর মন খারাপ থাকলে আমার মন ভালো থাকে না। তোকে আমি সব সময় এমন হাসিখুশি দেখতে চাই।
রশ্মি হেঁসে আরাতের জরিয়ে ধরা হাতে হাত রেখে বলে উঠলো,
___”তোর মতো বান্ধবী পেয়ে আমি সত্যিই ভাগ্যবতী।
___” আর আমি তোর মতো বান্ধবী পেয়ে হতভাগা।
___” কেনো?
___” এই যে সবসময় তোর মন ভালো করতে হয়। শোন একটা কথা বলি আমাদের দুজন কে যে ধোঁকা দিতে চাইবে, সেই পার্থর মতো জলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
আরাত কথাটা শেষ করতেই দুজন শব্দ করে হেঁসে উঠলো। রাহিমা সুলতানা বাহিরে দাঁড়িয়ে মেয়ের মুখে হাসি দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। সকাল সাড়ে সাতটা আরাত রশ্মি দের বাড়ি থেকে তালুকদার বাড়িতে আসতেই চোখে পড়লো। আইরা সোফাতে বসে টিভি দেখছে। আনাস পাশে বসে ফোন স্ক্রল করছে। কিচেন থেকে হাঁড়িপাতিলের টুকিটাকি শব্দ ভেসে আরছে। আরাত দুষ্টু হেঁসে আইরার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো,
___” ভাবি সকাল সকাল পায়ের উপর পা তুলে বসে থাকবে। এটাই যদি ননদ রা বলতে যায়। তাহলে নাম হবে ননদ জ্বালায়। কী বলবো যুগ চেঞ্জ হয়েছে, বাড়ির ছেলেদের বিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। ছেলে বউয়ের কথায় উঠবস করে। চোখের সামনে দেখছি তো সবকিছু, ছি কী দিনকাল এসে পড়লো আম্মুও?
___” সকাল সকাল বাড়ির বুড়ীদের মতো আমার বৌমার পিছনে লাগছিস কেনো হ্যাঁ?
আদিবা তালুকদার কিচেন রুম থেকে এসে আরাতের কান টেনে বললেন কথাটা। আনাস মা বোন কে একনজর দেখে নিয়ে পুনরায় আগের ন্যায় ফোন স্ক্রল করতে লাগলো। আইরা সোফাতে বসে চিল্লিয়ে বলল,
___” ঠিক হয়েছে, মামনী তোমার মেয়েকে বাড়ি থেকে বিদায় করো জলদি। নয়তো তোমার ছেলের বউ কে জ্বালিয়ে শেষ করবে?
আরাত আইরার কথা শুনে বলে উঠলো,
___” কেমন ভাবি তুমি, ননদ কে সাজা দিতে দেখে আনন্দ পাও! আমার ভাইটার কপাল পুরলো এমন বউকে ঘরে তুলে হায় রে।
আদিবা তালুকদার ছেলের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
___” আনাস তোর বোন কে আমার বৌমার পিছনে লাগতে না বলে রান্না শিখতে বল। বিয়ের পর জামাই কে রান্না করে খাওয়াতে না পারলে। জামাইয়ের বাড়ি থেকে খোঁটা শুনতে হবে আমাদের।
আরাত আদিবা তালুকদারের কাছ থেকে দূরে দাঁড়ালো। আনাস ফোন থেকে চোখ উঠিয়ে মা বোন বউকে দেখতে লাগলো। আইরার মুখে মিটিমিটি হাসি। আরাত মুখ বেঁকে মায়ের কথায় উওর করে উঠলো,
___”বিয়ের আগে তুমি রান্না করে খাওয়াচ্ছো, বিয়ের পর জামাই রান্না করে খাওয়াবে, নয়তো বিয়ে ক্যানসেল।
আরাতের কথা শেষ হতেই কারো গলা খাঁকারির শব্দ শুনা গেলো। সবাই গলা খাঁকারির শব্দে সিড়ির দিকে তাকাতেই তাকবীর কে সিড়ির সামনে টাউজারের পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো। আরাত তাকবীর কে নিজের দিকে আরচোখে তাকাতে দেখে চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিয়ে। দ্রুত পায়ে অন্য দিকে ঘুরে দাঁড়ালো। সঙ্গে সঙ্গে তাকবীরের নরম ঠোঁটের ছোঁয়া মনে পড়ে গেলো। হাতটা কপালে আপনা-আপনিই তাকবীরের ঠোঁটের ছোঁয়া জায়গায় চলে গেলো। আনাস তাকবীর কে দেখে দুষ্টু হেঁসে আরাতের কথায় উওর করলো,
___” ঠিক বলছিস আমার বোনকে যে বিয়ে করবে, তাকে রান্না শিখতে হবে। শুধু তাই-না কাপড় কাঁচতে হবে। আমার বোনের হাত-পা টিপে দিতে হবে। নয়তো আমি আমার বোন কে কাজের ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিবো।
আদিবা তালুকদার আর আইরা, আনাস এর কথায় হেঁসে উঠলো। আরাত কথাগুলো ভ্রু কুঁচকে বুঝার চেষ্টা করলো আনাস সাপোর্ট টানলো নাকি অপমান করলো। কথার মানে বুঝতে পেয়ে আনাস এর দিকে রাগী লুকে তাকালো, এই যাত্রায় তাকবীর সামনে থাকায় আনাস বেঁচে গেলো,
___” কাকিয়া, আমার রুমে কফি পাঠিয়ে দিবেন।
তাকবীর আদিবা তালুকদার কে উদ্দেশ্য করে কথাটা বলে একনজর আনাস কে রাগী লুকে দেখলো। আনাস তাকবীরের দিকে দুষ্টু হেঁসে তাকিয়ে আছে। তাকবীর রুমের উদ্দেশ্য পা বাড়াতে পুনরায় পিছন ঘুরে আনাস কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,
___” শুকরিয়া আদায় কর,তোর তারছিড়া বোন কে দেখে রাখার জন্য কেয়ারিং ছেলে এই দুনিয়াতে বসবাস করে।
তাকবীর নিজের রুমে চলে গেলো। আরাত তাকবীর কে যেতে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলো। পুনরায় তাকবীরের মুখে নিজেকে তারছিড়া উপাধি পেয়ে মন খারাপ হয়ে গেলো। আনাস আইরা, আরাতের মুখের দিকে তাকিয়ে হাসি চেপে রাখছে। আদিবা তালুকদার কিচেন রুমের দিকে গেলেন তাকবীরের জন্য কফি বানাতে। আরাত মন ভার করে বলল,
___” আইরা আপু, তোমার জামাই কে সামলাও সবসময় অন্যর পিছনে লাগার খেসারতে তাকে বউ ছাড়া থাকতে হবে বলে দিলাম।
আনাস আরাতের কথায় আইরার কাছাকাছি এসে বলল,
___” অনেক সাধনার বউ আমার, আমার বউয়ের পিছনে লাগতে আসবি না বলে দিলাম।
___” বিয়ে করতে না করতেই বোন কে ভুলে গেছো! বউয়ের জন্য ছোট বোন কে কথা শোনাচ্ছ ছিহ?
___” একদম ভন্ডামি করবি না। তোর ভন্ডামি আমার জানা আছে। আমার বউয়ের থেকে আমাকে আলেদা করতে চাইছিস। আর এখন ন্যাকা স্বরে কথা বলছিস?
আনাস এর কথায় আরাত মুখ বাকালো। আইরা চুপচাপ দুই ভাইবোনের ঝগড়া দেখতে লাগলো। আদিবা তালুকদার কিচেন থেকে কফি হাতে এসে আরাত কে দিয়ে বলল,
___” কফি টা তাকবীর কে দিয়ে আয়।
আরাত কফি হাতে নিয়ে ভ্রু কুঁচকালো। পুনরায় কফি আদিবা তালুকদার কে ফিরত দিতে দিতে বিরক্ত হয়ে বলে উঠলো,
___” আমি পারবো না, তোমাকে বলছে তুমি দিয়ে আসবে, নয়তো আইরা আপু কে দেও।
___” যার কফি তাঁর বউ বুঝে নিবে, আমি আমার বউকে নিয়ে চললাম ।
আনাস কথাটা বলে আইরার হাত ধরে উপরে নিজেদের রুমে চলে গেলো । আরাত সেদিকে তাকিয়ে চিল্লিয়ে উঠলো,
___” যার কফি তাঁর বউ বুঝে নিবে মানে কী! এখানে বীর ভাইয়ার বউ কই থেকে আসলো! ভাইয়া উওর না দিয়ে পালাচ্ছো কেনো?
___” তুমি সবসময় বেশি কথা বলো, যাও কফিটা তাকবীর কে দিয়ে আসো।
___” কিন্তু মা?
___” কোনো কিন্তু না যাও।
আদিবা তালুকদার আরাত কে জোর করে তাকবীরের রুমে পাঠিয়ে দিলো। আরাত যার থেকে লুকিয়ে বাঁচতে চেয়েছিল তাঁর সামনেই বারবার পরতে হচ্ছে । মনের মধ্যে হাজারো ধুকপুকানি নিয়ে ধীর পায়ে তাকবীরের রুমের সামনে এসে দাঁড়ালো। মনে মনে হাজার বার বলা হয়ে গেছে। বীর ভাইয়া যেন ওয়াশরুমে বা বেলকনিতে থাকে। অপ্রত্যাশিত ঘটে যাওয়া ঘটনা আরাত কে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে ছিহ এটা ঠিক না। মানুষটার সামনে পরতেও লজ্জা লাগছে। আরাত দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মন কে সময় নিয়ে বোঝাচ্ছে। বীর ভাইয়া এতদিনে সবকিছু ভুলে গেছে। নিজেকে আজগুবি বুঝানোর মধ্যে হটাৎ একটা গম্ভীর ঠান্ডা কন্ঠ ভেসে এলো,
___” তোমার জন্য আমি অপেক্ষা করলেও ধোঁয়া ওঠা কফি করবে না নিচ্চয়, প্লিজ কাম।
আরাত চমকালো। দরজা তো চাপিয়ে দেওয়া বীর ভাইয়া বুঝলো কিভাবে আরাত দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে। পুনরায় কথা গুলো ভাবতেই মনে পড়ে গেলো, নূপুরের আওয়াজ। সঙ্গে সঙ্গে চোখ গেলো পায়ে। আরাতের মুখে নিজের অজান্তে এক টুকরো হাসি ফুটে উঠলো। আরাত মাথা নিচু করে চেপে দেওয়া দরজা খুলে রুমের ভিতরে প্রবেশ করলো। তাকবীর বিছানায় বসে দুপা মেলে দিয়ে ল্যাপটপ নিয়ে অফিসের কাজ করছিলো। আরাতের নুপুরের ঝমঝম শব্দে কান খাঁড়া করে। প্রায় তিন মিনিটের মতো অপেক্ষা করেও আরাত কে রুমের ভিতরে প্রবেশ বা কথা বলতে না দেখে তাকবীর নিজে থেকে কথা বলে উঠলো। তাকবীরের কথাতে আরাত মাথা নিচু করে রুমে ঢুকে গেলো। বিছানার সাইটে বেডসাইডের উপর কফিটা রেখে দিতে দিতে ছোট করে বলল
___” কফি।
তাকবীর এতক্ষণ ভ্রু কুঁচকে আরাত কে লক্ষ করছিলো। আরাত কে, কফি রেখে দিয়ে চটজলদি রুম থেকে বের হয়ে যেতে দেখে তাকবীর বলে উঠলো,
___” কার জন্য?
আরাত তাকবীরের কথায় পিছনে না ঘুরে জানতে চাইলো,
___” কী?
___” কফি?
___” আপনার জন্য।
___” তাহলে বেডসাইডে রাখলে কেনো?
আরাত মাথা ঘুরিয়ে অবুঝের মতো তাকবীরের দিকে তাকালো। তাকবীর আরাত কে তাকাতে দেখে মনে মধ্যে আরাত কে জ্বালানোর খুব সুপ্ত ইচ্ছা জন্ম নিলো। আরাতের আড়ালে এক চিমটি সুখ কে আগলে নিতে মন চাইলো। তাকবীর মুখটা গম্ভীর করে আরাত কে বলল,
___” যার জন্য কফি নিয়ে এসেছো তার হাতে দেও।
তাকবীর কে নিজে থেকে এত কথা বলতে দেখে অবিশ্বাস্য চোখে দেখতে লাগলো তাকবীর কে, আরাত কে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে ধমকে বলে উঠলো,
___” কি হলো দেও…
আরাত তড়িঘড়ি করে কফি তাকবীরের হাতে তুলে দিলো। আরাতের মুখের রিয়াকশন দেখে তাকবীর আরাতের আড়ালে মুচকি হেঁসে পুনরায় গম্ভীর গলায় বলল,
___” থ্যাঙ্ক ইউ।
আরাত কিছু না বলে পিছু ঘুরে রুম থেকে বের হওয়ার জন্য। দরজার সামনে আসতেই তাকবীরের আদুরে মাখা কন্ঠে নিস্তব্ধ হয়ে থেমে গেলো,
___” এই শোনো?
আরাত মাথা ঘুরিয়ে তাকবীরের দিকে তাকালো। তাকবীর আরাত এর তাকানো তে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পুরো চোখমুখে চোখ বুলালো। আরাত তাকবীরের তাকানো তে অপ্রস্তুত হয়ে হাত কচলাচ্ছে। তাকবীর আরাত কে পরক করে মুচকি হেঁসে মুখের ইশারায় বলল,
___” কিছু না।
আরাত পুনরায় পা বাড়াতে যাবে তাকবীর ধমকে উঠলো,
___” এই মেয়ে,তোমাকে আমি যেতে বলছি?
আরাতের মুখে বিরক্ত ফুটে উঠলো। তাকবীর কে বুঝতে না দিয়ে ছোট করে উত্তর করলো,
___” না।
___” তাহলে যাচ্ছো কেনো?
___” সরি, আপনার কিছু লাগবে বীর ভাইয়া?
___” তোমাকে।
তাকবীরের বিরবির বলা কথা আরাত শুনতে না পেয়ে গাল ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। তাকবীর আরাত কে গাল ফুলাতে দেখে উচ্চ স্বরে বলে উঠলো,
___” নেক্সট টাইম নিজের হাতে কফি বানাবে! মনে থাকবে?
___” কিন্তু আমি তো পারি না?
___” শিখে নিবে।
আরাত তাকবীরের কথায় ঠোঁট উল্টে মাথা ঝাকালো। তাকবীর পুনরায় ল্যাপটপে মনোযোগী হয়ে গেলো। চার পাঁচ মিনিট চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকার পড়েও তাকবীর কে কিছু বলতে না দেখে আরাত গলা খাঁকারি দিয়ে উঠলো। তাকবীর ল্যাপটপ থেকে চোখ উঠিয়ে অবিশ্বাস্য হয়ে বলে উঠলো,
___” তুমি এখনো দাঁড়িয়ে আছো?
___” হ্যাঁ আপনি থাকতে বলছিলেন।
___” আরে পাগল, আমি তখন বলছিলাম। আচ্ছা ঠিক আছে তোমার পা ব্যাথা করছে রাইট! এদিকে আছো বিছানায় বসো।
আরাত সময়ে বিরক্ত অবাক অবিশ্বাস্য হয়ে যাচ্ছে। ফার্স্ট অফ অল তাকবীর আজকে অনেক কথা বলছে। দ্বিতীয় তাকবীর নিজের রুম এবং পোষাক আর বিছানাতে কাউকে ঘেসতে দেয় না। সেই তাকবীর নিজে থেকে আরাত কে বিছানায় নিজের পাশে বসতে বলছে। তাকবীর কে আরাতের কাছে চেঞ্জ চেঞ্জ লাগছে। সময়-ই সবকিছু বিরক্ত লাগছে। তাকবীর এতক্ষণ ল্যাপটপে চোখ রেখেই আরাত কে ফলো করছিলো। আরাত কে জ্বালাতে এক অন্য রকম মনের মধ্যে সুখ সুখ অনুভূত হচ্ছে। আরাত গাল ফুলিয়ে রুম থেকে দ্রুত পায়ে বেরিয়ে গেলো। আরাতের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর তাকবীর একা রুমে ফার্স্ট টাইম শব্দ করে হাসতে লাগলো। আরাত কে রুম থেকে গাল ফুলিয়ে বের হয়ে যেতে দেখে আনাস দ্রুত পায়ে তাকবীরের রুমের দিকে আসলো কী হয়েছে জানার জন্য। রুমের দরজার সামনে আসতেই আনাস অবিশ্বাস্য হয়ে তাকবীর কে দেখছে। পুনরায় ফোন বের করে তাকবীরের শব্দ করে হাসিটুকু ভিডিও করে রাখলো।
আনাস রুমের ভিতরে এসে তাকবীরের সামনে দাঁড়িয়ে জানতে চাইলো,
___” কী হয়েছে ভাইয়া! বুড়ী এভাবে গাল ফুলিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলো কেনো?
তাকবীর স্বাভাবিক হয়ে পুনরায় গম্ভীর গলায় আনাস কে উওর করলো,
___” আমাদের পার্সোনাল কথা তোকে বলবো কেনো?
___” সরি ভাইয়া,বাট তুমি কী খেয়াল করেছো! আজকে তুমি অনেক খুশি?
___” হ্যাঁ আলহামদুলিল্লাহ অনেক খুশি, তুই আব্বু আর ছোট বাবার সঙ্গে কথা বল।
___” ভাইয়া তোমাকে পরিবর্তন লাগছে, এটার কারণ কী আমার বোন?
তাকবীর আনাস এর দিকে তাকালো, কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে গম্ভীর গলায় বলে উঠলো,
___” নিজেকে ভালো রাখতে গেলে নিজের কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন,তার মধ্যে অন্যতম হলো তোর বোন কে বিয়ে করা, তোর বোনের সঙ্গে সংসার করা। আর আমার বর্তমান নিজেকে ভালো রাখা।
আনাস যেন বোকা সেজে গেলো তাকবীরের কথায়, শুধু মাথা ঝাকিয়ে তাকবীর কে একা ছেড়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলো।
গতরাতে রশ্মি নিজের মনের মধ্যে জমিয়ে রাখা কথাগুলো আরাত কে বলে মনটা হালকা করেছে। এখন আর আগের মতো মন খারাপ লাগছে না। মনকে বুঝিয়েছে যে ভালোবাসার যে থাকার সে হাজার মাহিল দূরত্ব থাকলেও ভালোবাসবে। ফ্যামিলি বন্ধুবান্ধব সবকিছু তো মাএ বাহানা।যে থাকার সে যুদ্ধ করে হলেও থাকবে। হয়তো রশ্মি কে ঘিরে আল্লাহর পরিকল্পনা ভিন্ন। মহান রব্বুল আলামিনের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। নিশ্চয়ই তিনি উওম পরিকল্পনাকারী। এই শক্তিতে নিজের জীবনের সব খারাপ লাগা গুলো পিছনে ফেলে দিয়ে নিজেকে নতুন করে সাজাবে। রশ্মি ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট শেষ করে রুমে এসে বেলকনিতে দাঁড়ালো। কিছুক্ষণ নিজেকে নিয়ে ভাবলো। জীবনটা মরিচীকা হয়ে ধরা দিলো। জীবন ফুরিয়ে যায় নি,একজন জীবনটা এলোমেলো করে দিয়েছে তো কী হয়েছে। মা-বাবা ছোট্ট ভাই বেস্টফ্রেন্ড তাদের জন্য নিজেকে নতুন ভাবে গুছিয়ে নিবে। চুপচাপ শূন্য চোখে বাহিরে দিকে তাকিয়ে কথাগুলো ভাবতে ভাবতে হটাৎ রুমে বিছানার উপরে ফোনটা শব্দ করে বেজে উঠলো। একবার বেজে কেটে গেলো দুবার বেজে কেটে গেলো চারবারের বেলায় রশ্মি আর চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না। বিরক্ত নিয়ে রুমে এসে ফোনটা রিসিভ করে বলে উঠলো,
___” হ্যাঁ বলেন?
___” আপনি আমার ফোন ওঠাচ্ছেন না কেনো?
___” শুনেন মিস্টার, আমার মন ভালো করতে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আমার পরিবার সবাই আছে। আপনাকে ভাবতে হবে না। আপনাকে আমার প্রথম দেখা থেকেই সুবিধা লাগছে না। বারবার এভাবে ডিস্টার্ব করবেন তো আমার ফ্রেন্ডের সঙ্গে আপনার ব্রেকআপ করিয়ে দিবো। আপনি আমাকে ডিস্টার্ব করছেন আরাত জানতে পারলে আপনাকে কাপড় কাঁচা করবে।
___” কূল কূল রশ্মি, একটু শান্ত হন।
রশ্মি ফোনের ওপাড়ে মাহিরের কথায় শান্ত হয়ে বড় করে নিঃশ্বাস নিলো। মাহির রশ্মি কে চুপ করতে দেখে মুচকি হেঁসে বলতে শুরু করলো,
___” ফার্স্ট অফ অল আপনাকে দেখার পর থেকে আমি চাইনা আপনার ফ্রেন্ডের সঙ্গে আমার রিলেশনশিপ কন্টিনিউ করতে। আপনার জন্য আপনার ফ্রেন্ডের কাছে কাপড় কাঁচা হতেও প্রবলেম নেই। আর ম্যাম আপনি মেবি ভাবছেন আমাদের ফাস্ট মিট, বাট নো সেকেন্ড মিট ছিলো।
মাহির কে পুরোপুরি কথা শেষ করতে না দিয়ে রশ্মি অবাক হয়ে জানতে চাইলো,
___” হোয়াট?
মাহির বাঁকা হেঁসে উওর করলো,
___” ম্যাম আপনি যদি কাইন্ডলি আপনার দিমাক টা কয়েকমাস পিছিয়ে নিয়ে ভাবেন আমাকে খুজে পাবেন।
___” আপনি একটা বেইমান, আপনার জন্য আমার ফ্রেন্ড কষ্ট পেলে আপনাকে আমি ছাড়বো না।
___” আমিও তো এটাই চাই, আপনি আমাকে সারাজীবন আপনার কাছে কাছে রেখেন।
___” ফাউল ছেলে কোথাকার।
___” ম্যাম আমি কী হ্যাঁ ভেবে নিবো,
রশ্মির ফোন এতক্ষণে কেটে গেছে। মাহির কান থেকে ফোন নামিয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেঁসে বিরবির করলো,
___” সরি ম্যাম আপনি আমার ফাস্ট আপনিই আমার লাস্ট, মাঝখানে আপনার ফ্রেন্ড তো শুধুই টাইম পাস।
মাহির নিলজ্জ হয়ে পুনরায় রশ্মির ফোনে টাইপিং করলো,
___”চলো পালিয়ে যাই পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে গিয়ে বিয়ে করে নেই!যেখানে শুধু তুমি আর আমি। আমাদের ছোট একটা সংসার হবে। আমাদের ফুটফুটে একটা বেবি হবে। তুমি আমার জন্য রান্না করে অপেক্ষা করবে। আমি তোমাদের জন্য সারাদিনের ক্লান্তমাখা শরীর নিয়ে উপার্জন করে ঘরে ফিরবো। এভাবেই চলে যাবে আমাদের জীবন।
মাহির মেসেজ দিয়ে এক মিনিট দুমিনিট করে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করলো মেসেজ টা সিন হওয়ার। কিন্তু ওপাশে রশ্মি আর মেসেজ সিন করলো না। মাহির বাড়ি থেকে বের হতে হতে আরশ কে ফোন লাগলো। কয়েকবার রিং হতেই ওপাশে আরশ ফোন রিসিভ করলো,
___” হ্যাঁ বল?
আরশের ফোন রিসিভ হতেই মাহির উল্লাসিত হয়ে বলে উঠলো,
___” আরশ আমি ভালোবেসে ফেলেছি।
মাহিরের কথায় আরশ মুখে হাসি টেনে বলে উঠলো,
___” ফাইনালি আরাত আমাদের ভাবি হতে যাচ্ছে। দেখ আমার কথা মিলে গেলো এখন তো ট্রিট টা দিয়ে দে।
মাহিরের হাসি মুখটা গম্ভীর হয়ে উঠলো, গম্ভীর গলায় আরশ কে বলল,
___” আরাত না রশ্মি, রশ্মি তোর ভাবি হতে চলছে।
আরশের মুখটা থতমত খেয়ে গেলো।
___” তুই কী রাতে লাল পানি খেয়েছিলিস?
মাহির রাগী গলায় উওর করলো,
___” কানের নিচে দিবো একটা, আমাকে কখনো এগুলো খেতে দেখেছিস?
___” তাহলে এই রশ্মি টা কে! আর তুই ভুলভাল বকছিস কেনো?
___”রশ্মি আরাতের বেস্টফ্রেন্ড, আর যাকে ভুলার জন্য আরাতের সঙ্গে কথা বলতাম। সেই মেয়ে আরাতের ফ্রেন্ড, আমি খোঁজে পেয়েছি আমার অশ্রুভেজা চোখের মালিকানা। আর আমি তাঁর মনে আমার জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করেই ছাড়বো।
___”তোর কথা আমি বুঝতে পারছি না, ভার্সিটি আয় সরাসরি কথা বললো।
মাহিরের কথা আরশের মাথায় কিছুই ঢুকলো না। ফোন কেটে দিয়ে আরশ চিন্তিত মুখ নিয়ে ব্যস্ত রাস্তায় চলমান গাড়ির দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো। আরশ কে হটাৎ চিন্তিত মুখে চুপ করতে দেখে তাসিন আরশের ঘাড়ে হাত রেখে জানতে চাইলো,
___” কার ফোন ছিলো?
আরশ ব্যস্ত রাস্তা থেকে চোখ উঠিয়ে তাসিনের দিকে তাকালো, মেয়েটা উত্তরের আশায় চিন্তিত মুখে আরশের দিকে তাকিয়ে আছে। আরশ মুখে হাসি টেনে উত্তর করলো,
___” মাহির ছিলো, বাইকে উঠো লেট হয়ে যাচ্ছে।
তাসিন হাসিমুখে আরশের বাইকে উঠে পড়লো। দুজন ভার্সিটির উদ্দেশ্য বের হয়ে ভার্সিটি থেকে কিছুটা দূরে বাইক নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলো। ফিরার সময় হটাৎ মাহিরের ফোন আসায় রাস্তায় সাইটে বাইক দাঁড় করে এতক্ষণ মাহিরের সঙ্গে কথা বলছিলো।
রশ্মি বিরক্ত হয়ে মাহিরের নতুন নাম্বার থেকে আসা ফোন কেটে দিলো, নাম্বার ব্লক করে লাভ হবে না ভেবে মাহিরের চতুর্থ নাম্বার টা ব্লক করলো না। মনে মনে ভেবে নিলো নিজের সিমটা চেঞ্জ করবে এবার। মাহিরের মেসেজ আসার শব্দে ফোনটা রাগ করে বিছানায় রেখে দিয়ে ওয়াশরুমের চলে গেলো। প্রায় পনেরো মিনিট পড়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে রুম থেকে বের হতে যাবে। দরজার কাছে এসে দাঁড়াতেই মাহিরের মেসেজের কথা মনে পড়ে গেলো। কথায় আসে না নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আকৃষ্টতা বেশি থাকে হোক সেটা প্রিয় বা অপ্রিয়। মাহির কী মেসেজ করেছে রশ্মি নিজেকে দমিয়ে রাখতে না পেয়ে ফোনের কাছে এসে মেসেজ সিন করে বিরবির করে পরলো। না বিরক্ত না ভালো লাগা সংমিশ্রণ অনুভূতি নিয়ে রশ্মি রুম থেকে বের হয়ে তালুকদার বাড়িতে চলে গেলো।
আরাত রশ্মিদের বাড়িতে মাহিরের সঙ্গে যতক্ষণ কথা বলছে। শুধু রশ্মি কে নি জানতে চেয়েছে। আরাত মাহিরের সঙ্গে রশ্মির সবকিছু শেয়ার করার পর। মাহির আরাতের থেকে অনেক কৌশলে রশ্মির নাম্বার নিয়েছিলো। আরাত মাহিরের সঙ্গে মেসেজ করে নিজেরদের বাড়িতে যাওয়ার পর থেকে। মাহির বারংবার রশ্মির ফোনে মেসেজ আর ফোন দিতেই আছে। রশ্মি প্রথমে ফ্রেন্ডের বয়ফ্রেন্ড হিসাবে টুকিটাকি কথা বলে ফোন কেটে দিলো। পর মুহূর্তে মাহির পুনরায় ফোন করাতে কিছুটা বিরক্ত নিয়ে কথা বলার মধ্যে মাহির সরাসরি রশ্মি কে প্রপোজ করে।রশ্মি অবিশ্বাস্য হয়ে মাহিরের প্রপোজে মাহির কে ব্লক করে দেয়। কয়েক মিনিট পড়ে পুনরায় অন্য নাম্বার থেকে ফোন আসে। রশ্মি ফোনটা রিসিভ করতেই ফোনের ওপাশে মাহির বুঝতে পেয়ে পুনরায় নাম্বার ব্লক করে দেয়। এভাবে চারটা নাম্বার ব্লক করছে তো মাহিন নতুন নতুন নাম্বার থেকে ফোন দিচ্ছে। রশ্মি বিরক্ত হয়ে ফোন বিছানায় রেখে দিয়ে বেলকনিতে ছিলো। বারবার ফোন বাজায় রুমে এসে বিরক্ত হয়ে ফোন রিসিভ করে কথা বলছিলো,
তালুকদার বাড়িতে আজকে আয়োজন চলছে ভরপুর, আদনান তালুকদার আহাদ তালুকদার এমনকি তাকবীর আনাস, আজকে কেউ অফিসে যাবে না। আরাত কলেজে যায় নাই। বলতে গেলো একটা পারিবারিক অনুষ্ঠান চলছে। তাকবীর আর আরাতের বিয়ে টা আনাস এর রিসিপশনের দিন হবে। ছেলেমেয়ে এক বাড়ির এজন্য আলেদা অনুষ্ঠান করবে না। তাকবীর আরাতের বিয়ে আনাস আইরার রিসিপশন এখনো নিয়ে আজকের আলোচনার আয়োজন চলছে তালুকদার বাড়িতে। এখন পর্যন্ত আরাত তার বিয়ে বিষয়ে কিছু অবগত না। হটাৎ আনাস আইরার বিয়ে হওয়ায় হাবীব আশিক তালুকদার বাড়িতে এসে উপস্থিত। আশিক দুদিন হচ্ছে ভ্রমন থেকে বাড়িতে ফিরছে। বড়রা ড্রয়িং রুমে থাকায় আশিক হাবীব আনাস কে নিয়ে ছাঁদে আড্ডা জমাচ্ছে। তাঁদের আড্ডার মধ্যে রশ্মিরাত আইরা আরিশা ছাঁদে চলে এলো। আইরা কে আসতে দেখে আশিক সয়তানি হাসি দিয়ে বলে উঠলো,
___” এই সাইট দে আমার ভাবিজি এসে গেছে।
আশিকের কথায় আনাস আইরার দিকে তাকালো, আইরা লজ্জায় মাথা নিচু করা, মুখে মুচকি হাসি। আনাস আইরা হাসি টুকু দেখে নিজেও মুচকি হাসলো। আশিক পুনরায় আইরা কে বলে উঠলো,
___” ভাবি আপনি যেভাবে আমার দোস্ত কে প্রেমের জালে ফেঁসে বিয়ে করছেন। আমাকেও এমন কিছু টিপস দেন। যেন আপনারা বান্ধবী আমার প্রেমের জালে ফেঁসে যায়।
আনাস আশিকের কথায় বিরক্ত হয়ে রাগী গলায় বলল,
___” তোকে আমি বরাবরই মায়ার থেকে দূরে থাকতে বলছি। তোর কারণে মায়া কে যদি কোনো প্রকার মসিবতে পরতে হয় আই এম ড্যাম সিওর। তোকে আমি তাকবীর ভাইয়ের হাতে তুলে দিবো।
আনাস এর কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশিক শব্দ করে হেঁসে উঠলো। সবাই অবাক হয়ে আশিকের হাসি দেখতে লাগলো, আশিক হাসতে হাসতে বলে উঠলো,
___” দোস্ত আমি ভেবেছি তুই মেবি এই ছাঁদ থেকে আমারে ফেলে দিবি, বা তোর স্পেশাল জুতা নিয়ে আমার পিছনে দৌড়বি। তুই দেখি আমার সব আশায় পানি ঢেলে দিয়ে ব্রো কে লালিশ করতে চাইছিস?
___” আচ্ছা ঠিক আছে আমি তাহলে তাকবীর ভাইয়া বলেই দেই একবার।
আশিক আনাস এর কথায় পাত্তা না দিয়ে আইরা কে পুনরায় বলে উঠলো,
___”ভাবি ওর কথা বাদ দিয়ে আপনি আমাকে এমন দোয়া করে দেন, এইযে আমি চোখ বন্ধ করছি আমার সামনে আপনার বান্ধবী যেন হাজির হয়ে যায়।
___” অফ কোর্স লুচ্চা বেডা, আমাকে তো হাজির হতেই হবে।
আশিক মায়ার কন্ঠ শুনে চট করে চোখ খুললো। নিজের সামনে মায়া কে ওড়না পেঁচাতে দেখে আশিক দুহাত দিয়ে চোখ কচলাতে কচলাতে বলে উঠলো
___”ভাবি আপনার বান্ধবী কে কেনো দেখতে পারছি, সত্যিই কী তুফান আমার সামনে?
হাবীব আশিকের ঘারে হাত রেখে আশিক কে ব্যঙ্গ করে বলে উঠলো
তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩৪
___”হ্যাঁ দোস্ত তোর সামনে তুফান দাঁড়িয়ে, ওহ সরি মায়া দাঁড়িয়ে।
মায়া আশেপাশে কিছু খুঁজে না পেয়ে নিজের হাতের ফোনটা চোখে পরলো। ফোনটা হাতে নিয়ে চিল্লাতে চিল্লাতে বলে উঠলো,
___” তুই কতবড় লুচ্চা এটা আমি আজকে দেখেই ছাড়বো, আমার আম্মু কে ফেক আইডি দিয়ে আমার বিয়ের ঘটকালি করোস দাঁড়া ওইখানে।
