তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩৬
জান্নাতি আক্তার জারা
মায়া আশেপাশে কিছু খুঁজে না পেয়ে নিজের হাতের ফোনটা চোখে পরলো। ফোনটা হাতে নিয়ে চিল্লাতে চিল্লাতে বলে উঠলো,
___” তুই কতবড় লুচ্চা এটা আমি আজকে দেখেই ছাড়বো, আমার আম্মু কে ফেক আইডি দিয়ে আমার বিয়ের ঘটকালি করোস দাঁড়া ওইখানে।
___”এই দাঁড়া দাঁড়া তুই এসেই আশিক ভাইয়ার পেছনে লাগছিস কেনো?
আইরা মায়ার হাত টেনে ধরে জানতে চাইলো। আইরার প্রশ্নে সবাই মায়ার দিকে প্রশ্নতূর চোখে তাকিয়ে। আশিক হাবীবের পেছনে দাঁড়িয়ে চুপিচুপি মায়া কে দেখতে লাগলো। মায়া একনজর আশিকের দিকে রাগী চোখ বুলিয়ে আইরা কে উওর করলো,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
___” তুই জানোস ওই লুচ্চা কী করেছে! এতদিন আমার পেছনে লেগেছে আমি মেনে নিয়েছি। আমাকে ফোন দিয়ে জ্বালায় এটাও মেনে নিয়েছি। কিন্তু লুচ্চা ফেইক আইডি খুলে আমার আম্মুর ফোনে ফোন দিয়ে আমার বিয়ের ঘটকালি করে। তুই বল কী করতে মন চায় এই লুচ্চা কে ?
মায়ার কথায় সবাই অবাক হয়ে আশিকের দিকে তাকালো। আশিক হাবীবের পেছনে দাঁড়িয়ে গা-ছাড়া ভাব নিয়ে আশেপাশে দেখতে ব্যস্ত। ভাবটা এমন মায়ার কথা তাঁর কানে পরছে না। আইরা মায়ার কথায় পুনরায় জানতে চাইলো,
___”ঠিক বুঝলাম না তোর কথা?
পুনরায় সবার চোখ মায়ার উপরে, মায়া আশিকের গা ছাড়া ভাব দেখে আরো বেশি রেগে গেলো। রাগ নিয়ে হাত ঝাঁকে ঝাঁকে বলতে লাগলো,
___” আরিশা আপুর বিয়ের পর থেকে ওই লুচ্চা আমাকে অবনগর ফোন করে, আমি প্রথমে নাম্বার ব্লক করলে অন্য নাম্বার থেকে ফোন আসে। এতেই শেষ না প্রায় বেশ কিছুদিন আম্মুর ফোনে আননোন নাম্বার থেকে ফোন আসে। আম্মু আমাকে নাম্বার টা দেখায়। নাম্বার টা দেখে আমার কেনো যেন মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। আম্মু কে বললাম ফোন দিয়ে কী বলে, আম্মু যা বলল আমি শুনে পুরোপুরি সিওর হয়ে গেলাম এটা এই লুচ্চার ফোন।
___” ফোন দিয়ে কী বলছে আপু?
মায়া রাগ নিয়ে আশিকের দিকে চেয়ে কথা গুলো বলতে বলতে নিঃশ্বাস নিলো। আরাত পরের কথাগুলো শুনার জন্য মায়া কে তাড়া দিতে লাগলো, মায়া আরাতের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” জানো আম্মু কে ফোনে কী বলেছে, বলছে আপনার মেয়েটা মাশাল্লাহ। আপনার মেয়েকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে। আপনার মেয়েকে আমার পুত্রবধূ করবো। আমার ছেলে আপনার মেয়েকে পছন্দ করে ইনফেক্ট আপনার মেয়ে আর আমার ছেলে দুজন দুজনকে পছন্দ করে। তো আমরা কত তারিখে আপনার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে জাবো!
আম্মু তো অবাক তাঁর সঙ্গে হটাৎ কেউ ফোন করে তাঁর মেয়ে কে, এক অচেনা ভদ্রলোক ছেলের বউ করতে চাইছে। আম্মু কী বলবে কীভাবে সামাল দিবে ভেবে পাচ্ছিল না। শুধু বলছে আচ্ছা ঠিক আছে আমি মেয়ের বাবার সঙ্গে কথা বলে আপনাদের জানাবো। তাঁর দুদিন পড়ে পুনরায় একি নাম্বার থেকে ফোন আসে। আম্মু রিসিভ করে না, একবার দুবার বারবার ফোন আসতেই লাগলো। আম্মু বাধ্য হয়ে ফোন রিসিভ করে। আম্মু ভদ্রলোকের কাছে জানতে চায়। আমাকে কোথায় দেখেছেন তিনি। ভদ্রলোক কী উওর দেয় জানো?
আরাত মাথা ঝাকালো, যার অর্থ না জানে না। সবাই শুধু মায়ার কথা শোনার জন্য চেয়ে রইলো। মায়া পুনরায় আশিকের দিকে তাকিয়ে রাগী গলায় বলল,
___” ভদ্রলোক বলে আপনার মেয়েকে আমি, আদনান তালুকদারের ভাগ্নির বিয়েতে দেখেছিলাম। আমার ছেলেও সেখানে আপনার মেয়েকে পছন্দ করে, আর আমাকে জানায়। বাবা হয়ে ছেলের পছন্দ ফেলতে পারলাম না। ছেলের কথায় আপনার মেয়ে কে আমিও দেখলাম। আমার অর্ধাঙ্গিনী কে দেখালাম। আপনার মেয়ে মাশাল্লাহ অনেক সুন্দর আমাদের খুব পছন্দ হয়েছে।
আম্মু ভদ্রলোকের কাছে জানতে চাইছে। আপনার ছেলের নাম কী। উওরে ভদ্রলোক বলছে আশিক। আম্মু যখন আমাকে এ-সব বলছিলো সেই সময় পুনরায় আননন নাম্বারে ফোন আসে। আম্মু আমার দিকে চেয়ে ছিলো। আমি আম্মু কে ফোনটা রিসিভ করতে বললাম। আম্মু ফোন রিসিভ করে লাউডস্পিকার দিয়ে কথা বলতে লাগলো। এটা সেই ভদ্রলোক না, এটা মানিও ঘটক মশাই।
মায়ার ব্যঙ্গ করে বলা কথায় সবাই আশিকের দিকে তাকালো। আশিক এতক্ষণ মায়ার কথাগুলো শুনছিলো। সবাই কে নিজের দিকে তাকাতে দেখে মুখে কিউট হাসি দেয়। এতে আনাস রেগে যায়। মায়া আশিকের গা জ্বালানো হাসিতে রেগে পুনরায় বলতে লাগলো,
___” ঘটক বলে আপা আমি বাবলু ঘটক বলছি। আপনার মাইয়ার বিয়ের প্রস্তাব আছে আমার কাছে। এক ভদ্রলোক ওনার ছেলের জন্য আপনার মাইয়াডারে পছন্দ করছে। উনিই আপনার নাম্বার দিয়েছে আমারে। ওনার কথা মতো আপনার মাইয়াডারে ভার্সিটির সামনে গিয়ে দেখে এসেছি। আপনার মেলা সুন্দর। ঘটকের কথায় আম্মু আমার দিকে সন্দেহর নিয়ে তাকালো। আমার আড়ালে এতকিছু ঘটে গেছে আমি কিছুই জানি না। পরমুহূর্তে ঘটকের কাছে আম্মু ছেলের নাম জানতে চাইলো। উওরে ঘটক বলে এই লুচ্চার নাম।
সবার চোখ আশিকের উপর। মায়ার দৈর্ঘ্যকথায় হাবীব অবিশ্বাস্য হয়ে আশিক কে বলে উঠলো,
___” আমাদের না জানিয়ে এতকিছু করে ফেলছিস?
আশিক হাবীবের কথায় উওর দিতে দিতে শরীর চাঁড়া দিয়ে উঠলো।
___” হায়রে বন্ধু আর বলিস না, ভাবির ফ্রেন্ড আমারে ভালোবাসতে চায় না, তো আর কী করবো।
হাবীব আশিকের কথায় বলল,
___”আয়নায় নিজের চেহারা দেখছিস কখনো?
___” সর বন্ধু ইয়ার্কি মারবি না। এই হ্যান্ডসাম কিউট ছেলের উপর হাজার হাজার মেয়ে ফিদা। শুধু ভাবির ফ্রেন্ড প্রেমে পরতে চাইছে না।
মায়া কিছু বলতে নিবে, তাঁর আগেই আনাস মায়া কে প্রশ্ন করলো,
___” তুমি তো বললে, আশিকের বাবা-মা, মানে আঙ্কেল আন্টি তোমাকে আরিশার বিয়ে তে দেখেছে। কিন্তু আরিশার বিয়েতে তো আঙ্কেল আন্টি আসেনি তাহলে?
___” ভাইয়া আমার পুরোকথা তো এখনো শেষ হয়নাই। ওই লুচ্চার বাবা আর ঘটক আর কেউ ছিলো না স্বয়ং উনি নিজেই।
___” হোয়াট…
সবাই একসঙ্গে অবাক হয়ে চিল্লায়ে উঠলো। আনাস এবার সত্যি সত্যি পায়ে থেকে জুতা খুলে আশিকের দিকে ছুড়ে মারলো। সঙ্গে সঙ্গে আশিক জুতা ক্যাশ ধরে নিলো। আনাস রেগে গিয়ে বলে উঠলো,
___” তুই মায়ার বাড়ি অব্দি চলে গেছিস, যদি একবার আঙ্কেল আন্টি জানতে পারে এসব তোর কাজ। তাহলে আঙ্কেল মায়া কে কী করবে ভেবে দেখেছিস কখনো?
___” আরে দোস্ত রেগে যাচ্ছিস কেনো! আমার বাবার টাকাপয়সার কম আছে নাকি। বাবা চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে গিয়ে তাঁর মেয়ে কে চাইলে দিতে বাধ্য হবে।
___” তোর বাবার টাকা থাকতে পারে, কিন্তু তোর নেই। কোনো ভদ্রলোক চাইবে না বেকার কারো হাতে তাঁর মেয়ে কে তুলে দিতে। তুই পড়াশোনা শেষ করে কোনো জব করিস না। সারাদিন এই মেয়ের সঙ্গে ওই মেয়ের সঙ্গে কথা বলিস। তোর তো ভ্রমণ করতেই মাস কেটে যায় বাসাতে কয়দিন থাকোস। কোনো বাবা চাইবে না এমন ছেলের হাতে তাঁর মেয়ে কে তুলে দিতে। তুই অন্য মেয়ের সঙ্গে ফ্লাট করোস কর বাট মায়ার থেকে দূরে থাক। মায়ার বাবা এই শহরের একজন সম্মানীয় ব্যক্তি এটা সবসময় মাথায় রাখবি।
আনাস এর কথায় আশিকের মন খারাপ হয়ে গেলো। মলিন মুখে একবার মায়ার দিকে তাকিয়ে পুনরায় চুপচাপ মাথা নিচু করে ছাঁদের মেঝেতে চোখ রাখলো। আশিকের মন খারাপ দেখে মায়ার খারাপ লাগলো। রশ্মি এতক্ষণে আনাস এর উদ্দেশ্য কথা বলে উঠলেন,
___” ভাইয়া, কেউ যদি কাউকে সত্যি সত্যি ভালোবাসে সেখানে সে বেকার টাকা পয়সা এসব কিছুই যায় আসে না। শুধু দেখতে হবে ছেলেটা তাকে কতটা সম্মান করছে। আর দায়িত্বটাই সব না, তাঁর প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল ভালোবাসা এটাও লক্ষ করতে হবে। আশিক ভাইয়া চাইলেই আঙ্কেলে অফিসে জয়েন করতে পারে, কিন্তু করছে না। তাই বলে কী ভাইয়া সারাজীবন বেকার থেকে যাবে, যাবে না। এখন আশিক ভাইয়া যদি মায়া আপু কে সত্যিই ভালোবেসে থাকে, তাহলে আমার মনে হয় আশিক ভাইয়া কে আপনাদের বন্ধু হিসাবে হেল্প করা প্রয়োজন।
___” আরে রশ্মি তুমি এতটা সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছ কেনো, আমি জাস্ট এতদিন মজা করছিলাম। আমি মায়া কে মজা করে ফোন দিতাম। আর আন্টি কে ফোন দিয়ে ফান করতাম। আমার ভালো লাগতো এসব। কিন্তু আনাস এর কথায় বুঝতে পারলাম এগুলো ঠিক না। সরি দোস্ত আমি এতদিন বুঝতে পারিনি, আমার জন্য মেবি মায়া কে প্রবলেম ফেস করতে হতো।
___” ফান করতে করতে অনেক কিছু হয়ে যায়। ব্যাপারটা বুঝতে পেয়েছিস, এখানেই ফিনিশ কর সবকিছু।
আনাস এর কথায় সবাই সহমত পোষণ করলেও মায়ার মুখের হাসি বিলীন। আশিকের কথায় কোথাও একটা খারাপ লাগা কাজ করছে। আশিক কথাগুলো বলে একনজর মায়াকে দেখে নিলো। মায়া অসহায় ফেস করে আশিকের দিকে তাকিয়ে আছে। আশিক মায়ার তাকানো তে চুপচাপ অন্য দিকে চোখ ফিরিয়ে নিলো। রশ্মির ফোনে পুনরায় মাহিরের মেসেজ আসায় রশ্মি আরাতের দিকে তাকালো। আরাত রশ্মি দিকে চোখের ইশারায় জানতে চাইলো। রশ্মি সবার দিকে নজর বুলিয়ে আরাতের হাত ধরে নিচে নেমে নিয়ে গেলো। আরাত বুঝতে পারলো না এভাবে টেনে নিয়ে যাওয়ার কারণ টা কী। রশ্মিরাত কে নিচে নামতে দেখে আইরা মায়া কে নিচে আসতে বলে আনাস কে নিয়ে নিচে নেমে গেলো। আশিক মায়া কে একা ছেড়ে দিয়ে আনাস আইরার পিছনে পিছনে হাবীব নেমে গেলো। মায়া এখনো আশিকের দিকে অসহায় ফেসে তাকিয়ে আছে। আশিক দু এক পা করে মায়ার কাছে এসে দাঁড়ালো। মুখটা মায়ার কানের কাছে নিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠলো,
___” ভালোবেসে ফেলছো?
মায়া দু-হাতে আশিকের বুকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে অজানা অভিমানে হিসহিসিয়ে বলল,
___” একদম না, না ভালোবাসি, না কখনো বেসেছি , না কখনো বাসবো।
মায়া কথাগুলো বলে ছাঁদ থেকে নিচে নেমে গেলো। আশিক মলিন মুখে মায়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে মায়ার পিছু পিছু নিচে নেমে এলো।
মায়া যখন জানতে পারে ঘটক আর ছেলের বাবা সেজে, দুটোই আশিক ফেইক আইডি খুলে ডিস্টার্ব করেছে। মায়া আশিকের সঙ্গে দেখা করতে চায় আশিক ভ্রমণে ছিলো। মায়ার সঙ্গে দেখা হয়নাই। আজকে আইরার বিয়ের কথা শুনে আইরার সঙ্গে কথা বলছিলো। দুজন কথা বলার মধ্যে আইরা কথায় কথায় আশিক হাবীব তালুকদার বাড়িতে এসেছে বলে দেয়। আশিক তালুকদার বাড়িতে শুনা মাত্রই মায়া ফোন কেটে দিয়ে বাড়িতে বলে তালুকদার বাড়ির উদ্দেশ্য বের হয়। তালুকদার বাড়িতে ঢুকে রাবেয়া তালুকদার সঙ্গে টুকিটাকি কথা বলে ছাঁদে চলে আসে। ছাঁদের দরজায় এসে দাঁড়াতেই আশিকের কথা কানে পড়া মাএ পুনোরো রাগটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে।
ড্রয়িং রুমে হাবীব আশিক আনাস পাশাপাশি বসে গল্পে মসগুল। আইরা কিচেন রুমে আনাস দের জন্য কফি বানাচ্ছে। বিয়ের পরের দিন আদিবা তালুকদার নিজের একটা লাল টকটকে সুতি শাড়ি জোর করে আইরা কে পরিয়ে দিয়েছেন। চুলগুলো ছেড়ে দেওয়া শাড়ির আঁচল দিয়ে ঘোমটা টেনে দেওয়া। আইরা ব্যস্ত হতে কফি বানাচ্ছে। আইরার পিছনে মায়া মন ভার করে টুলে বসে আইরার কফি বানানো দেখছে। মায়া কে মন খারাপ করে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে আইরা কফি বানাতে বানাতে বলে উঠলো,
___” কী হয়েছে মন খারাপ কেনো?
___” কিছু না।
___” তাহলে কথা বলছিস না কেনো?
___” মুড নেই।
আইরা হতাশা চোখে মায়ার দিকে তাকালো,
___” মুড অফ কেনো?
___” উফফ আইরা এত কথা বলিস কেনো। তোর জন্য শান্তি মতো মুড অফ করতে পারবো না।
মায়ার কথায় আইরা হেঁসে দিলো। কফি হাতে নিয়ে কিচেন থেকে বের হতে হতে পুনরায় বলল,
___” মনে হচ্ছে কারো উপর রেখে বম হয়ে আছিস?
মায়া আইরার পিছু পিছু হাঁটতে হাঁটতে অভিযোগের সুরে বলে উঠলো,
___” তো থাকবো না, সালা লুচ্চা আমাকে, আমার আম্মু কে বিরক্ত করে এখন বলে সে নাকি এতদিন ফান করেছে হুদাই বলি লুচ্চা।
আইরা ড্রয়িং রুমে যেতে যেতে মুচকি হেঁসে বলে উঠলো,
___” তুই অভিমান করেছিস, তুই তো আশিক ভাইয়া কে ভালোবাসিস না। তাহলে অভিমান কেনো?
___” কই অভিমান করছি, ওই লুচ্চার জন্য অভিমান, অসম্ভব হুউ।
মায়া মুখ বাঁকা করে বলল। আইরা আর কথা বাড়ালো না। আইরা সোফার কাছে এসে হাবীব কে কফি দিলো। আশিক কে কফি দিতেই আশিক মুচকি হেঁসে বলে উঠলো,
___” ভাবির হাতের এক কাপ কফিই হতে পারে মন ভালো করার প্রধান ওষুধ।
আইরা হেঁসে পুনরায় আনাস কে কফি দিয়ে দিলো।
মায়া সোফার এক সাইটে দাঁড়িয়ে আশিকের কথায় মুখ বাঁকালো। তাঁদের আড্ডার মধ্যেই হটাৎ আলভী নিজের বাড়ি থেকে দৌড়ে তালুকদার বাড়িতে ঢুকে গেলো। পেছনে পেছনে রাহিমা সুলতানা একটা ঝাড়ু নিয়ে আসতে দেখা গেলো। আলভী এসেই চিৎকার দিতে লাগলো,
___” মায়াবতী, মায়াবতী! কই তুমি আমাকে বাঁচাও?
আলভীর হটাৎ চিৎকারের আনাস বিরক্ত মুখে তাকালোও বাকি সবাই অবাক চোখে তাকালো। উপর থেকে রশ্মিরাত তাড়াহুড়ায় ছুটে এলো আলভীর চিৎকারের। আরাত মন খারাপ করে আলভী কে দেখতে লাগলো। রশ্মি বলে উঠলো,
___” কী হয়েছে, দেখতে তো ঠিকঠাক লাগছে এভাবে চিল্লাচ্ছিস কেনো?
___” কী হয়েছে না, বলো কী করেছে! পুরো ওয়াশরুম জুড়ে জামাকাপড় ঠান্ডা পানিতে ভেজাছে। বিছানার চাদর পর্যন্ত। আমি গতকাল সবকিছু পরিস্কার করেছি, ও আজকেই সবকিছু পানিতে রাখছে।
___” তো রাখবো না, দেখো মায়াবতী আমি গোসল করি না মাএ চারদিন হলো। আম্মু আম্মুর কাছে বিচার দিচ্ছে পনেরো দিন ধরে গোসল করি না। এজন্য আমি সহ আমার সবকিছু গোসল করেছি।
রাহিমা সুলতানার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে আলভী উওর করলো। রাহিমা সুলতানা এতে আরো রেগে গেলো। রাহিমা সুলতানা আলভীর দিকে তেড়ে যেতেই আলভী আরাতের পেছনে গিয়ে আরাতের ওড়না টেনে লুকিয়ে পড়লো। আরাত বিরক্ত মুখে রাগ নিয়ে বলে উঠলো,
___” সর আলভী আমাকে ছেড়ে দে, সবসময় ফাজলামো ভালো লাগে না।
আরাত বিরক্ত হয়ে আলভী কে রেখে রুমের উদ্দেশ্যই চলে গেলো। সবাই বেশ অবাক হয়ে আরাত কে দেখতে লাগলো। রশ্মি আরাত কে যেতে দেখে হাসি মুখে আলভীর কাছে এসে কান টেনে ধরে বলল,
___” আম্মু আজকে সব কাপড় এই ফাজিল ধুয়ে শুকাতে দিবে চলো বাসায়, এই চল?
রশ্মির কথায় সবার নজর রশ্মির উপর পরলো। মায়া অবাক হয়ে আলভী কে জিজ্ঞাস করে,
___” আলভী তুমি চারদিন থেকে গোসল করো না?
___” আপু আমার মন পরিষ্কার আছে, গোসল করে কী হবে। এই শীতে শরীর না মন পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন।
আলভী রশ্মি নিজেদের বাসার দিকে যেতে নিতেই আলভী মায়ার কথায় দাঁড়িয়ে উওর করে উঠলো। আলভী কথায় মায়া আইরা শব্দ করে হেঁসে উঠলো।
রশ্মি, রাহিমা সুলতানা, আলভী কে নিয়ে নিজেদের বাড়িতে যেতে যেতে রশ্মি বলে উঠলো,
___” আর বলো না আপু, এই শীতের দিন এসে পড়লে ওর এসব বাহানা শুরু হয়ে যায়।
মায়া হাসি মুখে রশ্মিদের যাওয়ার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে আশিকের দিকে রাখলো। আশিক এতক্ষণ মায়ার দিকে চেয়ে ছিলো। মায়া কে তাকাতে দেখে চোখ অন্য দিকে ফিরিয়ে দিলো। মায়া সেদিকে তাকিয়ে মুখ বাঁকা করে। তাঁদের আড্ডার মধ্যে রাবেয়া তালুকদার ড্রয়িং রুমে এসে দাঁড়ালেন। হাবীব আশিক দুজনেই রাবেয়া তালুকদার কে সালাম দিতেই ভদ্রমহিলা সালামের উত্তর নিয়ে সোফাতে হাবীবের পাশে বসে বললেন,
___” সন্ধ্যার সঙ্গে কী হয়েছে তোমার?
হাবীব রাবেয়া তালুকদারের কথায় থতমত খেয়ে গেলো। হাবীব কে আমতা আমতা করতে দেখে রাবেয়া তালুকদার বললেন,
___” এত ভয় পেতে হবে না, আমি জানি তুমি আর সন্ধ্যা দুজন দুজনকে পছন্দ করো। দুজন কী ঝগড়া লেগেছো?
___” না তো আন্টি, ও কী কিছু বলেছে ?
রাবেয়া তালুকদার হাসি মুখে হাবীবের মাথায় হাত রাখলেন,
___” আরে পাগলা ছেলে না এমন কিছু না। ওকে আসতে বলছি আসবে না, তোমার হবু শাশুড়ী কে বললাম কী হয়েছে। সে বলল মেয়ে রাগ করেছে। তাই ভাবলাম আসামি যখন হাতের কাছে,জিজ্ঞাসাবাদ তো করায় যায়।
রাবেয়া তালুকদার কথাগুলো বলে হেঁসে উঠলো। হাবীব মুচকি হেঁসে মাথা নিচু করে রাখছে। আশিক রাবেয়া তালুকদার আর হাবীব কে দেখে মলিন মুখ করে বলে উঠলো,
___”নিজের নেই তো কি হয়েছে মানুষের টা-ই দেখি।
আশিক কথাটা বলার সঙ্গে সঙ্গে আনাস হাতের কাছে সোফার কুশন হাতে তুলে নিয়ে আশিক কে ছুড়ে মারলো। আরাত নিজের রুমে পুরো রুম জুড়ে পায়চারি করছে। একবার মাহির কে ফোন দিয়ে ফোনে পেলো না। মনের মধ্যে হাজারো প্রশ্ন। ফোন হাতে নিয়ে পায়চারি করার মধ্যেই মাহিরের ফোন এলো আরাতের ফোনে। আরাত ফোনের দিকে দুসেকেন্ড তাকিয়ে থেকে দুরুদুরু বুকে ফোন রিসিভ করলো,
___” সরি ক্লাসে ছিলাম, কোনো প্রয়োজন?
___” আমি কী আপনাকে প্রয়োজন ছাড়া ফোন করতে পারি না?
___” হ্যাঁ অফকোর্স, কেনো না।
___” একটা কথা বলবো?
___” হ্যাঁ বলো?
___” সত্যি সত্যি বলবেন?
আরাতের কথায় মাহির সন্দেহ আর মনে ভয় নিয়ে বলে উঠলো,
___” এভাবে বলছো কেনো! তুমি কী কিছু জানতে পেয়েছো?
___” কী জানার কথা ছিলো আমার?
___” না কিছু না, তুমি কী বলতে চাইলে এটা বলো?
আরাত কিছুক্ষণ সময় নিলো, চোখ বন্ধ করে বুকভরা আশা নিয়ে জানতে চাইলো,
___” আপনি কী আমাকে সত্যিই ভালোবাসেন?
মাহির যে ভয়টা পেয়েছিল এটাই সত্যি হলো। মাহির কথা বললো না। নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। আরাত মাহির কে কথা বলতে না দেখে কাঁপা কাঁপা গলায় পুনরায় জানতে চাইলো,
___” কথা বলছেন না কেনো! আপনার তো এত সময় নেওয়ার কথা না?
___” কী বলবো বলো, আমাকে কী বলতে বলছো বলো! তুমি যানো না আমার মন তোমার জন্য কী ফিল করে! তারপরও এ-সব কথা কেনো আসছে। তোমার কী আমার উপর ভরসা নেই?
___” আপনি রেগে যাচ্ছেন কেনো, আমি তো জাস্ট আপনাকে প্রতিদিনের মতো সিম্পল প্রশ্ন করছি তাহলে?
মাহির উত্তেজনায় বুঝে উঠতে পারছে না কী বলছে। আর কিভাবে সামাল দিবে। নিজে থেকে একজন কে জীবনের সঙ্গে জরিয়ে তাকে আবার হুট করে জীবন থেকে ছড়ানো তো যায় না। মাহির আপাতত আরাতের কাছে মিথ্যার আশ্রয় নিলো। আরাত কে উল্টো রাগ দেখিয়ে বলতে লাগলো,
___” এই সিম্পল কথার জন্য ক্লাস টাইম ফোন করেছো, আমি ভেবেছি তুমি বিপদে পড়েছ। এজন্য এতটা টেনশনে ছিলাম কী বলবো, মাথা কাজ করছিলো না। সরি তোমার সঙ্গে মিসবিহেভ করার জন্য?
আরাত মলিন মুখে পুনরায় মাহির কে বলে উঠলো,
___” আমি কখনো এর আগে কাউকে এতটা ভরসা করি নি, না কাউকে করতে পারবো, প্লিজ কখনো একা করে দিবেন না?
___” বিশ্বাস রাখতে পারো।
___” বিশ্বাস আছে, শুধু আপনাকে রাখতে হবে?
___” আমার ক্লাস চলছে পড়ে কথা বলবো বাই।
মাহির উওর করলো না। আরাতের ফোন কেটে দিলো। আরাত ফোনটা বিছানার উপরে রেখে। মুখে পানি দিতে ওয়াশরুমে চলে গেলো। মাহির ফোন কেটে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রশ্মি কে ফোন লাগলো, দুইবারের মাথায় রশ্মি মাহিরের ফোন রিভিউ করলো। রশ্মি কে ফোন রিভিউ করতে দেখে মাহির ব্যস্ত গলায় জানতে চাইলো,
___” আপনি আরাত কে কী বলছেন?
রশ্মি অবুঝ হয়ে মাহিরের কথায় জানতে চাইলো ,
___” সরি বুঝলাম না আপনার কথার মানে?
___” আপনার আর আমার বিষয়ে কী বলছেন?
___” আপনার গার্লফ্রেন্ড কে জিজ্ঞেস করেন! আমার কাছে কেনো জানতে চাইছেন?
___” আরাত আমার গার্লফ্রেন্ড না।
___” তাহলে আরাতের সঙ্গে কথা বলেন কেনো?
___” আপনাকে ভুলে থাকার জন্য, আপনার কাজল কালো অশ্রুভেজা চোখের মায়া থেকে নিজেকে দূরে রাখতে এত আয়োজন।
রশ্মি আশ্চর্যসহিত জানতে চাইলো,
___” মানে, কী বলতে চাইছেন?
মাহির রশ্মি কে অবাক হয়ে প্রশ্ন করতে দেখে হেঁসে উঠলো,
___” চলেন আপনাকে আমার লাভ স্টোরি শেয়ার করি, আজ থেকে বেশ কয়েকমাস আগে আমি আমার ফ্রেন্ড আরশ কে এয়ারপোর্টে রিসিভ করতে গেয়েছিলাম। ওইদিন এয়ারপোর্ট থেকে বের হতেই বেখেয়ালি ভাবে একটা সাদা পরীর সঙ্গে ধাক্কা লেগে যায়। পরীটা কান্না করছিলো। কান্না করার ফলে ফর্সা মুখে কাজল রাঙা চোখগুলো পানিতে ভরে ছিলো। দু এক ফোঁটা গাল বেয়ে গড়িয়ে পরছে। কয়েক সেকেন্ডে আমার পুরো দুনিয়া থমকে গিয়েছিলো ওই অশ্রুভেজা চোখে। জানেন পরীটা আমাকে খেয়াল করে নি তাঁর মনে ছিলো বেস্ট ফ্রেন্ড থেকে দূরে যাওয়ার বেদনা। সে আর কেউ না…
___” আমি?
রশ্মি এতক্ষণ মাহিরের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো। রশ্মির মনে পড়ে গেলো এয়ারপোর্টে একটা ছেলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে যায়। এতটা খেয়াল করা হয়নাই ছেলেটা কে ছিলো। আর খেয়াল করবে বা কেনো, রশ্মির মনে তো পার্থর রাজত্ব চলছিলো। মাহিরের কথায় রশ্মি বুঝতে পেয়ে গেলো মেয়েটা আর কেউ না রশ্মি নিজেই ছিলো। মাহির রশ্মি কে পুনরায় বলে উঠলো,
___” হ্যাঁ আপনি, জানেন আপনাকে আমি পুরো শহর আমার অলিগলিতে খুঁজেছি। কোথাও খুঁজে পায়নি। আপনি ওইদিন আমার মন নিয়ে পালিয়ে গেয়েছিলেন দূর দেশে। এভাবে খুঁজতে লাগলাম কিন্তু আপনার দেখা পেলাম না। ভার্সিটিতে আরাতের সঙ্গে আমার পরিচয় টা হয় আমার বাবার মাধ্যমে। আমার বাবার সঙ্গে আরাতের আগেও কোথাও একটা দেখা হয়েছিলো। আরাত কে আমি ভালোবাসি না। ওর প্রথম দিনের চঞ্চলতা আমাকে ভালো লেগেছে। একদিন দুইদিন এভাবে ওর চঞ্চলতা গুলো আমার মন ভালো করে দিতে লাগলো। ওর প্রতি জাস্ট আমার ভালো লাগা এর বেশি কিছু না। আরশ আমাকে বললো আরাতের সঙ্গে রিলেশনশিপে যেতে। আরাতের সঙ্গে মিশলে আপনাকে ভুলে যাবো। হয়তো আরশের কথাটা ঠিক হতো এরমধ্যে আপনি আমার জীবনের পুনরায় এসে গেলেন। তো বলেন আমি আমার ভালো লাগা কে বেছে নেবো। না আমার ভালোবাসা কে?
মাহিরের দৈর্ঘ্যকথায় রশ্মি চুপচাপ নীরবতা পালন করলো। মাহির একটা বড় করে নিঃশ্বাস নিলো। মনের মধ্যে এতদিনের জমানো কথা ভালোবাসার মানুষটাকে বলতে পেয়েছে। নিজেকে হালকা হালকা লাগছে। রশ্মি কে চুপ থাকতে দেখে মাহির বলে উঠলো,
___” কী হইলো কথা বলছেন না কেনো?
রশ্মি মাহিরের কথায় হাতে হাত ভাজ করে দাঁড়ালো। সিরিয়াস মুখে গম্ভীর গলায় বলে উঠলো,
___” আমাকে প্রপোজ করতে পারবেন?
মাহির নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়ালো, রশ্মির কথা বুঝতে পেয়ে খুশি তে বলে উঠলো,
___” হ্যাঁ পারবো না কেনো, আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ,আমি আপনাকে অসম্ভব ভালোবাসি। যে ভালোবাসার মধ্যে আমার সত্য লুকিয়ে আছে। আপনাকে নিজের করে চাওয়ার ইচ্ছা লুকিয়ে আছে।
মাহিরে উৎফুল্লতা হয়ে একটার পর একটা বলতেই আছে। রশ্মি মলিন মুখে মাহির কে বলল,
___” ফোনে না, আপনি আমাকে আগামীকাল সামনাসামনি প্রপোজ করবেন।
মাহির সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো,
___” কোথায় দেখা করতে হবে বলো?
___” আমি লোকেশন পাঠিয়ে দিবো।
রশ্মি ফোন কেটে গেলো। মাহির খুশিতে বাকি ক্লাস না করে রাফি আরশ কে না বলেই বাইক নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্য চলে গেলো। রশ্মি চিন্তিত মুখে বিছানায় বসে পরলো। আরাত ওয়াশরুম থেকে বের হতেই দরজায় টোকা পরলো। আরাত তয়েলা দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে দরজার কাছে এসে দাঁড়াতেই ছোট করে একটা ডাক বুকে এসে ধাক্কা খেয়ে গেলো। বুকটা নিমেষেই ধিকধিক করতে লাগলো,
___” রাত ওপেন দা ডোর?
রাত কাঁপা কাঁপা হাতে দরজা খুলে দিতেই দরজার সামনে তাকবীর কে দেখতে পেলো। তাকবীর একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল,
___” থ্যাংক গট ফাইনালি, তুমি ঠিক আছো?
আরাত অবাক হয়ে তাকবীরের দিকে তাকালো। তাকবীর এভাবে কোনো সময় আরাতের দরজার সামনে এসে ডাকে নি। আজকে কেনো ডাকছে আরাত কে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে তাকবীর নিজের হাতের ফোনটা আরাতের সামনে ধরলো, ভাবুক হয়ে একবার ফোন তো আরেকবার আরাতের দিকে তাকাচ্ছে,
___” পারফেক্ট, এখন আসতে পারো।
আরাত কিছুই বুঝলো না, হ্যাবলাকান্ত হয়ে তাকবীরর দিকে চেয়ে রইলো। তাকবীর আরাত কে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে এক টুকরো হাসি ফুটালো মুখে। পুনরায় আরাতের দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে আরাতের মাথায় হালকা করে থাপ্পড় দিয়ে বলল
তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩৫
___” পাগল একটা।
কথাটা বলেই তাকবীর নিজের রুমে চলে গেলো। আরাত কিছুই বুঝলো না। অবাকের সঙ্গে সঙ্গে তাকবীরের নতুন স্বভাবের সঙ্গে পরিচিত হয়ে গেলো। আরাত রোবটের মতো বিছানায় গিয়ে বসে কিছুক্ষণ আগে তাকবীরের করা কান্ডগুলো ভাবতে লাগলো।
