My Husband part 15+16
সামহা সামি
” আ’ আপনি আমাকে থাপ্পড় দিলেন?
কাঁপা কাঁপা কন্ঠে অবাক হয়ে বলে আনেয়া তাঁর বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে প্রহেল তার গায়ে হাত তুলেছে, প্রহেল আনেয়ার দিকে না তাকিয়ে গম্ভীর মুখে বলে?
_ হ্যাঁ থাপ্পড় দিয়েছি দরকার হলে আরো দিবো গট ইট?
বলেই আশে দাঁড়ানো মেয়েটির উদ্দেশ্য করে বলে!
___ফান্সিকা চলো?
ফান্সিকা নামের মেয়েটি একবার আনেয়ার দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি ফিরিয়ে প্রহেলের হাত ধরে চলে যেতে যেতে বলে?
‘- বেবি হাউ টু ফান এই কালো মেয়েটির সাথে তুমি ছিলে, কি কুৎসিত নোংরা গাঁয়ের রঙ?
ফান্সিকার কথায় অপমানে চোখ দুটো জলে টই’টম্বর হয়ে গেছে দু চোখ দিয়ে ওঝরে বয়ে চলছে পানি ? অফিস রুমে কিছু ইম্পর্টেন্ট ফাইল গার্ডছে রিহান, সাগর কপালে উরে আসা চুল গুলো হালকা হাত দিয়ে সরিয়ে রিহানের উদ্দেশ্য বলে!
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
_”: রিহু বেবি বোমা ব্লাস্ট দেখার জন্য রেডি হয়ে নেও আমি কিন্তু ছক্বা মাড়া দেখার জন্য ফুল রেডি!
রিহান সাগরের এই রিহু বেবি বলায় চোখ মুখ কুঁচকে নাক শিট্রকে বলে?
হোয়াট রাবিশ কিসের রিহু বেবি, আই এম নট রিহু বেবি, ক্লিয়ার , ডিসগাস্টিং ?
মুখ বুতা করে আবারো ফাইলে কনভার্ট করতে থাকে কিন্তু সাগর যতক্ষণ সাথে থাকবে ততক্ষণ সে শান্তিতে কাজ করতে পারবে না রিহান কে আর একটু বিরক্ত করতে সুর টেনে টেনে গলা ছেড়ে বলে?
লেগেছে আগুন বসের সংসারে থামবে না রে পাগলা। এতো সহজে আমি সাগর উঠবো ফুঁসে দেখবো খেলা বিনা টিকিটে রিহু বেবি?
রিহান সাগরের কথা শুনে হাসবে নাকি কাঁদবে বুঝতে পারছে না তবুও বাঁকা হেঁসে বলে?
বাহ্ তাই নাকি তাহলে তো বস কে বলতেই হয় তুর উপরে যাওয়ার টিকিট কেটে দেওয়ার।
সাথে সাথে সাগরের মুখের হাঁসি উধাও ফ্যাকাসে মুখ হয়ে যায় বাচ্চা বাচ্চা মুখ করে বলে?
__ যা দুষ্টু এই ভাবে কেউ বলে রিহু বেবি?
মাথা চুলকে বলে সাগর, রাত ১০:৩০ গেস্ট রুমের দরজা আটকে হাঁটুতে মুখ চেপে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠছে ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলে।
“_ কাঁদা কেও মানুষ জরিয়ে ধরে দোয়ার জন্য আপনি আমাকে ঠেলে দিলেন অবহেলা দিয়ে আপনিময় বড়ো নিষ্ঠুর অনুভূতি!
আনেয়ার কান্না তীব্র থেকে আরো তীব্র হতে থাকে এক সবয় শেই কান্না চিৎকারে পরিনত হয়, দূপূরে প্রহেল ও ফান্সিকা রুমে যাওয়ার পর আর নিচে আসেনি আসেনি বলতে ভুল হবে ওরা উপরে উঠার সাথে সাথে আনেয়া গেস্ট রুমে এসে দরজা লক করে কান্নায় ভেঙে পড়ে ! বেশ কিছুক্ষণ পর চোখ মুখে পানি দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে আনেয়া অতিরিক্ত কান্নার ফলে চোখ মুখ লাল হয়ে আছে আনেয়ার পড়ে যেতে নিলে দ একজন মেড ছুটে এসে ধরে ফেলে বলে!
” মেম আপনি ঠিক আছেন ”
আনেয়া নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করে বলে,
” হুম আমি ঠিক আছি তোমাদের স্যার কোথায়?
মেম স্যার তো সেই বিকালে বের হয়েছে নতুন মেমের সাথে?
মেডের নিচু সুরে কথা গুলো শুনে আনেয়ার ভেতর যেনো ছিঁড়ে যাচ্ছে লোকটার কি হয়েছে সবই তো ঠিক ছিল তাহলে হঠাৎ করে কি এমন হলো, রনি ও মিস্টার ইয়াং বসে আছে ঠোঁটে চির চেনা বাঁকা হাঁসি যেনো কোন কিছু বিশ্বজয়ী করে ফেলেছে, পাশ থেকে ফোন টা হাতে নিয়ে কল করে ফান্সিকার নাম্বারে দুই বার রিং হতে ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ করে বলে।
হাই মিস্টার ইয়াং মনে পরলো আমাকে।
” তোমার আজাইরা কথা শেষ হলে কাজের কথায় আসা যাক কি বলো?
“ও হ্যাঁ সিউর,
তুমি ভুলে যেওনা ওই বাড়িতে যাওয়ার কারন কি তোমার সময় নষ্ট না করে কাজে লেগে পড়ো।
” ও মিস্টার ইয়াং মাই উইশ ।
বলেই মুখের উপর ঝাপটা মেরে ফোন কেটে দেয় রাগে চুয়াল শক্ত করে ফেলে ইয়াং এই মেয়েকে সে দেখে নিবে, গাড়ো গন অন্ধকার ড্রয়িং রুমে বসে আছে আনেয়া তখনি কলিং বেল বেজে ওঠে এতো রাতে আবার কে এলো প্রহেল নয় তো প্রহেল আসার কথা ভেবে তৎক্ষণা সোফা থেকে উঠে দাঁড়ায় আনেয়া দরজা খুলে দেখে কেউ নেই নিচে চোখ দিতেই একটা মাঝারি সাইজের বাক্স দেখতে পায় , আনেয়া কাঁপা কাঁপা হাতে বাক্সটা তুলে খুলতে থাকে সাথে সাথে গগন ফাটানো চিৎকার করে উঠে।
” আহ্”
লাল তরল ছুপ ছুপ রক্ত গরিয়ে পরছে আনেয়ার কপাল থেকে মিরকি রোগীর মতো কাঁপতে থাকা হাত বাড়িয়ে দেয় পড়ে থাকা ছবি গুলো দিকে , বাক্সে খুলতে ভেতর থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ছবি দেখতেই আনেয়া নিচে পড়ে যায় কাঁচের টেবিলে সাথে পড়ার কারণে কপাল কিছু টা ছিলে যায়, ছবি গুলো আর কারো না। প্রহেল ও ফান্সিকার অপুস্তুত কিছু অর্ধনগ্ন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ ছবি , তাঁর বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে প্রহেল এমন কিছু করবে অতিরিক্ত প্যানিক উঠায় নাক মুখ দিয়ে চিকন স্থলে রক্ত বের হতে থাকে, চারো-পাশ ঝাপসা ঝাপসা হয়ে চোখ দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে আদো আদো চোখে প্রহেলের মুখ টা ভেসে উঠে,।
“- জান এই জান চোখ খুল ছোট ফ্লাওয়ার দেখ আমি আসছি তো, তুই আমার উপর রাগ করে কেন এই ভাবে সুয়ে আছিস, দেখ আমার কষ্ট হচ্ছে আমি কিন্তু কিছু একটা করে ফেলবো প্লিজ চোখ খুল।
আনেয়া তখন অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর পরেই কিছু পড়ে যাওয়ার আওয়াজ শুনে মেডরা আসে , আনেয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে প্রহেল কে ফোন করে, কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে মিটিং থাকায় ফোন পিক করতে পারে না , মিটিং শেষ করে ফোন নিয়ে দেখবে তখনি আবারো কল আসে ওপাশ থেকে কান্নাভেজা কন্ঠ ভেসে আসে।
“”_” ছ-ছ্যার ম-মেম ।
” প্রহেল বিচলিত হয়ে বলে?
” কি হয়েছে আনেয়ার ও ঠিক আছে?
” ছ’ছ্যার মেম অজ্ঞান হয়ে গেছে কপাল থেকে রক্ত পরছে?
আর কথা কানে গেলো না প্রহেলের বুকের ভেতর চিন চিনে ব্যাথা হচ্ছে কি হয়েছে তার ছোট ফ্লাওয়ারের, কোন রকমে নিজে ড্রাইভিং করে বাড়ি ফিরে দৌড়ে রুমে আসে, আনেয়াকে রুমে আনার সাথে সাথে একজন মেড প্রহেলের পার্সোনাল ডাক্তারকে কল দিয়ে আসতে বলে, আনেয়ার এই অবস্থা দেখে প্রহেলের বুক কাঁপছে নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ডাক্তার এগিয়ে এসে প্রহেলের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলে?
” প্রহেল ব্যাডা মেয়েটি তোমার কি হয়?
” সি ইজ মাই ওয়াইফ আঙ্কেল ।
” হাউ প্রসিবল প্রহেল ব্যাডা আই ক্যান্ট বিলিভ মি তুমি একজন দায়িত্ববান হাসবেন্ড হয়ে মেয়েটার এই অবস্থা কি করে হতে পারেI don’t believe it ?
প্রহেল মাথা নিচু করে রেখেছে কি বলবে সে। যে তাঁর কিছু ভুলের কারণেই আজ মেয়েটার এই অবস্থা, ডাক্তার আরো কিছুক্ষণ কথা বার্তা বলে আনেয়াকে কেয়ারফুল রাখতে বলেও সময় মতো ওষুধ খাইয়ে দিতে বলে চলে যায়, প্রহেল দির পায়ে বেডে শুয়ে থাকা আনেয়ার দিকে যায় আস্তে করে আনেয়ার মাথার কাছে বসে, মুখে উড়ে আসা চুল গুলো আলতো সরিয়ে এক হাতে আনেয়াকে বুকে নিয়ে এসে। নিজের সাথে জরিয়ে ধরে কপালে চুমু খায়, সাঁড়া মুখ কেমন চুপসে গেছে সাদা কপালের ব্যান্ডেজ করে দেওয়া জায়গায় এখনো চুপ চুপ রক্ত জমাট বেঁধে আছে, করা ডোজের ঘুমের ইনজেকশন দেওয়ায় প্রহেলের এই আর্তন আনেয়ার অজান্তেই রয়ে যায়,
রাত গরিয়ে সূর্যের আলোর রশ্মি ছরিয়ে পড়ে প্রথিবীর বুকে support পদ্মা ভেথ করে আলো পুড়ো রুমে আলো ছড়িয়ে পড়ে। ইয়ান নাজমা বেগমের সামনে দাঁড়িয়ে বলে।
” আম্মু ওই ভালো ভাইয়া টা কে বলো না আপুকে নিয়ে আসতে কত’দিন হলো আপু আসে না আমি মিস করি তো।
নাজমা বেগম ইয়ানের মুখে খাবার ঠুসে দিতে দিতে উত্তর দেয়।
__ তোমার বোন এখন অন্য কারো বউ তাই যখন তখন আসতে পারবে না পাজি ছেলে।
” আমি কিছু যানি না তুমি আপুকে এনে দিবে মানে এনে দিবে।
ইয়ান আর খাবার না খেয়েই স্কুলের ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যায়, নাজমা বেগম তপ্ত এক নিঃশ্বাস ফেলে তাঁর তো ইচ্ছে করে মেয়েটাকে দেখতে কতো দিন হয়ে গেল দেখে না।
আর’মোড়া দিয়ে দিরে দিরে চোখ খুলে আনেয়া বুঝার চেষ্টা করছে তাঁর অবস্থান কোথায় চারো’পাশ তাকিয়ে নিজেকে বিছানায় দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, কিছুক্ষণ আগের ঘটনা মনে পড়তেই চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়তে থাকে,প্রহেল খাবার নিয়ে গম্ভীর মুখে রুমে ঢুকতেই আনেয়াকে ফুপাতে দেখে বিচলিত হয়ে কাছে এসে স্পর্শ করতে নিলে আনেয়া চোখ বন্ধ করে বলে।
_ ” ছুঁবেন না ওই অপবিত্র হাতের স্পর্শ আমি চাই না, যার হাতে অন্য পরো নারীর শরীরের ঘ্রাণ মেতে থাকে শেই স্পর্শ আমি চাই না ,
আনেয়ার কথায় প্রহেলের মাথায় রক্ত উঠে যায় চোখ মুখ শক্ত করে দাঁড়ালো ছুরির নেয় তাক করে বলে।
“হোয়াট হ্যাপেন্ড কি যা’তা বলছো আর ইউ ওকে জান।
আনেয়া হাতের উল্টো পিঠে চোখের পানি মুছে বলে হেসে উঠে বলে
___ আপনি নষ্ট পুরুষ মানুষ বাহিরে সাদা চামড়া থাকতে কেউ কি ঘরের কোনে পড়ে থাকা কালো চামড়া জড়ায় আমরা কালো রঙের মেয়েরা আসলেই বোকা স্বামীর যত্ন পেতে গিয়ে বেড পাটনার হয়ে যাই?
আর কিছু বলবে তার আগেই প্রহেল আনেয়ার চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে।
,, আমাকে রাগাস না আমি রাগলে তোর জন্য ভালো কিছু ডিজার্ভ হবে না তুই আমার বেড পার্টনার না তুই আমার সাম্রাজ্যের রানী গট ইট।।
বলেই আনেয়ার শুষ্ক ঠোঁট দুটো নিজের ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরে কিস করতে থাকে, কিস বললে ভুল হবে নিজের রাগ মিটাছে কামর দিয়ে, আনেয়া ধাক্কা দিচ্ছে দূরে সরানোর জন্য কিছু প্রহেল তো আনেয়া যতো দূরে সরানোর চেষ্টা করছে প্রহেল তার এক হাত দিয়ে কমর চেপে নিজের কাছে আনছে একসময় আনেয়া স্থির হয়ে যায়, ১৫-২০ মিনিট পর প্রহেল আনেয়াকে ছেঁড়ে কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। রিহান সোফার উপর বসে ফোন স্কুল করছে সাগর উঁকি মেরে দেখে বলে।
___ রিহু বেবি আমার না কেমন কেমন লাগছে।
সাগরের কথায় রিহান ফোন রেখে সোজা হয়ে বসে বলে।
” তুই কি প্রেগনেট যে কেমন কেমন লাগছে অবশেষে আমি চাচ্ছু হবো রে সাগু।
সাগর নাক ছিটকে বলে।
ছিঃ ছিঃ রিহু বেবি তুমি কি যা’তা বলছো আমি এখনো ভার্জিন বিশ্বাস না হলে আসো চেক করবে।
সাগর এগিয়ে আসতে নিলে রিহান সোফা থেকে লাফিয়ে উঠে বলে।
My Husband part 13+14
___ ছ্যা আমি কেন চেক করবো মুরগীর কাছে গেলে কলা রেখে ডিম দিয়ে চেক করে দিবে।
সাগর তেরে আসতেই রিহান বসা থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যায়, আনেয়া হালকা ফ্রেশ হয়ে কাঁচের মিররে নিজেকে একবার দেখে, নিচে এসে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় গার্ডরা আটকাতে আসলে সবাইকে উপেক্ষা করে বের হয়ে যায়?
