তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৫৩
জান্নাতি আক্তার জারা
রুপোলী বেগমের ডাকে মিমের ঘুম ছুটে গেলো, চোখ বন্ধ রেখে কপাল কুঁচকে বিরক্ত মুখে বিছানায় বসে পরলো, শরীর টা মেচমেচ করছে, মিম ঘারে হাত দিয়ে হামি তুলতেই ঘার গরম অনুভব করলো, মিম ভ্রু কুঁচকে পুনরায় কপাল গালে হাত বোলালো, হ্যাঁ ঠিক ধরেছে শরীরে হালকা হালকা জ্বর, হাতের ক্ষত জায়গায় লাল ডাক ধরে যাওয়ার কারণে ব্যাথাটা বেড়ে গেছে,রুমের বাহিরে থেকে রুপোলী বেগমের পুনরায় ডাক পরলো, মিম মায়ের কথায় জবাব না দিয়ে ফোনে সময় দেখলো, সকাল আটটা বেজে তেরো মিনিট চলছে, মিম ফোন রেখে দিয়ে বিছানায় থেকে নামলো,শরীর কিছুটা দুর্বল অনুভব করলো, দুর্বল হবেই না কেনো রাতে কিছু পেটে পড়ে নি, তারউপর একটার পর একটা ধকল গেল, খালি পেটে কান্না করার কারণে মাথা ব্যাথা শরীর দুর্বল এবং জ্বর, মিম নিজেকে পরোয়া করলো না ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে কলেজের জন্য রেডি হয়ে গুটিগুটি পায়ে নিচে নেমে এলো, রুপালী বেগম মিমের সাড়াশব্দ না পেয়ে আর ডাকে নি নিচে নেমে গেছে, ডাইনিং টেবিলে সবাই সকালে নাস্তা করছে, এদিকে আরাতও কলেজের জন্য রেডি হয়ে খেতে বসেছে, সবাই ভেবেছে মিম আজকে আর নিচে নামবে না, মিম কে সময় দিতে কেউ আর ডাকলো না, কিন্তু সবাই কে আবার করে দিয়ে কিছুক্ষণ পর মিম একিবারে কলেজের জন্য রেডি হয়ে নিচে নেমে এলো মিম চুপচাপ ডাইনিং টেবিলে বসে পরলো, আরাত মিম কে বলল,
___” কলেজে যাবি?
মিম চেয়ারে বসে ফেকাসে চোখ মুখ নিয়ে আরাত কে একপলক দেখলো, পুনরায় প্লেটে পরোটা নিতে নিতে ছোট করে বলল,
___” হুম।
আরাত আর কিছু বলল না, তাঁদের খাওয়ার মধ্যে রুপোলী বেগম মিমের কাছে এসে দাঁড়ালেন, হাসি মুখে মিম কে উদ্দেশ্য করে বললেন,
___” আজকে তোমার আব্বু আর আমি চলে যাবো, আমাদের আর দেখা নাও হতে পারে সাবধানে থাকবে।
কথাটা বলতে বলতে মেয়ের কপালে ভালোবাসার পরশ রেখে দিলো, কপালে চুমু রেখে দিতেই রুপোলী বেগম অবাক কন্ঠে বলে উঠলো,
___” তোমার শরীরে তো জ্বর, এই শরীরে কলেজ যেতে হবে না, আজকে বাড়িতেই বিশ্রাম নেও।
রুপোলী বেগমের কথায় সবাই অবাক হয়ে মিমের দিকে তাকালো, মিম ফেকাসে মুখে রুপোলী বেগম কে গম্ভীর গলায় বলল,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
___” ঠিক আছি আমাকে নিয়ে টেনশন করতে হবে না।
রুপোলী বেগম মেয়ের অভিমানী গলা শুনে হতাশ হলেন, আইরা পাশ থেকে মিম কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,
___” অসুস্থ শরীর নিয়ে কলেজ না যাওয়া টাই বেটার, রুমে রেস্ট নেও!
মিম পরোটা মুখে পুড়ে নিয়ে, মলিন মুখে উত্তর করলো,
___” না আপু আমি একদম ঠিকঠাক, শরীর টা একটু গরম, ব্রেকফাস্ট করে মেডিসিন নিয়ে নিবো।
কেউ আর কিছু বলল না, যে যাঁর যাঁর মতো একে একে ব্রেকফাস্ট টেবিল থেকে উঠে পরলো, আরাত পুনরায় নিজের রুমে গেছে, মিম ব্রেকফাস্ট শেষ করে টেবিলে চুপচাপ বসে আছে, রুপালী বেগম আদিবা তালুকদারের কাছ থেকে ব্যাথার মেডিসিন নিয়ে এসে মিমের সামনে ধরে আদুরে গলায় বলল,
___” ব্যাথার ওষুধ এটা, তোমার ফুপি দিলো খেয়ে নেও, ব্যাথা কমে যাবে।
মিম একপলক রুপোলী বেগম কে দেখে কিছু না বলে চুপচাপ মেডিসিন নিয়ে খেয়ে নিলো, রুপোলী বেগম অনেক কিছু বলতে চাইছে কিন্তু মেয়ের অভিমান গম্ভীর্য মুখ দেখে চুপ করে গেলেন, আরাত আর তাকবীর একসঙ্গে বেরিয়ে এলো, আরাত এসে মিমের পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
___” চল।
তাকবীর বাহিরে চলে গেছে, মিম বসা থেকে উঠে একপলক রুপোলী বেগম কে দেখে আরাতের সঙ্গে কলেজের উদ্দেশ্য যাওয়ার জন্য সদর দরজার দিকে যেতে যেতে ছোট করে বলল,
___” বাড়িতে ফিরে তিশা কে বলো একটা মেসেজ দিতে।
মিম চলে গেলো, রুপালী বেগম হুম বলে মেয়ের যাওয়া দেখলো, মেয়ের এতটা চুপচাপ হয়ে যাওয়া দেখে রুপোলী বেগমের মুখে চিন্তার ভাজ দেখা গেলো, মনে হতে লাগলো মেয়ের মনের বিরদ্ধে বিয়ে দিয়ে ঠিক করছে তো, পর মুহুর্তে নিজেকেই বুঝাতে লাগলো, বিয়ের পর ঠিক হয়ে যাবে, আরাত মিমের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
___” আরশ তোর সঙ্গে মিসবিহেভ করেছিলো?
মিম সামনে হাঁটতে হাঁটতে ছোট করে বলল,
___” না।
আরাত কিছুপলক নীরব চোখে মিম কে দেখলো, মিম বলতে চাইছে না গতকাল কী হয়েছে তাঁদের মধ্যে, আরাত আর শুনতে চাইলো না, আরাত ফোন বের করে রশ্মি কে মেসেজ করে বাড়ি থেকে বের হতে বলল,মেসেজ করার কয়েক সেকেন্ড পর রশ্মি বাড়ি থেকে বের হয়ে এলো, মিম আরাত কে হাঁটতে হাঁটতে ছোট করে বলল,
___” আম্মু আমার প্রয়োজনীয় সব কাগজ নিয়ে এসেছে বিয়ে উপলক্ষে, আশা করি ওগুলো দিয়ে হয়ে যাবে, আপু তুমি ভাইয়া কে বলো যত দ্রুত সম্ভব সবকিছু রেডি করতে!
আরাত মিমের কথায় বলল,
___” তোর কষ্ট হবে না?
মিম আরাতের কথায় মলিন হেঁসে উঠলো, রশ্মিরাত দুজনেই মিম কে দেখছে, মিম মলিন মুখে বলল,
___” পিছুটান রাখতে নেই, পিছুটান রাখলে জীবন টা নতুন করে সাজাতে পারবো না, মায়ায় পড়ার আগেই মায়া কাটিয়ে উঠতে চাই,নিকৃষ্ট মানুষের কাছে হেরে যেতে রাজি কিন্তু মায়া নামে ধ্বংসের অস্ত্রের কাছে না। একবার মায়ায় জড়িয়ে গেলে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ধ্বংস ছাড়া কিছুই পাবো না।
রশ্মিরাত চুপচাপ শুনছে মিমের কথা, মিম আর কিছু বলল না, গাড়িতে এসে বসলো, প্রতিদিনের মতো তাকবীর আরাত তাঁদের খুনসুটি দুষ্টুমির মধ্যে দিয়ে কলেজের সামনে এসে গাড়ি দার করালো, মিম রশ্মি আগে আগে নেমে এলো, আরাত কে আজকাল বলতে হয় না, তাকবীর কে নিজে থেকে কপালে ঠোঁট ছুঁয়ে দেয়, আবার নিজের কান্ডে লাজুক হাসে, তাকবীর আরাতের ছোট ছোট ছেলেমানুষী গুলোর মধ্যে শান্তি খুঁজে পায়, আরাতের দুষ্টুমিতে তাকবীর দিন শুরু হয়, আরাতের লজ্জা পেয়ে তাকবীরের বুকে মুখ গুঁজে দেওয়াতে দিন শেষে রাত কেটে যায়।
তবে আজকে একটু ব্যতিক্রম ঘটলো, বাচ্চাদের জন্য যেভাবে মানুষ সদাই নিয়ে আসে তাকবীর নিত্যদিন অফিস থেকে ফিরার পথে আরাতের জন্য নিত্যদিন খাবার নিয়ে আসবে, কখনো ভাজাপোড়া তো কখনো দোকানের সদাই, আরাতের সবসময় এটাওটা খাওয়ার অভ্যাস, রুমে খাবার থাকবে, আরাতের যখন ইচ্ছা করবে সে সদাই খাবে, তাকবীর আগে থেকে আরাতের অভ্যাস সম্পর্কে জানতো, আগে আনাস বা আহাদ তালুকদার বাড়ি ফিরার পথে আরাতের জন্য এটাওটা নিয়ে আসতো, বিয়ের পর থেকে তাকবীর তাঁদের মতো আরাতের জন্য খাবার নিয়ে আসে, তাকবীর বিয়ের আগে কখনো বাজারের মধ্যে নামে নি, কিন্তু বিয়ের পর বউয়ের জন্য এটা ওটা কিনতে তাকে নামতে হয়, আরাত কখনো জেদ ধরে নি, তাকবীর নিজে থেকে তাঁর বউয়ের জন্য বাজারের মধ্যে নামে,সারাদিন ক্লান্ত শেষে বউয়ের কথা মনে করে এই ছোট ছোট কাজে তাকবীর মানসিক শান্তি খুঁজে পায়, এগুলোর মধ্যে একটা ভালো লাগার অনূভুতি খেলা করে, কিন্তু আজকে আরাত তাকবীরের কাছে বাহানা ধরেছে, বাড়ির ফিরার পথে আরাতের জন্য আইসক্রিম আনতে, তাকবীর আরাতের আবদার শুনে কপাল কুঁচকে আরাত কে পরক করছে, তাকবীরেব জানা মতো কোনো সাধারণ মানুষ এই শীতের মধ্যে আইসক্রিম খাওয়ার আবদার করতে পারে না, তাকবীরের চাহনি দেখে আরাত বলল,
___” দেখেন ….
___” হুম দেখাও?
তাকবীর আরাতের দিকে বসা, এক হাত স্টিয়ারিংয়ে উপর রাখা, ঠোঁটের কোণে লেগে আছে দুষ্টু হাসি, আরাত নীরব চোখে তাকবীর কে কয়েক পলক দেখে মুখ ভার করে বলে উঠলো,
___” অসভ্য লোক একটা, আমি বলতে চাইছি, দেখেন এখন এতটা শীত নেই, সো এই ওয়দারে আইসক্রিম খেলে কিছুই হবে না, আমি আর কোনো কথা শুনবো না আইসক্রিম চাই মানে চাই, নয়তো আপনাকে রুমে ঢুকতে দিবো না।
কথাটা বলে আরাত হনহন করে কলেজ ব্যাগ নিয়ে নামতে নিলো, তাকবীর আরাতের কব্জি ধরে এক টানের নিজের কাছে এসে বলল,
___” আমি যেতে বলছি?
আরাত তাকবীরের মুখের দিকে চেয়ে মুখ নাড়ালো,
___” না।
তাকবীর কিছুই বলল না, আরাতের চোখের দিকে কয়েক সেকেন্ড চেয়ে থেকে ছোট করে বলল,
___” যাও।
আরাত কিছুই বুঝলো না, বোকা চোখে তাকবীর কে একপলক দেখে গাড়ি থেকে নেমে পড়লো, আরাত গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে তাকবীরের গাড়ি আরাতের চোখের সামনে থেকে শা শা করে চলে গেলো, আরাত অবাক হয়ে কিছুপলক রাস্তার দিকে চেয়ে থেকে ঠোঁট উল্টে কলেজের ভিতরে চলে গেলো,
সময় টা এখন অফ পিরিয়ড, আরাত সন্ধ্যার সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে, আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে মিম আর রশ্মি কে পরক করছে, মিম মাথা ব্যাগের উপর এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে, রশ্মি চুপচাপ বইয়ে মুখ গুঁজে বই পড়ছে,আরাত সন্ধ্যার সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার ফাঁকে মিম কে বলল,
___” তোর কী বেশি খারাপ লাগছে,বাড়ি ফিরে যাবি?
আরাতের কথায় সন্ধ্যা রশ্মির চোখ পরলো মিমের উপর, মিম চোখ খুলে সোজা হয়ে বসল, তিনজন কে নিজের দিকে চেয়ে থাকতে দেখে বলল,
___” না ঠিক আছি, আমি একটু ওয়াশরুমে যাবো।
কথাটা বলে মিম উঠে দাঁড়ালো, আরাত উঠতে উঠতে বলল,
___” চল আমিও যাবো।
দু’জন মিলে ক্লাস থেকে বের হয়ে ওয়াশরুমে এলো, মিম মুখে পানির ছিটা দিয়ে কিছু পলক আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রইলো, কিছুই ভালো লাগছে না জীবনটা এমন না হলেও পারতো, কত সুন্দর ছিলো জীবন টা, সকাল বেলা তিশার সঙ্গে কলেজে যেত, কলেজ থেকে ফিরে বিকালে পুনরায় প্রাইভেট যেতো, প্রাইভেট থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে তিশার সঙ্গে আড্ডা দিতো, গ্রামের ওমাথা এমাথা ঘুরতো, কতশত সৃতি জরিয়ে আছে গ্রাম ঘিরে, কত শত হাসি মজা, সবকিছু মনে পড়লে আর এই জীবন ভালো লাগে না, ফিরে যেতে মন চায় কিছুদিন আগের জীবনের, তা তো আর সম্ভব না, জীবনটা তো আর আগের মতো নেই, নেই কোনো অনূভুতি নেই কোনো রঙ্গিন চাওয়া, জীবনকে নিজের মতো করে গোছাতে চাইলে,ডিভোর্সের দাগ ফেলতে হবে, কলঙ্ক তো হয়েই আছে, সময় তো অনেক দিলো শুধরানোর জন্য, কিন্তু মানুষ টা শুধরালো না, মিমের চোখের পানি আপনা-আপনি গাল বয়ে গড়ে পরলো, কান্না করতে চাইনা তবুও এভাবে জীবন টা এগুচ্ছে, আরাত মিম কে বেরিয়ে আসতে না দেখে ডেকে উঠলো,
___” কতক্ষণ লাগাইবি, চোখ মুখে পানি সিটকা দিয়ে বের হয়ে আয়, আমিও ভিতরে যাবো?
আরাতের কথায় মিম সত্যি সত্যি পুনরায় পানি সিটকা দিলো, আরাত বুঝতে পারছে মিম ভিতরে চোখের পানি বিসর্জন দিচ্ছে, মিম আয়নায় নিজেকে পরিপাটি করে নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এলো, আরাত মিম কে বের হতে দেখে কয়েক সেকেন্ড মিমের মুখের দিকে চেয়ে থেকে ওয়াশরুমে ঢুকলো, দুমিনিট পড়ে আরাত ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এলে দুই বোন পুনরায় নিজেদের ক্লাসের দিকে যেতে লাগলো, দুজন হাঁটতে হাঁটতে সামনে দেখলো আরশ তাঁদের দিকেই আসছে, আরশ মিম কে ক্লাসে খুঁজে না পেয়ে ক্লাস থেকে বের হতেই দেখলো, আরাত আর মিম কে ক্লাসের দিকে আসতে, আরশ বড় বড় পা ফেলে মিমের সামনে এসে নিজের হাতের ফোনটা মিমের দিকে আগিয়ে দিলো, মুখ গম্ভীর, চোখে বিরক্ত , মিম আরাত আরশ কে দেখে জায়গায় দাঁড়িয়ে গেলো, মিম আরশ কে ফোন নিজের দিকে বাড়িয়ে দিতে দেখে মুখ অন্ধকার করে একপলক আরশ কে দেখে, আরশের পাশ কেটে যেতে নিলো, আরশ মিম কে ফোন না নিয়ে নিজের পাশ কেটে যেতে দেখে বিরক্তমাখা কন্ঠে মিমের হাতে ফোন ধরিয়ে দিয়ে বলল,
___” আমি তোমার অ্যাটিটিউড দেখতে আসিনি, তোমার শাশুড়ী ফোন করেছে কথা বলো!
মিম বিরক্তমুখে একনজর আরশ কে দেখে ফোন কানে তুলে সালাম দিলো,
___” আসসালামু আলাইকুম।
ফোনের ওপাশে ভদ্রমহিলা হাসি মুখে সালামের উত্তর করে বলে উঠলেন,
___” আরশের সঙ্গে আমাদের বাসায় আসো।
মিম শাশুড়ির কথায় একবার আরশের দিকে তাকালো, আরশের চোখমুখ গম্ভীর, তাঁকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে মায়ের কথায় সে বিরক্ত, মিম নাকচ করে বলল,
___” আন্টি আজকে না, অন্য কোনো দিন আসবে প্লিজ?
ফোনের ওপাশে ভদ্রমহিলা মিম কে ছাড়লেন না, হাসি মুখে পুনরায় মিম কে বললেন,
___” না তোমার কেনো কথা শুনবো না, বিয়ের আগে আমাদের বাড়িতে এসে ঘুরে যাও, আর হ্যাঁ তোমার কী কী পছন্দ বা কোন আসবাবপত্র বাতিল করতে হবে তুমি ঠিক করবে, কারণ তুমি তো আমাদের বাড়িতে থাকবে, তো সবকিছু তোমার পছন্দ মতো হবে।
মিম অসহায় মুখে আরাতের দিকে তাকালো, এই কয় দিনে কতটা মিম কে আপন করে নিয়েছে ভদ্রমহিলার কথাটাতেই বুঝা যাচ্ছে, তাঁদের কে কিভাবে কষ্ট দিবে, যখন সত্যি টা জানতে পারবে তখন তারা কিভাবে নিবে, মিমের ভাবনার মধ্যে ভদ্রমহিলা হেঁসে পুনরায় বলল,
___” লজ্জা পেও না হানিফ বাড়িতে নেই, হানিফের বাড়িতে ফিরতে রাত হবে,তোমাকে আরশ পৌঁছে দিবে, আমি বেয়াইন কে বলে দিয়েছি, আর না করো না?
মিম ভদ্র মহিলার আবদার ফেলতে পারলো না, ছোট করে বলল,
___” জ্বি আন্টি আসবো।
মিমের কথায় ভদ্র মহিলাকে খুশি হতে দেখা গেলো, মিম ফোনটা বিরক্ত মুখে আরশের দিকে ধরলো, আরশ আঁড়চোখে মিমের দিকে চেয়ে ফোনটা নিয়ে কানে তুলে বলল,
___” হ্যাঁ আম্মু বলো?
ফোনের ওপাশে থেকে ভেসে এলো,
___” মিম আসতে রাজি হয়েছে, ওকে একদম জ্বালাবি না,ভদ্র ছেলের মতো সাবধানে নিয়ে আসবি।
আরশ বিরক্ত কন্ঠে মিমের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” আমার বয়ে গেছে তোমার ছেলের বউ কে জ্বালাতে, সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি এটাই ওর জন্য লাক।
আরশের কথায় মিম মুখ বাঁকালো, ফোনের ওপাশ থেকে ভদ্র মহিলা আরশ কে বললেন,
___” উদ্ধার করেছেন বাপজান, দ্রুত আমার বৌমাকে নিয়ে আসেন।
মায়ের কথায় আরশ হুম বলে ফোন কেটে দিলো, মিম অন্য দিকে চেয়ে আছে, আরশ সামনে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
___” এসো।
মিম আরশ কে নিজের সঙ্গে যেতে বলতে দেখে বলল,
___” এসো মানে, এখন যাবো, আমার ক্লাস আছে আমি এখন যেতে পারবো না।
আরশ কপাল কুঁচকে পিছনে ফিরে তাকালো, আরাত এতক্ষণে বুঝে গেছে মিম কে আরশ দের বাড়িতে যেতে বলছেন ভদ্র মহিলা, আরশ কপাল কুঁচকে পিছনে ফিরে বিরক্ত মুখে বলল,
___” আপনার জন্য টাইম বসে থাকবে না, অলরেডি দুপুর বারোটা থেকে একটা বাজতে চলছে, আপনাকে আবার বাসায় পৌঁছে দিতে হবে ?
মিম আরশের কথায় মুখ অন্ধকার করে বলল,
___” আমি যাবো না।
মিমের কথায় আরশ তীক্ষ্ণ গলায় বলল,
___” যাবে না তাহলে আম্মু কে হ্যাঁ বললে কেনো?
মিম মুখ ফুলিয়ে আঁড়চোখে আরশ কে দেখে বলল,
___” আন্টি কে হ্যাঁ বলছি, আপনাকে বলছি না, আন্টি যানে আমি যাবো, আপনি জানেন আমি যাবোনা, তো আপনার আম্মু আপনি ম্যানেজ করবেন আমি যাবো না।
মিমের কথায় আরশ রাগী চোখে মিমের দিকে চেয়ে আছে, আরাত মিম কে বলল,
___” যা ঘুরে আয়, আন্টি মন খারাপ করবে।
মিম আরাতের কথায় ছোট বাচ্চার মতো মুখ করে বলে উঠলো,
___” আপু আমি যাবো না?
আরাত কিছু বলতে নিবে, তাঁর আগেই আরশ যেতে যেতে বলল,
___” নাটক শেষ হলে চলে এসো ।
আরশ চলে গেলো, মিম আরশের কথায় ভ্রু অন্ধকার করলো, আরাত মিম কে বুঝাতে বলল,
___” যখন সত্যি টা সবাই জানবে তখন কী হয় হবে, এখন বড়রা কেউ তোদের ব্যাপারটা জানে না,তাঁদের কষ্ট দেস না যা ঘুরে আয়।
___” কিন্তু?
আরাত মিমের হাত ধরে সামনের দিকে যেতে বলে বলল,
___” কেনো কিন্তু না, তোর ব্যাগ আমি নিয়ে যাবো যা তুই ।
মিম আরাত কে দেখলো, আরাত চোখের ইশারায় যেতে বলল, মিম চলে গেলো মাঠের দিকে, আরাত মিমের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বলল,
___” যা ঘুরে আয়, তোর সবকিছু মেনে নিলেও আমাদের থেকে দূর হওয়া টা মানতে পারছি না, আমি শুধু চাই তুই আগের মতো হয়ে যা এতটুকুই।
আরশ বাইকের চাবি হাতে নিয়ে ঘুরাতে ঘুরাতে মাঠের মধ্যে বাইকে বসে মিমের জন্য অপেক্ষা করছে, মিম ধীর পায়ে আরশের কাছে এসে দাঁড়ালো, আরশ মিমের উপস্থিতি বুঝতে পেয়ে বাইক স্টার্ট দিল, মিম গম্ভীর মুখে বাইকে উঠে বসলো, আরশ বাইকের আয়না দিয়ে মিমের দিকে তাকালো,মিম সাদা একটা থ্রি পিস পড়েছে, ওড়না মাথায় দেওয়া, চুলগুলো কাকড়া দিয়ে বাঁধা, মিম আরশ কে মিরর দিয়ে দেখতে দেখে অন্য দিকে মুখ ফিরালো,আরশ বুক থেকে কালো সানগ্লাস টা খুলে নিয়ে চোখে দিলো, মিম আঁড়চোখে বাইকের আয়নার দিয়ে আরশ কে দেখছে, আরশ চোখে চশমা পড়ে বাইক রাইড শুরু করলো, আরশ বাইক রাইড শুরু করে সামান্য বাইক ব্রেক কষলো, আর সঙ্গে সঙ্গে মিম আরশের পিঠের সঙ্গে ধাক্কা খেলো, আরশ বিরক্ত কন্ঠে বলল,
___”ধরার জন্য কী আলেদা ভাবে ইনভিটেশন কার্ড দিতে হবে?
মিম কথা বলল না, ঠিকঠাক হয়ে বসে মনে মনে আরশ কে বকা দিতে দিতে আরশের কাঁধে হাত রাখলো, আরশ পুনরায় বাইক চালাতে শুধু করলো, দুজনের মুখে কথা নেই, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ মিনিট সময় নিয়ে বাইক এসে দাঁড়ালো একটা বড়সড় রাজপ্রাসাদের সামনে, রাজপ্রাসাদ কেনো বলছি, কারণ টা দু’তালা বাড়ি, এতদম টিভিতে যেমন বাড়ি দেখা যায়, যদিও তালুকদার বাড়িটা আরশ দের বাড়ি থেকে বড় এবং সুন্দর, তবে মাএ চারজন সদস্য এতবড় একটা বাড়ি দেখে মিম একটু অবিশ্বাস্য চোখে দেখছে, মিমের গ্রামের বাড়ি তো একতলা, মিম বাইক থেকে নেমে চারপাশ চোখ বোলাচ্ছে, আরশ বাইক থেকে নেমে মিম কে একনজর দেখে বাইকের চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে বাড়ির ভিতরের দিকে যেতে যেতে ছোট করে ব্যঙ্গ করে বলল,
___” ভিতরে চলেন।
মিম আরশের কথায় এদিক ওদিক থেকে চোখ ফিরিয়ে মাথার কাপড় ঠিক করে আরশের পিছনে হাঁটতে লাগলো, আরশ বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে ড্রয়িং রুমের সোফাতে বসে পরলো, মিমের দিকে চেয়ে চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো,
___” আম্মু, আম্মু তোমার আদরের বৌমা চলে এসেছে, আমার জন্য এক গ্লাস পানি নিয়ে এসো?
আরশ চিৎকার দিয়ে ডাকার সঙ্গে সঙ্গে ভদ্র মহিলাকে দেখা গেলো, হাসি মুখে দ্রুত পায়ে ড্রয়িং রুমে আসতে, মিম ভদ্র কে দেখে মুখে মেকি হাসি টেনে সালাম দিলো, ভদ্র মহিলা সালামের উত্তর নিয়ে মিমের মুখ বুলে একটা চুমু খেয়ে বলতে লাগলো,
___” এই তো আমার বৌমা চলে এসেছে, বউমাকে দাঁড়িয়ে রাখছো কেনো, দেখি ওইদিকে যাও তো বৌমাকে বসতে দেও।
আরশ কে ভদ্র মহিলা সরতে বললে আরশ বিরক্ত মুখে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” ওদিকে জায়গার অভাব পড়েছে, তোমার বৌমাকে কষ্ট করে ওদিকে গিয়ে বসতে বলো, আর আমার পানি কই?
ভদ্র মহিলা আরশের কথায় আরশের মাথায় গাট্টা মেরে রাগী গলায় বলল,
___” তোমার ওইখান থেকে উঠতে সমস্যা কী, ওইদিকে গিয়ে বসো।
আরশ মিমের সামনে মায়ের হাতে গাট্টা খেয়ে আঁড়চোখে মিম কে দেখতে দেখতে অন্য পাশে গিয়ে বসলো, মিম মুখ চেপে হাসতেছে, আরশ উঠে অন্য পাশে বসতে ভদ্রমহিলা মিম কে আরশের জায়গায় বসালো, তখনই দেখা গেলো একটা ২২ ২৩ বছরের মেয়েকে পানির গ্লাস আনতে, আরশের সামনে পানির গ্লাস ধরে বলল,
___” নেন ভাইজান আপনার পানি।
___”থ্যাঙ্ক ইউ ।
আরশ মেয়েটার থেকে পানি নিয়ে ঢকঢক করে একি বারে খেয়ে নিলো, আরশের মা ছেলের পানি খাওয়া দেখে রাগী গলায় বললেন,
___” তোমাকে কতবার বলবো এক নিঃশ্বাসে পানি খাবে না, তিন ঢোকে পানি খেতে হয়।
আরশ বসা থেকে উঠে ভদ্র মহিলা কে জরিয়ে ধরে বলল,
___” উফফ আম্মু, এসব আমাকে বলে লাভ নেই তোমার আদরের বড় ছেলেকে বলো, সে তোমার কথামতো উঠবে বসবে, আমি না।
কথাটা বলে আরশ ভদ্রমহিলা কে একটা চুমু খেয়ে নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে বলল,
___” আম্মু আমি ঘুমাবো চারটার আগে আমাকে ডাকবে না।
আরশ বড়বড় পা ফেলে সিড়ি বেয়ে নিয়ের রুমে চলে গেলো, ভদ্র মহিলা ছেলের কান্ডে মিমের সামনে কিছুটা ইতস্ত বোধ করলেন, আর মেয়েটা আরশের যাওয়ার পান থেকে চোখ ফিরিয়ে বললেন,
___” ম্যাডাম বড় ভাইজানের বিয়ের পর ছোট ভাইজানের জন্য মেয়ে দেখে বিয়ে করিয়ে দেন, তাহলে দেখবেন, বউয়ের কথায় উঠবস করবো, আর আপনিও টেনশন মুক্ত থাকতে পারবেন।
মেয়েটার মুখে আরশের বিয়ের কথা শুনে মিম মলিন মুখে মাথা নিচু করে নিলো, এতক্ষণ মিম বুঝতে পেয়েছে মেয়েটা এই বাড়িতে কাজ করে, হয়তো অনেক বছর থেকে এই বাড়িতে কাজ করে হিসাবে এভাবে কথা বলছে, এই ফ্যামিলির একজন হয়ে গেছে, তাঁর কথা বলার ধরন দেখে তাই মনে হচ্ছে, মেয়েটার কথায় আরশের মা ধমক দিয়ে বললেন,
___” তোমাকে কিছু বলতে বলছি, যাও তুমি কিচেনে যাও বৌমার জন্য রান্না বসাও।
মেয়েটা ভদ্র মহিলার ধমকে মুখ বেঁকে চুপচাপ চলে গেলো, আরশের মা এবার মিমের দিকে তাকালেন, মুখে হাসি এনে বললেন,
___” আরশের কথায় কিছু মনে করো না, ও এমনই বাড়ির ছোট ছেলে তো আমাদের সবার খুব আদরের, দেখো না আদরে আদরে বাঁদর হয়ে গেছে। কখন কী করে কী বলে ঠিক নেই ।
মিম ভদ্র মহিলার দিকে চেয়ে আছে, ভদ্র মহিলার মিমের সঙ্গে এমন ভাবে কথা বলছে যেন, কত আপন, ভদ্র মহিলা মিম কে নিজের দিকে চেয়ে থাকতে দেখে হাসি মুখে মিমের মাথায় হাত রেখে আদুরে গলায় বললেন,
___” তুমি আমার মেয়ে, যানো আমার খুব শখ ছিলো আমার একটা ফুটফুটে রাজকন্যা হবে, কিন্তু দেখো কপালে এই পাজি এসেছে, যেইদিন তোমাকে প্রথম দেখতে গিয়েছিলাম, ওইদিন ভেবে রেখেছি তোমাকে আমি আমার বৌমা না নিজের মেয়ে করে নিয়ে যাবো, তুমি কত মিষ্টি একটা মেয়ে, সবসময় সাদামাটা হয়ে থাকো, আজকাল কার তো শহরের আধুনিক মেয়ে রা শার্ট প্যান্ট পড়ে ঘুরে, তাঁদের দেখলে তো মনটা চায় থাপ্পড়…
ভদ্র মহিলার শেষের কথায় মিম কপাল কুঁচকে ভদ্র মহিলাকে দেখছে, ভদ্র মহিলা নিজের হুঁশে ফিরে এলো, কথায় কথায় কী বলতে নিয়েছিল বুঝতে পেয়ে কথা ঘুরিয়ে মিমের মুখে হাত রাখলো, মিমের মুখে হাত রাখতেই ভদ্র মহিলার কিছুটা চকমকে গেলেন, কারণ মিমের জ্বর টা বেড়ে গেছে , ভদ্র মহিলা মিমের মুখে চোখ বুলালেন, মিমের চোখ মুখ ফুলা ফুলা ফ্যাকাসে হয়ে আছে, বুঝলেন গতকাল হাতে কাঁচের টুকরো বিঁধে যাওয়ার কারণে জ্বর এসেছে, ভদ্র মহিলা মিম কে আহ্লাদি স্বরে বললেন,
___” তোমার তো জ্বর উঠে গেছে, চলো কিছু খেয়ে মেডিসিন নিয়ে আমার রুমে রেস্ট নিবে।
মিম মলিন হেঁসে বললো,
___” আন্টি আমি বেশিক্ষণ থাকবো না, আপনার সঙ্গে শুধু দেখা করতে এসেছিলাম, দেখা হয়ে গেলো আমি এখন বাড়ি ফিরবো।
ভদ্র মহিলা মিম কে বাঁধা দিয়ে বললেন,
___” না তোমাকে এত তাড়াতাড়ি ছাড়ছি না, আগে খাবার খাবে তারপর একটু রেস্ট নিবে, পুরো বাড়ি ঘুরে দেখবে, আর হ্যাঁ আমার ছেলের রুমটা দেখে বলবে, কোন কোন আসবাবপত্র রাখা যাবে, কোনটা রাখা যাবে না, বিয়ের পর তুমি একদম তোমার মন মতো গুছিয়ে নিবে।
ভদ্র মহিলা হাসি মুখে কথাগুলো বললেন আর মিম মলিন হেঁসে শুধু শুনেই গেলো, বেশ কিছুক্ষণ গল্প করে ভদ্র মহিলা কিচেনের দিকে তাকিয়ে মেয়েটার উদ্দেশ্য চেচিয়ে বললেন,
___” রান্না কতদূর তোমার ?
মেয়েটা রান্না ঘর থেকে বললেন,
___” ম্যাডাম আর দশবারো মিনিট লাগবে।
ভদ্র মহিলা কথাটা শুনে আগের ন্যায় চেচিয়ে বললেন,
___” আচ্ছা ঠিক আছে, একটু জলদি শেষ করো, আর বৌমার জন্য এক গ্লাস জুস দিয়ে যাও।
___” আচ্ছা ম্যাডাম।
জুসের কথা শুনতে মিম নাক-মুখ সিটকে বলল,
___” আন্টি না এখন কিছু খাবো না।
ভদ্র মহিলা মিমের নাক ছিটকানো দেখে বুঝলেন, মিম জ্বরের জন্য খেতে চাইছে না,আজকে হুট করে মিম কে উনার ডাকা, মনে হলো আরশ আর মিম তো এক কলেজে পড়ে, মনে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরশের কাছে ফোন করে মিম কে নিজেদের বাড়িতে আনতে বললেন, কিছুটা সময় কাটানোর জন্য, মিমের সঙ্গে তো সেভাবে কথা হইনি তাই ভাবলেন আরশের দ্বারায় মিম কে আনতে, কাজের মেয়েটা জুস দিয়ে গেলো, কিন্তু জুস টি-টেবিলে পড়ে থাকলো, ভদ্র মহিলা মিম কে বললেন,
___”চলো তোমাকে আমাদের বাড়িটা ঘুড়িয়ে দেখায়।
ভদ্র মহিলা উঠে পরলো,মিম ভদ্র মহিলার সঙ্গে উঠলো, নিজের রুমের দিকে মিম কে নিয়ে যেতে যেতে কাজের মেয়ে কে পুনরায় বলল,
___” তুমি ডাইনিং টেবিল খাবার রেডি করো।
কথা টা বলে ভদ্র মহিলা একে একে নিজেদের রুম ছাঁদ হানিফের রুম দেখালেন, হানিফের রুমে এসে এটাওটা জিজ্ঞেস করলেন, কোনো আসবাবপত্র বাতিল করা লাগবে নাকি, মিম শুধু মাথা নেড়ে না বুঝালো,এক অচেনা বাড়িতে প্রথম বার এসে এটা ওটা চেঞ্জ করতে বলা যায় নাকি, কিন্তু ভদ্র মহিলা নির্দ্বিধায় মিম কে বলছে, তোমার পছন্দ মতো সবকিছু থাকবে, মিমের শুধু একটা কথায় মাথায় আরসে, কতটা আপন মনে করলে এভাবে বিয়ের আগেই বলে, তাঁরা যখন জানতে পারবে যে মেয়েকে এতটা ভালোবাসে সেই মেয়ে তাঁদের কে ঠকাচ্ছে, তখন কী এমন ভালো বাসবে, মিম কে চুপচাপ থাকতে দেখে ভদ্র মহিলা বললেন,
___” তুমি তো কিছু বলছো না, আচ্ছা চলো আরশের রুম ঘুরিয়ে দেখায়।
মিম আরশের রুমের কথা শুনে দ্রুত বলে উঠলো,
___” আন্টি উনি তো ঘুমিয়েছে, থাকনা উনার ঘুমের ডিস্টার্ব হবে।
ভদ্র মহিলা মিমের হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে যেতে বলল,
___” আরে চলো তো, পাঁজি টা না ঘুমায়, বাড়িতে নতুন সদস্য এসেছে, তাঁকে সময় না দিয়ে ঘুমাচ্ছে।
মিম কিছু বলল না, ধুকপুক বুক নিয়ে ভদ্র মহিলার পিছনে পিছনে যাচ্ছে, আরশের রুমের সামনে এসে ভদ্র মহিলা দরজা খুলতে যাবে তখনই নিচে থেকে মেয়েটার ডাক শোনা গেলো,
___” ম্যাডাম স্যার এসেছে।
ভদ্র মহিলা মেয়েটার কথায় মিম কে বলল,
___” তোমার আঙ্কেল এসেছে আমি নিচে যাই, তুমি একটা কাজ করো রুমে ঢুকে আরশ কে ডেকে নিচে নেমে এসো, আমরা একসঙ্গে লাঞ্চ করবো।
ভদ্র মহিলা কথাটা বলে দাঁড়ালেন না নিচে নেমে গেলো, মিম কয়েক সেকেন্ড দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকলো, রুমে ঢুকবে নাকি ঢুকবে না ভাবতে ভাবতে বড় করে নিঃশ্বাস নিয়ে ধীর পায়ে রুমে ঢুকে গেলো, রুমে ঢুকতেই প্রথমে চমকে গেলো, এক দেয়াল জুড়ে পুরোটা আয়না, মিম বুকে হাত দিয়ে ঢোক গিলল, মিম মনে মনে বিরক্ত হয়ে বকা দিলো ( এ কেমন বান্দা আপনার আল্লাহ,কোন আবাল পুরো রুম জুড়ে দেয়ালে আয়না লাগিয়ে রাখে,আয়না টা দেখে মনে হচ্ছে দুইদিন আগে ডেকোরেশন করা, রুমের বাকি আসবাবপত্র নতুন লাগছে মিমের কাছে, মিম আসবাবপত্র থেকে চোখ ফিরিয়ে বিছানার দিকে তাকালো, আরশ বিছানার উপর উপুড় হয়ে ঘুমাচ্ছে,
বিছানার পাশে বেডসাইড, দেয়ালের একপাশে আলমারি, আরশ কে ঘুমাতে দেখে মিম চুপিচুপি পায়ে আরশের সামনে এসে দাঁড়ালো, কিছু পলক আরশের দিকে তাকিয়ে রইলো, ঘুমালে কতটা নিষ্পাপ লাগে, কে বলবে এই ছেলে এতটা নিকৃষ্ট এতটা জঘন্য, মিমের বেডসাইডের দিকে চোখ যেতেই মনে সয়তানি খেলে গেলো, বেডসাইডের উপর থেকে ভরা পানির জগ হাতে তুলে নিয়ে বাঁকা হাসলো,
___” আমার কেনো দোষ নেই, শাশুড়ী আম্মু আমাকে বললো আপনার ঘুম ভাঙ্গাতে, আই এম সরি আমার অপ্রকাশিত স্বামী।
কথাগুলো বিরবির করতে করতে মিম বাঁকা হেঁসে জগ ভরা পানি আরশের শরীরের উপর ঢেলে দিলো, আরশ ঘুমের মধ্যে এক লাফে বিছানার উপর উঠে বসলো, কিছুটা পানি কানের মধ্যে ঢুকে গেছে, মিম পানির জগ হাতে নিয়ে অবুঝের ন্যায় আরশের দিকে চেয়ে আছে, আরশ বিছানার বসে কান ঝাঁকি দিতে দিতে সামনে তাকালো, মিম কে জগ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রাগ টা মাথা চাড়া দিয়ে উপর, রাগী গলায় মিমের উপর চিল্লিয়ে উঠলো,
___” হাউ ডেয়ার ইউ, তোমরা সাহস তো কম উফফ এই মেয়ে এই, তুমি কী পাগল…?
আরশের দাঁতে দাঁত চেপে রাগী গলায় বলা কথার বিপরীত জবাবে মিম দাঁত কেলিয়ে হেঁসে বলল,
___” না।
আরশ কান ঝাঁকিয়ে কান থেকে পানি বের করতে করতে রাগী গলায় বলল,
___” তাহলে পাগলের মতো আমার শরীরে পানি ঢেলেছো কেনো?
মিম আরশের কথায় পানির জগ পুনরায় জায়গায় রাখতে রাখতে বলল,
___” শাশুড়ী আম্মু আমাকে দায়িত্ব দিলো, আপনার ঘুম ভাঙ্গানোর, বাট আপনার যে ঘুম, এর থেকে ভালো অপশন মাথায় এলো না।
আরশ বিরক্ত মুখে পুরো বিছানা দেখাতে দেখাতে রাগী গলায় বলল,
___” এটা কেনো ঘুম ভাঙ্গানোর সিস্টেম হইলো ইডিয়েট ?
মিম বাঁকা হেঁসে বলল,
___” কেনো আপনার পছন্দ হয়নাই, আমি তো ভালোবাসে শরীরের উপর পানি ঢেলে আপনাকে উঠালাম।
মিমের কথায় আরশ দুহাত এক করে মাফ চাওয়ার মতো করে বলতে লাগলো,
___” আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, আমাকে ভালোবেসে উঠানোর জন্য,দ্বিতীয়বার আপনার ভালোবাসা দেখাতে হবে না, আমার এতো ভালোবাসা সহ্য হয় না।
___” ওকে।
মিম ঠোঁট উল্টে ওকে বলতেই আরশ বিছানা থেকে নেমে বিরক্ত মুখে মিম কে দেখে ওয়াশরুমে চলে গেলো, মিম আরশ কে জব্দ করতে পেয়ে এবার শব্দ করে হেঁসে উঠলো, আরশ মিমের হাসির মধ্যে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে মিমের দিকে রাগী চোখে দেখতে দেখতে আলমারির কাছে এসে, আলমারি থেকে টাউজার আর হুডি বের করে নিয়ে হনহন পায়ে পুনরায় ওয়াশরুমে ঢুকে শব্দ করে দরজা লাগিয়ে দিলো,মিম এতক্ষণ চুপচাপ আরশ কে দেখছিলো, আরশ ওয়াশরুমে যাওয়ার পরপর মিম বিছানার কাছে এসে দাঁড়ালো, বিছানার কিছু কিছু অংশ ভিজে গেছে, মিম পুরো রুম দেখতে লাগলো, সবকিছু বিরক্ত লাগছে বিশেষ করে দেয়াল জুড়ে আয়না টা, আরশ ভিজে কাপড় চেঞ্জ করে ওয়াশরুম থেকে বের হতেই দেখলো মিম এখনো তাঁর রুমে, আরশের কিছুক্ষণ আগেকার কথা মনে পড়তেই রাগটা পুনরায় উঠে গেলো, একে মিম নিজের বাড়িতে, এটা ভেবে চোখে ঘুম ধরা দিচ্ছিল না,খুব কষ্ট করে সময় নিয়ে চোখে ঘুম ধরা দেওয়ার কয়েক মিনিট পড়ে মিমের এমন কান্ডে কাঁচা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে, আরশ দ্রুত পায়ে মিমের সামনে এসে মিমের কব্জি ধরে নিজের দিকে ঘুরালো, হাতের কব্জিতে হাত রাখতেই বুঝতে পারলো মিমের শরীরে জ্বর , আরশ মিমের হাত ছেড়ে দিয়ে কপালে হাত রাখলো, মিম আরশের কান্ড অবাক হয়ে দেখছে শুধু, আরশ পুনরায় মিমের হাত দেখতে লাগলো, হাতের ক্ষত জায়গাটা টান ধরেছে, আরশ হটাৎ রাগী গলায় বলল,
___” মেডিসিন নেও নি কেনো?
মিম আরশের এরূপ দেখে চুপচাপ রুম থেকে বের হয়ে আসতে চাইলো, আরশ মিম কে বের হতে দেখে পুনরায় হাতের কব্জি টেনে মিম কে নিজের বুকে ফেললো, মিম এবার আরশের থেকে সিটকে সড়ে দাঁড়াতে চাইলো, মিম কে মোচড়ামুচড়ি করতে দেখে আরশ রাগে মিম কে পুনরায় দূরে সরিয়ে রাগী গলায় বলতে লাগলো,
___” প্রবলেম কি তোর এত কাছাকাছি আসছিস কেনো, তোর এই রুপে ভুলাতে চাইছিস, দূরে থাকবি আমার থেকে।
মিম যেন আশ্চর্য লেগে গেলো আরশের কথায়, মিম কখন আরশের কাছে এলো, আরশ তো নিজে থেকে মিম কে এই বাড়িতে নিয়ে এলো,মিম তো আসতে চাইছিলো না আরশের মা তো এই রুমে পাঠিয়ে দিলো, মিম আর কিছু ভাবতে পারলো না, চোখ থেকে পানি পড়ছে, এতটা নোংরা মন-মানসিকতা কেনো এই মানুষ টার, আরশ মিম কে কান্না করতে দেখে রাগী গলায় পুনরায় বলল,
___” একদম চোখের সামনে পান পান করবি না, রুম থেকে বিদায় হ।
মিম অপমানিত হয়ে কান্না করতে করতে তেতে উঠলো,
___” সৌন্দর্য বরায় করেন, একবার নিজের ছায়া টার দিকে তাকিয়ে দেখেন।
আরশ আগের ন্যায় রাগী গলায় বলল,
___” হ্যাঁ দেখেছি, তোকে জ্ঞান দিতে হবে না, তুই আমার রুমে কোন উদ্দেশ্যে এসেছিস বলতো?
মিম দু’হাতে চোখের পানি মুছে আরশের মতো রাগ দেখিয়ে বলল,
___” আমি তো আপনার জেদ ছিলাম, আপনার জেদ পূরণ হয়েছে শান্তি পেয়েছেন, এখন আমাকে মুক্ত করেন।
আরশ মিমের কথায় বাঁকা হেঁসে মিমের মুখের উপর ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,
___” জেদ হলে তো ছেড়ে দিতাম, তুমি তো আমার নিঃশ্বাস, নিঃশ্বাস কে ছেড়ে দেয় জান ?
আরশের এরূপ কথায় মিমের রাগ বেড়ে গেলো, বাহিরে তাঁর মা কত স্বপ্ন দেখছে, আর ভিতরে তাঁর ছোট ছেলে কতটা ঘেন্নাক্ত কাজ করছে, কথায় আছে না ব্যবহারে অর্ধেক সৌন্দর্য আর অর্ধেক সৌন্দর্য চালচলনে, কিন্তু মিমের চোখে আরশের দুটোর একটাও চোখে পরছে না, শুধু ঘেন্না ছাড়া, মিম রুম থেকে বের হয়ে দরজার কাছে এসে দাঁড়ালো, আরশ পিছনে দাড়িয়ে আয়নার মধ্যে মিমের যাওয়া দেখছে, মিম পিছনে ফিরে, না ক্ষোভ, না রাগ, না অভিমান, কান্নারত কন্ঠে পিছনে ফিরে আরশ কে ডেকে উঠলো,
___” আচ্ছা শুনেন?
মিমের এক ডাকে আরশ থমকে গেলো, ডাকটার মধ্যে কী ছিলো জানা নেই আরশের, শুধু সঙ্গে সঙ্গে পিছনে ফিরে মিমের দিকে চাইলো, মিম চোখে পানি নিয়ে মলিন হেঁসে বলল,
___” আমি যদি না থাকি আপনি কষ্ট পাবেন?
আরশ ভ্রু কুঁচকে বলল,
___”মানে?
আরশ কে ভ্রু কুঁচকাতে দেখে মিম মলিন মুখে বলল,
___” আচ্ছা আপনার কী মনে হয় আমাকে সবার সামনে কলঙ্ক করে জিতে গেছেন, হুম আমাকে হারানো সহজ, কিন্তু হারানোর পরে আবার ফিরে পাওয়া অসম্ভব।
মিম মলিন হেঁসে চলে গেলো, আরশ বুঝলো না মিমের কথায় মানে, মিমের যাওয়ার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকলো, পুনরায় বিছানায় দিকে চেয়ে বিরবির করলো,
___” ইডিয়েট একটা৷
কলেজ ছুটির হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ হচ্ছে, রশ্মিরাত ধীর পায়ে মাঠ দিয়ে হেঁটে চলছে, তাঁদের হাঁটার মধ্যে রশ্মি দেখতে পেলো, মিরা মাঠের মধ্যে কারো জন্য অপেক্ষা করছে, রশ্মি জায়গায় দাঁড়ালো ভেবে ছে মাহিরের জন্য মিরা অপেক্ষা করছে, রশ্মি আজকে স্তির করলো, যেভাবেই হোক মাহিরের সঙ্গে কথা বলবে, রশ্মি কে দাঁড়াতে দেখে আরাত পিছনে ফিরে তাকালো,
___” কী রে কী হলো তোর আবার?
বলতে বলতে রশ্মির চোখ অনুসরণ করে পিছনে ঘুরে মিরার দিকে তাকালো, মিরা কারো জন্য অপেক্ষা করছে, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দেখা গেলো রাফি কে বাইক নিয়ে আসতে, মিরা রাফি কে বাইক নিয়ে আসতে দেখে চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়ালো, রাফি মিরা কে পাশ কেটে যেতে নিয়ে বাইক দাঁড় করালো, গম্ভীর মুখে ছোট করে বলল,
___” উঠো।
রাফি কে বাইক দাঁড় করাতে দেখে মিরার মুখে হাসি ফুটে উঠলো, মিরা তো ভেবেছিলো রাফি চলে যাবে, কিন্তু আজকে রাফি কে ডাকা লাগলো না, রাফি নিজে থেকে বাইকে উঠতে বলছে, মিরা বাইকে উঠতে না দেখে রাফি পুনরায় বলল,
___” থাকো উঠতে হবে না।
রাফি বাইক স্টার্ট করতেই মিরা দ্রুত বাইকে উঠে পরলো, রাফি কিছু বলল না বাইক নিয়ে টান দিলো, রাফি মিরা কে অপেক্ষা করতে দেখেই বুঝতে পারছে রাফির জন্য মিরা দাঁড়িয়েছিল, রাফি বাইক টান দিতেই সন্ধ্যা দৌড়ে আরাতের কাছে এসে দাঁড়ালো, রশ্মিরাত দু’জনেই অবাক হয়ে রাফি আর মিরা কে দেখলো এতক্ষণ, সন্ধ্যা আরাতের কাছে এসে বলল,
____” দুজন কে দেখে তোর সন্দেহ লাগছে না?
আরাত সন্ধ্যার মতো ছোট করে বলল,
___” হুম, কিছু একটা চলছে।
আরাতের কথায় পুনরায় সন্ধ্যা বলে উঠলো,
___” মিরা কে আগামীকাল ধরবো, ওর পেটের কথা না শুনা অবধি আমার ভাত হজম হবে না রে..?
সন্ধ্যার কথায় আরাত কিছুটা রাগী গলায় বলল,
___” ফাউল মেয়ে একটা তুই, কে কী করছে কার মনে কী চলছে, তোকে শুনতে হবে কেনো?
আরাতের কথায় মিম দাঁত কেলিয়ে হেঁসে বলল,
___” এটাই তো মজা, কে কী করছে, কার মনে কী চলছে,অন্যের গোপন কথাগুলো শুনতে যে মজা হায়।
কথাগুলো বলতে বলতে সন্ধ্যা আরাতের শরীরের উপর হেলিয়ে পারতে নিলো, সঙ্গে সঙ্গে আরাত বিরক্ত মুখে দৌড়ে দূরে সরে দাঁড়ালো, আর রশ্মি দ্রুত সন্ধ্যা কে ধরে নিলো, আরাত সেদিকে পাওা না দিয়ে বলল,
___” যেটাই হোক না কেনো, দু’জন কে মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর মানাবে।
রশ্মি তাঁদের দুজনেন মধ্যে নীরব ব্যক্তি হয়ে শুনতে লাগলো, কিছুটা হাতাশা হয়ে গেলো মাহিরের জন্য, মনে মনে স্থির করে নিলো, আর কোনো ভাবনা নেই আগামীকাল মাহিরের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে, দরকার পরলে ক্লাস করবে না তবুও মাহিরের সঙ্গে কথা বললে । জানতে চাইবো কেনো তাঁর প্রতি মন পুড়ে, আচ্ছা মাহিরের কী রশ্মির জন্য মন পুড়ে না, কিছুদিন আগে তো রশ্মির আগেপিছে ঘুরতো, রশ্মি কে নিজের করে পাওয়ার জন্য কত বাহানা করতো, আর এখন সেই মাহির কে রশ্মির ধারের কাছে দেখা যায় না,রশ্মি এটাই মেনে নিতে পারে না, মাহির কে কেনো তাঁর আশেপাশে দেখা যায় না, কেনো মাহির আগের মতো পাগলামি করে না, মাহির রশ্মি কে পাওয়ার জন্য পাগলামি করবো, আর রশ্মি মাহির কে ভ্যাও দিবে না, কিন্তু না মাহির তাঁর উল্টোটা করছে, উল্টো রশ্মি কে ইগনোর করছে, রশ্মি মাহিরের চেঞ্জ হওয়া মানতে পারছে না। রশ্মি বিরক্ত কন্ঠে ফিসফিস করলো,
___” আমি নিজের উপর বিরক্ত, কেনো বারবার ওর কথা মনে পড়ে কেনো, কেনো ওর জন্য খারাপ লাগে।
আরশ মিম আরশের বাবা-মা চারজন মিলে ডাইনিং টেবিলে খেতে বসেছে, আরশ গম্ভীর মুখে খেতে খেতে মিম কে দেখছিলাম, মিম সেই যে ভাতের দিকে তাকাছে না তাকাছে আর চোখ উপরে তুলে নি, আরশের বাবা-মা মিম কে টুকিটাকি এটাওটা বলে হাসতেছে, মিম টুকিটাকি খাচ্ছে আর গল্প শুনছে, জ্বরের মুখ খেতে ভালো লাগছে না তবুও কিছু বলতে পারছে না, তাঁদের খাওয়ার মাঝেখানে দরজার কলিং বেল বেজে উঠলো, কাজের মেয়েটা এসে দরজা খুলতেই দেখলো হানিফ ক্লান্ত মুখে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, মেয়েটা দুষ্টু হেঁসে হানিফ কে ফিসফিস করে বলল,
___” ভাইজান, মিম ভাবি এসেছে?
হানিফ কপাল কুঁচকালো, ছোট করে গম্ভীর গলায় বলল,
___” ভাবি এসেছে মানে, মিম এসেছে?
মেয়োটা সায় জানিয়ে বলল,
___” হ্যাঁ।
তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৫২
হানিফ ব্যস্ত পায়ে ভিতরে প্রবেশ করে ডাইনিং টেবিলের কাছে এসে দাঁড়ালো, হ্যাঁ মিম বসা, হানিফ ঠিক ধরেছে, হানিফ কে দেখে মিম সালাম দিলো, হানিফ সালামের উত্তর করলো, আরশ এতে রেগে গেলো, মিম তো এতক্ষণ চুপচাপ মাথা নিচু করে রাখছিলো, কই তখন তো একবারও মিম আরশের দিকে তাকানি, আর হানিফ আসার সঙ্গে সঙ্গে মিম মাথা তুলে উপরে চাইলো, হানিফ মিমের সঙ্গে কথা বলে ফ্রেশ হাতে রুমে চলে গেলো।
