তুমি আছো মনের গহীনে পর্ব ১৩

1244

গল্পের পরের পর্ব পোস্ট করার সাথে সাথে পরতে চাইলে notification অন করে রাখুন ok বাটনে ক্লিক করে

তুমি আছো মনের গহীনে পর্ব ১৩
Jannatul ferdosi rimi

নিজের প্রাক্তন অভ্রকে এইভাবে পথ আটকে দাঁড়াতে দেখে,মেহেভীন স্হীর হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। অভ্র এতোদিন পরে মেহেভীনকে দেখে তার ঠোটের কোনে আলতো হাসি ফুটে উঠে। কত খুঁজেছে মেহেভীনকে,অবশেষে আজকে মেহেভীনের দেখা পেয়েই গেলো। অভ্র মেহেভীনের এক বান্ধুবীর থেকে জানতে পেরেছে,মেহেভীন নাকি আজকের টেস্ট এর জন্যে ভার্সিটি আসবে,তাই দেরী না করে অভ্র সোজা অফিস থেকে ছুটে এসেছে মেহেভীনের সাথে দেখা করার জন্যে। মেহেভীন একপ্রকার না দেখার ভান করে, ভার্সিটির দিকে পা বাড়াতে নিলে,অভ্র পুনরায় মেহেভীনের পথ আটকে দাড়ায়।

মেহেভীনের এতোদিন পরে, অভ্রকে দেখে স্হীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেও কেমন যেন শক্তিটুকু পাচ্ছে না মেহেভীন। শরীরটু্কু দূর্বল লাগছে। অভ্রের এইরকম হুটহাট দেখা পাওয়াটা, মেহেভীনকে প্রতিনিয়ত দূর্বল করে তুলে। তাই হয়তো অভ্র তার কষ্টটা বাড়িয়ে দেওয়ার প্রচেস্টায় এইভাবে দেখা দিচ্ছে। মেহেভীন শক্ত গলায় বললো,
‘আমার পথ আটকে আছো কেন অভ্র? আমার পথ ছাড়ো বলছি। ‘
অভ্র মেহেভীনের হাত টা ধরে বললো,
‘দেখ মেহু তুই এইভাবে রাগ করিস না। আমাকে শুধু কিছুক্ষন সময় দে। আমি তোকে কিছু কথা বলতে চাই। সেই কথাগুলো না বললে, আমার ঠিক শান্তি হবে না। ‘
মেহেভীন হাত কাঁপছে যাকে বলে প্রচন্ড রাগে। অভ্রের ছোঁয়া তার কাছে এখন নোংরামি ছাড়া আর কিছুই লাগছে না। আগে অভ্রের ছোঁয়ায় তার শরীরের রন্ধে ভালোলাগার স্রোত বয়ে যেতো, কিন্তু আজ তাতে একরাশ ঘৃণা ধরা দিচ্ছে। মেহেভীন তার হাত দ্রুত ছাড়িয়ে নিয়ে, অভ্রকে কটাক্ষ করে বলে,
‘মিঃ অভ্র আহমেদ আপনি কোন সাহসে আমাকে স্পর্শ করেন? আপনার সাহসের যথেষ্ট তারিফ করতে হবে আমাকে। ‘

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

‘ দেখ মেহু…..
‘কলড মি মেহেভীন হুসাইন নট মেহু৷ মেহু বলার অধিকার আপনার হারিয়েছেন অনেক আগেই।’
ক্ষিপ্ত গলায় বললো মেহেভীন।
অভ্র নন্ম গলায় বললো,
‘আমি সত্যি খুব চিন্তায় ছিলাম রে মেহেভীন। এই ঢাকা শহরে তুই একা -একা কোথায় আছিস বড্ড চিন্তা হচ্ছিলো আমার। তুই যখন এখানে আসছিস শুনলাম,তখন না এসে পারলাম না। আমার তোকে কিছু বলার আছে,সেই গুলো বলেই চলে যাবো। তুই শুন প্লিয…’

মেহেভীন ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঁঙ্গে যাচ্ছে। মনে পড়ে যাচ্ছে অভ্র এবং মায়রার সব ঘনিষ্ট মুহুর্ত যার সাক্ষ্যি ছিলো মেহেভীন নিজেই। মেহেভীনের মনে পড়ে যাচ্ছে বিয়ের দিনে করা অভ্রের প্রতিটা অপমান। অভ্রের এইসব কেয়ারিংগুলো মেহেভীনের কাছে অতিরিক্ত আদিক্ষেতা ছাডা আর কিছুই মনে হচ্ছে না। অভ্র মেহেভীনের দিকে এগোতে নিলে, মেহেভীন জোড়ে চিৎকার করে বলে,
‘একদম আমার দিকে এগোবেন না। যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন। আপনার লজ্জা করে না ঘরে বউ রেখে, আমাকে এইভাবে রাস্তাঘাটে ডিস্টার্ব করছেন।’
মেহেভীনের চিৎকারে ততক্ষনে লোকেরাও জোড়ো হয়ে যায়। একজন লোক মেহেভীনের দিকে প্রশ্ন নিক্ষপে করে বলে,

‘কি হয়েছে আপু? ‘
মেহেভীন অভ্রের দিকে ক্রোধ নিয়ে, তাকিয়ে বলে,
‘দেখুন না ঘরে বউ থাকতেও, আমাকে রাস্তাঘাটে ডিস্টার্ব করে যাচ্ছে। ‘
এইবার লোকেরা অভ্রের দিকে এগিয়ে বলে,
‘কি সমস্যা ভাই? রাস্তাঘাটে মেয়ে পেয়ে বিরক্ত করতে ইচ্ছে করে নাকি শুধু? ‘
‘এরা তো এমনই! বউ রেখে বাইরে নষ্টামি করে। ‘
অভ্র তাদের দিকে তাকিয়ে বলে,
‘দেখুন আপনারা কোথাও ভূল ভাবছেন। ‘
‘আমরা কোন ভূল বুঝছি না। ‘
অভ্র ও রাস্তার লোকেদের মধ্যে তর্কাতর্কি হচ্ছে,এই সুযোগে মেহেভীন একটা অটো ধরে, চলে যায়। আজকেও সে ভার্সিটি যাবে না। অভ্র আশাহত হয়। সে পারলো না তার কথাটুকু বলতে। অভ্র রাস্তার লোকদের কোনরকম বুঝিয়ে, ঝামালা থেকে বেড়িয়ে আসে,তখনি তার চোখ যায় ‘মায়রা ‘নামক রমনীর দিকে। মায়রা এতোক্ষন নিষ্পলকভাবে সবকিছুই দেখে যাচ্ছে। অভ্র ক্ষীন সুরে বলে,
‘মায়রা।’
মায়রা আর কিছু না বরং, দ্রুত পায়ে উল্টো পথে হাটা ধরে। ‘মায়রা জান দাঁড়াও বলছি। ‘কথাটি বলে অভ্রও মায়রার পিছন পিছন যেতে থাকে।

অফিসে আরহাম তার কলমটাকে পেঁচিয়ে ঘুড়াচ্ছে বারবার। তার মাথা দিয়ে আগুন বের হচ্ছে। স্টুপিড় মেয়েটা এই অবস্হায় কীভাবে একা বের হয়ে গেলো? যদি কোন ক্ষতি হয়, তখন? মেয়েটা আজকাল বড্ড বেশি ঘাড়ত্যাড়া প্রকৃতির হয়ে গিয়েছে। যদিও আজকে আরহামের ছুটি ছিলো, তবুও সে অফিসের একটা কাজে চলে এসেছে অফিসে।আরহাম ফোনটা বের করে, মেহেভীনের নাম্বারে ফোন করে, কিন্তু মেহেভীন ফোন ধরছে। আরহাম টেবিলে শক্ত করে বাড়ি দিয়ে বলে,
‘হাও স্টুপিড সি ইজ! আমার ফোনটাও ধরার টাইম পাচ্ছি না।কি এ এমন কাজ করছে সেই মহারানী?’

তাহসান আরহামের কার্যকলাপ লক্ষ্য করছিলো, আরহামকে এইভাবে রেগে যেতে দেখে, তাহসান বললো,
‘তুই কি তোর বউয়ের কথা বলছিস? ‘
‘বউ? ‘
‘না মানে,নকল হলেও বউ তো। বুঝি রে বাপ। সবকিছুই বুঝি। বউ ফোন ধরছে না এক্টু-আকটু চিন্তা তো হবেই। বউ কাছে না থাকলে তো সবারই খারাপ লাগে। আমি সিংগাল মানুষ, সেখানে আমারই খারাপ লাগে। তোর তো লাগবেই। ‘
আরহাম চোখ গরম
‘তুই থামবি তাহসান? ‘

আরহামের কথার মাঝেই, রুশা নক করে কেবিনে প্রবেশ করে। রুশা আরহামের বেশ জুনিয়র। বেশ মধ্যবিত্ত ঘরের ভদ্র স্বভাবের মেয়ে। কথা খুব একটা বলে না সবার সাথে। যদিও তার পেটের সব কথা সে আরহামের জন্যে রেডি করে রাখে। আরহামের সাথে দেখা হলেই,কথার ফুলঝুড়ি নিয়ে বসে থাকে। আরহামকে খুব আগে থেকেই পছন্দ করে রুশা, যদিও আরহামকে বলার সাহস তার নেই।
রুশা দেখে আরহাম গম্ভীরর্জতা মুখে এনে, বললো,
‘কিছু বলবেন মিস রুশা? ‘
‘না মানে….স্যার। আজকে সন্ধ্যায় আমার বাড়ির পাশে একটি রেস্টুরেন্টে ছোট খাটো একটা পার্টির আয়োজন করেছি। যদি আপনারা সবাই আসতেন তাহলে আমার ভালো লাগতো। ‘
‘হঠাৎ কি খুশিতে রুশা? ‘

তাহসানের প্রশ্নে রুশা মাথা নিচু করে বলে,
”আজকে আমার জন্মদিন। অফিসের সবাই আসবে। আপনারা আসলেও খুব ভালো লাগতো।’
তাহসান ও মিষ্টি হেসে বললো,
”শুভ জন্মদিন রুশা। আমি নিশ্চই আসবো। ‘
অতঃপর তাহসান আরহামকে খুঁচা মেরে বলে,
‘কিরে তুই কিছু বল?’
আরহামের মন মেজাজ বিগড়ে আছে। মেহেভীন নামক স্টুপিড মেয়েটা তার ফোন ধরছে না।
আরহাম গম্ভীর মুখেই বললো,
‘হ্যাপি বার্থডে মিস। আমি চেস্টা করবো। এক্সকিউজ মি!’
আরহাম ফোনটা কানে নিয়েই তার কেবিনে থেকে বেড়িয়ে গেলো। আরহাম এইভাবে গম্ভীরভাবে কথা বলায়,মন ক্ষুন্ন হলো রুশার। সবসময় এতো গম্ভীর থাকে কেন লোকটা? কিন্তু এইটা ভেবেই রুশা খুশি যে, আরহাম চেস্টা করেবে এইটুকু বলেছে। আরহাম বলেছে, যখন ঠিকই আসবে আজকে সন্ধ্যায়।

খালি পায়ে হেটে যাচ্ছে এক রমনী। বিশাল আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে পলকহীনভাবে। আচ্ছা এই আকাশটাতে অনেক বিশাল। এই বিশালতার মাঝে, আকাশ কি তার কষ্টগুলোকে নিয়ে নিবে ? যদিও নিয়ে নিতো বড্ড বেশি ভালো হতো। আকাশে কালো মেঘ জমেছে। হয়তো বৃষ্টি হবে। সেই বৃষ্টিতে মেহেভীনের চোখের জল বৃষ্টির সাথে নির্বিশেষে একাকার হয়ে যাবে। মেহেভীন হাটু গেড়ে বসে থাকে। সে এখন মাঠের এক কোনে বসে আছে।পাশেই ছোট্ট একটা পুকুর। বিশাল এই জায়গায় আপাতত কেউ নেই। অতঃপর মষুল ধারে বৃষ্টিপাত শুরু হলো। মেহেভীন বৃষ্টিতে, তার হাতদুটো মেলে,চিৎকার করে কান্না করে দিলো। যেই কান্না এতোদিন সে কারো সামনে কাঁদতে পারেনি।

মনের ভেতরে লুকানো নিগূঢ় কোনো দুঃখবোধকে এক নিমিষে জাগিয়ে তুলতে পারে বৃষ্টি। আবার তা ধুয়েমুছে সাফও করে দিতে পারে।। আজ মেহেভীনও ইচ্ছেমতো কাঁদবে এই বৃষ্টিতে। উজার করে দিবে,বৃষ্টির কাছে তার সকল দুঃখ,সকল কষ্ট। মেহেভীন অনুভব করে, কেউ তার মাথায় ছাতা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেহেভীন তাকিয়ে দেখে আরহাম ছাতা হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে। মেহেভীনকে দেখেই,আরহামের বুক টা ধক করে উঠে। মেয়েটা কী অনেক কেঁদেছে? চোখ-মুখ ফুলে গেছে। কিন্তু আবারো কেন কাঁদছে স্টুপিড মেয়েটা। আরহাম মেহেভীনের দিকে ঝুঁকে ধমকে বলে,
‘এই স্টুপিড মেয়ে। এইভাবে এই অবস্হায় বৃষ্টিতে ভিজছো কেন? জ্বর এসে গেলে কি হবে এখন? বেবীর যদি কোন ক্ষতি হয় তখন কি হবে?’

তুমি আছো মনের গহীনে পর্ব ১২

আরহাম আর কিছু বলতে পারলো না,তার আগেই মেহেভীন আরহামকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করে দিলো। মেহেভীনের আপাতত কোন হিতাহিত জ্ঞান নেই। তার শুধু এই মুহুর্ত কাউকে আকড়ে ধরার প্রয়োজন ছিলো,যাকে আকড়ে ধরে মেহেভীন তার দুঃখগুলো প্রকাশ করবে। আরহামের হাত থেকে ছাতাটা পড়ে যায়। মেহেভীন ও আরহাম দুজনেই বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে। যাকে বলে দুজনের বৃষ্টিবিলাশ হচ্ছে। আরহামও মেহেভীনের মাথায় হাত রেখে,সান্তনা দেওয়ার চেস্টা করে, তখনি মেহেভীন আরহামের বুকে ঢলে পড়ে। আরহাম তাকিয়ে দেখে মেহেভীনের জ্ঞান নেই।

তুমি আছো মনের গহীনে পর্ব ১৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here