তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১৪
রিমঝিম বৃষ্টি
আয়েশার গলা পেতেই সবাই থমকে গেলো হতভম্ব হয়ে সেদিকে তাকালো। ইভা আর সুমানা এগিয়ে এসে তুললো তাকে। কিন্তু বেশি জোরে পড়ে যাওয়ার কারণে কোমর নিয়ে আর পারছে না উঠতে। ফ্লোরে পানি দেখে ইভা ক্ষেপে হুঙ্কার দিয়ে বললো,
” শিউলি কীভাবে ঘর মুছিস পানি পড়ে থাকে.!”
শিউলি রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এগিয়ে এসে বললো,
” ম্যাডাম আজ তো ঘরই মুছি নাই আমি, আপনিই তো মানা করছিলেন মুছতে..!”
ইভান দাদীর পড়ে যাওয়া দেখে ইয়াশকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই তার নজর আটকালো ইয়াশের প্যান্টের দিকে। ইয়াশের প্যান্ট ভিজে একাকার যেনো তা দেখে ইভান কাহিনী টা বুঝলো। ইরাদকে ডেকে চোখের ঈশারায় দেখাতেই ইরাদ বিষয় টা খেয়াল করলো যেনো। ইয়াশ নতুন লোক দেখে ভয়ে প্রসাবের কথা বলতে পারে নি তাই চাপিয়ে রাখতে না পেরে প্যান্ট ভরেই করে দিয়েছে। ইরাদ সবার কথার ফাঁকে ইভানের দিকে এগিয়ে এসে ইয়াশকে কোলে তুলে সোজা একুরিয়ামের রুমে ছুটলো সাথে ইভানও। রুমে গিয়ে ইয়াশকে নামিয়ে ইরাদ হাটু ভেঙে নিচে বসে ইয়াশকে বললো,
” আপনি দেখতেছি এসেই ছক্কা মারলেন। ”
” হু একবার খ্যাকখ্যাক বুড়ি দীদা জানলে গণধোলাই দিবে..! ”
ইভানের কথায় ইয়াশ আঙ্গুল মুখের মধ্যে নিয়ে ইরাদকে বললো,
” আমি আম্মু যাবো..!”
” তোমার প্যান্ট যে নষ্ট হয়ে গেলো..! ”
ইভান ভাইকে বলে উঠলো,
” ভাইয়া ওর প্যান্টের সাইজ বলো আমি বাইক নিয়ে এখনি কিনে আনছি নয়তো আমাদের বাড়িতে ওর বয়সী কেউ নেই যে তার প্যান্ট ওকে দিবে..!”
ইরাদ তার প্যান্ট চেক করে দ্রুত টাকা দিয়ে ইভানকে দোকানে পাঠালো। ইভান চলে যেতেই ইরাদ ইয়াশের প্যান্ট খুলে দিতে গেলে ইয়াশ বললো,
” আমি খুলবো না..! আল তো নাই একানে কি পলবো আমি..?”
ইরাদ চোখ দুটো কিছুটা ছোট ছোট করে বললো,
” এখনি নিয়ে আসবে ততক্ষণ খুলো..! ভেজা জিমিস পড়ে থাকলে ঠান্ডা লাগবে তোমার.! ”
” না আমি খুলবো না..!”
ইয়াশ ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বললো,
” আচ্ছা তাহলে চলো মাছ দেখি আমরা..! “,
বলেই সামনে এগিয়ে গিয়ে মাছ দেখালো তাকে। ইয়াশ মাছ দেখে যেনো অবাক এত সুন্দর মাছ যেনো সে আগে দেখেনি কখনো।
ইভা এক বাটি নুডলস নিয়ে এগিয়ে এসে বললো,
” ইরাদ রাতের জন্য তো আজ তেমন কিছু রান্না করি নি। তুমি যদি জানাতে আমায় তাহলে ভালো কিছু করতাম। তোমরা কতক্ষণ থাকবে রান্না বসিয়ে দেয় আমি..?”
ইরাদ মায়ের থেকে বাটি টা নিয়ে বললো,
” কি রান্না করেছো তুমি..?”
” সবজি করেছি, ডিম ভুনা আর লাউ চিংড়ি..! ”
ইরাদ সূক্ষ্ম হেসে উঠলো আর বললো,
” তুমি ডিম দিয়ে অল্প করে ভাত নিয়ে এসো ওর ডিম অনেক পছন্দ, দুটো ডিম দিও কিন্তু..! ”
” আচ্ছা নিয়ে আসতেছি..!”
ইরাদ ইয়াশকে খাইয়ে দিতে দিতে ইভাকে জিজ্ঞেস করলো,
” দীদার কী খুব লেগেছে..? ”
” জানি না ডাক্তার ডাকা হয়েছে। কোনোমতে তো ধরে নিয়ে বেডে শুইয়ে দেওয়া হয়েছে কিন্তু কোমরে লেগেছে ভালোই মনে হচ্ছে..! ”
ইরাদ আর কিছু বললো না, ইভা ইয়াশের খাবার আনতে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। এদিকে বাইরে থেকে মেঘের ডাকের আওয়াজ পেয়ে ইরাদ আর দেরি করলো না। ইয়াশকে খাইয়ে নতুন প্যান্ট পড়িয়ে সবাইকে বলে দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে রওনা হলো । রাত অনেক বাজতে চললো।
শরতের ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে পুরো আকাশে, একটু পর পর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, হালকা বাতাসও উঠেছে, বৃষ্টি নামবে যখন তখন যেনো। রাত বাজে ৯ টার বেশি, ফারিশা তুবাকে বিদায় দিয়ে সেই যে গেইটের সামনে দাঁড়িয়েছে আর বাড়ি যায় নি। তার দাঁড়ানো দেখে দারোয়ান নিজের চেয়ার এগিয়ে দিয়ে গেছে তাকে বসতে দেওয়ার জন্য। কিন্তু ফারিশা বসা তো দূর তারা ফিরবে কি না এর ওপর আবার আকাশের অবস্থা ভালো না এসব ভেবেই সে অস্থির হয়ে শুধু পায়চারি করছিলো। শেষমেশ আর না পেরে সেখানেই চেয়ার নিয়ে বসে পড়লো তার চোখ দুটো লেগে এসেছে যেনো।
ইরাদের গাড়ি এসে থামতেই ফারিশা চট করে দাঁড়িয়ে পড়লো। ইরাদের সাথে ইভানও এসেছে। ইভান বের হলো না ভেতরেই বসে রইলো আর ইরাদ ইয়াশকে নিয়ে বেরিয়ে এসে ফারিশাকে এখানে দেখে কিছুটা অবাকও হলো। এগিয়ে আসতেই ইয়াশকে নামিয়ে দিলো। ফারিশা হুট করেই নিজের সর্বোচ্চ জোর দিয়ে ইরাদের গালে চড় বসিয়ে দিলো। ইয়াশ মায়ের রাগ রেগে ভয় পেয়ে মাকে আঁকড়ে ধরলে ফারিশা পিছন ঘুরে দারোয়ান কে বললো,
” কাকা ইয়াশকে নিয়ে একটু ভেতরে যান আমি গেইট তালা দিয়ে দিবোনে…?”
দারোয়ান এগিয়ে এসে ইয়াশকে কোলে নিয়ে ভেতরে চলে যেতেই ইরাদ কিছু বলতে যাবে তার আগেই ফারিশা ফের আরেকটা চড় বসিয়ে দিলো। রাগান্বিত গলায় বলে উঠলো,
” আমায় মারবেন আপনি। আজ ইচ্ছে করে এই কাজ করলেন আপনি তাই না বলুন আমায়। ইয়াশকে এভাবে না নিয়ে গেলেই হতো না। এই এতখানিক সময়টুকু যেনো গলার ওপর উঠে ছিলো জান, আপনি জানেন..?”
ইরাদ কিছুটা মাথা নিচু করে নরম গলায় বললো,
” সরি ফারিশা..! ”
ফারিশা তাচ্ছিল্যের সুরে হেসে উঠলো আর বললো,
” সরি কীসের সরি। একটা সরি তে সব ঠিক হয়ে যায় না মিস্টার ইরাদ চৌধুরী। নেক্সট টাইম যদি আপনি আমার ছেলের ধারের কাছেও আসেন তাহলে আমি এমন জায়গায় ছেলেকে নিয়ে চলে যাবো আপনি চাইলেও খুঁজে পাবেন না আমাদের আর..! ”
ফারিশার কথায় ইরাদের যেনো এবার ভেতর থেকে নাড়িয়ে তুললো। নিজের মধ্যে শক্তিটুকু কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভার ছেড়ে দিয়ে ধপ করে পা ভেঙে সেখানেই বসে পড়লো। মাথা নিচু করে ভাঙা গলায় বললো,
” ফারিশা সব দোষ আমার। আমার উচিত ছিলো সবকিছু খুটিয়ে দেখার। আমার বিশ্বাস রাখা উচিত ছিলো তোমার ওপর। আমি স্বামী হিসেবে তোমার যোগ্যই না আসলে। আমার জন্য তোমার সংসার করা হলো না। কিন্তু ইয়াশের কথা ভেবে হলেও কী আমায় শেষ বারের মতো ক্ষমা করা যায় না? তোমার কী শখ হয় না ছেলের একটা পরিবার থাকুক..? ”
” শখ…! শখ, সুখ আর ইচ্ছা সবই মরে গেছে আমার আর কিছুই নেই নিজের বলতে। আমার সব সুখ আর শখ ছেলের মাঝেই সীমাবদ্ধ এখন। একটা দিন না, একটা মাস না আর না একটা বছর গোটা পাঁচ-পাঁচটা বছর কতটা কষ্ট নিয়ে মানুষ করেছি ওকে আমিই শুধু জানি ইরাদ। আপনি তো দিব্যি বিদেশে কাটিয়েছন। না আছে আপনার টাকার অভাব আর না আছে কোনো চিন্তা আপনার। তাহলে হঠাৎ আমাদের দেখে এত আবেগ উতলে পড়লো যে..?”
ইরাদ মাথা তুললো, লালিত চোখে ফারিশার দিকে তাকিয়ে বললো,
” ইরাদ মরে যাবে তোমাদের না পেলে ফারিশা। তুমি কী চাও তা। আমি সত্যি বলছি তুমি যা যা বলবে সব মেনে নিতে রাজি আছি যদি বলো সবকিছু ছেড়ে শূন্য হাতে আসতে হবে আমি তাতেও রাজি আছি কিন্তু প্লিজ আমাকে আর দূর করে দিও না ফারিশা..!”
” শুনুন এটা আপনার সেই পাঁচ বছর আগের মতোই আবেগ যেখানে কেউ আপনার একটু কান ভাঙালে তা দু’দিন বাদেই নেই হয়ে যাবে তার চেয়ে বরং আপনি আপনার মতো জীবন খুঁজে নিন আর আমাদের বাঁচতে দিন..!”,
বলেই ফারিশা পিছন ঘুরতে লাগলে ইরাদ ফারিশার হাত আঁকড়ে ধরলো আর অনুরোধের গলায় বললো,
” তার চেয়ে বরং তুমি নিজ হাতে আমায় মেরে দিয়ে যাও ফারিশা। আমি পারছি না। আমার ইয়াশকে চায়, আমার তোমাকে চায় ফারিশা। মানুষ তার শত্রুকেও তো একবার হলেও সুযোগ দেয়। আমাকে ক্ষমা করে একটাবার শুধু সুযোগ দাও ফারিশা ! আমি কী তার চেয়েও খারাপ..!”
ফারিশা জোর করে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিলো, ঝটকা দিয়ে ইরাদের হাত সরিয়ে, ইরাদের দিকে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ গলায় বলে উঠলো,
” আপনি আমাদের এমন জীবন দিয়ে গেছেন যে, আমাদের এমনও সময় গেছে সামান্য খাওয়ার কেনারও সামর্থ্য ছিলো না তার জন্য মানুষের কাছে হাত পাত্তে হয়েছে এর চেয়ে দু:খ আর কি হতে পারে? আজ যদি ইয়াশ না থাকতো আমি জীবনেও বাঁচতাম না। ওপরআলা হয়তো আমার বাঁচার জন্যই তাকে দিয়েছে.। প্লিজ আমি যেনো আপনাকে এখানে আর না দেখি। কষ্ট কী জিনিস একটু অনুভব করতে শিখুন মিস্টার ইরাদ..!”,
বলেই চলে গেলো গেইট তালা দিয়ে ভেতরে চলে গেলো।
ফারিশা চলে যেতেই ইভান ভেতর থেকে বেরিয়ে আসলো। এতক্ষণ যা হয়েছে সবই সে শুনেছে। ভাইয়ের কাছে এগিয়ে এসে কাঁধে হাত রেখে নিচু গলায় বললো,
” ভাইয়া চলো এখান থেকে..!”
……..
” ভাইয়া..!”
ইরাদের জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার আওয়াজ পেতেই ইভান ঝুঁকে এসে ভাইয়ের মুখ দেখতেই থ হলো। ইরাদের চোয়ালও সহ তার পুরো মুখের মাংস যেনো থরথর করে কাঁপছে , পুরো মুখ লাল হয়ে গেছে। গাল বেয়ে কয়েক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ছে। ছোট থেকে ইভান ইরাদকে যতদূর চিনেছে সে ভীষণ স্ট্রং তাকে কখনো কেউ কাঁদতে অব্দিও দেখেনি। আজ ভাইকে প্রথমবারের মতো কাঁদতে দেখে ইভান অবাক হলো। হুট করেই ঝুম ধারে বৃষ্টি নামলো এর মাঝেই। ইভান ইরাদকে ডাকলেও সাড়া দিলো না। ইরাদ বসা থেকে উঠে গেইট ধরে চিৎকার করে উঠলো,
” ফারিশা আমাকে ফিরিয়ে নাও। ক্ষমা করে দাও আমায় ফারিশা..!”
কিন্তু কে শুনে কার কথা কেউ সাড়া দিলো না। ইভান এগিয়ে এসে বললো,
” ভাইয়া জ্বর আসবে চলো এসো..? ”
” তুই চলে যা এখান ইভান। যা এখান থেকে..!”
চিৎকার দিয়ে বললে ইভান ভয়ে কিছুটা সরে যায়। ফের এগিয়ে আসতে গেলেই ইরাদ রাগান্বিত চোখে তাকিয়ে বললো,
” তুই এখান থেকে না গেলে আমি তোকে মারবো কিন্তু ইভান। ইভান বুঝলো তার কথায় আর কাজ হবে না গাড়ি নিয়ে চলে গেলো তার মা আর বাবাকে নিয়ে আসতে। ইরাদ গেইট ধরেই বসে পড়লো আর বললো,
” ফারিশা আমায় ক্ষমা করো। ”
বৃষ্টিও যেনো আর তার সঙ্গী হলো। দুঃখবিলাসের এক চিরসাক্ষী যাকে বলে। ইরাদের চুল বেয়ে পানি ঝরছে। দাঁড় হয়ে ফারিশার বেলকনির দিকে তাকালো ভেতর থেকে আলো ভেসে আসছে। ইরাদ ব্যাথারত হয়ে সূক্ষ্ম হেসে হঠাৎ দুটো লাইন গেয়ে উঠলো,
” যে পথে এগিয়েছি পা
সেও আমায় চেনে না
আমি তো ফিরে যেতে চাই
আমাকে ফিরিয়ে নাও
আমি যে কে তোমার তুমি তা বুঝে নাও..!”
গত দু’দিন হলো ইরাদের অবস্থা ভালো না। জ্বরে অবস্থা খারাপ তারপর আবার তার শরীরে ডায়েবিটিস ধরা পড়েছে চেকআপ করে। ঘোরের মাঝে শুধু ইয়াশ আর ফারিশার নামই নিচ্ছে। সেদিন রাত করে বৃষ্টিতে ভিজে ফেরার পর থেকেই তার জ্বর সাথে ইভানেরও জ্বর হয়েছিলো তার ঠিক হয়ে গেছে কিন্তু ইরাদের ঠিক হয়নি। সেদিন জোর করে ইভা আর ইমদাদুল নিয়ে এসেছিলো তাকে। আয়েশা চৌধুরীর কোমরে লাগার ফলে তার কোমরের হাড় বেশ ব্যাথা ঠিক করে চলাফেরা করা মুশকিল যেনো। এই গত দু’দিনে ইমদাদুলের ব্যবসায়ের অবস্থা হুট করেই খারাপ হয়ে গেছে, সব ডিল ক্যান্সেল হয়ে গেছে কিন্তু হঠাৎ এমন হওয়ার কারণ সে বুঝলো না। ইরাদের রুমে তার মা, দাদী, বাবা আর তার চাচা দাঁড়িয়ে আছে। ইভা ছেলের মাথায় জলপট্টি দিতে দিতে বললো,
” আমি ছেলে সুস্থ হলেই চলে যাবো এ বাড়ি থেকে ছেলেকে নিয়ে। আপনারা লোভে চোখ অন্ধ করে রেখেছেন আমার ছেলের জীবন নষ্ট করে দিলেন। ”
” বউমা তোমার ছেলে কী আমাদের কেউ হয় না নাকি। আমাদেরও তো চিন্তা হয়। ডাক্তার তো বলছেই ঠিক হয়ে যাবে ও এত চিন্তা করো কেন তুমি..!”
শাশুড়ির কথায় ইভা পাত্তা না দিয়ে ইভানকে ডাকতেই ইভান ভেতরে আসলো। ছেলেকে দেখে ইভা বললো,
” ফারিশার ঠিকানা জানো তুমি..?”
” হুম জানি সেদিন যেখানে গিয়েছিলে ওখানেই.! ”
” আজই আমায় নিয়ে যাবে। যদি তার পা ধরতে হয় তাই ধরবো। পাপ তো আমরাই করেছি। আমার ছেলের জন্য না হয় তাই করবো..!”
ইভার কথা শুনে ইমদাদুল চাপা গলায় বললো,
” তুমি কি বলতে চাইছো, ও তোমার একার ছেলে। আমরা কী ওকে ভালোবাসি না। আমরা তো ওর ভালোই চেয়েছিলাম। ”
ইভা ছেলের দিকে তাকালো এক নজর। জ্বরের ঘোরে শুধু ঘুম পারছে। আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বললো,
” আর দু’দিন বাদে যখন মরতে বসবে তখন পস্তাবে। আফসোস করেও লাভ হবে না। তার চেয়ে তোমাদের দরকার নেই আমি ছেলেকে নিয়ে চলে যাবো..!”
” বড় ভাবী চিন্তা করবেন না আমরা দেখছি। ডাক্তার তো বললো ভালো হয়ে যাবে। ফারিশাকে আমি এনে দেবো আপনার চিন্তা করতে হবে না..! ”
তারেক এর কথা শুনে ইমদাদুল কিছুটা রেগে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে সাথে সবাই। বসার রুমে সবাই বসতেই ইমদাদুল কিছুক্ষণ স্থির থেকে বললো,
” মা বলছিলাম, কি করা যায় বলেন তো.?”
আয়েশা মুখ কুঁচকে বললো,
” তোর পোলার ভীষণ জেদ। আন গিয়ে বউ, ছেলের জেদ কমা আগে তবে হে, আসলে আমার সাথে যেনো না কথা কয়..!”
ইমদাদুল আর কথা বললো না। পাশ থেকে তারেক চৌধুরী মাকে বললো,
তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১৩
” মা এবার তো এমন আচরণ বন্ধ করো। কথা বলতেই পারে তাতে তোমার এত রাগ কীসের। ভাই কখন যাচ্ছো তাহলে আমি যাবো সাথে কী..?”
” না আমি আর তোমার ভাবী গিয়ে দেখি কী বলে..!”
