Home তুমি এলে বসন্ত নামে তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩১

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩১

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩১
রিমঝিম বৃষ্টি

মাঝে কেটে গেছে পুরো এক সপ্তাহ এর মধ্যে সাদিক ফিরেছে গত দু’দিন হলো। আজ চৌধুরী বাড়িতে এলাহী আয়োজন যেনো বাড়ির জামাই আসছে ঘুরতে সাথে তার পুরো পরিবারও আসছে বলে । আজ বিয়ের একদম ডেট ফিক্সড করা হবে। এই ক’দিনে ফারিশা বেশ ভালোই মানিয়ে গুছিয়ে নিয়েছে সাথে ইয়াশ তো যেনো বাড়ির ওস্তাদ হয়েছে। বাড়ির এমন কোনো কোণা নেই যে এখন সে চিনে না। সারাদিন ইভান নয়তো সাবাহ্’র ঘরে গিয়ে দুষ্টমি করবে আর সন্ধ্যে হলে যাবে সে তমার ঘরে তার সাথে শুইয়ে শুইয়ে একটু পাকা বুড়ার মতো গল্পগুজব করবে তারপর আজান কানে যেতেই দৌড়ে যাবে বাবার কাছে। বাড়িতে গত পাঁচ-ছয় দিন হলো সবাই একসাথে মসজিদে নামাজ পড়তে যায় আর তারা যতবার যাবে ঠিক ততবারই ইয়াশ পিছু পিছু যাবে।
সকাল সকাল আয়েশা চৌধুরী ঘরের মধ্যে বসে আছে। ইমদাদুল কে ডেকে পাঠাতেই তার কিছুক্ষণ বাদেই ইমদাদুল ভেতরে আসতেই বললো,

” আর কতো অপেক্ষা করবো আমি মরলে কী গয়নার বাক্স খুঁজে দিবি তুই..?”
ইমদাদুল এগিয়ে পাশে থাকা ছোট্ট ডিভানে বসতে বসতে বললো,
” খোঁজ তো করছি যাবে কোথায়? বাড়ির বাইরে তো নেই তাহলে বাসারই কেউ নিছে নয়তো তুমিই এমন কোথায় রাখছো জানো না ভুলে গেছো..?”
” জানি না আমি খুঁজে দে তাই হইবো। তোর বউরে আমি নতুন নতুন বউকালে একটা মোটা স্বর্ণের চেইন দিছিলাম মনে আছে তোর..?”
ইমদাদুল মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
” মনে থাকবে না কেন আছে তো এখনো কেনো কী হয়েছে..?”
” তোর বউ দেখলাম কাল রাতে তা খুলে তোর ছেলের বউকে দিলো পড়িয়ে এত পিরিত কয় থেকে আসে তোর বউয়ের..!”
ইমদাদুল ফের কিছু বলতে গেলে গলা পেলো ইয়াশের। ইয়াশ দরজার সাথে লেপ্টে দাঁড়িয়ে বললো,
” দাদু কি কলচো তুমি..?”
ইমদাদুল তাকে হাতের ঈশারায় ডাকতেই ইয়াশ এগিয়ে আসতেই আয়েশা ইয়াশকে দেখে কেমন অদ্ভুত ভাবে হাসি দিলো আর বললো,

” হে রে নিজের মুঠোয় আন এবার একে । এ তো ছেলে নয় যেনো সোনার খনি রে পুরোই রত্ন তোর..!”
ইমদাদুল ইয়াশকে কোলে তুলে চুমু এঁকে বললো,
” তা আপনি গোসল করেন নি কেন এখনো বাড়িতে বজ লোকজন আসবে অনেক মজা হবে কিন্তু..! ”
” কে আসবে..?”
ইয়াশের কথা শুনে ইমদাদুল বললো,
” তোমার নতুন ফুপা আসবে কিন্তু তোমার গলা বসে গেছে কেনো দাদুভাই ঠান্ডা লেগেছে মনে হচ্ছে । আচ্ছা আম্মু কে গিয়ে জিজ্ঞেস করবো গোসল করবে নাকি..!”
ইয়াশ আর দাঁড়ালো না দৌড়ে বেরিয়ে গেলো।
সাবাহ্ রেডি হয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসলো। সাবাহ্ কে দেখে ইয়াশ দৌড়ে এগিয়ে এসে বললো,
” পতকা ফুপি তুমি কোতায় যাচ্চো.?”
সাবাহ্ এগিয়ে এসে বললো,

” কোথায় আর যাবো তুমি এখনো গোসল করো নি কেনো চলো রুমে যায়..?”,
বলেই কোলে তুলে ওপরে চলে গেলো। ফারিশার রুমে গিয়ে দরজা খুলতেই দেখলো ফারিশা ঘর গোছাচ্ছে।
” ভাবী ইয়াশকে গোসল করিয়ে দাও..! ”
ফারিশা হাতে থাকা ঝাড়ু টা পাশে রেখে বললো,
” এত সকাল সকাল ওকে গোসল করালে জ্বর আসবে সাবাহ্। এমনিতেই কাল সারারাত কাশতে কাশতে অবস্থা খারাপ..!”
” বলো কী ভাইয়া কোথায়..?”
” তোমার ভাইয়া ওকে ডাক্তার দেখিয়ে শুধু মেডিসিন টা আমাকে দিয়েই চলে গেছে বাজারে ইভানের সাথে। ”
সাবাহ্ ইয়াশকে নিয়ে বেডের ওপর বসে গালে হাত দিয়ে বললো,
” আহারে আমি তো খেয়ালই করি নাই ওর গলা বসে গেছে মেডিসিন খাইয়েছো তো ভাবী..!”
ফারিশা পাশে বসেই মৃদু হেসে বললো,
” ওর ছোট থেকেই একটা স্বভাব যদি কোনো অসুখ হয় তা ডাক্তার না দেখানো অব্দি ঠিক হয় না। এই টাকা খরচ করে ডাক্তার দেখাও, মেডিসিন নিয়ে আনো তারপর বেশি না জাস্ট এক বেলা বা একটা দিন শুধু খাওয়াবো তাই ওর অসুখ গায়েব বুঝলে তো..!”
ফারিশার কথা হেসে উঠলো শব্দ করে সাবাহ্ ইয়াশকে শক্ত করে চেপে ধরে বললো,

” না হয় তারপরেও যদি অসুখ ঠিক হয়ে যায় এই অনেক..! ”
” ডাকতাল পচা পতকা ফুপি শুধু পচা পানি দেয়..!”
ইয়াশের কথা শুনে ফারিশা তার গাল আলতো করে চেপে বললো,
” হে নিজে খেতে পারো না তাই পচা হয়ে গেলো। বেলকনিতে গিয়ে দেখো তো বাবা আসতিছে কি না..?”
ফারিশার কথা ইয়াশ সাবাহ্’র কোল থেকে নেমে সেদিকে যেতেই সাবাহ্ উঠে চলে যেতে লাগলে ফারিশা তাকে হাত ধরে বসিয়ে দিলো আর বললো,
” কি হয়েছে তোমার এমন উদাস হয়ে থাকো যে সারাক্ষণ..? ”
ফারিশার কথা শুনে সাবাহ্ দীর্ঘ সময় ধরে দম ধরে থেকে বললো,
” মনে শান্তি পায় না ভাবী। কেমন যেনো দম বন্ধ লাগে। কিছুই পায় না, কপালে জুটেও না। এমন এক জালে ফেঁসেছি ভাবী যার মাঝে পরিবার বিঁধে গেছে একদম..!”
ফারিশা সাবাহ্’র কথা শুনে মৃদু হাসলো সাবাহ্’র হাত খানা ধরে বললো,
” এত কীসের চিন্তা তোমার। পড়াশোনা করছো করো নিজের শরীরের দিকেও খেয়াল রেখো আর চিন্তা করো না যা হওয়ার হবে..!”
সাবাহ্ এর প্রতিত্তোরে শুধু মৃদু হাসলো।

তমা রুমের মধ্যে রেডি হয়ে বসে আছে। পরনে নীল রঙের জামদানী শাড়ি সাথে হালকা সাজ। তমার হাত যেনো ক্ষণে ক্ষণে কাঁপছে, সাদিকের সামনে দাঁড়াতে বড্ড লজ্জা লাগছে এত বছর পরে তার সম্মুখীন হবে ভাবতেই। তমার রেডি হওয়ার মাঝেই তার মা এলো।
” কী রে রেডি হলে নিচে চল ওরা এসেছে তো..?”
তমা মায়ের কথা শুনে কাপুনি দিয়ে উঠলো। কিছুটা কম্পিত গলায় বললো,
” আম্মু আমার ভয় করছে..? ”
” দু’দিন বাদে ওই বাড়িতেই যাবি ভয় করে কী হবে আয়.? ”
তমা মায়ের সাথে নিচে নামতেই দেখতে পেলো বসার রুমে বসে আছে সবাই সাথে তার শাশুড়ী, ননদ আর সাদিক আর তাদের সাথে তার দুই চাচী-শাশুড়ীও এসেছে। সাদিকের বাবা প্রায় দশ বছর হলো মারা গেছে কিন্তু তার পরিবার বেশ বড়লোক, তাদের কোনো কিছুরই কমতি নেই। তমা নিচে নেমে সালাম দিতেই সায়রা মির্জা তার হাত ধরে পাশে বসালেন আর বললেন,
” নাও তোমার তো দিন ফুরিয়ে এলো বাপের বাড়িতে এই সপ্তাহেই তোমাকে নিয়ে যাবো বুঝলে তো..! ”
” তা ফুরো বলে! তবে আমি এখান সথয় কথায় কয় কি শুনেন, আমার বাড়ির মাইয়া নিয়ে কয়দিন রাখলেই বুঝলেন এ মেয়ে নয় একদম লক্ষ্মী । এমন বউমা সবার কপালেই জুটে না..!”
আয়েশার কথা শুনে সায়রা বিনয়ী গলায় বললো,

” তা তো ঠিক একটা মানুষ কে কাছ থেকে না চিনলে তো বোঝা যায় না। আল্লাহ ভরসা আশা করি তমা ভালোই হবে..!”
তমা শাশুড়ীর কথায় শুধু মাথা নিচু করে রইলো। পাশ থেকে তার বড় চাচী বলে উঠলো,
” তা যাও বর কে নিয়ে ছাদে গিয়ে একটু আলাদা কথা বলে আসো..!”
সুমানা তার সাথে বলে উঠলো,
” যাও বাবা দু’জনে আলাদা গিয়ে কথা বলো আমরা নিচেই আছি..! ”
সাদিক পাশ ফিরে এক নজর তমার দিকে তাকিয়ে উঠে দাঁড় হতেই তমাও উঠলো সাদিক কে সিড়ির দিকে দেখিয়ে আস্তে করে বললো,
” এদিকে আসুন..!”,
বলেই হাটা ধরলো সিঁড়ির দিকে। দু’জনেই ওপরে চলে গেলে ফারিশা ইভার সাথে এগিয়ে গেলো কিচেনে সবার জন্য দুপুরের খাবার রেডি করতে। ইরাদ বাবার পাশে বসে থেকে বোর হলো। বিয়ের ডেইট যেহুত ফাইনাল হয়েছে তার জন্য ভালোই কেননা তার অফিসের ছুটি এখনো পনেরো দিনের মতো আছে তাহলে সে আয়েশ করে বিয়েটা খেয়ে যেতে পারবে। ইরাদ উঠে সোজা ওপরে চলে গেলো ইভানের রুমে। ইভান ইয়াশকে নিয়ে ল্যাপটপ দেখছে। ইরাদ পাশে গিয়ে বসতেই বললো,

” কয়টা পড়া শেখালি আমার ছেলেকে দেখি বলো তো ইয়াশ..?”
ইরাদের কথায় ইভান ইয়াশকে বললো,
” আরে ইয়াশ বলো তো ক তে..?”
ইয়াশ দাঁত গুলো বের করে বাবার দিকে তাকিয়ে বললো,
” বাবা বলবো..?”
” হুম বলো শুনি..!”
ইভান চোখ দুটো ছোট ছোট করে বললো,
” নে আব্বা বাপের পারমিশন লাগবে না তুমি বলো ক তে..?”
” কতকতি ( কটকটি).!”
ইরাদের চোখ জোড়া বড় বড় হয়ে গেলো সে শুধু থ হয়ে রইলো। ইভান ভাইকে ওভাবে তাকাতে দেখে বাঁকা হাসি দিয়ে ফের জিজ্ঞেস করলো,
” খ তে..? ”
” খেকখেক বুলি ( খ্যাকখ্যাক বুড়ি)..!”
ইরাদ চোখ ঘুরিয়ে ইভানের পানে তাকালো কটমটিয়ে,
” গ তে..? ”
” গলুল ( গরুর) হিসু..! ”
ইরাদ উঠে দাঁড়ালো এবার, ইভান ভাইকে উঠতে দেখে সেও প্রস্তুতি নিলো আর ভাইকে বললো,

” লাস্টের টা শোনো ওটা ভালো কিছু শিখিয়েছি শোনো ভাইয়া..!”
লাস্ট প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলো ইয়াশকে ,
” ইয়াশ ঘ তে কি..! ”
” ঘন ঘন গু..!”
ইরাদ একদম তেড়ে ধরতেই ইভান এক দৌড়ে বেরিয়ে গেলো তাকে যেতেই দেখেই ইরাদ পিছন ঘুরে ছেলের কাছে বসে পড়লো আর বললো,
” এগুলো পঁচা পড়া আমি তোমাকে ভালো কিছু শিখিয়ে দিবো ঠিক আছে..! ”
” বাবা চাচু কোতায় গেলো আমিও যাবো..?”
” তুমি এত বড় গেঞ্জি কয় পাইছো..?”,
বলেই ছেলেকে এগিয়ে নিয়ে নিজের কাছে আনলো তার পরনের গেঞ্জি টা প্রায় হাটু অব্দি ছেঁয়ে গেছে। ইয়াশ নিজের পরনের গেঞ্জি টা ধরে খুশি মনে বললো,
” সুনদর তাই না চাচু দিয়েচে আমাকে..! ”
” তোমার চাচুর পেটে শুধু শয়তানি বুদ্ধি চলো আমরা রুমে যায়, তোমার মেডিসিন আছে তো..!”,
বলেই ছেলেকে নিয়ে চলে গেলো। এদিকে ইভান দৌড়াতে দৌড়াতে সাবাহ্’র রুমের সামনে এসে থামলো। সাবাহ্ কে পড়তে দেখে তার রুমে গিয়ে তার পিছে দাঁড়িয়ে বললো,

” এত ভালো কবে থেকে হলি..? ”
” এটা তো জাস্ট অভিনয় আমি পরীক্ষায় ফেইল করবো যেনো বাবা বিয়ে দিয়ে দেয়..!”
ইভান সাবাহ্’র মাথার ওপর দিলো এক টোকা আর বললো,
” মাথার মধ্যে এসব গোরব কয় থেকে আনিস। তুই কী ভেবেছিস ফেইল করলে তোরে বিয়ে দিয়ে দিবে আরে এরকম ফেলটুসকে কেউ নিবে নান..?”
” কেনো আপনি নিবেন তো সমস্যা কী..?”,
বলেই পিছন ফিরে তাকালো। সাবাহ্’র তাকানো দেখে ইভান ভ্রু নাচিয়ে বললো,
” শুনেছি ছেলেরা ছ্যাঁচড়া হয় কিন্তু তুই তো রেকর্ড করে দিলি এবার মেয়ে হয়ে..?”
সাবাহ্ ইভানকে মুখ ভেঙচিয়ে বললো,
” যদি আপনি ছ্যাঁচড়া হতেন আমার প্রতি তাহলে আমার প্রয়োজন ছিলো না কঠোর হওয়ার, যেহুত আপনি বলদ তাই আমিই ছ্যাঁচড়ার ক্যারেক্টার টা নিতাম..?”
ইভান সাবাহ্’র চুল টেনে বললো,
” তুই আমায় বলদ বললি..?”
” তা নয় তো কি আপনি শুধু বলদ নয় মাথা মোটাও..?”
ইভান আরও জোরে চুলগুলো টেনে ধরতেই সাবাহ্ দিলো কামড় বসিয়ে ইভানের হাতে তাতে ইভান লাফিয়ে উঠলো ছেড়ে দিয়ে সরে আসতেই রুম থেকে বের হতে হতে বললো,
” ধুর ছাই! রাক্ষসী একটা তোকে কেউ বিয়ে করবে না..! “,
বলেই চলে গেলো তা দেখে সাবাহ্ নিঃশব্দে হেসে উঠলো আর বিড়বিড়িয়ে বললো,
” আপনি যে ভালোবাসেন তা মুখে না বললেও বুঝতে পারি ইভান ভাই..! ”

” কথা বলছেন না যে? ফোনে তো ভীষণ কথা বলেন নার্ভাস লাগছে..?”
তমা আশেপাশে তাকিয়ে নরম গলায় বললো ,
” জি লাগছে। এত তাড়াতাড়ি ডেইট ঠিক করলেন যে.?”
” বউকে ফেলে রেখে কী করবো বাড়িতে নিয়ে গেলেই ভালো হবে..!”
তমা হেসে উঠলো রেলিঙের ওপর হাত রেখে খোলা আকাশ দেখলো আর বললো,
” আপনার প্ল্যান কী এখন ব্যবসা নিয়ে..?”
” বাবার অফিসের দায়িত্ব ছিলো এতোদিনে আমার এসিস্ট্যান্টের যেহেতু আমি আসছি নিজেই এখন দায়িত্ব নিবো..!”
তমা সামনে তাকিয়েই শুধু মাথা নাড়ালো তা দেখে সাদিক রেলিঙের ওপর ঝুঁকে এসে গালে হাত রেখে বললো,
” আমার দিকে তাকাচ্ছেন না কেন.? এত লজ্জা পেলো চলে আমি তো আপনার বর..? ”
” জানি না আমি কারোর চোখের দিকে তাকাতে পারি না বিশেষ করে ছেলের তো নয় কেমন যেনো লজ্জা করে..!”
সাদিক শব্দ করে হেসে বললো,
” আচ্ছা সমস্যা নেই বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে..! আচ্ছা চলুন নিচে যায়..! “,
দু’জনে গিয়ে নিচে চলে গেলো সেখানে সবাই খেতে বসেছে। ইরাদ ইয়াশকে নিয়ে নিচে এসে বললো,

” সাদিক খেতে আসো..!”
” জি ভাইয়া আপনি খেয়েছেন.?”
ইরাদ ইয়াশকে নামিয়ে বললো,
” না খাবো আচ্ছা বসো দেখে আসি ওদিকে ওদের খাওয়া শেষ হয়েছে কি না.?”,
বলেই সেদিকে চলে গেলো। বাবার যাওয়া দেখে ইয়াশ এগিয়ে এলো তমার কাছে। তমার পাশে দাঁড়িয়ে বললো,
” ল্যাতকা ফুপি এতা কে? ”
ইয়াশের কথা শুনে সাদিক পাশ ফিরে তাকে দেখেই কোলে তুলে বললো,
” এর গল্পই করো তুমি..? ”
তমা হেসে হাত বাড়িয়ে ইয়াশের গাল টিপে বললো,
” হুম অনেক লক্ষ্মী ছেলে আমাদের ইয়াশ তাই না..?”
ইয়াশ সাদিকের দিকে তাকিয়ে বললো,
” তুমি কে..? ”
সাদিক মিষ্টি হেসে বললো,
” আমি তোমার ফুপা হই..? ”
” ফুঁ..পা..! ”

ইয়াশের কথায় সাদিক মাথা নাড়ালো তারপর ইয়াশের সাথে একটু দুষ্টুমি করার জন্য সাদিক বললো,
” তোমার ফুপিকে আমি আজ নিয়ে চলে যাবো..?”
ইয়াশ গোলগোল চোখ করে তাকিয়ে বললো,
” কোতায় নিয়ে যাবে..?”
” অনেক দূরে তুমি আর পাবে না তখন..?”
ইয়াশ ঠোঁট উল্টে বললো,
” আমিও ফুপির সাতে যাবো..?”
সাদিক নিজের গালে হাত রেখে কিছু টা ভাবান্তর হওয়ার ভঙ্গিতে বললো,
” তা না হয় গেলে কিন্তু কীসে করে যাবে তুমি, গাড়িতে তো জায়গা হবে না..? ”
ইয়াশ টেবিলের ওপর শপিং ব্যাগ দেখে আঙ্গুল উঁচিয়ে বললো,
” আমি ওতাতে করে যাবো..?”
তমা মুখ টিপে হেসে উঠলো আর বললো,
” ওটাতে তুমি যেতে পারবে না বাবা তোমার ফুপা মজা করছে..!”
ইয়াশ কোল থেকে নেমে সত্যি টেবিলের ওপর উঠে ব্যাগের মধ্যে পা বাড়িয়ে বসে বললো,
” ফুঁ…পা আমি বসেছি দেখো নিবে তো আমায়..?”
সাদিক ফিক করে হেসে উঠলো। ইয়াশের মাথায় হাত বুলিয়ে তমাকে বললো,
” বেশ মিষ্টি ছেলেটা। এমন একটা কিউট আমার ঘরেও আসুক..! ”
সাদিকের কথায় তমা লজ্জায় মাথা নুইয়ে হেসে উঠলো।

শিকদার বাড়ি————
এই এক সপ্তাহে জিসান আর তুবার সম্পর্ক বেশ স্বাভাবিক হয়েছে, তাদের বন্ধুত্ব যেনো ঠিক আগের মতোই ফিরে এসেছে । দু’জনে মিলেমিশে কাজ করে তা দেখে জাহানারা মনে মনে বেশ খুশিই হয়েছে। গত দু’দিন আগে শশুর বাড়িতে গিয়ে থেকে এসেছে।
জিসান দুপুরে লাঞ্চ টাইমে আজ বাড়ি ফিরেছে খাওয়াী জন্য । তাকে আসতে দেখেই তুবা দ্রুত ভাত কিচেন থেকে এনে বাড়তে শুরু করলো। নজরুল পাশ দিয়েই যেতে পথে তা দেখে বললো,
” আম্মু আস্তে কাজ করো গরম ভাত তো..?”
” সমস্যা নেই বাবা কিছু হবে না..! ”
জিসান খাবার টেবিলে বসতেই তুবাকে হাত ধরে পাশে বসিয়ে বললো,
” বসবি তুই সারাদিন কাজ করিস যা মানা করেছি তোকে আমি তারপরও কেনো করিস..?”
তুবা পাশে বসতে বসতে বললো,
” আমি বসে বসে থাকি আর হাড়-গুরো ঘুন ধরুক তখন আমাকে টেনে বেড়াস..!”
জিসান হেসে উঠলো আর বললো,
” মাথার মধ্যে সবসময় নেগেটিভ জিনিস আনিস তুই..? ”
” জারা তোমায় কল দিয়েছে দেখো গিয়ে কি বলবে তোমার জন্য শাড়ি কিনছে ক’দিন আসবে তো তাই যাও গিয়ে পছন্দ করে দাও..!”
তুবা বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো আর বললো,

” আম্মু আমার শাড়ি আছে তো লাগবে না..? ”
” আরে যাও আপুকে পছন্দ করে না দেওয়া পর্যন্ত তোমায় ফোন দিয়ে দিয়ে বারো টা বাজিয়ে দিবে..!”,
জিসানের কথা শুনে তুবা ওপরে চলে গেলো হাসতে হাসতে। তুবা এতটাও আশা করে নি যে এ বাড়িতে সে এতটা ভালোবাসা পাবে যেমন ননদ তেমনি তার শশুর-শাশুড়ী শুধু বরের ভালোবাসার অভাব। দ্রুত পায়ে নিজের রুমে ছুটলো। জাহানারা টা দেখে ছেলের পাশে বসে বললো,

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩০

” তা একটা নাতি-নাতনির দেখা পাবো নাকি..? ”
জিসান খাওয়া থামিয়ে মায়ের দিকে এক পলক চেয়ে বললো,
” এই প্রশ্ন টা না করলেই হতো না আম্মু..!”

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৩২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here