তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১৫
রিমঝিম বৃষ্টি
সকাল সকাল ফারিশা আজ ছেলেকে নিয়ে বাড়ির বাগানে এসেছে। সেখানে ওপর তলার বাচ্চারা খেলছে সাথে ইয়াশও। ফারিশা বাইরের খোলা বারান্দায় বসে বসে ছেলের খেলা দেখছে। গতরাতে জিসান ফোন দিয়েছিলো তাকে, সে জানিয়েছে তার ফিরতে আরও সাত-আট দিনের বেশি লাগবে। চাকরি পাওয়া তো আর চারটে খানি কথা না নানান জায়গায় তাকে ঘুরতে হচ্ছে সাথে তার মাকেও। এতদিন ক্যাফেটা দেখবে কে? সেখানে শুধু জাহিদ আছে । একা হাতে তো সামলাতে পারবে না সে তাই তাকেও আজ থেকে যেতে হবে। দারোয়ান ওপর থেকে নামতে নামতে পাশের বারান্দায় ফারিশা কে দেখে এগিয়ে এলো। এক কোণায় সাইড হয়ে বসে পড়লো। ফারিশা লোকটিকে দেখে জিজ্ঞেস করলো,
” কাকা কয় থেকে আসলেন, ওপরে গিয়েছিলেন মনে হচ্ছে..!”
লোকটি কিছুটা হেসে উঠলো পাশেই ফ্লোরে ফুঁ দিয়ে বালু সরিয়ে হাতে থাকা পলিথিনের পোটলা টা রাখলো স্বযত্নে ফারিশা এক নজর সেদিকে তাকাতেই দেখতে পেলো পলিথিনের ভেতরে কয়েক টুকরো ধোঁয়াটে এঁটো মাংস, আর কিছু হাড় হবে হয়তো। ফারিশা দ্রুত চোখ সরিয়ে সামনে তাকালো। লোকটি সামনে তাকিয়ে বললো,
” বড়লোকেরা টাকাকে টাকা মনে করে না, তাই না আপামনি? কেমনে যে সব উড়ায় কে জানে তা। ওপর তলার রিসাবের মায়েরা কাল তার বাড়ির লোকদের দাওয়াত দিছিলো তো তারাই হয়তো খাইছে আর নষ্ট করছে। ম্যাডাম আবার আমার জন্য ওগুলোই তুলে ফ্রিজে রাখছিলো সাথে হয়তো এমনি কয়েক টুকরোও দিছে তাই নিয়ে আসলাম.!”
ফারিশা আকাশ পানে চেয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। এই দুনিয়া এক এক মানুষের কাছে এক এক রকম। কেউ পেয়েও হেলাফেলা করে, অপচয় করে আর অন্য কেউ হয়তো সেইটুকুর আশায় পথ চেয়ে বসে থাকে। ফারিশাকে চুপ থাকতে দেখে লোকটি বললো,
” আপামনি কী এখনো রেগে আসেন..?”
” আপনি আমার অনেক বড় হবেন প্রায়ই আমার বাবার বয়সীই তাই আপামনি বলে ছোট করবেন না তো
কাকা । ”
সেদিনের কথা যে তুলেছে তা হয়তো ফারিশা বুঝতে পেরেছে সাথে লোকটিও। লোকটি যেনো এবার এক গাল স্নান হেসে উঠলো আর বললো,
” আপনি কথা কিন্তু ভালোই জানেন। কিন্তু কী জানেন আপামনি, এই দুনিয়া আর দুনিয়া নেই। যত দিন যাবে যাত বছর যাবে নিয়ম পাল্টাবে, মানুষের মস্তিষ্ক পাল্টাবে তাই বলছি কী আপামনি এবার না হয় স্যারকে সুযোগটা দেন। নিজের না হলেও ছেলের ভবিষ্যতের জন্য মেনে নেন। একটা মেয়ের চেয়ে ছেলে মানুষ করা এই জগতে সবচেয়ে কঠিন কাজ কেনো জানেন আপামনি.?”
ফারিশা লোকটির দিক হয়ে এবার ঘুরে বসলো আর তার দিকে তাকিয়ে নিচু গলায় বললো,
” কেনো..?”
” কারণ, এখানকার ছেলেদের একটু চোখের আড়াল হলেই তারা হাতের বাইরে চলে যায়। বখাটে, নেশাখর, মাকে ধরে মারে টাকার জন্য মাঝে মাঝে তো জেদের বসে নিজের শরীরেও আঘাত করে তারা। এসব কেনো বলছি কারণ, আমি নিজেই আমার ছেলেকে নিয়ে ভুগছি..!”
ফারিশা মাথার ওড়না টা আরেকটু টেনে ধরে বললো,
” কেনো কাকা কাকী দেখে না ওকে। ”
লোকটি এবার গা দুলিয়ে হেসে উঠলো। মাথার টুপিটা খুলে পাশে রেখে বললো,
” আপনার কাকী ছেলের যখন ১২ বছর তখন সে এক্সিডেন্টে মারা যায়। এরপর থেকে আমার মা আমাদের সাথে থাকে তাকে দেখে রাখে। আমি তো রোজগারের জন্য বাইরে বাইরে থাকি। ও মার কথা একটুও শোনে না। বখাটেদের সাথে মিশে নেশা করতে শুরু করে..!”
” এটা কেমন কথা আপনি রাগ করেন নি, বুঝিয়ে বলেন নি ওকে.! ”
” একবার নেশার কবলে পড়লে তারা কী সহজে ছাড়তে চায় , ছাড়ে না। ওকে টাকা দিতে দিতেই তো আমার শরীরের রক্ত ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে এখন না চাইতেও এসব এঁটো খাবার খেতে হয় আমাদের। আগে তো অল্প হলেও ভর্তা, ভাত খেয়েই থাকতাম কিন্তু এখন ভিটেমাটি বিক্রি করে ভাড়া থাকি। ”
” এগুলো নিয়ে কি করবেন আপনি, এগুলো তো এঁটো হয়ে আছে.? ”
লোকটি পলিথিন ব্যাগ টার দিকে তাকিয়ে বললো,
” তাই কি হয়েছে আপামনি। ধুইয়ে একটু মশলা দিয়ে কষাইলেই আমাদের জন্য এই আহামরি খাবার.!”
ফারিশা কেবল স্থির হয়ে লোকটাকে দেখলো। তার যে এতো কষ্ট বাইরে থেকে বোঝা মুশকিল। একটা মানুষের ভেতরের কথা না জানলে বোঝা দায় যে, সে মানুষটা আসলে কেমন? ফারিশা কিছুটা উদাস সুরে বললো,
” কাকা আমরাও সেভাবেই মানুষ হয়েছি। আমার মাও ছোটবেলায় মানুষ করেছে খুব কষ্টে কিন্তু তবুও তা অনুভব করতে পারিনি, তারপর একসময় মা-বাবা মারা যাওয়ার পর বুঝলাম কষ্ট কাকে বলে?”
” আম্মু মাম খাবো..?”
ইয়াশকে এগিয়ে আসতে দেখে দারোয়ান উঠে দাঁড়ালো আর বললো,
” যান আপামনি ছেলেকে রুমে নিয়ে বাতাসের নিচে বসেন। কি অবস্থা ঘেমে গেছে একদম। ঘাম বসে গেলে আবার ঠান্ডা লাগতে পারে..!”
ফারিশা ছেলেকে নিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো তারপর কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিয়ে রেডি হয়ে ক্যাফেতে চলে গেলো।
চৌধুরী প্যালেস————-
” আম্মু! ওই আম্মু পানি নাই কেনো, তাড়াতাড়ি পানি তুলো ট্যাঙ্কে..! ”
সাবাহ্ দুপুর হতেই গোসলে ঢুকেছে। মুখে সাবান নিয়ে ট্যাপের নিচে হাত দিতেই আর পানি নেই।
” সাবাহ্ মা! কোথায় তুমি..?”
বাবার গলা পেয়ে সাবাহ্ চোখ বন্ধ করেই ভেতর থেকে উত্তর নিলো।
” বাবা আমি গোসল করছি। গোসল শেষ করে তোমার কথা শুনবো ঠিক আছে বাবা..!”
” শোন তোকে ওতো তাড়াতাড়ি করতে হবে না। বড়টার তো বিয়ে ঠিক, তোর জন্য পাত্র দেখেছি বিছানায় ছেলের ছবি দিয়ে গেলাম, ওর সাথেই তোর বিয়ে হবে দেখে নিস.!”,
বলেই চলে গেলো সাবাহ্ ভেতর থেকে থ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। তার বাবা তো তাকে এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে চায় হঠাৎ কি হলো তার। সাবাহ্ পানির আওয়াজ পেতেই দ্রুত গোসল করতে লাগলো। কয়েক মিনিট বাদেই গোসল শেষ করে বের হয়ে বেডের ওপর এগিয়ে যেতেই দেখতে পেলো ছবি। ছবিটা দেখে যেনো সাবাহ্’র চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেলো। ছবিতে এক বুড়ো টাকলা, কালো কুচকুচে লোকের পিক সাবাহ্ তা দেখে নাক-মুখ ছিটকে ঘাত বাঁকাতেই কারোর হাসির আওয়াজ পেয়ে দরজার দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো ইভানকে। ইভান দরজার সাথে হেলান দিয়ে উচ্চ-স্বরে হাসছে। ইভানের হাসি দেখে সাবাহ্ বুঝলে এটা তারই শয়তানি মাথার বুদ্ধি। বেডের বালিশ তুলে ছুঁড়ে মারলো ইভানের মুখের ওপর ইভান কয়েক কদম পিছিয়ে গেলো। বালিশ টা ফ্লোর থেকে তুলে সাবাহ্’র ওপর ছুঁড়ে দৌড়ে চলে গেলো আর সাবাহ্ দরজার কাছে এসে গলা উঁচিয়ে বললো,
” তোমার জন্য আরও বাজে শুকটি ভর্তা মেয়ে আনবো বাজে লোক একটা..! ”
ইভানকে নিজের রুমের সামনে দিয়ে যেতে দেখে ইরাদ দেখে বসলো। ইভান ভেতরে যেতেই ইরাদ উঠে বালিশ পিঠের কাছে দিয়ে বসলো আর বললো,
” দরজা আটকে দিয়ে আয়..!”
ইভান দরজা আটকে ভাইয়ের কাছে বসতেই ইরাদ নিচু গলায় বললো,
” কই রেখেছিস ওগুলো.? ”
” কেনো ব্যাংকে.! ”
ইরাদ গরম নিঃশ্বাস ফেলে বললো,
” কেউ দেখিনি তো.!”
ইভান ভাব নিয়ে বললো,
” এই ইভানকে ধরা এত সোজা নাকি? কিন্তু দীদা জানলে হার্ট অ্যাটাক করবে.!”
” এসবে আমি আর পাত্তা দিচ্ছি না ইভান। একটু ফকির হোক, অনুভব করুক গরীবের জীবন। একজন তো আর আরেকজনের জায়গায় না গেলে বুঝে না আসলে তার জায়গাটা কেমন, আমি সেটায় করেছি যেনো বুঝতে পারে তারা..!”
ইরাদের কথা শুনে ইভান নিজের থুতনিতে হাত ঠেকিয়ে বললো,
” তা না হয় বুঝলাম কিন্তু তোমার ডায়েবিটিস হলো কীভাবে.? ”
ইরাদ সূক্ষ্ম হেসে উঠলো আর বললো,
” ডায়েবিটিস গত এক বছর হলো হয়েছে । ওখানে থাকতে একটু মিষ্টি বেশিই খেতাম এর জন্যই অসুখটা হয়েছে বোধহয়.! ”
ইভান ভাইয়ের কপালে হাত রেখে জ্বর চেক করলো এখনো গা ভীষণ গরম। এক নজর দরজার দিকে তাকিয়ে ইভান ভাই কে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো,
” ভাইয়া সন্ধ্যায় আমরা যাচ্ছি তোমার বউকে মানে আমার ভাবীকে মানাতে। এবার খুশি তো.?”
ইরাদ চোখ দুটো বন্ধ করে বললো,
” মনে হয় না মানবে সে। আমার বাড়ির মানুষের স্বভাব আসলে ভালো না। আঘাত করার পর মলম লাগাতে চায় তারা, আমার আজ এই হাল না হলে তারা জীবনেও রাজি হতো না ফারিশার কাছে যেতে.?”
দু’জনের মাঝে বেশ খানিক গল্প হলো তারপর ইভান উঠে চলে যেতে লাগলে ইভানকে ইরাদ বললো,
” মা ছাড়া থাকার জন্য প্রস্তুত হো.!”
ইভান পিছন ঘুরে ভাইয়ের মুখের দিকে তাকাতেই ইরাদ বাঁকা হাসি দিলো আর বললো,
” বাবার জন্য স্পেশাল ট্রিটমেন্ট চালু হবে আর তোর যদি অসুবিধা হয় তো কিছুদিন নানু বাড়ি থেকে ঘুরে আসতে পারিস..!”
” ভাইয়া তুমি এই কাজটা না করলেও হতো কিন্তু এভাবে আমারে এতিম বানিয়ো না.!”,
বলেই ইভান ঠোঁট উল্টে তাকালো তা দেখে ইরাদ মুখ ঘুরিয়ে বললো,
” রুম থেকে বের হো এখন যা.!”
ইভান আর দাঁড় হলো না মুখ ফুলিয়ে চলে গেলো।
ক্যাফেতে আজ বিকেল থেকে ভালোই কাস্টমার আসছে। জাহিদ আর ফারিশা হাতে হাতে কাজ করছে কখন থেকে আর ইয়াশ ক্যাফের ভেতরের কিচেনের রুমে একটা ছোট্ট ডিভানে শুইয়ে ঘুম পাড়ছে। জাহিদ ফারিশার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে ট্রে নিয়ে, কফি নিতে এসেছে। ফারিশা কফি বানাচ্ছে কিন্তু বা হাত দিয়ে। জাহিদ এতক্ষণ বাদে তার খেয়ালে আসলো চোখ নামিয়ে ডান হাতে নজর দিতেই দেখতে পেলো তার হাত পুড়ে গেছে সাথে জায়গায় জায়গায় যেনো কাটা দাগ।
” তোর হাতে এই হাল কেনো ফারিশা.? ”
ফারিশা জাহিদের কথায় হাত ওড়নার সাথে পেঁচিয়ে ধরে বললো,
” তেমন কিছু না একটু কেটে গেছিলো.! ”
” সামান্য কাটার দাগ ওমন হয় না ফারিশা। কাহিনী কী বল তো..?”
ফারিশা কফি কাপে দিতে দিতে বললো,
” তুই হুদাই ভাবছিস বলছি তো কেটে গেছে.! ”
জাহিদ ফারিশার থেকে কফির পাত্র টা কেড়ে নিয়ে সাইডে রাখলো আর বললো,
” তুই কাজ বাদ দে আমায় বল তো নিজেকে কষ্ট দিয়ে কি পাচ্ছিস তুই.? ”
ফারিশা কিচেনের তাকের ওপর হাতের কনুই ভর দিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বললো,
” কষ্ট পাওয়ার যোগ্য বলেই আমার জীবনটা কষ্টে ভরা। এই হাত দিয়ে একজনকে আঘাত করেছি আমি জাহিদ কিন্তু দোষী তো আমি নিজেও। সে একা কেনো শাস্তি পাবে বল.? ”
জাহিদ সাইডের এক তাক থেকে মলম বের করে ফারিশার সামনে ধরলো আর বললো,
” কষ্ট পাবি জেনেও আঘাত করলি কেন তুই.?”
” ভয় হয় খুব। কাউকে আর বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়
না। ”
জাহিদের থেকে মলম টা নিয়ে নিজের হাতে লাগিয়ে নিলো। জাহিদ ফারিশার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললো,
” ভালোবাসিস এখনো তাকে..?”
ফারিশা কিছুটা শব্দ করে হেসে উঠলো আর বললো,
” শোন মেয়েরা তার স্বামীর ওপর সবসময়ই আলাদায় একটা মায়া থাকে যদি, সে মেয়ের জীবনে আসা প্রথম পুরুষ সেই স্বামীই হয় । ওনার প্রতি আমার ফিলিংস আগের মতো আছে কি না জানি না কিন্তু ঘৃণা করতেও পারি না ওনাকে। ”
জিহাদ ট্রে টা হাতে নিয়ে মুচকি হেসে বললো,
” তোর মন মনে হয় একটু একটু করে গলছে বান্ধবী। তবে খুশি লাগছে ইয়াশের জন্য বেচারা বাপের আদর পায় যদি এবার.! “,
বলেই কিচেন থেকে বেরিয়ে গেলো তা শুনে ফারিশা এক নজর ইয়াশের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকালো।
সন্ধ্যা হতে ফারিশা আর ইয়াশ হেঁটে হেঁটে বাড়ি পথে যাচ্ছে সামনেই এক ঝালমুড়িওয়ালা ছোট্ট গাড়িতে করে ঝালমুড়ি মাখাচ্ছে তা দেখে ইয়াশ মায়ের হাত টেনে বললো,
” আম্মু আমি মুলি খাবো..?”
ফারিশা সেদিকে তাকিয়ে বললো,
” না বাবা পেট খারাপ করবে তোমার, বাড়িতে আছে তো মুড়ি আমি তোমাকে দিবো মাখিয়ে চলো.!”
” না আমি তো সকালে হাগু কলেছি আল কলবো না সত্যি বলছি। মুলি খাবো দাও আম্মু.! ”
ফারিশা ছেলের আবদারে এগিয়ে গিয়ে ঝালমুড়ি কিনে বাড়ির দিকে এগিয়ে গেলো। গেইটের কাছে আসতেই দারোয়ান দৌড়ে এসে বললো,
” আপামনি আমার সাথে কারা যেনো দেখা করতে আসছে.?”
” কে আসছে কাকা.? ”
দারোয়ান তার বাগানের দিক দেখিয়ে বললো,
” আমি তো চিনি না আপনি গিয়ে দেখেন একটু.? ”
ফারিশা দারোয়ানের কথা মতো সেদিকে এগিয়ে যেতেই দেখলো তিনজনকে। ইভা চৌধুরী, ইমদাদুল চৌধুরী আর ইভান কে দেখে ফারিশা ছেলের হাত আরও আঁকড়ে ধরলো। ইভা আর ইমদাদুল কে সে খুব ভালো করেই চিনতে পারলো। ঝাঁঝালো গলায় বললো,
” আপনারা এখানে কেনো.?”
ইভা এগিয়ে এসে এক নজর ইয়াশকে দেখলো তারপর ফারিশাকে বললো,
” রুমে গিয়ে কথা বলি। শুধু কিছু কথা বলবো.! ”
ফারিশা কয়েক সেকেন্ড দম ধরে থেকে বললো,
” চলুন..!”
ইয়াশ ইভাকে দেখে চকচকে দাঁত গুলো বের করে বললো,
” মিলাদের মা এসেচে..!”
ইয়াশের কথা শুনে ইমদাদুল এক নজর তার দিকে তাকিয়ে দেখলো একদম যেনো নিজের ছেলেকে দেখতে পাচ্ছে, অবিকল একই চেহারা যেনো। ইমদাদুল স্থির হয়ে তাকিয়ে ইয়াশকে দেখলে ইভান ইয়াশের কাছে এগিয়ে এসে ইয়াশকে বললো,
” এই পুঁচকে আসবে আমার কাছে চকলেট আছে কিন্তু.?”
ইয়াশ মাথা উঁচিয়ে মায়ের দিকে তাকালে ফারিশা তার হাত ছেড়ে দেয়। ছোট্ট ছোট্ট পায়ে এগিয়ে আসতেই ইভান তাকে কোলে তুলে নিলো।
ওপরে গিয়ে সবাই ফারিশার ফ্ল্যাটে গিয়ে বসলো। ইমদাদুল চারপাশে একবার নজর বুলিয়ে দেখলো। ফারিশা অপর সাইডে বসে বললো,
” বলেন কি জন্য এসেছেন.? ”
ইভা শান্ত গলায় বললো,
” জানি না ফারিশা তুমি কীভাবে কথাটা নিবে কিন্তু ভুল আমাদের পরিবারই তো করেছে। জানি দোষ আমাদের কিন্তু একটাবার কি ফিরে যাওয়া যায় না। আমি আমার শাশুড়ির হয়ে ক্ষমা চাচ্ছি তুমি এবার প্লিজ বাড়ি চলো.!”
” দোষ তো আপনি করেন নি করেছে আপনার শাশুড়ী, আপনি কেনো ক্ষমা চাইবেন। আয়েশা চৌধুরী যেদিন নিজে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে সেদিন আমি ভেবে দেখবো যাবো কি যাবো.? ”
ফারিশার কথায় ইমদাদুল কিছুটা রাগী চোখে তাকিয়ে কিছু বলতে গেলে ইভা স্বামীর হাত চেপে ধরে থামিয়ে দিলো। ইভান পাশে বসেই তা খেয়াল করলো। ইমদাদুল এবার কিছুটা গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
” শোনো মেয়ে আমরা তোমার বড়। আমরা যেহুত ক্ষমা চাচ্ছি তোমার এবার ফেরত যাওয়া উচিত। আমার ছেলেটা অসুস্থ হয়ে গেছে সেদিন পুরো রাত বৃষ্টিতে ভিজে তোমার কি এইটুকু দয়ামায়া নেই.?”
ফারিশা উঠে রান্না ঘরে চলে গেলো ইমদাদুল এর কথার জবাব না দিয়েই। ইমদাদুল তা দেখে ইভার পানে চেয়ে নিচু গলায় বললো,
” এই জন্যই আসতে চেয়েছিলাম না। আমায় কেমন করে ছোট করছে দেখেছো তো.?”
” আহ্ চুপ করুন তো, বেশি বুঝেন আপনি শুধু.! ”
পাশ থেকে ইভার গলা পেয়ে ইয়াশ ইভানের গলা জড়িয়ে ধরে সেদিকে তাকিয়ে বললো,
” মিলাদের মা ওটা কে..?”
ইভা চোখ তুলে তাকালো ইয়াশের দিকে, কি মিষ্টি ডাক তার। ইভা ইমদাদুল কে দেখিয়ে মৃদু হেসে বললো,
” এটা মিলাদের বাবা হয় মানে তোমার দাদু..!”
ইয়াশ চোখ পিটপিট করে বললো,
” দাদু.! ”
ইমদাদুল ইয়াশকে দেখে এবার কাছে ডাকলো ইয়াশ সোফার ওপরেই হেটে এগিয়ে এসে ইমদাদুল পাশে দাঁড়িয়ে সোফার সাথে হেলান দিয়ে বললো,
” তুমি দাদু..!”
ইমদাদুল ইয়াশের মাথায় হাত রেখে বললো,
” হে দাদুভাই। তোমার নাম কি.?”
” ইয়াত..!”
ইভান হেসে উঠলো আর বললো,
” ইয়াশ তুমি দাদুকে বলো তো মিলাদ কে.? ”
” মিলাদ কে.? ”
ইমদাদুল জিজ্ঞেস করতেই ইয়াশ ঠোঁট উল্টে দু-কাঁধ উঁচুতে তুলে বোঝালো মানে সে জানে না তা দেখে ইমদাদুল স্থির হয়ে শুধু তাকিয়ে রইলো তার দিকে । এর মাঝেই ফারিশা নাস্তা এনে টেবিলের ওপর রাখলো। ইভা তা দেখে বললো,
” এসবের কি দরকার, আমরা শুধু কথা বলতে এসেছি.? ”
” একটু হলেও মুখে দিবেন। এভাবে না করতে নেয়। ”
ফারিশার কথা শুনে ইভা একটা বিস্কুট মুখে নিলো পাশ থেকে ইমদাদুল বললো,
” তাহলে যাচ্ছো কবে তাই বলো.? ”
তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১৪
” বললাম তো ভেবে দেখবো। আপনারা বাড়ি গিয়ে উনাকে বলবেন সুস্থ হলে আমার বাড়ি আসতে, কথা আছে আমার উনার সাথে..! ”
ফারিশার কথা শুনে তিনজনই উঠে দাঁড়ালো। ইভা ইয়াশের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
” আচ্ছা আজ তাহলে আসি আমরা, তুমি সময় নাও সমস্যা নেই আমাদের..! ”
