তোমার আমার গল্প পর্ব ৩৪
noorayn
আরহাম মাত্র বাইরে থেকে এসেছে।
এসে দেখে বাবু দোলনা তে ঘুমুচ্ছে আর আলিশা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে, এই আর নতুন বিষয় নয়, ডেলিভারির পর থেকেই এই ছোট মরিচ এর মা সারাদিন নিজেকে আয়নায় দেখতে থাকে তাই আরহাম আর পাত্তা না দিয়ে ওয়াশরুমে ফ্রেশ শাওয়ার নিতে চলে গেলো,
এদিকে বারবার নিজের দিকে তাকাচ্ছে আবার দোলনায় ছেলের দিকে তাকাচ্ছে তারপর আবার নিজের পেটে হাত রেখে ভ্রু কুচঁকাচ্ছে, আসলেই কি এই ছেলে তার পেটে ছিলো?
উফ আলিশা এসব ভাবতে ভাবতে পাগল হয়ে যাবে।
তার পড়নে একটা নাইট সুট আর চুলে ২ টা বেনী বাধা, দেখতে একদম বাচ্চাদের মতো কিউট লাগছে আর প্রেগন্যান্সির পর হালকা গুলুমুলু হয়েছে।
এর মধ্যে আরহাম বেড়িয়ে আসলো টাওয়াল দিয়ে চুল মুছতে মুছতে, এসে দেখলো আলিশা সেই আগের মতোই আয়নার সামনে।
আরহাম নিজের মতো রেডি হচ্ছিলো,
হঠাৎ চোখ পড়লো আলিশার দিকে যে এখন ওয়েট মেশিন নিয়ে নিজের ওজন মাপাতে ব্যাস্ত, ওয়েট মেশিনে দাড়াতেই একটা ছোট চিৎকার দিয়ে উঠলো, আরহাম হকচকালো।
“কি হয়েছে লিশা?”
–আলিশা ওয়েট মেশিন থেকে নেমে আরহান এর দিকে তেড়ে আসলো,
“সব তোর জন্য হয়েছে” (আলিশা)
“আমি আবার কি করলাম?”
“আমি মোটা হয়ে গিয়েছি”
“দেখেই বুঝা যাচ্ছে যে তুই ভোটকি, আলাদা করে আর বলতে হবেনা”
“তোর জন্যই আমি ভোটকি হয়েছি”
“আমি কি করলাম?”
“আমায় প্রেগন্যান্ট করেছিস কেন?”
এমন প্রশ্নে আরহাম হকচকালো। বাচ্চা পেটে এসে দুনিয়াতে ল্যান্ড করার পর এক মাস পেড়িয়ে গেছে আর এই মহিলার মাথায় এখন এমন উদ্ভট কথা আসছে কেমনে?
আরহাম ও দমে না গিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলো,
“তুই হয়েছিস কেন?”
“তোর দোষে। তোর বাচ্চা তো এখন আর পেটে নেই তাও কেন আমি আগের মতো স্লিম হচ্ছিনা?”
আলিশা প্রেগন্যান্সির আগে একদম জিরো ফিগারের ছিলো আর প্রেগন্যান্সির পর আগের তুলনায় হালকা গুলুমুলু হয়েছে। এতে তাকে দেখতে খারাপ লাগছেনা বরং আদর আদর লাগে। নরমাল ডেলিভারি হওয়ার কারনে প্রেগন্যান্সির পর খুব দ্রুত ওয়েট লস হয়েছে তার কিন্তু আগের বডি স্ট্রাকচারে ফিরতে সময় লাগবে আর এটাই যেন মানতে নারাজ আলিশা। তার আগের মতো হওয়া চায়। বর্তমানে তার ওয়েট ৬০ কেজির কাছাকাছি তবে তার হাইট ৫.৪ ফুট হওয়াতে এই ওয়েট তার জন্য মানানসই।
আগের মতো স্লিম হতে না পেরে এখন সব রাগ ঝাড়ছে আরহামের উপর।
নিজের প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে এবার ক্ষেপে গিয়ে আরহামকে জিজ্ঞেস করলো –
“কি হলো উত্তর দিচ্ছিস না কেন? এখনি উত্তর চাই আমার”
আরহাম এবার উপায় না পেয়ে বললো –
“সময় লাগবে আগের মতো হতে এর উপর তুই ব্রেস্টফিডিং মম সো টেইক ইউর টাইম”
“আজকে থেকে বাচ্চাকে তুই খাওয়াবি”
“হোয়াট!! পাগল হয়েছিস?”
“তা না হলে তোর মতো গন্ডার এর সাথে সংসার করতে পারতাম না”
“থাপড়ে গাল লাল করে দেবো”
-আলিশার মুখ রাগে লাল হয়ে আছে। দেখতে বড্ড আদুরে লাগছে আরহামের কাছে। সে কাছে গিয়ে আলিশার ফোলা ফোলা গালে ফটাফট কয়েকটা চুমু খেয়ে ফেললো। তারপর তারদিকে তাকিয়ে হো হো করে হেসে উঠলো। এতে যেন আলিশার জ্বলুনি আরো বাড়লো। সে রেগেমেগে জিজ্ঞেস করলো –
“তুই আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিস কেন?”
“কারন তোকে পুরাই হাতির বাচ্চার মতো কিউট লাগছে”
“দাড়া তুই দাড়া, আজ তোকে ছাড়বোনা আমি গন্ডারের ঘরের গন্ডার” বলেই আলিশা আরহাম এর দিকে তেড়ে গেলো। আরহাম ও কম যায়না, সেও আলিশার চুল টেনে ধরলো।
তারপর আর কি?
আবার শুরু হলো এদের মারামারি। এক বাচ্চার মা-বাপ হয়েও শুধরালো না কেউই।
কিছুক্ষন আগে শাইনার কাছে নীলার ফোন এসেছিলো। জানিয়েছে তারা খুব জলদি দেশে ফিরবে। হয়তো সপ্তাহখানিক সময় লাগবে।
সব শুনে শাইনা বেজায় খুশি। প্রায় ২ বছর পর ঘরের বাচ্চারা ঘরে ফিরবে। কতদিন হয় মেয়েটাকে চোখের সামনে দেখেন না। শাইনা সবাইকে জানিয়েছে নীলা-আরশাদ এর ফেরার কথা। সবাই অনেক খুশি কিন্তু কোথাও যেন একটা আক্ষেপ থেকে যায় কারন যে কারনে এতদিনের দূরত্ব সেটাই অপুর্ন রয়ে গেছে। তবে ইজাজ সাহেব সকলকে কাটকাট গলায় জানিয়ে দিয়েছে যাতে কেউ নীলা-আরশাদের সামনে এই প্রসঙ্গে কোনো কথা না তুলে। বিশেষ করে সাবধান করেছেন মেহরোজা আক্তার কে যাতে উনি এই ব্যাপারে কোনো কথা না বলে। ঘরের বাচ্চারা এতোদিন পর ঘরে ফিরছে – এসেই যেন কোনো বিব্রতকর অবস্থায় না পড়তে হয় তাদের।
আয়শা তো এখন থেকেই আরশাদের ঘর পরিষ্কার করাচ্ছেন সার্ভেন্টদের দিয়ে। সব তদারকি করছেন যাতে কোথাও কিছুর কমতি না থাকে।
শাইনা বারবার নীলা-আরশাদ কে কল করে খোজখবর নিচ্ছেন। কবে আসবে, কি খাবে, কি করবে তাদের জন্য এসব।
আলিশা তো ভাইকে কল দিয়ে এক একবার নতুন নতুন লিস্ট দিচ্ছে। তার যেন তর সইছেনা তাদের অপেক্ষায়। কতদিন পর নীলাপু আসবে – কতশত কথা জমে আছে বলার জন্য। ভাইকে আবার আগের মতো সে আর নীলাপু মিলে জ্বালাবে এসবের প্ল্যানিং করছে। আর আরহাম?
সে তো সদা চিল মুডে থাকে। নীলারা ফিরবে শুনেও কোনো রিয়েকশেন দেয়নি বরং সেই তখন থেকে একমনে চুয়িং গাম চিবাতে ব্যাস্ত। সামনে তার নতুন গান রিলিজ হবে তাই আপাতত তা নিয়ে গবেষণা করছে আর একটু পর পর আলিশা কে ধমকাচ্ছে তাকে বিরক্ত করার জন্য।
আলিশা ধমক খেয়ে মুখ ফুলিয়ে ছেলেকে কোলে নিয়ে হাঁটছে আর তার বাপের নামে বিচার দিচ্ছে।
তোমার আমার গল্প পর্ব ৩৩
“দেখেছিস ডোরা তোর বাপ কিভাবে আমাকে ধমকায়? তুই আজকেই তোর বাপের কোলে শিশি করে দিবি। বুঝেছিস?”
ছোট্ট ডোরা মুখে আঙুল পুরে একমনে মায়ের দিকে চেয়ে আছে যেন সে মায়ের সকল অভিযোগ মন দিয়ে শুনছে।
ছেলের এতো আগ্রহ দেখে আলিশা খুশিতে গদগদ হয়ে আরো বিস্তারিত ভাবে আরহামকে শায়েস্তা করা নিয়ে আলোচনা করতে লাগলো ছেলের সাথে।
