তোমার আমার গল্প পর্ব ৫২
noorayn
এক বাউন্ডুলে, ছন্নছাড়া ছেলে আরহাম ; যাকে সবাই বলে পরিবারের ডানপিটে সন্তান। নিজের মর্জিমতো দুনিয়া দাপিয়ে বেড়ানো যার শখ, গিটারে সুর তোলা যার প্যাশন। নিজের দুনিয়ায় মগ্ন থাকা সে’ই বেয়াড়া ছেলেটার কাছে ক্লাব, পার্টি, ফ্রেন্ডস আর গান – এসবেই যেন দিনের শুরু এবং শেষ।
সেই বেপরোয়া, দুরন্ত ছেলেটাই আজ মসজিদের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। যে ছেলেকে কিনা শুক্রবারের জুমার নামাজ ব্যাতিত আর কোনোদিন মসজিদের আশেপাশেও দেখা যায় না, আজ সেই ছেলেই কিনা নিজের সন্তানের জন্য রবের ঠিকানায় এসে দাঁড়িয়েছে…
আরহাম প্রথমে বাড়িতে ফিরে শাওয়ার নিয়ে ফ্রেশ হয়েছে। তারপর লম্বা ড্রাইভ করে শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে, মফস্বলের নিরিবিলি একটা এলাকায় এসে পৌঁছেছে। এমন একটা জায়গা, যেখানে তাকে কেউ চিনবে না। কেউ তার দিকে কৌতূহলী চোখে তাকাবে না। যেখানে সে বুকের ভেতর জমে থাকা কথাগুলো নির্দ্বিধায় রবের কাছে বলতে পারবে।
মসজিদের সামনে এসে থমকে দাঁড়ালো আরহাম।
ভেতরে যাবে কীভাবে? সে তো নিয়মিত নামাজ পড়ে না। বরং সারাদিন কত গুনাহেই না লিপ্ত থাকে। এমন একজনের দোয়া কি আদৌ কবুল হবে? হয়তো এই প্রশ্নটাই তাকে মসজিদের দরজায় দাঁড় করিয়ে রেখেছে।
কিন্তু আজ আরহাম বড্ড স্বার্থপর। নিজের জন্য নয় ; নিজের সন্তানের জন্য। তাই তো সারাবছর বেপরোয়া হয়ে ঘুরে বেড়ানো ছেলেটাও আজ বিপদে পড়ে নিজের সৃষ্টিকর্তার দুয়ারে এসেছে ; কারণ মানুষ যখন সব আশার দরজা বন্ধ হয়ে যেতে দেখে, তখনই অজান্তে তার চোখ গিয়ে থামে সেই একজনের দরজায় ; যাঁর দরজা কখনো বন্ধ হয় না।
–আরহামের মনটা ভীষণ অশান্ত লাগছে। বুকটা ক্রমশ ভারী হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে, বুকের ভেতর কেউ যেন পাথর চাপিয়ে দিয়েছে। শ্বাস নিতেও বড্ড কষ্ট হচ্ছে।
বারবার কানে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে আয়শার বলা কথাগুলো –
“সুস্থ করার মালিক আল্লাহ।”
“যার কাছে জীবন দেওয়ার এবং কেড়ে নেওয়ার সক্ষমতা আছে।”
“চাওয়ার হলে নিজ রবের কাছে চাও।”
আরহাম চোখ বন্ধ করে একবার গভীর শ্বাস টেনে নিলো।
তারপর ধীর পায়ে মসজিদের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করলো। মসজিদের পাশেই ছোট্ট একটা দোকান আছে ; যার সামনে সাজানো জায়নামাজ, টুপি, তসবিহ আর আতরের ছোট ছোট বোতল। দোকানদার গলা ছেড়ে পথচারীদের উদ্দেশ্য ডাকছেন –
“আইয়েন ভাই, জায়নামাজ-টুপি লন! তসবিহ লন, আতর লন… আইয়েন, দেহেন!”
ডাকটা আরহামের কানে যেতেই সে থেমে গেলো।
কি মনে করে যেন আরহাম মসজিদে যাওয়ার আগে
ধীরে ধীরে সেই ছোট দোকানটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।
হাতের কাছে থাকা একটা সাদামাটা জায়নামাজ তুলে নিয়ে তারপর একটা সাদা টুপি হাতে নিয়ে মাথায় পড়লো।
দোকানদার লোকটা একটু অবাক হলেও পরক্ষণে আবার হাসিমুখে বললেন –
“ভাইজান, এহানে নতুন নাকি? আগে তো দেহি নাই আপনেরে!”
“হুম।”
“কী লাগবো ভাইজানের? জায়নামাজ নিলেন, আর কিছু লাগবো?”
আরহাম হাতে থাকা জায়নামাজটার দিকে তাকিয়ে বললো,
“যা লাগবে তা নিয়ে নিয়েছি।”
বলেই পকেট থেকে ওয়ালেট বের করলো সে। ভেতরে থাকা টাকাগুলোর দিকে একবারও না তাকিয়ে প্রায় সবকটা হাজার টাকার নোট বের করে দোকানদারের হাতে ধরিয়ে দিলো।
দোকানদার টাকাগুলোর দিকে বিষ্ময়কর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো – “আয়হায় ভাইজান! আপনে মনে হয় ভুল কইরা দিয়া দিছেন। এত টাকা তো হয় নাই!”
“রেখে দেন।”
“না না ভাইজান! এইডা কেমনে হয়? গরিব হইলেও আমি কষ্ট কইরা হালাল ইনকাম করি। এত টেকা আমি নিতে পারুম না।”
বলেই লোকটা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য হাত বাড়ালে
আরহাম তার হাতটা থামিয়ে দিলো।
“আমার বাচ্চা অসুস্থ… তার জন্য দোয়া করবেন।”
কথাটা বলেই আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে সামনের দিকে পা বাড়িয়ে চলে গেলো।
পেছনে পড়ে রইলো হতবাক দোকানদার রহমান মিয়া।
তার হাতের মুঠোয় কয়েক হাজার টাকার নোট।
চোখ দুটো ধীরে ধীরে ছলছল করে উঠছে ; টাকাগুলোর দিকে তাকিয়ে তার মনে পড়লো গত রাতের কথা।
রহমান মিয়ার আম্মা পাশের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি। টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছিলো না সে। ওষুধপত্রের খরচ জোগাড় করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে দোকানে কয়েকদিন ধরে তেমন কোনো বেচাকেনাও নেই।
গত রাতেও মায়ের বিছানার পাশে বসে অসহায়ের মতো কেঁদেছিলো রহমান।
মাকে চিকিৎসা করাতে না পারার কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল তার। তখন ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বৃদ্ধা মা কেবল বলেছিলেন – “মাইয়া মাইনষের মতো কান্দিস না, রহমান। আল্লাহ ঠিকই ব্যবস্থা কইরা দিবো। টাকার ব্যবস্থা হইবো।”
–হ্যাঁ! ব্যবস্থা হয়ে গেছে কিন্তু এত দ্রুত? এত অদ্ভুতভাবে?
রহমান মিয়া কাঁপতে থাকা হাতের মুঠোয় টাকাগুলোর দিকে তাকিয়ে রইলো! তারপর ধীরে ধীরে আকাশের দিকে কৃতজ্ঞতার সহিত তাকালো ; চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু।
“আল্লাহ… তুমি সত্যিই ব্যবস্থা কইরা দিছো!”
–আরহাম তো কেবল নিজের সন্তানের জন্য রবের কাছে চাইতে এসেছিলো, অথচ সে জানতেও পারলো না ; সৃষ্টিকর্তা তার চাওয়ার পথে আরেক অসহায় মানুষের প্রয়োজনটুকুও পূরণ করে দিলেন তার মাধ্যমে!
রহমান মিয়া হঠাৎ সামনে এগিয়ে যেতে থাকা আরহামের দিকে তাকিয়ে প্রাণপণে গলা ছেড়ে ডাক দিলো –
“ভাইজান! আল্লাহ আপনার বাইচ্চারে সুস্থ কইরা দিক।”
আরহামের পা দুটো এক মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে চাইলেও, সে পেছনে ফিরে তাকালো না।
শুধু ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠলো।
–মাথায় সাদা টুপি, হাতে নতুন জায়নামাজ আর বুকভরা অস্থিরতা নিয়ে ছেলেটা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে সেই দরজার দিকে, যে দরজায় সে জীবনে খুব কমই কড়া নেড়েছে। অথচ আজ…
নিজের সন্তানের জন্য প্রথমবার কড়া নাড়তে এসেছে!
রুম নং ২০৩…
মানসিক এবং শারীরিক ধকল আর সহ্য করতে না পেরে আলিশা জ্ঞান হারিয়েছে। বর্তমানে, তাকে ডাক্তারদের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ আর দুশ্চিন্তায় শরীরে গা-কাঁপানো জ্বরও এসেছে তার।
আয়শা মেয়ের শিয়রে বসে নীরবে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছেন। চোখের পানি মুছতেও যেন তার ইচ্ছে করছে না। শুধু নিথর হয়ে মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে আছেন।
এক নিমিষেই যেন হাসি-খুশি পরিবারটা থমকে গেছে!
একদিকে স্বামী, সন্তান আর নাতি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। অন্যদিকে, মেয়েটাও হসপিটালের বেডে অচেতন হয়ে পড়ে আছে!
আয়শার শরীরটাও যেন আর সইছে না ; দুশ্চিন্তা, কান্না আর ছুটোছুটিতে শরীর ভেঙে পড়েছে। তবুও বিশ্রাম নেওয়ার কথা তার মনে আসছে না।
এদিকে, নীলা আই.সি.ইউ-এর বাইরের সিটিং এরিয়াতে বসে আছে। বারবার কাঁচের দরজার ওপারে তাকাচ্ছে। ভেতরে বেশিক্ষণ থাকার অনুমতি দিচ্ছে না ডাক্তাররা। নিজের স্বামীকে চোখের সামনে রেখেও তার কাছে যেতে না পারার অসহায়ত্ব মেয়েটাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে।
–শাইনা জরুরি তলবে বাড়ি ফিরে গেছেন। মেহরোজা আক্তার নাকি কিছু একটা আঁচ করতে পেরেছেন। সকাল থেকেই সবাইকে একবার দেখার জন্য বায়না ধরেছেন। তাই পরিস্থিতি সামলাতে শাইনাকে বাড়ি যেতে হয়েছে।
এদিকে, ইজাজ খানও বসে নেই।
নিয়াজ খান আর আরশাদকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার সব ব্যবস্থা তিনি করে ফেলেছেন। আগামীকাল সকালে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দুজনকেই সিঙ্গাপুরে শিফট করা হবে। কিন্তু ডোরা? ওর কী হবে?
নাতির কথা মনে পড়তেই ইজাজ খানের বুকটা আষাঢ় হয়ে এলো।
–আয়শা মেয়ের শিয়র থেকে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন। মেয়ের কপালে হাত বুলিয়ে হসপিটালের করিডোর ধরে এগিয়ে গেলেন এন.আই.সি.ইউ-এর দিকে ;
স্বচ্ছ কাঁচের ওপারে ছোট্ট একটা বেডে শুয়ে আছে অচেতন আরশান। এতটুকু একটা শরীর, অথচ কত বড় যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছে! গলা থেকে শুরু করে এক হাত পর্যন্ত পুরোটা ব্যান্ডেজে মোড়ানো। ছোট্ট নাকের ওপর অক্সিজেন মাস্ক লাগানো। মেশিনের সঙ্গে সংযুক্ত অসংখ্য তার আর মনিটরের ওঠানামা করা রেখাগুলো দেখেই আয়শার বুকটা মোচর দিয়ে উঠলো।
এতক্ষণ নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করলেও আদরের নাতিকে এভাবে দেখে আর পারলেন না তিনি ; কাঁচের ওপর কাঁপা হাতটা রাখলেন।
চোখের সামনে ভেসে উঠলো আরশানের হাসিমুখ।
যে বাচ্চাটা সবাইকে নিজের দুুষ্টুমিতে মাতিয়ে রাখে ; আজ সেই বাচ্চাটাই নিথর হয়ে পড়ে আছে!
আরহাম মসজিদে নামাজ আদায় শেষে এখনো জায়নামাজের ওপর স্থীর হয়ে বসে আছে।
মোনাজাতে হাত উঠাতে চেয়েও পারছে না সে। দুহাত যেন বুকের কাছে এসে বারবার থেমে যাচ্ছে। কী চাইবে? কীভাবে চাইবে? কোনো শব্দই যেন খুঁজে পাচ্ছে না। শুধু ঠোঁট দুটো তিরতির করে কাঁপছে। বুকের ভেতরটা অসহ্য যন্ত্রণায় মোচড় দিয়ে উঠছে বারবার।
“বা…বা…”
“বা…বাবা… দোরা বাবা কুলে দাই…”
নিজের ধ্যানে মগ্ন থাকা আরহাম এক পলকে চমকে আশপাশে তাকালো! ডোরা…এটা ডোরার আওয়াজ!
এই তো ডোরা ডাকছে…
আরহাম অস্থির চোখে আবারও চারপাশে তাকালো। মসজিদের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত। কোথাও তো নেই!
না…ডোরা এখানে নেই। সবই তার ভ্রম।
–আচমকা আরহাম ঢুকরে কেঁদে উঠলো।
কাঁদতে কাঁদতে এক পর্যায়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়লো সে। কপালটা জায়নামাজে ঠেকিয়ে কোনো কথা না বলে শুধু ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো। শরীর কাঁপছে তার। বুকের ভেতর জমে থাকা সমস্ত ভয় আর অসহায়ত্ব যেন চোখের পানি হয়ে বেরিয়ে আসছে।
কান্নারত অবস্থায় জড়িয়ে আসা কণ্ঠে কোনোমতে বললো – “আ…আমার বাচ্চা… আল্লাহ! আমার বাচ্চা…”
কিছুক্ষণ থেমে আবারও কাঁপা কণ্ঠে বলে উঠলো,
“আপনি রাগ করেছেন, মাবুদ? আপনি কি আমার সাথে অনেক রাগ করেছেন?”
“আমি আরশানের আগমনের খবরে অখুশি হয়েছিলাম। অকৃতজ্ঞ হয়েছিলাম। আপনার দেওয়া রহমতকে দুহাতে ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলাম… এমনকি আমার বাচ্চাটাকে মেরে ফেলতেও চেয়েছিলাম..”
“আপ…আপনি কি আমার সেই ভুলের শাস্তি দিচ্ছেন, ইয়া রব?”
আরহাম সেজদা থেকে ধীরে ধীরে মাথা তুললো।
কান্নার তোড়ে ফর্সা মুখটা লালবর্ণ ধারণ করেছে। চোখ দুটো ফুলে উঠেছে। অশ্রুতে ভিজে গেছে গাল।
তার কানে বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ডাক্তারের বলা কথাটা- “বেবি সারভাইভ করতে পারবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে নিজের ছোট্ট অংশের রক্তাক্ত দেহখানি। একটা ছোট্ট শরীর, তার নিজের রক্ত…তার সন্তান!
আরহাম কাঁপা হাতে মোনাজাতে হাত তুললো।
“আ…আমি পাপী। আমি গুনাহগার। কিন্তু আমার বাচ্চাটা তো নিষ্পাপ, আল্লাহ। আমার ভুলের শাস্তি ওকে দিয়েন না…”
–কান্নার তড়ে কথা জড়িয়ে আসলেও আরহাম থামলোনা।
“আমি আপনার উপহারে অসন্তুষ্ট হয়েছিলাম বলেই কি এত বড় শাস্তি দিলেন, আল্লাহ? আমাকে ক্ষমা করুন।”
দুহাতের তালুতে অশ্রু পড়ছে একের পর এক।
“আ…আমি আরশানকে অনেক ভালোবাসি। আমার কলিজার টুকরো ও। আমি আপনার দেওয়া উপহারের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে থাকতে পারিনি, মুখ ফেরাতে পারিনি..আমি ছোট্ট প্রাণটার মায়াতে ভীষণভাবে আটকে গিয়েছি।”
“আমার বাচ্চাকে আমি অনেক ভালোবাসি, আল্লাহ। আমি আর কোনোদিন আপনার দেওয়া অমূল্য রতনের অবহেলা করবো না। কখনো না। শুধু আমার বাচ্চাটাকে ফিরিয়ে দিন না…”
কিছুক্ষন নীরব থেকে আবারও বললো,
“ইয়া আল্লাহ… আপনি তো সর্বশক্তিমান। আপনিই জীবন দেন, আপনিই জীবন রক্ষা করেন। আপনার হুকুম ছাড়া তো একটা পাতাও নড়ে না, ইয়া রব।”
“আমার বাচ্চাটাকে আমার বুকে ফিরিয়ে দিন… ওকে সুস্থ করে তুলুন, মালিক। আমার কলিজার টুকরোটাকে আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন না। ওর মায়ের বুক খালি করিয়েন না। ওর মায়ের বুকে ওকে ফিরিয়ে দিন…”
আরহাম চোখ বন্ধ করে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো –
“আমি পাপী, ইয়া মাবুদ। আমার যত ভুল, যত গুনাহ ; সবকিছুর শাস্তি আমায় দিন। আমার ওপর আপনার যত রাগ, যত অভিমান… সব আমার ওপর দিন, কিন্তু আমার আরশানকে শাস্তি দেবেন না, ইয়া মাবুদ…”
–চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে অবিরত।
“ও তো এখনো অনেক ছোট, ইয়া আল্লাহ। ওর জীবনটা এভাবে থামিয়ে দেবেন না, আল্লাহ।”
–ফোঁপানির কারনে শ্বাস আঁটকে আসলেও আরহাম বলে চলেছে – “আমার বাচ্চাটাকে আমাদের থেকে কেড়ে নিয়েন না…ওকে আমাদের বুকে ফিরিয়ে দিন।”
“একবার, শুধু একবার আমার বাচ্চাটা চোখ মেলে আমার দিকে তাকাক।”
–আরহাম বলছে আর ঢুকরে কাঁদছে। মসজিদের চারপাশে তখন এক অদ্ভুত নীরবতা। আশপাশে কেউ নামাজ পড়ছে, কেউ তসবিহ পাঠ করছে, আবার কেউ নিজেদের দোয়াতে মগ্ন। আরহামের ফুঁপানো আর এক বাবার অসহায় আর্তনাদে আশপাশের সকলে একবার চোখ তুলে তাকালো ; পরক্ষনেই আবার নিজ নিজ ইবাদতে মগ্ন হয়ে পড়লো।
দীর্ঘক্ষণ মোনাজাত শেষে ধীরে ধীরে হাত নামিয়ে নিলো আরহাম। চোখ মুছতে মুছতে একবার আশপাশে তাকালো।
অদ্ভুতভাবে তার মনের অস্থিরতা কিছুটা হলেও কমেছে।
আরহাম ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো।
একবার নিজের জায়নামাজটার দিকে তাকালো।
তারপর পিছু ফিরে চলে যেতে নিলে পেছন থেকে মসজিদের ইমাম ডেকে উঠলেন – “দাঁড়াও!”
আরহাম পিছু ফিরে দাঁড়ালো। তবে কিছু বললো না।
ইমাম সাহেব জায়নামাজটার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“তোমার জায়নামাজ ফেলে যাচ্ছো, ছেলে।”
আরহাম শান্ত কণ্ঠে বললো –
“এখানেই থাকুক। অন্যরা ব্যবহার করতে পারবে।”
মসজিদের ইমাম সাহেব একবার চেয়ে দেখলেন আরহামের দিকে। এই ছেলেটাকে কিছুক্ষণ আগেও তিনি দেখেছেন ভেঙে পড়তে।
তিনি ধীরে ধীরে আরহামের কাছে এগিয়ে, স্নেহভরে মাথায় হাত রেখে বললেন –
“আমি জানি না তোমার কিসের এত কষ্ট, কিসের এত আর্তনাদ। আমি জানতেও চাই না। কারণ তুমি যার কাছে আর্জি জানিয়েছো, একমাত্র তিনিই পারবেন তোমার সব কষ্ট দূর করতে।”
আরহাম মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। কিছুক্ষণ পর খুব আস্তে বললো,
“কিন্তু আমি যে গুনাহগার বান্দা। আমার কথা কি আল্লাহ শুনবেন?”
ইমাম সাহেব এমন উত্তরে মৃদু হাসলেন।
“রবের কাছে তার সব বান্দাই সমান। গুনাহের ভয়ে যদি মাফই না চাও, তবে তুমি ক্ষমা পাবে কী করে?”
একটু থেমে তিনি আবারও বললেন,
“মন থেকে চেয়ে দেখো। সৃষ্টিকর্তা বান্দাকে খালি হাতে ফেরান না।”
আরহাম আর কিছুই বললো না। শুধু চোখ নামিয়ে আস্তে
“আসি” বলেই ধীর পায়ে সেখান থেকে প্রস্থান করলো।
ইমাম সাহেব স্থির দৃষ্টিতে তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলেন। আস্তে আস্তে আরহামের উপস্থিতি মিলিয়ে যেতেই
তিনি মৃদুস্বরে আকাশের দিকে চেয়ে বললেন,
“আল্লাহ! আপনার এই বান্দাকে ফিরিয়ে দিয়েন না।”
আলিশা পিটপিট করে চোখ খুলেছে। মাথাটা ভীষণ ভার হয়ে আছে ; চারপাশটা কেমন ঝিমঝিম করছে। চোখ মেলে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে তাকিয়ে রইলো সে।
মেয়েকে নড়েচড়ে উঠতে দেখে আয়শা দ্রুত আলিশার পাশে এসে দাঁড়ালেন।
“মা আমার, এখন কেমন লাগছে?”
আলিশা কোনো উত্তর দিলো না। নীরবে চারপাশটা পর্যবেক্ষণ করলো, হঠাৎ করেই যেন সবকিছু মনে পড়ে গেলো তার। আচমকা উঠে বসতে চাইতেই হাতের ক্যানুলাটাই টান লেগে সেখান থেকে হালকা রক্ত বেরিয়ে আসলো।
“আহহ।”
আয়শা দ্রুত মেয়েকে ধরে সামলে নিলেন।
“কী করছো এসব? নিজের অবস্থা দেখো একবার।”
“আমার বাচ্চা… ডোরা। বাবা… ভাই।”
“সবাই ঠিক আছে। তুমি শান্ত হও, মা।”
“ডো… ডোরা কোথায়? আমার ছেলে কোথায়? আমাকে ওর কাছে নিয়ে যাও।”
“নিয়ে যাবো। একটু অপেক্ষা করো।”
আলিশা আর নিজেকে সামলাতে পারলো না। মাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললো।
“সব… সব আমার দোষ, মাম্মা। আমি কেন আমার বাচ্চাটাকে একা রেখে গিয়েছিলাম?”
আয়শা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলেন।
“তোমার কোনো দোষ নেই, শান্ত হও। যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখন এসব নিয়ে ভেবোনা।”
“আমার বাচ্চা, মাম্মা… আমার বাচ্চার অনেক রক্ত গিয়েছে।”
হঠাৎ আলিশা ছটফট করে উঠলো।
“আমার ছেলের কাছে যাবো আমি। ও একা ভয় পাচ্ছে…ছাড়ো আমাকে।”
কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আলিশা নিজের হাতের ক্যানুলাটা টেনে খুলে ফেললো। ক্ষতস্থান থেকে আবারও রক্ত বেরিয়ে আসছে। তবে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করেই হতদন্ত পায়ে ছুটে গেলো এন.আই.সি.ইউর দিকে।
–এন.আই.সি.ইউর কাঁচের দেয়ালের কাছে গিয়ে থমকে দাঁড়ালো সে। কাঁচের ওপাশে ছোট্ট ডোরার নিথর দেহটা দেখে আলিশার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠছে ক্ষনে ক্ষনে।
কেন সে খেয়াল রাখতে পারলো না?
কেন নিজের বাচ্চাটাকে একা ফেলে গিয়েছিলো?
ডোরার এমন অবস্থার জন্য সে’ই তো দায়ী!
চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে ডোরার আদুরে মুখখানা….
অতীত…
সকাল ছয়টা।
আলিশা কাল পুরো রাত ঘুমাতে পারেনি। সারারাত বাবা-ভাইয়ের চিন্তায় তার দুচোখের পাতা এক হয়নি। আরহাম বলেছে সকালে তাকে নিতে আসবে। আর এখন সকাল হয়ে গেছে।
তার মানে আরহাম যেকোনো সময় চলে আসতে পারে…
এই ভেবেই আলিশা ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠে বসলো।
পাশেই ডোরা এলোমেলো ভঙ্গিতে ঘুমিয়ে আছে। এতক্ষণ মায়ের বুকে মুখ গুঁজে শুয়ে ছিলো সে। কিন্তু আলিশা উঠে যাওয়ায় যেন তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলো। ঠোঁট ফুলিয়ে পাশ ফিরে মায়ের বুক খুঁজতে শুরু করলো সে।
“মাম… মাম…”
আলিশা এক পলক ছেলের দিকে তাকিয়ে তার কপালে আলতো করে চুমু খেয়ে আদর করে দিলো।
“এই তো মাম্মা আছি।”
“মাম তুত্ত।”
বলেই ডোরা নিজের ছোট ছোট হাত দিয়ে মায়ের বুকের জামা নিয়ে টানাটানি শুরু করলো।
“এখন না, ডোরা।”
নিজের কাঙ্ক্ষিত খাবার না পেয়ে ডোরা এবার পিটপিট করে চোখ খুলে মায়ের দিকে ছলছল দৃষ্টিতে তাকালো।
“মাম… বাবা।”
ডোরা উঠে গেছে দেখে আলিশা আর তাকে ঘুম পাড়ালো না। একটু পরেই আরহাম চলে আসবে ; তখন ডোরাকেও সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।
তাই আলিশা ডোরাকে কোলে নিয়ে ফ্রেশ করিয়ে তারপর খাইয়ে দিলো।
আলিশা নিজেও ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিয়েছে। এখন শুধু আরহামের অপেক্ষা।
এরই মধ্যে আলিশা মেহরোজা আক্তারকেও দেখে এসেছে। তিনি ফজরের নামাজ পড়ে আবার ঘুমিয়ে গেছেন।
এদিকে ডোরা খেলনা গাড়ি নিয়ে বেডের ওপর বসে খেলছে। আবার একটু পরপর নিজের গুলুমুলু হাত দিয়ে গাড়িটাকে থাবা মেরে বকাও দিচ্ছে।
আলিশা একপলক ছেলের দিকে তাকিয়ে রুমের মধ্যে পায়চারি করতে শুরু করলো। আরহামকে কলও দিয়েছে, কিন্তু সে রিসিভ করেনি।
ইতিমধ্যে, দুশ্চিন্তা করতে করতে আলিশার অবস্থা বেগতিক। সে পারছে না এখনই ছুটে বাবা-ভাইয়ের কাছে যেতে।
বেখেয়ালিভাবে হাঁটতে হাঁটতেই হঠাৎ বেডসাইড টেবিলের সঙ্গে পা লেগে পড়ে যেতে নিলে নিজেকে সামলাতে গিয়ে বেডের হেইড বোর্ড আঁকড়ে ধরলো সে।
আর ঠিক তখনই….
–ঝনঝন!
বেডসাইড টেবিলের ওপর থাকা কাঁচের ল্যাম্পটা নিচে পড়ে মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার!
হঠাৎ ল্যাম্প ভেঙে যাওয়ার বিকট শব্দে ডোরা ভয় পেয়ে কেঁদে ফেললো। গুলুমুলু ছোট ছোট দু’হাত মায়ের দিকে বাড়িয়ে আকুতি জানাচ্ছে – আ… আ… উউ… ই…”
তারপর কান্নার ফাঁকে আধো আধো গলায় মাকে ডেকে বলছে – “মাম্মা কুলে দাই…”
আলিশা দ্রুত ছেলেকে কোলে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলো।
“ডোরা ভয় পেয়েছে? এই তো মাম্মা আছি।”
ছোট্ট ডোরা মায়ের বুকে মুখ গুঁজে কাঁদতে কাঁদতে আওড়ালো – “বয় বয়… দোরা বয় পাইচি।”
আলিশা ছেলেকে শান্ত করে আবারও বেডে বসিয়ে দিলো ; খেলনাগুলোর মাঝে।
তারপর মেঝের দিকে একপলক তাকিয়ে দেখলো, চারদিকে কাঁচের টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
আলিশা ডোরার চারপাশে ভালো করে বালিশ দিয়ে ঘিরে ফেললো। তারপর ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো,
“এখানেই থাকবে। একটুও নড়বে না। ঠিক আছে?”
ডোরা খেলতে খেলতেই মাথা কাত করে সায় জানালো।
আলিশা তন্মধ্যে সার্ভেন্টকে ডাকতে বেরিয়ে গেছে। মেঝেটা দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে, নয়তো যে কেউ পায়ে কাঁচ ফুটিয়ে ব্যথা পেতে পারে।
আলিশা শান্তাকে (সার্ভেন্টকে) ডেকে নিয়ে যখন রুমের দিকে ফিরছিলো, তখনই তার কানে এলো ডোরার গলা উঁচিয়ে তীব্র কান্নার শব্দ।
আলিশার বুকটা ধক করে উঠলো!
এক মুহূর্তও দেরি না করে সে দৌড়ে কামরার কাছে গিয়ে থমকে দাঁড়ালো!
ডোরা ফ্লোরে পড়ে আছে…
ছোট্ট শরীরটা কাঁচের টুকরোর ওপর ছটফট করছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্ত বেরিয়ে মেঝে ভিজে যাচ্ছে।
আলিশার চলন্ত পা যেন সেখানেই থেমে গেছে…
কথা বলার শক্তি ফুরিয়ে গেলো তার। মনে হলো, মুহূর্তের জন্য তার হৃদস্পন্দনও থেমে গেছে!
“আরশান বাবা… কী হইয়া গেল এইডা?”
শান্তা চিৎকার করে ডোরার দিকে এগিয়ে গেলো।
শান্তার চিৎকারেই যেন আলিশার হুঁশ ফিরলো। কোনোমতে নিজের পা টেনে ডোরার কাছে গিয়ে বসে পড়লো সে।
ছোট্ট ডোরা ; যে কিনা একটু আগেও খেলনা গাড়ি নিয়ে খেলছিলো, সেই এখন ফ্লোরের কাঁচের ওপর গড়াগড়ি খাচ্ছে!
গলার পাশ থেকে শুরু করে হাতের অংশজুড়ে কাঁচের টুকরো ঢুকে আছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে তার ছোট্ট শরীর!
দৃশ্যটা দেখে আলিশার রীতিমতো শরীর কাঁপতে শুরু করেছে…
কাঁপা কাঁপা হাতে ডোরাকে আকড়ে ধরে গগনবিদারী চিৎকার করে উঠলো – “আমার বাচ্চাআআ! আমার ছেলে!”
ডোরা কোনো রেসপন্স না। শুধু কান্নায় তার ছোট্ট বুকটা কেঁপে কেঁপে উঠছে।
আলিশা দিশেহারা হয়ে চিৎকার করতে লাগলো,
“আম… আমার ছেলেকে বাঁচাও! কেউ বাঁচাও!”
শান্তা ছুটে গেলো গার্ড ডাকতে…এখনই হাসপাতালে যেতে হবে।
একটু পরেই –
হতদন্ত পায়ে শান্তার সঙ্গে রুমে প্রবেশ করলো আরহাম।
সে মাত্রই হাসপাতাল থেকে আলিশাকে নিতে এসেছিলো। কিন্তু পথিমধ্যে শান্তাকে ছুটে আসতে দেখে সেও তার পিছু পিছু ছুটে এসেছে।
রুমে ঢুকেই আরহাম যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো! সে স্তব্ধ।
সামনের দৃশ্যটা তার চোখের সামনে কয়েক মুহূর্তের জন্য সবকিছু থামিয়ে দিয়েছে…সে যেন পাথর বনে গিয়েছে!
রক্তে ভেজা তার ছোট্ট ডোরা…
আলিশার কোলজুড়ে নিস্তেজ হয়ে আসা বাচ্চাটা…
আর মেঝেজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ধারালো কাঁচের টুকরো।
আরহামের মনে হলো, এই দৃশ্যই যেন তার বুকের ভেতর থেকে সমস্ত নিঃশ্বাস কেড়ে নিচ্ছে…
কিন্তু পরমুহূর্তেই নিজেকে সামলে নিলো সে।
দ্রুত আলিশার কাছ থেকে রক্তাক্ত ডোরাকে কোলে তুলে, আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে ছুটলো হসপিটালের উদ্দেশ্যে।
–ডোরার চোখ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসছে।
তার শরীরের রক্তে আরহামের সাদা শার্ট লাল হয়ে ভিজে গেছে। আরহাম বাচ্চাটাকে বুকের সঙ্গে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বারবার কাঁপা কণ্ঠে আকুতি করতে লাগলো,
“এই ডোরা… ডোরা! চোখ খোল না, বাচ্চা। দেখ, বাবা এসেছি।”
–একবার…দুবার…তিনবার…বারবার ডাকতে লাগলো সে।
কিন্তু ডোরার চোখ আর খুললো না।
আরহামের বুকের ভেতরটা কেঁপে কেঁপে উঠছে ; শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠছে বারবার।
সে ডোরার কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বললো – “বাবা এসেছি তো… তোর কিছু হবে না। কিছুই হবে না। বাবা থাকতে তোকে কিছু হতে দেবো না।”
বর্তমান….
আরহামের গাড়ি মাত্রই হসপিটালের সামনে এসে থেমেছে। সে দ্রুত পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে ভেতরের দিকে। কতক্ষন সময় ধরে সে কারো খোজ নিতে পারেনি! মোবাইলের চার্জ শেষ তাই কাউকে কল করে খোজ নেওয়ার মতোও সুযোগ নেই।
আরহাম দ্রুত পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে…
তোমার আমার গল্প পর্ব ৫২ (২)
সামনে এগোতেই দেখতে পেলো পরিবারের সবাই একসাথে দাঁড়ানো! সামনে দুজন ডাক্তার কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছেন।
আরহাম সামনে এগোতেই তার কানে এসে ঠেকলো –
“Sorry, he is no more.”
