Home র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ৩৯

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ৩৯

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ৩৯
ইয়ুশরা রিমু

সায়র কিছুক্ষণ চুপচাপ বেলার দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এলো। বেলা সায়রের পায়ের শব্দ টের পেয়ে অজান্তেই দাঁত-মুখ শক্ত করে চোখ দুটো বন্ধ করে রাখলো। তার বুকের ভেতর অকারণে কেমন যেন ধুকপুক শুরু হয়ে গেল।
সায়র আরও একটু কাছে এসে থেমে যায়। বেলা ভাবলো, এবার হয়তো আবার কোনো দুষ্টুমি শুরু হবে। কিন্তু তার আগেই সায়র খুব আলতো করে বেলার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে সঙ্গে সঙ্গে সরে দাঁড়ায়।
বেলা কয়েক মুহূর্ত চোখ মুখ খিচে বন্ধ করেই স্থির হয়ে রইলো। সে হতভম্ব হয়ে গেছে ‌।তারপর ধীরে ধীরে চোখ মেলে সামনে তাকাতেই দেখলো, সায়র মুখে দুষ্টু হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।সায়র ফিক করে হেসে বললো,

— এত ভয় পেলে হয়? আরে, আমি তোর স্বামী, কোনো বাঘ-ভাল্লুক নই!
বেলার মুখ মুহূর্তেই লাল হয়ে উঠল। লজ্জা ঢাকতে সে রাগী চোখে তাকিয়ে বললো,
— আপনি একটা হনুমান!
সায়র ভুরু তুলে বললো,
— হনুমান?
— হ্যাঁ, হনুমান। সারাক্ষণ মানুষকে ভয় দেখান, আবার এখন সাধু সাজছেন!
সায়র হাসতে হাসতে বলল,
—বাহ! নিজের স্বামীকে এমন সুন্দর উপাধি দেওয়ার জন্য পুরস্কার পাওয়া উচিত তোর।
—পুরস্কার হিসেবে আপনার সঙ্গে আজ আর কথা বলব না।
—- সেটা তো অসম্ভব। প্রতিদিন এক‌ই কথা বলিস আর পাঁচ মিনিট চুপ থাকলেই তোর মুখ নিজে থেকেই কথা খুঁজে নেয়।
বেলা মুখ বাঁকিয়ে বললো,
— কে বলেছে?
—আমি বলেছি।
— আপনি নিজেকে অনেক বেশি বুদ্ধিমান মনে করেন।
— আর তুই নিজেকে খুব চালাক মনে করিস।
বেলা চোখ সরু করে তাকিয়ে বলল,

— আমি অন্তত আপনার মতো দুষ্টু লোক নই।
সায়র মুচকি হেসে বললো,
— ঠিক আছে, আজ থেকে দুষ্টুমি কমিয়ে দেব।
বেলা সঙ্গে সঙ্গে বললো,
— সত্যি?
—না।
বেলা অবাক হয়ে তাকাতেই সায়র হেসে ফেললো।
— তোর সঙ্গে দুষ্টুমি না করলে যে দিনটাই অসম্পূর্ণ লাগে!
বেলা রাগ দেখানোর চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত হেসে ফেলল।
—আপনি সত্যিই অসহ্য।
সায়র শান্ত গলায় বলল,
— তবুও তো আমার সঙ্গেই আছিস।আর এই দুষ্টু লোকটার সঙ্গেই আজীবন থাকতে হবে।
বেলা একটু থেমে মুখ ঘুরিয়ে বললো,
—- বেশি কথা বলবেন না। এখন ঘুমান।
সায়রও হেসে বললো,
—আচ্ছা।

পরদিন সকালটা যেন অন্যরকম আনন্দ নিয়ে শুরু হলো। কলেজে যাওয়ার জন্য বের হওয়ার সময় থেকেই বেলার মুখে চাপা হাসি, আর সায়র যতবারই তার দিকে তাকাচ্ছিলো, ততবারই বুঝতে পারছিল সাজেক যাওয়ার কথা মনে পড়লেই মেয়েটার মনটা ভালো হয়ে যাচ্ছে।
কলেজে পৌঁছে বেলা সরাসরি ইরাকে খুঁজতে শুরু করলো। করিডোরের একপাশে দাঁড়িয়ে ইরাকে দেখতে পেয়েই বেলা দ্রুত তাদের কাছে এগিয়ে গেল।
—কী রে ইরা, তোর বাসায় কী বলল? কাল থেকে তো কোনো খবরই দিচ্ছিস না!
ইরা আর কিছু বলার আগেই মুখে বিশাল একটা হাসি ফুটিয়ে বললো,
—রাজি!
বেলা কয়েক মুহূর্ত যেন কথাটাই বুঝতে পারল না। তারপর আনন্দে ইরার হাত ধরে বললো,
—সত্যি? তোর পরিবার রাজি হয়েছে?
—হ্যাঁ রে! অনেক বুঝিয়ে বলেছি। প্রথমে একটু আপত্তি করেছিল, কিন্তু পরে বলেছে যেতে পারি। তবে একটা শর্ত দিয়েছে বেশিদিন থাকা যাবে না।
বেলার চোখেমুখে সঙ্গে সঙ্গে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ল।
— বেশিদিন থাকবো না।আমরা ঘুরবো, ছবি তুলবো, পাহাড় দেখবো, তারপর চলে আসবো।
ইরাও হেসে বললো,
—এখন মনে হচ্ছে ট্রিপটা সত্যিই জমবে।

এরপর এলো ,সেই অনাঙ্ক্ষিত দিন যে দিনটার জন্য সবাই এতদিন ধরে অপেক্ষা করছিলো, সকাল থেকেই বাড়িটায় অন্যরকম ব্যস্ততা। সায়র আগেই গাড়ি প্রস্তুত করে রেখেছিলো। বেলা বারবার নিজের ব্যাগ খুলে দেখছিলো, কিছু বাদ পড়েছে কি না, আবার বন্ধ করে কয়েক মিনিট পরেই সেটি খুলে ফেলে। তার উত্তেজনা দেখে সায়র একসময় বিরক্তির ভান করে বললো,
—তুই যদি আর একবার ব্যাগটা খুলিস, ব্যাগটা আমি বাসায় রেখে যাব।
বেলা মুখ বাঁকিয়ে বললো,
—আপনি বুঝবেন না। মেয়েদের জিনিসপত্র অনেক থাকে। দেখলাম কিছু বাদ পড়েছেনি।
—জানি। সেই জন্যই তো তোর একটা ব্যাগের বদলে তিনটা ব্যাগ।
—তিনটা না, দুটো!
— তাহলে ,তৃতীয়টা????
বেলা একটু থেমে বললো,
—-ওটা তো সাজেকে গিয়ে শপিং করে ফেরা লাগবে।
সায়র কপালে হাত দিয়ে বলে, হায় আল্লাহ এই মেয়েটাকে নিয়ে আমি কি করবো।
বেলা ফিক করে হেসে উঠলো।সায়রের আফসোস করে কথা বরা শোনে।

সবাইকে বিদায় জানানিয়ে ওরা বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো।সারোয়ার খান, বাশার খান, এবং নাজনীন সুলতানা সবাইকে সাবধানে যেতে বললেন। মমতাজ বেগম মুখে খুব একটা উৎসাহ না দেখালেও সায়রকে কয়েকবার সাবধানে গাড়ি চালাতে মনে করিয়ে দিলেন।
অবশেষে বিদায়ের পালা শেষ করে সবাই গাড়িতে উঠলো।
সায়র ড্রাইভিং সিটে, পাশে বিহান আর পেছনের সিটে বেলা বসতেই গাড়ি ধীরে ধীরে বাড়ির সামনে থেকে বেরিয়ে গেলো।বেলা জানালার বাইরে তাকিয়ে উচ্ছ্বাসে বললো,
—আমরা সত্যিই যাচ্ছি!
বিহান সামনে থেকে বললো,
—হ্যাঁ, যাচ্ছি। তবে তুই যদি প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর একই কথা বলিস, তাহলে আমি গাড়ি থেকে নেমে যাবো।
বেলা ঘুরে তাকিয়ে বললো,
—তুমি চুপ করো। তোমার তো যাওয়ারই ইচ্ছা ছিলো না।
—ছিল না ঠিকই, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তোদের সামলানোর জন্য আমাকে যাওয়াই দরকার।
সায়র হেসে বললো,
—এই দুজনের ঝগড়া সামলানোর জন্য একজন বিচারকও সঙ্গে নেওয়া উচিত ছিল।
বেলা সঙ্গে সঙ্গে বললো,

—বিচারক তো আপনি। তবে আপনি সবসময় আমার বিপক্ষে রায় দেন।
—কারণ আ’সামি সবসময় তুই থাকিস।
—আমি আ’সামি?
—হ্যাঁ।
—কী অপরাধ করেছি?
সায়র গম্ভীর মুখে বলল,
—অতিরিক্ত কথা বলা।
পাশ থেকে বিহান হেসে উঠলো।
বেলা বিরক্ত হয়ে বললো,
—আপনাদের দুজনের সঙ্গে আমি আর কথা বলবো না।
বিহান বললো,
—এই ঘোষণা আমরা দিনে অন্তত দশবার শুনি।
গাড়ির ভেতর আবার হাসির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠলো।
কিছুক্ষণ পর তারা ইরার বাসার কাছে পৌঁছায়। ইরা আগেই তৈরি হয়ে রাস্তার পাশে অপেক্ষা করছিলো।তার পাশে ওর মা দাঁড়িয়ে আছে।গাড়ি থামতেই সে দ্রুত নিজের ব্যাগ নিয়ে উঠে পড়ল মা’কে বিদায় জানিয়ে।ইরা পেছনের সিটে বেলার পাশে বসেছে। সায়র বললো,

—সবাই প্রস্তুত?
বেলা উচ্ছ্বাসে বললো,
—একশো ভাগ!
গাড়ি আবার চলতে শুরু করলো। এবার যেন আনন্দ আরও বেড়ে গেলো। চারজনই একসঙ্গে নানা গল্পে মেতে উঠলো। কে সাজেকে কী করবে, কোথায় ছবি তুলবে, পাহাড়ের কোন জায়গাটা আগে দেখবে এসব নিয়ে চলল পরিকল্পনা।
বেলা বললো,
—আমি কিন্তু মেঘের সঙ্গে ছবি তুলবো।
বিহান সঙ্গে সঙ্গে বললো,
—মেঘকে আগে বলে রাখিস, তোর সঙ্গে ছবি তুলতে রাজি আছে কি না।
—তুমি একদম চুপ!
ইরা হেসে বলল,
—আমি কিন্তু বেলার ছবি তুলবো।
সায়র গাড়ি চালাতে চালাতে বলল,

—তাহলে আমার কাজ কী?
বেলা সঙ্গে সঙ্গে বলল,
—আপনি আমাদের ছবি তুলবেন।
–আমি?
—হ্যাঁ।
—-তাহলে তো আমি নিজেই ঘুরতে পারবো না।
বেলা একটু ভেবে বলল,
—আচ্ছা, আপনাকেও মাঝে মাঝে ছবি তুলতে দেবো।
সায়র হেসে বললো,
—অনেক বড় মেহেরবানি।
পথে বেশ কিছুটা যাওয়ার পর সবার পেটেই ক্ষুধা অনুভূত হলো। বিহানই প্রথম বলে উঠলো,

—কেউ কি খাওয়ার কথা ভাবছে?
বেলা সঙ্গে সঙ্গে বললো,
—আমি তো অনেকক্ষণ ধরে ভাবছি!
সায়র রাস্তার পাশে একটি হোটেল দেখে গাড়ি থামিয়ে দিলো।
—চলো, আগে খেয়ে নিই।
হোটেলের ভেতরে বসতেই বেলা মেনু হাতে নিয়ে বেশ আগ্রহের সঙ্গে খাবার দেখতে লাগল।
— নান রুটি আর চাপ খাবো।
ইরা বললো,
—আমিও।
বিহানও একই খাবার নিলো। সায়র সবার জন্য অর্ডার দিয়ে টেবিলে ফিরে এলো।কিছুক্ষণ পর গরম নান রুটি আর সুগন্ধযুক্ত চাপ টেবিলে আসতেই বেলার চোখমুখ আনন্দে ভরে উঠলো।

—আহা! এই খাবারটা একদম জমবে।
বিহান বললো,
—তুই খাবারের সামনে গেলে তো সবি ভুলে যাস। আজকে আবার সাজেকের কথা ভুলে যাসনা।
বেলা পরোটার টুকরো হাতে নিয়ে বললো,
—সাজেক মনে থাকবে, খাবারও মনে থাকবে। দুটোই গুরুত্বপূর্ণ।
ইরা হেসে বললো,
—বেলা, তুই সত্যিই বদলাবি না।
সায়র নীরবে সবার দিকে তাকিয়ে হাসছিল। কিছুক্ষণ চারজন পাহাড়ে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে গল্প করলো, এখন তারা একই টেবিলে বসে হাসতে হাসতে দুপুরের খাবার খাচ্ছে। মুহূর্তটা ছিলো একেবারে সাধারণ, অথচ অদ্ভুত সুন্দর।

খাওয়া শেষ করে সবাই আবার গাড়িতে উঠলো।গাড়িটা ধীরে ধীরে শহরের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বেলা জানালার কাঁচে মাথা ঠেকিয়ে দূরের পথের দিকে তাকিয়ে রইলো।
তার মুখে তখনও সেই উচ্ছ্বাসের হাসি। সায়র আর চোখে গাড়ির মিররতে বারবার দেখতে থাকলো সেই সুন্দর দৃশ্যটি।

দীর্ঘ যাত্রার পর পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে যখন তারা সাজেকের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন আকাশের রং বদলে সন্ধ্যার আবছা আলো নেমে এসেছে। চারপাশে পাহাড়ের কালচে অবয়ব, দূরে দূরে জ্বলে ওঠা ছোট ছোট আলো আর ঠান্ডা বাতাস সব মিলিয়ে পরিবেশটা মুহূর্তেই বদলে গেছে।গাড়ি থামতেই বেলা জানালা খুলে গভীর শ্বাস নিয়ে বললো,
—আহা! অবশেষে পৌঁছেছি!
ইরা ব্যাগ হাতে নেমে চারপাশ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলো।
—এখানে তো সত্যিই অসাধারণ!
বিহানও গাড়ি থেকে নেমে শরীরটা একটু টানটান করে বললো,
—এতক্ষণ গাড়িতে বসে থাকার পর এখন মনে হচ্ছে হাঁটতেই হবে।
সায়র গাড়ির দরজা বন্ধ করে চারপাশে একবার তাকায়। তারপর সবাইকে নিয়ে থাকার জায়গা খুঁজতে এগিয়ে গেলো।কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তারা একটি সুন্দর কটেজ পেল। বাইরে থেকে বেশ পরিপাটি, সামনে ছোট্ট বারান্দা, চারপাশে পাহাড়ি পরিবেশ। বেলা তো দেখেই খুশি।

—এই জায়গাটাই নেব!
ইরা বললো,
—আমারও পছন্দ হয়েছে।
কটেজের ভেতরে ঢুকে সবাই যখন ঘর দেখছিল, তখন বেলা হঠাৎ খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বললো,
—আমি আর ইরা এক রুমে থাকবো।
কথাটা শুনে সায়র এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেলো।বেলা সেটা খেয়ালই করলো না। সে তখন ইরাকে নিয়ে রুমের জানালা দেখছে।
—দেখ, এখান থেকে পাহাড় দেখা যায়!
সায়র দূর থেকে দাঁড়িয়ে দুজনের কথা শুনছিলো। বাইরে থেকে তার মুখ একেবারে স্বাভাবিক, কিন্তু ভেতরে ভেতরে বিরক্তি জমতে শুরু করেছে।সে এত দূর এসেছে, এত পরিকল্পনা করে এসেছে, আর এখন নিজের স্ত্রীই ঘোষণা করছে সে থাকবে বান্ধবীর সঙ্গে!মনে মনে সায়র বিড়বিড় করলো,
—বাহ! এত কষ্ট করে সঙ্গে নিয়ে এলাম, আর শেষ পর্যন্ত আমার জন্যই আলাদা থাকার ব্যবস্থা!
কিন্তু বেলাকে কিছু বলারও উপায় নেই। কারণ সে জানে, বেলা একবার জেদ ধরলে তাকে বোঝানো কঠিন।
সায়র কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ বললো,

—এই কটেজটা নেব না।
সবাই একসঙ্গে তার দিকে তাকায়।বেলা অবাক হয়ে বললো,
–কেন?
–আরও ভালো একটা জায়গা দেখি।
বিহান অবাক হয়ে বললো,
–এই জায়গাটা তো বেশ ভালোই।
—হ্যাঁ, কিন্তু রুমের ব্যবস্থা আমার পছন্দ হচ্ছে না।
বেলা সঙ্গে সঙ্গে বুঝে গেল কিছু একটা আছে।
—-আপনার আবার কী সমস্যা?
সায়র উত্তর না দিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেল।
বেলা ইরার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললো,
—এই মানুষটার মাথায় আবার কী ঢুকেছে?
ইরা হেসে বললো,

— কি জানি।
কিছুক্ষণ পর সায়র ফিরে এসে জানালো,
—একটা রিসোর্টে বড় কটেজ পেয়েছি। তিনটা আলাদা রুম আছে। সবাই আরামে থাকতে পারব।
বিহান বললো,
—তাহলে সেটাই ভালো।
ইরা মাথা নাড়লো।
–চলেন, দেখি।
সবাই আবার গাড়িতে উঠে নতুন জায়গার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা রিসোর্টে পৌঁছে গেলো। নতুন কটেজটা আগেরটার চেয়েও বড়। ভেতরে তিনটি আলাদা রুম, সামনে বসার জায়গা, আর বাইরে পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে থাকার মতো সুন্দর একটা বারান্দা।
ইরা সঙ্গে সঙ্গে একটা রুম পছন্দ করে ফেললো।

—এইটা আমার!
বিহান বললো,
–আমি পাশেরটা নেবো।
সায়র খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তৃতীয় রুমটার দিকে এগিয়ে যায়।বেলা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো।
তারপর ধীরে ধীরে সায়রের দিকে তাকিয়ে বললো,
—মানে?
সায়র ভান করে অবাক হলো।
–মানে কী?
—এখানে তো তিনটা রুম!
–হ্যাঁ।
—তাহলে আমি আর ইরা একসঙ্গে থাকবো।এই পরিকল্পনাটা ভেস্তে গেলো?
সায়র শান্ত গলায় বললো,
—পরিকল্পনা বদলেছে।
বেলার মুখটা সঙ্গে সঙ্গে কালো হয়ে গেল।

—আপনি ইচ্ছা করেই এই কটেজ নিয়েছেন!
সায়র কোনো উত্তর দিলো না। শুধু মুখে চাপা হাসি রেখে নিজের ব্যাগটা ঘরের ভেতর রেখে দিলো।
বেলা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলো।সে এতক্ষণ ভেবেছিল ইরার সঙ্গে থাকবে, রাতে গল্প করবে, হাসাহাসি করবে আর সায়র নিজের মতো থাকবে। কিন্তু এখন সেই পুরো পরিকল্পনায় যেন কেউ এক বালতি পানি ঢেলে দিয়েছে।
সায়র দূর থেকে তাকিয়ে ছিলো বেলার দিকে। এরপর এগিয়ে এসে এলো। সায়র অদ্ভুত চাহনি দেখে বেলা বললো,
— আপনি কী ভাবছেন?
সায়র নিরীহ মুখ করে বলল,
—কিছুই না।
বেলা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল। লোকটার মাথায় কোনো দুষ্টু পরিকল্পনা ঘুরছে নাকি।
সায়র চোখ টিপে বললো,

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ৩৮

— তুই কি ভেবেছিস বেলা আমি কিছু বুঝিনা? আমার সঙ্গে না থাকার জন্য এতো প্লান করলি। কিন্তু দুঃখিত আমি সেটা কোনো ভাবেই হতে দিচ্ছি না। আজ রাতে তুই আর আমি একি রুমে থাকবো। হানিমুনে এসেছি বলে কথা নিজের বিয়ে করা ব‌উকে একটু ভালো না বাসলে চলবে?
সায়রের লাগামহীন কথাবার্তা শুনে বেলা বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রইলো। হানিমুনে এসেছি মানে? লোকটা এই প্ল্যান করে ওকে এখানে নিয়ে এসেছে? সেটা জানলে কখনোই আসতো না সাজেকে।

র‌ইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ পর্ব ৪০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here