Home তোমার নামের রোদ্দুরে তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩০

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩০

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩০
আশফিয়া হিয়া

আসলাম শেখ নিজের ঘরে ডিভানে বসে বই পড়ছে। রুদ্ধ সকালের নাস্তা করে মাএই বাবার রুমে এল, ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইতেই তিনি রুদ্ধকে তার পাশাপাশি বসতে বললেন। রুদ্ধ তার পাশে বসতেই তিনি বই সরিয়ে রাখল। এর মাঝে রুমা বেগম স্বামীর জন্য চা ও ছেলের জন্য কফি নিয়ে এলেন। চা – কফি দিয়েই তিনি রুম থেকে বেরিয়ে গেল। বাবা – ছেলে একান্তে কথা বলুক, এর মাঝে তার থেকে কাজ নেই। আসলাম শেখ গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,

– ” তোমাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার ছিল।”
রুদ্ধ কফি মগে চুমুক দিয়ে বলল,
– ” শুনছি।”
– ” আমি তোমার বিয়ে ঠিক করেছি।”
– ” হঠাৎ।”
আসলাম শেখ অবাক হলেন বেশ, তিনি ভেবেছিলেন রুদ্ধ বিয়ের কথাটা শুনে উওেজিত হয়ে পড়বে, তবে ছেলেকে এই ব্যাপারে এতটা নির্লিপ্ত তিনি একদমই আশা করেননি। তিনি নিজেকে সামলে বললেন,
– ” বিয়ের বয়স হয়েছে বিয়ে দিতে হবে না? তোমার হাসিব আংকেলকে তো চেনোই তার বড় মেয়ে চিএার সাথে আমি তোমার বিয়ের ব্যাপারটা নিয়ে এগোতে চাইছি।”
– ” এবার আমিও বিয়েটা করতে চাই বাবা, তবে চিএাকে নয় আমি বিয়ে করলে একজনই করবো।”
আসলাম শেখ এবার রাগান্বিত কন্ঠে বললেন,

– ” মেয়েটা নিশ্চয়ই আরু?”
রুদ্ধ আরুর নাম শুনে তেমন অবাক হলো না, যেন সে এমনটা আগেই আশা করেছিল।
– ” সেটা তো তুমি জেনেই গিয়েছো।”
আসলাম শেখ ছেলেকে বোঝানোর স্বরে বললেন,
– ” দেখ আরু এখনো অনেক ছোট, দুনিয়ার ভালো – মন্দ বোঝার ওর বয়স হয়নি এখন ওর কাছে সব রঙিন মনে হচ্ছে, দুদিন পরে আবেগ কেটে গেলে সব ফিকে মনে হবে।”
– ” এটা কোনো আবেগ নয় বাবা, আবেগে গাঁ ভাসানোর ছেলে রুদ্ধ নয় এটা তুমি ভালো করেই জানো। আই রিয়েলি লাভ্স হার।”
আসলাম শেখ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
– ” বাবার সামনে এসব বলতে তোমার লজ্জা করছে না?”
– ” যা সত্যি তাই তো বলেছি এখানে লজ্জা পাবার কি আছে?”
আসলাম শেখ উওেজিত হয়ে বললেন,
– ” আমার সামনে থেকে দূর হও নির্লজ্জ ছেলে একটা। তোমাকে আমি যেন আরুর আশে পাশে একদমই না দেখতে পাই।”
রুদ্ধ রহস্যময় হেসে বলল,

– ” ঠিক আছে আমি যাবো না, কিন্তু তোমার ভাতিজি আমার আশে – পাশে ঘুর ঘুর করলে আমার কিছু করার নেই।”
আসলাম শেখ ধমকে উঠে বলল,
– ” রুদ্ধ। ”
তার চিৎকার শুনে রুমা বেগম দৌড়ে এলেন,
– ” কি হয়েছে চিৎকার করছেন কেনো?”
– ” নিজের ছেলেকে সামলাও ও নিজেও জানে না ও কি করছে, তোমার ছেলে আরুকে বউ বানাতে চাইছে।”
– ” আচ্ছা ওরা যদি দুজন দুজনকে চায়, সেখানে আমরা বাঁধা দেওয়ার কে?”
– ” ওহ তুমিও তাহলে এসব জানতে, জেনে শুনে ছেলেকে প্রশ্রয় দিয়েছো, দুজনই আমার চোখের সামনে থেকে বিদায় হও আমার কাউকে সহ্য হচ্ছে না এখন।”
কথায় কথা এখন বড় ঝামেলা বাঁধতে পারে তাই রুমা বেগম আর কোনো কথা না বারিয়ে রুদ্ধর হাত ধরে টেনে বাইরে নিয়ে এলেন।

প্রতিদিনের মতো আরু আজও কলেজ থেকে এসে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। মিতা বেগম মেয়েকে কিছুক্ষণ আগে ডেকে এসেছে ঘুম থেকে উঠার জন্য, আরুর স্যার আসার সময় বিকাল পাচঁটায়। এখন পাঁচটা বেজে পেনেরো মিনিট হতে চলল তবুও মেয়েটার ঘুম থেকে উঠার নাম নেই। তিনি এবার গিয়ে ধমকে আরুকে উঠালেন। আরু টলতে টলতে কোনোরকম উঠে বসল। হাত – মুখ ধুয়ে চুল গুলো পরিপাটি করে আঁচলে ড্র‍য়িং রুমে গিয়ে বসল। তবে পাঁচটার জায়গা ছয়টা বেজে গেল তবুও আরুর স্যারের দেখা নেই। আরু আবার সোফাতেই ঘুমিয়ে পড়েছে। ঘুম আজ তার চোখ জোড়া থেকে সরছেই না। কিছুক্ষণ পরেই মিতা বেগমের ফোণ বেজে উঠল। ফোণ রিসিভ করে কথা বলতেই তিনি অবাক হয়ে গেলেন, কি বলবেন কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলল। মায়ের আচমকা চ্যাঁচামেচি শুনে আরু হকচকিয়ে উঠে বসল। রুমা বেগম ও ছুটে এলেন। আসলাম শেখ আজ আর অফিসে যাননি তিনি বাড়িতেই ছিলেন, তিনি এলেন আস্তে ধীরে।

– ” কি হয়েছে এভাবে চিৎকার করলি কেনো?”
– ” আরুকে যে ছেলেটা পড়ায় তামিম নাম, তাকে নাকি কেউ হুমকি দিয়েছে আমাদের বাড়ির আশে – পাশে ওকে দেখলে মেরে হাসপাতালে পাঠাবে বলেছে। ”
রুমা বেগম ভীত স্বরে বলল,
– ” ওমা সেকি হঠাৎ এমনটা কেউ কেনো বলবে, নিশ্চয় কোনো বোখাটেদের কাজ এটা, দাঁড়া আমি রুদ্ধকে বলছি ব্যাপারটা দেখতে।”
আসলাম শেখ বিরবির করে বলল,
– ” বেড়ালের কাছে মাছের গল্প শোনাতে যাচ্ছে, এই কাজ যে আমার গুণধর পুএ করেছে সেটা আমি ভালো করেই বুঝতে পারছি, আর কেনো করেছে এটাও বুঝেছি।”
– ” সে না হয় ঠিক আছে আপা তুমি রুদ্ধকে জানিও তবে সামনে মেয়েটার পরিক্ষা এখন আমি নতুন টিচার কোথায় পাব?”
আসলাম শেখ বললেন,

– ” সব ব্যাপারেই তোমাদের শুধু শুধু চিন্তা তামিম ছেলেটাকে ফোণ করে বলো আরুকে পরিক্ষার কয়েকদিন পড়াতে, এখানে ওর কিছু করতে পারবে না। আমি দেখছি ব্যাপারটা।”
ভাসুরের কথা শুনে মিতা বেগম আবারোও তামিমকে ফোণ করলেন, তবে ছেলেটা পণ করেছে সে কিছুতেই আসতে পারবে না, কথা বার্তা শুনেই মনে হচ্ছে সে ভীষণ ভয় পেয়েছে। মিতা বেগম এটাও বললেন তোমাকে কে শাসিয়েছে তাকে চিনলে নামটা অন্তত বলো কিন্তু ছেলেটা সেটাও বলতে চাইল না শেষমেষ হতাশ হয়ে মিতা বেগম ফোণটাই রেখে দিলেন।
আরু বলল,
– ” তাহলে এখন কি হবে আম্মু আমি কার কাছে পড়বো?”
– ” দেখছি দাঁড়া রুদ্ধকে বলে দেখি।”
রুমা বেগম বললেন,
– ” রুদ্ধকে বললেই ও একটা ব্যবস্থা ঠিক করে দেবে ওর কত বন্ধু – বান্ধব আছে। ”

ড্র‍য়িং রুমে সকলেই উপস্থিত রয়েছে। সন্ধ্যার এ সময়ে সকলে একএিত হয়ে চা – নাস্তা খেয়ে থাকে। রুদ্ধ মাএই গাড়ির চাবি আঙুলের ডগায় ঘুরাতে ঘুরাতে সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করল। তাকে দেখেই মিতা বেগম বলল জরুরি কিছু কথা আছে৷ রুদ্ধ বলল সে ফ্রেশ হয়ে আসছে। রুদ্ধ ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে এল তার গলায় টাওয়াল জড়ানো৷ সামনের চুলগুলো হালকা ভেজা , পরণে টাউজার ও টি – শার্ট। আরু তাকে দেখে আরেক দফা ক্রাশ খেল। রুমা বেগম ছেলের জন্য কফি বানিয়ে নিয়ে এল। আরুর বাবা আজাদ শেখ কিছু বলবে তার আগেই আরু ফট করে বলে বসল,
– ” রুদ্ধ ভাই জানেন কি হয়েছে, আমার স্যার আছে না? তাকে কে জানি শাসিয়েছে আমাদের বাড়িতে আশা নিয়ে, সে এখন আমাকে পড়াবে না বলছে। ”
কথার মাঝে মেয়ের বা – হাত ঢুকানোর পরেও আজাদ শেখ বিরক্ত হলেন না, তার মেয়েটা তো এমনই চঞ্চল স্বভাবের। তিনি নরম স্বরে বলল,

– ” আম্মা আমি কথা বলছি তো।”
আরু চুপ হয়ে গেল। রুদ্ধ নিরব থেকে বলল,
– ” কি হয়েছে?”
আজাদ শেখ একে একে তাকে সব বলল। সবটা শুনে রুদ্ধ বলল সে ব্যাপারটা দেখবে। এরমাঝে রুমা বেগম বলল,
– ” হ্যাঁ রে বাবা মেয়েটার তো সামনে পরিক্ষা এখন ওর জন্য টিচার কোথায় পাব। পরিক্ষার কটাদিন তুই ওকে পড়াবি?”

– ” ঠিক আছে এই কয়েকদিন আমি সময় বের করে পড়াব।”
মিতা বেগম খুশি হয়ে বললেন,
– ” যাক বাবা বাঁচা গেল, আমি এবার নিশ্চিত হলাম তুই পড়ালে আমার এত টেনশনও থাকবে না।”
সবাই খুশি হলেও খুশি হতে পারল না আরু। রুদ্ধর কাছে সে পড়বে কি? রুদ্ধকে সামনে পেলেই তো তার শুধু ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকতে মন চাই। আর তাছাড়া সেদিনের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর থেকে সে তো রুদ্ধর কাছাকাছি আর সহজভাবে থাকতেও পারবে।

আজ বৃহস্পতিবার রুদ্ধর বন্ধু তুষারের গায়ে হলুদ। হলুদের অনুষ্ঠানের জন্য ঘরোয়া আয়োজন করা হয়েছে। শুধুমাত্র বন্ধু – বান্ধব, কাজিন ও পরিবারের লোকেরা থাকবে অনুষ্ঠানে। হলুদের প্রোগ্রাম বিকেলে করা হবে। তুষার সকাল থেকে রুদ্ধকে একের পর এক কল দিয়েই যাচ্ছে আরুকে যেন সাথে নিয়ে আসে তবে প্রতিবার গম্ভীর গলায় রুদ্ধর একই উওর, দেখছি। শেষমেষ বেচারা এটাও বলেছে আরুকে একা আনতে সমস্যা হলে তুই তোর অন্য কাজিনদেরও নিয়ে আয় তবুও আরুকে নিয়ে আসতেই হবে।
ঘড়িতে এখন দুপুর দুটো বেজে এিশ মিনিট। বাড়ির সকলে একসাথে লাঞ্চ করতে বসেছে। আসলাম শেখ আজও অফিসে যাননি। অফিসটা কিছুদিন তার ছেলে ও ভাইয়েরা মিলেই সামলে নিবে। আজ রুদ্ধ একবেলা অফিস করেই বাড়িতে চলে এসেছে, রুদ্ধ সকলের সামনে বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলল,

– ” তুষারকে মনে আছে তোমার বাবা?”
আসলাম শেখ মনে করার চেষ্টা করে বললেন,
– ” তোমার সেই ইউনিভার্সিটির ফ্রেন্ড না?”
– ” হ্যাঁ। ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে, আজ হলুদের প্রোগ্রাম, কাল বিয়ে।”
– ” বাহ্ বেশ ভালো তো, তোমার বন্ধুরা বিয়ে করে সেটেল্ড হয়ে যাচ্ছে, এবার তুমিও বিয়েটা করে নাও।”
কথাটা শুনতেই আরুর খাওয়ার হাত জোড়া থেমে গেল। সে একপলক রুদ্ধর দিকে তাকাল। রুদ্ধ বাবার কথা গুরুত্ব না দিয়ে নিজে থেকেই বলল,
– ” আজকের প্রোগ্রামে ইয়াজ, আহি, রুহানি, আরুকে সহ ইনভাইট করেছে,তুমি পারমিশন দিলে ওদের নিয়ে যেতে পারি। ”
আসলাম শেখ এখন আরুকে রুদ্ধর সাথে একা কোথাও যেতে দিতে নারাজ তবে ওদের সাথে যেহুতু বাকিরাও থাকছেন তাই তিনি আর অমত প্রকাশ করলেন না।

– ” ঠিক আছে সবাইকে যেহুতু বলেছে তাহলে তোমরা যেতেই পারো, তবে বেশি রাত করা যাবে না তিনটা মেয়ে সাথে যাচ্ছে। ”
রুদ্ধ ঘাড় কাঁত করে সম্মতি জানাল।
মিতা বেগম বললেন,
– ” মেয়ে দুটোকে দেখে শুনে রাখিস বাবা। দুটোই হয়েছে একইরকম কোথাও ওদের নিয়ে যেয়ে শান্তিতে একদন্ড বসা যায়।”
রুদ্ধ মাথা নেড়ে বলল,
– ” তুমি চিন্তা করো না মেঝ মা আমি ওদের খেয়াল রাখব।”
রুহানি বলল,
– ” আমিও তো যাচ্ছি আমি ওদের দেখে রাখব।”
রুদ্ধর সাথে কোথাও বের হবে শুনে আরু ভীষণ খুশি। রুদ্ধর সাথে তার বাইরে যাওয়া হয় না বহুদিন হলো। খাওয়া শেষ করে আরু নিজের রুমে যাচ্ছিল, ঠিক সেইসময় রুদ্ধও সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছিল। আরুকে দেখে সে থমকে দাঁড়াল। আরুর মাথায় অনুষ্ঠানে কি পড়ে যাবে সে সব ঘুরছে, তাই রুদ্ধকে দেখেও তেমন খেয়াল করতে পারেনি। রুদ্ধ তার হাত টেনে ধরল। আরু তার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই রুদ্ধ বলল,

– ” কিসের এত তাড়া তোর আমায় চোখে পড়ছে না?”
– ” আমি আসলে খেয়াল করিনি।”
– ” কেনো?”
আরু মিনমিনে স্বরে বলল,
– ” এমনি।”
রুদ্ধ তার ছেড়ে দিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল,
– ” শাড়ি পড়ার দরকার নেই আজ।”
– ” আজ আমি এমনিতেও শাড়ি পড়তাম না। সেদিন তো বাড়ির অনুষ্ঠান ছিল তাই শাড়ি পড়েছিলাম।”
– ” গুড।” বলেই সে আরুকে পাশ কাটিয়ে নিজের রুমে চলে গেল। আরু তার ভাব দেখে ভেংচি কাটল। নিজেই আটকাবে আবার নিজেই ভাব দেখিয়ে চলে যাবে, এটা কেমন লজিক সে আজও বুঝতে পারল না।”

হলুদের প্রোগ্রামের জন্য আরু সাদা রঙের হালকা কাজ করা গাউন পড়ল। তার সাথে ভারী কাজ করা বাসন্তী রঙের দো পাট্টা পড়ল, দু কানে ঝুমকো, হাতে সাদা ও বাসন্তী রঙের মিলিয়ে চুরি পড়েছে। আজ বেশ গরম পড়েছে, তাই বেশি সাজগোজ করেনি সে একদম সাধারণ ভাবেই সেজেছে। আহি, রুহানির পরনেও একই পোশাক তবে তাদের দোপাট্টার রঙে ভিন্নতা রয়েছে। সাজগোজ শেষ হতেই তিন বোন একসাথে নিচে নেমে এল। মিতা বেগম তিনজনকে একসাথে দেখে মাশাল্লাহ বলে উঠল।
– ” বাহ্ আমার তিন মেয়েকেই খুব সুন্দর লাগছে।”
তিনজনই মুচকি হাসল, মিতা বেগম আরু ও আহিকে বললেন,
– ” নতুন জায়গায় যাচ্ছো ভালো হয়ে থাকবে, একদম এদিক ওদিকে যাবে না সবসময় রুদ্ধ অথবা রুহানির সাথে সাথে থাকবে বুঝেছো?”

আরু আহি দুজনেই মাথা নাড়ল। এর মাঝে রুদ্ধ সিঁড়ি দিয়ে নেমে এল, তাকে দেখেই আরুর বুকের ধরফর করতে লাগল। রুদ্ধর পরনে আজ সাধারণ সাদা পাঞ্জাবি ও পায়জামা। সাদা রঙে রুদ্ধকে এতটা সিগ্ধ লাগছে যে আরু চোখ সরাতেই পারছে না। রুদ্ধর ও একই অবস্থা আরুকে দেখে তার দৃষ্টি জোড়া থমকে গেছে। সে চোখের পলক না ফেলেই এক দৃষ্টিতে আরুর দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তার হৃৎস্পন্দন খুব দ্রুত গতিতে চলছে। আহি ও রুহানি তাদের দেখে মিটিমিটি হাসতে লাগল। আসলাম শেখ ড্র‍য়িং রুমে এসে উপস্থিত হলেন। বাচ্চাদের গলার স্বর শুনেই তিনি নিজের রুম থেকে বের হয়েছে। রুদ্ধ ও আরুকে এভাবে একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে তিনি হালকা কেঁশে উঠল। তার কাশির শব্দ শুনে আরু ও রুদ্ধর ধ্যান ভাঙল। আরু ভীষণ লজ্জা পেল সে মাথা নিচু করে নিল। রুদ্ধ আসলাম শেখের দিকে তাকাতেই তিনি ছেলেকে চোখ রাঙাল। রুদ্ধ অন্যদিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল, পরক্ষণেই নিজেকে সামলে গম্ভীর গলায় সকলের উদ্দেশ্যে বলল,

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ২৯

– ” আমি গাড়ি বের করছি তোরা আয়, বাবা আসছি।”
– ” এসো ছেলে – মেয়েগুলোকে দেখে রেখ, আর বেশি রাত করো না।”
– ” ঠিক আছে।”

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here