তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩৭
আশফিয়া হিয়া
সকাল থেকে শেখ বাড়িতে আজ ব্যস্ততার শেষ নেই। আত্নীয় – স্বজনে সম্পূর্ণ বাড়িটা গিজ গিজ করছে আজ। পুরো বিল্ডিং সুন্দর করে লাইটিং করা হয়েছে। বাগানে প্যান্ডেল সাজানো হচ্ছে, এসব তদারতির দায়িত্বে আছে রুদ্ধ ও ইয়াজ। এই নিয়ে বাড়ির সবার হাই – হুতাশের শেষ নেই। যেই ছেলের বিয়ে সেই ছেলে কিনা নিজের বিয়ের সাজসজ্জায় নিজে তদারতি করবে? আরু ভেবে পায় না মানুষটা এমন কেনো তার কি বিন্দুমাএ লজ্জা নেই? এই যেমন সে লজ্জায় ঘর থেকেই বেরুতে পারছে না, সেখানে রুদ্ধ দিব্য নিজের বিয়ের তদারতি নিজেই করছে। আসলাম শেখ অবশ্য ছেলেকে বলেছিলেন,
– ‘ তোমার এসব করতে হবে না আমরা দেখছি তুমি নতুন বর, বরের মতো থাকো।”
রুদ্ধও বাবার কথা শুনে মুখের ওপরেই বলল,
– ” তোমাদের বয়স হয়েছে এখন এতটা ধকল নেয়াটা ঠিক হবে না। তাছাড়া নিজের বাড়ির বিয়ে এখানে নতুন বর সেজে লজ্জা পেয়ে বসে থাকার কিছু হয়নি, তাহলে আজ আর কোনো কাজই হবে না।”
আসলাম তাজ্জব চোখে ছেলের দিকে চেয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। রুদ্ধর সেদিকে খেয়াল নেই সে নিজের কাজে ব্যস্ত। আসলাম শেখ মনে মনে ভাবলেন,
– ” কোথা থেকে এল এই ছেলে?”
বিয়ে ও গায়ে হলুদের রান্না – বান্না করার জন্য বাবুর্চি ঠিক করা হয়েছে, তারা এসে খাবারের তালিকা, কত মানুষের আয়োজন করতে হবে সেসব নিয়ে কথা বলতে এসেছে। বাবা – চাচাদের সাথে সেখাও রুদ্ধ উপস্থিত ছিল। আসলাম শেখ ছেলের কান্ডে বেশ বিরক্ত হলেন তারা কি কিছুই পারে না? আজাদ শেখ ভাতিজার কান্ড দেখে মুখ টিপে হাসলেন। তবে মুখে বললেন না কিছুই। বাবুর্চিদের সাথেও রুদ্ধ এক দফা চ্যাঁচামেমি করছে। রুদ্ধ যেটা বলছে তারা সেটায় একমত হতে পারছে না। আরু রুদ্ধর চ্যাঁচামেচি শুনে বেলকনিতে দৌড়ে এল। তার পিছু পিছু আহি ও রুহানিও এল। আরুর পড়নে ঘোরোয়া সাদা – মাটা থ্রিপিস। রুহানি আরুকে বলল,
– ” আমার ভাইয়ের কান্ড দেখেছিস? নিজের বিয়ের কাজ নিজেই করছে।”
আহি বলল,
– ” ইশস ভাইয়া কি কিউট তাই না, নিজের বিয়ের দায়িত্ব নিজেই নিয়ে নিয়েছে। ভাইয়া মনে হয় বিয়ে করার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছে না।”
আরু অতিষ্ট ভঙ্গিতে কপাল চাঁপরাল। নিজের বিয়েতে নিজে কাজ করে এটা সে এই প্রথম দেখছে তাও কি না নিজের হবু স্বামীকে? আহিকে বলল তার ফোণটা ঘর থেকে এনে দিতে। আহি দৌড়ে গিয়ে আরুর ফোণ এনে দিল। আরু কোনো কিছু না ভেবেই রুদ্ধর নাম্বারে কল লাগল। প্যান্টের পকেটে ফোণ বাইব্রেট হতেই রুদ্ধ চ্যাঁচামেচি থামিয়ে ফোণ বের করল। আরুর নাম্বার দেখতেই চোখ জোড়া দোতালার বারান্দায় চলে গেল। রুদ্ধকে ওপরে তাকাতে দেখে আহি ও রুহানি ভেতরে চলে গেল। আরুকে দেখতে পেয়েই রুদ্ধ চোখ – মুখে শীতলতা নেমে এল। আরু তাকে ইশারায় বলল উপরে আসতে। রুদ্ধও ভদ্র ছেলের মতো মাথা নেড়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেল।
দোতলার করিডর এখন নিরব হয়ে রয়েছে । বাড়ির সকলেই নিচে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত রয়েছে । আরু দোতলার করিডরে রুদ্ধর জন্য অপেক্ষা করছে। রুদ্ধকে ওপরে আসতে দেখে আরু স্থির হয়ে দাঁড়াল। রুদ্ধ দিকে এগিয়ে এসে ভ্রু নাচিয়ে বলল,
– ” কি হয়েছে ডেকেছিস কেনো? আমাকে মিস করছিস?”
আরু তার কথায় পাট্টা না দিয়ে বলল,
– ” আপনার কি একটুও লজ্জা নেই? নিজের বিয়ের কাজ কেউ নিজে করে? ওখানে তো বাবা – চাচ্চু, ইয়াজ সবাই আছে।
রুদ্ধ সেসব তোয়াক্কা না করেই বলল,
– ” এখানে লজ্জার কি আছে, আমার বাড়িতে একটা বিয়ে হচ্ছে, সেখানে সব কাজ আমি বাবা – চাচ্চুদের ওপর দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকব তাই তো? এসব আমি পারবো না।”
– ” বিয়েটা তো আপনার নিজের। ”
– ” তো?”
আরুর মাথায় হঠৎ করে দুষ্টু বুূদ্ধি খেলে গেল। সে রুদ্ধ জ্বালানোর উদ্দেশ্য বলল,
– ” অবশ্য একদিক দিয়ে ঠিকই আছে, আজ যদি আমার অন্য কারোর সাথে বিয়ে হতো আমার বিয়ের সব কাজ তো আপনাকেই করতে হতো। বড় ভাই বলে কথা।”
রুদ্ধ কটমট করে চেয়ে বলল,
– ” হোয়াট রাবিশ বড় ভাই মানে?”
– ” হ্যাঁ আপনি আমার বড় চাচ্চুর ছেলে, এই বাড়ির বড় ছেলে, আমি আপনার মেঝো চাচ্চুর বড় মেয়ে সেই হিসেবে সম্পর্কে তো আপনি আমার বড় ভাই হোন। বড় ভাইয়ের তো ছোট বোনের বিয়েতে কিছু দায়িত্ব আছে তাই না ভাইয়ায়ায়ায়া।”
সঙ্গে সঙ্গেই রুদ্ধ এক ধমক দিয়ে বলল,
– ” এক চড় মারব বেয়াদব।” ধমক খেয়ে আরুর মুখটা চুপসে গেল। মেয়েটা মিনমিন করে বলল,
– ” বিয়ের আগে এভাবে কেউ ধমক দেয়? আমি আপনাকে বিয়েই করবো না।”
রুদ্ধ আচমকা কোমর টেনে কাছে নিয়ে এল। আচমকা রুদ্ধর এহন স্পর্শে আরুর শরীরজুড়ে শিরশির অনুভূতি হলো। মেয়েটা হালকা কেঁপে উঠল। রুদ্ধর হাতের আঙুল জোড়া স্থির নেই আরু কোমরে আলতোভাবে সাইড করে চলেছে। আরু মনে মনে ভেংচি কেটে বলল, সাধেই কি ওনাকে গিরগিটি বলি, কেবলমাএ ধমক দিয়ে এখন আবার আহ্লাদ করা হচ্ছে? আরু তার দু হাত রুদ্ধর বুকে ঠেকিয়ে বলল,
– ” কেউ এসে পড়বে।”
রুদ্ধ চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
– ” তো কাকে বিয়ে করবি? তোর ওই মামাতো ভাই রোহানকে?”
আরু হতাশ হয়ে রুদ্ধর দিকে চেয়ে রইল। খোঁচাখোঁচি করতে এই মানুষটা বেশ পটু। সে একটা সামান্য কথা বলেছে সেটা টেনে কোথায় নিয়ে গেল। আরু বিরক্ত কন্ঠে বলল,
– ” রোহান ভাইয়ার কথা এখানে কেনো আসছে, উনাকে আমি বিয়ে করতে যাব কেনো, ওনাকে কি ভালোবাসি নাকি?”
– ” তাহলে কাকে ভালোবাসিস?”
– ” জানিনা।”
রুদ্ধর কোমর আরও শক্ত করে চেপে ধরে বলল,
– ” বল?”
– ” আপ..আপনাকে।”
রুদ্ধর বুকের ভেতরটা অজানা সুখে শীতল হয়ে এল। তাদের মাঝে দূরত্ব একেবারে কমিয়ে শক্ত করে আরুকে জড়িয়ে ধরল। আরুর কাঁধে মুখ গুজে দিল। আরুর কাঁধের ওড়না আগেই কিছুটা সরে গিয়েছিল। উন্মুক্ত কাঁধে রুদ্ধের গরম নিশ্বাস পড়তেই মেয়েটা কেঁপে উঠল। রুদ্ধর পিঠে দুহাতে আগলে ধরে বলল,
– ” কেউ এসে পড়তে পারে। ”
রুদ্ধর কানে সে আওয়াজ পৌছাল না। সে আরুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেই ঘোর মিশ্রিত স্বরে বলল,
– ” আজ তোকে অন্যরকম লাগছে কেনো?”
আরু অবুজ গলায় বলল,
– ” কো.. কোথায় ঠিকই তো লাগছে।” রুদ্ধ এভাবে ধরে থাকায় রুদ্ধর গরম নিশ্বাস মেয়েটার চোখে – মুখে পড়ছে, সাথে কোমরে রুদ্ধর হাতের স্পর্শ পেয়ে আরুর কথাগুলো জড়িয়ে যাচ্ছে। রুদ্ধ তাকে নিজের আরেকটু কাছে টেনে বলল,
– ” উমহু ইউ আর লুকিং লাইক মাই লিটল ওয়াইফ।” রুদ্ধর নিচু স্বরে বলা কথাখানায় আরুর পুরো শরীর জুড়ে অদ্ভুত এক শীতল হাওয়া বয়ে গেল। চোখগুলো অজানা সুখ, অনুভূতিতে ভরে উঠল। রুদ্ধর পিঠের শার্ট একহাতে মুঠো করে চেপে ধরল সে। সিঁড়ি থেকে কয়েক জোড়া পায়ের শব্দ আসছে, ওপরে আসছে কেউ। পায়ের শব্দ পেতেই রুদ্ধ বিরক্ত হয়ে আরুকে ছেড়ে দিল। বিরবির করে বলল,
– ” ধুর এরা আসার আর সময় পেল না।”
আরু রুদ্ধর বিড়বিড় করে বলা কথা শুনে নিশব্দে হেসে নিকের ঘরের দিকে চলে গেল।
আহি রুহানির রুম থেকে বের হয়ে নিজের রুমের দিকে যেতে নিলেও কি মনে করে একবার ইয়াজের রুমে উঁকি দিল। ইয়াজের রুমের দরজা হালকা করে চাপানো। আহি ফাঁকা জায়গা দিয়ে উঁকিঝুকি দিল তবে ইয়াজের দেখা পেল না। তাই ভাবল আর একটু এগিয়ে যাবে। কিছুটা এগিয়ে যেই উঁকি দিতে যাবে ওমনি কেউ তার হাত টেনে ভেতরে নিয়ে গেল। আহি ভয়ে চোখ – মুখে খিঁচে নিল। হঠাৎ করে হাতে এভাবে টান পড়ায় মেয়েটা ভয় পেয়েছে ভীষণ। ইয়াজ তো কখনো এমটা করে না এসব ভেবে আরও ভীত হলো মেয়েটা। হঠাৎ ঘরে সুইচ টেপার শব্দ হলো পুরো ঘর আলোকিত হয়ে উঠল। সেই আলোয় আহি ইয়াজকে দেখতে পেয়ে স্বস্তির শ্বাস ফেলল। ইয়াজ ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
– ‘ তুই আমার রুমে উঁকি মারছিলি কেনো?”
আহি আমতা আমতা করে বলল,
– ” আ..আমি কেনো উঁকি দিতে যাব, তোমাকে নিচে খুঁজছিল তাই ডাকতে এলাম।”
– ” আচ্ছা?”
আহি এদিক ওদিক দৃষ্টি ঘুরিয়ে বলল,
– ” হুম।”
ইয়াজ তার হাত টেনে বিছানায় বসাল। নিজের আলমারী থেকে একটা প্যাকেট বের করল। আহি বসে বসে তার কান্ড দেখতে লাগল। ইয়াজ প্যাকেটের ভেতর থেকে এক জোড়া পায়েল বের করল। আহির দৃষ্টি জোড়া সেখানেই থমকে গেল। তার শরীরটা হঠাৎ করেই কেমন নিস্তেজ মনে হচ্ছে। ইয়াজ পায়েল জোড়া হাতে নিয়ে মেয়েটার পায়ের কাছে বসে পড়ল। দু পায়ে পায়েল জোড়া পড়িয়ে দিল। পুরোটা সময় আহি জড়ো পদার্থের মতো বসে ছিল। তার ভেতরকার অনুভূতি সে কিভাবে প্রকাশ করবে? এই ছেলেটা হঠাৎ করেই তাকে কেমন দূর্বল করে তুলছে। পায়েল জোড়া পড়িয়ে ইয়াজ আহির হাত জোড়া নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,
– ” এই পায়েলটা কেনো পড়িয়েছি জানিস ? ”
আহি দুদিকে মাথা নাড়াল অথাৎ সে জানে না। মেয়েটার চোখগুলো ছলছল করছে যেন এখনই এক ফোটা জ্বল গড়িয়ে পড়বে। ইয়াজ মৃদ্যু হেসে বলল,
– ‘ এই পায়েলগুলোই তোকে সবসময় আমার কথা মনে করিয়ে দিবে। তোর আমার হয়ে থাকার প্রমাণ এটা, এই পায়েলটা কখনো খুলবি না কথা দে অন্তত আমি যতদিন থাকবো না ততদিন।”
আহির চোখ দিয়ে এবার পানি গড়িয়ে পড়ল। দু হাতে মুখ ডেকে মেয়েটা ফুঁপিয়ে উঠে বলল,
– ” তুমি বার বার আমাকে কেনো এসব মনে করিয়ে দাও, আমি তোমাকে ছাড়া কি করে থাকবো?”
ইয়াজ মেয়েটার মুখ থেকে হাত সরিয়ে চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল,
– ” ধুর পাগল এভাবে কান্না করতে আছে, পাঁচটা বছর দেখতে দেখতে কেটে যাবে, তুই ও ততদিনে বড় হয়ে যাবি। নিজের আবেগ ও অনুভূতি সম্পর্কে জানতে পারবি।”
– ” মানে?”
– ” কিছু না।’
– ‘ তুমি ভাবছো তুমি আমার আবেগ তাই না?”
ইয়াজ এদিক – ওদিক তাকিয়ে বলল,
– ” তেমনটা না..আমি আসলে..
আহি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,
– ” থাক আর কিছু বলতে হবে না, আমি বুঝে গেছি।” ইয়াজকে কোনো সুযোগ না দিয়ে মেয়েটা চলে গেল ইয়াজ পিছু ডাকলেও শুনলো না সে।
রান্নাঘরে সকলের জন্য দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হচ্ছে। আরু ও রুদ্ধর বিয়ে উপলক্ষে অনেক আত্নীয়রাই আজ থেকে আসা শুরু করেছে। আজ বিকেলের মধ্যেই সকলে এসে পড়বে বলে জানিয়েছেন। আজ দুপুর পর্যন্তই রান্নাবান্না করবে তারা। রাত থেকে বাবুর্চিরাই রান্নাবান্না করবে সব। মিতা বেগমের ভাইদেরও দাওয়াত করা হয়েছে। রোহান বাদে সকলেই আসবে জানিয়েছে, কাজের বাহানা দিয়ে রোহান বিয়েতে আসাতে মানা করে দিয়েছে। রুমা বেগমের ক্ষেএেও একই ব্যাপার ঘটেছে। তার বোন তাদের ওপর রেগে আছে নিধিকে রুদ্ধর বউ করতে চাওয়ার পর থেকেই তারা কেমন যেন পাল্টে গেছে। রুদ্ধ ও আরুর বিয়ের খবর শুনা মাএই রুমা বেগমের কানে আরুর নামে অনেক বিষ ঢালার চেষ্টা করেছে তবে রুমা বেগম সেসব কানে না নিয়ে কড়া গলায় বলে দিয়েছে,
– ‘ আমাদের বাড়ির মেয়ে আমাদেরই বুঝতে দে, যদি ইচ্ছে হয় তবে বিয়েতে আসিস আমার ভালো লাগবে।’ ব্যাস ওপাশ থেকে কেউ আর কিছু সুযোগ পায়নি।
রুমা বেগম মাংসের মশলা কষাচ্ছেন মিতা বেগম মাংসগুলো ধুয়ে এনে তার পাশে রেখে আমতা আমতা করে বলল,
– ” একটা কথা বলি আপা?”
– ” কি বলবি বল, এভাবে বলছিস কেনো?”
– ” বলছিলাম কি, আরু তো রান্না – বান্না তেমন পারে না, সংসার কিভাবে করতে হয় মেয়েটা এখনো বুঝে উঠতে পারেনি। অনেক কিছুই মেয়েটা এখনো বোঝে না, তোমার নিশ্চয় রুদ্ধর জন্য কোনো বুঝদার মেয়ে পছন্দ ছিল যে…
রুমা বেগম তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,
– ” তুই আমাকে কি ভাবিস বল তো? আমি এই বিয়ে খুশি নই তাই তো? আরু কেমন সেটা আমি ভালো করেই জানি সেটা তোর আমাকে নতুন করে বোঝাতে হবে না। ওর মতো এর লক্ষী মেয়ে আর পেতাম না এটাও আমি জানি। আরুর মনটা ভীষণ ভালো, ও আস্তে আস্তে সবটায় শিখে নিবে এটাও আমি জানি। তাছাড়া আমার ছেলে ওকে তার জীবনে এমনি এমনি বেছে নেয়নি। নিশ্চয় আরুর মাঝে ভিন্ন কিছু আছে অন্য কারোর মাঝে পায়নি সে।”
মিতা বেগম স্বস্তির শ্বাস ফেলল। মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল,
তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩৬
– ” আমার মেয়েটা খুব ভাগ্যবতী আপা তাই তো তোমাদের মতো শশুড় শাশুড়ি আর রুদ্ধর মতো বর পাচ্ছে।”
মা – চাচির কথা শেষ হতেই আরু আড়াল থেকে সরে গেল। সে রান্নাঘরে এসেছিল কোনো সাহায্য লাগবে কিনা দেখতে। মায়ের কথা শুনেই সে দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। আরু মুখে হাসি ফুটিয়ে মনে মনে বলল,
– ” তুমি দেখো মা আমি এই বাড়ির বেস্ট বউ হয়ে দেখাব।”
