Home তোমার নামের রোদ্দুরে তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩৯

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩৯

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩৯
আশফিয়া হিয়া

শেখ বাড়ির পরিবেশটা আজ অন্যদিনের তুলনায় জমজমাট। পুরো বাড়িতে আত্মীয় – স্বজন, বন্ধুবান্ধব এ ভরে উঠেছে। আজ আরু ও রুদ্ধর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। বাড়ির বাগানেই হলুদের অনুষ্ঠানের জন্য স্টেজ সাজানো হয়েছে। রুদ্ধ বন্ধুদের নিয়ে সোজা ছাদে চলে এল। পুরো বাড়ি ভর্তি মানুষ ছাদটাই আপাতত ফাঁকা রয়েছে। তুষার রুদ্ধর কাঁধ ধরে ঝুলে পড়ে বলল,
– ‘ পিচ্চি ভাবির সাথে প্রেমটা কেমন চলচ্ছে বন্ধু?’
সাদমান বলল,

– ‘ ওর দ্বারা প্রেম করা সম্ভব নাকি, আরুটার জন্য খুব আফসোস হয় কি দেখে যে এই নিরামিষের প্রেমে পড়ল।’
রুদ্ধ বিরক্ত হয়ে এক একজনের দিকে তাকাল। ফারিশ হাসতে হাসতে বলল,
– ‘ রুদ্ধ কি গভীর জলের মাছ এখনো তো বুঝেও উঠতে পারিনি , কিছু না করলে বাচ্চা মেয়েটা তো আর এমনি এমনি এই শালার জন্য পাগল হবে না? এক বছর আগেও মেয়েটা আমাকে প্রশ্ন করতো আচ্ছা ভাইয়া রুদ্ধ ভাইয়ার কি কোনো গার্লফ্রেন্ড আছে? আর এখন দেখ সেই মেয়ের চোখের কেমন কনফিডেন্স দেখতে পাই আমি, রুদ্ধর প্রতি আরুর দৃষ্টি দেখলেই বোঝা যায় রুদ্ধ শুধুমাএ আরুর।’
সাদমান রুদ্ধর কাঁধে চাপড় দিয়ে বলল,
– ‘ অবশ্যই এমন কিছু করেছে যেটাতে আরু বুঝতে পেরে গিয়েছিল তার নিরামিষ রুদ্ধ ভাই শুধুমাত্র তাকেই ভালোবাসে। পরপরই উওেজিত হয়ে বলল,
– ‘ কিভাবে বুঝিয়েছিস বন্ধু আমাকেও কিছু টিপস দে।’
তুষার ভ্রু কুঁচকে বলল,
– ‘ তুই আবার কাকে পটাতে চাইছিস?’
সাদমান বিরবির করে বলল,

– ‘ তোর বোনকে। তবে মুখে বলল,
– ‘ ভবিষ্যৎ যদি কাজে লাগে তাই আর কি। এইসব বাদ দে তো আরুর প্রশ্নের জবাবে তুই কি বলেছিলি?’
ফারিশ হেসে দিল। রুদ্ধও নিশব্দে হাসল। সেদিনটার কথা তার আজও মনে পড়ে। প্রথম প্রথম যখন সে আরুর অনুভূতি বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকত মেয়েটা কিছু না কিছু করে ঠিক তার নজরে পড়ে যেত। রুদ্ধর মনে হতো এগুলো আরুর অল্প বয়সের আবেগ, সময়ের সাথে সাথে সবটা এক সময় ফিঁকে পড়ে যাবে৷ চোখের সামনে রুদ্ধকে সারাক্ষণ দেখতে পাচ্ছে তাই হয়তো বা সেসব পাগলামি করছে। তবে পিচ্চিটা তার ভুল ঠিকই ভেঙ্গে দিয়েছে, যেটাকে সে আবেগ মনে করে স্বায় দেয়নি, সেটায় ছিল আরুর রুদ্ধর প্রতি গভীর ভালোবাসা। সেবার ফারিশ যখন তাদের বাড়িতে এল আরু সুযোগ বুঝে প্রশ্ন করেছিল,
– ‘ আচ্ছা ভাইয়া উনার কি গার্লফ্রেন্ড আছে?’
ফারিশ তাজ্জব হয়ে আরুর দিকে তাকাল। পরপরই বলল,

– ‘ কেনো বলো তো?’
– ‘ আমার তো মনে হয় আছে, আপনি তো উনার বন্ধু আপনি নিশ্চয় জানবেন? যদি গার্লফ্রেন্ড নাই বা থাকে তাহলে উনি নিশ্চয় আশে পাশেও খেয়াল করতেন তাই না?’
ফারিশ বিজ্ঞের মত মাথা নাড়ল। আশে পাশে বলতে যে আরু নিজেকে বুঝিয়েছে সেটা সে ভালোই বুঝতে পারছে। এরপর মৃদ্যু হেসে বলল,
– ‘ রুদ্ধটা তো এমনি, তবে ওর কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই তুমি নিশ্চিন্তে থাকতে পারো।’
আরু থতমত খেয়ে বলল,
– ‘ আ.. আমি কেনো নিশ্চিন্তে থাকতে যাব, আমি তো কৌতুহল থেকে জিজ্ঞেস করেছি।’
আরুর মুখটা দেখে ফারিশ ভীষণ মজা পেল আরও একটু মজা নিতে আরুকে বলল,
– ‘ ওহ আচ্ছা। রুদ্ধর কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই তবে পছন্দের মানুষ থাকলেও থাকতে পারে।’
আরুর মুখটা চিন্তিত হয়ে উঠল। আসলেই তো যদি উনার সত্যি পছন্দের মানুষ থাকে তখন তার কি হবে? তৎক্ষনাত রুদ্ধর আগমন ঘটল। সে এসেই শুধাল,

– ‘ কি নিয়ে কথা হচ্ছে?’
রুদ্ধকে দেখতে পেয়েই আরু ঘাবড়ে গিয়েছিল। ফারিশ তো বলেই দিল,
– ‘ তোর কোনো পছন্দের মানুষ আছে কি না আরু সেটা জিজ্ঞেসা করছিল।’
রুদ্ধ গম্ভীর হয়ে মেয়েটার দিকে তাকাতেই আরু তড়িঘড়ি করে বলল,
– ‘ দে..দেখুন আমাকে একদম বকবেন না কিন্তু। আমি তো এমনি জানতে চেয়েছিলাম এখন তো সবারই পছন্দের মানুষ থাকে তাই আরকি।’
রুদ্ধ চোখ ছোট্ট ছোট্ট করে বলল,
– ‘ তোর ও আছে?’
– ‘ হ্যাঁ আছেই তো.. রুদ্ধ চোখ গরম করে তাকাতেই বলল,
না না নেই তো। আমি যাই মা ডাকছে বলেই দৌড়ে পালিয়ে গেল মেয়েটা। আরু যেতেই ফারিশ শব্দ করে হেসে ফেলেছিল। রুদ্ধ ও হেসেছিল তবে সেটা ফারিশকে বুঝতে দেয়নি।’

আরু ও রুদ্ধর বিয়ে উপলক্ষে আরুর মামাতো বোন রুহাও এসেছে শেখ বাড়িতে। পিহুর সময় থেকে রুহা ইয়াজকে পছন্দ করে আসছে তবে তখন সময় ও সুযোগ কোনোটাই ছিল না তাই ইয়াজের সঙ্গে সেইভাবে কথা বলা হয়ে ওঠে নি। আহির কাছেও তো ইয়াজের নাম্বার চেয়েছিল মেয়েটা তবে আহির কাছেও পাওা পায়নি। তাই এবার ভাবল নিজেই ইয়াজের সঙ্গে কথা বলবে। ইয়াজ সকাল থেকে প্রচুর কাজ করেছে আপাতত ড্রয়িং রুমের এসি ছেড়ে, পাঞ্জাবির দুটো বাটন খুলে দিয়ে দু হাত পা ছড়িয়ে সোফায় বসে আছে। রুহা আশ – পাশটা দেখে নিয়ে ইয়াজের সামনে দিকে দাঁড়িয়ে লাজুক স্বরে বলল,

– ‘ আপনাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে শরবত করে আনি?’
আচমকা কিশোরীর রিনরিনে কন্ঠস্বর শুনে ইয়াজ চোখ মেলে তাকাল, তবে তার চোখ সামনে দাঁড়ানো মেয়েটির দিকে আটকাল না, তার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে রাগে ফুঁসতে থাকা মেয়েটির দিকে থমকে রইল। আহি আজও শাড়ি পড়েছে। মেরুন রঙের শাড়ি, চুলগুলো ছেড়ে দেয়া। দু হাত ভর্তি চুড়ি। পায়ে তার দেয়া সেই পায়েল জোড়া, যা ইয়াজের চোখে স্পষ্ট বিধল।উফ এই মেয়েটা মেরেই ফেলবে তাকে। ইয়াজ নিজের বুকে হাত ডলতে লাগল তার কেমন হাঁসফাঁস লাগছে। সেদিনও আহি শাড়ি পড়েছিল তবে আজকে তার এমন কেন লাগছে? ইয়াজকে বুকে হাত ডলতে দেখে রুহা উদ্ধিগ্ন হয়ে বলল,
– ‘ কি হয়েছে আপনার শরীর খারাপ লাগছে?’
ইয়াজ নিজেকে স্বাভাবিক করে আহিকে আরও একবার দেখে নিল। কিছু একটা মাথায় আসতেই মুখে হাসি ফুটিয়ে রুহাকে বলল,
– আমি ঠিক আছি। এমনিতেই গরম তার ওপর এমন রুপে এলে হাঁসফাঁস তো লাগবেই। খুব মিষ্টি মেয়ে তো তুমি। কত মিষ্টি করে কথা বলছো৷ এখনকার মেয়েরা তো মিষ্টি করে কথাই বলতে পারে না, শুধু ঝগড়া করার তালে থাকে।”

রাগে আহির শরীর জ্বলে উঠল। সে খুব ভালোই বুঝতে পারছে ইয়াজ তাকেই উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলেছে। রুহা ইয়াজের কথায় খুশিতে আচ্ছাদিত হয়ে বলল,
– ‘ আপনি একটু অপেক্ষা করুন আপনার জন্য শরবর নিয়ে আসছি, আপনার ভালো লাগবে।’ রুহা রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।
ইয়াজ আহিকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল,
– ‘ মেয়েটা কত লক্ষী তাই না?’
আহি শাড়ির আচল কোমরে খুঁজে এগিয়ে এল। ইয়াজ ভয়ে শুকনো ঢোক গিলল। আহি তার পাশে বসে ইয়াজের চুলগুলো দু হাতে চেপে ধরল।
– ‘ আমি ঝগড়া করি শুধু? শরবত খাবে তাই না? খাওয়াচ্ছি তোমাকে শরবত।’
– ‘ আহ্ ফাজিল মাইয়া ছাড় আমার চুল ব্যথা পাচ্ছি তো।’
– ‘ একি তোমরা মারামারি করছো কেনো?’
রুহার হাতে শরবতের গ্লাস দেখে আহির সমস্ত রাগ সেই গ্লাসে ওপরে গিয়ে পড়ল। রুহার হাত থেকে শরবতটা নিয়ে বলল,

– ‘ তোকে মামী কখন থেকে ডাকছে শুনতে পাস নি? যা দেখে আয়।’
– ‘ যাচ্ছি। শরবতটা উনার জন্য এনেছিলাম।
আহি দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
– ‘ সেটা আমি বুঝে নিব, তুই যা।’
রুহা মুখটা গোমরা করে ওপরে চলে গেল। আহি শরবতের গ্লাসটা নিয়ে ইয়াজ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার মাথায় ঢেলে দিল। ইয়াজ আর্তনাদ করে বলল,
– ‘ কি করলি এটা?’
– ‘ কি করেছি দেখতে পাচ্ছ না? আর ওর সাথে হা হা হি হি করবে?’
– ‘ তুই তো ভারী ডেঞ্জারাস মেয়ে মানুষ। আমার কপালটা এবার পুড়ল বোধ হয়। কোথায় আমাকে রেসপেক্ট দিয়ে চলবি সেখানে আমার সাথে কি যাচ্ছে তাই ব্যবহার করে যাচ্ছে। ছিহ্ ছিহ্ শেষ পর্যন্ত এই দুদিনের পিচ্চি মেয়েটাও আমার সঙ্গে এমন করছে?’
বিলাপ করতে করতে ইয়াজ নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। ইয়াজের বলা কথাগুলো শুনে না চাইতেও আহি হেসে ফেলল। আগে হলে ইয়াজও তাকে শরবতের গ্লাসে চুবিয়ে ছাড়ত আজ এত উন্নতি হলো কিকর?

আরুর পরনে আজ সাদা ও হলুদ মিশ্রণের শাড়ি। হাতে, দু কানে, গলায় কাঁচা ফুলের তৈরী গহনা। চুলগুলো স্টাইল করে বেঁধে পেছনে লম্বা বেনী গেঁথেছে। আরু ও রুদ্ধকে পাশাপাশি স্টেজে বসানো হয়েছে। রুদ্ধর পরনে সাধারণ সাদা পায়জামা ও পাঞ্জাবি। দু জনকে পাশাপাশি দেখে বাড়ির সকলে একযোগে মাশাল্লাহ বলে উঠল। রুমা বেগম মিতা বেগমকে বললেন,
– ‘ দুজনে কি সুন্দর মানিয়েছে দেখ?’
– ‘ হ্যাঁ আপা কারোর নজর না লাগুক।’
রুদ্ধ কিছুক্ষণ পরপরই আরুর দিকে তাকাচ্ছে। যথেষ্ট পরিমান বাতাস থাকা স্বও্বেও ঘেমে যাচ্ছে ছেলেটা। কেমন অস্থির অস্থির লাগছে তার। আরু তার অবস্থা দেখে বলল,
– ‘ কি হয়েছে আপনার?’
রুদ্ধ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
– ‘ আমার শান্তিতে থাকাটা তোর সহ্য হচ্ছিল না?’
আরু অবাক হয়ে বলল,
– ‘ আমি আবার কি করলাম?’
– ‘ এত সেজেছিস কেনো?’
– ‘ আমার বিয়েতে আমি সাজব না?’

– ‘ বিয়ের পর যত ইচ্ছে সাজবি, বিয়ের আগে তোকে এভাবে দেখলে আমি নিজেকে সামলাতে পারি না জান।’
আরু থতমত খেয়ে গেল রুদ্ধ তাকে কি বলে সমন্ধন করল এটা জান? মেয়েটা লজ্জায় মুখটা কাঁচুমাচু করে ফেলল। ফারিশ, সাদমান, তুষার স্টেজে উঠে রুদ্ধর পাশে বসে পড়ল। রুদ্ধকে বলল,
– ‘ কি নিয়ে এত ফিসফিস করছিস আমরাও একটু শুনি?’
রুদ্ধ বিরক্ত হয়ে বলল,
– ‘ সব কথা তোদের বলতে হবে?’
সাদমান আরুকে বলল,
– ‘ কি পিচ্চি ভাবী কেমন আছো?’
– ‘ ভালো, তবে আমি পিচ্চি নই। আপনারা কেমন আছেন ভাইয়া?’
আরুর কথার ধরনে সকলে হেসে ফেলল। তুষার টেনে টেনে বলল,
– ‘ সেই তো পিচ্চি হলে আমাদের বন্ধুটাকে সামলাবে কি করে? আরু অবুজ ভঙ্গিতে তাকাল। রুদ্ধ বন্ধুদের চোখ রাঙাল। তিনজনই মুখে হাত দিয়ে চুপ হয়ে গেল।

হলুদের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে এবার এল ছবি তুলার পালা। প্রথমেই শেখ বাড়ির সকল সদস্যদের নিয়ে ফ্যামিলি ছবি তোলা হবে। রুদ্ধ ও আরু এক কর্ণারে পাশাপাশি দাঁড়াল। এতজন মানুষ একসাথে হওয়াই ক্যামেরায় ধরছে না ক্যামেরাম্যান সকলকে একটু চেপে আসতে বলল। রুদ্ধ সেই সুযোগেই আরুর শাড়ি ভেদ করে কোমর চেপে ধরল। আরু চমকে উঠল রুদ্ধর হঠাৎ এহন কান্ডে। আরু রুদ্ধর হাতের ওপর হাত ধরে সরিয়ে দিতে চাইল। আরুর বাঁধা দেয়াটা রুদ্ধর পছন্দ হলো না আরুর কোমর খাঁমচে ধরল। ব্যাথায় আরু চোখ – মুখ খিঁচে নিল। আরু ব্যাথা পেয়েছে বুঝতে পেরে রুদ্ধ নিজের হাত শীথিল করে ফেলল। খাঁমছে ধরা জায়গায়টায় আঙুল দ্বারা সাইড করতে লাগল। আরু শিরশির অনূভুতি তাকাতেই রুদ্ধও তার দিকে দৃষ্টি দিল। চার জোড়া দৃষ্টি একে – অন্যতে থমকে রইল। সেভাবেই একের পর এক ছবিতে বন্দি হলো দুজন।
এবার বর – বউয়ের ছবি তোলা হবে। বড়রা সব নিজেদের মতো বাড়ির ভেতরে চলে গিয়েছে ছোটদের নিজেদের মতো সময় কাটাতে দিয়ে। বাগানে আপাতত আরু ও রুদ্ধর কাজিগুষ্ঠী ও রুদ্ধর বন্ধুরা আছে। আরু ও রুদ্ধ পাশাপাশি বসে আছে ক্যামেরা ম্যান বার বার বলছে একটু কাছাকাছি এগিয়ে আসতে। তবে রুদ্ধ সেভাবেই বসে রইল এগিয়ে এল। আরু তার নাটক দেখে মনে মনে ভেংচি কেটে বলল,
– ‘ঢং দেখো একটু আগেই আমার কোমরের অবস্থা বেহাল করে দিয়ে এখন এমন ভাব করছে যেন উনার মতো ডিসেন্ট ছেলে আর একটাও নেই।’ আরুই রুদ্ধর দিকে এগিয়ে গেল কিছুটা সঙ্গে সঙ্গে রুদ্ধ তার কোমর চেপে ধরল পূর্বের নেয়। আরু বিরবির করে বলল,

– ‘ এটা কি হলো?’
– ‘ সবসময় আমি কেনো এগিয়ে যাব, তোরও তো আমার দিকে এগিয়ে আসা উচিত?’
আরু তার মুখের ওপর ভেংচি কাটল। ফারিশ চেঁচিয়ে বলল,
– ‘ ভাই তোদের ফিসফিসিয়ে কথা শেষ হলে এবার ক্যামেরার দিকে তাকা। বেচারা ক্যামেরাম্যান তোদের ক্যান্ডিট ছবি তুলতে তুলতেই ফিট খাবে।’ আরু ও রুদ্ধ দুজনেই হাসি মুখে ক্যামেরার দিকে তাকাল। এবার তুষার বলল,
– ‘ এভাবে তো অনেক হলো, রুদ্ধ এবার আরুকে কোলে নে।
আরু ফট করে দাঁড়িয়ে পড়ল৷ তড়িঘড়ি করে বলল,
– ‘ না না অনেক ছবি তোলা হয়েছে আর প্রয়োজন নেই।’
রুদ্ধও দাঁড়িয়ে গেল। আরুদিকে তাকাতেই আরু তাকে ইশারায় না বুঝিয়ে এক পা পিছিয়ে গেল। রুদ্ধ কয়েক পা এগিয়ে এসে ফট করে আরুকে কোলে তুলে নিল। সবাই চিৎকার করে উঠল। সাদমান ও ইয়াজ চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে শিস বাজাল। আহি তো লাফিয়ে উঠে নিজের মোবাইল বের করে ফটাফট ভিডিও করে নিল। রুহানি সহ বাকি কাজিনরা দুজনের দিকে ফুল ছিটিয়ে দিল। আরু লজ্জায় রুদ্ধর বুকের সাথে মিশে গেল। এভাবেই তাদের সুন্দর কিছু মুহুর্ত ক্যামেরায় বন্দি হলো।

ইয়াজ আহিকে টেনে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে এল। সকলে রুদ্ধ ও আরুকে নিয়ে ব্যস্ত আছে, এইদিকটা একেবারে নিরব। তবে পুরো বাড়িতে লাইটিং করার কারণে এইদিকটাইও যথেষ্ট পরিমানে আলো জ্বলছে। আহি তার হাত ছাড়িয়ে বলল,
– ‘ কি ব্যাপার আমাকে এভাবে এখানে নিয়ে এলে কেনো?’
– ‘ সব কাপলরাই তো ছবি তুলেছে, আমরা তুলবো না?’
আহি ভেংচি কেটে বলল,
– ‘ আমরা কাপল নাকি?’
ইয়াজ তার দিকে এগিয়ে চোখে চোখ রেখে বলল,
– ‘ নই?’
আহি এদিক – ওদিক তাকিয়ে বলল,

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩৮

– ‘ জানি না।’ ইয়াজ তাকে ছেড়ে দিয়ে কাউকে একটা ফোণ করল। কিছুক্ষণের মাঝেই ক্যামেরা ম্যান হাজির। ইয়াজ আহিকে টেনে নিজের কাছে আনল। দুজন দুজনার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে, কখনো বা আহি ইয়াজের চুল টেনে হাসতে ইয়াজ মুখটা রাগান্বিত করে রেখেছে, ইয়াজ আহির ওড়না টেনে ধরে রেখেছে আহি বিরক্ত হয়ে পিছু ঘুরল। এভাবেই তাদের নানা মুহুর্তের ছবি ক্যামেরায় বন্দি হয়ে রইল।

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৪০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here