তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ১৭
নওরিন মুনতাহা হিয়া
আদ্রিয়ান মেঘের উন্মুক্ত কোমড় স্পর্শ করে। মেঘের সারা শরীর আসাঢ হয়ে যায়, সারা শরীর জুড়ে অদ্ভুত শিহরণ বয়ে যায়। মেঘ লাজুক লতার ন্যায়, লজ্জায় আদ্রিয়ানের বুকে মুখ লুকায়। মেঘের শরীর তার বুকে স্পর্শ করার সাথে সাথে, আদ্রিয়ানের ঠোঁটে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠে।
আদ্রিয়ান আর মেঘের ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত, দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখছিল জিয়া। রাগে তার সারা শরীর জ্বলে যাচ্ছে, আদ্রিয়ান তার সাথে কাপল ডান্স করতে চাইল না। কিন্তু এখন মেঘের সাথে, ঠিকই ডান্স করছে তাকে জড়িয়ে ধরছে। তবে কি জিয়ার সন্দেহ সঠিক ছিল, আদ্রিয়ান তাকে নয়। বরং মেঘকে ভালোবাসে? _ কিন্তু জিয়া আদ্রিয়ান আর মেঘকে কখনো একসাথে থাকতে দিবে না, আদ্রিয়ান শুধু মাএ জিয়ার। জিয়ার রাগী দৃষ্টিতে আদ্রিয়ান আর মেঘের, দিকে তাকিয়ে প্রতিশোথ পরায়ণ হয়ে বলে উঠে কথাটা।
আদ্রিয়ান মেঘকে তার বাহুদ্বয়ের, শক্ত বাঁধনে আবদ্ব করে। মেঘ তার আঁখিযুগল বন্ধ করে ফেলে, তার সমস্ত শরীর এলিয়ে দেয় আদ্রিয়ানের বুকের উপর। আদ্রিয়ানের শরীর থেকে একটা মিষ্টি সুভাস ভেসে আসছে, যা মেঘকে পাগল করে তুলে। মেঘ যত চেষ্টা করে, আদ্রিয়ান নামক মানুষটার থেকে দূরে থাকতে। নিয়তি তাকে ঠিক ততটাই কাছে নিয়ে আসে, ভাগ্য কি সত্যি চাই আদ্রিয়ান আর মেঘের মিলন হোক? তাদের দুইটি আত্মা, এক দেহের নীড়ে বন্ধি থাকুক। আদ্রিয়ান কি সত্যি এই জন্মে, মেঘকে ভালোবাসবে? তার স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে সারাজীবন আগলে রাখবে? ভালোবাসবে মেঘকে সে?
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
মেঘের মনের অজান্তে করা, প্রশ্ন উত্তর তার জানা নাই। শুধু সময়ের অপেক্ষা আর ভাগ্যর উপর বিশ্বাস, রাখা ছাড়া মেঘ আর কি করতে পারে। তবে আদ্রিয়ান যদি জিয়াকে ভালোবেসে থাকে, তবে মেঘ তার থেকে দূরে থাকবে। অন্য কারো ভালোবাসা, তার প্রিয় মানুষকে কেঁড়ে নিয়ে, কখনো সুখি থাকা যায় না তা মেঘ যানে। তাই হয়ত আদ্রিয়ানের থেকে দূরে থাকা, নূন্যতম প্রয়াস সে করে। তবে মেঘের সমস্ত চেষ্টা, সবসময় ব্যর্থ হয়। সে চাইলে ও পারে, আদ্রিয়ানের থেকে দূরে থাকতে। কি করার উচিত এখন মেঘের? সে আর কত চেষ্টা করার পর, আদ্রিয়ানকে ঘৃণা করতে পারবে সে? সত্যি কি পারবে কোনোদিন?
মেঘ আদ্রিয়ানের বুকের উপর থেকে, তার মুখ তুলে। নিজের মনকে শক্ত করে, একটু সাহস দেখিয়ে আদ্রিয়ানের হাত ছড়ায় তার কোমড়ের উপর থেকে। কিন্তু আদ্রিয়ান মেঘের বারণ, শুনল না। সে অধিকার দেখিয়ে, মেঘের কোমড় শক্ত করে পুনরায় জড়িয়ে ধরল। মেঘকে চোখের ইশারায় জানান দিলে, যে সে আদ্রিয়ানের বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারবে না। কিন্তু মেঘ আদ্রিয়ানের কথা শুনল না, সে জেদ বা সাহস দেখিয়ে আবার ও আদ্রিয়ানের হাত সরিয়ে দেয়। এরপর দ্রুত তার থেকে দূরে যাওয়ার জন্য, পা বাড়ায়।
আদ্রিয়ান পুনরায়, মেঘের হাত ধরে তাকে ঘুরিয়ে নিল। মেঘের পিঠ গিয়ে ঠেকে যায়, আদ্রিয়ানের বুকের সাথে। আদ্রিয়ানের এমন কাণ্ডে, মেঘ বিরক্ত হয়ে বলে উঠে __
“- আদ্রিয়ান স্যার কি করছেন? আপনি আমার হাত ধরছেন কেনো? আমার ডান্স পার্টনার আপনি না, বরং অন্য একজন? ছাড়ুন আমায়, জিয়া সাথে গিয়ে ডান্স করুন?
আদ্রিয়ান হয়ত মেঘের কথার, এতোটা প্রাধান্য দিল না। সে বলে উঠে __
“- তুমি ওই ছেলের সাথে ডান্স করতে, আনইজি ফিল করছিলে।
মেঘ সত্যি, ওই ছেলের সাথে ডান্স করতে অস্বস্তি বোধ করছিল। কিন্তু মেঘ তা স্বীকার করে না, সে জেদ দেখিয়ে বলে উঠে __
তবুও আমি আমার ডান্স পার্টনারের, সাথেই ডান্স করতে চাই। ছাড়ুন আমার হাত __.
মেঘের কথা শুনে, আদ্রিয়ান মেঘকে পুনরায় প্রশ্ন করে
তুমি কি সত্যি ওই ছেলের সাথে, ডান্স করতে চাও মেঘ?
মেঘ হা বোধক মাথা নাড়িয়ে, সম্মতি সূচক উত্তর দেয় _
“- হুম চাই __.
“- কিন্তু আমি চাই না __.
মেঘ আদ্রিয়ানের কথা স্পষ্ট বুঝতে পারল না, সে বলে –
“- কি চান না আপনি?
“- তুমি অন্য পুরুষের সাথে, কাপল ডান্স করো _.
“- কিন্তু কেনো? আমি অন্য কারো ডান্স করলে, আপনার কি? আমি কে হয় আপনার?
“- জানি না।
মেঘ অধীর আগ্রহে, আদ্রিয়ানের উত্তর শুনার অপেক্ষা করছিল। কিন্তু আদ্রিয়ান শুধু ” জানি না” বলে শেষ করে দিল। কেনো জানে না সে? মেঘ অন্য কারো সাথে ডান্স করলে, তার সয্য হয় না এইটাই সত্যি। জিয়া তার প্রেমিকা, তাকে ঠিকই অন্য পুরুষের সাথে ডান্স করতে পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু মেঘকে দিবে না, আদ্রিয়ান তো যানে না মেঘই তার বিবাহিত স্ত্রী। তবুও এতো অধিকার _ বোধ কেনো তার মেঘের উপর? নিজের প্রেমিকার চেয়ে, মেঘের উপর আগ্রহ কেনো আদ্রিয়ানের?
মেঘের ভাবনার মাঝে, হঠাৎ করে আদ্রিয়ান তার পেটের উপর থাকা শাড়ির উপরে হাত রাখে। মেঘ চমকে যায়, আদ্রিয়ান ঠোঁট অগ্রসর হয়ে আসে, মেঘের কানের লতির কাছে। মেঘের বুকের ভিতর টিপটিপ করে উঠে, গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। আদ্রিয়ান হয়ত অনুভব করে, মেঘের অবাধ্য হৃদয় সপ্নধন। সে মেঘের কানের লতির কাছে মুখে নিয়ে, মেঘের পেটের উপর হালকা চাপ দেয়। মেঘ থরথর করে কেঁপে উঠে, আদ্রিয়ানের মেঘের পেট সহ কোমড় ধরে তার সম্পূর্ণ দেহ উঁচু ধরে ধরে। মেঘের পড়নে শাড়ি সুতির, তাই আদ্রিয়ানের হাত শাড়ির উপরে রাখলে ও পেটের ভিতরে স্পর্শ করা যাচ্ছে। আদ্রিয়ান যা করছে, তা নাচের পার্ট ছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে, তার পার্টনারের সাথে এমন করে ডান্স করছে। মেঘের স্পর্শে এসে, আদ্রিয়ান ও ঘোরের মধ্যে চলে যায়।
আদ্রিয়ান স্পর্শ যখন গভীর হতে, শুরু করে। তখনই হঠাৎ পার্টির সকলে, শব্দ করে হাততালি দেওয়া শুরু করে। মিউজিক বন্ধ হয়ে যায়, সকলে ডান্স শেষ করে। আদ্রিয়ানের ও হয়ত হুঁশ ফিরে আসে, সে মেঘকে নিচে নামায়। মেঘ যখন সকলের উপস্থিতি বুঝতে পারে, তখন সে আদ্রিয়ানের থেকে দূরে চলে যায়। অনুষ্ঠান ডান্স কারান আর আবিহার হলেও, মূল আর্কষণ হয় মেঘ আর আদ্রিয়ান। সকলে তাদের কাপল মনে করে, আর তাদের ডান্সের প্রশংসা করে। বেচারা জিয়া মুখ ফুলিয়ে রাগে, জিদে সে সকলের থেকে দূরে গিয়ে বসে থাকে।
ডান্সের পর আদ্রিয়ান মেঘের মুখের ভাবভঙ্গি, কেমন হয়েছে সেটা দেখার জন্য তার দিকে তাকায়। কিন্তু মেঘ তাকে ইগনোর করে, সে ফিরে ও তাকায় না আদ্রিয়ানের দিকে। কাজিনদের সাথে গল্প করতে ব্যস্ত। অনুষ্ঠানে আবিহা আর কারানের সাথে, সকলে অনেক ছবি তুলে, তারা একসাথে খাওয়া দাওয়া করে। মেঘ আদ্রিয়ানের থেকে দূরে থাকে, সে সকল আত্মীয় স্বজনদের সাথে কথা বলে অনুষ্ঠানের বাকি সময়টুকু কাটায়।
আজ আবিহা আর কারানের বিয়ের, সকল অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে। সকল আত্মীয় স্বজন সকলে, এখন বিদায় নিবে। আবিহার দুষ্ট কাজিনরা, তাদের বাসায় ফিরে যাবে। এরজন্য মেঘের মনটা খারাপ, আমেরিকায় আসার পর থেকে তাদের সাথে সে অনেক সময় কাটিয়েছে। তবে মন খারাপ হলেও, সকলকে বিদায় দিতে হবে।
[ বিকাশ ৫:৩০]
বিকাল প্রায় শেষের দিকে, সূর্য অস্তমিত হয়ে গেছে প্রায়। আকাশ থেকে গুঁড়িগুড়ি বৃষ্টির পড়ছে, ধরণীর বুকে। আমেরিকায় বৃষ্টির হওয়ার পরিমাণ হয়ত, এখন বেড়ে গেছে। রিসোর্টের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, তিনটা গাড়ি। যার মধ্যে একটি গাড়ি, ফুলে ফুলে সজ্জিত। আর অন্য দুইটি সাধারণ। রিসোর্ট সদর দরজা অতিক্রম করে, বাহিরে বের হয়ে আসে এক কনে বউ। যার জন্য আবিহা, এখন তার গন্তব্য তার স্বামী কারানের বাড়ি। তার সাথে তার আত্মীয়, স্বজন, মা – বাবা, কাজিনরা রয়েছে।
আবিহার মা কান্না করছে, আবিহার চোখের কোণে ও জল জমা হয়েছে। আবিহার বিয়ের দিন তার মা এতো কান্না করেনি, কারণ মেয়ে তার বিয়ে হয়ে রিসোর্টে থেকে যায়। বউভাতের অনুষ্ঠান, অবধি তারা ও রিসোর্টে থাকে। কিন্তু আজ আবিহা রিসোর্ট ছেড়ে চলে যাবে, তার শশুড় বাড়ি। আবিহার মা – বাবার কান্না দেখে, মেঘ দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। মেয়ের বিয়ে নিয়ে, প্রতিটা মা – বাবার কতো সপ্ন থাকে তাই না। মেঘের জন্মের সময় হয়ত, তার মায়ের ও সপ্ন ছিল মেঘের বিয়ে নিয়ে। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেলো। জন্মের সময় তার মা মারা গেলো, এরপর কয়েকবছর পর বাবা। আর বিয়ের পর, তার স্বামী ও, অপরিচিত হয়ে গেলো। মেঘের জীবনের শুরু করে শেষ অবধি, কোনো মানুষ তাকে ভালোবাসে থেকে গেলো না। সবাই ছেড়ে চলে গেছে। সত্যি মেঘ তুই কারো আপন হলি না।
আবিহার মা বাবা তাদের মেয়েকে গাড়িতে তুলে দেয়, পাশের সিটে বসে ছিল কারান। মেঘ এতোখন আবিহার সাথেই ছিল, আবিহা গাড়ি উঠার পর। মেঘ যখন ড্রাইভারের সিটের, পাশের সিটে বসার জন্য দরজা খুলবে। তখন কারান বলে উঠে __
“- আরে মেঘ তুমি এখানে বসছ কেনো? তুমি এই গাড়িতে যেতে পারবে না __.
“- কেনো কারান ভাই? গাড়ির সামনে তো জায়গায় আছে। আর তাহলে আমি কোন গাড়িতে যাব? ফারহানা আন্টি আর আঙ্কেল সাথে?
কারান সয়তানি হাসি দিয়ে বলে __
“- না তুমি মা বাবার সাথে যাবে না। তুমি আদ্রিয়ানের সাথে, ওর গাড়িতে করে বাড়ি যাবে __.
কারানের মুখে আদ্রিয়ানের নাম শুনে, মেঘ থমকে যায়। তার এখন আদ্রিয়ানের সাথে, একই গাড়ি করে যেতে হবে?অসম্ভব মেঘ তুই কিছুতেই ওই সয়তান লোকের সাথে, কোথাও যাবি না। আদ্রিয়ান রোদোয়ানের থেকে, যত দূরে থাকবি ততই তোর জন্য মঙ্গল। মেঘ বলে উঠে __
“- কারান ভাই আমার কেনো আদ্রিয়ান স্যারের সাথে একই গাড়িতে যেতে হবে? আমি এই গাড়িতে যায়। এখানে জায়গা তো আছে?
“- না মেঘ তুমি আদ্রিয়ানের সাথে, ওর গাড়িতে যাও। আমি আর জিয়া, একান্তে একটু সময় কাটাতে চাই। তাই মেঘ তুমি, আদ্রিয়ানের সাথে ওর গাড়িতে যাও __.
মেঘ এখন কি বলবে? কারানকে মুখের উপর কি করে বলবে যে সে, আদ্রিয়ানের সাথে যাবে না। আর আবিহা আর কারান হয়ত, একান্তে একটু সময় কাটাতে চাই৷ তারা হয়ত এখন গাড়ি করে, কোথাও ঘুরতে যাবে। মেঘ দুইজন কাপলের মধ্যে, কি করে থাকবে? মেঘ মুখে সৌজন্যেমূলক হাসি বজায় রেখে, গাড়ির দরজা বন্ধ করে বাহিরে চলে যায়। কারান মেঘের কাণ্ড দেখে হাসে, তার পরিকল্পনা সফল হয়েছে। সে আবিহাকে নিয়ে এখন কোথাও ঘুরতে যাবে না, তারা একান্তে সময় ও কাটাবে না। এই কথাগুলো শুধু মাএ বাহানা ছিল, মেঘকে আদ্রিয়ানের গাড়িতে পাঠানোর জন্য।
মেঘ গাড়ি করে নেমে, বাহিরে যায়। এরপর মুখ কাচুমাচু করে, আদ্রিয়ানের গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। মেঘের এখন নিজের প্রতি, ভীষণ রাগ হচ্ছে। সে যত আদ্রিয়ানের থেকে দূরে থাকতে চাই, নিয়তি তাকে ঠিক ততই কাছে নিয়ে আসে। মেঘ কি করবে এখন, কি করে দূরে থাকবে এই আদ্রিয়ান রোদায়ানের থেকে। আদ্রিয়ান গাড়ির ভিতরে বসে ছিল, মেঘকে তার গাড়ির দিকে এগিয়ে আসতে দেখে। তার মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠে, কিন্তু সে তার হাসি দ্রুত লুকিয়ে রাখে। এরপর পরিচিত গম্ভীর লুক নিয়ে, গাড়ির সিটে বসে থাকে।
মেঘ ধীর পায়ে হেঁটে, এগিয়ে যায় আদ্রিয়ানের গাড়ির কাছে। গাড়ির কাঁচে আদ্রিয়ানের গম্ভীর মুখ দেখা যায়, আদ্রিয়ান তাকে দেখে খুশি হয়েছে না রাগ করেছে তা বুঝার উপায় নেই। মেঘ গাড়ির কাছে পৌঁছে, যখন পিছনের দরজা খুলতে যাবে। তখন ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা, আদ্রিয়ান গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠে __
“- এই মিস আমি আপনার ড্রাইভার নয়, যে আপনি পিছনের সিটে বসবেন। চুপচাপ সামনে এসে, বসো মেঘ __.
আদ্রিয়ান ধমক সুরে, কথাটা বলে উঠে। মেঘ পিছনের দরজা শব্দ করে বন্ধ করে দেয়। যা তার রাগের বহিঃপ্রকাশ। আদ্রিয়ান মেঘের কাণ্ডে দেখে, মনে মনে হাসে। কিন্তু মুখে প্রকাশ করে না। এরপর মেঘ গাড়ির সামনের দরজা খুলে, ড্রাইভিং সিটে আদ্রিয়ানের পাশে বসে। মেঘ বিড়বিড় করে, আদ্রিয়ানকে কিছু গালি দেয়। সয়তান বেডা, খবিশ লোক ইত্যাদি। মেঘের গালি দেওয়ার মধ্যে, আদ্রিয়ান বলে উঠে —
“- আমাকে গালি দেওয়া বন্ধ করে, সিট বেল্ট লাগাও __.
আদ্রিয়ানের কথা শুনে, মেঘ থতমত খেয়ে যায়। আদ্রিয়ান কি তার মনের কথা শুনতে পেয়ে যায় না কি? মেঘ গালি দেওয়া বন্ধ করে, তাড়াতাড়ি সিট বেল্ট লাগায়। কিন্তু মেঘ সিট বেল্ট লাগাতে পারছে না, আদ্রিয়ান বিষয়টা খেয়াল করে। হঠাৎ করে আদ্রিয়ান, মেঘের কাছে চলে যায়। মেঘ কিছুটা অবাক হয়ে যায়, আদ্রিয়ান মেঘের হাতে থাকা বেল্ট নিয়ে শক্ত করে লাগিয়ে দেয়। একবার মেঘের মুখের দিকে তাকায়, মেঘ মুখ অন্য পাশে ঘুরিয়ে নেয়। আদ্রিয়ান হাসে, এরপর সে আবার তার জায়গায় ফিরে যায়। আদ্রিয়ান বলে ___
“- সিট বেল্ট লাগানোর শক্তি ও নাই তোমার মেঘ? কি খাবার খাও তুমি?
“- আমার শক্তি ঠিকই আছে, আর আমি অনেক খাবার খায় __.
“- বিশ্বাস হয় না –.
“- তবে একদিন আপনি আমায় ভাত খায়িয়ে দিয়েন, দেখবেন এই মেঘ কতো খাবার খেতে পারে __.
“- ওয়েট তুমি কি চাও, আমি তোমায় খাবার খায়িয়ে দেয়?
মেঘ নিজের অজান্তেই কি বলে ফেলছে, তা সে বুঝতে পারে। মেঘ বলে উঠে __
“- না আমি কিছু চাই না আপনার থেকে। এখন কথা না বলে, গাড়ি চালান __.
আদ্রিয়ান মেঘের কথা শুনে হাসে, এরপর সে গাড়ি স্টার্ট দেয়। মেঘ গাড়ির জানালা দিয়ে, বাহিরের পরিবেশ দেখতে থাকে মনোযোগ দিয়ে।
আমেরিকার পিচ ঢালা, রাস্তায় গাড়ি চলছে আপন মনে। মেঘ কিছু সময় জানালা দিয়ে, তাকিয়ে থাকার পর সে আবার এইদিকে ফিরে তাকায়।গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে, আদ্রিয়ানের দিকে তাকায়। জানালা দিয়ে বৃষ্টি আর মৃদু বাতাস আসছে, আদ্রিয়ান গাড়ি ড্রাইভ করছে। তার কপালে থাকা ছোট ছোট চুল, উড়ছে। আদ্রিয়ানের দিকে মেঘ মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, হঠাৎ করে আদ্রিয়ান বলে উঠে __
“- মেঘ এইভাবে তাকিয়ে থাকলে কিন্তু, আমি মনোযোগ দিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করতে পারব না। পরে যদি এক্সিডেন্টে হয়, তখন কিন্তু আমার দোষ নাই __.
তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ১৬
আদ্রিয়ানের কথাটা শুনে, মেঘ তার দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। মেঘ বলে __
“- আমি কেনো আপনার দিকে তাকিয়ে থাকব? আমি বাহিরের বৃষ্টি দেখছিলাম?
“- হুম আমি জানি মেঘ, তুমি আসলে কি দেখছিলে –.
মেঘ তার চোখ বন্ধ করে, ঘুমিয়ে যাওয়ার ভান করে। আদ্রিয়ান লুকিং গ্লাসে, মেঘের কাণ্ডে দেখে ঠোঁট চেপে হাসে। আদ্রিয়ান বলে __
“- আমার অবুঝ মেঘবালিকা __.
