Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৩০

দাহশয্যা পর্ব ৩০

দাহশয্যা পর্ব ৩০
Raiha Zubair Ripti

ভিলার বসার ঘর জুড়ে পিনপিনে নীরবতা বিরাজ করছে। প্রতিটি মুখ তাকিয়ে আছে এক মুখের দিকে। মাহি সকলের মুখের দিকে তাকাচ্ছে। নিজেকে কেমন যেন ভিন্ন গ্রহের প্রাণী মনে হলো। আনোয়ার সুলতান গলা খাঁকারি দিয়ে মাহির উদ্দেশ্যে বলল-
-” নাম কি তোমার মেয়ে?
মাহি তাকালো আনোয়ার সুলতানের দিকে। বয়স ৭০ ছুঁইছুঁই হবে। কিন্তু কি শক্তপোক্ত এখনও!
-” মাহি।
-” শুধু মাহি?
-” হ্যাঁ।
-” তোমার বাবা কি করে?
-” বাবা নেই৷ এতিম আমি।
কথাটা কানে আসতেই এজওয়ান ঘাড় বেঁকিয়ে তাকালো। এই তরিকুলের বেটি এতিম বলছে কেনো নিজেকে।

-” দাদাজান মাহি মিথ্যা বলছে। ওর বাপের নাম তরিকুল চৌধুরী। চৌধুরী গ্রুপের মালিকের মেয়ে।
-” আমরা চিনি?
-” আমি বাবা আর ভাইজান চিনি।
-” তাহলে এতিম বললো কেনো?
-” বাপের সাথে ব্রেকআপ হয়েছে সেজন্য। আরো কিছু জিজ্ঞেস করবে? ভীষণ টায়ার্ড আমরা। তোমার শেষ হলে বউ নিয়ে রুমে যেতাম।
আনোয়ার সুলতান কেশে উঠলো। এজওয়ান পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলল-
-” শুঁকনো মুখে কেউ কাশি খায়?
আনোয়ার সুলতান পানির গ্লাস টেবিলে রেখে বলল-
-” যা বউ নিয়ে ঘরে যা।
এজওয়ান মাহির দিকে হাত বাড়ালো। মাহি হাতের দিকে একবার তাকিয়ে চলে গেলো। এজওয়ান রুমাইসা কে যেতে বলল পেছন পেছন। রুমাইসা মাহির পায়ের সাথে পা মিলিয়ে হাঁটছে। বামের করিডর পেরিয়ে মেহরিনের রুমের অপর পাশের রুমে দেখিয়ে নিয়ে রুমাইসা বলল-

-” ভাবি এই রুম।
মাহি রুমের ভেতর ঢুকলো। রুমাইসা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থেকে মাহিকে পরখ করলো। ধবধবে ফর্সা হায়ের রং। চোখের মনি ব্রাউন। চেহারা কাটিং বাহিরের দেশের। এজওয়ান ভাই নিশ্চয়ই বিদেশী মাইয়া বিয়ে করছে। মাহি রুমাইসা কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করলো-
-” কিছু বলবে?
রুমাইসা না বলে চলে গেলো। ইশ এজওয়ান ভাইয়ের বিয়ে খেতে পারলো না রুমাইসা।
সোলেমান সবেই ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো আকস্মিক দাদার ফোন পেয়ে কিছুটা ভ্রু কুঁচকালো। ফোন টা কানে নিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

-” রাত বেরোতে ফোন যে! সব ঠিক আছে?
আনোয়ার সুলতান চেয়ারে বসতে বসতে বলল-
-” এজওয়ান যে বিয়ে করেছে আমাদের জানালি না কেনো?
সোলেমানর কুঁচকে আসা কপাল আরো কুঁচকালো।
-” এজওয়ান বিয়ে করেছে?
-” কেনো তুই জানিস না? বউ নিয়ে এসেছে।
-” নাম কি মেয়ের?
-” মাহি না কি যেনো বললো নাম।
সোলেমান কপাল সটান হলো।
-” আমি আসছি কাল।
কথাটা বলে ফোনটা পকেটে ভরে পেছন ফিরতেই দেখলো মেহরিন কয়েল জ্বালিয়ে নিয়ে এসেছে। সোলেমান কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল-

-” কিছু হয়েছে?
-” কাল বাড়ি ফিরতে হবে। তুমি সাথে যাবে নাকি থাকবে?
-” আপনার সাথে যাব।
-” ঠিক আছে সকালে খেয়েই রওনা দিব।
মেহরিন কয়েল টা খাটের নিচে রেখে বিছানা ঠিক করে দিলো। সোলেমান কপালে হাত ঠেকিয়ে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে আছে।
মেহরিনের মনে হলো বাড়িতে হয়তো কিছু হয়েছে। তারজন্য এমন চিন্তিত লাগছে উনাকে।
দরজা টা বন্ধ করে বাতি নিভিয়ে পাশে শুয়ে পড়লো।
এজওয়ান টায়ার্ড হয়ে রুমে এসে শুতেই মাহি চমকে তার দিকে তাকালো। দ্রুত শোয়া থেকে উঠে বসে বলল-

-” আপনি এ ঘরে ঘুমাবেন?
এজওয়ান চোখ বন্ধ রেখেই বলল-
-” ঝগড়ার মুড নেই বউ। এখন একটা শান্তির ঘুম দরকার। সকালে উঠে পুরোদমে ঝগড়া চলবে।
-” অন্যের শান্তি নষ্ট করে নিজের ঘুমের শান্তির কথা ভাবেন কি করে?
-” ওভাবেই।
-” অন্য রুমে গিয়ে ঘুমান৷ আপনার সাথে এক ঘরে ঘুমানো আমার পক্ষে সম্ভব না।
-” অসুবিধা হচ্ছে কার?
-” আমার।
-” তাহলে তুমি অন্য রুম খুঁজে সে ঘরে গিয়ে ঘুমাও।

মাহি বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। করিডর দিয়ে হেঁটে পাশেই ওপর সাইডে একটা রুম দেখে সে রুমে চলে গেলো ঘুমাতে।
সকালে ভোরের দিকে ঘুম ভাঙে মেহরিনের। সোলেমান ঘুমে বিভোর। মেহরিন হাত মুখ ধুয়ে ওজু করে নামাজ টা পড়ে রান্না ঘরে আসতেই দেখলো তার মা রান্না শুরু করে দিয়েছে। মেহরিন হাত লাগাতে চাইলে সানজিদা বেগম মানা করে দিলেন। মেহরিন বাহিরে চলে আসে। প্রায় সময়ই মেহরিন ফজরের নামাজ শেষে বাহিরে হাঁটতে বের হতো। ও বাড়িতে হয় না।
মেহরিন হাঁটতে হাঁটতে ঊর্মিদের বাড়ির দিকে আসলো।
ঊর্মি ফজরের নামাজ শেষ করে বাড়ির বড় উঠান টা ঝাড়ু দিচ্ছিলো। মেহরিন কে দোরগোড়ায় দেখে হাতের ঝাড়ু ফেলে এগিয়ে এসে বলল-

-” মেহু তুই।
-” হুমম। আজ চলে যাব উনার সাথে। তাই দেখা করতে আসলাম।
ঊর্মির মন খারাপ হয়ে গেলো।
-” আজই চলে যাবি!
-” হুমম।
-” থেকে যা না ক’টা দিন।
-” আবার আসবো।
ইমন ফজরের নামাজ টা মসজিদে পড়ে বাসায় ফিরছিলো। দৃষ্টি তার মাটিতে রেখেই হাঁটছিলো। সামনে যে ঊর্মি একজনের সাথে কথা বলছে সেটা ইমন বুঝেছিল কিন্তু সেটা যে মেহরিন হবে বুঝে নি মস্তিষ্ক। পাশ দিয়ে চলে যেতেই মেহরিন ডেকে বলে উঠে-
-” ইমন ভাই!
ইমনের মনে হলো সে ভুল শুনলো। মেহরিন! মেহরিন কি করে এখানে আসবে? ইমন অস্থিরতা নিয়ে পেছন ফিরলো। হ্যাঁ এটা মেহরিনই৷ জলপাই রঙের সেলোয়ার-কামিজ পড়া মেহরিন দাঁড়িয়ে আছে। মেহরিন এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলো-

-” আসসালামু আলাইকুম ইমন ভাই। কেমন আছেন?
ইমন কথা বলতে ভুলে গেলো। মেহরিনের নাকে নাক ফুল, হাতে চুড়ি,হাতপ পাথরের একটা আংটি৷ বিবাহিত রূপ। এ রূপেই তো একদিন মেহরিন কে দেখতে চেয়েছিল সে। কিন্তু আজ সে অন্যের নামে এসব পড়েছে। বুকের ভেতরের ঘা টা আরো তাজা হলো।
-” ইমন ভাই!
ইমনের হুশ ফিরলো। মুখে শূন্যতার হাসি ফুটিয়ে বলল-
-” ভালো আছো ?
-” হুমম। আপনি?
ইমনরা কি ভালো থাকে? না থাকে না। ইমনদের ভালো থাকা লেখা থাকে না ভাগ্যে। তারা শুধু দহনে পু’ড়ে। মেহরিনের প্রশ্ন টাকে উপেক্ষা করে ইমন বলল-

-” বিয়ে করে নিলে অথচ জানতেই পারলাম না।
মেহরিন অবাক হলো এ কথা শুনে।
-” আপনি জানতেন না আমার বিয়ের কথা?
-” না। স্বামী এসেছে সাথে?
-” উনি বাসায় ঘুমাচ্ছেন।
-” সুখেই আছো তাহলে?
মেহরিন কিছুটা সময় নিলো। সে সুখেই তো আছে তাই না? স্বামী কে পাচ্ছে এখন রোজ। রোজ তার মুখ দেখে ঘুম ভাঙছে। এটাকে সুখ বলে না? এটাই সুখ।

-” আল্লাহর রহমতে সুখেই আছি।
ইমন স্মিত হেঁসে চলে গেলো। জ্বালা টা আরো যে বেড়ে চলছে। ইমন রুমে এসে মা’কে বলল মেহরিনের আনা শাড়ি টা যেন মেহরিন কে এখন দিয়ে দেওয়া হয়।
ইতি বেগম মেহরিনের জন্য আনা শাড়ি টা নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে মেহরিনের হাতে দিয়ে বলে-
-” মেহরিন এটা তোর জন্য।
মেহরিন উল্টেপাল্টে দেখে বলল-
-” এটায় কি চাচি?
-” শাড়ি। বিয়তে তো তেমন কিছু দিতে পারি নি। ইমন এনেছে ঢাকা থেকে।
মেহরিন উপর থেকে দেখলো মেরুন রঙের শাড়ি। অসম্ভব সুন্দর। দাম টা বেশ ভালোই।
-” চাচি শুধু শুধু টাকা খরচ করা উচিত হয় নি।
-” একবারই তো। কোনো সমস্যা হবে না। ইমন বুঝেশুনেই এনেছে।
-” আজ আসি তাহলে চাচি।
-” জামাই নিয়ে আসতি।
-” উনি ঘুমে। একটু পরই চলে যাব ও বাড়ি।
-” আচ্ছা ফের আসিস জামাই নিয়ে৷ সাবধানে যাস।

মেহরিন শাড়িটা নিয়ে চলে গেলো। জানালা দিয়ে ইমন দেখলো মেহরিনের যাওয়া। সোলেমান ঘুম থেকে উঠে মেহরিন কে দেখতে না পেয়ে কিছুটা বিরক্ত হলো। পুরো বাড়ি জুড়ে খুঁজে দেখলো মেয়েটা নেই। কোথায় গেছে? দাঁতে ব্রাশ ঘষতে ঘষতে উঠানে এসে দাঁড়াতেই দেখলো মেহরিন হেঁটে আসছে৷ হাতে একটা প্যাকেট।
মেহরিন সোলেমান কে দেখেই এগিয়ে এসে বলল-
-” কখন উঠেছেন?
-” অনেকক্ষণ হলো। কোথায় গিয়েছিলে?
-” ঊর্মিদের বাসায়।
-” হাতে কি এটা?
-” চাচি দিয়েছে এটা। শাড়ি আছে এটায়।
সোলেমান কলপাড়ের দিকে এগিয়ে গেলো। বাহিরে যখন এসেছেই এখান থেকেই মুখ ধুয়ে যাবে। মেহরিন পেছন পেছন এসে বলল-

-” আমি চেপে দিচ্ছি টিউবওয়েল।
মেহরিন চেপে দিলো কল। সোলেমান মুখ ধুয়ে ভেতরে চলে গেলো।
সেরিন দের আজ আসার কথা থাকলেও আসবে না বলেছে ফোন করে। কাল থেকে বিয়ের তোড়জোড় শুরু হবে ও বাড়ি। তারজন্য আসা সম্ভব না।
সকালের খাবার খেয়েই মেহরিন রা বেরিয়ে পড়লো ও বাড়ির উদ্দেশ্যে। মোতালেব ভুঁইয়া থেকে যেতে বলেছিল আর একটা দিন। কিন্তু সম্ভব না বলে থাকে নি।
সুলতান বাড়ির সকলে ব্রেকফাস্ট করে যে যার কাজে ব্যস্ত হয়েছে। রুমাইসা রুমে বসে এসাইনমেন্ট করছে। মাহি এখনও উঠে নি। এজওয়ান বাপ চাচার সাথে বসে গল্প করছে বাগানে। গল্প করার মাঝেই ভিলার গেট দিয়ে ব্লাক রঙের গাড়ি প্রবেশ করতে দেখে সবাই সেদিকে তাকালো। গাড়িটা সাইডে পার্ক করতেই গাড়ি থেমে নেমে পড়লো সোলেমান আর ইব্রাহিম। সোলেমান ওপর পাশে গেলো।
কালো বোরকায় আবৃত কাউকে সোলেমান ধরে নামাচ্ছে। এজওয়ান তা দেখে বিরবির করে বলল-

-” ভাইজান ওটা কাকে ধরে নামাচ্ছে?
সোলেমান মেহরিন কে নিয়ে ভেতরে এগিয়ে দিয়ে বাপ চাচার কাছে এগিয়ে আসে।
মেহরিন সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে এসে হাফ ছাড়ে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নেকাব বোরকা খুলে বিছানার দিকে তাকাতেই চমকে উঠে। এতক্ষণ সে নজরই দেয় নি বিছানায় যে কোনো মেয়ে শুয়ে আছে তাদের বিছানায়। কে এই মেয়ে? এ রুমে শুয়ে আছে কেনো?
মেহরিন বোরকটা টেবিলের উপর রেখে দিলো। মেয়েটাকে ডাকবে কি ডাকবে না এ নিয়ে দ্বিধায় ভুগলো। যদি ডাকে আর সেই ডাকায় ঘুম ভাঙার পর রাগ করে তখন! মেহরিন সোফায় বসে পরখ করলো। মেয়েটা অসম্ভব সুন্দর দেখতে। একদম বিদেশিনী দের মতন। মেয়েটা নিশ্চয়ই কোনো রিলেটিভ হবে ওদের। মেহরিন বসে অপেক্ষা করতে লাগলো মেয়েটার ঘুম ভাঙার।

ফোনের এলার্মে ঘুম ভাঙে মাহির৷ ঘুমঘুম চোখে এক হাতে ফোনের এলার্ম টা বন্ধ করে হাই তুললো। তারপর আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসতেই সোফায় গিয়ে চোখ আটকালো। একটা মেয়ে বসে আছে৷ দৃষ্টি তার দিকেই ছিলো। মাহি তাকাতেই অপ্রস্তুত হয়ে দৃষ্টি এদিক-ওদিক সরাচ্ছে। মাহি দেখলো মেয়েটাকে। কেমন যেনো আদুরে আদুরে লাগলো মেয়েটাকে। কি স্নিগ্ধ দেখতে! মাহি তার কাঁধ অব্দি থাকা চুল গুলোতে একবার হাত বুলিয়ে রুমের আশেপাশে তাকালো। গতকাল রাতে এজওয়ানের উপর রাগ করে এই রুম খালি দেখে এ রুমে শুয়ে পড়েছিল। কেউ তো ছিলো না। এই মেয়ে কে তাহলে?
মাহি কিছুটা অস্বস্তি নিয়েই বলল-

-” তুমি কে?
মেহরিন মাহির দিকে তাকিয়ে বলল-
-” আমি মেহরিন আপু। আপনি কে?
বিরবির করে উচ্চারণ করলো নাম টা- মেহরিন!
-” গতকাল তো দেখলাম না তোমায় এ বাড়িতে।
-” আমি আর উনি আমাদের বাসায় গিয়েছিলাম। সেজন্য হয়তে দেখেন নি৷
-” উনি টা কে?
মেহরিনের এবার অস্বস্তি হতে লাগলো।
-” আমি কি আপনার ঘুমে কোনো সমস্যা তৈরি করেছি?
-” এ-মা না না। এই রুম তোমার?
-” হ্যাঁ আমাদের।
-” আমাদের মানে? তুমি এ বাড়ির কি হও? সরি জিজ্ঞেস করছি৷ আসলে চিনতে পারছি না তো তোমায়।
-” আমি এ বাড়ির বউ আপু।
মাহি ভ্রু কুঁচকালো এ কথা শুনে। বউ! এইটুকু বাচ্চা মেয়ে কারো বউ!

-” কার বউ তুমি?
-” এ বাড়ির বড় ছেলের।
সুলতান বাড়ির বড় ছেলে মানে তো নওয়াজ সোলেমান সুলতান। উনি বিয়ে করেছে! কিন্তু কবে করলো বিয়ে! মিডিয়া কি জানে না! কোনো নিউজ তো দেখলাম না।
-” নওয়াজ সোলেমান সুলতানের বউ তুমি?
-” জ্বি।

মাহি বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। মেহরিন কে আরো একবার ভালোমত দেখে তারপর রুম থেকে চলে গেলো।
রুমে এসে মাহি জানালার কাছে দাঁড়াতেই দেখতে পেলো বাগানে বসে আছে সুলতান পরিবারের সকল পুরুষগণ। সোলেমান কেও দেখলো মাহি। একদম পিওর রাজনীতিবিদ। মানুষের রাজনীতি পেশা হলেও উনার জন্য রাজনীতি একটা নেশা। সবসময় খবরের কাগজে আর টিভি চ্যানেলেই দেখেছে। আজ সরাসরি দেখলো। কত কিশোরী যুবতী এই লোকের জন্য পাগল। যখন তারা জানতে পারবে তাদের ক্রাশ বিবাহিত তখন কি হবে? পাশেই চোখ গেলো ইব্রাহিমের দিকে। এজওয়ানের মুখ টা নজরে আসতেই চোখ মুখ শক্ত হয়ে গেলো।
বাড়ির এই তিন যুবক রূপের দিকে দিয়ে সেরা।
সোলেমান এজওয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখের চাহনি গভীর। এজওয়ান মাথা নত করে রেখেছে। যদি কাউকে ভয় পায় এজওয়ান তা একমাত্র সোলেমান কেই। খুবই মান্য করে তো।
সোলেমান দাঁত চেপে বলল-

-” বিয়ে করেছিস শুনলাম?
-” হুম।
-” আমাদের জানাতে কি প্রবলেম ছিলো?
-” জানালে বিয়ে করতে দিতে না।
-” কেনো দিতাম না৷ তোকে আমি হিংসা করি? যে তুই বিয়ে করলে আমার কোনো কিছুর ভাগ কমে যাবে যার জন্য তোকে বিয়ে করতে দিতাম না।
-” সরি ভাই। এবার থেকে সব জানিয়ে করবো।
সোলেমান বিরক্ত হলো।
-” তোমাদের নাতি,তোমাদের ছেলে তোমরাই বলো। মিডিয়া এ কথা জানতে পারলে জল কোথায় গিয়ে গড়াবে জানো? ওর বাপের হিস্ট্রি সম্পর্কে ধারণা আছে? শুনেছি পর’কীয়া করছিলো দেখে উনার বউ সু’ইসাইড করেছে। রাজনীতি তে এই ইস্যুটা নিয়ে মিডিয়া কতদূর জল ঘোলা করবে আইডিয়া আছে? আমার কানে এটাও এসেছে কোনো স্বাভাবিক ভাবে ওদের বিয়ে হয় নি। তথ্য টা নিশ্চয়ই ভুল নয়? এই ছেলের জন্য আমাকে বারবার বিপদে পড়তে হয়। মিডিয়ার কানে যেন এই বিয়ের খবর না যায় বলে রাখলাম৷

-” তাহলে কি ভাই আমি বিবাহিত হয়েও নিজেকে অবিবাহিত বলে দাবি করবো?
এজওয়ানের এহেন কথায় সোলেমান চোখ গরম করে তাকালো।
-” আমি রুমে যাচ্ছি।
কথাটা বলেই চলে গেলো সোলেমান। এজওয়ান ইব্রাহিমের দিকে তাকিয়ে বলল-
-” ভাইজান অভার রিয়াক্ট করছে ইব্রাহিম ভাই। বাপে পর’কীয়া করছে মাহি তো করে নাই। মিডিয়া এটা নিয়ে কথা বলতে আসলে জ্যা’ন্ত পুঁ’তে রাখবো বলে রাখছি। আমার বিয়ে করা বউ ও। নিজেকে অবিবাহিত বলতে পারবো না।
-” সোলেমান তো বলে নি নিজেকে অবিবাহিত বলতে। জাস্ট মিডিয়া যেন না জানে সেদিকে খেয়াল রাখিস।
-” না জানার দিকে খেয়াল রাখতে পারবো না। তবে মিডিয়ারা জানার পর যেন কথাটা পাবলিশ করতে না পারে তার দিকে খেয়াল অবশ্যই রাখবো।
দুপুরের দিকে যোহরের নামাজ শেষ করে মেহরিন নিচে আসে। আসার পর রুমাইসার সাথে একবারও দেখা হয় নি। আর ঐ মেয়েটার সাথেও। সোলেমান কে জিজ্ঞেস ও করা হয় নি। মেহরিন৷ জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে খেতেই কেউ পাশে চেয়ার টেনে বলল-
-” রুমাইসা খেতে দে।
মেহরিন পাশ ফিরে তাকালো। অপরিচিত এক মুখ। ঘর্মাক্ত চেহারা। এই গরমেও শরীরে লেদার জ্যাকেট।
এখনও ভাত দিতে না দেখে এজওয়ান ফের তাড়া দিয়ে বলল-

-” দে না খেতে। ক্ষুধা লাগছে অনেক।
মেহরিন ভাত বেড়ে দিলো। এজওয়ান এতটাই মগ্ন ছিলো যে ওটা যে রুমাইসা না তা খেয়ালই করে নি।
খাওয়া শেষে হাত ধুয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরের করিডর পেরোতেই রুমাইসা কে আসতে দেখে দাঁড়িয়ে পড়লো। রুমাইসা না কেবলই নিচে ছিলো! তাহলে ও উপরে আসলো কি করে? এজওয়ান রুমাইসা কে ডেকে বলল-
-” তুই না নিচে ছিলি? আমার আগে এত তাড়াতাড়ি উপরে আসলি কি করে?
রুমাইসা ফোনে কথা বলছিলো। এজওয়ানের কথাগুলো শুনে ফোন কেটে দিয়ে বলল-

দাহশয্যা পর্ব ২৯

-” কি আবোলতাবোল বকছো ভাইয়া। আমি তো রুমে ছিলাম এতক্ষণ।
-” তাহলে নিচে কে ছিলো? ভাত বেড়ে দিলো কে?
-” তুমি খেয়াল করো নি?
-” না।
-” মা বোধহয়।
-” না চাচি ছিলো না ওটা।
-” তাহলে মেহরিন ছিলো বোধহয়।
এজওয়ান ভ্রু কুঁচকালো।
-” কে মেহরিন?
-” ভাইয়ার বউ।
-” ভাইজানের বউ!
-” হুমম।
-” কিহ!
এজওয়ান উল্টো ঘুরলো। মেহরিনের নাম টা একবার ঠোঁটের কোনায় উচ্চারণ করে ছুট লাগালো নিচে।

দাহশয্যা পর্ব ৩১