Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৭৮ (৩)

দাহশয্যা পর্ব ৭৮ (৩)

দাহশয্যা পর্ব ৭৮ (৩)
Raiha Zubair Ripti

সময়টা খুব ভোর বেলা। সোলেমান মর্নিং ওয়াক করার জন্য রুম থেকে বের হয়ে দেখলো ইব্রাহিম তড়িঘড়ি করে সদর দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকছে। সোলেমান ভ্রু কুঁচকালো। হাত ঘড়িতে সময় দেখলো সবে ৫:৪৫ বাজে। এত সকালে কোথা থেকে আসলো ইব্রাহিম? তার তো রুমেই থাকার কথা ছিলো । সোলেমান জিজ্ঞেস করলো-
“ কোথা থেকে ফিরলি? ”
ইব্রাহিম দাঁড়িয়ে গেলো। চোখ মুখে আতঙ্কের রেশ। জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলল-
“ ফার্মেসী থেকে। ”
সোলেমানের চোখ মুখ কুঁচকে আসলো। শেষ পর্যন্ত তাকেও ফার্মেসি তে যেতে হলো ! দুই বন্ধুর কপাল নিঃসন্দেহে সোনার বদলে কাঁসার ঘটিবাটি দিয়ে বানানো। ঠকঠক করে শুধু বাজতেই থাকে।
সোলেমান তপ্ত শ্বাস ফেলে যেতে যেতে বলল-

“ একটু সাবধানতা অবলম্বন করতি,তাহলে আজ ফার্মেসী তে দৌড়াতে হতো না। যা ভেতরে যা। ”
সোলেমান বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কিছুটা দূরে আসলো। মাঝ রাস্তায় দেখা হলো তাদের পারিবারিক ডাক্তার খোকন লালের সাথে। সোলেমান পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিলো,তিনিই ডাক দিলেন। সোলেমান দাঁড়ালো। চেনা মাত্রই সালাম দিলো। খোকন লাল হাসি মুখে বলল-
“ মিষ্টি খাওয়াবে কখন সেটা বলো। ”
সোলেমান বুঝলো না প্রথমে। সেজন্য বলল-
“ ঠিক বুঝলাম না,কিসের মিষ্টি খাওয়াবো আপনায়? ”
“ তাহলে কি আমার সন্দেহ ভুল ছিলো? ”
“ কিসের সন্দেহ? ”
“ বাড়িতে নতুন অতিথি আসছে না? ”
“ হ্যাঁ এসেছে তো। ”
“ সেটারই তো মিষ্টি চাচ্ছি। ”
সোলেমান এক হাত বুকে গুঁজে আরেক হাত থুতনিতে রেখে বলল-

“ শুধু মিষ্টি খাবেন কেনো? রোস্ট পোলাও কি খান না নাকি? ”
“ খাই তো। কিন্তু এই খুশিতে তো সবাই মিষ্টিই খাওয়ায়। ”
“ আমরা খাওয়াই না। এখন আসছি। রোস্ট পোলাও খেতে চাইলে চলে আসবেন। ”
সোলেমান চলে গেলো। খোকন লাল রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগলো কিছু একটা।
সোলেমান এক ঘন্টার মতো মর্নিং ওয়াক করে বাড়ি ফিরলো। এখনও কেউ উঠে নি। সোলেমান ক্লান্ত ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে দেখলো ইব্রাহিম পায়চারি করছে বসার ঘরে অস্থির চিত্তে। সোলেমান সোফায় বসতে বসতে বলল-
“ আবার কি হয়েছে? অবস্থা বেশি খারাপ হলে হসপিটালে নিয়ে যা। ”
ইব্রাহিম চমকে উঠলো সোলেমানের গলার স্বর শুনে। ইব্রাহিমের এমন চমকানো দেখে আশ্চর্য হলো সোলেমান।

“ চমকাচ্ছিস কেনো? ”
ইব্রাহিম চিন্তিত হয়ে বলল-
“ জানিস গতকাল রাতে কি হয়েছে? ”
“ কি আশ্চর্য, গতকাল রাতে কি হবে আমি কি করে জানবো? ”
“ গলা দিয়ে র’ক্ত বের হয়েছে ঊর্মির। ”
এজওয়ান সবেই সিঁড়ি দিয়ে নামছিলো। প্রথম দুই শব্দ শুনতে পারে নি। শুধু কানে এসেছে রক্ত বের হয়েছে ঊর্মির। সাথে সাথে চোখমুখ কুঁচকে ফেললো। কি ননসেন্স, অসামাজিক কথাবার্তা। এগিয়ে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে বলল-
“ ছি ভাই ছি,লজ্জা নেই তোমার? কিসব ব্লা’ডি কথাবার্তা। হোক ভাইজান তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড। সেজন্য তুমি তোমাদের এসব পার্সোনাল মোমেন্টের কথা এভাবে বলবে! ছি,। ”
সোলেমান ইব্রাহিম এজওয়ানের মুখের দিকে তাকালো। কিসের পার্সোনাল মোমেন্টের কথা বলেছে তারা?
“ কি বলেছি আমি? ”
“ এখন কি আমি মুখে উচ্চারণ করে বলবো কি বলেছো? মুখ দিয়ে বের করলে কি করে তুমি এসব? হাউ ভাই হাউ? মানলাম ফাস্ট দিন ওসবে ব্লাড বের হয়। তাই বলে তুমি ভাইজান কে এসব বলবে! বউয়ের গোপনীয়তা রক্ষা করবে না! ”

ইব্রাহিম সোলেমানের চোখ বড় বড় বড় হয়ে গেল। এজওয়ান এসব কি মিন করলো! যদিও সোলেমান প্রথমে এসবই ভেবেছিল। তারপরও ছোট ভাইয়ের মুখে এসব কথা শুনে মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিলো। ইব্রাহিম বসা থেকে উঠে এজওয়ানের কান টেনে বলল-
“ হতচ্ছাড়া, ঊর্মি গতকাল বমি করেছে। বমির সাথে ব্লাড বের হয়েছে সেটাই বলছিলাম। অসামাজিক পোলাপান আসছে আমাকে সামাজিকতা শেখাতে। সর সামনে থেকে। ”
ইব্রাহিম উপরে চলে গেলো। এজওয়ান সোলেমানের পাশে বসলো সোলেমান কিছুটা চেপে বসলো। বেয়াদব ছেলে একটা। মুখে কিছু আঁটকায় না। গড়গড় করে বলে দেয়। কাজের বুয়া এসে এজওয়ান আর সোলেমান কে ব্লাক কফি দিয়ে গেলো। মিনিট দশেক পর ইব্রাহিমের চিৎকার ভেসে আসলো। সেই চিৎকারের এজওয়ানের হাতে থাকা কফির মগ টা ফ্লোরে পড়ে যায়। ইব্রাহিম কে তড়িঘড়ি করে দৌড়ে আসতে দেখে তারা দু’জনেই বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়ে। এগিয়ে এসে সিঁড়ির কাছে দাঁড়ায়।
চোখ মুখে ইব্রাহিমের কেমন খুশির ঝলক দেখা যাচ্ছে। ইব্রাহিম কাছে এসে বলল-

“ সোলেমান, ভাই আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। সিরিয়াসলি। সবটা কেমন স্বপ্ন স্বপ্ন লাগছে। ”
এজওয়ান মুখ বাঁকালো।
“ এত ঢং করছো কেনো? বিয়ের ১২ ঘন্টা পর বলছো স্বপ্ন স্বপ্ন লাগছো। আগে বলতে ভুলে গেছিলা? ”
“ আরে ধূর এটা না। খুশির সংবাদ আছে। ”
“ কিসের খুশির সংবাদ? আমাকে কি নেক্সট নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বানাবে নাকি? যদি বানাও তাহলে আসলেই এটা একটা খুশির সংবাদ। খুব ইচ্ছে হোয়াইট হাউজে গিয়ে থাকার। আমাকে প্রেসিডেন্ট বানালে ট্রাস্ট মি আমি তোমার ভিসা ফ্রী করে দিব যুক্তরাষ্ট্রে। তুমি যখন খুশি যেতে পারবে হানিমুন করতে। ”
“ চুপ কর গাধা। ”
রুমাইসা হাই তুলতে তুলতে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামাতে বলল-
“ চিৎকার চেঁচামেচি কিসের? কি হয়েছে? ”
ইব্রাহিম একবার সবার দিকে তাকিয়ে তারপর আকস্মিক বলে উঠলো-
“ আমি বাবা হতে যাচ্ছি। ”
রুমাইসা এই কথা আচমকা শুনতে পেয়ে পা স্লিপ কেটে পড়ে যেতে নিলে সোলেমান ধরে ফেলে বোন কে। সোজা করে দাঁড় করিয়ে বোন কে বলল-

“ সাবধানে। ”
রুমাইসা এজওয়ান হা করে তাকিয়ে আছে ইব্রাহিমের মুখে। সোলেমানের কোনো রিয়াকশন নেই। সাত সকালে নিশ্চিত ইব্রাহিমের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাই পাত্তা দিলো না।
ইব্রাহিম সোলেমানের কোনো পরিবর্তন না দেখে বলল-
“ কিরে খুশি হোস নি? কংগ্রেস জানা। আমি মোটেও মজা করি নি। সিরিয়াস।
“ আচ্ছা কংগ্রেস। ”
কথাটা বলে সোলেমান সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যাচ্ছিলো। আচমকা মেহরিন হন্তদন্ত হয়ে আসার পথে সোলেমানের সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতে নিলে সোলেমান ধরে বলে-
“ হুঁশ কোথায় তোমার? কি হচ্ছে কি সবার। দেখেশুনে চলাফেরা করবে তো। পড়ে গেলে কি হতো এখন? ”
মেহরিন নিচে সবার দিকে তাকিয়ে তারপর বলল-
“ ঊর্মি প্রেগন্যান্ট। ”
সোলেমান মাথা চুলকে বলল-

“ ইব্রাহিম ফান করে বলেছে। তুমিও তার কথা বিশ্বাস করতে যাচ্ছিলে? বিয়ের এক রাত পর কে প্রেগন্যান্ট হয় বলো তো। ”
মেহরিন গেঞ্জি টেনে ধরলো সোলেমানের।
“ মোটেও ফান না এটা। সত্যি ঊর্মি প্রেগন্যান্ট। আমি নিজে দেখে আসলাম। প্রেগন্যান্সির কিটে স্পষ্ট দুটো লাল দাগ। ”
সোলেমান এবার চমকালো। ঘাড় বেঁকিয়ে ইব্রাহিমের দিকে তাকালো। ইব্রাহিমের মুখে হাসি।
“ দেখলি সত্যি আমি বাবা হতে যাচ্ছি। বউয়ের কথা হলো বিশ্বাস? ”
এজওয়ান ভ্রু কুঁচকালো। রুমাইসা গলা উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“ ঊর্মি সত্যি প্রেগন্যান্ট মেহু ভাবি? ”
মেহরিন উপর নিচ মাথা ঝাঁকালো। এজওয়ান ভ্রু কুঁচকালো। বলল-
“ এই বাচ্চার বাপ নিশ্চয়ই ইব্রাহিম ভাই তুমি না। ”
“ আমিই বাচ্চার বাপ। আমারই বাচ্চা। ”

“ হাউ ইজ দ্যিস পসিবল? আমার বেঁচে থেকে কি লাভ তাহলে? এত ঢেলে ঢেলে ভালোবাসা দেওয়ার পরও বাবা হওয়ার সংবাদ শুনতে পারি না। আর তুমি বিয়ের পরের দিনই শুনে ফেললে! ”
সাথে সাথে পেছন থেকে কিছু ধপাস করে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে রুমাইসা পেছনে ফিরে তাকালো। চোখ উপর থেকে নিচে নামিয়ে ফ্লোরে তাকাতেই দেখলো এজওয়ান পড়ে আছে ফ্লোরে।
রুমাইসা হন্তদন্ত হয়ে ভাইয়ের কাছে এগিয়ে এসে গালে বুকে ঝাঁকুনি দিয়ে বলছে-
“ এই ভাইয়া,কি হলো কি তোমার উঠো। এই ভাইয়া। ভাইয়া দেখো না কি হলো এজওয়ান ভাইয়ার উঠছে না কেনো? ”
সোলেমান নেমে আসলো। এজওয়ান কে পরখ করে বলল-
“ সেন্সলেস হয়ে গেছে। রুমু পানি আন। ”
রুমাইসা পানি আনলো গ্লাসে করে। সোলেমান হাতে পানি নিয়ে ছিটিয়ে দিলো। না ফিরছে না জ্ঞান।
সোলেমান ইব্রাহিম কে বলল-
“ ইব্রাহিম গাড়ি বের কর। ”
ইব্রাহিম চিন্তিত হয়ে বলল-
“ এজওয়ান হঠাৎ এমন সেন্সলেস হয়ে গেলো কেনো? ”
“ তোর সুখবর নিশ্চিত ওর হজম হয় নি। এখন তাড়াতাড়ি গাড়ি বের কর। তোর দেওয়া সুখবরের চক্করে ভাই হারা হতে রাজি নই। ”
ইব্রাহিম গিয়ে গাড়ি বের করলো। মাহি হাই তুলতে তুলতে করিডর দিয়ে আসছিলো। নিচে তাকাতেই দেখলো
সোলেমান আর ইব্রাহিম কাউকে দু হাত দু পা ধরে চ্যাং-দোলা করে নিয়ে যাচ্ছে। মেহরিন জিজ্ঞেস করলো-

“ আমি আসবো? ”
সোলেমান না করলো। মাহির খুব জানার কৌতূহল হলো। কাকে নিয়ে যাচ্ছে ওভাবে? মেহরিন কে দেখে জিজ্ঞেস করলো-
“ কি হয়েছে? কাকে তুলে নিয়ে গেলো ওভাবে চ্যাং-দোলা করে? ”
মেহরিন মাহির দিকে তাকিয়ে বলল-
“ এজওয়ান ভাইয়া কে। ”
মাহি সাথে সাথে চোখ বড়বড় করে তাকালো। মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসলো –
“ হোয়াট! কেনো কি হয়েছে তার? ”
“ সেন্সলেস হয়ে গেছে। ”
” কেনো? ”
রুমাইসা ভাইদের সাথে গেছে। ভাইয়ের কি না কি হলো। সে থাকতে পারবে না বাড়িতে।
“ ঊর্মির প্রেগন্যান্ট হবার কথা শুনে ভাইয়া সেন্সলেস হয়ে গেছে। ”
“ কি আশ্চর্য, পরের বউয়ের প্রেগন্যান্টের খবর শুনে এই লোক কেনো জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে? কাহিনি কি? ”
“ কাহিনি? ”

“ হুম। ঊর্মি প্রেগন্যান্ট তাতে এজওয়ানের কি? প্রেগন্যান্ট হতেই পারে…….কথাটা বলার পর মাহি নিজেই কি মনে করে যেন থেমে গেলো। তারপর চমকিত গলায় বলল- ” ঊর্মি প্রেগন্যান্ট! হাউ ইজ দ্যিস পসিবল! বিয়ে তো গতকালই হলো। তাহলে আজ কি করে প্রেগন্যান্ট হয়? বাচ্চাটা কি অন্য কারো নাকি?”
“ না না আপু কি বলছেন এসব। বাচ্চা অন্য কারো হবে কেনো? ”
“ তাহলে বিয়ের একদিন যেতে না যেতেই এই কথা কেনো? বিয়ের আগেই কি মেয়র আর ঊর্মির ভেতর কোনো তেমন সম্পর্ক ছিলো? গ্রামের মেয়েরা এমন হয় নাকি? ”
“ আপনি জানেন না কিছু? ”
“ আমি জানি গ্রামের মেয়েরা ভদ্রসভ্য হয় তোমার মতন। ”
“ না এটা না। ঊর্মি আর মেয়র ভাইয়ার সম্পর্কে? ”
“ কি জানাবো তাদের বিষয়ে? ”
“ তারা দুজন অনেক আগেই বিয়ে করে ফেলছে। ”
“ কিহ! ”
“ হু। ”
“ গতকাল কের বিয়ে টা প্রথম বিয়ে না তাদের? ”
“ না। ”
“ লুকিয়ে করেছিল নাকি? ”
“ হুম। ”

“ কি অবস্থা! লোকজন জানে তো গতকালই তাদের বিয়ে হয়েছে। আর বিয়ের পরের দিনই এমন নিউজ কানে গেলে তো সেন্সলেস টা হওয়া স্বাভাবিকই। এজওয়ান কে কোন হসপিটালে নিয়ে গেলো? ”
“ জানি না। ফোন করে জানতে হবে। ”
এজওয়ান কে নিয়ে নওগাঁ হসপিটালে আসা হয়েছে। ডক্টর রা শ্বাস ও নাড়ি চেক করে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়েছে মুখে,আর হাতে স্যালাইন দিয়েছে। ছাগলে ইব্রাহিমের বাবা হওয়ার সুখবর টা নিতে পারে নি। তাই অতি শকে জ্ঞান হারিয়েছে।
ইব্রাহিম বেঞ্চে বসে বলল-
“ এজওয়ান কেনো যে আমার সুখ সইতে পারে না। জ্ঞান হারিয়ে আমাদের ট্রমা দেওয়ার কোনো দরকার ছিলো? ”
“ ট্রমা এজওয়ান দিচ্ছে নাকি তুই দিচ্ছিস আমাদের? ”
“ আমি আবার কি করলাম? ”
“ কি করেছিস জানিস না? প্রথমে না জানিয়ে বিয়ে করেছিস। তারপর লুকিয়ে মেলামেশা করেছিস। এখন যখন সম্মতে বিয়ে দেওয়া হলে তখন বিয়ের পরের দিনই শুনতে পাচ্ছি বাবা হতে যাচ্ছিস! শালা নিমকহারাম। বিয়ে করেছি আমি আগে। তাহলে তুই কেনো আগে হচ্ছিস বাবা? প্রটেকশন নিস নি কেনো ওসব করার সময়? ”
ইব্রাহিম মাথা নত করে বলল-
“ প্রটেকশন ছিলো না হাতের কাছে। সেজন্য নেওয়া হয় নি। কোন সংবিধানে লেখা আছে যে আগে বিয়ে করবে সে-ই আগে বাবা হবে। ইউ জেলাশ মি সোলেমান। ”
“ কথা বলবি না আমার সাথে নিমকহারাম। এজওয়ানের মতো দূর্বল হার্ট আমার না বলে ধাক্কাটা সামলে নিতে পেরেছি। বাড়ির সবাইকে,তোর শ্বশুর বাড়ির সবাই কে সামাল দিবি কি করে সেটা ভাব। তোর সুমুন্দি তো তোকে কাঁচা চিবিয়ে খাবে। ”
“ আর পাত্তা দিচ্ছি না। ”
পাক্কা চার ঘন্টা পর এজওয়ানের সেন্স ফেরে। এজওয়ান চোখ খুলে নিজেকে হসপিটালের বেডে দেখে। সামনেই পাশে সোফায় সোলেমান রুমু কে বসে থাকতে দেখে উঠতে গেলে রুমাইসা এগিয়ে এসে ভাইকে ওঠায়। ইব্রাহিম বিল পে করতে গিয়েছিল। বিলের কার্যক্রম শেষ করে কেবিনের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে এজওয়ানের জ্ঞান ফিরেছে দেখে এগিয়ে গিয়ে বলল-

“ ফাইনালি জ্ঞান ফিরলো তোর। ”
ইব্রাহিম কে দেখে তড়তড় করে এজওয়ানের সব মনে পড়ে গেলো। এজওয়ান হাতের স্যালাইন খুলতে খুলতে বলল-
“ কিসের জড়িবুটি খেয়েছো তুমি? বলো,বলো আমাকে। কি খেয়ে তুমি এক রাতে বাবা হলে? আমি, ভাইজান তোমার আগে বিয়ে করেছি। সেই হিসাবে আগে বাবা হবে ভাইজান, তারপর আমি,তারপর ইয়াসিন,তারপর তুমি। সেখানে তুমি সবার শেষে বিয়ে করে কি করে সবার আগে বাবা হলে? এটা তো কোনো পাকিস্তানি ড্রামা না। তাহলে? বলো কি এমন করেছো নিজের সাথে যে এক রাতে বাবা হলে? আই নিড দ্যিস জড়িবুটি, পড়া পানি যেটাই হোক,আমাকে দাও। আমার চাই এই সুপার পাওয়া ঔষধ টা। ভাই তাড়াতাড়ি বলো। আমি কালই বাবা হবার সুখবর পেতে চাই। ”
ইব্রাহিম সোলেমানের মুখের দিকে তাকালো। সোলেমান সরে গেল। এখন বোঝা তুই।
“ আমি কোনো জড়িবুটি খাই নি এজওয়ান। ”
“ তাহলে বাপ হলে কি করে.. এক মিনিট বেবি টা কি অন্য কারো? সত্যি করে বলো। অন্যের বাচ্চা কে নিজের বাচ্চা বলছো। ”

“ শাট-আপ এজওয়ান। বললাম তো বেবির বাবা আমিই। ”
“ ছি তাহলে কি তুমির বিয়ের আগেই ওসব করেছো? অবৈ….”
“ একদম ঐ শব্দ মুখ দিয়ে বের করবি না। আমাদের বৈধ সন্তান এটা। ”
“ একদিনে কিভাবে সম্ভব তাহলে? ”
“ ঊর্মি যতদূর বুঝলাম দেড় কি দুই মাসের প্রেগন্যান্ট। আমরা বিয়ে করেছি মার্চে। মনে আছে সুন্দরবন গিয়েছিলাম যে, তখন। সেই হিসাবে বিয়ের ৮ মাস পর বাবা হয়েছি। বুঝেছিস গাধা? ”
হোয়াট! সুন্দরবনে বিয়ে করেছে তারা! আর এজওয়ান জানতেই পারলো না!
এজওয়ান হাতের কড় গুনে গুনে হিসাব করতে লাগলো। হিসাব মিলতেই চুপ হয়ে গেল। ৩ নম্বরে বিয়ে করেছে তাহলে। কিন্তু আগে কেনো হচ্ছে বাবা। এজওয়ান আর তার তার ভাইজান হবে বাবা। তারপর ইব্রাহিম হবে। তা না আগে বাপ হয়ে বসে আছে। কত আশায় ছিলো জড়িবুটির ঔষধ পড়া পানি পেলে তরিকুলের বেটি কে খাওয়াবে। শালি বাচ্চা নিতে চায় না। এজওয়ানের সন্তান দরকার। একশো টা হলেও সমস্যা নেই। কিন্তু একটাই তো আসতে দিচ্ছে না তরিকুলের বেটি। ১০০ টা আর আসতে দিবে কি করে।
দুপুরের পরপর বাড়ি ফিরলো এজওয়ান রা। এজওয়ান রুমে ঢুকে দেখলো মাহি নেলপলিশ দিচ্ছে নোখে। এজওয়ান বিছানায় বসে বলল-

“ আমি যে সেন্সলেস হয়ে গেছিলাম, জানো সেটা? ”
“ হু জানি তো। ”
“ দেখতে গেলে না কেনো আমাকে? কত মিস করলাম তোমাকে। ”
“ এমনি। ম’রে তো যান নি যে দেখতে যেতে হবে। ”
” তুমি যেই নিমকহারাম, ম’রার সময়ও বোধহয় যাবা না দেখতে। সেন্সলেস কেনো হয়েছি,কারন টা জানো? ”
“ হু জানি। ”
“ কেনো হয়েছি। ”
“ মেয়র সাহেবের বাপ হবার সুখবর শুনে। ”
“ এমন সুখবর দিয়ে অন্যকে সেন্সলেস আমি কবে বানাতে পারবো? শুধু কি অন্যদের টাই শুনে যাব?”
“ আমার কাছে বাচ্চার ঘ্যানঘ্যান করবেন না তো। আপনার ওসব ঝামেলা আমি ক্যারি করতে পারবো না। ”
এজওয়ান এগিয়ে আসলো। মাহির কব্জি টেনে বলল-

“ কি বললে? ঝামেলা? বাচ্চা জন্ম দেওয়া ঝামেলা মনে হয় তোমার কাছে? ”
“ নিঃসন্দেহে। ”
“ সাফওয়ানের সাথে বিয়ে হলে বাচ্চা নিতে না? ”
“ নিতাম। ”
“ তখন ঝামেলা মনে হতো না? ”
“ না। কারন তখন সেটা আমার আর সাফওয়ানের দু’জনের ভালোবাসার সংমিশ্রণে আসতো। ”
“ আমি কি ভালোবাসি না? ”
“ বাসেন বোধহয়। বাট আমি বাসি না। ”
“ আমাকে ভালোবাসতে সমস্যা কোথায় তোমার? করুণা করে হলেও একটু বাসে। ”
“ যাকে তাকে আমি করুণা করতে পারি না। ”
“ জীবন টা তো খুব বেশি বড় না। কাটিয়ে দাও না এই ছোট্ট জীবন টা আমার সাথে। ”
“ জীবন টা ছোট বলেই চাইছি না আপনার সাথে থাকতে। আমার কাছে বাচ্চার আবদার করবেন না কখনও। আমি দিতে পারবো না। ”

“ আমার যে একটা বাচ্চা দরকার তরিকুলের বেটি। ”
“ এত বাচ্চা বাচ্চা করেন কেনো? কি করবেন বাচ্চা দিয়ে? ”
“ আমার রক্ত যদি এই পৃথিবীতে না আসে তাহলে এজওয়ানের নাম যে এজওয়ান ম’রার সাথে সাথে মুছে যাবে পৃথিবী থেকে। আর এটা আমি কখনই চাই না। আমার রক্ত আসুক এই পৃথিবীতে। আমাকে বাঁচতে হবে তার মাধ্যমে। তারজন্য গড়া আমার এতো টাকা পয়সা ধন-সম্পদ সে না আসলে এসব সামলাবে কে আমার অনুপস্থিতিতে? এত কষ্ট এত শ্রম দিয়ে এতো প্রতিপত্তি গড়েছি কি বাহিরের মানুষ কে দিয়ে দেওয়ার জন্য? ”
“ বাহিরের মানুষ কে কেনো দিতে যাবেন? বাহিরের মানুষ কি বলেছে এজওয়ান আমাকে আপনার সম্পত্তি দিয়ে দিন? বলেছে? বলে নি তো। তাহলে? ”

“ বলতে হবে না তো। সুলতান পরিবারের উইল ভিন্ন ভাবে করা। আমাদের হোগা মেরে দেওয়ার জন্য আমাদের পূর্বপুরুষরা জমিদারি প্রথার আওতায় পরিবারিক সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য একটা নথি তৈরি করেছিলেন। তখনকার নিয়ম অনুযায়ী, পরিবারের পুরুষ সদস্যরা জমি, বাড়ি, ব্যবসা সবকিছু এককভাবে নিজের নামে নিবন্ধন করতো, কিন্তু এই নথি নির্ধারিত করেছিল যে মূল সম্পত্তি কেবল বংশের রক্তধারার মধ্যেই থাকবে।
সেই সময়, নথিতে বলা ছিল যে বাড়ির মেয়ে সন্তানরা তার সম্পত্তি পাবে। বাট সেই সম্পত্তি সে বিয়ের পর তার স্বামী কে দিতে পারবে না। তার সম্পত্তি তার অনুপস্থিতিতে যাবে তার সন্তানদের কাছে। আর যদি বাড়ির কোনো ছেলে বিবাহিত হলেও সন্তান জন্ম দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি তার স্ত্রী বা পরিবারের অন্যরাই ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু মূল পারিবারিক সম্পত্তি যা পূর্বপুরুষদের নামে নিবন্ধিত তা কেবল রক্তধারার জন্য সংরক্ষিত থাকবে। যদি কোনো উত্তরাধিকারী না থাকে, তবে সেই অংশ রাষ্ট্রের কাছে যাবে। এটা ছিল জমিদারি প্রথার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলেও, এখন সেই নথি আধুনিক আইনের সঙ্গে মিলিয়ে পারিবারিক ট্রাস্টে রূপান্তরিত করা হয়েছে শুধু
মেয়েদের বিষয়টা বদলায় নি। এখন যা হয়েছে তা হলো ব্যক্তিগতভাবে অর্জিত সম্পদও ট্রাস্টের আওতায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ, পরিবারের কোনো সদস্য তার নিজস্ব নামে থাকা জমি, ব্যবসা বা ব্যাংক হিসাব ইচ্ছামত বিক্রি করতে পারবে না। সব কিছু ট্রাস্টের নিয়ম ও রক্তধারার শর্ত অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভাগাভাগি এখন এইভাবে নির্ধারিত,স্ত্রী ব্যক্তিগত সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ ২৫% পাবে। আর সন্তান বাকি তিন-চতুর্থাংশ ৭৫% ভাগ করে নেবে।
যদি কোনো সন্তান না থাকে, তাহলে সন্তানদের অংশ ট্রাস্ট অনুযায়ী রাষ্ট্রের হাতে হস্তান্তরিত হবে।
স্ত্রী জীবিত থাকলে তার অংশ নিরাপদ। সে নিজের জীবনকাল পর্যন্ত তা ব্যবহার করতে পারবে। যদি স্ত্রী মারা যায় এবং সন্তান না থাকে,
তখন তার অংশ টাও ট্রাস্ট বা রাষ্ট্রের মাধ্যমে জনকল্যাণে চলে যাবে। বুঝেছো? ভীষণ প্যারা। কোন পূর্বপুরুষ যে এই উইল বানাইছিলো। তারে পাইলে কয়েকটা ঠাপ দিতাম। ফাদার ফাকিং বংশ একটা। আমিরুল চাচার সম্পত্তির ৭৫% তার মৃত্যুর পর চলে যাবে জনকল্যাণে। বাকি ২৫% পাবে তার স্ত্রী। সেই স্ত্রী ম’রে গেলেও সেটাও ট্রাস্ট পেয়ে যাবে। এখন আমার সন্তান না হলে আমার ৭৫% সম্পত্তিও চলে যাবে রাষ্ট্রের কাছে। আমি কি রাষ্ট্র কে দিয়ে দেওয়ার জন্য এসব কামিয়েছি? অবশ্যই না। আমি প্রতি বছরে বছরে বাচ্চা নিব। নিতেই হবে বাচ্চা। এজওয়ান হারার পাত্র না তরিকুলের বেটি। দেখবা কোন দিন তোমারে যাদুটোনা করে প্রেগন্যান্ট বানিয়ে দিছি ধরতেও পারবা না। ”
মাহির কপাল অলরেডি কুঁচকে এসেছে। হোয়াট দ্যা ফাকিং উইল! এভাবে উইল বানিয়েছে কে? মনে হচ্ছে খুব সূক্ষ্ম ভাবে কিছু একটা ভেবে তারপরই বানিয়েছে এই উইল টা। এর পেছনে কি কোনো যুক্তিগত কারন আছে?
“ তাহলে আপনার মায়ের সম্পত্তির ২৫% এখন কোথায়? ”

এজওয়ানের মুখ এবার শক্ত হলো। মাহি কে সরিয়ে দিয়ে বলল-
“ সে পায় নি ২৫%। কারন বাবা এখনও জীবিত। বাবার আগেই সে পটল তুলতে চলে গেছে। তার ভাগ বাবার কাছেই আছে। বাবা ম’রে গেলে তখন ২৫% চলে আসবে আমার কাছে। তখন আমি ১০০% এর ১০০% ই পাবো। কোনো ট্রাস্ট পাবে না সেখান থেকে। তেমন ভাবে ভাইজানের মায়ের সম্পত্তির ২৫% আর নিজের ৭৫% সোলেমান ভাই আর রুমু অলরেডি পেয়ে গেছে। আমাদের ভেতরে সবচেয়ে রিচ সে। এই যে বাড়ি গাড়ি এখানে ওখানে কোম্পানি এসব সব ভাই তার বাবা নানার মাধ্যমে পেয়েছে। তারাই জমিদার ছিলো শুনেছি। ভাইয়ের নানার কোনো ছেলে ছিলো না। একটা মেয়েই ছিলো। তাদের সম্পত্তি সব ভাইজান পেয়েছে। আমার মনে হয় দেওয়ান পরিবারই এই উইল বানিয়েছে সুলতান পরিবারের। ”
“ দেওয়ান পরিবার টা কে? ”
“ ভাইজানের নানার পরিবার। ”
“ আপনি মরলে তো তাহলে আমার ভীষণ লাভ দেখছি। ”
“ নিঃসন্দেহে। ”

“ তাহলে তো আপনার ম’রে যাওয়া উচিত। ২৫% নিয়ে আমি বাকি জীবন টা আয়েশের সাথে কাটাতে পারবো। ”
“ এখন কি আয়েশে থাকছো না নাকি? ঢং যতসব। ”
মাহি রুম থেকে বের হলো। মেহরিন ঊর্মির রুমে দাঁড়িয়ে আছে। ঊর্মি মাথা নত করে বসে আছে। মেহরিন কি বলবে বুঝতে পারছে না। বাচ্চা আল্লাহর দেওয়া একটা নেয়ামত। তবে এই বাচ্চা আসার খবর শুনে নিশ্চিত কেউ খুশি হতে পারবে না। বড়দের মধ্যে অলরেডি চলে গেছে এই খবর।

আমিরুল সুলতান আফিয়া সুলতান, বাশার সুলতান, আনোয়ার সুলতান কে বোঝাচ্ছে সোলেমান ইব্রাহিম। অলংকারপুর চলে গেছে খবর টা। ইমন নিউজ টা শুনে থম মে’রে বসে রইলো। লোকজনের থেকে আর লুকিয়ে রাখা সম্ভব হলো না। বিয়ে করেছে এখন শুনতে হচ্ছে প্রেগন্যান্ট! এরজন্যই ইব্রাহিম সেদিন বলেছিল এক মাসের মধ্যে তাকে মামা ডাক শোনাবে! আগে থেকেই জানা ছিলো সে বাপ হতে যাচ্ছিলো! ইমন এখন কি করবে? তার কি করা উচিত? এই ঝামেলা আর পোহাতে পারছে না। সব সম্পর্ক ছিন্নও করতে পারবে না তাদের সাথে। ইমন যতটা সম্ভব সুলতান পরিবার কে এড়িয়ে চলবে। শিবির প্যানেল থেকে অলরেডি তাকে ফোন করা হয়েছে। বোন কেনো আওয়ামিলীগের সাথে বিয়ে দিলো জবাব চাইলো। এও বললো সে কি গুপ্তচর হয়ে ঢুকেছে নাকি আওয়ামিলীগের? ইমন ঢাকা এসে কথা বলবে বলেছে।

বউ ভাতের অনুষ্ঠান টা ছিমছাম বেশে হলো। ইমন আসে নি। সে সোজা ঢাকা চলে গেছে। ইতি বেগম এসেছিল মোতালেব ভুঁইয়া দের সাথে। মেয়ের সাথে তেমন কথা বলে নি। ঊর্মি লজ্জায়,অনুতাপের আগুনে দগ্ধ হচ্ছে। তার পরের দিন ইব্রাহিম ঊর্মি কে নিয়ে ঢাকা চলে গেলো। সোলেমান এখন আফিয়া সুলতান আর আমিরুল সুলতানের সাথে কথা বলছে। সেও আগামীকাল মেহরিন কে নিয়ে ঢাকা চলে যাবে। ওখানেই কলেজে ভর্তি করিয়ে দিবে। সুলতান নিবাসেই থাকবে।

দাহশয্যা পর্ব ৭৮ (২)

মাহি খুশিই হলো শুনে। যাক বাড়িতে মেয়ে বলতে তাহলে কেউ তো রইলো। রুমাইসার সে কি মন খারাপ। পারে না তো কেঁদেই ফেলতে। পরের দিন মাহি এজওয়ান, সোলেমান মেহরিন অলংকারপুর গিয়ে মোতালেব ভুঁইয়ার সাথে দেখা করলেন। ইতি বেগম মেহরিনের ঢাকা যাওয়ার খবর শুনে আলাদা করে ডেকে বললেন – একটু ঊর্মির খেয়াল রাখতে। যতই অন্যায় করুক মা তো। মেয়ের খারাপ চাইতে পারে না। তার উপর এই অল্প বয়সে পোয়াতি হয়েছে। যত্ন দরকার। মেহরিন আশ্বস্ত করলো সে রাখবে খেয়াল।
সেদিন রাতেই তারা রওনা হলো ঢাকার উদ্দেশ্যে। মেহরিন এখন থেকে সুলতান সাহেবের সাথেই থাকবে। কেমন আনন্দও লাগছে সাথে ভয়ও হচ্ছে। সবটা আল্লাহর উপর ভরসা করেই মেহরিন চলতে লাগলো সময়ের শ্রোতে ভেসে। নিশ্চয়ই সবটা সুন্দর হবে।

দাহশয্যা পর্ব ৭৯