দাহশয্যা পর্ব ৯৪ (৩)
Raiha Zubair Ripti
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের বুকে ৫ বিঘা জমির উপর ঘন এক বনের ভেতর দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক লাক্সারি ভিলা। ভিলার চারিপাশে ২৫ জনের মতো কালো পোশাক পরিহিত হাতে বন্ধু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রহরীরা। বিকেল তিনটের দিকে একটা কালো মার্সিডিজ গাড়ি এসে থামলো ভিলাটার সামনে। সাথে সাথে প্রহরীরা কুর্নিশ করে সম্মান জানালো। ইয়া বড় কালো লোহার গেইট টা খুলে গেলো তৎক্ষনাৎ । গাড়িটা ভেতরে প্রবেশ করার সময় দেওয়ালে থাকা সুলতান’স হাউজ লেখা ফলকটার দিকে একবার তাকালো দুটি নীল বর্ণের চোখ।
সুবিশাল এই বাড়িতে কি আছে এটা বলার চেয়ে কি নেই বললেই বোধহয় একটু বেশি সুমধুর শোনাবে। বাড়ির সামনে ইউক্যালিপটাস গাছ। এই বাড়িতে সূর্য আসে না বললেই চলে। যখন সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ে তখন হাল্কা রশ্মি ছুটে আসে মাত্র । দোতলার এই মস্ত বড় ভিলাটায় কত গুলো রুম আছে তা কেবল এই ভিলার মালিক ব্যতিত আর কেউ জানে না।
বাড়ির একপাশে একটা পাহাড়ি ঝর্ণা আছে। যখন সকাল হয় তখন মনে হয় কোনো মেঘের উপরে চলে আসা হয়েছে।
গাড়ির ভেতর থেকে নামলো ৬ ফুট ১ ইঞ্চির একটা সুঠাম পুরুষালি দেহ পরনে তার কালো স্যুটবুট। গাড়ি থেকে নামার পরই ইশারায় সে সবাই কে চলে যেতে বললো। সবাই তার হাতের ইশারা পেয়ে চলে গেলো ভিলার বাহিরে। এখন কেবল ভিলার ভেতর দাঁড়িয়ে আছে এজওয়ান সুলতান। অনেক গুলো মাস পর সে আসলো তার নিজের বাড়িতে। খুব মিস করছিলো। ধীর পায়ে সে ভেতরে ঢুকলো। করিডোরের এক পাশ নিচের দিকে নেমে গেছে। সেখানে লেখা আছে “Restricted Zone”। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে বেসমেন্টে আসলো সে। একেবারে পাশে আছে একটা লোহার ঘেরা ঘর। সেখানে রাখা আছে একটা কালো প্যান্থার। তার ডাকনাম এজওয়ান রেখেছে পাডা,কালো পাডা। প্রায় এক বছর পর তাকে সে দেখছে। এজওয়ান লোহার গ্রিলের উপর হাত ঠেকিয়ে শিস বাজিয়ে প্যান্থার কে বলল-
“ হেই হট হ্যান্ডসাম কালো পাডা,হোয়াটসঅ্যাপ? ”
প্যান্থার টা তখন বসে বসে এসির হাওয়া খাচ্ছিলো। বেটার শরীর গরম সহ্য করতে পারে না। সেজন্য এজওয়ান দু দুটো এসি লাগিয়ে দিয়েছে তাকে। এজওয়ানের মতোই সবসময় উত্তেজনা ভরা থাকে পাডার শরীরে। এজওয়ানের মতোই পাডারও নীলাভ চোখ। একটা বেডও দিয়েছে তাকে এই রুমে। সাথে একটা আয়নাও সেট করা দেওয়ালে। পাডা বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বেডে গিয়ে শোয়। নিজেকে দেখার জন্য আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। মাঝেমধ্যে হয়তো ব্লাশও করে এজওয়ানের মতো নিজেকে নিজে দেখে ফিদা হয়ে।
প্যান্থার খুবই পরিচিত একটা ডাক শুনে লাফিয়ে লাফিয়ে লোহার গ্রিলের সামনে এসে দাঁড়ালো। এজওয়ানের হাত জিহ্বা দিয়ে চাটতে শুরু করলো। এজওয়ান বিরক্ত হয়ে বলল-
“ দিলি তো আমার হাত টা নষ্ট করে। দাঁত মাজছ তুই পাডা? মাজস না তো। সর তো। ”
প্যান্থার বরং সরলো না। উল্টো বাহিরে আসার জন্য লাফালাফি করতে লাগলো। এজওয়ান চাবি দিয়ে দরজাটা খোলা মাত্রই প্যান্থার লাফিয়ে এজওয়ানের কোলে উঠে গলা জড়িয়ে ধরলো। এজওয়ান পাডাকে জড়িয়ে ধরেই ফ্লোরে বসে পরলো। প্যান্থারের মনোভাব বুঝতে পেরেই সে আতঙ্কিত চোখে বলল-
“ নো নো পাডা নো,ডোন্ট ডু দ্যিস। ”
প্যান্থার শুনলো না। এজওয়ানের গাল ঘাড় জিহ্বা দিয়ে আদর করতে লাগলো। এজওয়ান বিরক্ত হওয়ার ভান করে বলল-
“ ধূর শালা শুনলি না আমার কথা। ”
উঠে দাঁড়াল এজওয়ান। প্যান্থার তার পায়ের চারিপাশ দিয়ে ঘুরতে লাগলো। এজওয়ান তার গলার শিকল টা ধরে বাড়ির বাগানের মাঝামাঝি তে আসলো। প্যান্থার মানুষ বলতে এক এজওয়ান কে চিনে। এজওয়ান ব্যতিত আর কোনো মানুষকে সে সহ্য করতে পারে না। সামনে দেখলেই আক্রমণ করে। আর সেটা যেমন তেমন আক্রমণ না। একদম মেরে তার মাংস খেয়ে ফেলার মতো আক্রমণ। সেজন্য এজওয়ান যখন তাকে বাহিরে বের করে তখন বাড়ির ভেতরের দিকটায় একটা মানুষকেউ থাকতে দেওয়া হয় না। মানুষ তখনই বাড়ির ভেতর রাখে এজওয়ান যখন সেই মানুষটার হায়াত পৃথিবীতে শেষ হয়ে আসে। এজওয়ান চেয়ারে বসে থাকে। আর পাডা সেই লোকটাকে আয়েশ করে খায় জীবন্ত অবস্থায়। কোনো মৃ’ত দেহ খায় না সে। তার জীবন্ত তাজা দেহের প্রয়োজন হয়। তবে এজওয়ান এমনি মাংস আনলে পাডা সেটা খায়। মনে হয় এজওয়ান তার গু এনে সামনে রাখলেও পাডা বিনাবাক্যে সেটাও খেয়ে নিবে এমন টাইপের মানা মানে সে এজওয়ান কে।
এজওয়ান গাড়ি থেকে শপ থেকে কিনে আনা সিনার মাংস একটা বড় থালার উপর রেখে দিলো। পাশে একটা গ্লাসে পানি দিলো। গলায় কাপড় বেঁধে দিলো। আর হাতে দিলো ছুড়ি আর কাটা চামাচ। পাডা পশু হলেও কি হবে? সে মানুষের মতো করে খাবার খেতে জানে। এজওয়ানই এই ট্রেনিং দিয়েছে। পাডা চেয়ারে উঠে বসলো। তারপর ছুড়ি দিয়ে মাংস কেটে কেটে কাটা চামচ দিয়ে খেতে লাগলো,আর প্রতি বার মাংস গালে দেওয়ার সময় তার ফকফকা ৩২ পা-টি দাঁত কেলাতে লাগলো এজওয়ানের দিকে তাকিয়ে। এজওয়ান তখন জুশ খাচ্ছে গ্লাসে করে। হাত বাড়িয়ে জুশের গ্লাস দেখিয়ে বলল-
“ খাবি এই হলুদ গুয়ের জুশ? ”
মূলত এটা ফলের জুশ ছিলো। পাডা লাফিয়ে এসে এজওয়ানের গ্লাস টা থেকে জুশ খেয়ে ফেললো। পাডা নিজের চামিচে করে একটু মাংস তুলে এজওয়ান কে দেখালে এজওয়ান নাক ছিটকে বলল-
“ এই পাডার বাচ্চা আমি কি তোর মতো খবিশ নাকি? তোর নিজের খাবার তুই নিজে খা। ”
পাডা চুপচাপ আয়েশ করে সামনে ল্যাপটপে থাকা কার্টুন দেখতে দেখতে খাবার টা খেয়ে নিলো।
মাহি আজ সিডনিতে এসেছিলো। তার পরিচিত বন্ধুর নিকট। এজওয়ানের মায়ের ছবি বানাতে। ছেলেটাকে বর্ননা দিলো। তবে ছেলেটা বানাতে পারলো না সেম ভাবে। ২-৩ টা ছবি সে বানালো। কিন্তু একজ্যাক্ট ছবি সেটা হচ্ছে না। কোনো না কোনো খুঁত ত্রুটি থেকেই যাচ্ছে। মাহি আর সেখানে সময় নষ্ট না করে বাড়ির রাস্তা ধরলো। এজওয়ান নাকি অনেক চমৎকার স্ক্যাচ বানাতে পারে। মাহি তাকে দিয়েই বানানোর চেষ্টা করবে। সেজন্য পকেট থেকে ফোনটা বের করে এজওয়ান কে কল করলো। এজওয়ান সেই ভোরে বের হয়েছে। একটা ফোনও দেয় নি আজ বের হবার পর। প্রথমবার রিং হতেই রিসিভ হলো। ওপাশ থেকে ভেসে আসলো এজওয়ানের গলা-
“ হোয়াটসঅ্যাপ তরিকুলের বেটি? নিজ থেকে আমায় ফোন করছো যে? এভ্রিথিং ইজ অলরাইট? ”
“ হু সব ঠিক আছে। ”
“ তাহলে ফোন কেনো করছে? ইয়্যু মিস মি? ”
“ বাসায় ফিরবেন কখন? ”
“ আজ ফিরবো না সম্ভবত। ”
“ কথা ছিলো আপনার সাথে। ”
“ বলো শুনছি তো। ”
“ সামনা-সামনি বলতে হবে। কোথায় আছেন আপনি? ”
“ ডেটে এসেছি। ”
মাহির কপালে দুটো ভাজ পরলো।
“ কার সাথে? ”
“ টপ সিক্রেট, বলা যাবে না। এখন রাখি কেমন? তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাও। ”
“ আপনি জানলেন কি করে আমি বাড়ির বাহিরে? ”
“ বাড়ি ফিরতে ফিরতে ভাবতে থাকো এটা। বাই। ”
এজওয়ান কে’টে দিলো ফোনটা। পকেটে ঢুকিয়ে পাডার গলার শিকল টা ধরে বলল-
“ চল রুমে চল। আমি চলে যাব। আবার আসবো পরে। ”
পাডা মন খারাপ করে চলে গেলো। এজওয়ান তাকে তার রুমে রেখে নিজের লাক্সারি রুমে আসলো। কাভার্ড থেকে জামাকাপড় বের করে একদম গোসল করে রেডি হয়ে ASIO তে চলে আসলো। আজ নাকি একটা ফুটেজ পাওয়া গেছে মনস্টার কে নিয়ে। এজওয়ান সেটা দেখার জন্যই চলে গেলো সেখানে।
কনফারেন্স রুমের মনিটরে দেখা যাচ্ছে নির্জন রাতের একটি হাইওয়ে দিয়ে ঝড়ের গতিতে একটা বাইক চলে যাচ্ছে ঝড়ের মধ্যে দিয়ে। বাতসের তীব্রতাকে তোয়াক্কা অব্দি করছে না। পরনে কালো রঙের ফিটিং টি-শার্ট আর কালো রঙের টাউজার। মাথায় কালো হেলমেট। হাতে কালো গ্লাভস। মুখ চেনার উপায় নেই।
হাইয়ের রাস্তার ধারে থাকা ট্রাফিক পুলিশ তাকে থামতে বললো। বাইকটা থামলো তো না। পুলিশ টি তখন চিৎকার করে তাকে ডাকতে লাগলো। পরিচয় জিজ্ঞেস করলো। এই কে রে তুই? কোন বড়লোক বাপের বেয়াদাপ সন্তান তুই? পুলিশদের মানিস না। বাইকে থাকা মানুষটা মিডেল আঙুল দেখিয়ে বলল- “ মনস্টার। দ্যা শ্যাডো মনস্টার। অস্ট্রেলিয়ার বাপ। ডু ইউ নো মি? ”
পুলিশটার চোখ তখন কপালে। তার সামনে দিয়ে এটা মনস্টার গেলো! তারচেয়ে বড় কথা মনস্টার একজন ছেলে! সে তাড়াতাড়ি করে হকিটকি দিয়ে আশেপাশে থাকা সব পুলিশ দের সতর্ক করে বলল এই হাইওয়ে দিয়ে বাইকে করে ঝড়ের গতিতে শ্যাডো মনস্টার যাচ্ছে। তাকে যেন যেতে না দেওয়া হয়।
দূর্ভাগ্যবশত তাকে কেউ আটকাতে পারে নি। পুলিশদের নাকানিচুবানি খাইয়ে সে বীরের মতো বুক ফুলিয়ে চলে গেছে।
এজওয়ান খুব ভালো করে দেখলো ভিডিও টা। ASIO এর প্রধান এজওয়ানের শান্ত ভঙ্গিমা দেখে বলল-
“ কিছু বুঝলে? ”
এজওয়ান আগের ন্যায় থেকেই বলল-
“ বুঝলাম। ”
“ কি বুঝলে? ”
“ মনস্টার এখন আর নিজেকে ছায়ার আড়ালে লুকিয়ে রাখছে না। আমাদের চোখের সামনে দিয়েই ঘুরছে। লোকটা যদি তার পরিচয় না দিত তাহলে কি কেউ ধরতে পারতো শ্যাডো মনস্টার একজন ছেলে! আবার হতেও পারে এটা একটা ট্র্যাপ। আমাদের মাইন্ড ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য তার থেকে। ”
“ মন্দ বলো নি কথাটা। বাইকের নম্বর টাও তো কোনো রেজিস্ট্রি খাতায় পেলাম না খুঁজে। ”
“ আপনার কি মনে হয় সে কোনো শো-রুম থেকে গাড়ি কিনবে? আমার মনে হয় সে নিজ থেকে গাড়িটা বানিয়ে নিয়ে তারপর একটা বানোয়াট নম্বর বানিয়ে নিয়েছে। ”
“ হুমম এটাও হতে পারে। তুমি ফাইল গুলো চেক করেছিলে? ”
“ না সময় পাই নি। জানেন তো আমি বিবাহিত। বউকে সময় দিতে হয়। নিজের গবেষণায় সময় দিতে হয়। ”
“ আচ্ছা তাড়াতাড়ি চেক করে দেখো ফাইল গুলো। ”
এজওয়ান ASIO থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠে সোলেমান কে ফোন করলো। অনেক দিন হলো কথা হয় না তাদের। ফোনটা সুইচ অফ বললো। এজওয়ান ইব্রাহিম কে কল দিলো। কল রিসিভ হলো । এজওয়ান জিজ্ঞেস করলো-
“ ভাইজান কি বাংলাদেশে আছে ভাই? ”
ইব্রাহিম ধানমন্ডির ৩২ নম্বর এক বাড়ির বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে। এজওয়ানের কথা শুনে বলল-
“ হু বাংলাদেশেই। ”
“ ফোন দিলাম ফোনটা সুইচ অফ বললো যে। সব ঠিকঠাক? ”
ইব্রাহিম আশেপাশে তাকিয়ে বলল-
“ হু সব ঠিকঠাক। পরে কথা বলবো হ্যাঁ? এখন একটু ব্যস্ত আছি রে। রাখছি কেমন? ”
ইব্রাহিম কেটে দিলো ফোন। এজওয়ানের ভ্রু দুটো কুঁচকে আসলো। মাথায় নাড়া দিলো মনস্টারের কথা। কে হতে পারে এই মনস্টার? উমমম,মনস্টারের বডি ফিটনেস টা তো মারাত্মক ছিলো। রেড ফ্ল্যাগ খারাপ রা আসলেই হ্যান্ডসাম ড্যাশিং হয়। লাইক এজওয়ান। বিয়ের আগে তো পিওর রেড ফ্ল্যাগ ছিলো। এখন চেষ্টা করছে একটু গ্রীন ফ্ল্যাগ হওয়ার ভাইজানের মতো।
ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের মহসিন আলীর বাড়িতে এসেছে সোলেমান। গাড়িটা বাড়ির সামনে রেখে ভেতরে ঢুকতে চাইলে সিকিউরিটি গার্ড বাঁধা দেয়। এ বাড়িতে নাকি অচেনা কারো প্রবেশ নিষেধ। কথাটা শোনামাত্রই সোলেমান তার শক্তপোক্ত হাতটা দিয়ে তার কানের নিচে একটা চ’ড় মারে। লোকটার কান সাথে সাথে ঝিম ধরে যায়। সোলেমান বুকে সজোরে এক ধাক্কা দিয়ে সামনে থেকে সরিয়ে ভেতরে ঢুকে।
সামির তার কৃত্রিম হাত দিয়ে ভারী কাজ করতে পারে না। এখনও হাতের সাথে পুরোপুরি মিশে যায় নি কৃত্রিম হাত টা। গ্লাসে স্ট্র এর সাহায্যে ড্রিংকস খাচ্ছে আর টিভিতে অশ্লীল ইংলিশ মুভি দেখছে।
পায়ের আওয়াজ পেয়ে সামির বলল-
“ গ্লাসে মদ ঢেলে দিয়ে যা তো আবার। ”
সোলেমান সে কথা শুনে এগিয়ে আসলো। পাশে এসে দাঁড়ালো। সামির এখনো গ্লাসে ড্রিংকস না দেখে বিরক্তিকর চোখে তাকাতেই কষে একটা চড় পরলো গালে। গরম হয়ে গেলো গাল টা সাথে সাথে। সোলেমান চুলের মুঠো ধরে বলল-
“ এই শুয়োরের বাচ্চা তোর ভাই কোথায়? বল শেখর কোথায়। ”
সোলেমান শেখরের লোকেশন ট্র্যাক করতে পারে নি। কারন আগের নম্বর ইউজ করে না। শেখরের সব আস্তানায় সে খোঁজ নিয়েছে। শেখর নেই সেখানে। বাকি রইলো সামির। শেখর সোলেমানের মতো তার ভাইদের ও অনেক ভালোবাসে। শেখর দেশে এসেছে আর সামিরের সাথে যোগাযোগ করবে না এটা হয়?
সামির পালানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু পারলো না। ছেলেটা বলছে সে জানে না তার ভাই কোথায়। সোলেমান কি সেটা শুনে বিশ্বাস করার মতো মানুষ? সে সামিরের কৃত্রিম হাতটা মুচড়ে ধরে বলল-
“ বলবি না? আগের বার তো অর্ধেক নষ্ট করেছিলাম তোর হাত। এবার ধরলে কিন্তু পুরো হাত দুটোই খুলে নিয়ে আসবো তোর দেহ থেকে। ”
সামির ভয় পেলেও ফের একঔ কথা বলতে লাগলো। আর সোলেমানের এক কথা বার বার শুনতে ভালো লাগে না। পুরো হাত টা এবার মুচড়ে বেঁকিয়ে ধরলো। সামির আর্তনাদ করে উঠলো ব্যথায়। সোলেমান আরো একটু জোরে ধরতেই সামির বলল-
“ বলছি বলছি ভাইয়া কোথায়। ”
সোলেমান হাত ছাড়ে নি। ওভাবেই ধরে ছিলো।
“ আমার হাত ছাড়ুন আমি বলছি। ভাইয়ার নম্বর আছে আমার কাছে। কিন্তু ভাইয়া কোথায় আছে সেটা জানি না। আপনি লোকেশন ট্র্যাক করতে পারবেন। ”
সামিরের কাছ থেকে নম্বর টা নিয়ে সোলেমান ইব্রাহিম কে ফোন করে নম্বর টা দিয়ে লোকেশন ট্র্যাক করতে বললো। আর সোলেমান বেরিয়ে যাওয়ার পর যেন সামির শেখর কে সতর্ক করতে না পারে সেজন্য একটা রুমে নিয়ে হাত পা মুখ বেঁধে ফেলে বন্ধ করে তালা মেরে দিয়েছে।
তখন ভোর পাঁচ টা বেজে তেত্রিশ মিনিট। বন্ধ দরজার ভেতর থেকে মেহরিনের একের পর এক আর্তচিৎকার ভেসে আসছিলো। ভেতরে তাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার উল্লাস করা হচ্ছে। শেখর দরজায় ধাক্কা দিতে লাগলো পাগলের মতো।
“ দরজা খোলো! দরজা খোলো বলছি!”
কিন্তু ভেতর থেকে কোনো উত্তর নেই। অ্যাবর্শন করানোর জন্য মেহরিনের হাত-পা শক্ত করে রশি দিয়ে বাঁধা হয়েছে। দু’জন নার্স দুই পা ধরেছে। আর একজন দুই হাত। ভ্যাকুয়াম অ্যাসপিরেশন যন্ত্রের একটি পাতলা ক্যানিউলা প্লাস্টিকের টিউবটা যখন এগিয়ে আসতে লাগলো মেহরিনের দিকে তখন ভয়ে মেহরিনের বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে ধরলো। পা হাত দিয়ে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলো,কিন্তু চার জন নারীর কাছে তার শক্তির কোনো জোর নেই। টিউবটা ধীরে ধীরে মেহরিনের জ’রায়ুর মুখ দিয়ে ঢোকানো হলো তখন যেন মেহরিন স্বয়ং মৃত্যু কে কাছ থেকে দেখতে পেলো। মনে হলো ভেতরটা কেউ আঁকড়ে ধরেছে, মুচড়ে দিচ্ছে। হৃদয়টা কেউ টেনে বের করে নিচ্ছে। মেহরিনের এক একটা আর্তচিৎকারে বন্ধ ঘর টাও কেঁপে উঠলো ভয়ে। মেহরিনের সার্ভিক্সকে ধীরে ধীরে প্রসারিত করতে ধাতব ডাইলেটারগুলো ব্যবহার করা হলো। ক্যানিউলা থেকে উচ্চ শক্তির ভ্যাকুয়াম সাকশন চালু করা হলো। তখন মেহরিনের মনে হতে লাগলো তার শরীরে ভেতর থেকে হুট করে সবকিছু টেনে বের করে নেওয়া হচ্ছে। একধরনের টান লাগে, মরণ যন্ত্রণার একটা ব্যথা নিচের পেটটাতে তীব্র খামচে ধরা কষ্ট। মাসিকের সময় যেমন পেট মোচড়ানো ব্যথা হয়, তার চেয়েও কয়েকশো গুন বেশি ব্যথা। ভেতরে একটানা টান দেওয়া হলো। ভ্রূণের নরম টিস্যু, প্ল্যাসেন্টা, গরম র’ক্তের কল্লোল সব একে একে টেনে বাইরে ফেলা হলো। মেহরিন অশ্র নয়নে দেখলো তার চার মাসের সন্তানের নরম শরীরের অংশ গুলোকে কে এক এক করে শরীর থেকে টেনে ছিঁড়ে বের করা হচ্ছে।
সে আকাশপাতাল এক করে চিৎকার করে উঠলো। সেই সময়টায় মেহিরন এমন কেউ নেই যাকে সে ডাকে নি। কিন্তু কেউ আসলো না। নার্সদের কত করে মানা করলো। তারা শুনলো না। সে মা হয়ে দেখলো তার সন্তানের অকাল মৃত্যু। ওর শরীরের গঠন হতে শুরু করেছিল। ছোট ছোট হাত পায়ের অংশ রক্তে ভেজা। সেগুলো পাশের একটা স্টিলের থালা তে রাখা হচ্ছিলো। সেই থালাটা ছোট একটা মাংসের স্তুপের মতো হলো। মেহরিনের গর্ভ থেকে বাচ্চাটার সবটুকু অংশ বের করে আনা হলো। মেহরিনের গর্ভে এখন তার সন্তানের কোনো অংশ আর অবশিষ্ট নেই। মেহরিন কাঁদতে লাগলো। বয়সই বা কত ছিলো ওর? চার মাস! আর ৪-৫ টা মাস পার হলেই হয়তো বাচ্চাটা তার দুনিয়ার আলো দেখতে পারতো। মা মা করে ডেকে মেহরিনের কলিজাটা ঠান্ডা করে দিত। কিন্তু স্বামীর করা পাপের ফল পেলো তার নির্দোষ নিষ্পাপ বাচ্চাটা। ওর কি এটা প্রাপ্য ছিলো! আচ্ছা ও ছেলে ছিলো নাকি মেয়ে? কি জানি কি ছিলো। মেহরিনকে নার্স গুলো ছেড়ে দিয়েছে। তবে হাত পায়ের বাঁধন এখনো বাঁধা। তার সামনেই কিছুটা দূরে পরে আছে থালাটা। মেহরিন বাঘিনীর মতো হিংস্র গলায় বলল-
“ কি শান্তি পেলে এবার তোমরা? এজন্য এখন ছেড়ে দিলো আমাকে? চার চারটা মাস আমার শরীরের ভেতর ছিলো ঐ প্রাণ টা। আমার রক্তে বেঁচে ছিলো, আমার নিঃশ্বাসের সাথে নিঃশ্বাস নিয়েছিল। কত স্বপ্ন দেখেছি তাকে নিয়ে জানো? আমার বেঁচে থাকার সর্বশেষ ভরসা ছিলো আমার সন্তানটা। আর সেটাই সহ্য হলো না তোমাদের তাই না ? সেজন্য আমার গর্ভ চিঁড়ে টেনে বের করে আনলে ওকে? অমানুষ… তোমরা সবাই অমানুষ। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই আমার সন্তানটাকে মেরে ফেললে তোমরা। তোমরাও তো নারী। তোমরাও তো মা হতে পারো। তাহলে আমার বুকের ভেতরটা কীভাবে ছিঁড়ে যাচ্ছে, সেটা বুঝতে পারছো না? কি দোষ ছিলো ওর? বলো! কি অপরাধ ছিলো একটা নিষ্পাপ প্রাণের? ও তো কোনো পাপ করে নি। কোনো অপরাধও করে নি। শুধু এক পাপীর রক্ত ছিলো ওর শরীরে। এর বাইরে তো ওর নিজের কোনো দোষ ছিলো না। তাহলে? আমাকে আঘাত করতে। বিশ্বাস করো একটা টু শব্দও আমি করতাম না। কিন্তু তোমরা আমার সন্তান কে মেরে ফেলছো। আমার হাত পায়ের বাঁধন টা ভুল ক্রমেও যদি একবার খুলে দিতে,আজই আমি তোমাদের গলা টিপে মে’রে ফেলতাম। কিন্তু তোমরা খুললে না। আল্লাহর গজব নাজিল হোক তোমাদের উপর। এক মায়ের বুক খালি করে দিয়েছো আমরা। শুনে রেখো মায়েদের বদদোয়া কখনোই বিফলে যায় না। আমি যদি আমার সন্তান হত্যার বিচার করতে না পারি তবে স্বয়ং আমার আল্লাহ যেন এর বিচার করে। আর আল্লাহর বিচার দুনিয়ায় সব বিচারের উর্ধ্বে মনে রেখো। কাউকে ছাড়বো না আমি, কাউকে না। না তোমাদেরকে আর না আমার স্বামী নামের আসামী কে।
নার্সগুলো শুধু শুনে গেলো মেহরিনের কথা। জবাব দিলো না। রক্তে ভেজা, ব্যথায় টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া শরীরটা নিয়ে মেহরিন যখন ব্যথায় ছটফট করতে ব্যস্ত। তখন নার্স ধীরে ধীরে ফ্লোর থেকে স্টিলের থালা টা নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। আর ঠিক তখনই মেহরিনের নজর পরলো নার্সদেরর উপর। শরীরে বাকি থাকা শেষ শক্তিটুকু যেন আগুন হয়ে উঠলো তার গলায়। সে চিৎকার করে উঠলো-
“ এই, এই কোথায় নিয়ে যাচ্ছো তোমরা আমার সন্তানটাকে? কোথাও নিয়ে যাবে না খবরদার। ওর অমানুষ বাপটা এখনো ওকে দেখে নি। ও দেখবে না? দেখবে না ওর পাপের ফল আমার সন্তান টা কিভাবে পেলো? ওর দেখা উচিত। অন্যের বাপ মায়ের বুক খালি করতে করতে এখন ওর নিজের বুক খালি হওয়াটা ওর দেখা উচিত। ”
নার্সটা দাঁড়িয়ে গেলো। ধীরে ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকালো। তারপর থালাটা দেখিয়ে বলল-
“বাইরে বাঁধা কুকুরটা তিন দিন ধরে না খেয়ে আছে। তাকে খাবারটা দিতে যাচ্ছি।”
কথাটার মানে বুঝতেই পুরো পৃথিবী থেমে গেল মেহরিনের। কি বলছে কি এরা! মৃত দেহটাকেও ছাড় দিতে নারাজ তারা! তার এই গর্ভ থেকে ছেড়া সন্তান টাকে নাকি তারা কুকুরের খাবার বানাবে! সে কাঁপতে কাঁপতে ওঠার চেষ্টা করলো। কিন্তু শরীরটা আর সায় দিলো না। একটুও শক্তি যে নেই তার এই শরীরটায়। সে হাল ছাড়তে চাইলো না। উঠে আবার দাঁড়াতে চাইলো। পারলো না। দেওয়ালে হাত রেখে হেলে পড়লো। তার ভেজা চোখ আরো ভিজে উঠলো, গলা ভেঙে গেল অনুনয়ে-
“ কি বলছো কি এসব তোমরা। পাগল হয়ে গেছো?আল্লাহর দোহাই লাগে এটা করো না। এতটা অমানুষ আর হইয়ো না। আর কষ্ট দিও না আমার নাড়ি ছেঁড়া সন্তান টাকে। মেরেই তো ফেলছো তাকে। এবার তো রেহাই দাও তার ছিন্নভিন্ন শরীর টাকে। দয়া করে আমার সন্তানটাকে কুকুরের খাবার বানিও না। শোনো আমি ওকে দেখি নি এখনও। ছুঁইও নি। দাও আমার বুকে দাও আমার সন্তান টাকে। যেভাবে আছে ওভাবেই দিয়ে দাও আমার বুকে। ও ছেলে ছিলো, না মেয়ে,সেটাও জানলাম না আমি। একটা মা হয়ে এটুকু জানার অধিকারটুকুও কি আমার নেই? ”
নার্স গুলো উত্তর দিলো না। থালাটা নিয়ে রুমের দরজা খুলতেই শেখর হুমড়ি খেয়ে পরলো। নার্স গুলো তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলে শেখ উদ্যত হয় এটা জিজ্ঞেস করার জন্য যে তাদের কে পাঠিয়েছে। কিন্তু তার আগেই পকেটে থাকা তার ফোনটা বেজে উঠে। ফোনটা রিসিভ হতেই ওপাশ থেকে বলা হয়-
“ তাড়াতাড়ি পালান। সোলেমান আসছে। আপনাকে পেলে জ্যন্ত কবর দিয়ে ফেলবে। ”
“ মেহরিন কে কি করবো? ”
“ ওভাবেই ফেলে রেখে পালান আগে। ”
শেখর আর নার্সদের জিজ্ঞেস করতে পারলো না। ছেলেপেলে দের নিয়ে পালাতে লাগলো। আর নার্স গুলো সেই ভ্রূণের থালা টাকে বাড়ির সামনে শিকলে আঁটকে রাখা কুকুর টার সামনে রাখলো। তাজা রক্ত,নরম মাংস পেয়ে অভুক্ত থাকা কুকুরটি আয়েশ করে খেতে লাগলো।
যেই ছোট ভ্রূণ সেটা খেয়ে কি কুকুরটার ক্ষুধা আদোও মিটতো? কম পরে যাবে না?
পৃথিবীতে কি মেহরিনের সন্তান কে কবর দেওয়ার জন্য একটুও জায়গা নেই? জায়গার কি এতই কম পড়েছে দুনিয়ায়! ওর তো বেশি জায়গা লাগতো না। আধ হাত একটা গর্ত করে মাটি চাপা দিত। কিন্তু এই আধ হাত জায়গাটাও পেলো না মেহরিনের সন্তান। অথচ এই সামান্য আধ হাত জায়গা হলেই ঐ দেহটা রাখা যেত। মেহরিন না হয় মা হয়ে ওর কবরের পাশে বসে কাটিয়ে দিত আজীবন। নিজেকে বুঝ দিত এই বলে যে, তার সন্তানটার অন্তত মৃত্যুর পর মাটির নিচে ঠাই তো হয়েছে। সে শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। কিন্তু ওরা কি করলো এটা? পুরোপুরি দুনিয়া থেকেই একদম নিশ্চিহ্ন করে দিলো এভাবে! একটুও অস্তিত্ব রাখলো তারা মেহরিনের বাচ্চাটার!
যেই মেয়েটাকে দেখে আগে সবাই আফসোস করতো,হিংসে করতো সুখী বলে,তার কোনো দুঃখ নেই বলে সেই মেয়েটাকেই আজ চারিদিক থেকে দুঃখরা গ্রাস করেছে। সেদিন প্রেমা মেহরিনের সুখী জীবন দেখে দোয়া করে বলেছিল – “ পরের জন্মে তুমি প্রেমা হয়ে জন্ম নিও। তখন বুঝবে প্রেমাদের হাহাকার, ভালোবাসা পেয়েও হারানোর কষ্ট। প্রেমারা বুকের ভেতর কতটা কষ্ট নিয়ে হাসি মুখো বেঁচে ছিলো পৃথিবীতে।
কিন্তু প্রেমা কখনও এটা বলে নি যে গর্ভ থেকে তিনমাসের দু দুটো সন্তান কে টেনে বের করে আনার কষ্ট। মা হয়ে চোখের সামনে সন্তান দের ছিন্নভিন্ন দেহ কুকুর দিয়ে খাওয়ানোর দৃশ। শরীর থেকে জরায়ু কেটে ফেলে সারাজীবনের জন্য বন্ধ্যাত্বকরণ কে নিয়ে বেঁচে থাকার কষ্ট মেহরিন জানুক।
অথচ মেহরিন কে প্রেমা হওয়ার জন্য পরের জন্মের অপেক্ষায় রাখা হয় নি। এই জনমেই মেহরিন প্রেমা হয়ে গেলো। সে প্রেমার ভালোবাসা পেয়েও হারিয়ে ফেলার বেদনা ছাড়া সবই পেলো যা প্রেমা মুখেতেও আনে নি। প্রেমার মতো তার গর্ভ থেকেও তার চার মাসের সন্তান টাকে টেনে বের করে আনা হলো। প্রেমার সন্তানের মতো তার সতানের ছিন্ন ভিন্ন দেহটার ঠাই মিলছে কুকুরের পেটে। পরিশেষে প্রেমার দোয়া লেগেই গেলো মেহরিনের জীবনে।
মৃত্যুর আগে তবুও তো জনমদুখিনী প্রেমা জানতে পেরেছিল তার গর্ভ থেকে ছিড়ে আনা তিন মাসের ভ্রূণ টা ছেলে ছিলো কি না মেয়ে..!! কিন্তু হতভাগি মেহরিন ? সে তো জানতেও পারলো না তার গভ থেকে ছিঁড়ে আনা চার মাসের ভ্রূণ টা ছেলে ছিলো কি না মেয়ে…!!
প্রেমা যদি ঘুণাক্ষরেও সেদিন টের পেত তার মুখ দিয়ে বের হওয়া দোয়া টা এভাবে উল্টো ভাবে মেহরিনের এভাবে লেগে যাবে। তাহলে মেয়েটা সেদিনই হয়তো তার সেই মুখটা কে’টে ফেলতো। সে চায়নি কখনো তার মতো এমন নিষ্ঠুর ভাগ্য আর কোনো মেয়েরই হোক,সেখানে মেহরিনের মতো নিষ্পাপ ফুলের তো নয়ই….সে তো বিশ্বাস করতো তার দোয়া কখনোই কবুল হয় না। অথচ মেয়েটার অনুপস্থিতিতে তার সেই দোয়াটাই কবুল হয়ে গেলো। মেয়েটা নিশ্চয়ই উপর থেকে মেহরিনের এই পরিনতি দেখে খুব ছটফট করছে। সেই সাথে নিজেকে দোষীও ভাবছে খুউউব।
সেদিন প্রেমার জীবিত সন্তানটাকে মেরে ফেলার জন্য গর্ভপাত করানো হলেও এখানে আজকে মেহরিনের মৃত সন্তানের গর্ভপাত করানো হয়েছে। কারন মেহরিনের সন্তান পেটে থাকা অবস্থায়ই গর্ভপাতের পিল খাওয়ানোর আগেই মরা গেছে। যখন সে কসাইখানা থেকে পালালো? রাস্তার ধারে বসে পেট ব্যথার জন্য কান্না করলো?
দাহশয্যা পর্ব ৯৪ (২)
মূলত তখনই তার বাচ্চা টা মারা গিয়েছিল। শেখরের কারনে মারা যায় নি। আর না ঐ পানি খাওয়ানোর জন্য আর না গর্ভপাত করানোর জন্য। শেখর এবার দোষ না করেও দোষী। এই বিষয়টা কেবল গল্পের পাঠক লেখক ছাড়া গল্পের কোনো চরিত্র কখনোই জানবে না। তারা একটা ভুল ধারণা কে নিয়েই আগাবে যে মেহরিনের সন্তান মারা গিয়েছে শেখরের করানো গর্ভপাতের জন্য। যদি নার্স চারজন না আসতো। শেখরের ছেলেপেলে তাকে তুলে না নিয়ে আসতো, তাহলেও তার মৃ’ত বাচ্চা টাকে বের করার জন্য গর্ভপাতই করানো হতো। তখন হয়তো বাচ্চাটা একটি কবর পেত। গল্পের চরিত্র গুলো জানতে পারতো যে বাচ্চাটা আগেই মারা গেছে। কারন মেহরিনের শরীর জীবন নিয়ে কম টানা হেঁচড়া করা হয় নি। ননির পুতুলের মতো শরীরটা যে এখনও এই অল্প বয়সে এত কিছু সহ্য করেও বেঁচে আছে, শ্বাস নিচ্ছে এটাই তো অনেক।
