দাহশয্যা পর্ব ৯৭ (২)
Raiha Zubair Ripti
পরীক্ষার শেষ ঘণ্টা বাজতেই পুরো হলরুমে যেন একসঙ্গে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছড়িয়ে পড়ল। ইনভিজিলেটর উত্তরপত্র সংগ্রহ করতে শুরু করলেন। মেহরিন শেষবারের মতো নিজের ওএমআর শিটে চোখ বুলিয়ে নিল। আজকের প্রশ্নগুলো,অদ্ভুতভাবে কঠিন লাগেনি তার কাছে। বরং বেশিরভাগ প্রশ্নই পরিচিত ছিল। যেগুলো নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে রাত জেগে পড়েছে, সেগুলো থেকেই এসেছে। হল থেকে বের হতে হতে তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। কিন্তু সেই হাসিটা বেশিক্ষণ টিকল না। পরক্ষণেই মনে আরেকটা ভাবনা এসে ভর করল। তার কাছেই যদি এত সহজ লাগে প্রশ্ন তাহলে আর সবার কাছেও নিশ্চয়ই সহজ লেগেছে? ধীরে ধীরে ভ্রু কুঁচকে গেল তার।প্রশ্ন সহজ হলে তো কাট মার্কও অনেক উপরে উঠবে। যদি এক-দুইটা ভুলই তার সব স্বপ্ন শেষ করে দেয়? যদি ভালো পরীক্ষা দিয়েও চান্স না পায় তখন? মুহূর্তেই বুকের ভেতর অকারণ একটা শূন্যতা নেমে এল। সে ধীর পায়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের গেটের দিকে এগোতে লাগল। চারপাশে পরীক্ষার্থীদের ভিড়। কেউ উচ্ছ্বসিত হয়ে উত্তর মেলাচ্ছে, কেউ আবার মাথায় হাত দিয়ে আফসোস করছে। মেহরিন সেদিকে তাকালই না। সে কখনো পরীক্ষা শেষে উত্তর মেলাতে পছন্দ করে না। যা হওয়ার, তা তো হয়েই গেছে।ঠিক তখনই তার সামনে এসে থামল একটি কালো এসইউভি। গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে এল সোলেমান।
কালো শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো। চোখে সানগ্লাস। ঠোঁটের কোণে সেই পরিচিত, নিশ্চিন্ত হাসি। মেহরিন ভ্রু কুঁচকে বলল,
“আপনি এখানে কেন?”
সোলেমান সানগ্লাস খুলে শার্টে গুঁজে রাখল।
“আমার স্ত্রীর পরীক্ষা ছিল আর আমি আসব না?”
“আমি কি আপনাকে আসতে বলেছিলাম?”
“না।”
“তাহলে?”
“তুমি না বলেছিলে বলেই এসেছি।”
মেহরিন বিরক্ত হয়ে চোখ উল্টে ফেলল। সোলেমান আবার জিজ্ঞেস করলো,
“পরীক্ষা কেমন হয়েছে?”
“জানি না।”
“জানো।”
“জানলেও বলব না।”
“এত রাগ কেন?”
” ঘৃণা কে রাগ বলে সম্বোধন করছেন।”
সোলেমান হালকা হেসে বলল,
” ঘৃণাটা রেখে দাও। পরে কাজে লাগবে।”
” আর কিছু বাদ রেখেছেন ? ”
” হয়তো। এখন বলো পরীক্ষা কেমন হয়েছে?”
মেহরিন তপ্ত শ্বাস ফেলে হাঁটা ধরলো,
“মোটামুটি।”
“মোটামুটি মানে? প্রশ্ন কঠিন হয়েছিল খুব? ”
” না। প্রশ্ন সহজ হয়েছিল।”
“এটা তো ভালো খবর।”
” না। এটা ভালো খবর কি করে হয়? প্রশ্ন খুব সহজ হয়েছিল। কিন্তু এটা কি এসএসসি এইচএসসি পরীক্ষা নাকি? আমার কাছে সহজ লেগেছে। এখন সবার কাছেও যদি প্রশ্ন সহজ লাগে, তাহলে কাট মার্ক অনেক বেশি হবে। তখন কি আমার চান্স হবে? ”
সোলেমান একদৃষ্টে তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর মৃদু হেসে বলল,
“তুমি নিজের ওপর এত কম বিশ্বাস রাখো?”
“বাস্তবতা বুঝি বলেই রাখি।”
“আমার বিশ্বাসই তোমার জন্য যথেষ্ট।”
“আপনার বিশ্বাস দিয়ে তো রেজাল্ট হবে না।”
“দেখা যাবে।”
মেহরিন হাঁটতে হাঁটতে আচমকা দাঁড়িয়ে গেল। সোলেমানের দিকে ফিরে বলল,
” আপনি আমার পেছন পেছন আসছেন কেনো? ”
” তাহলে কার পেছন পেছন যাব? ” সোলেমান আঙুল দিয়ে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া অসংখ্য ছাত্রছাত্রীদের দেখিয়ে বলল, ” ওদের? বাট তার প্রয়োজন পরবে না। দেখো কিভাবে তাকিয়ে আছে। চোখ দিয়েই গিলে খাচ্ছে আমায়। ”
মেহরিন তাকালো মেয়েগুলোর দিকে। আসলেই হ্যাঙলার মতো তাকিয়ে আছে। তবে মেহরিনের কোনো অনুভূতি হলো না তা দেখে। অত্যন্ত বিরক্ত গলায় বলল,
” যার ইচ্ছে তার পেছন নিন। দয়া করে আমার পিছু ছাড়ুন। আসবেন না। বাহিরে হয়তো আমার আব্বু অপেক্ষা করছে আমার জন্য। আপনাকে আমার সাথে দেখে সে অসন্তুষ্ট হোক তা আমি চাই না। তার খুশি সবার আগে আমার কাছে। ”
” আর আমার খুশি? কতগুলো মাস আমরা আলাদা আছি হিসেব আছে? ”
” হিসেব করা ছেড়ে দিয়েছি বহু আগেই। ”
” তুমি নরম হৃদয়ের কোমল নারী। কঠিন ইস্পাতের ন্যায় হওয়ার চেষ্টা করো না মেহরিন। মানায় না। ”
” কোমল ছিলাম বলেই সহজে ঠকানো গেছে। দ্বিতীয় বার কোমল নরম হওয়া চেষ্টা আমি ভুলেও করবো না। এখন পথ ছাড়ুন। আব্বু অনেকটা পথ অতিক্রম করে আমার জন্য সেই নওগাঁ থেকে ভোরে রওনা দিয়ে ঢাকায় এসেছে। কোথাও বিশ্রাম নেয় নি । সোজা পরীক্ষা হলের বাহিরে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে যে তার মেয়ে পরীক্ষা শেষে হাসি মুখে বের হয়ে তাকে দেখবে। তাই সময় নষ্ট করবেন না আমার। পথ ছাড়ুন। যেতে দিন। ”
সোলেমান সামনে থেকে সরলো না।
” বাবাকে নিয়ে এত ভাবো। তার এক শতাংশ একটু স্বামী কে নিয়েও ভাবো। ”
” সে স্বামী হওয়ার যোগ্য নয় বলে ভাবি না। যতদিন যোগ্য মনে হয়েছে ততদিন কেবল তাকে নিয়েই ভেবেছি। ”
” বিয়ের পর স্বামীই সব মেহরিন। ”
” একদা বিশ্বাস করতাম। ”
” এখন চলো তবে? ”
” কোথায় যাওয়ার কথা বলছেন? ”
” গাড়িতে। ”
মেহরিন ফট করে সোলেমানের দিকে তাকিয়ে বলল,
” গাড়িতে কেনো? ”
মেহরিনের আতঙ্কিত চাহনি দেখে সোলেমান বলল,
” রিলাক্স, গাড়িতে বলেছি,ব্যাক সিট বলি নি। আফটার অল আই অ্যাম আ জেন্টলম্যান। বউ ছেড়ে সাত আট মাস দূরে আছি বলে যেখানে সেখানে কন্ট্রোললেস হয়ে পরবো না। ম্যানার্স জানি। জরুরী কথা ছিলো কিছু তোমার সাথে। ”
” আমার মনে হয় না জরুরী কোনো কথাবার্তা বলার মতো কিছু আমার আপনার ভেতর আছে। ”
” সবজান্তা তুমি? ভীষণ সিরিয়াস কথা। ভালোয় ভালোয় যাবে নাকি ঘাড়ে তুলে নিয়ে যাব,কোনটা? ”
মেহরিন জবাব না দিয়ে সোলেমান কে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলে সোলেমান এক টানে মেহরিন কে কোলে তুলে নিয়ে হাঁটা ধরে। গাড়ির ভেতর বসিয়ে সিট বেল্ট বেঁধে দিয়ে গাড়ি লক করে দেয়। মেহরিন ছোড়াছুড়ি করে। সোলেমান নিজের সিটে বসে শান্ত ভঙ্গিতে বলে,
” হাত পা ছোড়াছুড়ি করে কোনো লাভ নেই। বের হতে পারবা না। লক করেছি ডোর। ”
মেহরিন রাগী চোখে তাকালো। নিকাবের ভেতরে মেহরিনের মুখটা কেমন হতে পারে এখন সেটা ভেবেই সোলেমান হেঁসে দিলো। তার হাসি দেখে মেহরিনের গা জ্বলে উঠলো।
“আপনি ভীষণ খারাপ একজন মানুষ।”
“এটা নতুন কিছু না।”
” কি বলবেন তাড়াতাড়ি বলুন। ”
সোলেমান কিছু বললো না। গাড়ি চালানো স্টার্ট করলো। মেহরিনের বুক ধক করে উঠলো।
” কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমায়? ”
সোলেমান পাশ ফিরে তাকিয়ে বলল,
” জাহান্নামে। ”
মেহরিন বুঝলো। বুঝলো বলেই সে সিট বেল্ট খুলে ফেললো। ডোর খোলার চেষ্টা করলো। না পেরে শেষ মেশ সোলেমানের বাহু খামচে ধরে গাড়ি থামাতে বললো। সোলেমান শুনলো না। জোর করে না নিয়ে গেলে আগামী দশ বছরেও এ মেয়ে নিজ থেকে কখনোই আসবে না।গাড়ি চলতে শুরু করল।
ভেতরে দুজন মানুষ। কিন্তু দুজনের মাঝের দূরত্বটা যেন কয়েক আলোকবর্ষ।
এদিকে দুপুরের প্রখর রোদ যেন মাথার ওপর আগুন হয়ে ঝরছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকের বাইরে ছায়া বলতে প্রায় কিছুই নেই। সেই তীব্র রোদের মধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে ইমন আর মোতালেব ভুঁইয়া । তার এক হাতে পানির বোতল, অন্য হাতে ব্যাগ।
ইমন বারবার কব্জির ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। নিজের মনেই বিড়বিড় করে বলল,
“পরীক্ষা তো অনেকক্ষণ আগেই শেষ হয়েছে। মেহরিন বের হচ্ছে না কেনো? ওর কি পরীক্ষা খারাপ হয়েছে তবে? ”
গরমে মোতালেব ভুঁইয়ার কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে। রুমাল দিয়ে ঘাম মুছে তিনি জিজ্ঞেস করলেন,
“ইমন, মেহরিন বের হচ্ছে না কেন? সবাই তো বের হচ্ছে। ওর কি কোনোভাবে পরীক্ষা খারাপ হইসে সেজন্য আসতেছে না? আচ্ছা থাক সমস্যা নাই। হোক পরীক্ষা খারাপ। চান্স না পাইলেও সমস্যা নাই। আমার জমানি টাকা আছে না? ওগুলা দিয়ে ওরে প্রাইভেট হসপিটালে ভর্তি করায় দিব। চেষ্টা করসে এইডাই অনেক। একটু দেখো না। বের হচ্ছে না কেন। চিন্তায় বুক ধড়ফড় করতেসে। ”
ইমন মাথা নাড়লো। তবে গার্ডিয়ান তো ভিতরে এলাও করবে না। তাই দাঁড়িয়ে থেকে সবার বের হবার অপেক্ষা করলো। আরও কয়েক মিনিট কেটে গেল। শত শত পরীক্ষার্থী গেট দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। কেউ পরিবারের সঙ্গে দেখা করছে, কেউ বন্ধুদের নিয়ে ছবি তুলছে, কেউ আবার আনন্দে চিৎকার করছে। কিন্তু মেহরিনের দেখা নেই। মোতালেব ভুঁইয়ার কপালের ভাঁজ গভীর হতে লাগল। ইমন এবারও গেটের ভেতরে তাকাল।
“চাচা, আপনি এখানে দাঁড়ান। আমি ভেতরে গিয়ে দেখি।”
” আমিও যাব ইমন।”
দুজনই দ্রুত গেটের ভেতরে ঢুকে পড়ল। অথচ তারা জানে না,ঠিক কয়েক মিনিট আগেই একটি কালো রঙের গাড়ি ধীরগতিতে এই গেট দিয়েই বেরিয়ে গেছে। গাড়ির কাঁচ ছিল গাঢ় কালো। ভেতরে কে বসে আছে, বাইরে থেকে বোঝার উপায় ছিল না। আর সেই গাড়িটাই তাদের পাশ কাটিয়ে চলে গিয়েছিল। তখন তারা দুজনই গেটের সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল।কিন্তু তীব্র রোদ, মানুষের ভিড় আর মেহরিনকে দেখার ব্যস্ততায় কেউ একবারও গাড়িটার দিকে তাকায়নি।
অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন রাতের নিস্তব্ধতা চিরে ছুটে চলেছে।এজওয়ানের ডান বাহু থেকে অবিরাম রক্ত ঝরছে। একজন প্যারামেডিক ক্ষতস্থানে চাপ দিয়ে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবুও এজওয়ানের চোখ বন্ধ হয়নি। সে শুধু নিচের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মনে বারবার একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তাদের অবস্থান সাফওয়ান জানল কীভাবে?
মনস্টারের আস্তানার খবর জানত মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন। অভিযানের পরিকল্পনাও হয়েছিল শেষ মুহূর্তে।তাহলে? গুলিটা ঠিক তার দিকেই ছুটে এল কীভাবে?
অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে বসে থাকা মাহিরও মাথার ভেতর একই প্রশ্ন। সে পুরোটা সময় এজওয়ানের পাশেই বসে ছিল। তার চোখে আতঙ্ক স্পষ্ট। পেছনে সাফওয়ানের গাড়ি। সেও আসছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছাতেই চিকিৎসকেরা দ্রুত এজওয়ানকে অপারেশন থিয়েটারের দিকে নিয়ে গেল। করিডোরে দাঁড়িয়ে মাহি গভীর শ্বাস নিল।
মাথার ভেতর বারবার একই প্রশ্ন ঘুরছে। সাফওয়ান সেখানে এল কীভাবে? চারদিকে একবার তাকিয়ে সে ধীরে ধীরে সাফওয়ানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। সাফওয়ান তখন অপারেশন থিয়েটারের লাল বাতিটার দিকে তাকিয়ে ছিল।
মাহির কণ্ঠ শান্ত, কিন্তু ভেতরে জমে থাকা সন্দেহ স্পষ্ট।
“আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি?”
সাফওয়ান তার দিকে তাকাল।
“অবশ্যই।”
“আপনি ওই জায়গায় গেলেন কীভাবে?”
প্রশ্নটা শুনে সাফওয়ানের মুখে বিস্ময়ের ছাপ ফুটে উঠল।
“মানে?”
“লোকেশনটা তো গোপন ছিল। আমরা ছাড়া আর কারও জানার কথা না। তাহলে আপনি ঠিক সময়ে সেখানে পৌঁছালেন কীভাবে?”
সাফওয়ান কিছুক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর পকেট থেকে নিজের ফোনটা বের করল। স্ক্রিন আনলক করে একটি মেসেজ খুলে মাহির দিকে বাড়িয়ে দিল। মেসেজটি এসেছে একটি অচেনা এনক্রিপ্টেড নম্বর থেকে।
” If you want to save Mahi, come to this location immediately. Don’t waste a second.”
মেসেজের নিচে মনস্টারের নাম সাথে একটি লাইভ লোকেশন যুক্ত ছিল। মাহির বুক ধক করে উঠল।সে আবার পড়ল। সাফওয়ান ধীর স্বরে বলল,
“প্রথমে ভেবেছিলাম কেউ হয়তো মজা করছে। কিন্তু নিচে মনস্টারের নাম আর কয়েক সেকেন্ড পর আরেকটা মেসেজ দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারি নি। ” সে আরেকটি মেসেজ খুলে দেখাল।
She’s already in danger. Every minute you delay will cost her life.
সাফওয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“আমি জানতাম না এজওয়ানও সেখানে আছে। আমি ভেবেছিলাম তোমার কোনো বিপদ হয়েছে। মনস্টার কিছু করেছে তোমার সাথে তাই কাউকে কিছু না বলে যত দ্রুত সম্ভব রওনা হয়ে যাই টিম নিয়ে। কিন্তু এসে জানতে পারি ঘটনা অন্য কিছু। আহত হয়েছে এজওয়ান। তোমরা তাকে ধরতে এসেছিলে। ”
মাহি নির্বাক হয়ে গেল। যদি সাফওয়ানের কথাই সত্যি হয় তাহলে মনস্টার শুধু এজওয়ানের গতিবিধিই জানে না। সে জানে মাহি কার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আর সে এটাও জানে, মাহির নাম ব্যবহার করলে সাফওয়ান কোনো কিছু না ভেবেই সেখানে ছুটে যাবে। মাহি ধীরে ধীরে ফোনটা ফেরত দিল। তার চোখে এখনও সন্দেহ রয়ে গেছে। কিন্তু সেই সন্দেহের সঙ্গে নতুন একটি প্রশ্নও যোগ হয়েছে। মনস্টার তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো এত নিখুঁতভাবে জানল কীভাবে?
এজওয়ানের বাহু থেকে বুলেট টা বের করে ব্যান্ডেজ করা শেষ হলে মাহি সর্বপ্রথম যায় তার সাথে দেখা করতে। কেবিনে ঢুকেই সর্বপ্রথম এজওয়ানের মুখের দিকে তাকায়। চোখ মুখে ব্যথার লেশমাত্র নেই। এজওয়ান মাহির উপস্থিতি টের পেয়ে চোখ মেলে তাকালো। মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল,
” হাই সুইটহার্ট। ”
মাহি এগিয়ে এসে টুল টেনে বসলো। ধীর গলায় জিজ্ঞেস করলো,
” ব্যথা করছে খুব? ”
এজওয়ান জবাব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না। তবে পাল্টা প্রশ্ন করলো,
” তোমার লাভার লোকেশন জানলো কি করে? ”
মাহি দীর্ঘ একটি শ্বাস ফেলে সবটা বলল। সব শুনে এজওয়ানের মুখ শক্ত হয়ে গেল। তার বউকে বাঁচাতে এসেছে তারই লাভার! শালাহ এমন জীবন কি সে চেয়েছিল? থার্ড পার্সন সিংগুলার নাম্বার পূর্বপুরুষ সাফওয়ান মির্জা। গলা চেপে মেরে ফেলতে পারলে ভাল লাগতো।
” কবে যেন তোমার প্রেমিক কে আমি খুন করে ফেলি তরিকুলের বেটি। আমার ভীষণ অপছন্দ তাকে। আই হেট হিম। ”
মাহি প্রেমিক, লাভার এসব সম্বোধন শুনে বেশ বিরক্ত হলো। সেজন্য বলল,
” আমার আর সাফওয়ানের ভেতর ওসব কিছুই নেই। তাই ভাষা সংযত করে তারপর যা বলার বলুন। ”
” ও কেন আসবে ছুটে? তোমাকে বাঁচানোর জন্য এজওয়ান সুলতানই কাফি। পৃথিবীর আর কোনো মানুষের দরকার পরবে না। সেখানে ঐ বান্দির ছেলে কেন আসবে? হোয়াই? অ্যান্সার মি। তোমার বিষয়ে সব কিছু হ্যান্ডেল করবে একমাত্র এজওয়ান সুলতান। বিকজ অ্যাম ইউর হাসবেন্ড। ”
” আমরা একই প্রফেশন থেকে বিলং করি। সহকর্মী ভেবে ছুটে আসতেই পারে। আপনি শান্ত হন। সামান্য কারন নিয়ে উত্তেজিত হচ্ছেন। ”
এজওয়ান উঠে আধশোয়া হলো। দাঁত চেপে বলল,
” কী বললে? এটা তোমার কাছে সামান্য বিষয় মনে হচ্ছে? হ্যাভ ইউ এনি আইডিয়া তোমাকে নিয়ে আমি ঠিক কতটা পজেসিভ? তোমার পাশে আমি তোমার ছায়াকেও সহ্য করতে পারি না, আর তুমি বলছ এটা সামান্য ব্যাপার? আমার সাফওয়ান কে খুন করে ফেলার মতো রাগ হচ্ছে। ইউ আর অনলি মাইন মাহি। তোমার সব কিছু জুড়ে শুধু আমিই থাকবো। ”
মাহি দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলল,
” আচ্ছা আপনি শান্ত হন। বাচ্চা দের মতো বিহেভ করছেন। ডক্টর বলছে উত্তেজিত হতে না। তাহলে আরো রক্তক্ষরণ হবে। আমাকে নিয়ে এত ভাবেন। নিজেকে নিয়েও একটু ভাবুন দয়া করে? ”
এজওয়ানের মুখের ভঙ্গিমা বদলে গেলো। শালি জাস্ট তার রাগের উপর মুতে দিলো। দামই দিলো না। অন্য কোনো মেয়ে হলে এতক্ষণে ছলছল নয়নে এজওয়ান কে জড়িয়ে ধরে বলতো,
” আপনি আমাকে এত ভালোবাসেন এজওয়ান! আমি সত্যি ভাগ্যবতী। ” কিন্তু এই মাতারি ভাঙবে তবুও মচকাবে না।
সুলতান নিবাসের দ্বিতীয় তলার বিশাল কক্ষটিতে ভারী নীরবতা নেমে এসেছে। দরজাটা ভেতর থেকে লক করে সোফায় বসে আছে সোলেমান। তার মুখে অদ্ভুত এক স্থিরতা। অন্যদিকে মেহরিন দরজা থেকে কয়েক কদম দূরে দাঁড়িয়ে আছে। রাগে তার পুরো শরীর কাঁপছে। মুখের নিকাব আর বোরকাটা খুলে বিছানার ওপর ছুড়ে ফেলেছে সে। চোখ দুটো লাল হয়ে আছে। ইচ্ছে করছে সামনে বসে থাকা মানুষটাকে নিজের হাতে শেষ করে দিতে। গত আধঘণ্টা ধরে দরজায় ধাক্কা, চিৎকার, কান্না কোনো কিছুতেই লাভ হয়নি। সোলেমান একবারও দরজার দিকে এগিয়ে যায়নি। শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত হয়ে মেহরিন চুপ করে গেল। হঠাৎই তার মনে পড়ল বাবার কথা। এতক্ষণে নিশ্চয়ই পুরো পরীক্ষাকেন্দ্র তন্ন তন্ন করে খুঁজছেন তিনি। শরীরটাও তো ভালো না। চোখ ভিজে উঠল মেহরিনের। সে ধীরে ধীরে সোলেমানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“একটা অনুরোধ করব?”
সোলেমান মুখ তুলল।
“বলো।”
” আমার আব্বুকে ফোন করে বলে দিন আপনি আমাকে এখানে জোর করে নিয়ে আসছেন। নইলে আমার আব্বু আমাকে খুঁজতে খুঁজতে অসুস্থ হয়ে পরবে। তার শরীর ভালো না। ”
সোলেমান বাধ্য স্বামীর মতো শ্বশুর কে ফোন করে বলে দিলো তার মেয়ে এখন স্বামীর ঘরে। অযথা আর মেয়েকে যেন খোঁজা খুঁজি না করে। বাসায় চলে যায়।
মোতালেব ভুঁইয়া কথাটা শুনে রাগে ফেটে গেল। তার মেয়েকে জোর করে নিয়ে গেসে আবার সেই জাহান্নামে! ইমন কে সাথে নিয়েই তিনি সুলতান নিবাসে ছুটে আসলো। তবে দারোয়ান তাকে ঢুকতে দিলো না। সোলেমান কে ফোন করে জানালো। সোলেমান বাহির থেকে দরজাটা লক করে মেইন গেটের কাছে চলে গেলো। মেহরিন দরজা ধাক্কালো। খুললো না বলে সে জানালার কাছে ছুটে গেলো। গাছপালার ডালের আবছা আবছা ফাঁকফোকর দিয়ে তাকালো। আবছা আলোয় বাবার মুখটা দেখা যাচ্ছে। উদ্বেগে ভেঙে পড়া সেই মুখ দেখে মেহরিনের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। সোলেমান এগিয়ে গেলো। তাদের তিনজনের মাঝখানে বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে লোহার শক্ত গেট টা। সোলেমান মোতালেব ভুঁইয়া কে দেখেই লম্বা করে টেনে সালাম দিলেন। মোতালেব ভুঁইয়া সালামের জবাব দিলেন না। রাগী গলায় বললেন,
” তুমি কোন সাহসে আমার মেয়েকে নিয়ে এসেছ? আমার মেয়েকে দিয়ে দাও সোলেমান। ”
সোলেমান হাসলো সে কথা শুনে। এক হাত পকেটে গুঁজে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে বলল,
” আমার সাহস সম্পর্কে আপনার ধারণা নেই। তবে আপনার পাশে থাকা ছেলেটার আংশিক হলেও ধারণা আছে। কি আছে না ইমন? ”
ইমন একবার তাকালো। তার দুচোখ মেহরিন কে খুঁজছিল বটে। এটা জানার জন্য পরীক্ষা টা কেমন হয়েছে তার? মেয়েটার অনেক বড় স্বপ্ন কি না ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করার। খুব জানতে ইচ্ছে করছে। তবে সোলেমানের কথা শুনে মুখটায় রাগেরা এসে হানা দিলো।ইমন ধীরে ধীরে চোখ ফেরাল। তার চোয়াল শক্ত।
” আপনার সাহসের কথা শুনে মুগ্ধ হওয়ার মতো মানুষ আমি নই। যে নিজের ক্ষমতা দেখানোর জন্য একটা মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে আসে, সেখানে সাহস প্রকাশ পায় না।”
“কথা বুঝে বলো।”
“সত্যি কথা শুনতে খারাপ লাগছে?”
” সত্যি কথা তো বলো নি এজন্য খারাপ লাগছে। একটা মেয়ে মানে? শি ইজ মাই ওয়াইফ। কারেকশন করে বলো। ”
” মেহরিন কোথায়? ওর বাবার সাথে দেখা করতে দিন। নিয়ে যেতে দিন। ”
সোলেমান আঙুল দিয়ে জানালা দেখালো। আবছা দেখা যাচ্ছে মেহরিন কে।।
” দেখা শেষ? শ্বশুর মশাই এতদিন তো মেয়েকে রাখলেন নিজের কাছে। এখন স্বামীর কাছে থাকতে দিন। আদর সোহাগ পেতে দিন স্বামীর। কথা দিচ্ছি কদিন পরই দেখা করিয়ে নিয়ে আসবো। ”
মোতালেব ভুঁইয়া মেয়েকে দেখার চেষ্টা করলেন। তবে চোখের দৃষ্টি অতদূর গেলো না।
” সোলেমান, আমার মেয়েটাকে দিয়ে দাও। ও থাকতে চায় না তোমার সাথে। জোর করে রেখো না। দিয়ে দাও নিয়ে যাই। ওর এক্সাম কেমন হলো? জিজ্ঞেস করতে দাও। খারাপ হলে চিন্তা করতে মানা করো। ঢাকা মেডিকেলেই পড়তে হবে তার কোনো মানে নেই। বাবা তাকে প্রাইভেটে পড়াবে। ”
” এক্সাম ভালো হয়েছে মেহরিনের। চিন্তা করবেন না সে চান্স অবশ্যই পাবে। তবে মেয়েকে পাবেন না এখন। তাই বলছি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলবেন না। আমি রাজি হবো না। নওগাঁ থেকে এসেছেন। ভেতরে আসুন ফ্রেশ হন। রেস্ট নিন। দরকার হলে থাকুন কয়েকদিন। কোনো সমস্যা নেই। শুধু আমার স্ত্রী কে চাইবেন না। দিতে পারবো না আপাতত। ”
” মেহরিন থাকতে চায় না আপনার সাথে। জোর করে কিছু হয় না। ”
ইমনের কথা শুনে সোলেমান তাকালো।
” উনি মেহরিনের বাবা সেজন্য মেয়েকে দেখতে এসেছে। কিন্তু তুমি কে মেহরিনের? হু আর ইউ? তুমি কেনো এসেছো? তুমি কেনো তোমার উঁচু নাকটা গলাচ্ছ? হোয়াই লিটল ব্রো? ”
ইমন সাথে সাথে জবাব দিলো না। আসলেই তো! সে কে মেহরিনের? একতরফা ভালোবাসা! এ ছাড়া আর কোনো সম্পর্ক আছে? হ্যাঁ আছে,এছাড়াও আরো সম্পর্ক আছে। সে মেহরিনের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী। মেহরিন তাকে বিশ্বাস করে,ভরসা করে,সম্মান করে। ইমন আজীবন মেহরিনের পাশে থাকবে। মোতালেব ভুঁইয়াই জবাব দিলেন,
” আমি নিয়ে এসেছি। ও আমার ছেলের মতো। ”
সোলেমান হেঁসে বলল,
” তাহলে সে মেহরিনের বড় ভাই? আমার সুমুন্দি? নাইস। তবে শালা ডাকটা বেশি মানানসই। যাই হোক আসি। তর্ক করতে ভালো লাগছে না। ভীষণ টায়ার্ড। আপনারাও আমার মতোই টায়ার্ড। বাড়ি ফিরে রেস্ট নিন। ”
সোলেমান চলে গেলো। মোতালেব ভুঁইয়া আর ইমন অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলো। তারপর এক পর্যায়ে বাধ্য হলো চলে যেতে।
সোলেমান নিবাসে ঢুকেই পকেট থেকে ফোনটা বের করে এজওয়ানের নম্বরে কল করতে করতে সোফায় বসলো। খবর কানে এসেছে এজওয়ানের হাতে গুলি লেগেছে।
হসপিটাল থেকে বাড়ি ফিরেছে এজওয়ান। পানি খেতে নিচ্ছিলো। তবে হাত স্লিপ কেটে জগ থেকে পানি ফ্লোরে পরে গেলো। ভাইয়ের ফোন পেয়ে এজওয়ান গ্লাস নিয়ে সোফায় বসে রিসিভ করে কানে নিতেই সোলেমান বলে উঠলো,
” বলেছিলাম কিন্তু পাকনামি না করতে? সাবধান করেছিলাম তো? গুলিটা হাতে না লেগে সোজা হৃৎপিণ্ডটায় গিয়ে লাগলে বাঁচতি? ”
এজওয়ানের ভ্রু কুঁচকে আসলো।
” তুমি জানলে কি করে আমার গুলি লেগেছে? ”
সোলেমান সে কথা শুনে হাসলো,
” তোর শরীরে একটা আঁচ লাগবে আর সোলেমান জানবে না? এত অবুঝ হলি কবে থেকে? যেই খেলায় মেতেছিস,এজওয়ান ধ্বংস ছাড়া কিন্তু আর কিছুই জুটবে না। ”
এজওয়ান আঘাত পাওয়া স্থানের দিকে একবার তাকিয়ে বলল,
” তুমি তার মানে মনস্টারের বিষয়েও জানো? অ্যাম রাইট? ”
সোলেমান গা দুলিয়ে হাসলো সে কথা শুনে। যেন সে কোনো জোক্স শুনলো।
” হাসবে না ভাইজান। বলো তুমি জানো? চিনো তাকে? ”
সোলেমান বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো। হাসি থামিয়ে বলল,
” নাহ্ চিনি না। চিনলে অবশ্য আমিই তাকে সামনে আনতাম। আর বিভিন্ন দেশ থেকে তাঁকে খুঁজে বের করলে যে পুরষ্কার টাকা পাওয়া যাবে সেসব লুফে নিতাম। যাইহোক তুই তো তাকে খুঁজার চেষ্টাই তো করছিস। বের করে পৃথিবীর সম্মুখে এনে দেখা পারলে। আমিও দেখতে চাই এজওয়ান সুলতান পারে কি না নিজের ধ্বংস কে পৃথিবীর সামনে এনে দাঁড় করাতে। ”
” চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছ? ভুলে যেওনা এজওয়ান কিন্তু চ্যালেঞ্জ হারে না। ”
” আই নো দ্যাট। সে জন্যই বলছি পারলে এক্সেপ্ট করে দেখা এটা। পারবি না। হেরে যাবি।”
” কে হারাবে আমায়? ”
” আমি হারিয়ে দিব। ”
এজওয়ান বাঁকা হেসে বলল,
” ওকে চ্যালেঞ্জ এক্সেপ্টেড। এজওয়ান সুলতান তোমাকে এবার হারিয়ে দিবে। মনস্টার কে পৃথিবীর সম্মুখে এনে দাঁড় করাবে। ”
” অল দ্যা বেস্ট। তবে সাবধান। নিজের ক্ষতি করিস না ভুলেও। সন্তানের মতো পেলেছি তো। তোর আঘাতে আমার কষ্ট হয়। ”
সোলেমান ফোন কেটে দিলো। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মাহি আংশিক কথা শুনলো। সোলেমান সাহেব কি তবে জানে মনস্টার টা কে? মাহি মেডিসিন নিয়ে এগিয়ে আসলো। নিচে যে পানি আছে সেটা খেয়ালই করে নি। এজওয়ান তার আসা দেখে চোখের ইশারায় সাবধান করতে যাবে তার আগেই মাহি পানিতে পা পিছলে সোজা এজওয়ানের উপর গিয়ে পরলো। তবে তার বা হাত টা এজওয়ানের কোলের উপর মাঝখানের এমন জায়গায় গিয়ে পরলো যে শরীরটা যেন ৪২০ ভোল্টেজ খেয়ে গেলো। চোখ বড়বড় করে তাকালো মাহি। দ্রুত হাত সরিয়ে উঠে দাঁড়ানোর চলে করলো। কি একটা বাজে সিচুয়েশন। ছি!
” সরি, সরি। আমি ইচ্ছে করে কিছু করি নি। ”
এজওয়ান বাধ্য ছেলের মতো মাথা নাড়লো। চোখ মুখে দুষ্ট হাসি খেলছে।
” বুঝতে পেরেছি মেরি জান। ইট’স অ্যা এক্সিডেন্ট। ”
পরক্ষণেই বিরবির করে ঠোঁটের কোনে আওড়াল, ” ভাগ্যিস পানিটা পড়েছিল। আহা একি ছোঁয়া, নিশি দিন শিহরণে কাটে এ বেলা ”
মাহি পারছে না মাটি ফাঁক করে ঢুকে যেতে। গলা ঝেড়ে এজওয়ান কে মেডিসিন দিলো খেতে। এজওয়ান খেয়ে পরলো। এমন ভাব করলো যেন কিছুই হয় নি।
ছেলের গুলি লেগেছে শুনে বাশার সুলতান ও হসপিটাল থেকে নিবাসে চলে আসলো। আর নিবাসে এসেই জানতে পারলো সোলেমান মেহরিন কে নিয়ে এসেছে। চাচাকে দেখেই সোলেমান প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল,
” আমার অ্যাকাউন্টে কেনো টাকা পাঠিয়েছে? ”
বাশার সুলতান সামনের সোফায় বসে বলল,
” আমার অ্যাকাউন্টে কি যেন সমস্যা হচ্ছিল। সেজন্য বলেছি তোর টায় পাঠাতে। ”
” নেক্সট টাইম ফারদার আমার অ্যাকাউন্টে যেন তোমার এক পয়সাও না আসে। ”
” সেসব কথা রাখ। আমার এজওয়ানের গুলি লাগলো কি করে? ”
” অতি পাকনামি করতে গেছিলো। তাই হোগা মারা খেয়েছে নিজ ইচ্ছায়। ”
” আমার ফোন তো ধরে না। ”
” সেজন্য এখন আমি কি করতে পারি? ”
” মেহরিনের বাপ দিলো মেহরিন কে? ”
দাহশয্যা পর্ব ৯৭
” না। পরীক্ষার হল থেকে তুলে এনেছি। ”
” ভালো করছস। পোলা এখন আমার কেমন আছে? ”
” বউ নিয়ে ফাস্টক্লাস আছে। ”
” আচ্ছা তাহলে রুমে গেলাম। ”
বাশার সুলতান রুমে চলে গেলো। সোলেমান ফোনটা বের করে কাউকে মেসেজ লিখলো,
” এজওয়ান যেন সফল না হয়। ওর সব খবরাখবর আমাকে দিবে। ওর বিষয়ে সিঙ্গেল একটা শব্দও যেন অজানা না থাকে আমার। তাহলে তোমাকে আমি মেরে ফেলবো ওর কিছু হলে। ”
