Home না চাইলেও তুমি শুধু আমারই না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩৯

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩৯

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩৯
মাইশা জান্নাত নূরা

ছোট ভাইয়ের কান্নাভেজা আকুতি ভরে কন্ঠে ইচ্ছেবাক্যগুলো শুনে সারফারাজের বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠলো। যেনো অদৃশ্য কেউ তার হৃদয়ের গভীরে ধাঁ*রালো ছু*রি বসিয়ে নাড়া-চাড়া করছে। কঠোর, স্থির, অটল মানুষটার মুখের রেখাগুলো মুহূর্তেই বদলে গিয়েছে। সারফারাজের দু’চোখের গভীরে জমলো প্রকাশ না করার মতো অস্বস্তি, অপরাধবোধ আর অসহায়তা।
পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা তেজও স্তব্ধ হয়ে সবটা শুনছিলো, দেখছিলো। তেজের বুকের ভেতরেও চাপা য*ন্ত্র*ণা অনুভব হচ্ছিলো। তৎক্ষণাৎ সারফারাজ নির্ঝরের দুই কাঁধ শক্ত করে ধরে নিজের পায়ের কাছে সরিয়ে ওকে দাঁড় করাতেই নির্ঝর অসহায়ের ন্যায় বড় ভাইকে জড়িয়ে ধরলো।
সবসময় হাসি-খুশি, প্রাণবন্ত স্বভাবের ছেলেটা আজ নিজের কান্না কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। নির্ঝর ভাঙা গলায় বললো…..

—”ভাই! অনুর এই সংক্ষিপ্ত জীবনে আল্লাহ ওর উপর ইতিমধ্যেই অনেক বড় দুঃখের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। ও আর কতো সহ্য করবে বলো তো? মানসিকভাবে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, অগোছালো, নিষ্পাপ মেয়েটাকে যখন একটু একটু করে আমরা স্বাভাবিক করে তুলছিলাম তখনই আবারও ওর জীবন সুখ আর দুঃখের দুই মোড়ে এসে দাঁড়ালো। আর ওর নিয়তি আবারও দুঃখের পথটাই বেছে নিলো। এটা আমি সহ্য করতে পারছি না বড় ভাইয়া।”
নির্ঝর আরও শক্ত করে সারফারাজকে আঁকড়ে ধরে একই স্বরে বললো…..
—”ঐ গ্রামটা ওর জন্য অভিশাপ ভাই। ঐ গ্রামের আনাচে-কানাচেতে ওর মৃত মা-বাবার স্মৃতি জড়িয়ে আছে।সেসব ওকে আবারও আজ দেখতে হবে। কিভাবে ও সহ্য করবে এবার একা একা! ও যে খুব কাঁদবে ভাই! বাজে ভাবে ভেঙে পড়বে! আবারও নিজের ক্ষতি নিজেই করে বসবে…!”
নির্ঝরের সর্ব শরীর হালকা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো। সে আবারও বললো……
—”বড় ভাইয়া! আমার অনুটা অনেক ছোট, অনেকই। ওর তো এখন হেসে-খেলে জীবন পার করার বয়স তাই না! ওর চোখে অনেক স্বপ্ন থাকার কথা, এতো এতো কষ্টের প্রতিচ্ছবি না। ওর হাতে তো রঙিন চুড়ি থাকার কথা, তাহলে ওর হাত কেনো তাজা র*ক্তে রন্ঞ্জিত হবে বারবার!”
পরপরই নির্ঝর মাথা তুলে সারফারাজের দিকে তাকালো। ওর চোখ দু’টো টকটকে লাল বর্ণ ধারণ করে আছে। মনে হচ্ছে আর কিছুসময় কাঁদলে ও এবার আর নোনজল বের হবে না, সরাসরি র*ক্ত ঝড়বে। মুখশ্রী জুড়ে ফুটে আছে অনুনয়ের ছাপ। নির্ঝর বললো…..

—”আল্লাহর দোহাই লাগে ভাই, এক্ষুণি চলো তুমি। ওকে আনতে যাই আমরা। এভাবে অপেক্ষা করে সময় নষ্ট করে ওকে তিলে তিলে শেষ হয়ে যেতে দিও না….দিও না ভাই…দি……!”
শেষ কথাটা আর সম্পূর্ণ করতে পারলো না নির্ঝর। শরীরটা নিস্তেজ হয়ে এলো আর চোখ দু’টো বুঁজে গেলো ওর। নিজের সর্বশরীরের ভার ছেড়ে দিলো নির্ঝর সারফারাজের উপর। সারফারাজ তৎক্ষণাৎ নির্ঝরকে শক্ত করে ধরে ফেললো। তেজও এগিয়ে এলো দ্রুত। ওরা বুঝতে পারলো যে নির্ঝর সেন্স হারিয়েছে। অতঃপর ওরা দেরি না করে নির্ঝরকে ধরে আইজিপির অফিসের পাশেই থাকা তার নিজস্ব গেস্টরুমে নিয়ে গেলো। নির্ঝরকে বিছানায় শুইয়ে দেওয়ার পর তেজ কিছুটা উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললো….
—”বড় ভাইয়া, আমাদের কি একজন ডাক্তারকে ডাকা উচিত নয়?”
সারফারাজ গম্ভীর স্বরে উত্তর দিলো….
—”না, থাক। অতিরিক্ত মানসিক চাপে সেন্স হারিয়ে ফেলেছে। একটু রেস্ট নিক। এভাবেই থাকুক কিছুক্ষণ, পরে আপনা-আপনিই ঠিক হয়ে যাবে।”
তেজ মাথা নেড়ে বললো….

—”আচ্ছা, আমি বসছি ওর কাছে।”
সারফারাজ নির্ঝরের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ওর এই দৃষ্টির মাঝে লুকিয়ে ছিলো নির্ঝরের জন্য দুশ্চিন্তা, অনুকে কিভাবে ফিরিয়ে আনা যাবে সেই বিষয়েও চিন্তা কাজ করছে। তারপর ধীর পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো সারফারাজ।
কয়েক মিনিট পর নির্ঝরের চোখের পাতা হালকা কেঁপে উঠতেই ওর জ্ঞান ফিরে এলো। নির্ঝর চোখ খুলতেই তেজকে নিজের পাশে বসে থাকতে দেখলো কপালের সাথে এক হাত ঠেকিয়ে চোখ বোজা অবস্থায়। নির্ঝর ওঠে বসলো। ওর মাথাটা হালকা ভার লাগছে, শরীরটাও কিছুটা অবশের মতো হয়ে আছে এমন অনুভব হচ্ছে। তেজ চোখ মেলতেই নির্ঝরকে উঠে বসতে দেখে চিন্তিত কন্ঠে বললো……
—”এখন কেমন লাগছে?”
নির্ঝর ক্লান্ত কণ্ঠে বললো….
—”ভালো আছি। বোধ-হয় একটু মাথা ঘুরে উঠেছিলো তখন।”
তেজ নরম স্বরে বললো….

—”এত প্রেসার নিস না নির্ঝর। সব ঠিক হয়ে যাবে দেখিস। আর সারফারাজ ভাই আছে না? খুব তাড়াতাড়ি অনুকে ফিরিয়ে আনবেন উনি। আর সেটাও একদম অক্ষত অবস্থায়। ভাইয়ের উপর বিশ্বাস রাখ তুই।”
নির্ঝর তেজের থেকে দৃষ্টি নামিয়ে হালকা মাথা নেড়ে বললো…
—”হুম, জানি। আর আমি ঠিক আছি এখন। চেষ্টা করবো প্রেসার না নেওয়ার।”
কিছুসময় নিরব থাকার পর নির্ঝর আবারও বললো…..
—”আমি বাসায় যেতে চাই, তেজ ভাই।”
তেজ কিছুটা অবাক হয়ে তাকিয়ে বললো….
—”এখন? এই অবস্থায়?”
নির্ঝর স্বাভাবিক কণ্ঠেই বললো…..
—”হ্যাঁ। বাসায় গেলে একটু ভালো লাগবে হয়তো। এখানে থাকতে ইচ্ছে করছে না।”
—”আচ্ছা, চল তাহলে। আমি তোকে ছেড়ে আসছি।”
নির্ঝর তৎক্ষণাৎ মাথা নাড়িয়ে বললো….
—”না, লাগবে না। আমি একাই যেতে পারবো।”
অতঃপর ওরা দু’জনে গেস্টরুম থেকে বাহিরে বেড়িয়ে এলো। দরজা ধীরে খুলে বাইরে বেরিয়ে এলো নির্ঝর। তেজ তার পাশে। রাতের খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিলো সারফারাজ। তখুনি নির্ঝর আর তেজকে বের হতে দেখে সারফারাজ ওর কথা সংক্ষিপ্তভাবে শেষ করে ফোন কেটে দিলো। ওদের দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বললো…..

—”কিরে? এখনই উঠলি যে? আরেকটু বিশ্রাম নিতে পারতি। এই অবস্থায় বের হওয়ার কী দরকার ছিলো?”
নির্ঝর সারফারাজের কাছাকাছি এসে দাঁড়ালো। ওর চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট ফুটে আছে৷ নির্ঝর বললো….
—”ভাই, আমি বাসায় যেতে চাই। এখানে আর থাকতে ইচ্ছে করছে না।”
সারফারাজ সাথে সাথেই মাথা ‘না’ সূচক নাড়িয়ে বললো….
—”না। এই অবস্থায় তুই কোথাও যাচ্ছিস না। শরীরটা ঠিক কর আগে।”
নির্ঝর এবার একটু জোর দিয়ে বললো…..
—”আমি ঠিক আছি ভাই। সত্যি বলছি। এখানে থাকলে উল্টো আরো খারাপ লাগবে আমার। বাসায় গেলে একটু শান্তি পাবো। প্লিজ না করো না..!”
নির্ঝরের ক্লান্তি ভরা কন্ঠে করা অনুরোধ বাক্যগুলো শুনে
সারফারাজ কিছুক্ষণ নিরব ভাবে তাকিয়ে রইলো ওর দিকে। অতঃপর একবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো……

—”ঠিক আছে, যা। তবে একা না। গার্ডস যাবে তোর সাথে। আর তুই ড্রাইভ করবি না, ক্লিয়ার?”
নির্ঝর হালকা মাথা নেড়ে বললো….
—”ঠিক আছে। তবে একজন থাকলেই হবে। উনিই ড্রাইভ করবেন। বাকিরা তোমার সাথে থাকুক। অনুকে খুঁজে আনতে কাজে লাগবে।”
সারফারাজ ধীরে মাথা নেড়ে সম্মতি দিলো….
—”ঠিক আছে।”
অতঃপর পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একজন গার্ডকে ইশারা করে ডাকলো এবং সংক্ষিপ্তভাবে নির্দেশ দিলো। কিছুক্ষণ পর
গেটের সামনে একটা কালো গাড়ি এসে দাঁড়ালো। নির্ঝর গিয়ে ড্রাইভারের পাশের সিটে বসলো। গার্ডটি ড্রাইভারের সিটে বসে আছে। তেজ নীরবে দাঁড়িয়ে দেখছিলো সবটা।সারফারাজের চোখ তখনো স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে গাড়িটার দিকে। পরপরই ইঞ্জিন স্টার্ট হতেই গাড়িটা গেট পেরিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলো।

গাড়িটা তার গতিতে শহরের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছিলো। নির্ঝর জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিলো। ওর চোখে স্থিরতা থাকলেও বুকের ভেতরে চলছিলো তুমুল ঝড়।
পরপরই নির্ঝর ড্রাইভারকে বললো…..
—”গাড়িটা ঘুরান। আমি যেই দিকে যেতে বলছি সেদিকে যাবেন।”
ড্রাইভার কিছুটা অবাক হয়ে বললো….
—”আপনি না বাসায় যাওয়ার কথা বললেন স্যার! এখন আবার কই যাবেন?”
—”একটা গ্রামে।”
—”কিন্তু স্যার, এটা তো সম্ভব না। বসের অর্ডার আছে আপনাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার। আমি ওই অর্ডারের খেলাপি করতে পারবো না।”
নির্ঝর ওর চোখের দৃষ্টি কঠিন করে বললো…..
—”আমি যা বলছি, তাই করেন। গাড়ি ঘুরান।”
ড্রাইভার এবার খানিক অস্থির হয়ে পড়লেন। তবুও বললেন….

—”স্যার, প্লিজ বুঝেন। এইটা করলে আমার চাকরি থাকবে না। আমি বিপ*দে পড়ে যাবো।”
নির্ঝরের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছিলো। সে ওর কণ্ঠে হুমকির ছাপ স্পষ্ট করে বললো…..
—”আমি বলছি, গাড়ি ঘুরান। না হলে ফল ভালো হবে না।”
ড্রাইভার পুরোপুরি দোটানায় পড়ে গিয়েছে। একদিকে বসের আদেশ, অন্যদিকে তারই ছোট ভাইয়ের এমন হু*মকি মূলক নির্দেশ। ড্রাইভার খানিক সাহস সন্ঞ্চয় করে বললেন…..
—”স্যার, আমারে মাফ করেন আপনি। আমি সত্যি পারবো না আপনার কথা মেনে চলতে।”
নির্ঝর এবার খানিক ঠান্ডা স্বরে বললো…..
—”আপনার চাকরি নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। পুরো দায়ভার আমি নিচ্ছি। কিছু হলে তখন আমি সামলাবো। এখন গাড়ি ঘুরান আপনি।”

কয়েক সেকেন্ডের নীরবতার পর ড্রাইভার একবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধীরে স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে গাড়িটার দিক বদলালেন।নির্ঝর ফোনে ম্যাপ বের করে সামনে তাকিয়ে রইলো। সে আগেই এই রাস্তাটা নোট করে রেখেছিলো। তাই খুব বেশি বেগ পেতে হচ্ছে না যেতে। নির্ঝরের বুকের ভেতরের ধকধক শব্দের মাত্রা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। কিন্তু দু’চোখে বিন্দুমাত্র ভয়ের ছাপ ফুটে নেই। নির্ঝর ধীর স্বরে বললো…..
—”আমি আসছি অনু। আসছি আপনার কাছে। আপনাকে রক্ষা করতে ঐ শয়*তান গুলোর হাত থেকে। আর একটু অপেক্ষা করুন। ওরা আপনার কোনো ক্ষ*তি করতে পারবে না।”
ড্রাইভারটি তা শুনতে পেরে বললেন।।।।
—”স্যার! এইটা তো অনেক রিস্ক হইয়া যাচ্ছে। আপনার জানের রিস্ক হইবো। একা ওইখানে যাওয়াটা ঠিক হইতেছে না।
নির্ঝর বিরক্তি মাখা স্বরে বললো…..

—”বেশি কথা না বলে মনোযোগ দিয়ে গাড়ি চালান আপনি।”
ড্রাইভার এবার পুরোপুরি চুপ করে গেলেন। গাড়ির গতিও একটু বেড়ে গেলো। নির্ঝরের সামনে এখন অপেক্ষা করছে এক অজানা বি*পদ। আর সেই বি*প*জ্জনক খাঁ*দে নির্ঝর একাই ঝাঁপ দিতে চলেছে শুধুমাত্র অনুকে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছে নিয়ে।

প্রায় মিনিট ২০ পর সারফারাজের ফোন বেজে উঠলো। সে দেখলো ফোন স্ক্রিনে পিহুর হাস্যোজ্জ্বল মুখটা ভেসে উঠেছে। সারফারাজ ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে পিহু অস্থির কন্ঠে বললো…..
—”কি খবর ওদিকের? অনুকে কি খুঁজে পেয়েছেন আপনারা? কখন ফিরবেন ওকে নিয়ে?”
সারফারাজ শান্ত কন্ঠে বললো…..
—”বউ! শান্ত হও তুমি।”
—”এই পরিস্থিতিতেও কেউ কিভাবে শান্ত থাকতে পারে?”
—”জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস ফেলো কয়েকবার।”
—”কিন্তু…!”
—”কি বললাম?”
পিহু আর কথা না বাড়িয়ে জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস ফেললো কয়েকবার। অতঃপর বললো…..
—”এবার তো বলুন!”
—”চিন্তা করো না তোমরা। অনুকে লোকেশন আমরা জানতে পেরেছি। আপাতত আইজিপির অফিসে আছি আমরা। এক্ষুণি বের হবো।”
—”বাড়িতে কাউকে এখনও জানাই নি অনুর নিখোঁজ এর বিষয়ে। আমরা সবাই ফিরলাম অনু ফিরে নি জন্য মা, চাচীরা জিজ্ঞেস করেছিলেন ওর কথা। বলেছি, ওর চিকিৎসা চলছে। আপনারা আছেন সাথে।”

—”হুম ভালো করেছো। আপাতত তাঁদের কাউকে না জানানোই ভালো। অহেতুক চিন্তা করে অসুস্থ হয়ে পড়বে।”
—”তাড়াতাড়ি অনুকে ফিরিয়ে আনুন প্লিজ। মেয়েটা এখনও অনেক ছোট। না জানি কোন পরিস্থিতিতে আছে, কিছু খেয়েছে কিনা!”
—”হুম চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। দোয়া করো তোমরা। নির্ঝর কি ফিরেছে বাসায়?”
—”নির্ঝর ভাই! কই না তো।”
সারফারাজ ওর হাতে থাকা ঘড়িতে তাকিয়ে সময় দেখে বললো…..
—”এতোক্ষণে তো বাসায় যাওয়ার কথা ওর।”
—”বাসায় আসতেছে উনি?”
—”হুম, বললো শরীরটা ভালো না। বাসায় যেতে চায়। তাই পাঠিয়ে দিলাম।”
—”এসে যাবে হয়তো একটু পর।”
—”আচ্ছা, ও আসলে আমায় একটু জানিয়ে দিও কল করে।”
—”আচ্ছা ঠিক আছে।”
—”রাখছি তাহলে!”
—”হুম।”
অতঃপর সারফারাজ কল কেটে দিলো। আইজিপি তার অফিসকক্ষ থেকে বেড়িয়ে এসে সারফারাজকে বললেন…..

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩৮ (৩)

—”সারফারাজ! এখন আমরা বের হতে পারবো। গেটের বাহিরে আমার স্পেশাল ফোর্সের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।”
—”আচ্ছা, চলুন।”
অতঃপর সারফারাজ ও তেজ আইজিপির সাথে তার গাড়িতে উঠে বসলেন। তাঁদের গাড়ির আগে সারফারাজের পারসোনাল গার্ডসদের একটা গাড়ি রয়েছে, পিছনে আইজিপির স্পেশাল ফোর্সের গাড়ি ও তাঁর পিছনে সারফারাজের আরো একটা গার্ডস ভর্তি গাড়ি রয়েছে। উদ্দেশ্য অনুর গ্রামে যাওয়া।

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৪০