Home নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৩ (২)

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৩ (২)

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৩ (২)
নাজনীন নেছা নাবিলা

দরজার সামনে থেকে সর তোরা।
ইরফান কড়া কন্ঠে বলল।
নীলা ইরফানের চোখে চোখ রেখে বলল ___
কেন ভাইয়া? আমাদের পরিবারের নিয়ম ভুলে গেছো নাকি?কারোর বিয়ে হলে ছোটরাই তো বাসর ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা টাকা নেওয়ার জন্য। কতক কষ্ট করে আমরা তোমাদের বাসর ঘর সাজালাম এইটা তো আমাদের প্রাপ্তি।

নীলার কথা শুনে ইরফান এবং আরশি এক সাথে অবাক হয়। তাদের বাসর ঘর নীলা সাজিয়েছে।আরশি আর নিজেকে দমিয়ে না রেখে বলে উঠে___
তুই নিজ হাতে আমাদের বাসর ঘর সাজিয়েছিস?
নীলা স্মিত হেসে জবাব দিল ___
কেন নয় ভাবি? এতটুকু তো করাই যায়।
নীলার এমন সম্পর্ক রক্ষা জনক ডাক শুনে আরশি অবাক হয় যেমন ঠিক তেমনি নীলাকে কষ্ট পেতে না দেখে ভেতর ভেতর রাগে জ্বলে উঠলো।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

ইরফান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নীলার দিকে। পরনে তার নীল রঙের শাড়ি।এই রঙ নীলার খুব পছন্দের কিন্তু ইরফানের অপছন্দ বলে নীলা এই রঙের জিনিস পত্রের ধারের কাছেও যেত না। অথচ আজ সেই নীলা তার পছন্দকে উপেক্ষা করে নিজের পছন্দের কাজ করল‌। ইরফানের কাছে যেন এই নীলা অচেনা। ইরফান রাগী কন্ঠে বলল____
নীলা তোকে না বলেছিলাম আমার নীল রং পছন্দ না তাহলে এই রঙের শাড়ি কেন পরেছিস।
নীলার ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠলো।সে ইরফানের চোখে চোখ রেখে বলল___
আমি কেন তোমার পছন্দ অপছন্দের খেয়াল রাখবো? তোমার বউ আছে তাকে বরং বলো নীল রঙের জিনিস থেকে দূরে থাকতে।

নীলার কথা শুনে ইরফান স্তব্ধ হয়ে গেল।নীলা কখনো তার মুখের উপর এইভাবে কথা বলে নি।নীলার কথা শুনে আরশি তৎক্ষণাৎ বলে উঠলো ___
না বাবা আমার নীল রঙ অনেক পছন্দ। আমি কারোর জন্য নিজের পছন্দ বিসর্জন দিতে পারবো না।আর আমি ভীষণ ক্লান্ত তোমাদের যা নেওয়ার আছে তা নিজেদের ভাইয়ের কাছ থেকে নাও।আমি রুমে গেলাম।
কথা গুলো বলেই আরশি নীলা আর ইবাদের মাঝ দিয়ে রুমে চলে গেল। ইরফান এখনো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।কোই নীলা তো কখনো এভাবে বলেনি যে সে নিজের পছন্দকে বিসর্জন দিতে পারবে না। অথচ আরশি কত সহজেই কথা গুলো বলে ফেলল।এই মুহূর্তে যদি আরশি যায়গায় নীলা থাকতো তাহলে কখনোই ইরফান কে এইভাবে ছেড়ে চলে যেত না বরং বলতো আমিও যেমন ক্লান্ত আমার ইরফান ভাই ও তেমন ক্লান্ত।ওকে কেউ বিরক্ত করো না।
ইরফান নিজের চিন্তায় মগ্ন ছিল তখনই আবির বলে উঠলো ___

ভাইয়া রুমে গিয়ে চিন্তা ভাবনা করো। আপাতত আমাদের কে টাকা দাও।
ইরফান নড়ে চড়ে উঠলো আবিরের কথায়।সে ভীষণ ক্লান্ত এবং বুকের মাঝে এক অজানা শূন্যতা অনুভব করছে তাই আর কথা না বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করল__
কত টাকা।
আবির আর ইবাদ দাঁত বের করে হাসি দিয়ে বলল___
বেশি না মাত্র ১০ হাজার।
ইরফান পকেটে থাকে টাকা বান্ডিল বের করে চেক করে দেখল তার কাছে আছে কেবল ৭ হাজার টাকা।
নীলা বাঁকা হাসে বললো ___

ভাইয়া এর থেকে বেশি তো আমার কাছেই আছে। যাইহোক এগুলোই দাও আমরা ম্যানেজ করে নিব।
ইরফান কিছুটা লজ্জা পেল নীলার কথায়। আগে অনেক টাকা নিয়েছে নীলার কাছ থেকে কিন্তু কখনো লজ্জা পায়নি কিন্তু আজ পাচ্ছে।
ইরফান নীলার দিকে টাকা গুলো এগিয়ে দিতেই নীলা আবির কে উদ্দেশ্য করে বলল ___
ভাইয়া টাকা গুলো নিয়ে ছাদে আসো আমরা আড্ডা দেই। কথাটি বলেই নীলা জবা ফুল কানের পেছনে গুজে সামনের দিকে এগিয়ে গেল। ইরফান আহত দৃষ্টিতে কেবল চেয়ে রইল নীলার পানে। ভাবলো হয়তো নীলা অন্তত একবার পেছন ফিরবে। কিন্তু নীলা সোজা ছাদের দিকে চলে গেল।

মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে মিহাল। ইসরাতুল ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন ___
কি হয়েছে বাবা?
মিহাল আহত কন্ঠে বলল___
মিনু আন্টির কথা মনে পড়ছে।
ইসরাতুল ঠিকই বুঝতে পারলেন ছেলে তার মিনু আন্টির জন্য না বরং মিনু আন্টির ছেলে মুনভির জন্য কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু মিনুর কথা শুনে তার মনে পুরোনো স্মৃতি জাগ্রত হলো। অবশ্য এগুলো সে কখনোই ভুলেনি।
মিহাল মায়ের নিরবতা কারণ উপলব্ধি করতে পেরে বলল____
তোমার ছেলের উপর ভরসা রাখ মা।আমি সব ঠিক করে দেবো।
ইসরাতুল কিছু বলল না কেবল ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নীরবে চোখের জল ফেলল.।

বাসর ঘরে ঢুকতেই ইরফানের যেন জান যায় যায় অবস্থা। পুরো রুম জবা ফুল দিয়ে সাজানো। সাথে নীল রঙের জালি কাপড়‌।
আরশি এতক্ষণে পরনে লাল রঙের শাড়ি খুলে ইরফানের শার্ট এবং টাওজার পরে বসে আছে।তার খেয়ালই নেই যে এই রুমে তার স্বামী ঠিকমত দম দিতে পারবেনা।
ইরফান আরশি কে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরশি বলে উঠলো ___

ওহ্ কামন ইরফান, আজ কিছু হবে না। আমি অনেক ক্লান্ত। আর এমনিতেও তোমাদের বাড়ি আসার পর থেকে আমার পরিবার কম কথা শোনায়নি আমাকে। আজকে রাতে কিছু হবার আশা করোনা। আর এমন তো নয় যে আমাদের মাঝে কখনো কিছু হয়নি। এসব তো অনেক আগেও অনেকবার হয়েছে। তাই আমাকে এখন ঘুমাতে দাও।
কথাগুলো বলে আরশি বিছানায় শুয়ে পরল গায়ে কমফোর্ট জড়িয়ে।
ইরফান রাগে দুঃখে গজগজ করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে ছাদের উদ্দেশ্যে চলে গেল।তার রাগ মূলত আরশির উপর কিন্তু নীলার উপর আজ সে তার সকল রাগ ঝাড়বে।
নীলা, আবির আর ইবাদ মিলে ছাদে চেহারা নিয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিল এবং আইসক্রিম খাচ্ছিলো। এমন সময় ইরফান রাগে গজগজ করতে করতে ছাদে এলো এবং নীলার হাত থেকে আইসক্রিম কেড়ে নিয়ে মেঝেতে ফেলে দিল।

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৩

তারপর দাঁতের দাঁত চেপে বলল ____
তুই চাস না আমি বাসর করি।
তাই ইচ্ছে করে এমন করেছিস তাই না?
ইরফানের কাজ দেখে আবির রেগে গেল।ইবাদ কেবল নিরব দর্শকের মত সবকিছু দেখতে লাগলো।
নীলা শব্দ করে হেসে উঠলো। তার হাসি শুনে সবাই অবাক। নীলা হাসতে হাসতে বলল____
তোমার বাসর করা নিয়ে আমার কোন সমস্যা নেই ইরফান ভাইয়া। এখন তুমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে বাসর করবে নাকি রাস্তার কুকুরের সাথে সেটা নিতান্তই তোমার ব্যাপার।
নীলার কথা শুনে ইবাদ আর আবির শব্দ করে হেসে উঠলো।আর ইরফান আবারো স্তব্ধ হয়ে গেল। সে যেন এই নীলার রূপ হতে অজ্ঞাত

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৪