Home নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৫

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৫

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৫
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_”মাগির ঝিঁ, থামোস না। আজকে খালি উল্টা পড়,তার পর পড়ার উপর খাঁড়া হইয়া দাঁড়ামু।গলার উপর পা চাইপা ধরমু খানকি। দাঁড়া কইছি।”
পরি কোনো কথাই শুনলো না বরং apartment এর সদর দরজার দিকে যেতে লাগলো।তবে নাবিল ঝড়ের গতিতে ছুটে এসে পরিকে খপ করে ধরে ফেললো। প্রেগনেন্সির কারনে যেখানে হাঁটতে কষ্ট হয় সেখানে দৌড়ে একজন পুরুষ মানুষের পিছা ছাড়ানো হাস্যকর।তাই তো পরির গতিতে পা মিলিয়ে নাবিল ঠেসে ধরলো তাকে।
নাবিলের হাতের নাগালে আসতেই পরি ছটফট করে উঠলো,কিছুটা চেঁচিয়ে বললো

_”ছাড়ুন!”
নাবিল ছাড়লো না বরং এক হাতের কব্জি ধরে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”নাটক করতাছোস তুই। মরণের সখ হইছে?”
পরি নাবিলের মুখের দিকে তাকিয়ে কেমন রেগে উঠলো।রাগে দুঃখে ফুঁপিয়ে উঠে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো
_”সেদিন আপনাকে বাচিয়ে রাখা আমার সব থেকে বড় ভুল হয়েছে। বাবা ঠিকি বলেছিলো, অমানুষ কখনোই মানুষ হতে পারে না।এখন আমার আফসোস হচ্ছে সেদিন কেনো আপনাকে মেরে ফেললাম না। আমার সব শেষ করে দিলেন আপনি। আমাকে ধংস করেও শান্তি হয়নি আপনার!তাই আমার পুরো পরিবারকে শেষ করতে উঠে পড়ে লেগেছেন।এখন আমার মা বোনটাকেও মেরে ফেলুন।তার পর আমাকে।তবু শান্তি পাবো।”
নাবিল কেমন করে নিঃশ্বাস ফেললো,পরপর পরির দিকে তাকালো।পরি হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে চেঁচিয়ে উঠে বললো

_”অন্ততপক্ষে মেরে কবরটা দিয়েছেন তো?নাকি টুকরো টুকরো করে পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছে? কি করেছেন আমার বাবার সাথে। আপনার একটুও ভয় হয় না। একদিন সবার মরতে হবে,এই কথাটা জানেন না আপনি?”
নাবিল পরির কথায় পাত্তা দিলো না বরং হেলামি করে বললো
_”তোরে কইছি গোসলে যামু আমি।যা খাওন গড়ম কর।”
পরির রাগে শরীর ফেটে গেলো। চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”ছাড়ুন, আমাকে যেতে দিন।থাকবো না আপনার মতো পশুর সাথে। আমাকে আবার বাবার কাছে যেতে দিন।”
নাবিল পরিকে নিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে কানে হাত দিয়ে বিরবির করে বললো

_”রং তামাশ বন্ধ কর।যা কইছি তা কর।না হইলে আমার থেইকা খারাপ কেউ হইবো না।”
নাবিলের কথায় পরির প্রচন্ড রাগ হলো।তার জন্মদাতা পিতাকে মেরে রেখে এসে বলছে সে নাকি রং তামাশা করছে।নাবিল কি আদেও মানুষ?পরি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে হঠাৎ করেই বাম হাত দিয়ে নিজের পেটে আঘাত করলো।তার মস্তিষ্ক কাজ করছে না শুধু মনে হচ্ছে এতো কিছু পরেও নাবিল কি করে তার বাবাকে মারতে পারলো?পরির ঠোঁট দুটো তিরতির করে কেঁপে উঠলো, ভেঙ্গে আসলো কন্ঠ,বাবার অসহায় চেহারা চোখের সামনে ভেসে উঠলো। নিশ্চয় তার বাবার প্রচন্ড কষ্ট হয়েছে।যখন রক্তাক্ত করেছে তখন নিশ্চয় আর্তনাদ করেছে।পরি ছন্নছাড়া হয়ে গেলো এখান থেকে বেড় হওয়ার জন্য।সে অন্ততপক্ষে একবার হলেও তার বাবাকে দেখতে চায়।
পরি হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলো তবে নাবিল ছাড়লো না,সে এগিয়ে গেলো।পরির রাগে আবারো পেটে কিল ঘুষি দিয়ে আঘাত করলো।সাথে সাথে নিজেই ব্যাথা পেলো।চোখ মুখ কুঁচকে আসলো,মুখ দিয়ে মৃদু আর্তনাদ বেড় হয়ে আসলো তবু সে অনাবরত পেটে আঘাত করেই গেলো।
নাবিল কিছু একটা টের পেয়ে পিছনে ঘুরতেই পরি চেঁচিয়ে উঠে বললো

_”আমাকে যেতে দিন,না হলে এটাকে মেরেই ফেলবো!”
বলেই পেটে আঘাত করলো। বুদ্ধি যেনো লোপ পেয়েছে তার। নিজেকে নিজেই শেষ করতে চাইছে। হয়তোবা সে ভুলে যাচ্ছে এখন কিছু হলে সেও রক্ষা পাবে না। শেষ বারের মতো আর বাপের লাশ টাও চোখের দেখা দেখতে পারবে না।
এভাবে পরিকে পেটে আঘাত করতে দেখে নাবিল অনেকটা রেগে গেলো।পরির দুই হাত চেপে ধরে কর্কশ কন্ঠে বললো
_”খান*কির মাইয়া,এহন মাইর খাইতে ইচ্ছা হইতাছে যে আকাম মারাইতাছসো?”
পরি দুই হাত মুচড়া মুচড়ি করতে করতে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”কেনো মারলেন আমার বাবাকে।আমি তো মাফ চেয়েছিলাম ।তার পড়েও কেনো?,,,আসলে আপনাকে বাচিয়ে রাখাই ভুল হয়েছে।মরতে পারেন না আপনি। আল্লাহ কত মানুষকে দেখে আপনাকে দেখে না।কত মানুষ রাস্তা ঘাটে মরে থাকে!আপনি মরতে পরেন না। আল্লাহ আপনার মতো পশুকে চোখে দেখে না।মরেন না কেনো আপনি। আপনার মতো জানোয়ার মরলে শতশত মানুষ জানে বেঁচে যেতো শান্তি পেতো।কেনো আল্লাহ আপনাকে চোখে দেখে না?”
নাবিল পরির সবটা কথা শুনেও একটুও রাগলো না বরং বেশ স্বাভাবিক কন্ঠে বললো

_”যেদিন আল্লাহ চাইবো হেইদিন কেউ আটকাইতে পারবো না।এহন পেটে আঘাত করিস না। বাচ্চার লোগে কিন্তু তুইও মরবি কইয়া দিলাম।তাই বেশি পোংয়া পাকামি করছিস না।”
পরি ছটফট করে উঠলো নাবিলকে রাগতে না দেখে।এতোটা শান্ত কি করে থাকতে পারে সে একটা মানুষকে মেরে এসে?পরি হাউমাউ করে কেঁদে উঠে বললো।
_”আমাকে যেতে দেন।আমি মরে যাবো তাও আপনার মতো অমানুষের সাথে এক মূহুর্ত থাকবো না ‌।যেতে দিন না হয় মেরে ফেলুন।”
নাবিল এবার বেশ তেতে উঠলো।ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলো পরির গালে। হঠাৎ করে চড় মারায় পরি মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নিলো তবে সাথে সাথে নাবিল পরিকে টেনে বুকে আগলে নিলো। অর্ধ জ্ঞান শূন্য পরি স্বামীর বুকে লুটিয়ে পড়লো।
নাবিল পরিকে নুইয়ে পড়তে দেখে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_”মারিনি তোর বাপকে।মারার ইচ্ছা থাকলে সেই কবেই মাইরা ফালাইতাম, আমার তো খাইয়া লইয়া কাম নাই যে তোর বুড়া চুদা বাপের পিছনে পড়মু। এমনিতেই কয়দিন পর টপকায় যাইবো।তাই আর কি মারমু।”

পরি চোখ উল্টে নাবিলের দিকে তাকালো।পরপর এক হাত পেটে চেপে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো
_”পেট ব্যথা করছে।”
নাবিল বেগুন ভাজা দিয়ে খাবার মেখে মুখে তুলতে তুলতে বললো
_”আরো বেশি কইরা কিল গুতা মার।তোর এই কামের লাইগা যদি আমার পোলাপাইনের কোনো সমস্যা হইছে তাইলে তোর পিন্ডি চটকায় ফালামু।”
নাবিলের কথায় পরি শুকনো ঢোক গিলে মিনমনি করে সুধালো
_”আপনি মিথ্যা না বললে এমন কিছুই হতো না।তবে আপনি তো আমার শান্তি দেখতে পারেন না। খোঁচা না মারলে বোধহয় পেটের ভাত হজম হয় না।”
নাবিল বাটি থেকে নিরামিষ তুলতে তুলতে বললো

_”তুই যে এতো অভার এ্যাক্টিং করবি তা কে জানতো? ন্যাকা মাইয়াগো মতো রং ঢং।”
পরি কথা টুকু শুনেও তেমন কিছু বললো না।তার পেটে চিনচিন করছে।এভাবে আঘাত করা ঠিক হয়নি। আফসোস হচ্ছে তার।পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো ‌।নাবিল খাবার মাখতে মাখতে বললো
_”বাথরুমে কাপড় গুলা রাইখা আইছি,ধুইয়া দিস।”
পরি মাথা নিচু করে নিলো,পরপর শুকনো ঢোক গিলে ভেজা কন্ঠে বলে উঠলো
_”ওগুলো ধুতে পারবো না। রক্তের গন্ধে আমার গা পাকিয়ে আসছিলো।”
_”হো তুই তো খালি বইয়া বইয়া খাবি আর আমার পোলাপাইনের ক্ষতি করবি। তুই কি আর কামের কাম পারবি।আর তোর না বলার সাহস হইলো কেমনে,হেইডা আগে বল।”
পরি নীরব রইলো। কারণ একটু আগে যা করেছে তার পর বেশি পটপট করলে নিশ্চয় মেরে আধ মারা করে রেখে দিবে।নাবিল ২/৩ গাল খাবার মুখে তুলে নাক ছিটকে বললো

_”কোন বাল ছাল রানছো তুমি? যা খাওন যায় না।এই সাওয়ার সবজি খাইতে আইছি আমি? একটু মাছ মাংস রানতে পারোস নাই?”
_”আমি কি জানতাম আপনি আসবেন?”
_”কেন জানবি না কেন? কি আর কমু, তুই তো নাটক কইরাই বাচোস না আবার রান্না, ছ্যে?”
নাবিল খাবারের বদনাম করলেও বেশ ভালোই হয়েছে তাই তো পেট পুড়ে খাচ্ছে।নাবিলের খাওয়া শেষ হতেই নাবিল হাত ধুয়ে উঠে দাঁড়ালো।পরি সবকিছু আস্তে আস্তে গুছিয়ে ফ্রিজে রেখে দিলো।
নাবিল হাত পা ঝেড়ে সিরি দিয়ে উঠছে ,পরি পিছনে আস্তে আস্তে আসছে। এদিকে হাঁটতে হাঁটতে পরির পেটে হালকা ব্যথা অনুভব হলো।পরি শুকনো ঢোক গিললো।শরীরের বল টুকু দিয়ে নাবিলের পিছনে এগিয়ে গেলো।

_”ভর সন্ধ্যা বেলায় শয়তানে লাড়া দিচ্ছে আপনাকে?”
নুবার কুঁচকে থাকা মুখ আর কর্কশ কন্ঠে আরহাম অসন্তুষ্ট হলো। আরহাম মুখ কালো করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”শুরু হয়েছে তো তোমার?”
আরহামের কথায় নুবা কুঁচকে থাকা ভুরু আরো কুঁচকে নিয়ে সুধালো
_”কি বলতে চাইছেন আপনি?কি শুরু হয়েছে?”
আরহাম রান্না ঘড়ের দেওয়ালে হেলান দিয়ে নিরাশ হয়ে বলে উঠলো
_”৭ দিন শেষ না।এখন আপনার কাছে আসলে আলাদা একটা দাপট থাকবে।”
নুবা আয়রার রাতের খাবারে জন্য বসানো খেচুরি নেড়েচেড়ে বিরক্তি নিয়ে বললো
_”কি হয়েছে আপনার, উল্টা পাল্টা বকছেন কেনো?”
আরহাম কেমন কাতর কন্ঠে বললো

_”তুমি বিয়ের পর অনেক চেন্জ হয়ে গেছো নুবা।”
নুবা মশলার ধকে কিছুটা কেশে উঠলো,ওরনা দিয়ে খেচুরির পাতিল চুলা থেকে নামাতে নামতে বলে উঠলো।
_”তা কোন দিক দিয়ে চেন্জ হলাম আমি। আমার নতুন করে দুটো সিং বেড় হয়েছে নাকি দাঁত পড়ে গেছে?”
নুবার এরকম কথায় আরহাম আর একটু বিরক্ত হলো।নুবা আরহামকে চুপ থাকতে দেখে নিজেই বিরবির করে বললো
_”এই গড়মের ভিতরে,কাজের সময় এসে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে,এখানে ওখানে ছুঁয়ে বিরক্ত করলে আমি কি আপনাকে গড়ম খুন্তির ছ্যাঁক দেওয়ার বদলে চুম্মা দিবো? আজব!”
আরহাম সোজা হয়ে দাঁড়ালো পরপর কিছুটা অভিমানী কন্ঠে বললো
_”তুমি নিজেই ভেবে দেখো নুবা।আগে তুমি কিরকম ছিলে আর এখন কিরকম।জানি না but আগের মতো আমাকে নিয়ে তোমার মধ্যে কোনোরকম intrastd দেখতে পাই না আমি।আগের মতো কাছে আসলে খুশি হও না বরং বিরক্ত প্রকাশ করো।by the way সবটাই তোমার ইচ্ছে,আমি জোর করার কে?”
বলেই আরহাম চুপচাপ রান্না ঘড় থেকে ধীরো পায়ে বেড় হয়ে গেলো।আরহামের কথায় নুবার কাজ করতে থাকা হাত দুটো থেমে গেলো। কিছু সময় চুপ থেকে নিজে নিজে ভাবলো

_”গড়ম খুন্তি দিয়ে বারি দেওয়ায় রাগ করলো নাকি? তবে আমি তো ওতো জোরে দেইনি।তাহলে এমন কেনো বললো। উফ্ আর ভালো লাগে না। কিছু বলাই যাবে না,সব শুধু সহ্য করলেই তার কাছে ভালো। কিছু বললেই খারাপ হয়ে যাই।কি যে করি?”
নিজের সাথে নিজে বিরবির করতে করতে,আয়রার জন্য খাবার বেড়ে রান্না ঘড় থেকে বেড় হয়ে আসলো।

_”আর একটু মা, এতো টুকু খেলে কি ফাজলামি করার শক্তি পাবেন।সবটা খেলেই না সবসময় এনার্জি নিয়ে দুষ্টামি করতে পারবেন।”
আয়রা মাথা ঝুকালো,খাবে না সে।নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ২/৩ গাল খাওইয়ে দিয়ে আয়ারকে ছেড়ে দিলো,বেশ বদ মেয়েটা।জোর করে খাওয়ালে মুখে আঙ্গুল পুড়ে বমি করে দিবে।নুবা আয়রাকে খাওয়ানো শেষ করে টিস্যু দিয়ে মুছিয়ে দিলো।
পরপর আয়ারকে কোলে তুলে আশে পাশে চোখ বুলিয়ে বললো
_”তোর বাপকে নিয়ে আর পারি নারে আয়রা। কিছু বলাই যায় না,মেয়ে মানুষের মতো নাটকবাজ হয়েছে।কি করবো বলতো?”
আয়রা কিছু বুঝলো না তবে দাঁত বেড় করে’বা,খা,মা, শব্দ করে হাসলো।নুবা আয়রার হাসি দেখে মুচকি হাসলো।পরপর লিভিং রুমের দিকে এগিয়ে গেলো। লিভিং রুমে দেখা মিললো কেউ নেই, শুধু আরহাম টিভি চালিয়ে বসে আছে। সবাই হয়তোবা রুমে,একটু পড়েই ডিনার করার জন্য নিচে আসবে।
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে আরহামের পাশে যেয়ে বসে পড়লো।আয়ারকে আর আরহামের কোলে দিতে হলো না।বাবাকে দেখে সেই কোলে যাওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লো।

আরহাম আয়রাকে কোলে তুলে নিলো,আয়রা দাঁত বেড় করে ‘বা,আবাবা’ উচ্চারণ করলো। আরহাম মেয়ের ডাকে খুশি হয়ে গেলো।মেয়ের গালে ঠেসে চুমু খেলো সে।আয়রা আরহামের চুল দুই হাত দিয়ে খামচে ধরলো।আরহাম বিরবির করে মেয়ের সাথে গল্পের আসর পাতলো।নুবা বাপ মেয়ের কান্ড দেখে মুচকি হাসলো।
নুবা একটু এগিয়ে এসে আরহামের শরীর ঘেঁষে বসলো। আরহাম কেমন ছ্যাত করে উঠলো।মেয়েকে নিয়ে একটু সরে বসলো সে।আরহামের এরকম কান্ডে নুবা ভুরু কুঁচকে নিলো।একটু অবাক হয়ে গেলো সে তবে পরপরই রান্না ঘড়ের কথা মনে পড়তেই ঠোঁট টিপে হাসলো নুবা।সে বুঝতে পারলো কেনো আরহাম সরে গেলো। নিশ্চয় সেই রাগ পুষে রেখে ভাব দেখাচ্ছে।
নুবা একটু গলা ছেড়ে কেশে আবারো আরহামের শরীর শরীর ঘেঁষে বসলো, পরপর আরহামের পায়ের উপর হাত রেখে আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করে বললো

_”আয়রার পাপা রাগ করেছে বুঝি? আচ্ছা ঠিক আছে sorry.তখন কাজ করছিলাম তো তাই আরকি।তবে আমি জানি আমার উনি আমাকে ভালো মতোই বুঝবেন! তাই না আরুর পাপা?”
নুবার কথায় গললো না আরহাম।তাখন বেচারা আরহাম রান্না ঘড়ে যেয়ে শুধু একটু জরিয়ে ধরে চুমু খেতে চেয়েছিলো তবে নুবা কাজের তারনায় ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়েছিলো।আবারো যখন একি কাজ করলো তখনো নুবা সেম ভাবেই বিরক্তি নিয়ে সরিয়ে দিয়ে কেটকেট করে উঠলো। আরহাম তৃতীয় বারের মতো বউকে একটু ছুঁয়ে দিতেই তার ইতর বউ গড়ম খুন্তির ছ্যাঁক লাগিয়ে দিলো।এই নিয়ে বড় রাগ হয়েছে তার।আরহামকে কথা বলতে না দেখে নুবা আর একটু কাছ ঘেঁষে বসে বলে উঠলো
_”কি হলো,মুখ কালো করে রেখেছেন কেনো? Sorry তো বললাম।”
আরহাম তাও কথা বললো না, বরং মুখ কালো করে টিভির দিকে তাকিয়ে রইলো। এদিকে আয়রাও টিভির দিকে তাকিয়ে আছে কারণ তার জন্য কার্টুন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।তাই মনোযোগ দিয়ে দেখছে আয়রা।আরহামকে রেসপন্স করতে না দেখে নুবা এবার ঝুঁকে আরহামের মুখের দিকে তাকিয়ে আদুরে কন্ঠে বললো

_”ভাবছিলাম আজকে রাতে একটা ফ্লোরের জায়গায় বিছানায় একটা ধামাকাদার খেলা হয়ে যাবে।এতে করে যদি ২৯ টা বাচ্চাকাচ্চা এক সাথে চলে আসে মন্দ হয় না।তাই না আরু?”
বলেই মেয়ের দিকে তাকালো তবে আয়রা বাপের মতো টিভির দিকে তাকিয়ে আছে।কেউ তাকে পাত্তা দিচ্ছে না।এতো সুন্দর একটা অফার করার পড়েও আরহাম টু শব্দ করলো না।এবার নুবার মুখ কালো হয়ে গেলো। সোজা হয়ে বিরবির করে বললো
_”সে কি আমার অফারটাকে উপেক্ষা করছে? আচ্ছা ঠিক আছে,সমস্যা নেই।সে যদি না চায় তবে আমার আর কি?”
তবু আরহামের হেলদোল হলো না নুবা এবার ধৈর্য হারা হলো।পরপর এক হাত বাড়িয়ে আরহামের গলায় এক আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করতে করতে বললো
_”এতো রাগ,আমিও দেখবো কত সময় ধরে রাখতে পারেন!”
আরহাম বেশ এঁটেই বসে রইলো।নুবা এবার আরামের থুতনি রেখে নিজের দিকে ঘুরালো তবে আরহাম নুবার হাত এক হাত দিয়ে সরিয়ে দিয়ে আবারো টিভির দিকে তাকালো।নুবা একটু নিরাশ হয়ে গেলো।পরপর দুই হাত দিয়ে আরহামকে জরিয়ে ধরে বললো

_”আর কক্ষনো এরকম করবো না।এবার অন্ততপক্ষে মুখটা খুলুন।একটু কথা বলুন।”
আরহাম মুখ খুলে কিরকম রাগ দেখিয়ে কাঠকাঠ কন্ঠে বিরবির করে বললো
_”শরীর দিয়ে ঘামের গন্ধ বেড় হচ্ছে,গা পাকিয়ে আসছে আমার।দূরে সরো।”
আরহামের একটা বাক্যে নুবার মন ভেঙ্গে দিলো। কিছু সময় আরহামের দিকে তাকিয়ে রইলো তবে সে ফিরে তাকালো না তাই ঝাড়া মেরে আরহামকে ছেড়ে দিয়ে ওখান থেকে উঠে চলে আসলো।রাগ ভাংগাতে যেয়ে উল্টা আরো রেগে আসলো নুবা। অভিমানে মনটা ফুঁসে উঠলো।এভাবে বলতে পারলো।নুবা ডাইনিং রুম পার করতে করতে রেগে বিরবির করে বললো
_”এতো গা গুলিয়ে আসে তবে আমার কাছে আসার কি দরকার।আমি কি পায়ে ধরে পড়ে থাকি যাতে আমার কাছে আসে।আসতে কে বলেছে?”

নিজের সাথে বিরবরি করতে করতে রুমের দিকে চলে গেলো।নুবা যেতেই আরহাম চেপে রাখা নিঃশ্বাস ফেললো।নুবা যেভাবে তার গলা আর পা স্লাইড করেছিলো তার মনে হচ্ছিলো‌ এখনি দমটা বেড় হয়ে যাবে।বহু কষ্টে নিজের রাগ টুকু বাঁচিয়ে রেখে তবে এবার হয়তো উল্টো দাম দিতে হবে তার।কি একটা জ্বালা। উল্টো বউয়ের রাগ ভাংগাতে হবে আরহামের।কেনো যে উজন কথা বলতে গেলো, ধূর।”
মনে কথা গুলো বলে মনে আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো।

পরি শুয়ে শুয়ে গুঙ্গিয়ে উঠছে বারবার।নাবিল একটু শুয়েছিলো তবে পরির গুঙ্গানির শব্দে বিরক্তি নিয়ে বললো
_”কি হইছে তোর? এমন কুতা কুতি করতাছোস কেন?”
পরি শুকনো ঢোক গিলে কাতর কন্ঠে বললো
_”পেটে ব্যথা হচ্ছে। অস্থির লাগছে।আমি মনে হয় মরেই যাবো।”
কথাটা বলতে দেরি নাবিলের চেঁচিয়ে উঠতে দেরি হলো না।নাবিল রাগে হাঁসফাঁস করে বললো
_”একদম কথা কবি ,তাইলে হেনেই গাইথা রাখমু।কে বলছিলো হেডাম দেখাইয়া পেটের লোগে গুলা গুতি করতে? কে বলছিলো।”
পরি এবার রাগে দুঃখে ভয়কে পিছে ফেলে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”চুপ করুন আপনি। আপনার জন্যই সব হয়েছে। একদম আমাকে দোষ দিবেন না।সব নাটের গুরু আপনি।”
পরির ব্যথাতুর কন্ঠ শুনে নাবিল টের পেলো জম্মের ব্যাথা লাগা লেগছে।সে উঠে বসলো,হাম তুলে বললো
_”ডাক্তারের কাছে যাবি?”

পরি ছটফট করে উঠলো, মিনমিন করে বললো
_”হ্যাঁ, অনেক কষ্ট হচ্ছে।একটু নিয়ে গেলে ভালো হয়।”
নাবিল দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালো। ইচ্ছা তো করছে পরিকে আছার মারতে তবে কিছু করার নেই।তার ভুল সে মনে মনে স্বীকার করেছে।নাবিল উঠে রুমের লাইট জ্বালিয়ে দিলো,পরপর পরির দিকে এগিয়ে গেলো।পরির বাহু ধরে উঠিয়ে বললো
_”কই ব্যথা করতাছে?দেখি!”
পরি কিছুটা কুকিয়ে উঠলো।পরপর নাবিলের এক হাত নিয়ে নিজের তলপেটের রেখে বললো
_”এখানে,মনে হচ্ছে টপকাচ্ছে। তলপেটে ছিরে যাচ্ছে।বাবুও কোনো রেসপন্স করছে না। কেমন শরীর ভেঙ্গে আসছে, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।আমি মনে হয় বড় ভুল করে ফেলেছি।কেনো এরকম করলাম?”
বলতে বলতে পরি ফুঁপিয়ে উঠলো।কথাটুকু শুনে নাবিলের কলিজার পানি শুকিয়ে গেলো।নাবিল পরিকে কোলে তুলতে তুলতে দাতে দাঁত চেপে বললো
_”শুয়েরের বাচ্চা, আমার বাচ্চার যদি কিছু হইছে তাইরে তোরে জেন্ত কবর দিমু।হাত পা বেশি চলে তাই না।হাত ভাইঙ্গা লেংরা বানায় রাখমু। শয়তানের বাচ্চা।”

পরপর থামলো নাবিল,পরিকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বললো
_”শয়তানের বাচ্চা আমার উপর হেডাম দেখাইয়া পেটেরটারে ঘায় গুতা দেয়। আজকে খালি ওর কিছু হোক তার পর তুই টের পাবি কত ধানে কত চাল। ওর কিছু হইলে তুই বাচোনের আশা ছাইরা দিস। জেন্ত মাইরা ফালামু তোরে।”
নাবিলের হুমকি আর পেটের যন্ত্রনায় পরি ফুঁপিয়ে উঠলো।বারবরা তার আফসোস হলো কেনো এমন করলো সে। বাচ্চাটার কি দোষ,তবে সত্যি কথা বলতে তখন তার মাথা কাজ করছিলো না।রাগে নাবিলকেই মেরে ফেলতে ইচ্ছে করছিলো সেখানে নাবিলের অনাগত বাচ্চাতো তুচ্ছ।

আরহামকে ঘুমন্ত মেয়েকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে কে পলক নুবার দিকে তাকালো।যে কিনা চুপচাপ কপালে হাত দিয়ে শুয়ে আছে।আরহাম হালকা কেশে গম্ভীর কন্ঠে বললো
_”নিচে চলো,ডিনার করবে।”
নুবা আরহামের দিকে তাকালো না বরং রাগি কন্ঠে বললো
_”খাবো না।”
_”সবাই খেয়ে ফেলেছে, আমাকে খাবার বেড়ে দিবে চলো।”
নুবা মুখ ঘুরিয়ে নিলো, ঘুমঘুম কন্ঠে বললো
_”পারবো না। আমার ঘুম পাচ্ছে।”
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে শান্ত কন্ঠে বললো
_”এক মুঠো খেয়ে এসে ঘুমাও।উঠো।”
বলেই নুবার দিকে এগিয়ে এসে তার বাহু ধরে টান দিলো।নুবা ঝাড়া মেরে আবারো শুয়ে পড়লো।পরপর মেয়ের কাছে সরে যেয়ে বললো
_”বললাম তো খাবো না।যান তো, বিরক্ত করবেন না।”
আরহাম দুই হাঁটুর সাহায্যে বিছানায় উঠে বসলো পরপর নুবার হাত টেনে বললো
_’আরে উঠো, আমার ক্ষুধা লেগছে নুবা।”

নুবা আরহামের হাত ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিয়ে বললো
_”ক্ষুধা লেগেছে তো না খেয়ে বসে আছেন কেনো।সবার সাথে খেতে পারেননি?”
_”তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম,তাই খাইনি।এখন আসো।এতো নখরা ভালো লাগে না।”
আরহামের কথায় আরো তেতে গেলো নুবা।কিছুটা চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”তবে যান খেয়ে নি। একদিন বেড়ে খান।আমি পারবো না। দরকার পড়লে তানিয়াকে ডাক দিয়ে নিন।আমি এখন যেতে পারবো না।আর একবার বিরক্ত করলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।”
বলতে বলতে নুবা এক হাত মুখে গুজে আয়েশ করে শুয়ে পড়লো। আরহাম কিছু সময় নুবার দিকে তাকিয়ে রইলো পরপর নুবার ঝাড়ি খেয়ে নিজেও লাইট অফ করে শুয়ে পড়লো।
লাইট অফ করতে দেখে নুবার রাগে শরীর ফেটে গেলো। রাগে দুঃখে কিছু বলতেও পারলো না সে।তবে মনে মনে ভাবলো

_”দেখ তো কেমন লাগে, ক্ষুধা লাগছে যেয়ে খেয়ে নিবে না? এই জ্বালা যন্ত্রণা কার ভালো লাগে।রাগ করেও শান্তি নেই।উঠে খাবার মুখে তুলে দেও। আল্লাহ, এদের নিয়ে কই যামু?”
ভাবতে ভাবতে নুবা মনে মনে ফোঁস ফোঁস করতে লাগলো।পরপর আবার ভাবলো
_”আমিও দেখবো কত সময় না খেয়ে থাকে।যতসব রং ঢং। এমন ভাব করছে যেনো আমাকে ছাড়া গলা দিয়ে ভাত নামবে না।না খেয়ে মরুক আমার কি? আমি তো খেয়ে নিয়েছি,হুম।”
নুবা তখন আয়রার জন্য বানানো খেচুরি আয়ার না খাওয়ায় নুবা খেয়ে নিয়েছিলো ।তাই তো খেতে যায়নি সে।না হয় এই বালের রাগ করে,না খেয়ে থাকবে সে? কখনোই না,নিজের শরীরের ক্ষতি করবে না সে।না খেয়ে থাকলে আয়রার দুধে ঘাটতি পড়ে যাবে।সেই ভয়ে যতো যাই হোক খাবার খতেই হবে।মাঝে মাঝে মেমের পুষ্টিকর খাবারে ভাগ মেরে দেয় সে।কি আর করবে মেয়ে তো বুকের দুধ ছাড়া বারতি কিছু ভালো মতো খেতে চায় না।তাই নিজেই মেয়ের খাবার খেয়ে শরীরে পুষ্টি বানায় যাতে বেশি বেশি বুকে দুধ হয় আর আয়রা খেতে পারে।
কিছুটা সময় এভাবেই কেটে গেলো। আরহাম বা নুবা কেউ উঠলো না।নুবা জোর করে নিজেকে আটকে রাখলো তার ভাবনা”যার ক্ষুধা লাগবে,পে উঠে নিজেরটা নিজেই খেয়ে নিবে।”তবে আরহামো কম ঘাড়ত্যারা না।সে উঠলো না।

পরি হসপিটালের সাদা বেডে শুয়ে আছে। আপাতত পেটের ব্যথা কমে গেছে। doctor বলেছে ভর্তি থাকতে।তবে নাবিল এই বিষয় নিয়ে ক্ষিপ্ত।পরিকে ভর্তি রাখলে,তার সাথে থাকবে কে? নাবিলের কাম কাজ আছে থাকা তো সম্ভব নয়।তবু আজ রতটুকু থেকে গেছে।
পরির পাশে নাবিল শুয়ে আছে।অন্য কোনো কেবিন খালি ছিলো না তাই এক বেডেরি ছোট্ট কেবিন পেয়েছে। নার্স বলেছে কাল রুমটা চেন্জ করে দিবে। আজকের রাতটাই তো তাই নাবিল তেমন কোনো ঝামেলা করেনি।
পেটে ব্যাথা হালকা কোমতেই পরি গভীর ঘুমে দিয়েছে। এদিকে নাবিল পাশে শুয়ে পরির দিকে তাকিয়ে আছে।পরি নাবিলের একদম বুকের ভিতরে কারন বেডটায় মাত্র এক জন শোয়া যাবে সেখানে দুইজন খুবি কষ্টকর।
নাবিল দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,পরপর পরির পেটে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। এদিকে পরি একটু নড়েচড়ে উঠে নাবিলের বুকে আরো জাগা করে নিলো পরপর ঘুমঘুম কন্ঠে বললো

_”পড়ে যাবো তো,ধরে রাখুন,পড়ে যাবো।”
পরির ভীতু কষ্ট।নাবিল টের পেলো পরি ঘুমের ভিতরেও ভয় পাচ্ছ।তাই সে পরিকে এক হাত দিয়ে আগলে নিয়ে কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_”তোরে হালায় দেওয়াই উচিত।তোর লাইগা এই রাত কইরা হেনে আইতে হইলো। ইচ্ছা তো করতাছে লাত্থি মাইরা রাইখা চাইলা যাই।”
পরি নাবিলের হাত নিয়ে নিজের পেটে আরো শক্ত করে চেপে ধরে বললো
_”ব্যথা কমেছে একটু।”
_”আরেকটু’ও কইমা যাইবো। চুপচাপ শুইয়া থাক।”

পরি চুপটি করে শুয়ে রইলো। নাবিল কিছু সময় পরিকে বুকে জরিয়ে রাখার পরপরই তার শরীর অস্বাভাবিক ভাবে গড়ম হতে লাগলো।নাবিল বুঝতে পারলো না কি হচ্ছে তবে কিছু সময় পর টের পেলো যে,পরি এতো কাছে থাকায় তার মন মন্দ কাজের ফন্দি আটছে।সময়ের পরিবর্তন হতেই নাবিলের দুই আর মন মর্জি করতে শুরু করলো।নাবিল পরির গলায় মুখ গুজে দিলো।পরি একটু শান্তির নিশ্বাস ফেলে ঘুমাতে চাইছিলো তবে নাবিলের এলোমেলো স্পর্শে,পরি কম্পিত হলো। চোখের পাতা খুলে টিপটিপ করে তাকালো।

এতোটা রাত হওয়ার পড়েও আরহাম শুয়ে রইলো তবে নুবা ঘুমাতে পারলো না,ওই যে আরহাম বলেছে”আমার ক্ষুধা লেগেছে”এই বাক্যটি নুবা ভুলতেই পারলো না।আর না ঘুমাতে পারলো।
বিচলিত নুবা স্বামীর টেনশনে উঠে বসলো।পাশ ফিরে দেখলো ঠেডার মতো সটান হয়ে শুয়ে আছে।নুবার কিছুটা রাগ হলো তবু সে বিরবির করতে করতে বিছানা থেকে নেমে গেলো।
কিছু সময় পর নুবা রাগে গজগজ করতে করতে আরহামের জন্য খাবার নিয়ে আসলো।নুবা খাবার এনে পাশের ছোট্ট টেবিলে শব্দ করে রেখে দিলো।পরপর রুমেয লাইট জ্বালিয়ে,পাশ ফিরে আরহামের দিকে তাকিয়ে গজগজ করে বললো
_”উঠে খেয়ে নিন।”
আরহামের হেলদোল হলো না।নুবা মেয়ের পাশে যেয়ে শুয়ে পড়লো।আজ আয়রা মাঝখানে।নুবা কিছু সময় শুয়ে রইলো আর বারবার দেখতে লাগলো আরহাম উঠেছে কিনা।তবে না আরহাম ঘাড় ত্যারমো করে শুয়ে আছে।আরো কিছুটা সময় কাটাতেই এবার নুবার ধৈর্য হারা হলো। হাঁসফাঁস করে বিছানায় উঠে বসে কর্কশ কন্ঠে বললো

_”কি হলো উঠেছেন না কেন?, খাবেন না নাকি।এখন কি মুখে তুলে দিবো?”
আরহাম অন্য দিকে ঘুরতে ঘুরতে বললো
_”খাবো না।”
ব্যাস আরহামের এই কথায় নুবা তেতে উঠলো। কিছুটা চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”তাহলে আনতে বললেন কেনো।এই অর্ধ রাতে এতো কষ্ট করে সাত সমুদ্র পার করে খাবার কেনো আনলাম।এতো রং তামাশা শুরু করলেন কেন? বুঝলাম না তো?”
আরহাম হেলামি করে সুধালো
_”আমি কি আনতে বলেছি?”
_”তাহলে তখন কেনো বললেন,ক্ষুধা লাগছে?”
_”আমি একবারো আনতে বলিনি।”
নুবা এবার রাগে গজগজ করতে করতে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো।বড় বড় কদম ফেলে আরহামের পাশে এগিয়ে আসলো।পরপর আরহামের বাহু ধরে টেনে চেঁচিয়ে উঠে বললো

_”নাটক কম করেন,উঠে খেয়ে নিন।”
আরহামো কম ত্যারা নাকি সে আবারো অন্য পাশে ঘুরতে ঘুরতে সুধালো
_”খাবো না।”
_”খাবেন না মানে কি? উঠুন!”
বলেই আরহামকে টেনে তুললো। আরহাম উঠে বসে টিপটিপ করে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_”খাবো না।”
নুবা দাঁতে দাঁত চেপে আরহামের সামনে খাবারের প্লেট রেখে কটমট করে বললো

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৪

_”চুপচাপ খেয়ে উঠুন।আর একবার নাটক করলে, আপনাকে সহ এই খাবার বাইরে ছুরে মারবো।তখন বাইরে বসে বসে রং তামাশা করবেন।”
আরহাম অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে বিরবির করে বলে উঠলো
_”খাওইয়ে দেও,না হলে খাবো না।”
নুবা দুই হাত

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৬