Home নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২৩

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২৩

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২৩
সুরাইয়া জিয়াসমিন

নাবিলের যেনো এখনো পরির কথা গুলো কানে বিঁধছে,সে চাইলে তখন পরিকে আঘাত করতে পারতো তবে সে করেনি কারণ তার কেমন অনুভূতি হচ্ছিলো পরির প্রতি।সে নিজেও জানে না কেনো এমন হচ্ছিলো, অতঃপর সে প্রথমবারের মতো নিজের অনুভূতিকে প্রাধান্য দিলো।

ঘুটঘুটে অন্ধকারে নাবিলের কান্ত মুখখানা দেখে পরি পিলে চমকে উঠলো।নাবিল পরিকে ভয় পেতে দেখে ভাঙ্গা শব্দে বললো
_”আমি,ভোয় পাইস না।”
নাবিলের কন্ঠে কিছু সময়ের জন্য ভয় পেয়ে যাওয়া পরি এবার শান্ত হলো।নাবিল যাওয়ার পরপরই বেশ কান্নাকাটি করতে করতেই ঘুমিয়েছিলো সে,চোখ টাও লেগে এসেছিলো প্রায় তবে আফসোস হালকা ঘুমের ভিতরে হঠাৎ দরজা খুলার শব্দে চম্কে উঠলো পরি।সে ভেবেছিলো অন্য কেউ হয়তোবা, apartment এ চোর ঢুকেছে হয়তোবা , তবে না নাবিল এসেছে।
মাতাল নাবিল ফ্রেশ না হয়েই এসে পরির পাশে শুয়ে পড়লো।নাবিল পাশে শুতেই বিচ্ছিরি গন্ধে পরির গা পাকিয়ে আসলো।পরি টের পেলো নিশ্চয় কিছু খেয়ে এসেছে।পরি নাক মুখ কুঁচকে চোখ বুজে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো। নাবিল বেশ আবেশে এগিয়ে যেয়ে পরির শরীরের উপর হাত রাখলো।,সাথে সাথে পরি কম্পিত হলো। পরির মনে হালকা ভয় কাজ করলো।যদি নাবিল এই মাতাল অবস্থায় উল্টা পাল্টা কিছু করে বসে?
তবে আশ্চর্য জনক ব্যপার হলো নাবিল তেমন কোনো কিছুই করলো না, বরং পরির বাহু ধরে প্রথমবারের মতো তাকে বুকে টেনে নিলো।পরি আবারো চম্কে উঠলো নাবিলের কান্ড দেখে। কারণ নাবিলতো তাকে বুকে টেনে নেওয়ার মতো মানুষ নয়।
পরি কিছু সময় স্তব হয়ে,বুঝার চেষ্টা করলো কি হচ্ছে,তখনি নাবিল পরির মাথায় থুতনি ঠেকিয়ে বিরবির করে বললো

_”তুই অনেক লোভী পরি,যা না পাবি তাই চেয়ে বসিস।আসলেই তুই খুব বলদ।”
নাবিলের কথা শুনে আরেক দফা চমকে উঠলো পরি।নাবিল কি সুন্দর শুদ্ধ ভাষায় কথা টুকু বললো। কেমন অবাক হলো পরি, শুদ্ধ ভাষা তার মুখে যেনো মানান সই হচ্ছে না।পরি ভূত দেখার মতো বড়বড় চোখ করে নাবিলের বুকের দিকে তাকিয়ে রইলো।যেনো সে কোনো স্বপ্ন দেখছে।নাবিল কথা টুকু শেষ করে পরির কপালে চুমু খেলো।পরি এবার পুরাই হতবাক হয়ে গেলো, নাবিল এতো সুন্দর করে তাকে আগলে কেনো নিলো।আর কেনোই বা এতো নরম ভাবে কথা বলছে।তবে কি সে উল্টো মানুষ?নেশা ব্যতিত খারাপ ব্যবহার আর নেশা করে ভালো ব্যবহার।এটা কোনো কথা হলো?
নাবিল কেমন করে নিঃশ্বাস ফেলে বিরবির করতে লাগলো যা পরি শুনতে পেলো না, কারণ তার শব্দ স্পষ্ট না।পরি শুধু নিরিক করে বোঝার চেষ্টা করলো নাবিল বলছে টা কি।

সকাল থেকেই বাড়িটা যেন অন্যরকম হয়ে উঠেছে,মেহেদি অনুষ্ঠান কোনো মতে শেষ হয়েছে তবে হলুদ অনুষ্ঠান বেশ চাকচিক্য ভাবেই করা হচ্ছে।
চারপাশে হলুদের রঙের ছোঁয়া, বাগান জুড়ে সাজসজ্জা, দরজার পাশে ঝুলে থাকা গাঁদা ফুলের মালা, বাতাসে মিশে থাকা আতরের মিষ্টি গন্ধ,সবকিছু মিলিয়ে বাড়িটা যেন কোনো এক রূপকথার পাতায় চলে গেছে। আজ নুবা আর আরহামের গায়ে হলুদ। নিজেদের জীবনের নতুন একটা অধ্যায় শুরু করার আগে এমন একটা দিন যে আসবে, সেটা নুবা কখনো কখনো কল্পনা করেছিল ঠিকই, কিন্তু সেই কল্পনার ভেতরে কখনো বাস্তবতা পৌঁছাতে দেয়নি, কারণ তার জানা ছিলো না সে এতো সুখী হবে!
নুবা নিজের রুমের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো নিজেকে দেখছিল। গায়ে হলুদ রঙের লেহেঙ্গা। ভারী নয়, বরং নরম আর মিষ্টি সাজ। লেহেঙ্গার কাপড়ে সূক্ষ্ম কাজ করা, তার ওপর ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট ঝিলিক যেন আলো পড়লেই জ্বলে উঠছে। ওড়নাটা মাথার একপাশ থেকে নেমে কাঁধ ছুঁয়ে আছে। চুলগুলো সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা হয়েছে, খোঁপায় গাঁদা ফুলের ছোট্ট মালা। কাঁচা ফুলের গয়না পড়ানো হয়েছে তাকে।
তবে নুবার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে নিজের সাজের জন্য নয়।তার কোলে বসে থাকা আয়রার জন্য।মা-মেয়ের পোশাক একেবারে একই রকম।
আয়রার গায়েও ছোট্ট হলুদ লেহেঙ্গা। মাথায় ছোট্ট ফুলের টিকলি, চুলে দুটো ছোট্ট ফুল। তার গোলগাল গালে হালকা লালচে আভা। চোখ দুটো বড় বড় করে সে কখনো আয়নার দিকে তাকাচ্ছে, কখনো মায়ের গলার হার ধরে টান দিচ্ছে।
এদিকে আয়রার কান্ড দেখে নুবা মেয়ের ছোট্ট হাতটা আলতো করে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে হেসে সুধালো,

_”আমার পুতুলটা আজ এত সুন্দর লাগছে কেন?”
আয়রা কিছুই বুঝল না। শুধু মায়ের দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসল।নুবার বুকটা কেমন খুশিতে নেচে উঠলো।এই ছোট্ট হাসিটা তার কাছে পৃথিবীর সবকিছুর চেয়েও মূল্যবান।
একটা সময় ছিল, যখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবলেই নুবার বুকের ভেতর অজানা একটা ভয় কাজ করত। এমন একটা সময়ে আরহাম এসেছিল তার জীবনে,খুশির ঝিলিক নিয়ে ছোট্ট আয়রা।আয়রার মাঝেই যেনো পুরো দুনিয়া খুঁজে পেয়েছিলো নুবা।আজ সেই আয়রা তার সন্তান, শুধু তার।
সবকিছু সহজ ছিল না। তাদের গল্পটা কোনো নিখুঁত গল্প ছিল না। ভুল বোঝাবুঝি ছিল, অভিমান ছিল, কান্না ছিল, এমন অনেক মুহূর্ত ছিল যখন নুবা ভেবেছে,হয়তো এই সম্পর্কটাকে আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না।কিন্তু প্রতিবারই কোনো না কোনোভাবে তারা ফিরে এসেছে একে অপরের কাছে।আয়রার পাপার কাছে ফিরে এসেছে সে বারবার,এতো কিছু পড়েও সে যুদ্ধে জয় করতে পেরেছে,আর আজ সেই জয়ের আনন্দ উপভোগ করতে আয়োজন করা হয়েছে।
আজ সেইসব দিনের দিকে তাকালে নুবার মনে হয়, মানুষ কখনো কখনো সুখের মূল্য বুঝতে কষ্টের ভেতর দিয়ে যায়।তার জীবনে আরাফ কিছুই ছিলো না,যা ছিলো সব আরহাম।
নুবা কথা গুলো ভেবে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে মুচকি হাসলো,পরপর সে আয়রার কপালে একটা চুমু দিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো

_”জানো, আজ তোমার আব্বুর সঙ্গে আমার গায়ে হলুদ।”
আয়রা মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আবার হাসল।
হয়তোবা কিছুই বুঝলো না সে,নুবা আয়রার বোকা বোকা মুখ দেখে হেসে বলল,
_“তুমি সব বুঝো , তাই না, আমার আরু বাবু, একটা পাকা বাবু?”
বলেই আয়রাকে সুরসুরি দিতে লাগলো।আয়রা এবার দাত কেলিয়ে মায়ের ওড়না টেনে ধরে ,মুখ দিয়ে উচ্চারণ করলো,
_“আয়!”
নুবা হেসে উঠল,আয়ারকে সাবধান করে বললো
_“একদম ওড়না নষ্ট করবে না আম্মু। তোমার মাম্মা কিন্তু অনেক কষ্ট করে সেজেছে।”
নুবা যখন আয়রার সাথে কথা বলতে ব্যস্ত ঠিক তখনই দরজার বাইরে থেকে কারও কণ্ঠ ভেসে এল।
_“নুবা? হয়েছে তোর?”
হাজেরার কন্ঠে নুবা আয়রাকে কোলে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
_“হ্যাঁ,আসছি।”
দরজার বাইরে থেকে আবার হাজেরা বলে উঠলো
_“তাহলে তাড়াতাড়ি আয়,নিচে সবাই অপেক্ষা করছে।”
_”আচ্ছা, তুমি যাও।”

হাজেরা চলে গেলো,নুবা আয়রাকে একটু শক্ত করে কোলে নিল। অতঃপর নিচে যাওয়ার জন্য হাঁটা দিলো,তখনি আয়রার ছোট্ট পায়ের নূপুরে টুংটাং শব্দ করে উঠলো,নুবা আয়ারকে নিয়ে বাইরে বেড় হতে হতে,আরহামের কথা মনে করলো,যে আরহাম তাদের দেখলে কেমন রিয়েক্ট করবে?ভেবেই নুবার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।
আরহাম তাদের জন্য নিচে অপেক্ষা করছে,আর এই কথাটা মনে হতেই নুবার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা লজ্জা ছড়িয়ে পড়ল।নিজের স্বামীর কথা মনে পড়লেও তার কেন যেন আজ নতুন করে লজ্জা লাগছে!
নুবা ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল।আয়রা তখন নুবার গলা জড়িয়ে ধরে আছে।সিঁড়ির প্রথম ধাপে পা রাখতেই নিচ থেকে ভেসে এল মানুষের হাসির শব্দ, কথা বলার শব্দ, আর দূরে কোথাও বাজতে থাকা গানের সুর।
নুবা একটু থামল।তারপর ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করল।এক ধাপ।দুই ধাপ।তিন ধাপ।
তার লেহেঙ্গার নিচের অংশ সিঁড়ির আলোয় দুলে উঠলো,নুবা বুক ভরে নিঃশ্বাস নিলো।
পরপর এগিয়ে যেতেই আয়রার ছোট্ট নূপুরের শব্দের সঙ্গে নুবার পায়ের নূপুরের শব্দ মিশে গেলো।নুবা আবারো থামলো,আর ঠিক তখনি,নিচে থাকা সবাই যেন একসঙ্গে চুপ হয়ে গেল।কেউ আর কথা বলল না।সবার চোখ উঠে গেল সিঁড়ির দিকে।সবার আগে নুবাকে দেখেই একজন অবাক হয়ে বলল,

_“ওয়াও!”
আরেকজন মুখে হাত দিয়ে বলল,
_“মাশাআল্লাহ!”
কেউ আবার মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল।কেউ গাল মন্দ করলো,এটাই স্বাভাবিক,ভালো আর খারাপ মানুষ তো মিলে মিশে থাকবেই,কিন্তু নুবা সেসব কিছুই খেয়াল করলো না। বরং তার চোখ শুধু খুঁজছিল একজনকে।আরহামকে।তার প্রান প্রিয় স্বামীকে,
এদিকে সিঁড়ির নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার চোখও ঠিক তখন তাদের ওপর বিদ্যমান,আরহাম আজ হলুদ পাঞ্জাবি পরেছে। গায়ে খুব সাধারণ, কিন্তু তাকে অসম্ভব মানিয়ে যাওয়া একটা পাঞ্জাবি। সে পাঞ্জাবি পড়ে না তবে আজ নুবার জন্য পড়েছে।চুলগুলো পরিপাটি করে আঁচড়ানো। মুখে সেই পরিচিত গম্ভীর ভাব, কিন্তু চোখ দুটো যেন নুবা আর আয়রার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ থেমে গেছে।আরহাম কয়েক মুহূর্ত কোনো কথাই বলতে পারল না।তার চোখের সামনে যেন কেবল নুবা আর আয়রা।তার পুরো দুনিয়া তার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।হলুদ লেহেঙ্গায় দাঁড়িয়ে থাকা নুবা।কোলের আয়রা।বাস এতো টুকুই খেয়াল করলো আরহাম।মা আর মেয়ে একই পোশাকে। ভীষণ মানিয়েছে।
দৃশ্যটা এতটাই সুন্দর যে আরহামের মনে হলো, সে যদি আজীবন এই একটা মুহূর্তের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে, তাহলেও তার আফসোস থাকবে না।
নুবা সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে আরহামের চোখের দিকে তাকাল।দুজনের চোখাচোখি হলো।নুবা সঙ্গে সঙ্গে চোখ নামিয়ে নিল।তার গাল লাল হয়ে উঠল।
আরহামের ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল।ঠিক তখনি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিহান বলে উঠলো,

_“ভাই, মুখটা একটু বন্ধ কর, এত অবাক হওয়ার কী আছে?”
আরহাম যেন হুঁশ ফিরে পেল।তবে রিহানের কথায় বিরক্ত হলো সে।মুখ কালো করে, হালকা কেশে বলল,
_“আমি অবাক হইনি।”
পাশ থেকে রিহান সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলো,
_“হ্যাঁ, আমরা সবাই অন্ধ।”
আরহাম রিহানের দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙালেও নিজের হাসিটা লুকাতে পারল না। আরহাম যে আজ প্রচন্ড খুশি,তবে দূর থেকে আরশি তাদের দিকে তাকিয়ে আছে, কারণ একটাই এই রিহান আবার না মার খায় আরহামের হাতে।এতো মার খেয়েও কেন যে আরহামের পিছনেই দাঁড়িয়ে আছে সে,সেটাই বুঝতে পারছে না আরশি।
নুবা শেষ সিঁড়িটায় পা রাখল।আয়রা তখন মায়ের কাঁধে মাথা রেখে চারপাশ দেখছে।আরহাম ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে এল।নুবার সামনে এসে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল সে,তারপর নিচু গলায় বললো,
_“তুমি…”
নুবা তাকাল,বেশ লজ্জা পেলো,মাথা নিচু করে আদুরে গলায় বললো
_“আমি?”
আরহাম কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে বলল,
_“আজকে আয়রার মাম্মাকে খুব সুন্দর লাগছে,মনে হচ্ছে মা মেয়ে স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে।তা আপনি হলুদ রঙ্গে এতো জ্বলজ্বল কেনো করেন বলুন তো,চোখ সরানো যে দায়।”
নুবা ঠোঁট চেপে হাসলো,আরহামের যে তার সাজ সজ্জা পছন্দ হয়েছে এটাই তো অনেক,নুবা মুচকি হেসে বিরবির করে বললো

_”হয়তোবা হলুদ রং শরীরে শোভা পাচ্ছে।”
আরহাম হেসে ফেলল, মৃদু কন্ঠে সুধালো
_”হয়তোবা,কিন্তু আজ একটু বেশিই।”
নুবা ঠোঁট কামড়ে হাসি আটকাল।সবার সামনে বেশ লজ্জা লাগছে তার তবু বলে উঠলো
_”বিয়ে তো তাই, আলাদাভাবে চকচক করছি।”
আরহাম অবশ্য নির্বিকার।সে ভাবেওনি আজ নুবাকে এতোটা সুন্দর লাগবে।নাকি তার চোখেই এতোটা সুন্দর লাগছে কে জানে? আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে, আয়রার দিকে হাত বাড়িয়ে বলল,
_“আমার রাজকন্যা, আব্বুর কাছে আসবে?”
আয়রা এতো সময় বাবার দিকে তাকিয়ে ছিলো,এবার সে বাবার দিকে তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে দিল।আরহাম সঙ্গে সঙ্গে তাকে কোলে তুলে নিল।আয়রা বাবার পাঞ্জাবির কলার ধরে ফেলল।আরহাম হেসে বলল,
_”আমার লক্ষ্মী মা, আপনাকে মাম্মার মতো সুন্দর লাগছে। পুতুল পুতুল লাগছে!তবে আজকে হয়তোবা আমাকে সুন্দর লাগছে না,আমি তো সাজলাম না আপনাদের মতো, ইস্ মিস করে গেলাম।”
আরহামের কথায় নুবা তার দিকে তাকিয়ে রইলো, পুরুষ মানুষ আবার সাজে নাকি?নুবা কিছু সময় চুপ থেকে ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো

_” আপনার আবার সাজা লাগে,আপনি তো এমনিতেই…”
নুবা থেমে গেল,মনেই ছিলো না আশে পাশে মানুষ দিয়ে ভরা।নুবা রাঙ্গা চোখে আশে পাশে তাকালো তখনি আরহাম ভ্রু কুঁচকে বললো,
_“এমনিতেই কী?”
নুবা কিছু না বলে চলে যেতে চাইতেই আরহাম হেসে বলল,
_“কথাটা শেষ করো।”
নুবা মৃদু গলায় বলল,
_“এমনিতেই ঠিকঠাক আছেন।”
_“ঠিকঠাক?”
_“হুম।”
_“শুধু ঠিকঠাক?”
নুবা এবার হেসে ফেলল, মিষ্টি কন্ঠে বললো,
_“অনুষ্ঠান শুরু হতে দিন। তখন বলব।”
আরহামও হেসে উঠল।তারপর সে একবার নুবার দিকে তাকিয়ে খুব নরম গলায় বলল,
_“তবে একটা কথা সত্যি।”
নুবা তাকাল।ভুরু কুঁচকে গেলো তার, আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_“আজ তোমাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখে আমার মনে হচ্ছে… আমার পৃথিবীটা খুব সুন্দর।”
কথাটা শুনে নুবার মুখের হাসিটা ধীরে ধীরে থেমে গেল।তার চোখে অদ্ভুত এক কোমলতা ফুটে উঠল।
এত মানুষের সামনে আরহাম এমন কথা বলায় নুবা আবারো লজ্জা পেলো।নুবা কিছু বলতে পারল না।
শুধু আয়রার মাথায় হাত রেখে দাঁড়িয়ে রইল,আরহাম নুবার চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারল, কথাটা তার হৃদয়ে গিয়ে লেগেছে।সে আর কিছু বলল না।
কারণ কিছু অনুভূতি শব্দ দিয়ে প্রকাশ করলে তার সৌন্দর্য কমে যায়।

কিছুক্ষণ পর বাড়ির বাগানে গায়ে হলুদের আয়োজন শুরু হলো।চারপাশে হলুদ আর গাঁদা ফুলের সাজ।
মাঝখানে সুন্দর করে সাজানো আসন।একপাশে আত্মীয়স্বজন, অন্যপাশে বন্ধুরা।কেউ ছবি তুলছে, কেউ ভিডিও করছে, কেউ আবার গান গাইতে শুরু করেছে।নুবা আর আয়রাকে পাশাপাশি বসানো হলো।আয়রা মায়ের কোলে বসে একবার সবার দিকে তাকাচ্ছে, আবার মায়ের গলার হার নিয়ে খেলছে।
নুবা বারবার তাকে সামলাচ্ছে।
_“আয়রা, এটা ধরবে না।”
আয়রা আবার হাত বাড়াচ্ছে।
_“না মা।”
মায়ের না শব্দ উচ্চারণ শুনে ছোট্ট মুখটা কেমন গম্ভীর করে ফেললো আয়ার,একদম ঠিক বাপের মতো,তা দেখে নুবা হেসে বলে উঠলো,
_“এতো দুষ্টু কেনো আপনি,পাপার মতো গাল না ফুলালে পেটের ভাত হজম হয় না,হুম?”
নুবার কথায় পাশ থেকে আরহাম বলে উঠলো

—”এখন এই দোষটাও আমার,না মানে তুমি এমন একটা দিনেও আমাকে নিয়ে টানাহেঁচড়া করবে?”
নুবা ভুরু কুঁচকে আরহামের দিকে তাকিয়ে সুধালো,
_“ওর দুষ্টুমি আপনার কাছ থেকেই এসেছে।তো‌ আমি কি করবো?”
_“প্রমাণ কি? তোমার সঙ্গে থেকে তোমার মতোই হয়েছে,i know!”
নুবা আরহামের কথায় মুখ বাকালো,পরপর বলে উঠলো
_”আপনি একটা ইতর তাই আপনার মেয়েও আপনার মতো হয়েছে।হুম!”
আরহাম ভ্রু তুলে তাকালো,নিজের দিকে আঙ্গুল তুলে বললো
_“আমি?”
_“হুম।”
_“ঠিক আছে, অনুষ্ঠান শেষ হোক।”
নুবা সঙ্গে সঙ্গে বুঝে গেল, কথাটা কোথায় যাচ্ছে।
নুবা কিছু সময় চুপ থেকে পরপর সে চোখ বড় করে বলল,

_“আপনি চুপ করুন। অসভ্য লোক,”
আরহাম হেসে ফেলল নুবার কথায়,চারপাশের মানুষ তাদের কথোপকথন দেখে তাকিয়ে রইলো,
তারপর অনুষ্ঠান শুরু হলো, সর্বপ্রথম আমিনা বেগম আর হাজের এসে হলুদ ছোয়ালো তাদের।দুই জন তাদের সন্তানদের হাত রেখে মন ভরে দোয়া করলো
।আয়রাকেও হালকা হলুদ ছুয়ানো হলো তবে আরহাম কিছু বলতে যেয়েও বলতে পারলো না।একে একে সবাই নুবা আর আরামের গালে হলুদ ছোঁয়াতে শুরু করল।কেউ কপালে, কেউ গালে, কেউ হাতে।

নুবা হাসতে হাসতে সবার সঙ্গে কথা বলছে।
কখনো আয়রাকে সামলাচ্ছে।কখনো মেয়ের লেহেঙ্গা ঠিক করে দিচ্ছে।আরহাম পাশে বসে সব দেখছে,
তার চোখে এক ধরনের শান্তি।সে যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে চাইছিল,এই দৃশ্যটা সত্যি।
এই নুবা তার।এই ছোট্ট মেয়েটা এখন মা পেয়েছে,তাও নুবার মতো।এই বাড়ি, এই মানুষগুলো, এই হাসি—সবকিছুর মাঝখানে তাদের একটা সংসার তৈরি হয়েছে।একটা অসম্পূর্ণ গল্প ধীরে ধীরে পূর্ণতার দিকে এগিয়েছে।আরহামের মনে হঠাৎ বহু পুরোনো দিনের কথা ভেসে উঠল।তখন নুবা ছিল শুধু নুবা।
আজ সে তার স্ত্রী।আয়রার মা।তার জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ।সময়ের সঙ্গে কতকিছু বদলে যায়!
মানুষও বদলে যায়।কিন্তু কিছু সম্পর্ক বদলে না গিয়ে বরং আরও গভীর হয়ে যায়।আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,

“প্রতিদিন তোমার আনন খানা দেখে যাতে আমার সকালটা শুরু হয় বউ!আমি কৃতজ্ঞ তোমার কাছে,
তুমি আর আয়রা,তোমাদের দুজনকে ছাড়া আমার পৃথিবী অসম্পূর্ণ।”
নুবা হঠাৎ আরহামের দিকে তাকালো,দুজনের চোখ আবার মিলল।আরহাম কিছু না বলে মৃদু হাসল।
নুবাও হাসল।এই ছোট্ট হাসির বিনিময়েই যেন তাদের অনেক কথা হয়ে গেল।নুবা এক গাল হেঁসে সবার আগোচরে নিজের গাল থেকে এক আঙ্গুল দিয়ে হলুদ নিয়ে আরহামের গালে ছুঁইয়ে দিলো। এদিকে মাথা উঁচু করে সবটা দেখলো আয়রা,আয়ারকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে তারো গালে হলুদ মেখে দিলো নুবা।আয়রা খিলখিল করে হেসে উঠলো,তার মায়ের কান্ডে।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে আয়রা বিরক্ত হয়ে মায়ের কোলে মাথা রেখে দিল।নুবা তার গালে হাত বুলিয়ে বলল,
_“ঘুম পাচ্ছে?”
আয়রা চোখ আধবোজা করে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরল।আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো।
_“দাও, আমি রাখছি।”
নুবা মেয়েকে তার হাতে দিল।আরহাম আয়রাকে কোলে নিয়ে ধীরে ধীরে দোলাতে লাগল।কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই আয়রা বাবার বুকের ওপর মাথা রেখে শান্ত হয়ে গেল।নুবা তাকিয়ে রইল।একটা পুরুষকে বাবা হিসেবে দেখার অনুভূতি যে এত সুন্দর হতে পারে, সেটা সে আগে জানত না।আরহাম মেয়েকে খুব যত্ন করে ধরে আছে।তার চোখে যে মায়া, সেটা দেখে নুবার বুকটা ভরে গেল।সে ধীরে ধীরে বলল,
_“ওকে খুব ভালোবাসেন, তাই না?”
আরহাম নুবার দিকে তাকাল। শান্ত কন্ঠে বললো,

_“কাকে?”
_“আয়রাকে।”
আরহাম মেয়ের কপালে চুমু দিয়ে বলল,
_“জানি না,ভালোবাসা কি হয়তোবা বুঝি না তবে তোমাদের ছাড়া এবার বাঁচা মুশকিল।”
নুবার চোখের কোণে অদ্ভুত এক আলো ফুটে উঠল।
সে কিছু বলল না।শুধু আরহামের দিকে তাকিয়ে থাকল।তারপর খুব আস্তে বলল,
_“আমিও।”
আরহাম যেন শুনতে চাইলেও আবার জিজ্ঞেস করল,
_“কী বললে?”
নুবা মুখ ঘুরিয়ে নিল।
_“কিছু না।”
_“আমি কিন্তু শুনেছি।”
_“তাহলে আবার জিজ্ঞেস করছেন কেন?”
আরহাম হেসে বলল,
_“তোমার মুখ থেকে আবার শুনতে ইচ্ছে করছে।”
নুবা লজ্জায় মাথা নিচু করে বললো,
_”এটাই যে আপনি আর আয়ার আমার পুরো দুনিয়া।”

ধীরে ধীরে অনুষ্ঠান আরও জমে উঠল।গান বদলাতে লাগল।হাসির শব্দ বাড়তে লাগল।তবে খুবি সবধানে অনুষ্ঠান করা হলো কারণ হারুন মির্জা চাইছেন যাতে কোনো সমস্যা না হয়।
এদিকে কেউ নাচছে, কেউ ছবি তুলছে।একসময় সবাই নুবা, আরহাম আর আয়রাকে একসঙ্গে দাঁড় করিয়ে ছবি তুলতে চাইলো।নুবা আয়রাকে কোলে নিল।আরহাম পাশে দাঁড়াল।ফটোগ্রাফার বলল,
_“একটু কাছাকাছি আসুন।”
আরহাম এক ধাপ এগিয়ে নুবার পাশে দাঁড়াল।
নুবা সামান্য অস্বস্তিতে দাঁড়িয়ে রইল।আয়রা তখন দুজনের মাঝখানে।ফটোগ্রাফার আবার বলল,
_“হাসুন!”
আয়রা ঠিক তখনই হাই তুলল।সবাই হেসে উঠল।
নুবাও হেসে ফেলল।আরহাম মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
_“ আমার বিড়াল ছানা ঘুমাচ্ছে,Don’t make noise. ”
কথা অনুযায়ী গান সহ সবকিছু বন্ধ করা হলো।তবে অনুষ্ঠান তো তাই সবাইকে চুপ করাতে পারলো না আরহাম।তবু বেশ শান্তি পূর্ণ ভাবে সবটা হতে লাগলো। আরহাম আজ সবার কথা শুনলো, শুধু নুবার মুখের দিকে তাকিয়ে,সবটা মাথা পেতে নিলো সে।
নুবা ছবি তুলতে তুলতে এক পলক আরাফ আর ইশিতার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।সেই হাসির অর্থ শুধু আরাফি বুঝলি।ভিতরে ভিতরে জ্বলে উঠলো সে।নুবা আরাফের থেকে চোখ সরিয়ে আরহামের দিকে ফিরে বললো,পরপর বেশ ছবি তুললো তারা,একটা ছবি,যেখানে নুবার কোলে আয়রা।আরহামের হাত আয়রার পিঠে।
নুবার চোখে শান্তি।আরহামের চোখে মায়া।
আর মাঝখানে ছোট্ট আয়রা।ছবিটা হয়তো সাধারণ ছিল।কিন্তু তাদের জন্য সেটাই ছিল একটা পুরো পৃথিবী।

রাতের অন্ধকারএকটু নরম হয়ে এলো।অনুষ্ঠানের ব্যস্ততা কিছুটা কমেছে।নুবা বাগানের একপাশে দাঁড়িয়ে আয়রাকে দেখছে।আয়রা তখন মাটিতে পাতা নরম গালিচার ওপর বসে খেলছে।আশে পাশে পরিবারের সবাই আছে। চিল্লাচিল্লিতে আয়রার ঘুম উড়ে গেছে।
আরহাম কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে কথা বলছে।
নুবা চুপচাপ তাদের দেখছিল।হঠাৎ তার মনে হলো,এতদিন সে সুখকে খুব বড় কোনো জিনিস ভেবেছিল।ভেবেছিল সুখ মানে হয়তো বিশাল কোনো স্বপ্ন পূরণ হওয়া।কিন্তু আজ বুঝতে পারছে,সুখ কখনো কখনো খুব ছোট।একটা শিশুর হাসি।
একজন মানুষের চোখে নিজের জন্য মায়া দেখা।
একসঙ্গে বসে থাকা।একই রঙের পোশাক পরা।
কেউ একজন দূর থেকে তাকিয়ে মৃদু হেসে ওঠা।
অথবা সন্ধ্যার শেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে নিজের মানুষটার পাশে বসে থাকা।এসবই তো সুখ।নুবা ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করল।তার মনে পড়ল তাদের প্রথম দিকের দিনগুলো।কত অস্থিরতা ছিল।কথাও হতো না আরহামের সাথে,প্রথম দেখায় যে থাপ্পর মেরেছিলো,সে এখন তার প্রান প্রিয় স্বামী,যাকে সে ভয় পেতো তবে আজ সে একটুও ভয় পায় না তাকে।
কত অভিমান।কত কান্না।কতবার মনে হয়েছে, সব শেষ।কিন্তু আজ সে যখন আরহামকে দেখে, তখন মনে হয়,যে সম্পর্কটা এত ঝড় পেরিয়েও টিকে থাকে, তার শিকড় হয়তো খুব গভীরে গিয়ে বসে।আর আয়রা সেই সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর সাক্ষী।
তার চোখ ভিজে উঠল।সে বুঝতে পারল না, কখন একটা চোখের পানি গড়িয়ে গালে এসে পড়েছে।
ঠিক তখনই আরহাম তার সামনে এসে দাঁড়াল।

_”কাঁদছ কেন?”
নুবা দ্রুত চোখ মুছে বলল,
_“কই? কাঁদছি না তো।”
আরহাম তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
_”আমাকে মিথ্যে বলতে পারবে না।”
নুবা কিছু বলল না।আরহাম খুব আস্তে তার হাত ধরল।
_”খুশিতে কাঁদছ?”
নুবা মুচকি হেসে মাথা নাড়ল,
_“হুম।”
আরহাম তার হাতটা একটু শক্ত করে ধরল।
_“তাহলে কাঁদো,আর এটা তো তুমি জানোই, তোমাকে কান্না করতে দেখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে।”
আরহামের কথায় নুবা চোখে পানি নিয়ে হাসলো,একটু আদুরে চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_”আপনিও না?”
আরহাম মৃদু হেসে বলল,
_“আজকের কান্না আটকানোর দরকার নেই।”
নুবার চোখ আবার ভিজে উঠল।সে ফিসফিস করে বলল,
_“আমি ভাবিনি আমাদের জীবনটা এমন হবে।”
আরহাম জিজ্ঞেস করে উঠলো,

_“খারাপ?”
নুবা মাথা নাড়ে সুধালো
_“না।”
তারপর আয়রার দিকে তাকিয়ে বলল,
_“অনেক সুন্দর।”
আরহামও মেয়ের দিকে তাকাল।
_“হ্যাঁ।”
কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ।তারপর আরহাম বলল,
_“তুমি জানো, আমার কাছে আজকের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য কোনটা?”
নুবা তাকাল।আরহামের বাহুতে মাথা রেখে মলিন কন্ঠে বললো
_“কোনটা?”
_“সিঁড়ি দিয়ে তোমাকে নামতে দেখা।”
নুবা একটু লজ্জা পেল।
আরহাম আবারো বললো

_“তুমি আর আয়রা একই পোশাকে ছিলে। তখন মনে হচ্ছিল,আমি বুঝি পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ। তোমার মতো একজন স্ত্রী আমি কোনো কালেই ডিজার্ভ করিনি তবে ভাগ্য আমার খুবি ভালো ছিলো।”
নুবা হেসে ফেললো আরহামের কথায়,তার বাহুতে ঠোঁট চেপে বললো
_“এত সুন্দর সুন্দর কথা কোথা থেকে শিখেছেন?”
_”তোমার কাছ থেকে।”
_“আমি তো এসব বলি না।”
_“তুমি না বললেও তোমার চোখ বলে।”
নুবা আর কিছু বলতে পারল না।আজ আরহাম একটু বেশি কথা বলছে,সাথে কেমন প্রেমিকের মতো আলাপ করছে, ভীষণ ভালো লাগছে নুবার, এমোনি তো একজন স্বামী চাইতো সে।
আরহাম কিছু সময় চুপ থেকে আশে পাশে কোলাহল দেখে ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,এখন চিল্লাচিল্লি এতোটা খারাপ লাগে না তার কাছে।এই নুবা আসার পর থেকে আরহাম পাল্টে গেছে। আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সুধালো,
_”খুশি তো?”
নুবা এক পলক মাথা তুলে আরহামের দিকে তাকালো,পরপর আদুরে গলায় বললো

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২২

_”অনেক , অনেক বেশি। শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান করলে আপনি।তবে আমি কালকের জন্য বেশি excited, কালকে আমি আবারো আপনার হয়ে যাবো,আয়রার মাম্মা হবো, আপনার বউ হবো। আপনার লাল টুকটুকে বউ।”
আরহাম মুচকি হাসলো, কাউকে পরোয়া না করে নুবার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো,দূরে দাঁড়িয়ে থাকা হাজেরা সবটা দেখে চোখের পানি ফেলে হাসলো।তার মেয়ে, হ্যাঁ তারি মেয়ে,আজ অনেক সুখে আছে।হাজেরা মন ভরে দুইজনের জন্য দোয়া করলো। এদিকে আশে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আত্মীয় স্বজন সহ আরশি,ইশিতা,সবাই তাদের এরকম মূহুর্ত দেখে মুচকি হাসলো।

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here