নীরব উন্মাদনা পর্ব ১৭
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_ মানে সত্যি কিছু করছে,,
আরশি এক রাশ বিরক্তি নিয়ে বললো
_ ছি ছি তোমার mind এ কি সব ঘুরে বলো তো,,
আরশি চলে যেতে লাগলে মেহেরিমা আরশিকে টেনে ধরে বললো
_ আরে বলে যা না,,চাচি ওই মেয়েটার একটু বেশিই খেয়াল রাখে,,
_ কারণ নুবা আয়রার জন্য অনেক জরুরী তাই,,,
বলেই আরশি চলে গেলো,,,
নুবা মুখে ফেস প্যাক মাখতে মাখতে ভাবলো
_ জরুরি,,জানতেই হবে এই জরুরি ব্যপারটা কি,,,,,
তখন রাত প্রায় ১১ টা নাগাত,,,নুবা আয়ারাকে কোলের ভিতর নিয়ে বসে আছে,, এদিকে আয়রা নুবার বুকে ইচ্ছে মতো জেদ প্রশন করছে কারণ সে গত ১০/২০ মিনিট ধরে টেনেও কিছুই পাচ্ছে না,,এতো কষ্ট কররা পড়েও ফল সে শূন্যই পাচ্ছে,,
নুবা আয়রার গাল ছুঁয়ে বিরবির করে বললো
_ কোনো দিনও ভেবেছেন এই সামান্য আমিটা মালিকের সন্তান কে বুকের সাথে আগলিয়ে রাখবে,,, আপনাকে নিয়ে এতো জ্বালা সহ্য করবে,,
আয়রা হয়তোবা খাওয়ার ভিতরে নুবার ছুয়ায় বিরক্ত হলো,,মুখ দিয়ে চকচক শব্দ বেড় করলো,,,
নুবা মুচকি হাসলো,,,আয়রাকে শক্ত করে বুকের সাথে জরিয়ে নিলো,,,তার হাতে পায়ে শতশত চুমু খেএ বললো
_ দেখেন ম্যাডাম আয়রা মামুনি,, আপনার জন্য আমি বিয়ে না করে,,বেবি জন্ম না দিয়েই মা হওয়ায় অনুভূতি নিচ্ছে,,কেন জানি মনে হচ্ছে আপনি আমারি তবে সত্যি বলতে আপনার সাথে আমার কোনো সম্পর্কই নেই,,
পরপরই আয়রার কানের কাছে যেএ ফিসফিস করে বললো
_ আপনি অনেক অনেক দোয়া করবেন এই আন্টির জন্য,,সে যাতে আপনার মতো সুন্দর একটা বাবু পায়,, আপনার মতো নাদুসনুদুস বাচ্চা আমার কাছে মিষ্টির ডিব্বা লাগে,,, একদম খপ করে খেএ ফেলতে ইচ্ছে করে,,,
নুবা নিজের কথা নিজে শুনেই হাসতে লাগলো,, অতঃপর মিটমিট করে হেসে বললো
_ আপনাকে বুকের আদলে নিয়ে uncomfortable করা আমিটাকেও এখন আপনাকেই বুকের সাথে লেপ্টে ধরে রাখতে হচ্ছে,,, হয়তোবা সেদিন আপনার স্বভাবকে নাকছিটকেছিলা আল্লাহর পছন্দ হয়নি,,তাই শাস্তি হিসাবে আমাকেই এই সব করতে হচ্ছে,,,না হলে কি দরকার ছিলো আমার রাজি হয়ে যাওয়ার যেখানে আমি না করে ফেলেছিলাম
,হুম,,,বলেন নাক বুচি,, অবশ্য আপনার নাকটা বাপের মতো সরু আর খাঁড়া,,
নুবা কথা বলতে বলতে আয়রাকে নিজের থেকে সরানোর চেষ্টা করলো তবে দুষ্টু আয়রা আবারো নুবার বক্ষ স্থল মুখে ভরে টানতে শুরু করলো
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আপনাকে আমি মা বলে ডাকবো,,রাগ করবেন না তো,,আসলে আমার সেই যোগ্যতা নেই আপনাকে মা বলার তবু বলবো ওকে,, don’t mind,,,রাগ করবেন না আপনার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই আয়রা,,আমি জানি না এই কাজ টুকু কত টুকু জায়েজ,,,তবে আমার মনে হয় না আপনার মতো নিষ্পাপ বাচ্চার পেট ভরে আমি কোনো পাপ করছি,,তবে আমার নিজেরি লজ্জা হয় সম্পর্ক বিহীন আসলেই কি এটা বাস্তব,,,তবে আমি চেষ্টা করবো স্বাভাবিক নিতে,, কারণ আমি জানি এটা পাপ না,,
নুবার আর আয়রার এরকম সুন্দর মূহুর্তে বাধা হতে মেহেরিমা চলে আসলো,,এসেই সে অদ্ভুত চোখে নুবার দিকে তাকালো,,,রুমে কেউ এসেছে বুজতে পেরে নুবা পাতলা ওরনা নিয়ে আয়রা আর নিজেকে ডেকে নিলো,,,
মেহেরিমা দরজা চাপিয়ে দিলো নুবার দিকে চেয়ে থাকতে থাতকে তার দিকে এগিয়ে আসলো,,নুবা কিছুটা বিব্রত অনুভব করলো মিনমিন করে বললো
_ কোনো সমস্যা আপু,,আপনি এখানে যে,,
মেহেরিমা হেসে বললো
_ এই তুমি সেই মেয়েটা না যার বাবা মারা যাওয়ার পর তার বউ আর মেয়েকে এই বাড়িতে রেখেছিলো আশ্রয়ীতা হিসাবে,,,(লাস্ট দুই টা শব্দ মেহেরিমা টেনে বললো)
নুবা ঠোঁট প্রসারিত করে বললো
_ হ্যাঁ,, ঠিক ধরেছেন আপু,,
মেহেরিমা বিছানায় বসলো কিছু টা অহংকার নিয়ে বললো
_ তোমাদের লজ্জা করে না,,না মানে আমার চাচার টাকায় খাও থাকো তার টাকায় নাকি কয়দিন পড়ে কলেজো পাস করবে,,নিজের কি কাজ করে খেতে ইচ্ছে করে না,,বিবেকে বাধে না এখানে থাকতে,, তোমার মা রো কি কোনো বিবেগ নেই নাকি,,,
নুবা উত্তর দিলো না শুধু মাথা নিচু করে রইলো,, মেহেরিমার কথায় তার প্রচন্ড খারাপ লাগলো,,,নুবা আয়রাকে আরো আঁকড়ে ধরলো,, পরপরই চোখ দিয়ে দু ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো
পৃথিবীতে কথার আঘাতের চেয়ে কঠিন আঘাত আর নেই,,,
মেহেরিমা আসে পাশে তাকিয়ে বললো
_ তা চাচু তো দেখি তোমাদের সবকিছুই গুছিয়ে দিয়েছে বাআ,,,তুমিও বেশ পরিপাটি,,আগে আসলে দেখতাম ছেরা জামা পড়ে এখানে ওখানে ঘুরছো,, এগুলো সব চাচু দিয়েছে না,, একদম আরশির মতো ড্রেস জুতা পড়ে ঘুরো, হুম,, এগুলো কি কিনে দিয়েছে নাকি আরশির দিয়েছে তোমাকে, নাকি চুরি করেছো,,,
নুবার টনক নড়লো,,মিনমিন করে বললো
_ চুরি করিনি আপু,,আরশি আপু এক ড্রেস ২/৩ বারের বেশি পড়ে না তাই আমাকে দিয়ে দেয়,,,
_ oh,,, use ড্রেস পড়ো অবশ্য তোমাদের যোগ্যতা এতটুকুই,,কোনো self-respect নেই নাকি,,এখন তো বড় হয়েছো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারো না,,,এখানে পড়ে আছো কেন,,, অবশ্য ফ্রি ফ্রি পেলে কারি বা কাজ করতে ইচ্ছে হয়,,চাচু কামায় আর তোমরা বসে বসে খাও,,
নুবা একটাও উত্তর দিলো না,, মানুষ এতোটা কষ্ট দিয়ে কথা কি করে বলতে পারে তার জানা নেই,,,
মেহেরিমা কথা শেষ করে আয়রার দিকে তাকালো তাচ্ছিল্য করে বললো
_ শুনলাম নিজের উদারতা দেখিয়ে আয়ারার জন্য দুধ মা হয়েছো,, সত্যিই কি উদারতার নাকি আরহাম ভাই এর বউ হওয়ার স্বপ্ন দেখছো যেহেতু আরহাম ভাই সাথে করে বউ নিয়ে আসেনি এই সুযোগে বাজি মরতে চাইছো,,হুম,, কি সুন্দর পরিপাটি হয়ে বসে থাকো,,চাচি তোমার কতো খেলায় রাখে ব্যপার কি,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে কাতর কন্ঠে বললো
_ এতো নিচু মানসিকতার আমার না,,
_ তাই নাকি,,,আসলে সত্যি বলতে কি আমার চাচির মাথায় জ্ঞান নেই ,,কোন খান থেকে উঠে আসা কোন মেয়েকে দিয়ে নিজ নাতনিকে ফিড করাচ্ছে,,জাত ধর্ম বলতেও একটা কথা আছে,,,তাই না,,,
নুবা ফুঁপিয়ে উঠলো,,,মেহেরিমা তাকে এভাবে কথা শুনানোর কে,,তবে সে কিছুই বলতে পারলো না শুধু বিরবির করে বললো
_ আমি তো আর জোর করিনি তাদের,,তারা যদি আমার জাত না দেখে তবে আমি কি করবো,,
মেহেরিমা ভুরু কুঁচকে বললো
_ বেশ অভদ্র তো তুমি মুখে মুখে তর্ক করো,,বয়স কতো তোমার,, জানো আমার বয়সত কতো,, হ্যাঁ,,
_ জী না,,,দেখে তো বুড়ি মনে হয় না,,,
মেহেরিমা রেগে গেলো কত বড় বড় indirectly তাকে বুড়ি বললো,,মেহেরিমা খপ করে আয়রাকে নিজের কোলে নিয়ে নিলো,, হঠাৎ এমন হয়যায় নুবা বুকে টান খেলো মুখ দিয়ে হালকা ব্যাথাতুর শব্দ ভেসে আসলো,,
মেহেরিমা আয়রাকে কোলে নিয়ে বললো
_ ধরবে না ওকে,,,পরে দেখা গেলো তোমার মতো কুৎসিত হয়ে গেলো,,
নুবা ফট করে চোখ তুলে মেহেরিমার দিকে তাকালো,,,এর মধ্যে আয়রা যখন অনুভব করলো তার মুখের জিনিস তার কাছে নেই তখনি চোখ মুখ খিচে কান্না শুরু করলো,,,
হঠাৎ আয়রার কান্নায় মেহেরিমা ভরকে গেলো,,,আয়রাকে একটু ধকম দিয়ে বললো
_ কান্না করছো কেন বেয়াদব চুপ,,
নুবা আয়ার কান্না কারন বুঝতে পেরে বললো
_ আপু ওকে আমার কাছে দেও না হলে কান্না করতেই থাকবে
মেহেরি ত্যাছিল্য করে বললো
_ o ho ওর মা সাজার চেষ্টা করছো,,কি বুদ্ধি মেয়েকে দিয়ে পুরো পরিবারকে বস করে বাড়ির বউ হবে কি সখ,,
নুবা এবার বেশ রেগে যেএ বললো
_ ফালতু কথা কম বলবেন,,ওকে দিন,,
নুবা হাত বাড়িয়ে দিলো তবে মেহেরিমা সরে গেলো,, অতঃপর আয়রা ধমক দিলো যাতে চুপ হয়ে যায়,,ধমক শুনে আয়রা আরো কেঁদে উঠলো,,,মেহেরিমা আয়রার গাল চেপে ধরে বললো,,
_ এই চুপ,,মনে তো হচ্ছে মায়ের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে এতো কিসের ঢং,, বাচ্চারা নাকি বুঝে কোনটা কে তুই বুঝিস না,, নাদুসনুদুস দেখতেই শুরু মাথায় জ্ঞান নেই,,,
বলেই মেহেরিমা আয়রার গালে দুটো ঠুয়া দিলো,,,চড় মারলো,,
নুবা চমকে উঠে বললো
_মারছেন কেন আপনি,ভয় ব্যথা পাবে তো,,
মেহেরি নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ তুমি একদম চুপ থাকো,,,ঢং তো এমন করছো যেনো তোমার পেটেরতা,,,
নুবা কিছু বলার আগেই খট করে রুমের দরজা খুলে দিলো,, হন্তদন্ত হয়ে রুমে প্রবেশ করলো আরহাম,, অনেক সময় মেয়েকে না দেখায় তাকে নিতে এসেছিলো তবে রুমের ভিতরে থেকে এরকম মেয়ের কান্না আর মেহেরিমার গলা শুনে ছুটে এসেছে,,
হঠাৎ করে মেহেরিমা আরহামকে দেখে কিছুটা ভয় পেলো,,,আরহাম এগিয়ে এসে কান্নারত আয়ারাকে কোলে তুলে নিলো,,মেহেরিমা শুকনো ঢোক গিললো,,, পরপরই মেয়ের গালে লাল দাগ দেখে বুঝতে বাকি রইলো না কে করেছে,,,
আরহাম অগ্নি দৃষ্টিতে মেহেরিমার দিকে তাকালো,,মেহেরিমা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ আ,,আমি __
একটি বাক্য শেষ হওয়ার আগেই আরহাম মেহেরিমার গাল ফাটিয়ে দিলো সাথে সাথে মেহেরিমা ফ্লোলে যেএ পড়লো,,আরহাম হুংকার দিয়ে বললো
_ তোর সাহস কি করে হয় আমার মেয়ের সাথে এমন ব্যবহার করার,তোকে তো ___
নুবা সাথে সাথে চোখ মুখ খিচে শুকনো ঢোক গিললো এই থাপ্পর সে দুই বার খেয়েছে তার জানা আছে এটার স্বাদ কেমন,,,
আয়রা কান্না কান্না করতে বাবার বুক হাতরালো,,আরহাম বুঝতে পারলো তার মেয়ে কি চাইছে,,সে আয়রাকে নিয়ে নুবার দিকে এগিয়ে গেলো,,,নুবা মার খাওয়ার ভয়ে চটপট হাতের সাহায্যে বিছানায় পিছিয়ে যেএ বিরবির করে বললো
_ মা। মা,মারবেন না,, কিছু করিনি আমি __
তবে আরহাম কিছু্ই বললো না আয়ারকে আলতো করে নুবার কোলে রেখে দিলো,,,
পরপরই মেহেরিমার দিকে লাল বর্ন চোখ নিয়ে তাকালো,,তবে আয়ারার কান্না এখনো থামেনি বলে আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ ওর কান্না থামাও,,,
নুবা নিষ্পাপের মতো মাথা ঝুকালো তাড়াতাড়ি ওরনা দিয়ে ডেকে আয়রাকে ফিড করাতে লাগলো,, দুষ্টু আয়রা আবারো চকচক শব্দ তুলে খেতে লাগলো,,তবে বরাবরের মতো কিছুই পেলো না,,, শুধু টেনেই গেলো,,,
আরহাম শার্টের হাতা গুটিয়ে মেহেরিমার দিকে এগিয়ে গেলো,,,মেহেরিমা ভয়ে ছিটিয়ে যেএ বললো
_ ভা,,ভাইয়া,,, sorry,,আর হবে না,,
আরহাম যেএ দরজা লক করে নিলো নুবা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলো,,,আরাহাম আশে পাশে কিছু খুঁজতে লাগলো অতঃপর দেখলো রুমের এক কোনায় প্লাস্টিকের ঝাড়ু রাখা,,আরাহাম সেটা হাতে তুলে মাপতে লাগলো,,,নুবা হতভম্ব হয়ে বললো
_আ,,,আপনি এটা দিয়ে কি করবেন,,,
আরাহাম নুবার দিকে তাকিয়ে এক আঙ্গুল মুখে ঠেকিয়ে hsss শব্দ করলো যার অর্থ চুপ থাকো,,
নুবা শুকনো ঢোক গিললো,,,মেহেরিমা ফর্সা মুখ ভয়ে লাল হলো,,,বিরবির করে বললো
_ ভাইয়া please,,আর হবে না
আরহাম পাশের চেয়ারের উপর থেকে একটা ওরনা আর জামা তুলে নিয়ে এগিয়ে আসলো,,, এসে হাঁটু গেঁড়ে মেহেরিমার পাশে বসলো,, মেহেরিমা হতভম্ব হয়ে বললো
_ ss,,, sorry,, বল্লাম তো,,
আরহাম হঠাৎ করেই ওরনা দিয়ে মেহেরিমার মুখ বেঁধে দিলো,,মেহেরিমা কি করবে বুঝে উঠার আগেই তার দুই হাত পিছন দিকে করে বেঁধে দিতে দিতে শান্ত কন্ঠে বললো
_ আমার কাছে ভুলের ক্ষমা নেই,,, শাস্তি এমন হবে যাতে দ্বিতীয় বার তা করার ভুল না করে,,তোকে আমি তখন বলেছিলাম আমার মেয়েকে ছুবি না তাও তুই সেই দুঃসাহস দেখালি,, এমন কি আমার কলিজার টুকরাকে ধমকও দিয়েছিস sorry sis,,I don’t forgive anyone.
নুবার এই দৃশ্য দেখে সেদিনের কথা মনে পড়ে গেলো,,আরাফো ঠিক এমন করেছিলো,,কোনো না কোনো দিক দিয়ে এদের ভিতরে মিল আছে,,
আরহাম এক পলক মেহেরিমার সুন্দর মুখ পান চেয়ে বললো
_ I don’t like shouting, so be quiet.
বলেই আরহাম দিক পাঁচ না চেয়ে সেই ঝাড়ু দিয়ে মেহেরিমাকে ইচ্ছে মতো পিটালো,,মুখে ওরনা আর হাতে কাপড় বেঁধে থাকায় মেহেরিমা আর্তনাদ করে কাঁদতে পারলো না,,
যন্ত্রণায় মহেরিমার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়লো,,, ফর্সা শরীর ফেটে প্রতেকটা দাগ গাড়ো ভাবে ভাসতে লাগলো,,
পরপরই মারার এক পর্যায়ে হাত থেকে ঝাড়ু ফেলে দিলো আরাহাম,,হাটু গেড়ে বসে মেহরিমার ঘনো রেসমি চুল গুলো শক্ত হাতে টেনে ধরলো,,মেহেরিমা ভাইয়ের পানে কাতর চোখে চাইলো,,,
আরহাম চুলের মুঠি ধরে দেওয়ালে দুটো ডুয়া দিলো,,মেহেরিমার কপাল ফুলে উঠলো,,আরহাম রাগে গর্জে উঠে বললো
_ f**** b****** তুই আমার মেয়ের দিকে গড়ম চোখে চাস,, আমার মেয়ের দিকে,, হ্যাঁ,, তুই জানিস না ওর বাপ কে,,তোর সাহস হয় কি করে ,,
মেহেরিমা মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো আর করবে না,,চোখ দিয়ে বুঝাতে লাগলো সে আর করবে না,,তবে উপায় হলো না
এদিকে এরপর একটা পরিস্থিতি দেখে নুবার শরীর সিরসির করছে,তার মনে হচ্ছে মেহেরিমার মার গুলো তার পিঠে পড়ছে,,
নুবার পুরো শরীর কাঁপছে,,মেহেরিমার এই অবস্থা দেখে সে নিজেকে ওই জায়গায় কল্পনা কে চম্কে উঠলো,,
আরহাম যখন আবারো মেহেরিমাকে আঘাত করতে যাবে তার আগেই নুবা চেঁচিয়ে উঠলো,, কম্পিত কন্ঠে বললো
_ কি,,কি করছেন,,মে,,মেরে ফেলবেন নাকি,,,
নুবার ভীতু মুখের দিকে আরহাম এক পলক তাকিয়ে আবারো তাকে চুপ করতে বললো,,নুবা বেশ ভয় পেয়ে চুপ হয়ে গেলো,,
আরহাম এবার মেহেরিমার মুখে অর্থাৎ গালে আঘাত করলো,
কোনো মতে থামছিলোই না সে ,মেহেরিমা ফর্সা মুখ লালা নীল বর্ন ধারন করলো,,নুবা আর এই সব সহ্য করতে পারলো না,এই লোকটা মেহেরিমাকে মেরেই ফেলবে,,,,নুবা আয়রাকে নিয়ে কম্পতি শরীরে উঠে দাঁড়ালো,,, দূরুত পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো,,মুখ দিয়ে বেড় হয়ে আসলো
_ চা,,চাচি,,চা,,চাচি,,,
তবে দরজা পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই আরাহাম নুবার হাতের কব্জি ধরে ফেললো,,,নুবা ভয়ে জমে গেলো,,, চম্কে উঠলো সে,,,পুরো শরীর থরথর করে কাঁপতে লাগলো,,,
আরহাম কেমন অদ্ভুত কন্ঠে বললো
_ হাতের কব্জি কাটতে চাস,,,
নুবার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠলো আরাহাম চোখের ইশারায় নুবাকে সরে যেতে বললো
কাজো হলো নুবা আস্তে আস্তে পিছিয়ে আবারো বিছানার পাশে এসে দাঁড়ালো,,
আরহাম ইচ্ছে মতো মেহেরিমার গালে নাক মুখে আঘাত করলো,,মেহেরিমা ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলো,,নুবা ভয়ে কাঁদতে শুরু করলো যাতে আওয়াজ না হয় তাই এক হাত দিয়ে মুখ অন্য তার দিয়ে আয়ারকে নিজের সাথে আগলে নিলো,,
আরহাম শেষ পর্যন্ত satisfied হয়ে গেলো তার রাগ কমলো পরপরই শেষ বারের মতো মেহেরিমা গালে আঘাত করে চুলের মুঠি ধরে বললো
_ জানে মেরে ফেলবো আর কোনো দিন আমার মেয়ের দিকে নজর দিলে,,,এবারের মতো এতটুকুই আশা করি বুঝেছিস,না হলে দ্বিতীয় বার মর্গে থাকবি,,
বলেই আরহাম মেহেরিমার মুখ আর হাত খুলে দিলো,,মেহেরিমা এতোটাই ভয় পেয়েছে যে সে কান্না করা ভুলে গেলো,,,সে শুধু বড় বড় চোখ করে আরহামের দিকে তাকিয়ে রইলো,,,
আরহাম ঘেমে যাওয়া হাত ফ্লোরে পড়ে থাকা ওরনায় মুছলো,,,
মেহেরিমা ওখানেই লুটিয়ে পড়লো,,,নুবা মেহেরিমার অবস্থা দেখে নিজেও প্রচন্ড ভয় পেলো,,
আরহাম শান্ত হয়ে নুবার কাছে এগিয়ে আসলো,,ভাবলো এবার হয়তোবা তার পালা,নুবা পিছিয়ে গেলো কাঁপতে কাঁপাতে কাতর কন্ঠে বললো,,
_আ,,আমি কিছু করিনি,, please কব্জি কাটবেন না,, আমার খুব কষ্ট হবে,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে নিলো বিরক্তি নিয়ে বললো
_ what,,ওকে দেও,,ওর ক্ষুধা লেগেছে, খাওয়ানোর পর নিয়ে আসবে ঘুম পাড়িয়ে আম্মুর কাছে দিবে,, mind it,,
নুবা অবুঝের মতো মাথা ঝুকালো,,আরহাম মেয়েকে নিয়ে চলে গেলো,,,নুবা ঠাস করে ওখানেই বসে পড়লো,,,ভয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো,, আরহাম এমন ভাবে চলে গেলো জেনো এই মাত্র এখানে কিছুই হলো না,,নুবা আন্দাজ করতে পারলো আরহাম তার আদরের দুলারিকে কতটা ভালোবাসে,,
বাড়িতে চিল্লাচিল্লি পড়েছে এদিকে তখন মেহেলিমার মার দেখে নুবার ভয়ে জ্বর চলে এসেছে সেই থেকে সে বিছানায় পড়ে আছে,,, অবশ্য সে পুরাই sure হয়ে গেছে আরাহাম আস্ত একটা সাইকো,,,
মারিয়া চেঁচিয়ে বললো
_ এটা কোনো কাজ ভাবি,,মেয়েটাকে অমানুষের মতো মেরেছে,,,
আরহাম মারিয়া বেগমের দিকে ক্ষিপ্ত চোখে তাকিয়ে বললো
_Don’t scream, I don’t like it. (গলা কমাও এটা আমার পছন্দ না)
আমিনা বেগম ছেলের রাগ বুঝতে পেরে বললো
_ একটু চুপ করে বস আমি দেখছি,,
_কি দেখবে তুমি,,,কি করেছে আমার মেয়েটার,,,এটা কি মানুষ জন্ম দিয়েছো,, মেহমান করে এনেছো এই কারনে,,ওর বাপ যদি জানে মেয়েটাকে এভাবে মেরেছে তবে তোমার ছেলেকে কি করবে ভাবতে পারছো,,মেয়েটার আমার শরীরের সব জায়গায় লাম্বা লাম্বা লাল দাগ পড়ে আছে,,চেহারায় আঘাত করেছে কি একটা অবস্থা,,
লিভিং রুমে বসে আছে,,আমিনা বেগম আরাফ, আরশি,,,মেহেরিমা,,মারিয়া আর হাজেরা,তানিয়া রান্না ঘড়ে,,,
হারুন মির্জা এখনো ফিরেনি সে যদি জানতে পারে আজ আরাহামকে নিশ্চয় মেরে ফেলবে,,,
আমিনা বেগম ছেলের কাছে এগিয়ে যেএ দুঃখে কষ্টে কান্না করতে করতে বললো
_ কি করেছিস এই গুলা,,কেন করলি,, তুই কি শান্তি মতো আমাকে বাঁচতে দিবি না,,কি দরকার ছিলো,, অমানুষ হয়েছিস এই জো,,,নো***** কথা বলছিস না কেন,,,
এদিকে আরহাম কিছুই বলছে না মোবাইলে video scroll করছে,,,,তার মাই এমন একজন যে কিছু বললে আরহাম তেতে উঠৈ না,,
মারিয়া মির্জা কান্না করতে করতে বললো
_ দেখছেন,,কিভাবে উপেক্ষা করছে,,ভাবি আমি বুঝেছি আপনি কিছু করতে পারবেন না,আমি মেহেরিমার বাপকে কল দিচ্ছি,,,
আরহাম ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বললো
_ তোর জামাই আমার বাল ফালাবে এসে,, ডাক ওই শালাকে,,
আমিনা বেগম ঠাস করে ছেলের গালে থাপ্পড় বসালো,, পরপরই আরো ৩/৪ বার আঘাত করে বললো
_ এখনি এই বাড়ি থেকে বেড় হয়ে যা,,তোকে ডেকে আমি ভুল করেছি,,এখনি বেড় হ,
আরহাম মায়ের কথায় উঠে দাঁড়ালো,,আমিনা বেগমের বুক চিবি দিয়ে উঠলো,, সত্যিই কি চলে যাবে নাকি,,,আমিনা বেগম হু হু করে কেঁদে উঠলো,,
আরহাম আরশির কোল থেকে ঘুমন্ত আয়ারকে কোলে তুলে নিলো,,,আরশি অবাক হয়ে বললো
_ তু,, তুমি কি সত্যিই চলে যাবে
আরহাম কথা বললো না মেয়েকে নিয়ে নুবাদের রুমের দিকে এগিয়ে গেলো,,,
আমিনা বেগম চেঁচিয়ে বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ১৬
_ ওখানে যাচ্ছিস কেন,,এই অমানুষ,, এখনি বাড়ি থেকে বেড় হ,,,
পরপরই কিছু সেকেন্ড এর ভিতরে নুবার ভীতু কন্ঠ ভেসে আসলো,,নুবা চেঁচিয়ে বললো
_ এই কি করছেন আপনি,,,
নুবার চিৎকার শুনে সবাই এগিয়ে আসলো,,,
