নীরব উন্মাদনা পর্ব ১৯
সুরাইয়া জিয়াসমিন
আরহাম নুবার হালকা লালচে ফর্সা গলায় মুখ ডুবালো,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,, কিছু বুঝে উঠার আগেই আরহাম তার সরু দাঁত নুবার গলায় বসিয়ে দিলো,,নুবার প্রান ভমরা শরীর থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,এতোটাই জোরে কামড় দিলো নুবা আর্তনাদ করে উঠলো,,,,এক হাত দিয়ে আরহামের বুকে ধাক্কা দিয়ে ভীত কন্ঠে বললো,,,
_ কি করছেন আপনি সুরুন,,,সরুন বলছি,,,চাচি চাচি,,,চাচি,,,,,
তবে বাইরে কেচকেচে কেউ নুবরা গলার শব্দ শুনলো না,,আরহাম আরো চেপে ধরলো তার দাঁত,,,আরহামের দুই পাশের সরু দুটো দাত গেঁথে গেলো নুবার গলায়,,নুবা ভয় পেয়ে হুঁ হুঁ কেঁদে উঠলো,,,
নুবার কিছু সময়ের জন্য মনে হলো আরাফের হাতে না আজ আরহামের হাতেই তার শেষ যা বেঁচে আছে তাও চলে যাবে,,,
নুবা কান্না করতে করতে বললো
_ ছাড়ুন,,,কি করছেন আপনি,,,
সেকেন্ড খানিকের ভিতরে আরহাম নুবাকে ছেড়ে দিলো,,,নুবা উঠে সাথে সাথে গলায় হাত চেপে ধরলো,,তার গলা জলে যাচ্ছে,,,
নুবা রেগে কিছু বলতেই যাবে তার আগেই আরহাম বলে উঠলো,,
_ কাল আমার পিঠে কামড়েছিলে,, বরাবরই তোমার ভাগ্য ভালো তাই কামড়ের বদলে কামড়ি পেলে,, কিন্তু তোমার জায়গায় অন্য কেউ হলে এতো সময় ওর পিঠের ঠিক ওই জায়গারি মাংশ তুলে ওকেই খাওয়াতাম,,,, next time আমাকে হিট করার আগে ভেবে নিবা যা তুমি করছো তার থেকে ২০ গুন বেশি ফিতর পাবে,,আমি কিন্তু ভালো না মিস নুবাইরা রহমান,,,
বলেই আরহাম হাঁটার গটগট শব্দ তুলে চলে গেলো,,,
নুবা আয়ারকে নিয়ে ওভাবেই পড়ে রইলো,,এইদিকে দুষ্টু আয়রা নুবার বু,কের নরম অংশে তার ফোকলা মারি বসানোর চেষ্টা করছে,,মানে সেও কামড়াকামড়ি করছে,,,
নুবা কিছু সময় একটা ঘড়োরে মধ্যে গলা চেপে থেকে উঠে বসলো,,, চোঁখের পলক পেলে আয়ারর কান্না শুনে তাকে ফিড করাতে লাগলো,,নুবা শুধু এতটুকুই ভাবলো এই মাত্র কি হলো,,,
আরহামের শরীরের তপ্ত উষ্ণ গমড় অনুভূতি,,,তার জোরালো দাঁতে কামড়,, খোঁচা খোঁচা দাড়ির অসহ্য আচর,,,নরম ঠোঁটের স্পর্শ সবি নুবাকে বিচলিত অস্থির করে তুললো,,,
নুবার কেমন কান্না আসতে শুরু করলো,,তার ভাবতে কষ্ট হলো আরাহাম তার এতোটা কাছে ছিলো,,এতোটা,,,
রাত তখন ৯ টা,,নুবা ওয়াশরুমের আয়ানার সামনে দাঁড়িয়ে আছে,,গলায় গোল করে লাল হয়ে আছে,,সাথে দুই কোনায় গভীর দাগ,,,যা প্রচন্ড ব্যথা করছে,,,নুবা হাতে মুখে পানি দিয়ে বাইরে আসলো,,ওরনা দিয়ে ভালো মতো স্থানটা ডেকে দিলো,,তার জন্য এটা খুবি লজ্জা জনক,,কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না আলহাম বাচ্চাদের মতো কামড়ের প্রতিশোধ নিতে কামড় দিয়েছে তাও একটা মেয়েকে,, নিশ্চয় সবাই নুবাকেই খারাপ ভাববে,,,
লিভিং রুমে বাগানে ছাদে সব জায়গায় হৈচয় পড়েছে,,,বাগান প্রায় সাজানো শেষ বাচ্চারা উঠে পড়ে লেগেছে সব নষ্ট করতে,,,নুবা সেটাই জানালায় দাঁড়িয়ে দেখছে,,,একে তো বুক ব্যথা করছে তার উপর আবার গলা ব্যথা,,,বেচারির অবস্থা টাইট,,
নুবার ভাবনার ভিতরে কেউ একজন মোবাইলে কথা বলতে বলতে এগিয়ে আসলো,,ছেলেটার নাম রিহান আরহামের কেমন ভাই লাগে জানি,,
ছেলেটা জানালার কাছে এসে বললো
_ এই মেয়ে চাচি কি ভিতরে দেখো তো,,
নুবা বুঝতে পারলো না কাকে বলছে তাই চেয়ে রইলো
রিহান ভুরু কুঁচকে বললো
_ কি বল্লাম শুনোনি নাকি
নুবা নিজের দিকে আঙ্গুল তুলে বললো
_আ,, আমাকে বলছেন,,
_ তুমি ছাড়া কে আছে এখানে,,
_ না মানে কি বললেন
_ আরে বলছি আরাফের আম্মা,,চিনো তো
_ হ্যাঁ হ্যাঁ,,
_ হ্যাঁ উনাকে ডেকে দেও বলো রিহান ডাকছে,,কি একটা ঝামেলা হয়েছে তাই,,,
_ আচ্ছা,,,
নুবা রুম থেকে বেড় হলো চাচিকে ডাকার উদ্দেশ্যে,,,
রিহান বিরক্তি নিয়ে সামনের একজন মানুষ কে বললো
_ এদের নিয়ে আর পারি না,,বাড়ির বড় ছেলে নাকি এসেছে কই উনি,,কোন কোনায়,,এতো কাজ কে দেখবে,,খালুকেও দেখছি না,,উনার মরার অফিসের কাজ কবে যে শেষ হবে,,,
_ বাদ দেন ভাই,, আমাদের যা কর্তব্য তা পাল করাই উত্তম,,,
_ এদের ১০০ বার বল্লাম কোনো কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠান টা করতে,, কিন্তু না বাড়ির প্রথম বিয়ে বাসায় করবে,,এখন কে সামলাবে এই সব,,ছোটো খাটো অনুষ্ঠান হলে একটা কথা ছিলো,,,৫/৬ হাজার মানুষ মুখের কথা,,পুড়ো শহড়কেই মনে হয় দাওয়াত দিয়েছে,,,ছ্যে,,
পাশের লোকটা হেসে বললো
_ উনার জাত গুষ্টি এসেই বাড়ি ভরে গেছে,,অন্য কেউ আসলে কি হবে সেটাই ভাবছি,,তাও নাকি হাজার খানিক মানুষ কে দাওয়াতি দেয়নি
নুবা নিচে বাচ্চাদের থেকে জানতে পারলো আমিনা বেগম ছাদে গেছেন,,,নুবা সেদিকে যেতে নিলেই আরাফের কবলে পড়লো,,,নুবা পাশ কাটিয়ে তাড়াতাড়ি চলে যেতে চাইলো তবে ফাঁকা করিডোর পেয়ে আরাফ নুবাকে ঝেকে ধরলো,,হাতের কব্জি ধরে বিরবির করে বললো
_ কোথায় যাচ্ছিস
_ কোথাও না,,হাত ছাড়ুন,, এরকম হুটহাট আমার হাত ধরবেন না,,, অসহ্য লাগে,,ঘৃনা লাগে,,,
আরাফ ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো পরপরই নুবাকে দেওয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে চেপে ধরলো বিরবির করে বললো
_ তোকে আমার এতো ভালো লাগে রে নুবা,, বিশেষ করে তোর এই তেজ ভরা কথার জন্য,,,
নুবা হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে বললো
_ আপনি যদি মনে করেন সেদিনের মতো আমার হাত মুখ বেঁধে আমাকে চুপ করিয়ে জানোয়ারগিরি করবেন তবে মনে রাখবেন আজ মরে গেলেও আমি সবাইকে সব কিছু বলেই মরবো,,,
আরাফ হেসে ফেললো,,সুর টেনে বললো
_ সেদিন অনেক ভয় পেয়ে গেছিলি তাই না তবে বিশ্বাস কর আরহাম তখন ছাদে না আসলে তুই আর তুই থাকতি না,,,আমি যে তোর বডি পার্ট কোথায় কোথায় ফেলতাম,,
বলতে বলতে আরাফ নুবার গলায় মুখ ডুবানোর চেষ্টা করলো,,নুবা ঝাড়া মেরে আরাফকে সরিয়ে দিলো,,রাগে ফিসফিস করে বললো
_ ছুঁবেন না আমাকে,,ঘৃন লাগে আমার বুঝেন না,,, আপনাকে জুতা পেটা করতে ইচ্ছে করছ,,, শুধু আজ আমি মানুষের বাচ্চা দেখে এখনো সহ্য করছি,,,
তবে নুবার কথায় আরফ পাত্তা দিলো না কারণ তার নজর নুবার লালচে ফর্সা গলায় আটকে আছে,,যা মাত্রই খেলায় করলো আরাফ,,মাথা ঝাড়া মারার কারনে ওরনা পড়ে যাওয়ার যা স্পষ্ট,,
আরাফকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে নুবা তাড়াতাড়ি নিজের গলা এক গাল দিয়ে চেপে ধরলো,,এই মাত্র তার মনে পড়লো সেই দাগের কথা,,
আরাফ দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ হাত চাপা,,ওটা কিসের দাগ,,
_ আমাকে যেতে দেন,,না হলে আমি চিৎকার করে বাড়ির মানুষ এক করে ফেলবো,,,আর আপনি ভালো করেই জানেন বাড়িতে মানুষে ভরা,,
আরফ ধমকে বললো
_ চুপ,,আগে বল কি হয়েছে,,আমি তো এমন কিছু করিনি কে করেছে,,,
_ আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই,,,হাত ছাড়ুন,,
আরাফ দাঁত কটমট করে বললো
_ পুঁতে রেখে দিবো,,কার সাথে কি করেছিস হ্যাঁ,,আর আমি বললে নাটক করিস,,এখন তো তোকে দেখে আমার ঘৃনা হচ্ছে,,, তাড়াতাড়ি বল কার সাথে কি করেছিস আমার আগে কার সাহস তোকে স্পর্শ করার সাহস পেলো,, নিশ্চয় তুইও সায় দিয়েছিলি তাই না
নুবা আরাফের ঘৃনা লাগার কথা শুনে বুদ্ধি খাটিয়ে বললো
_ আমার ইচ্ছা আমি কার সাথে কি করবো,,, আপনার কি,,
_ শরীরের চামড়া আলাদ করে দিবো একদম,, তাড়াতাড়ি বল ওই ছেলের নাম কি,,
_ সে যেই হোক না কেন আপনার থেকে শতগুণ ভালো,,
আরাফ নুবার গলা চেপে বললো
_ শুয়েছিস ওর সাথে,, হ্যাঁ,,,বল,,
নুবা গলা থেকে হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বললো
_ হ্যাঁ হ্যাঁ,,,একবার না,,দুই বার না,,৩ বার না অগুনিত বার আমি তার সাথে থেকেছি,,, কারণ সে আপনার মতো না যে একজনের সাথে থেকে আর একজনকে বিয়ে করে,,যে ধোঁকা দিতে জানে,,প্রেমিকাকে যোগ্যতাহীন বলে,,আসলে আমি তো কোনো দিনও তার ভালোবাসাই ছিলাম না ওই চরিত্রহীন মানুষ টা আমার সাথে নাটক করেছিলো আমার দেহের জন্য,,সেই কথাটা আবার ওই অমানুষ গর্ভ করে প্রতি ক্ষনে ক্ষনে বলে,,,
আরাফ নুবাকে ছেড়ে দিলো,,নুবা কাঁশতে শুরু করলো,,,আরাফ দেওয়ালে থুথু পেলে বললো
_ ছি,,তোকে দেখতে ইচ্ছে করছে না আমার,, ভেবেছিলাম তুই সতী সাবিত্রী কিন্তু তুই তো আস্ত মা*** gi,,
_ হ্যাঁ আমি ব্যাশা,,যা ইচ্ছে তাই আপনি দূরে থাকেন আমার থেকে,,,
পরপরই আরাফ নুবার কথা শুনে হেসে উঠলো,, মুচকি হেসে বললো
_তুই কি ভেবছিলি আমি এমন কিছু বললো কখনোই না,, তুই কেমন তা আমি জানি,,আর এটাও মনে রাখিস তুই একবারের জন্য হলেও আমার হবি,,সেটা তুই বশ্যা হওয়ার পরে হোক না কেন,,
নুবা বিরবির করে বললো
_ জানোয়ার,,,
_নুবা মনে রাখ আজ হোক কাল হোক তোর আমার কাছে আসতেই হবে,,,যত তাড়াতাড়ি মেনে নিবি ততভালো,,,
নুবা আর কোনো কথা না শুনে উঠে এক প্রকার দৌড় দিয়ে ছাদে চলে গেলো ,,
_ চাচি,, চাচি,,,
আমিনা বেগম পিছনে ফিরে তাকালো,,,নুবাকে দেখে বললো
_ তুই এখানে কি করছিস,,
_ তোমাকে বাগানে কোন রিহান ভাই ঠাই ডাকছে,, তাড়াতাড়ি যাও,,
আমিনা বেগম উঠে দাঁড়ালো নুবার তার পিছনে পিছনে নিচে আসার জন্য প্রস্তুত হলো তবে তার আগেই নজরে পড়লো মেহেরিমা ছাদের এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছে,,তার দিকে কেমন করে যেনো তাকিয়ে আছে,,,
নুবা চোখ সরিয়ে নিলো,,সামনে এগোতে নিলেই একটা ছেলে এসে নুবার পথ আটকে দিলো,,
নুবা ভরকে গেলো,, ড্যাবড্যাব করে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বললো
_ কে আপনি,,এভাবে সামনে দাঁড়িয়ে আছেন কেন
ছেলেটা দাঁত কেলিয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো
_ আমি ইয়াশ,,,আরাফের দুর সম্পর্কের কাছের ভাই আর আপনি,,,
নুবা মুখ বেকালো আর বললো
_ আমি এই বাড়ির কাজের লোক,,সরুন
বলেই নুবা চলে যেতে লাগলো কিন্তু ছেলেটা পথ আটকে বললো
_ কাজের লোক এতো সুন্দর হয় বুঝি,,,তা নাম্বার টা তো দিয়ে যান কাজের সুন্দরী মহিলা,,
_ অসভ্য সরুন তো,,
_ আরে বলে যান নামটা কি,,
নুবা পাশ কাটিয়ে দৌড় দিয়ে বললো
_ ভূত,, আমার নাম ভূত,,
নুবা চলে যেতেই ইয়াশ এর পাশে একটা মেয়ে এসে দাড়িয়ে বললো
_ না মানে এতো সুন্দর সুন্দর মাইয়া থাকতে শেষ পর্যন্ত তোর এটাকে মনে ধরলো ছি,, রুচি নেই,,
ইয়াশ বিরক্তি নিয়ে বললো
_ মেয়েটাকে দেখেছিস কেমন জানি আলাদা,,ভালো লাগলো,,আর সুন্দরো আছে,,
_ চোখ না চুলা,, আমাকে দেখ আমি কত সুন্দর,,
বলেই মেয়েটা হাসলো
ইয়াশ মেয়েটার মাথায় মেরে বললো
_ ছি আমার রুচি এতো খারাপ না,,
নুবা দৌড়ে করিডোর পার করলো যাতে আবারো আরাফের হাত না পড়ে যায়,, কিন্তু সিরি দিয়ে নামার সময় আয়ারার কান্নার শব্দ ভেসে আসলো,,,নুবা ওখানেই থেমে গেলো,,,কান পেতে শুনতে লাগলো শব্দ কোথা থেকে আসছে,,, পরপর খেয়াল করলো আরহামের রুম থেকে আসছে
নুবা এক পা দু পা করে এগিয়ে গেলো,,আরাহামের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে উঁকিঝুঁকি মারলো নুবা,,
খেয়াল করলো বিছানায় হাত পা নেড়ে আয়ারা কান্না করছে,,নুবা এক পা এগিয়ে দেখে নিলো আরহাম কোথায় কিন্তু সে নেই,,নুবার কিছুটা রাগ হলো কতটা irresponsible একটা বাপ বাচ্চাকে ফেলে রেখে গেছে,,
নুবা পা টিপেটিপে আয়রার সামনে গেলো আয়রার দিকে উঁকি মারতেই আয়রা ভেজা ভেজা চোখে নুবার দিকে তাকালো,,এক মূহুর্তের জন্য নুবার চাহনি দেখে আয়রার কান্না থেমে গেলো,, পরপরই যখন বুঝতে পারলো নুবা তাকে কোলে নিচ্ছে না তাই আবারও সে কান্নার প্রস্তুতি নিয়ে ঠোঁট ফুলালো,,
নুবা _”🤫 shhhh”
বলেই নুবা আয়রাকে কোলে তুলে নিলো,,, দুষ্টু আয়রা কান্না করতে করতে হেসে উঠলো,,নুবা আয়ার সরু ঠোঁটে চুমু খেলো,,গালে ঠোঁট ঠেকিয়ে বললো
_ কত কান্না করতে ইচ্ছে হয় আপনার হুম,, সারাদিন শুধু কান্না,, বিছানায় পাছা ঠেকাতেই চান না,, শুধু কোলে কোলে উঠে থাকতে ইচ্ছে করে,, বাসায় সবার কাজ আছে না,,কে নিবে আপনাকে কোলে,,আর আপনার পাগল বাপ তো আপনাকে ছাড়া থাকতেও পারে না কি করবেন হুম,,,
আয়রা সুতির একটা ফ্রক পড়া,,হাতে গলায় দাদির দেওয়া স্বর্নের জিনিস,,আয়রা হাত পা নাড়লে ঝুন ঝুন শব্দ হয়,,পায়ে নুপুর,, নুবা আয়ারাকে এক পলক দেখে হাসলো,,বুক ফেটে দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো তার,,,টাকা থাকলে কি না হয়,,আসতে না আসতে নাতনির কোনো কিছুর কমতি রাখেনি,,তবে নুবার একটা জিনিস খারাপ লাগে সবাই আয়রাকে আদর করলে হারুন মির্জা এখনো পর্যন্ত আয়ারাকে কোলে নেয়নি,,এই বিষয় নিয়ে সে খুব চিন্তিত,,,
কিন্তু এটা নুবার জানা আরাহামের সাথে তার বাবার বনে না তাই বলে কি নাতনিকে একটু আগলে নিবে না,,,
নুবা ছোট্ট আয়ারকে অনেক গুলো চুমু খেলো,,তবে হয়তোবা আয়রার পছন্দ হলো না,, দুষ্টু আয়রা তো অন্য কিছু চাচ্ছে,,,নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো,,,
_ no,,(তবে আয়রা শুনলো কই ঠোঁট ফুলাতে লাগলো)
আরহাম ওয়াশরুম থেকে বেড় হয়ে বিছানার দিকে তাকিয়ে চম্কে উঠলো,, কারণ তার মেয়ে নেই,,একটু আগেই তো কান্নার শব্দ শুনলো তাই সে তাড়াতাড়ি বেড় হয়ে আসলো,,,
আরহাম আশে পাশে তাকিয়ে মেয়েকে খুঁজলো পুরো রুমে আয়রাকে না দেখে তার কলিজা শুকিয়ে আসলো,,,
আরাহাম এক প্রকার দৌড়ে নিচে গেলো,, লিভিং রুমে যেএ এতো মানুষ আর কেচকেচ দেখে আরাহাম বিরক্ত হলো,,,
ভিরের ভিতরে নিজের মাকে খুঁজলো,,দেখলো আমিনা বেগম কারো সাথে আলাপ আলোচনা করছে,,আরহাম ভির ঠেলে এগিয়ে গেলো,,,একটা পিচ্চির সাথে ধাক্কা রাগতেই আরহাম মুখ দিয়ে চ উচ্চারণ করলো,, পরপরই ডেকে উঠলো
_ mom,,,
আমিনা বেগম ছেলের ডাকে ফিরে তাকালো,,ছেলেকে এরকম বিচলিত হয়ে ঘামতে দেখে নিজেও বেশ চিন্তিত হলো,,,আমিনা বেগম উঠে দাড়িয়ে ছেলের কাছে এগিয়ে আসলো মৃদু কন্ঠে বললো
_ কি হয়েছে,,এখানে কেন তুই,,আর এভাবে ঘামছিস কেন,,,
আরহাম বিচলিত কন্ঠে বললো
_ আয়রাকে পাচ্ছি না,,রেখে ওয়াশ রুমে গেছিলাম,, তুমি ওকে দেখেছো,,
_ না তো আমি তো কাজ করছিলাম,,,
আরহামের রাগে কপালের রোগ ফুলে উঠলো,, দাঁতে দাঁত চিপে বললো
_ বাড়ির সব মানুষ কে এক সাথে করো,,,,কোন জানোয়ার আমার পারমিশন ব্যতিত আমার মেয়েকে ধরেছে,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ১৮
আরহামের এমন কথায় সকল মেহমান চেয়ে রইলো,,আমিনা বেগম ছেলেকে টেনে এক পাশে নিয়ে আসলো,,বিরবির করে বললো
_ মাথা ঠান্ডা কর,, হয়তোবা কারো কাছে আছে,,,বাসায় ছাড়া কোথায় যাবে ,,
