Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৩

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৩

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৩
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_ কি দোষ ছিলো আমার,,,,,
এই সবকিছু একটা মানুষের চোখের সামনে হলো তবে সে কিছুই করতে পারলো না ,,, হঠাৎ করেই পিলে চম্কে উঠলো আমিনা বেগম,,ঘুম থেকে ফাল দিয়ে উঠলো,,,বুক কাঁপছে তার,,,কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে,,,এটা কিরকম আজব স্বপ্ন ছিলো,,,
ভারি নিঃশ্বাস ফেলে আমিনা বেগম আশে পাশে তাকালো,,সকালের আলো ফুটেছে,,রুম আলোকসচ্ছায় ভরে উঠেছে,,,আমিনা বেগমের মাথা ধরে আসলো,, চোখে খুলে সামনে তাকাতেই দেখলো আরহাম বসে বসে ঘুমাচ্ছে,,আরশি বেডের এক কোনায় শুয়ে আছে,তবে ঘুমাচ্ছে না,,,নুবা আর আয়রা খেতায় জরিয়ে লুতুপুতু হয়ে শুয়ে আছে,,সে নিজেও সোফার উপর বসা,,,
আমিনা বেগম বুকে হাত থেকে ধরপড়িয়ে উঠতেই আরশি বিছানায় উঠে বসলো,,মাকে এভাবে চমকাতে দেখে নিজেও ফিলে চম্কে উঠলো,,,
বিছানা থেকে উঠে বসে বললো

_ কি,,হয়েছে মা,,
আমিনা বেগম কয় একবার জোরে নিঃশ্বাস ফেলে সুধালো,,
_ তেমন কিছু না,, খারাপ একটা স্বপ্ন দেখলাম,,,
আরশি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ সারাদিন টেনশন করলে এমন হবে,,, তুমি এবার রুমে যেএ একটু ঘুমাও আমি এখানেই আছি,,,
আমিনা বেগমের বুক চিরে নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো,,যখন থেকে শুনেছে নুবারা বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে তখন থেকেই সে চিন্তিত,,,আজ সারাদিন ছেলের টেনশন নুবারা বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে এই নিয়েই ভেবেছেন তিনি, তাই এরকম আজগুবি স্বপ্ন আসা স্বাভাবিক,,,
আমিনা বেগম কিছু সময় ঘুমন্ত নুবার দিকে তাকিয়ে রইলো,, অতঃপর রুম ত্যাগ করলো,,,

বাড়ির সবাই আরহামের দিকে তাকিয়ে আছে,,, অর্ধ নগ্ন আরহাম মেয়েকে কোলে নিয়ে লিভিং রুমের দিকে এগিয়ে আসছে পড়নে শুধু একটা “থ্রি-কোয়ার্টার/শর্টস” পেন্ট,,কমড় থেকে ফিতা ঝুলে আছে,,,শরীরে যা ব্যান্ডেজ সব খুলে ফেলেছে,,যার ফলে শরীরে আহত অংশ গুলো সহ সিলি স্পস্ট দেখা যাচ্ছে,,,
নুবা মায়ের সাথে দাঁড়িয়ে কিছু কাজ এগিয়ে দিচ্ছিলো তখনি এমন অবস্থা দেখে সে চোখ সরিয়ে নিলো,,,
নিচে এসেই আরহাম আমিনা বেগম কে উদ্দেশ্য করে বললো
_ এক কাপ কফি দেও,,,
আমিনা বেগম চোখের পলক ফেললেন,,,এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়,,, আরহাম দেশে থাকা কালিন বেশিরভাগ সময় “থ্রি-কোয়ার্টার/শর্টস” সাথে গেঞ্জি পড়ে ঘুরঘুর করতো,,এখানে শুধু গেঞ্জি টা নেই,,,তবে ছেলে বড় হয়েছে,, কেমন চক্ষু লজ্জা হলো আমিনা বেগমের তবে তাদের কাছে এগুলো স্বাভাবিক,,, Rich মানুষের কাছে সবি পারফেক্ট,,,
নুবা চোখ সরিয়ে নিলো বিরবিল করে বললো

_ নির্লজ্জ,,,
হাজেরা আরহামকে নিখুঁত ভাবে দেখলো,, অর্থাৎ তার শরীরে ক্ষতো গুলো,,,দেখে তার শরীর ঝাড়া মেরে উঠলো,,, বিশেষ করে বুক আর পিঠের কাছের সিলি গুলো,,,এতোকিছুর পরেও আরহাম এতো সটান হয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে কি করে এটাই হাজেরা বুঝতে পারছে না,,
আরহাম এসে লিভিং রুমে বসে সামনে রাখা বড় টিভিটা অন করলো,,আমিনা এগিয়ে এসে শান্ত কন্ঠে বললো
_ ব্যান্ডেজ খুলেছিস কেন,,,
আরহাম টিভির চ্যানেল চেঞ্জ করতে করতে বললো
_ ইচিং হচ্ছিলো,,,
_ আরহাম এগুলো হেলামিল বিষয় না,, ইনফেকশন হয়ে যাবে,,,

আরহাম উত্তর দিলো না,,আমিনা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে তানিয়াকে কফি বানিয়ে আনতে বললেন
আরহাম পায়ের স্লিপার খুলে সামনের টেবিলের উপর দুই পা দিয়ে বসলো,,, ভদ্রতার ছিটেফোঁটাও নেই তার ভিতরে,, সামনে মানুষ বসে আছে দেখার প্রয়োজন বোধ করলো না,,সবার সামনে আসতে একটু লজ্জাও হলো না,,কাল যে কেলানি খেলো আজ কে কি ভাববে সেটাও ভাবলো না,,,
তানিয়া এসে আরহামের সামনে হালকা নাস্তা রেখে গেলো,, আরহাম আশে পাশে তাকাতে লাগলো,,চোখ দুটো বিচ্ছুকে খুঁজছে,, নিশ্চয় রুমের কোনায় ঢুকে বসে আছে,,,
তবে তার চিন্তা ভাবনা ভুল প্রমান করে নুবা একটা বাটিতে কিছু বিস্কুট নিয়ে রুমের দিকে চলে গেলো,সকাল থেকে কিছু খায়নি তাই পেট পাকিয়ে আসছে তার,,
আরহাম আর চোখে সেদিনকে তাকিয়ে বলে উঠলো,,,
_ কেউ একজন আপনার জন্য সকাল থেকে না খেএ বসে আছে,,খবর রাখেন কিছু,,,মিস নুবাইরা রহমান,,,
নুবা যেতে যেতে থেমে গেলো ,,, দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে পিছন ফিরে তাকালো,,আমিনা বেগম ছেলের দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকালো,,,মায়ের চাহনি দেখে আরহাম নিষ্পাপ কন্ঠে বললো

_ আমি তো আয়ারর কথা বল্লাম Mom,,
আমিনা বেগম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ ও,,,,
নুবা এগিয়ে এসে হাতের থেকে বাটিটা রেখে আয়ারাকে কোলে নেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলো,,তবে ঘাড়ত্যারা আরহাম মেয়েকে এগিয়ে না দিয়ে নুবার দিকে তাকিয়ে রইলো,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ দেন,,,
আরহামের হেলদোল হলো না,,,নুবা বিরক্তে ভুরু কুঁচকে নিলো,, আরহাম মনে মনে ফিকে হেসে আয়রাকে এগিয়ে দিলো,,,
পরপর টিভির চ্যানেলে শুনা গেলো,,,
_ ভারি বর্ষণ নওগাঁয় বিটার পরিমানে ক্ষতি হয়েছে,,,সাথে মারাত্মক বজ্রপাতে একজন প্রান হারিয়েছে,,, নওগাঁ জেলার ___ গ্ৰামে ___ ছেলে মৃত্যু __
শেষের শব্দ গুলো নুবা দূরে চলে যাওয়ার ফলে শুনতে পেলো না,,,

সময় কারো জন্য থেমে থাকে না এটা চিরন্তন সত্য,,, প্রকৃতির নিজের মতো চলতে থাকে,, শুধু রয়ে যায় কিছু স্মৃতি আর সংস্কৃতি,,যাতে অবশ্য দিনের পরিবর্তন তাতে আবির্ভাব ঘটে,,,
হাজেরা নুবার দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বলে উঠলো
_ এগুলো নিবো,,পড়বি তুই,,
নুবা শান্ত কন্ঠে বললো
_ নিয়ে নেও কাজে আসবে,,
হাজেরা বাকি কাপড় গুলো ব্যাগে ভরে নিলো,,নুবার কেমন নিজেকে ছন্নছাড়া লাগছে,,৭/৮ বছর,,বেশি হলে ৯ বয়সে নুবা এই বাড়িতে পা রেখেছিলে ছোটো নুবা,,আজ চলে যাচ্ছে,,বুকটা একটু হলেও পুড়ছে তার,,, বিশেষ করে আয়ারার জন্য,,সে চলে গেলে আয়রার নিশ্চয় কষ্ট হবে,,ভাবতেই নুবার বুক খালি খালি লাগছে,,,
হাজেরা মেয়েকে ভাবনা চিন্তা করতে দেখে বললো

_ রেডি হয়ে নে,, জিনিস পত্র নেওয়া জন্য একটা ছোট্ট ভ্যান ভারা করেছি,, আজকে ভ্যান পাওয়াও যায় না,,,
নুবা শুধু মাথা ঝুকালো ,,পরপর বোরকা হাতে নিয়ে শরীরে জরিয়ে নিলো,,,,,কোনো মতে হিজাব পড়ে নিলো,,,ব্যাগে রাখা বই গুলোর দিকে এক বার চোখ বুলিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,
এই রুমে তাদের সংসারের কয় একটা জিনিস আসে, পুরাতন,,সে গুলাই নিয়ে যাবে,,
নুবার বাবা কখনোই ঘড়ের মাল পাতি বেশি করেনি,,তার ইচ্ছা ছিলো আগে নিজের একটা মাথা গুঁজার ঠাই বানাবে,,তার পর নিজের জায়গায় একটা ঘড় তুলে ঘড়ে জিনিস পাতি করবে,,,ভাড়া বাড়িতে জিনিস পত্র করা বোকামি,,কখন কোথা থেকে কোন খানে যেতে হয় বলা যায় না,,তাই প্রয়জনীয় জিনিস ব্যতিত কিছুই ক্রয় করেননি ইয়াশ রহমান,,,

নুবা আমিনা বেগম কে জরিয়ে ধরে আছে,,,নিরবে তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে,,,আমিনা বেগম স্তব,,,এতো তাড়াতাড়ি হাজেরা মেয়েকে নিয়ে চলে যাবে তা,,তার ধারানার বাইরে ছিলো,,,
নুবা অনেক টা সময় পর নাক টেনে বললো
_ কোনো ভুল ত্রুটি করে করলে মাফ করে দিও চাচি,, অনেক জ্বালিয়েছি তোমাদের,,,
আমিনা বেগম উত্তর দিলো না,,,এর ভিতরে হাজেরা ব্যাগ পত্র নিয়ে বেড় হয়ে আসলো,,নিজের যা ছিলো তাই নিয়েছেন,,এই বাড়ির কিছুই নেয়নি,,
নেয়নি বললে মিথ্যা হবে কারণ পড়নের জামাকাপড়,,,এই এতো দিন পেটে ভাত দিলো সবি তাদের অবদান,,
এদিকে নুবারা চলে যাচ্ছে শুনে আরশি ছুটে নিচে আসলো,,সে ভাবতেই পারেনি সত্যি সত্যি তারা চলে যাবে,,,
আমিনা বেগম নুবার পিঠে হাত বুলিয়ে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো,,পরপর নুবাকে ছেড়ে হাজেরার দিকে এগিয়ে যেএ মৃদু কন্ঠে সুধালো
_ এখনি চলে যাবে,,,
হাজেরা শান্ত কন্ঠে বললো

_ ভ্যান আসছে কিছু খনের মধ্যে,,,,টুকটাক জিনিস পত্র নিয়ে চলে যাবো,,,
আমিনা বেগমের বুকটা ছ্যাত করে উঠলো,,পরপর বলে উঠলো,,,
_ তোমার ভাই তো বাড়িতে নেই,,,উনাকে না বলে চলে যাবে,,,
হাজেরা মাথা নিচু করে বললো
_ অন্য কোনো দিন এসে দেখা করে যাবো,,,
আমিনা বেগমের মন মানলো না,,কাতর কন্ঠে বললো
_ একটু বসো তোমার ভাইকে কল দিয়ে বলি,,,
_ শুধু শুধু কষ্ট কেনো করবেন,,, ভাইজান কাজে ব্যস্ত,,আমরা পরে আসবো এক সময়,,,
আমিনা বেগম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ আমাকে শিখিও না হাজেরা,,তোমরা গেলে যে এই বাড়িতে আর পা রাখবে না তা আমার জানা,, তুমি দাঁড়াও,,আমি আসছি,,,
বলেই আমিনা বেগম রুমে চলে গেলেন,,,

আরশি চুপচাপ নুবার দিকে তাকিয়ে আছে আর ভাবছে,, সত্যি সত্যি তারা চলে যাবে,,বাড়িটা ফাঁকা হয়ে যাবে না,,, এদিকে আরাফ, আরহাম,,, হারুন মির্জা কেউ এই বিষয়ে জানে না,,
আমিনা বেগম স্বামীকে ফোন দিয়ে সালাম দিলেন, হারুন মির্জা উত্তর নিয়ে বললেন
_ এই সময় কল করেছো,,আমি কাজে ব্যস্ত,,,
আমিনা বেগম কাতর কন্ঠে বললেন
_ আপনার কাজ পড়ে করুন,,নুবারা যে বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছে,,এটা জানেন
হারুন মির্জা হতভম্ব হয়ে গেলো,,বিরবির করে বললো
_ কি,,,,
_ হ্যাঁ,,,হাজেরা সব গুছিয়ে নিয়েছে,,আজি চলে যাবে,,, কয়দিন ধরে নাকি আস্তে আস্তে সব গুছাচ্ছিলো,,,
হারুন মির্জা বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন
_ এতো কিছু হয়ে যাচ্ছে আর তুমি আমাকে এখন বলছো
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো

_ আমি কি জানতাম নাকি,,, ভেবেছিলাম রাগ পরে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু,,,,,
হারুন মির্জা ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো,,
_ ওদের যেতে দিও না আমি আসছি,,,
পরপর হারুন মির্জা সামনে বসা ৩/৪ জনের দিকে তাকিয়ে বললো,,
_I’m sorry, I can’t start the meeting today, I’ll let you know when the meeting will be held later. Sorry everyone,,,,Araf come,,,
হারুন মির্জা নিজের কাজ রেখে বাইরে ছুটলেন,, এদিকে আরাফো আজ অফিসে এসেছিলো,,, কিছু জরুরী টেন্ডার ভরার কথা ছিলো যার কারনে আরাফকে আসতে হয়েছে,,,
হারুন মির্জাকে এভাবে বেড় হয়ে যেতে দেখে আরাফ পিছন পিছন বেড় হয়ে বললো
_ what happened dad,,, টেন্ডারটা হাত ছাড়া হয়ে যাবে,,লস হয়ে যাবে ডেড,,,
হারুন মির্জা পায়ের গতি বাড়িয়ে বললো
_ নুবারা বাসা থেকে চলে যাচ্ছে,,এর থেকে জরুরি কিছু হতে পারে,,,
আরাফ হারুন মির্জার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেলো,,বিরবির করে বললো
_ what,,,
আরফ কিছুতেই চায় না নুবা চলে যাক,,তালহে তার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে,,, এদিকে কোনো একটা বিশেষ কারনে হারুন মির্জা চায় না নুবারা চলে যাক,,কখনোই না,,নুবারা তার আমানত,,,ওদের কিছু হয়ে গেলে হারুন মির্জা কখনোই নিজেকে মাফ করতে পারবে না,,, বিশেষ কারনটা গোপনি থাক,,পড়ে না হয় জানা যাবে,,,

পরিবেশ বিপর্যয়ে হয়ে যেমন মৃত্যু কালিন মতো নীরবতা থাকে তেমনি লিভিং রুমে সবাই নিরব হয়ে বসে আছে,,,
আরাফ হাত মুঠো বদ্ধ করে নুবার দিকে তাকিয়ে আছে,,যেনো ইচ্ছা হচ্ছে নুবাকে কাঁধে তুলে এক আছার মারতে,,কত বড় সাহস বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে,,,
ইশিতা নিরপেক্ষ,, শুধু দেখেই যাচ্ছে,,, হারুন মির্জা সোফার উপর পড়নের কোর্ট খুলে রেখে কপালে হাত দিয়ে বসে আছেন,,
এদিকে হারেজা অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে আছে,,,

_ what,,,মানে কি,,
_ শুনতে পাসনি,,তোর কারনে নুবারা বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছে,,
মাত্র একটু বিছানায় গা হেলিয়ে দিয়েছিলো আরহাম,,পরপর মায়ের কথায় ভুরু কুঁচকে উঠলো তার,,, আরহাম উঠে বসে বললো
_ আমার কারনে মানে,,What do you mean? আমি কি ওদের বেড় করে দিচ্ছি ,,নাকি মা মেয়ের এখনো আমাকে গাছে ঝুলিয়ে মন ভরেনি,,,
(পুরাই আরহামের পরিকল্পনা ছিলো,,তাকে শাস্তি দেওয়ার কথা ছিলো,, আরহাম নুবার প্রাপ্তির জন্য নিজে মাথা পেতে এই শাস্তি নিয়েছে,,যাতে অন্ততপক্ষে যা করেছে তা মুছে যাতে যায়,,তবে এমন কিছুই হলো না,,ব্যাগ পুটলা বেঁধে মা মেয়ে বাড়িকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে চলে যাচ্ছে,,ভাবতেই আরহামের রাগে কপালের রগ ফুলে গেলো,,, যাওয়ার থাকলে আগে কেন গেলো না,,, মাঝখান দিয়ে এই বয়সে এসে কেলানি খেলো,, এখন কেন যাচ্ছে,,এটার মানে কি)
আরহাম নীরব রইলো,,আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ নিচে চল,,,

হাজেরা বেগম হারুন মির্জার সামনে মাথা নিচু করে বললো
_ ভাইজান দেরি হয়ে যাচ্ছে,,,ভ্যান চলে এসেছে,,
হারুন মির্জা হাতের ইশারায় হাজেরাকে থামিয়ে দিয়ে বললো
_ এতো তাড়াতাড়ি পর করে দিলে হাজেরা,, তোমাকে তো আমি নিজের ছোটো বোন ভাবতাম,,,
হাজেরা মাথা নিচু করে রইলো,, কিছু বলার নেই তার,,
হারুন মির্জা সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে হাজেরা সামনে সটান হয়ে দাঁড়ালো পরপর অদ্ভুত কন্ঠে বললো
_ তুমি কি মনে করো তোমরা এই বাড়ির বোঝা,,নাকি আরহামের শাস্তির ভিতরে ঘাটতি আছে,,,
_ তেমন টা না,আসলে,,,

_ আসলে নকলে পড়ে দেখা যাবে হাজেরা,,, তুমি তোমার এই উক্তি বয়সের মেয়েটাকে নিয়ে চলে যাচ্ছো,,একবার আমাকে জানানোর প্রয়োজনবোধে করলে না,,,কোথায় যাচ্ছো,,,কোথায় থাকবে কিছু জানা নেই আমার,,, আমাকে কি তোমার বড় ভাই মনে হয় না,,,মনে হয় না তোমার,,,
হারুন মির্জার কথার ভিতরে আরহাম আর আমিনা বেগম নিচে নেমে এলো,,,হাজেরা কিছুটা সময় নিয়ে বললো
_ তেমনটা না,,, আমাদের কারনে অনেকটাই ঝামেলা হয়েছে,,,আমি চাই না আরো বাড়ুক,,,
হারুন মির্জা কপালে হাত রেখে হাসলো,, হারুন মির্জাও বেশ বয়স চুরা,,চুল দাঁড়ি পেকেছে তবে এখনো নিজেকে এই বয়সে ফিট রাখতে সক্ষম সে,,, কথা বার্তার ধরোনো আলাদা,,,
হারুন মির্জা নিজেকে শান্ত করে স্বাভাবিক কন্ঠে বললো
_ আজ যদি এই বিষয়ে নুবার উপর করা অন্যের প্রতিবাদ না করতাম তবে তুমি মেয়েকে নিয়ে চলে গেলে মনকে বুঝ দিতে পারতাম,,তবে যেখানে আমি নিজে হাতে সব সমাপ্তি করেছি সেখানে কাউকে না বলে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া কি ভদ্রতার ভিতরে পরে হাজেরা,,
হাজেরার চোখ ছলছল করে উঠলো,,,আমিনা বেগম এগিয়ে এসে বললেন,,
_রাগ করে আছে এখনো আমাদের উপর,,ওর মনে হয় মনে হচ্ছে আজ আমাদের কারনে নুবার এই অবস্থা,,তাই,,
হাজেরা আমিনা বেগমের দিকে তাকালো,, কাতর কন্ঠে বললো

_ এমন টা না আপা,,,
হারুন মির্জা গম্ভীর কন্ঠে বললেন
_তাহলে কেমন টা,,, তোমার চলে যাওয়া কতটুকু যথার্থ,, আমাকে একটু বুঝাবে,,আর তুমি কি মনে করো দয়া দেখিয়ে তোমাদের এখানে রেখেছি,,এটা মনে হয়,,,
হাজেরা চুপ রইলো,, হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ তোমাকে শুধু বাড়ির কাজ এই জন্য করতে দেওয়া হয়,, যাতে তোমার মনে না হয় যে তুমি অন্যের ঘাড়ের উপর বসে বসে খাচ্ছো,,না হলে এই সংসারের কাজ এখনো আমার বউ এর করার ক্ষমতা আছে,,,আর বাড়িতে কি চলছে এটা কিন্তু আমি দেখে বসে থাকি না,,,ধরতে গেলে এখানকার মেহমান আমি,, সারাদিন অফিস তার পর সময় পেলে আসি,,, কিন্তু তুমি কি বলতে পারবে আমিনা কখনো তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে কিনা,, আমার জানা মতে আমার স্ত্রী এমন না,,,
আমিনা চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া পানি মুছে পাশে যেএ বসলেন,,হাজেরা চুপ রইলেন,, হারুন মির্জা এতো কঠিন কঠিন প্রশ্ন করছে যে উত্তর দেওয়ার শব্দ খুঁজে পাচ্ছে না সে,,
হারুন মির্জা একটু থেমে বললো,,

_ এই বাড়িতে আমার জানা মতে কেউ কখনোই তোমাদের কিছু বলেনি,,না আমি,, না আমার স্ত্রী,, না আমার ছোটো ছেলে ,,মেয়ে,,,,
কথা টুকু বলতেই নুবা আরাফের দিকে তাকালো,,আরাফ আগে থেকেই তার দিকে তাকিয়ে ছিলো তাই দুই জনের চোখাচোখি হলো,,আরাফ চোরের মতো চোখ সরিয়ে নিলো,,,
হাজেরা বেগম কাতর কন্ঠে বললো,,
_ জানি না ভাইজান কেন মনে হলো চলে যাই তবে ঝামেলা হবে না,,,
হারুন মির্জা মৃদু হেসে বললেন
_ আরহাম এসেছে কয় মাস,, হয়তোবা ভুল হয়েছে ওর দাঁড়া,,,এই ভুলের জন্য যা নৈয্য তা আমি করেছি,,,এর পরেও যদি তুমি আমার উপর তেতে থাকো তবে আমি ব্যর্থ একজন বাবা হিসাবে,,,
নুবা ছোটো থেকে আরশির সাথে বড় হয়েছে,,আমি কখনোই ওদের আলাদা ভাবিনি,,,আরশির জন্য যা এনেছি ওর জন্যও তা এনেছি,,তবে আমার অগোচরে কেউ যদি তোমাদের ক্ষুন্ন করে থাকে তবে নির্দ্বিধায় বলতে পারো আমি সঠিক বিচার টাই করবো,,
হাজেরা হারুন মির্জার দিকে তাকিয়ে বললেন

_ কেউ কখনোই খারাপ ব্যবহার করেনি ভাইজান,,,
_ তাহলে চলে কেনো যাচ্ছো,,আর তোমার কি মনে হয় তোমার স্বামী আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে দেখেই আমি তোমাদের দায়িত্ব নিয়েছি,,,একদমি না তুমি কি জানো ইয়াশ শুধু আমার ড্রাইভার ছিলো না,,ও আমার বন্ধু ছিলো,,,,আর এই যে এতো সয় সম্পতি দেখছো তার এক অংশ তোমাদের,,,ঘটনা খানিক না হয় পড়েই খুলে বলবো,,এর আগে তুমি উত্তর দেও কোন সাহসে নুবাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেড় হচ্ছিলে,,কোন সাহসে,,,
হারুন মির্জার কন্ঠে কাঠ কাঠ ভাব আসলো,,যেনো রেগে গেছেন সে,,,
হাজেরা উত্তর দিতে পারলো না,, হারুন মির্জা একটু রেগে বললেন,,,
_ আর কোনো দিন,,কখনোই এই বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথা মাথায় আনবে না,,,যেদিন তোমাদের এখানে নিয়ে এসেছিলাম তখনি আমি পন্য করেছিলাম নুবা লাল শাড়িতে এই বাড়ি থেকে বেড় হবে আর তুমি সাদা কাফনে ,,,আমি চাই না যাতে এই কথার নড়চড় হয়,,, চুপচাপ যেএ ব্যাগ পত্র রাখো,,যদি তোমার মনে একটু আমাকে বড় ভাই হিসাবে সম্মান থাকে,,, যদি আমার কথার দাম তোমার কাছে থাকে তবে এখনি মেয়েকে নিয়ে রুমে যাও,,এক্ষনি,,,,
হাজেরা কেন জানি এই বাড়ির সদর দরজা উপক্রম করার আর সাহস হলো না,,,এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে বললো

_ এগুলো নিয়ে রুমে চল,,
বলতে বলতে হাজেরা এগিয়ে গেলো,,, হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আবারো বললেন
_ আর হ্যাঁ,,যেই ঘটনা একবার ঘটেছে সেটা দ্বিতীয় বার ঘটবে না নিশ্চিতে থাকো,,,দয়া দেখাতে হলে কিছু টাকা দিয়ে তোমাদের ওখানে ফেলে রেখে আসতে পারতাম,সাথে করে নিয়ে আসতাম না,,নুবা শুধু তোমার না আমারো মেয়ের মতো,, আমার ছোটো ভাইয়ের সন্তান,,,
হাজেরা এক পলক হারুন মির্জার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ ভরসা আছে বলেই আপনার কথা অমান্য করছি না ভাইজান,,,
এদিকে আহাম্মক নুবা সবার দিকে একবার তাকালো,,বুঝতে পারলো না কি হলো,,, হারুন মির্জা নুবার দিকে এক পলক তাকিয়ে বললো

_ তোকে কি এখন দাওয়াত দিয়ে বলবো আমি,,যা রুমে যা,,আর মায়ের সাথে কোনো দিনও কোথাও ডেং ডেং করে যাওয়ার আগে আমার কথা একবার ভাববি,,না হলে পা ভেঙ্গে ঘড়ে বসিয়ে রাখবো,,,যা রুমে যা,,,
হারুন মির্জার ধমকে নুবা কম্পিত হলো,,পরপর শুকনো ঢোক গিলে হাতে থাকা ব্যাগ নিয়ে রুমে চলে গেলো,,,
ওরা রুমে যেতেই হারুন মির্জা ধম করে সোফায় বসে পড়লো,, স্ত্রী কে উদ্দেশ্য করে বললো
_ এক গ্লাস ঠান্ডা পানি নিয়ে আসো,,
আমিনা বেগম উঠে দাঁড়ালেন,, স্বামীর জন্য এক গ্লাস ঠান্ডা পানি নিয়ে আসলেন,,, হারুন মির্জা পানি টুকু খেএ দম ছাড়লো,,,পরপর কঠোর কন্ঠে বললো
_ কত্ত বড় সাহস বাড়ি ছাড়বে,,,তার পর মেয়েটাকে বাইরে নিয়ে যেএ একটা ক্ষয় ক্ষতি করে আসুক,,,,মাথার ভিতরে জ্ঞান বুদ্ধি নেই,,এই সেয়ানা মেয়েকে নিয়ে ডেং ডেং করে চলে যাচ্ছে,,আর যখন ব্যাগ পত্র গুছাচ্ছিলো তুমি কোথায় ছিলে,,
বলেই নিজের স্ত্রীর দিকে তাকালেন,,আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আমি তো জানতামি না সত্যি সতি ওরা মা মেয়ে মিলে ব্যাগ পত্র গুছিয়ে নিয়েছে,,,
হারুন মির্জা বুকে হাত রেখে বললেন
_ এই দুটোর খেলায় রাখবে আমিনা,,,আর মনে থাকে যাতে ওরাও এই পরিবারের অংশ,,,,

হারেজা যা গুছিয়েছিলো সব ঠিক করে রাখছে,,, হারুন মির্জার কথা উপেক্ষা করলে নির্ঘাত তাকে অপমান করা হবে,,,
যেই সময় তাদের পাশে কেউ ছিলো না তখন মির্জা পরিবার ছিলো,,,তখন বয়স কম হাজেরার,, মেয়েটাকে নিয়ে কোথায় যাবে বুঝে উঠতে পারছিলো না তখন হারুন মির্জা নিজের ছোটো বোন হিসাবে এই বাড়িতে তাদের এনেছে আজ যদি তার কথার অমান্য করা হয় তবে নিজেরি নিজের কাছে স্বার্থপর মনে হবে,,তার থেকেও বড় কথা আরহাম তার প্রাপ্ত শাস্তি পেয়েছে,,এখন বাড়ি ছেড়ে গেলে সবাই ভাববে এখনো হাজেরার রাগ কমেনি রেগে চলে যাচ্ছে,,,

নুবা বোরকা খুলে চুপচাপ হাঁটুতে থুতনি রেখে বসে আছে,,আরশি ছলছল চোখে কাতর কন্ঠে বলছে
_ আমি সত্যিই ভেবেছিলাম তুই চলে যাবি,,জানিস আমার অনেক কষ্ট হচ্ছিলো,,, তুই চলে গেলে আমি একা হয়ে যেতাম,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ চাচা না আসলে আজ মা আমাকে নিয়ে চলেই যেতো,,
আরশি নুবার হাতের উপর হাত রেখে বললো,,
_ আমার ভাইটাকে একটু হলেও মাফ করে দে নুবা,,,তাহলেই সব স্বাভাবিক হবে,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো কারণ আরহাম নয়,,আরাফ তার সমস্যা,, আরহাম গায়ে হাত তুলেছে,,আরফ ইজ্জতের হাত দিতে চায়,,এটাই তার সমস্যা,,মার খেয়েও বেঁচে আছে কিন্তু ইজ্জত গেলে তার নিশ্বাস ওখানেই থমকে যাবে,,তবে এবার থেকে সাবধানে চলাফেরা করবে সে,,,

হারুন মির্জা আর অফিসে যায়নি,,,এসে শুয়ে আছেন,, এমন সময় আমিনা বেগম এসে তাল পাশে বসলো,,কিছুটা বিচলিত হয়ে বললো
_ আমি ভেবেছিলাম আজ ওরা চলেই যাবে,,মনে হচ্ছিলো এবার আমার ঘরটা শূন্য হয়ে যাবে,
হারুন মির্জা স্ত্রীর কাঁধে হাত রেখে নিজের বুকে আগলে নিয়ে মাথায় থুতনি রেখে বললেন
_ চলে যেতে চাইলেই দিবো নাকি বেগম,,,নুবা আর হাজেরা আমাদের দায়িত্ব,, আমাদের পরিবারের অংশ,,, ওদের কোনো ক্ষতি হলে আমার পাপ লাগবে,,মরার পর ইয়াশ আমাকে ধিক্কার জানাবে,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ আপনি তখন বললেন ইয়াশ ভাই আপনার বন্ধু হয় এটা কি সত্যি,,,
হারুন মির্জা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ হ্যাঁ,,ইয়াশ আমাকে প্রাইমারি স্কুলের বন্ধু,,,গ্ৰেম থেকে আসার পর কখনো দেখা হয়নি,,, অতঃপর হাজেরাকে নিয়ে শহরে আসার পর হয়েছিলো,,,ওর থেকে জানতে পারলাম হাজেরাকে নিয়ে পালিয়ে এসেছে,,তখন আমার অবস্থাও ওতো ভালো ছিলো না,, আরহামকে নিয়ে নিজেই চিন্তিত ছিলাম,,,তাই ভালো মতো দেখা সাক্ষাত হয়নি,,,
হারুন মির্জা একটু থেমে বললেন,,,

_এর পর একদিন আমার কাছে কাজ চাইতে আসলো,,,শহরে নতুন ছিলো,,পড়া লেখাও তেমন জানতো না,, আমার ব্যবসারো নাজেহাল অবস্থা,,তবে ইয়াশের কথা ফেলে দিতে পারলাম না মাত্র ৫ হাজার টাকায় তাকে ড্রাইভার করে রাখলাম,,,বেশির ভাগ সময় ওর সাথে ওটা বসা চলতো,,, যা তুমি না জানতে তা ইয়াশ জানতো,,,খুব গভীর ভাবে বন্ধুক্ত অনুভব করেছিলাম,,, ভেবেছিলাম সেও আমার সাথে বেইমানি করবে,, কিন্তু না,,সে আমার বন্ধু ছিলো,,এই জন্য আমার মৃত্যুকে বুক পেতে গ্রহন করেছিলো,,তা না হলে তোমার কি মনে হয় কোনো ড্রাইভার শুধু মালিককে বাঁচাতে প্রান দিবে,,নাকি এতো টাকা দেখেও লালসা সামলে রাখতে পরবে হুঁ,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো আর বললো
_ আপনি এই ব্যপারে কোনো কিছু আমাকে কখনো বলেছেন,,
হারুন মির্জা মুচকি হেসে বললেন,,
_ অনেক কিছু আছে যা তুমি জানো না,, কারণ আমি চাই না সেগুলোতে নজর লাগুক,,নজরটা আমি বড্ড বিশ্বাস করি,,,

আমিনা বেগম অবাক হয়ে গাল ফুলিয়ে স্বামীর বুকে চিমটি কেটে বললেন
_ আমি ,,আমি নজর দিবো তাই না,,
হারুন মির্জা পাশের টেবিল থেকে ল্যাপটপ টা হাতে নিয়ে বললেন
_চলো আজ তোমাকে না জানা কিছু কথা জানাই,,,
আমিনা বেগম স্বামীর কথায় আগ্রহ পেলেন সোজা হয়ে বসলেন,,,
হারুন মির্জা ল্যাপটপ ঘেটে একটা জমির ছবি বেড় করে বললো
_ দেখো তো জায়গাটা কেমন,,,
আমিনা বেগম ভালো মতো দেখে বললো
_ সুন্দর তো,,,এটা কিনেছেন নাকি,,
হারুন মির্জা স্ত্রীর মাথায় আলতো করে থাপ্পর মেরে বললেন
_ এতো জাগা জমি থাকতে আর কি কনবো,,এটা ইয়াশের কষ্টের টাকার,,,ও প্রতি মাসের বোনাস আমার কাছে জমিয়ে রাখতো বলতো একদিন অনেক টাকা এক সাথে হলে নিবে তার পর নিজ স্ত্রী আর সন্তানের জন্য কিছু একটা করবে,, কিন্তু ওর আশা পূর্ন হওয়ার আগেই সব শেষ হয়ে গেলো,,সেই টাকা দিয়ে নুবা আর হাজেরার নামে একটা জমি কিনেছি,, অনেক আগেই,,,আর ওদের জন্য কিছু share কিনে রেখেছি যা বেনিফিট হবে তা ওদের ব্যাংকে জমা হবে,,

আমিনা বেগম স্বামীর কথায় বেশ অবাক হলেন,, অতঃপর বললেন,,
_ ভালো কিন্তু এই ব্যাপারে নুবাদের কিছু বললেননি কেন,আর ওই জবি ফাঁকা কেন রেখেছেন একটা ঘড় বাড়ি উঠালেও তো পারেন,,
হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪২

_ আমি চাইলেই সব ওদের বলতে পারি,,,ওদের মাথা গুজার জন্য একটা বাড়ি তৈরি করতে পারি কিন্তু এগুলো বিশেষ করে নুবার জন্য,,নুবার সামনে আরো জীবন পড়ে আছে,,হাজেরা আর নুবার নামে অর্ধেক অর্ধেক রেখেছি,,নুবার কিছু হলে হাজেরা পাবে হাজেরা কিছু হলে নুবা,,,আমি চাই নুবার বিয়ের সময় এই সব বুঝিয়ে দিতে,, কারণ এই সমাজের মানুষ অনেক খারাপ আমিনা,,, তুমি তো জানো আমার ছেলেকে নিয়ে আমি কতটুকু ভুগেছি,, সেই স্থানে ইয়াশ নেই,,,আর নুবা একজন মেয়ে,,সেটাই ভয়,,,দুই মা মেয়ে একা থাকবে কে কখন কোথা থেকে গায়ে তামাকা লাগিয়ে দিবে জানা নেই,, আমি থেকেও আমার সন্তানে রক্ষা করতে পারিনি সেখানে নুবার মাথার উপর বাপের ছায়া নেই,,,আলাদা থাকবে কোনো ঝামেলা হলে আমার নিজেকে দোষী মনে হবে,, এমনিতেই হাজেরা সেদিন বলে ফেলেছে আমার জন্য তার স্বামীর জীবন শেষ হয়েছে __
কথা টুকু বলতে বলতে ,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here