নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৬
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_ ইলোরার সাথে আমার গত ৩ বছর আগে দেখা হয়েছিলো,,, ভালো লেগছিলো ওকে,, অনেক __
আমিনা বেগম কথা কেটে বললো
_ অনেক ভালোবাসতি তাই তো,,
আরহামের মুখ বিকৃত হলো,,,মুখ দিয়ে বিরক্তিকর শব্দ উচ্চারণ করে বললো
_ ওকে ভালো টালো বাসতাম না আমি just ফিজিক্যাল নিড এর জন্য ওকে প্রয়োজন ছিলো,,,
আমিনা বেগমের চোখ উল্টে আসলো,,, বিরক্তি নিয়ে বললো
_ আরহাম,,,মা হই তোর,,,
_ যেটা সত্যি তাই বলেছে,,,
_ মুখটা সামাল দিবি বাপ,,
_ sorry to say ,, আমার দাঁড়া সম্ভব না,,,
আরহাম বিদেশে পড়া লেখা শেষ করার পড় ওখানে বসেই নিজের মন মতো চলছিলো সে,,নিজের জীবন নিয়ে একদমি বোরিং ছিলো না সে,,তবে বয়স ২৫ এর কাঠগড়া পাড় করতেই কিছু একটা শূন্য শূন্য লাগতে শুরু করলো তার,,,
যখন আরহামের বয়স ২৮ তখন অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ইলোরার সাথে একটা বিজনেস পার্টিতে দেখা হয় তার,,ইলোরা ছিলো Canada থেকে,,, একজন স্বাধীন নারী,,,
ইলোরা চোখ ধাঁধানো সুন্দর ছিলো,,,বিদেশি হলেও মুখে ছিলো প্রচন্ড মায়া,,, বরাবরই নারীর দেহের থেকে তার শরীরের কাপড় ছোটো হতো,,তবে আরহামের চোখে ধরে তাকে,,,এটাই স্বাভাবিক যে সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবে পুরুষ মানুষ,,,
সেইদিন আরহাম প্রথম বারের মতো কোনো নরীর সাথে বেড সেয়ার কররা শর্ত রাখে,,ইলোরা ছিলো খুবি আধুনিক তাই সে রাজিও হয়ে যায়,,,তার উপর আরহামের টাকার পরিমাণ টা একটু বেশিই রেখেছিলো,,,
First night ইলোরার সাথে কাটানোর পর আরহাম অনুভব করতে পারে কেমন তৃপ্তি পাচ্ছে সে,,পরপর তার মনে হলো ইলোরাকে ডেট করার অফার করতে,,
যেই ভাবা সেই কাজ,, আরহাম প্রথম রাত কাটিয়ে পরেরদিন সকালেই ইলোরাকে তার সাথে লিভিং রিলেশনশিপে থাকতে অফার করে,,,ইলোরারো আরহামের বেড performance খারাপ লাগেনি,,তার উপর তার এখন অত্যান্ত rich একজন bf দরকার ছিলো,,,
ইলোরা আরহামের শর্তে রাজি হয়ে যায়,,, অতঃপর তারা লিভিং রিলেশনশিপে থাকতে শুরু করে,, একদম স্বামী স্ত্রীর মতো,,, আরহাম ইলোরাকে দিয়ে satisfied ছিলো,,,
কিন্তু কিছু মাস পড়েই ইলোরার আরহামকে বিরক্ত লাগতে শুরু করে,, কারণ আরহাম তার মতো করে তাকে চলতে বলতো,,সে যা বলবে তাই হবে,,বাড়ি থেকে বেড় হতে পারবে না,, যেখানে যাবে তার সাথে যাবে,,,এই ড্রেস পড়তে পারবে না ওই ড্রেস পরবে না এরকম,,,,
ইলোরার আরহামকে কেমন অস্বাভাবিক লাগতে শুরু করে,,কথার অবাধ্য হলে গায়ে হাতো তুলতে শুরু করেছে আরহাম,,,রাতের ব্যবহারো পরিবর্তন হয়,,ইলোরা আরহামের ব্যবহারে বিরক্ত হয়ে গেছিলো
তবে সে আরহামকে ছাড়তে পারছিলো না,, কারণ আরহামের মতো Rich bf সে কোথায় পাবে,,তার দরকার ছিলো টাকার,,,তবে এক দিক ভালো ছিলো ইলোরা যখন যা চাইতো তখনি আরহাম তা এনে দিতো,,সেটা হোক দামি জিনিস,, শপিং অথবা অন্য কিছু এই কারনে ইলোরা আরহামকে ছাড়তে পারছিলো না
দের বছর খানিক যাওয়ার পর আরহামের উপর থেকে ইলোরার মন উঠে যায়,, অতঃপর সে একদিন সরাসরি আরহামকে Open relationship এর কথা বলে,,, কারণ সে আরহামকে হাত ছাড়া করতে চাইছিলো না,,,
তবে আফসোস আমাদের ঘ্যাড়ত্যারা আরহাম এই বিষয় নিয়ে নাচোক করে,,,ইলোরা এই বিষয় নিয়ে জোর করলে সেদিন শারীরিক ভাবে ইলোরাকে প্রচন্ড হার্ড করে তাকে,,,
ইলোরা বুঝে গেছিলো,, আরহাম চাইছে সে শুধু তার কথাই মান্য করুক,,তার সাথেই থাকুক,,তবে ইলোরা বিরক্ত হয়ে পড়েছিলো এই সবের প্রতি,,,
যখনি সে সিদ্ধান্ত নিলো সে আরহামকে ছেড়ে দিবে তখনি আয়রা ইলোরার গর্ভে চলে আসলো,,,এই কথাটা ইলোরা আরহামকে জানাতে ইচ্ছুক ছিলো না,,,দুই জনের ভুলের কারনে আয়রা এসেছে,,,
ইলোরা ভেবছিলো বেবিটা নষ্ট করে দিবে,,, কিন্তু আরহাম এই ব্যপারে জেনে যায়,,,ইলোরা ভাবে আরহামো এই বাচ্চা নিয়ে ইচ্ছুক নয়,, তবে হয় উল্টো টা,, আরহাম baby নিয়ে খুবি excited হয়ে পড়ে,,
কিন্তু ইলোরা এই বাচ্চা রাখবে না বলায় আরহাম প্রচন্ড খেপে যায়,,,আরহামের ভয়ে ইলোরা আয়রাকে রাখতে রাজি হয়ে যায়,,,দম বন্ধ করা দিন পার করতে থাকে সে,,,তবে আরহাম প্রচন্ড Careing হয়ে পড়ে তার প্রতি,, নিজের বাচ্চাকে নিয়ে আরহাম অনেক আনন্দিত ছিলো,,,
আয়রা যাতে অবৈধ ভাবে জন্ম না নেয় তার কারনে আরহাম ইলোরাকে জোর করে ওখানকার একটা মসজিদে যেএ বিয়ে করে,,,এই বিষয়ে ইলোরা আরো খেপে যায়,,, আরহামের ব্যবহার তার অসহ্য লাগতে শুরু করে তাও আরহামের ভয়ে আয়রার কোনো ক্ষতি করতে পারে না
অবশ্য এর ভিতরে সে বুঝে গেছিলো,,, আরহাম অস্বাভাবিক,, স্বাভাবিক না,,, অনেকটা যাত্রার পর আয়রা নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে পৃথিবীতে আসে,, আরহাম প্রচন্ড খুশি ছিলো,,নিজের সন্তানকে নিয়ে তার সুখ যেনো শেষি হচ্ছিলো না,,,
আরহাম ইলোরাকে তার কাছে থেকে যাওয়ার কথা বলেছিলো তবে ইলোরা কখনোই সারাজীবন আরহামের সাথে তার স্ত্রী হয়ে থাকতে পারবে না,,,
ইলোরার আয়রার প্রতিও কোনো intrastd ছিলো না,,,তাই সে একটু সুস্থ হওয়ায় পড়েই পালিয়ে যায়,,,অন্য কারো হাত ধরে,,ইতি মধ্যেই সে ভালো একজন পেয়েছিলো যে ইলোরার মন মতো চলবে,,,ইলোরাকে কারো মন মতো চলতে হবে না,,,
আরহাম বিষয়টা জানতে পেরে প্রচন্ড রেগে যায়,,তবে ছোট্ট১/২ সপ্তার আয়রাকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলো,,যার ফলে ইলোরাকে খোঁজার সময় পায়নি,,
আয়রার মাস খানিক হতেই তখন আবার আমিনা কল করে বাড়িতে ফিরার জন্য,,, আরহাম বুঝতে পারছিলো না কি করবে,,তবে তার মনে হলো বাড়িতে গেলে অন্ততপক্ষে তার মা এই ছোট্ট বাচ্চাটাকে সামাল দিতে পারবে,, কারণ সে বাচ্চাদের ব্যপারে কিছুই জানতো না,, অবশ্য সে অনেক কিছু শিখেছিলো তবে তা কাজে লাগাতে পারছিলো না,,,
অতঃপর মেয়ের কথা ভেবে আরহাম দেশে ফিরে আসে,,না হলে তার কোনো ইচ্ছাই ছিলো না দেশে আসার,,,
সব শুনে আমিনা বেগম স্তব হয়ে গেলো,,,তার মানে বিয়েটা শুধু আয়রার জন্য হয়েছে,,,আর কেমন মেয়ে মানুষ বাচ্চাটার জন্য মায়াও হলো না,,রেখে চলে গেলো,,,
সকাল সকাল নুবা লিভিং রুমের সোফায় বই হাতে বসে আছে,,,আরশি সামনে বসা,,কাল থেকে teacher আসবে,,তবে এবার নুবার মাথায় টেনশন ডুকে গেছে পড়া লেখা করতে হবে,,,
আরশি মুখ গুমড়ো করে বসে আছে,পড়নে বেবি pink 🩷 কালর কুরতি,,সাথে ওরনা,, বেশ সুন্দর লাগছে তা দেখে,,আরশিকে এভাবে দেখে নুবা মনে মনে বেশ খুশি হচ্ছে,,
নুবাকে মিটমিট হাসতে দেখে আরশি এগিয়ে এসে নুবার হাত থেকে বই নিয়ে তারি মাথায় বারি মেরে বললো
_ তুই আমার দিকে চেয়ে এভাবে হাসছিস কেন,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো
_ না মানে,, এমনি,, তোমাকে সুন্দর লাগছে আরকি,,
আরশি মুখ বাঁকিয়ে বললো,,,
_ তোর জন্য সব হয়েছে,,,কুত্তী,,,এবার ফেল করবি তুই,,একদম ফেল,,
আরশির কথা শুনে নুবার মুখ শুকিয়ে গেলো,,নুবা হতভম্ব হয়ে বললো
_ তুমি আমাকে এরকম অভিশাপ দিতে পারো না,
আরশি বুকে হাত গুঁজে ভাবনা চিন্তা করে বললো
_ তাহলে কিরকম দিবো,,,উহুম,
একটু গালে হাত দিয়ে ভাবনা চিন্তা করে বললো
_ হ্যাঁ,,,একটা বুড়া জামাই পাবি তুই,,খাটাশ,,যে সবসময় তোকে জ্বালাবে,,তোর মন মতো কিছু করতে দিবে না,,তখন বুঝবি মন মতো কিছু করতে না দিলে কেমন লাগে,,, যেমন আমার লাগছে কুর্তি পড়ে ঘুরতে হচ্ছে ঠিক তেমন,,,
বলেই পড়নের ওরনা ঝাড়া মেরে সোফায় বসলো আরশি,, গুনগুন করে উঠলো,,
নুবা বই নিজের মুখের উপর চেপে ধরে বললো
_ এর থেকে ভালো ফেলি করবো,, তোমার দ্বিতীয় অভিশাপ রিটার্ন বাসে ফিরোত নেও,, প্রথমটাই ঠিক আছে,,,
আরশি নুবার কথায় মিটমিট করে হাসলো,,, তাদের কথাপোকথনের ভিতরে আরহাম একদম রেডি হয়ে নিচে নামলো,,তাকে দেখে আরশি আর নুবা সুন্দর করে সুশিল ভাবে সোফায় বসলো,,,
আরহাম এদিকে এগিয়ে আসছে দেখে আরশি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে উঠে অন্য দিকে চলে গেলো,,,নুবা বই নিয়ে বসে রইলো,,,পড়ার ভান করলো সে,,
আরহাম এসে সোফায় শরীর হেলিয়ে দিয়ে ঘাড় কাত করে নুবার দিকে তাকালো,,,নুবা এক পলক সেদিকে তাকিয়ে বিরবির করে বিরক্তি নিয়ে বললো
_ হিটলার,,,
বলেই বই মুখে চেপে ধরে উঠে চলে যেতে লাগলো তখনি আরহাম বলে উঠলো,,
_ রেজাল্ট ভালো না হলে আবারো class 6 এ ভর্তি করিয়ে দেওয়া হবে,,For your information, this is to inform you that ,,এই বাড়িতে সবার ফলাফল খুবি ভালো হয়,,,
নুবা যেতে শুনেও না শুনার ভান করে মুখ বাকালো,,, আরহাম আবার বলে উঠলো,,
_ কোনো মতে টেনে টুনে পাস করলে মিস নুবাইরা রহমানকে বিয়ে দিয়ে বাড়ি থেকে বিদায় করা হবে,,,
কথা টুকু শুনে নুবা বিরবির করে বললো
_ ভালোই হবে,,, জল্লাদের চোখের সামনে পড়তে হবে না,, যতসব আমাকে ভয় দেখাচ্ছে,,,
হেলাল মির্জা,,,Mr শৈকত আরো কয়ে একজন মিলে বসে আছে,,,সামনে screen এ একজন ভদ্র লোক কথা বলছে,,সেটাই সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনছে আর দেখছে,,
মিনিট খানিক পর conversation শেষ হলে কলের ওই পাশের ব্যক্তি বলে উঠলো
_ But we’re meeting today at 12:00, we’ll finalize the deal then. ,,,
সবাই মাথা ঝুঁকিয়ে হ্যাঁ বললো,,
কল কাটতেই হেলাল মির্জা বলে উঠলো,,
_ অনেক বড় পার্টি,,,লোকটার বিদেশী কোম্পানির সাথে হাত আছে,,,এই প্রজেক্টটা উনাকে দিলে আমারা বড় একটা amount পাবো,,,
শৈকতের পাশে বসা আর একজন বলে উঠলো
_ কিন্তু sir,,,mr আরহাম যদি এটা জেনে যায়
হেলাল মির্জা ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বললো
_ যতখনে জানবে ততখনে কাগজ পত্রে সাইন করে এই টেন্ডার mr সাইনের কাছে বেঁচে দেওয়া হবে,, নিশ্চিন্তে থাকো,,,
নুবা আয়ারকে নিয়ে বসে আছে,,, আজকে আয়রাকে সাথে করে নিয়ে যায়নি,,, ঘন্টা খানিকের ভিতরে ফিরবে আরহাম,,তাই নিয়ে যায়নি,,আমিনার কাছে রেখে গিয়েছিলো মেয়েকে তবে আমিনা নুবার কাছে ধরিয়ে দিয়েছে,,,
নুবা শুয়ে আছে বুকের উপর আয়রা অনাবর নুবার বুকে দুই হাত চপড়ে মুখ দিয়ে উম আ,, শব্দ করছে,,আর নুবা বিরবির করে তার সাথে কথা বলছে,,,
নুবা আয়রাকে হাসতে দেখে মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ আপনার বাপ তো একটা তাড়ছিরা আপনি নিশ্চয় আম্মুর মতো হয়েছেন,, sweet,,, cute ,, দুষ্ট তাই না পাখি,,,
আয়রা উঃ,,আ,, শব্দ করে হাসলো,,,
নুবা আয়রার নাকে নাক ঘষে অনেক গুলো চুমু খেলো,,বুকের সাথে আগলে নিলো তাকে,,এতো cute দেখলে টুপটাপ চুমু খেতে ইচ্ছা করে,,,
নুবা আয়ারকে বিছানায় শুইয়ে অনেক অনেক অনেক চুমু দিলো,,,আর আয়ারা খিলখিল করে হেসে উঠলো,,,
সবাই অনাকাঙ্ক্ষিত জায়গায় দাঁড়িয়ে mr সাইনের জন্য অপেক্ষা করছে,, এমন সময় বড় এখ খানা ল্যাম্বরগিনি এসে থামলো অতঃপর পিছনে আরো ৩/৪ টা গাড়ি,,
সব বাটপারের চোখ জ্বলজ্বল করে উঠলো,,, অনেক সুন্দর করে mr সাইন গাড়ি থেকে বেড় হয়ে আসলো,,সবাই এক গাল হেসে এগিয়ে গেলো তবে mr সাইন তাদের অবাক করে দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে back door খুলে কাউকে মাথা নিচু করে হাতের ইশারায় বাইরে আসতে বললো,,,,mr সাইনের মুখে গাল ভরা হাসি,,,
সবাই ভুরু কুঁচকে নিলো,,,কি হচ্ছে এখানে,,, এমন একটা মূহুর্তে সুট বুট পড়ে আরহাম চোখে চশমা লাগিয়ে একটা গ্রান এন্ট্রি দিলো,,,গাড়ি থেকে মুখটা দৃশ্যামান হতেই হেলাল মির্জা ডান হাত বাম বুকে চেপে ধরে দুই কদম পিছিয়ে গেলো,,,
আরহাম বুক টানটান করে দাঁড়িয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো,,,পড়নের কোর্ট টা ঝাড়া দিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসলো,,,সবাই কিছুটা ভয় আর আত্মকে পিছনে সরে গেলো,,,
আরহাম এগিয়ে এসে ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো
_ Thank you for welcoming me so nicely,,,
হেলাল মির্জার মাথা ঘুরে উঠলো,, শেষ পর্যন্ত যার থেকে টেন্ডার কেড়ে অন্য কাউকে বেচতে চাইলো,, অতঃপর ঘুরে ফিরে তার কাছেই বেচলো,,,
হেলাল মির্জা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শুভকে ঝাড়ি মেরে বললো
_ এই তোর বিদেশি কোম্পানির সাথে তাল্লুক,,,
শুভোর মুখ বিকৃত হলো,,,সে কিছুই বুঝতে পারছে না,,
হেলাল মির্জা এক গালে হাত দিয়ে বসে আছেই,,এই মাত্র ভাই এর ছেলের হাতে কেলানি খেলো সে,,, আরহাম হেলাল মির্জাকে ১ টা থাপ্পর মেরে Rolling Chair এ বসিয়ে রেখেছে,,,
হেলাল মির্জা কিছু একটা বলতে গেলেই আরহাম পিছন ফিরে হেলাল মির্জার বুক বরাবর এক লাথি মেরে দিলো,,,লাথির ঠেলায় হেলাল মির্জা চেয়ার সহ দেওয়ালে যেএ বারি খেলো,,, আরহাম এগিয়ে যেএ হেলাল মির্জার গাল চেপে ধরে বললো,,,
_ জানোয়ার,,, তোমার কত বড় সাহস আমার বাপের কষ্টে পানি ফেলতে চাস,,,,আজ থেকে তুই টের পাবি আমি কি জিনিস,,,
দুপুর দিকে আরহাম বাড়ি ফিরলো ,,বাড়িতে ফিরেই আগে আয়রার খোঁজ লাগালো,,,তার মন বলছিলো নুবার কাছেই আছে আয়রা,,,তাই কোনো দিক পাঁচ না ভেবে নুবাদের রুমের সামনে যেএ দাঁড়ালো,,ভিতর থেকে আয়রার মুখের শব্দ ভেসে আসছে,, আরহাম মুচকি হাসলো,,
নুবা সোজা হয়ে শুয়ে আছে আছে,,,বুকের উপর আয়রা তবে প্রায় ৩ আড়াই মাসের আয়ার হেচলে নুবার মুখের উপর উঠে অত্যাচার চালাচ্ছে,,,নুবার ফুলো গাল গুলোতে বারবার ঠোঁট ছুয়াচ্ছে,,আবার মুখে ভরে নিচ্ছে,,, এদিকে নুবা চুপচাপ শুয়ে অন্য হাত দিয়ে মোবাইল দেখছে,,,
আয়রা তার ছোট্ট ছোট্ট হাত দিয়ে নুবার চোখ মুখছে হাত ঢুকিয়ে দিলো,,নুবা একটু ব্যথা পেয়ে “আম্মু” উচ্চারণ করলো,,পরপর আয়রার হাত সরিয়ে দিলো,,
তবে দুষ্ট হয়রা নুবার বাম পাশের গাল মুখে পুরে শব্দ করছে,,,তার মুখের লালা দিয়ে নুবার গাল ভরে গেছে,,,নুবা তবু চুপ,,এখন থামালেই কান্না শুরু করে দিবে,,
এক পর্যায়ে আয়রার মুখের লালা গাল বেয়ে নুবার কানের ভিতরে চলে গেলো,,নুবা ফাল দিয়ে বাম পাশে কাত হয়ে গেলো,,,কানে হাত দিয়ে অন্য হাত আয়ারকে আঁকড়ে ধরে বললো
_ বাল,,,কি করলি এটা,, ahhh,,,
বলেই ওরনা দিয়ে কানের ভিতরে আঙ্গুল ঢুকিয়ে পরিষ্কার করে নিলো,, এদিকে বুকের উপর থেকে সরিয়ে দেওয়ায় আয়রা ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে উঠলো,,,
নুবা ওরনা দিয়ে গাল মুছে মোবাইল এর দিকে তাকিয়ে বললো
_ এরকম পচা বাবুকে আমি কোলে নেই না,, কান্না করবি না,,,
কিন্তু আয়রাকি শুনলো,,এক হাত দিয়ে নুবার উপর অত্যাচার চালালো,,,নুবা আয়ারকে ঠান্ডা করার জন্য কাত হয়ে শুয়ে তাকে বুকে টেনে নিলো,,পরপর ড্রেস সরিয়ে তাকে ফিড করাতে লাগলো,,,
বুকের দুধ পেয়ে আয়ার একদম শান্ত আর ভদ্র হয়ে গেলো,,এই সুযোগে নুবা মোবাইল scroll করতে লাগলো,,মেসেজে চেটিং করছে সে,,,,আজ হঠাৎ তৌসিফ ভাই এর আইডি থেকে মেসেজ এসেছে,,ভুলে যায়নি সে এই লোকটার কথা,, নিশ্চয় নুবার ফেসবুক প্রোফাইল পিক দেখে নুবাকে চিনে ফেলেছে তাই নক দিয়েছে,,,
তার সাথে পুরানো আলাপ করছে নুবা,,,একটু ভালোও লাগছে কত পুরাতন পরিচয়ের মানুষ সে,,,
এদিকে আয়রা বুকের দুধ ভুল করে ছেড়ে,,এখন চোখ বন্ধ করেইমুখ পুরো বক্ষ স্থলে বিচর করছে তবে খুঁজে পাচ্ছে না,,,নুবা আয়ার কান্ড দেখে মৃদ হাসলো,,পরপর তাকে নির্দিষ্ট স্থানে এনে বললো
_ চোখ বন্ধ করে বলছে অন্ধকার,, পচা মাইয়া,,
আয়রা আবারো দুই হাত দিয়ে নুবাকে আঁকড়ে ধরে পেট ভরতে ব্যস্ত হলো,,,
এর ভিতরে টুং করে মেসেজ আসলো,,
_ কোন কলেজে পড়ো তুমি,,,মাঝে মাঝে দেখি c রোড দিয়ে যেতে,,,
নুবা মুচকি হেসে রিপ্লাই দিলো,,
_ খুঁজে বেড় করেন ভাইয়া,,ওখানে কয়টা কলেজ আছে,,
_ ওখানে তো একটাই কলেজ,,,তাহলে কি গ্রিনফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল কলেজো পড়ো,,,
_ হুম,ঠিক ধরেছেন,,,
তৌসিফ কিছু সময় চুপ থেকে রিপ্লাই দিলো
_ তালহে তো আমারা দেখা করতে পারি,,, আমার অফিসের সামনেই তো,,,
_ হ্যাঁ তবে কয়দিন পর HSC,,,
_ও,,,তা তোমার পরিক্ষা শেষ হোক,,,,
আরো একরকম ছোটো ছোটো কথা বার্তা বলতে লাগলে,,, মুখে মুচকি হাঁসি ফুটে উঠলো,,এতো দিন পর তৌসিফ ভাইকে যে তাকে মনে রেখেছে এটাই অনেক,,,
আরহাম এতো সময় সবকিছু পর্যবেক্ষণ করলো,,, অতঃপর নিজের রুমে চলে গেলো,,,
আরহাম শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে আছে,,,প্রায় ২ মাস সে দেশে ফিরেছে,,,,তবে কিছুর পরিবর্তন না হলেও নুবাকে তার কেমন একটা লাগে,, অদ্ভুত এক অনুভূতি যেনো মনে এসে বহন করে,,,তবে সে নিজের এই সুন্দর জীবনে আর কাউকে জড়াতে চায় না,,,
নুবা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে,,,তার ভাবনার ভিতরে আরশি এগিয়ে গেলো আর বললো
_ আসসালামুয়ালাইকুম মেম,, কেমন আছেন,,,
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রমনি সালামের উত্তর দিয়ে বললো
_ আলহামদুলিল্লাহ ভালো তুমি,,,
_ এই তো মেম,,খুবি ভালো,,,
তাদের কথাপকোথনের ভিতরে আমিনা বেগম এগিয়ে আসলেন,,সাথে সাথে তার চোখ জ্বলজ্বল করে উঠলো,,সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটা মেয়ে,,আরশি থেকে শুনেছে বয়স ৩০ এর ঘরে,,২৮ চলছে,,, কিন্তু দেখে বোঝার উপায় নেই,,,
দুধে আলতা গায়ের রং,,, হাঁটু পর্যন্ত সিল্কি চুল গুলো বেনি করে সামনে এনে রেখেছে,,,পড়নে কারো রং এর থ্রিপিস,,,মাথায় ওরানটা হালকা করে দেওয়া,,, লম্বা আনুমানিক ৫ ফুট ৪ হবে,,চোখ গুলো মায়াবি,, ঠোঁট গুলো গোলাপি,,,হাতের আঙ্গুল গুলো পুতুলের মতো,,, মেয়েটার সৌন্দর্য দেখে আমিনা বেগম টাস্কি খেলেন,,, কিছু সময় চুপ থেকে এগিয়ে যেএ বললেন
_ আরশি,,এটা কে,,,,
আরশি মায়ের চাহনি দেখে বুঝতে পারলো মেমের সৌন্দর্য দেখে তার মাও মোহিত,,,আরশি গলা ছেড়ে কেশে বললো
_ ওই যে আমার মেম,,, আব্বু না তোমাকে বলেছিলো,,,নুবাকে পড়াতে এসেছে,,,
মেয়েটা আমিনা বেগম কে সালাম দিয়ে বললো
_ কেমন আছেন আন্টি,,,
আমিনা বেগম এক গাল হেসে বললো
_ আলহামদুলিল্লাহ মা,,,আরশির থেকে তোমার কথা অনেক শুনেছি,,,ভাবনার থেকেও বেশ মিষ্টি তুমি,,,
মেয়েটা লজ্জা পেলো,,আমিনা বেগম এগিয়ে এসে বললো
_ নামটা কি তোমার,,,
_ মেহেজাবিন পরি আহাম্মেদ,,,
আমিনা বেগম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ একদম নামের মতোই তুমি,,,
পরি বেশ লজ্জা পেলো,,,আমিনা বেগম নুবার দিকে ইশারা করে বললো
_ও আমার ছোটো মেয়ে,,ওকে পড়াবে,,, এদিকে আয়,,
নুবাকে হাতের ইশারায় ডাকলো,,,নুবা এগিয়ে এসে দাঁত কেলিয়ে সালাম দিলো,,
_ আসসালামুয়ালাইকুম মেম,,,
_ ওয়ালাইকুম আসসালাম ,,,ভালো আছো তো,,
_ হ্যাঁ মেম,,, আলহামদুলিল্লাহ,,,
আমিনা বেগম হেঁসে বললো
_তুমি বসো মা আমি নাস্তা নিয়ে আসি,,,
অনেক আগে আরশি পরির কাছে পড়তো তবে আমিনা বেগম কখনো দেখেননি পরিকে কারণ আরশি কোচিং করতো তার কাছে,,জানা শোনা দেখেই নুবার জন্য তাকে রাখা হয়েছে,,
পরিরা মধ্যবিত্ত,,, ছোট্ট একটা পরিবার তার,,,দুই বোন তারা,,বাবা সরকারি চাকরি করে,,,পরি পড়া লেখা শেষ করেছে কোনো মতে এখন বাবার কষ্ট ঘুচাতে টিউশনি করায়,, অবশ্য আগেও করাতো,,,
আমিনা বেগম চায়ের কাপ ট্রেতে রাখতে রাখতে বললো
_ তোর মেম বিবাহিত নাকি আরশি,,,
আরশি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ না,,,কেন ছেলের বউ বানাবে,,,
আমিনা বেগম মুচকি হেসে বললো
_মন্দ হয় না,, এমন লক্ষী একটা ছেলের বউ পেলে,
এমন একটা মেয়ে যদি আমার ছেলের বউ হতো,
আরশি ভুরু কুঁচকে বললো
_ কিন্তু তোমার তো আর ছেলে নেই,,
আমিনা বেগম এক গাল হেসে বললো
_ নেই কে বলেছে,,,,দেখি,,বললেই তো আর হলো না,,
বলেই আমিনা বেগম হালকা নাস্তা নিয়ে পরির সামনে রাখলো,,,আরশি মুখ বিকৃত করে বললো
_ এই পাগল মহিলা মনে হয় মেমকে বড় ভাইয়ার বউ বানানোর কথা ভাবছে ছি,,,একটুও ভালো হবে না,,,
বাসার সবাই পররি সৌন্দর্য দেএখ টাস্কি খেয়েছে,,মনে হচ্ছে আকাশ থেকে পরি নেমে এসেছে,,এতো সুন্দর মেয়ে কি করে হয়,,এতোটা সুন্দর,,,
নুবা একটু পরে পড়ছে আর একটু করে পরির দিকে তাকাচ্ছে,,আসলেই সুন্দর,,,গলার কন্ঠ টাও মিষ্টি,,,
এদিকে আমিনা বেগম তখন নাস্তা দেওয়ার বানায় পরির থেকে অনেক কিছু জেনে নিয়েছেন এই নিয়ে ইশিতার সাথে আলাফ করছে,,, এদিকে ইশিতার হিংসে হচ্ছে,,,তার শাশুড়ি তাকে রেখে কি অন্য মেয়ের পেচাল শুরু করছে,,,
এই নিয়ে ইশিতা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আম্মা,, আমাকে কি আপনার কম সুন্দর মনে হয়,,মেয়েটা এতোটাও সুন্দর না যতটা আপনি ভাবছেন,,,
আমিনা বেগমের মুখ কালো হয়ে গেলো,,বুঝতে পারলো ছেলের বউ তার অভিমান করেছে তাই বলে উঠলো
_ এই বাড়ির সব থেকে সুন্দর মেয়ে আমার ছোটো ছেলের বউ বুঝলে ইশিতা,,,
ইশিতা মুখ বাঁকিয়ে একটু লজ্জা পেলো,,সে চায় না পরি কোনো ভাবে এই বাড়ির বউ হোক কারণ আসলেই পরি অনেক সুন্দর,,,
পরি নুবাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিক বুঝিয়ে দিতে লাগলো,,তবে নুবা পড়া রেখে পরির দিকে তাকিয়ে আছে,,তার মনের ভিতরে প্রজাপতি উড়ছে,,এতো সুন্দর মাইয়া তার মেম,,উফ ভাবলেই খুশি খুশি লাগছে,,,
পরি নুবাকে এভাবে তাকাতে দেখে মিষ্টি হেসে বললো
_ আমার দিকে তাকিয়ে না থেকে পড়ো,,
নুবা গালে হাত ঠেকিয়ে বিরবির করে বললো
_ আপনি অনেক সুন্দর মেম,,,,
পরি একটু লজ্জা পেয়ে বললো
_ পড়ো,,,
নুবা কথা না শুনে বললো
_please মেম,, এভাবে কোনো ছেলের সামনে যাবেন না,,না হলে ছেলেটা ফিদা হয়ে মরেও যেতে পারে,,,
পরি খিলখিল করে হেসে উঠলো,,,আর বললো
_ তুমি তো বড্ড দুষ্টু,,,
নুবা দুই হাত নিজের বাম বুকে চেপে ধরে বললো
_ ইস্,,কি হাসি,,,আপনি পড়ালে আমার পড়ায় মন বসবে না,,, ahhh,,,
পরি হাতে থাকা কলম দিয়ে কিছু লিখতে লিখতে বললো
_ একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না,,,
_ আচ্ছা মেম,, আপনার কাছে যারা পড়ে সবাই ফেল করে তাই না,,
পরি ভুরু কুঁচকে বললো
_ কেন,, এমন কেনো মনে হচ্ছে তোমার,,
নুবা মুচকি হেসে বললো
_ কারণ আপনার কাছে যারা পড়ে তারা তো আপনাকে দেখতেই ব্যস্ত থাকে তাহলে পড়বে কখন,,
পরি নুবার কথায় হেসে বললো
_ অনেক হয়েছে এবার পড়ায় মনোযোগ দেন
কিন্তু নুবা থেমে গেলো না,,,ছেলেদের মতো ফ্লাট করে বললো
_ কাস আমি ছেলে হতাম,, আপনাকেই বিয়ে করতাম,,,কেন যে মেয়ে হলাম,,,
পরি হতভম্ব হয়ে বললো
_ তুমি একটু বেশি বলছো,,,এতোটাও সুন্দর না আমি,,
নুবা গালে হাত দিয়ে পরিকে চোখ টিপি মেরে বললো
_ আমার একটা বড় ভাই নেই তাই আফসোস হচ্ছে,,কেন যে নেই,,না হলে আপনাকে আমার ভাবি বানাতাম,,,
পরি কপাল চাপড়ে নুবার মাথায় বই দিয়ে হালকা করে বারি মেরে বললো
_ ছেলেদের মতো মশকরা কোথা থেকে শিখেছো,,,এখন পিটানি দিবো
নুবা খিলখিল করে হেসে বললো
_ sorry মেম,,,মজা করলাম,, কিন্তু আপনি অনেক মিষ্টি,, সবাই প্রশংসায় পঞ্চমুখী তা জানেন,,, পর্দা করবেন বুঝলেন না হলে নজর লেগে যাবে,,,
পরমি গাল ফুলিয়ে হাসলো,,আসলেই আল্লাহ তাকে সব দিক দিয়ে দিয়েছে,,,সে সন্তুষ্ট,,, অনেক সন্তুষ্ট,,,
৩ টার দিকে পড়াতে এসেছিলো পরি,,এখন ৫ টা,,সে বাসায় যাচ্ছে,, সন্ধ্যা হওয়ার আগে বাড়ি ফিরতে হবে তার,,,
সবার থেকে বিদায় নিয়ে পরি চলে যেতে লাগলো,,তবে আমিনা বেগম পরিকে আটকে বললো
_ শুনো পরি,,,
পরি পিছন ফিরে তাকালো,,আমিনা বেগম এক গাল হেসে পরির গাল ছুঁয়ে বললেন
_ একা একা যেতে হবে না,,এবরা থেকে ড্রাইভার তোমাকে দিয়ে আসবে আবার দুপুরে নিয়ে আসবে আচ্ছা,,,
পরি কিছুটা বিব্রত নিয়ে বললো
_ কিন্তু আন্টি,,,
_ কোনো কিন্তু না,,,যা বলেছি তাই হবে,,,
পরি মিষ্টি করে হেসে বললো
_ আচ্ছা,,,
_ আরশি,,পরিকে নিয়ে যেএ ড্রাইভার কে বল দিয়ে আসতে,,আমি হাতের কাজ টুকু সেরে নি,,
আরশি মা ঝুকালো,,
_ চলেন মেম,,,
পরিকে এগিয়ে দিতে আরশি পিছন পিছন আসলো,,তখনি আরহাম বাড়ির সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করলো,,,বাইরে গিয়েছিলো সে কোনো একটা কাজে,,তবে নিচের দিকে তাকিয়ে হাতের ঘড়ি খুলতে খুলতে হাঁটায় বেখেয়ালি বসত পরির সাথে মৃদু ধাক্কা লাগলো তার,,হাত থেকে ঘড়িটা ফ্লোরে যেএ পড়লোই,,,আরহাম এক রাশ বিরক্তি নিয়ে সামনে তাকাতেই চারিপাশ স্তব হয়ে গেলো তার,,,মুখের সামনে আস্ত একটা পুতুলকে দেখে সবার সাথে এমন হবে স্বাভাবিক,,,
কুঁচকে রাখা ভুরুটা আরো কুঁচকে গেলো,,,পরপর পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা আরশির দিকে তাকালো,,
আরশি ঘড়ি উঠিয়ে ভাই এর হাতে দিলো,,, আরহাম আরশির থেকে চোখ সরিয়ে পিছনে তাকিয়ে নজরে দরজার রুমের দরজার সামনে নুবা দাঁড়িয়ে আছে,,,চোখ মুখে আগ্রহের ছাপ,,,জানার ইচ্ছা এখানে কি হলো
আমিনা বেগমোও দাঁড়িয়ে আছে,,, এদিকে হাজেরা আর তানিয়া রান্না ঘড় থেকে উঁকি মেরে দেখার চেষ্টা করছে কি হলো,,,ইশিতা রুমে থাকায় এতো সুন্দর একটা মূহুর্ত থেকে বঞ্চিত হলো,,,
আরহাম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে মুখ দিয়ে বিরক্তিকর শব্দ বেড় করে আবারো ঘড়ি পড়তে পড়তে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো,,,পরি একটু ভয় পেয়েছিলো,,যদি কিছু বলে,,তবে বলেনি দেখে সে শান্ত হলো,,
সে যার মতো কাজ শুরু করলো,, আরহাম ভুরু কুঁচকে একবার পিছন ফিরে তাকিয়ে আমিনা বেগমের কাছে এগিয়ে যেএ বললো
_ কে এই মেয়ে,,,
আমিনা ঠোঁট চেপে হেসে বললেন
_ কেন পছন্দ হয়েছে,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো,,
_সুন্দর দেখে যাকে তাকে পছন্দ হয়ে যাবে,,আজব কথাবার্তা তোমার,,,আমি জিগ্গেস করেছি ও কে আর তুমি উলটা পালটা প্রশ্ন করছো,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৫
আমিনা বেগম মুখ বাঁকিয়ে বললেন
_ হ্যাঁ তাই তো পিছন ফিরে ফিরে দেখছিস,,
অতঃপর সিরি বেয়ে উঠতে উঠতে সুধালেন,,
_ নুবার নতুন teacher __
