Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৮

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৮

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৮
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_ Don’t say a word. ,,আয়ারকে দিতে এসেছি,,,
নুবার মুখটা অফ হয়ে গেলো,,আরহাম এগিয়ে এসে আয়ারকে বিছানায় শুইয়ে বললো
_ কখনো কাউকে sorry বলিনি আমি,,, but তোমাকে বলছি,, কালকে আমি নিজের ভিতরে ছিলাম না,,, কিন্তু তোমারো দোষ আছে,,,যখন কাছে এসেছিলাম,,এতোটা কাছে আসতে না দিয়ে শুরুতেই দূরে সরিয়ে দেওয়া তোমার কর্তব্য ছিলো,,তা তুমি করোনি তাই এতোটা কাছে যেতে সক্ষম হয়েছি,,,নিজের দোষটা ডেকে রাখার চেষ্টা করবে না i think,,,
নুবার দাঁতে দাঁত চেপে আসলো,,,চোখে মুখে এক রাশ রাগ জমলো,,নুবা রাগে বিরবির করে বললো
_ আপনি যে লুচ্চা আর চর্বিহীন সেটা তো আর আমি জানতাম না
_ চরিত্রহীন,,not চর্বিহীন,,, অন্ততপক্ষে ভালো মতো উচ্চারণ করা শিখে তার পর কথা বলো,,,
নুবা আরো রেগে বলে উঠলো
_ আপনি আমার রুমে আসবেন না,,, আপনাকে দেখলে আমার ___
আর কিছু বলতে পারলো না নুবা,,রাগে শরীর ফেটে গেলো,,, আরহাম আয়ারকে বিছানায় ভালো মতো শুইয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো

_ I didn’t give you the right to talk about my character. (আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলার অধিকার আমি তোমাকে দেয়নি)
_ আমার ইজ্জত নিয়ে খেলার অধিকারো আমি আপনাকে দেয়নি,, আপনার কোনো right নেই আমার কাছে আসার,,,নিজের বিকৃত মস্তিষ্ক আগে ঠিক করুন,,, সবকিছুর একটা সীমা আছে,,,
আরহাম নুবার দিকে কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো
_ আমার নেই,,Did you hear? আমার তা নেই,,,
নুবা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ তাহলে আমিও এই ব্যপারে যা নালিশ করার করবো,,,
আরহাম আর চোখে নুবার দিকে তাকিয়ে ঠোট বাঁকিয়ে বললো
_ যদি আমাকে বিয়ে করতে চাও তবে বলতে পারো,,না হলে তোমার ইজ্জতে হাত দেওয়ার পর তোমাকে কে বিয়ে করতে চাইবে,, শেষ পর্যন্ত আমার ঘাড়েই এসে ঝুলবে,,as your wish,,,
নুবা আরামের কথায় হাত মুঠো বদ্ধ করে বললো,,,
_ মরে যাবো তাও আপনার মতো চরিত্রহীন কে নিজের জিবনের সাথে জড়াবো না,,,দিনের বেলায় ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে যেতে যেতে বললো
_ সময় হলে দেখা যাবে,,,
নুবা রাগে বই খাতা গুলো ফ্লোরে ছুঁড়ে মারলো,,আয়ারার কান্না তার কান পর্যন্ত গেলেও সে নির্বাক রইলো,,

আরহাম রান্না ঘড়ে এসে ঘুরঘুর করছে,, এমন সময় নজরে পড়লো আমিনা বেগম তানিয়ার সাথে তরকারি রান্না করছেন দুপুরের,,
আরহাম পকেটে হাত গুজে এগিয়ে গেলো,,,ছেলেকে রান্না ঘড়ে দেখে আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললো
_ এখানে কি,,
আরহাম কিছু সময় নিয়ে প্রশ্ন করলো
_ একটা প্রশ্ন ছিলো,,,
আমিনা ভাজা মাছ তরকারিতে দিতে দিতে বললেন
_ বল,,,
আরহাম জিভ দিয়ে গাল ঠেলে বললো
_ অপবিত্রকে পবিত্র করে কিভাবে,,,
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললো
_ মানে,,, explain করে বল,,,
আরহাম মাথা চুলকে পকেটে হাত গুঁজে বললো
_ ধরো তোমাকে কোনো পরপুরুষ ছুঁয়ে দিলো than তুমি তাকে বললে অপবিত্র ছোঁয়াকে পবিত্র করতে তখন ওই লোকটা কি করবে,,,
আমিনা বেগম ছেলের প্রশ্নে হতভম্ব হয়ে গেলো,,পরপর পাশ থেকে গড়ম খুনতি নিয়ে আরহামের বাহুতে বারি মেরে রাগি কন্ঠে বললো

_ এরকম বেহুদা প্রশ্ন করতে এখানে এসেছিস,,, অসভ্য,,,মুখে যা আসে তাই বলে দিস,,
আরহাম মুখ দিয়ে ahh শব্দ করে বললো
_ উফ্ কথায় কথায় মারো কেনো,, বাচ্চা না আমি,,,
আমিনা বেগম রেগে বললেন
_ এখান থেকে বেড় হ,,কাজ করছি মাথা গড়ম করিস না,,
_ কিন্তু,,
_ কোনো কিন্তু না বেড় হ,,(বলেই আরহামকে ধাক্কে রান্না ঘড় থেকে বেড় করলো,,,)
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে যেএ সোফায় বসলো,,আজব মারলো কেন,,,

অনেক টা সময় পড় আমিনা বেগম রান্না শেষ করে এসে শাড়ির আঁচলে হাত মুছে আরহামের পাশে বসে বললো
_ হ্যাঁ,,এবার বল কি বলছিলি,,,
আরহাম মায়ের দিকে ফিরে তাকিয়ে কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_কি বলছিলাম,,
_ ওই যে কি পবিত্র অপবিত্র,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আমি একটা মেয়েকে ফিজিক্যাল ভাবে কানেক্ট করার চেষ্টা করেছি,,এখন ও বলছে আমি তাকে অপবিত্র করেছি,,এখন পবিত্র কি করে করবো,,
আমিনা বেগম বড় বড় চোখ করে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ কো,,কোন মেয়ে,,,কার সাথে কি করেছিস,,বেয়াদব,,
বলেই কুশন তুমি আরহামকে দিলো এক বারি,, আরহাম কুশন হাত দিয়ে টেনে ধরে বললো
_ mom আমি just example দিয়েছি,,, প্র্যাকটিকাল পুরোপুরি করতে পারিনি,, তুমি শুধু শুধু হাইপার হচ্ছো,,,,
আমিনা বেগম ছেলের কথায় শান্ত হলেন,,,রাগি কন্ঠে বললেন

_ এক মেয়ের বাপ হয়েছিস,, একটু তো লাজ লজ্জা রাখ,,, আহাম্মক,,,
আরহাম চোখ ঘুরিয়ে বললো
_ ওটা আবার কি,,লাজ লজ্জা থাকলে এক বাচ্চার বাপ হতে পারতাম,, তুমিও তো তিন বাচ্চার মা হয়েছো so what,,এটা natural mom,, প্রকৃতির নিয়ম,,এটা নিয়ে এতো ইতস্তত বোধ কেন করবো, why,,,
আমিনা বেগম কপাল চাপড়ে ঠোঁটে ঠোঁট চাপলেন,,এই বয়সে এসে তার এই সব শুনতে হচ্ছে,, এগুলো শুনার আগে সে কালা কেন হয়ে গেলো না,,
_ বাপরে তুই তোর মায়ের সামনে বসেছিস,,একটু তো লিহাজ কর,,,মা হই তোর,,, বন্ধু না,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ মাও বন্ধুর মতো,,আমি তা মানি,,,
আমিনা বেগম আর কি বলবেন চুপ রইলেন,,, আরহাম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ এখন চুপ না থেকে উত্তর দেও,,
আমিনা বেগম কিছুটা সময় নিয়ে বললেন,,
_ কি আর বলবো,,বিয়ে করে নিতে হবে,, হয়তোবা পাপ টুকু মুছবে না তবে কমে যাবে,, স্ত্রীর মর্যাদা দিতে হবে,,,
কথাটুকু আরহাম মনোযোগ দিয়ে শুনলো,, অতঃপর সোফার উপর শরীর হেলিয়ে মায়ের কোলে মাথা রেখলো,,আমিনা বেগমের হাত নিজের মাথায় রেখে বললো
_ টেনে দেও,,,
আমিনা বেগম ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ কি হয়েছে,,এতো Upset লাগছে কেন,,,কি নিয়ে এতো Anxiety ,,,,
আরহাম মুখ দিয়ে বিরক্তিকর শব্দ বেড় করে বললো

_ i don’t know mom,, But I feel like I’m getting physically weak. ,,,দিন দিন অধঃপতন ঘটছে,,, আমি কখনোই এতোটা weak ছিলাম না,,,কোনোই কোনো মেয়েকে দেখে আমার কিছু ফিল হয়নি,,ইলোরার subject আলাদা,,, but recently,,I feel strange. ,,
ছেলের কথার মিনিং গোড়া থেকে না ধরতে পারলেও আগাটা ঠিকি ধরে ফেললেন আমিনা,, মৃদু কন্ঠে বললেন
_ তুই যদি রাজি হোস,,ভালো একটা মেয়ে দেখে তোমাকে বিয়ে দিয়ে দি,,বয়সটাই এরকম আরহাম,,এটা স্বাভাবিক,,,
আরহাম বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে বললো
_ ইদানিং আমার সবকিছু বিরক্ত লাগছে,,,বুঝতে পারছি না কি করবো,,আমি নিজেকে বুঝতে পারছি না Mom,,আসলে আমি কি চাই,,,
আমিনা বেগম ছেলের গালে হাত রেখে বললেন
_ বিয়ে করে নে,, trust me সব ঠিক হয়ে যাবে,,আয়রার মা প্রয়জন,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ i know mom আয়রার মা প্রয়জন তবে আমি Prepared না,,,আমি এখন কোনো রকম সম্পর্কে জাড়াতে চাইছি না,,,
_ কেনো,, সমস্যা কি,,কোনো পছন্দ থাকলে বল
_ পছন্দ থাকলে আমি বসে থাকতাম,,,,
অতঃপর কিছু সময় নিরবাতা কাটলো আরহাম চোখ বন্ধ করে বলে উঠলো,,,
_ আমি কোনো সম্পর্কে ‌এই মূহুর্তে জড়াতে চাই না,,তবে,,, কাউকে যদি বেঁধে রাখতে চাই,,,
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললো
_ মানে,,,
আরহাম বিরক্তি নিয়ে বললো

_ I don’t know,,
আরহাম নিজের প্রতি বিরক্ত হচ্ছে,,সে নিজেই বুঝতে পারছে না সে কি চায়,,তবে তার মনে হচ্ছে কালকে করা ভুলটা যদি পূর্ন হতো তবে হয়তোবা এই অস্থিরতা থাকতো না,,, আরহামের মনে হচ্ছে সে ফিজিক্যাল ভাবেই অস্থির হচ্ছে,,তার নিজেকে এই মূহুর্তে শান্ত করা খুবি প্রয়জন না হলে অস্থিরতা কোমবে না,,,
আরহাম মায়ের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_ এদিকে কোনো বার(ক্লাব) অথবা আবাসিক হোটেল আছে মোম,,, actually আমার জানা নেই,,,
আমিনা বেগম হাতে ছেলের মুখে থাপ্পর মেরে রাগি কন্ঠে বললেন
_ অতিরিক্ত হচ্ছে না,, অভদ্র হয়ে যাচ্ছো,,,,এতোটা নিচে নামবে আমি ভাবিনি,,লাই দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলেছি,,, অসভ্য,,,বিয়ের কথা বলছি বিয়ে করবে না যত নাটক,, ইচ্ছা করছে জুতা দিয়ে মুখে ঠেসে দুটো বারি দেই
বলেই আমিনা বেগম উঠে চলে যেতে নিলেন,, আরহাম মায়ের হাত টেনে ধরে বললো ,,

_ Don’t go, Mom,,Sit here and stroke my head.,,,
আমিনা বেগম রাগি কন্ঠে বললেন
_ তোর সাথে কথা বলতেও আমার রাগ হচ্ছে,,হাত ছাড়,,,
_ please,,,
আরহামের ক্লান্ত কন্ঠে আমিনা বেগম বাধ্য হয়ে বসলেন,,, অতঃপর আরহাম মায়ের কোলে মাথা রাখলো,,আমিনা বেগম ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলেন বন্ধ চোখের কার্নিশ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে,,তবে কেন,,রাগে,,জিদে,,নাকি দুঃখে,,,
আমিনা বেগম হতভম্ব হয়ে গেলেন,,ছেলের দুই গালে হাত দিয়ে বিচলিত হয়ে বললেন
_ আরহাম,,কি হয়েছে বাবা,, তুই ঠিক আছিস,, কিছু হয়েছে মাকে বল বাবা,,কি হয়েছে,, কিছু নিয়ে টেন্স তুই,,,
অনেকটা উত্তেজিত হয়ে আমিনা বেগম কথা গুলো বললেন,, আরহাম চোখ খুলে মায়ের মুখের দিকে তাকালো,,আমিনা বেগম চম্কে উঠলেন,,ছেলের তার চোখ লাল হয়ে আছে,,,আমিনা বেগম উত্তেজিত কন্ঠে বললেন

_ নেশা করেছিস,,,
আরহাম মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ no mom,,,
_ তাহলে এই অবস্থা কেন,,উঠ কি হয়েছে মাকে সব খুলে বল,,
আরহাম গালে রাখা মায়ের দুই হাত নিজের হাতের তালুতে নিয়ে বললো
_ I don’t know mom,, আমার সাথে কি হচ্ছে আমি কিছু বুঝতে পারছি না,, Something is bothering me a lot. ,,I am in a lot of pain. You tell me what to do, give me a solution,,,
আমিনা বেগম ছেলেকে অস্থির দেখে নিজেও অস্থির হয়ে বললেন
_ কি হয়েছে না বললে কি করে সমাধান দিবো,,,
আরহাম ঠোঁটে ঠোঁট চেপে নিঃশ্বাস ফেললো,,,সে তো নিজেই জানে না তার কেন এমন লাগছে,, শুধু এতটুকুই জানে কালকের ওই ঘটনার পর থেকে তার সবকিছু বিরক্ত আর অস্থির লাগছে,,,সে বুঝতে পারছে না কেন এমন হচ্ছে,, মনে হচ্ছে অনেক কিছু বুকের ভিতর চেপে রেখে দিয়েছে,,তবে সেই জিনিসটা কি সে জানে না,,, তাহলে বুঝবে কি করে,,
আরহাম কিছু সময় নিয়ে বললো
_ আমি জানি না Mom,, তুমি আমাকে একটু ঘুম পাড়িয়ে দেও,,কাল রাতে ঘুমাতে পারিনি,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ছেলের কপালে চুমু খেলেন,, সন্তান সব সময় মায়ের কাছে ছোটোই থাকে,,সে যতোই বড় হোক না কেন,,,

আরাফ করিডোরে দাঁড়িয়ে আছে পাশে ইশিতা,, এমন সময় আরফ চোখ ছোটো ছোটো করে বলে উঠলো
_ এই পরিটা কে আবার,,
ইশিতা আরফের কথায় সামনে তাকাতেই দেখলো পরি সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করছে,,,ইশিতা মুখ বাঁকিয়ে বললো
_ নুবার home Tutor ,,,
আরাফ শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ what,,,,এতো সুন্দর মেয়ের আগমন এই বাড়িতে তাও এরকম প্রফেশনে,,, how possible,,,
ইশিতা আরফের দিকে তার নজর অনুসরন করে
বললো
_ idiot,,বউ সামনে দাঁড়িয়ে আছে খেয়াল আছে তোমার,,রুমে চলো,,,
বলেই ইশিতা আরাফের সামনে এসে দাঁড়ালো,,আরফ ইশিতাকে সরিয়ে বললো
_ আরে বাল সরো ,দেখতে দেও,,,
ইশিতা আরাফের গাল চেপে ধরে রাগি কন্ঠে বললো
_ রুমে চল,,তার পর তোর চোখ তুলবো,,
বলেই আরাফকে টেনে রুমে নিয়ে গেলো,,আজ আরাফ শেষ,,দুই একটা পিঠে তাল পড়া ভালো তবে সোঁজা হয়ে যাবে,,

পরি এসে লিভিং রুমের দিকে এগিয়ে গেলো যেখানে তানিয়া আমিনা বেগম আর আরহাম বসে আছে,,তানিয়া টিভি দেখছে আর সেই ২ ঘন্টা ধরে আরহাম এখানেই শুয়ে আছে,,আমিনা বেগমো ছেলেকে ডেকে বিরক্ত করেনি,,
পরি এগিয়ে এসে আমিনা বেগমকে সালাম দিলো,, আমিনা বেগম ছেলেকে খোঁচা মেরে উঠাতে উঠাতে সালামের উত্তর নিলো,,,
আরহাম হঠাৎ এরকম হওয়ায় টিপটিপ করে তাকালো তবে সামনে পরিকে দেখে ভুরু কুঁচকে নিলো সে,পরপর বিরক্তে আবারো চোখ বন্ধ করে নিলো,, ঘুম ঘুম কন্ঠে বললো
_ এই সৌন্দর্যের ভান্ডারকে এখান থেকে সরাও,,টিউব লাইটের মতো জ্বলছে,,চোখে বিঁধছে আমার,,,
বলতে বলতে আবারো আমিনা বেগমের কোলে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমালো,,,
আমিনা বেগম ছেলের বিরবির করে শুয়ে কপাল চাপড়ালো অতঃপর পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_ পরি মা কালকে কি ড্রাইভার ভালো মতো বাড়িতে পৌছে দিয়েছিলো,,আজ যেতে লেট করেনিতো,,
পরি এক গাল হেসে মিষ্টি কন্ঠে বললো
_ না আন্টি,,কোনো সমস্যা হয়নি,, উনি সময়ের আগেই বাসার সামনে যেএ বসে ছিলেন,,
আরহাম ঘুমের ভিতরে পরির কষ্ট শুনে নাক মুখ কুঁচকে বিরবির করে বললো
_ ছি,,, অতিরিক্ত ন্যাকামো,, উফ্,,মা এটাকে এখান থেকে সরাও,,,
আরহামের বিরবির কথা শুধু বসে থাকা তানিয়া আর আমিনা শুনলো,,আমিনা বেগম ছেলের মুখ চেপে ধরে বললো

_নুবা হয়তোবা রুমে তুমি রুমে যাও,,,,
পরি মাথা ঝুলিয়ে বললো
_ আচ্ছা আন্টি,,,
বলেই পরি গুটিগুটি পায়ে নুবাদের রুমে চলে গেলো,,পরি যেতেই আমিনা ছেলের মুখে মৃদু থাপ্পর দিয়ে বললো,,,
_ কিরকম ব্যবহার এটা,,
আরহাম বিরবির করে সুধালো,,
_ এটা জানো অতিরিক্ত কোনো কিছু ভালো না,,গায়ের রং দেখেই বোঝা যায় ক্রিম সুন্দরী,,,
আমিনা বেগম হতভম্ব হয়ে বললো
_ ও জন্মগতই এমন,, ফালতু কথা কম বল,,
_ হ্যাঁ তুমি তো যেএ জেনে আসছো,,
_ হ্যাঁ জেনে আসছি,, তোর বাপের থেকে খবর নিয়েছি,,পরি এমনি,, এমন একটা ছেলের বউ পেলে আমি ধন্য হবো,,,
আরহাম বিরক্তি নিয়ে মায়ের কোল থেকে উঠে বসে বললো
_ দিনের বেলা চেয়ে চেয়ে স্বপ্ন দেখছো,,
_ চুপ কর,,, বেয়াদব,,মেয়েটাকে আমার মনে ধরেছে,,
আরহাম আর কোনো কথা না বলে উঠে সিরি বেয়ে উপড়ে চলে গেলো,,,আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,

পরি নুবাকে পড়াচ্ছে,,নুবার কোলে আয়ার ফিড করছে,,,এতো সময় ঘুমিয়ে ছিলো এই মাত্র উঠলো,,,নুবা বাম হাত দিয়ে আয়ারকে কোলের ভিতর নিয়ে পড়ছে,,,
পরি তাকে দেখে বললো
_ তোমার মেয়ে বুঝি,,,
নুবা আজ রসিকতা না করে কেমন কাঠ কাঠ কন্ঠে বললো
_ না,,,
__ তালহে,,,,
_ আরশি আপুর বড় ভাই এর মেয়ে ,,তার wife নেই তাই আমিই আপাতত ওর দেখা শুনা করি,, ছোট্ট করে বলতে গেলে দুধ মা,,,এতো কিছু খুলে বলতে ভালো লাগে না মেম,, কষ্ট করে বুঝে নেন,,
পরি আর কিছু বললো না,,বড়লোকের কাড়বার,,এর ভিতরে হাজেরা হালকা নাস্তা এনে সামনে রাখলো,,পরি এক গাল হেসে বললো
_ এই সবের কি দরকার ছিলো আন্টি,,
হাজেরা বিনিময়ে শুধু হাসলো,,,

দের ঘন্টা মতো যেতেই আরহাম ঘুম ঘুম চোখে পকেটে হাত গুঁজে নুবার রুমে উপস্থিত হলো,,রুমে কেউ এসেছে দেখে পরি আর নুবা দুজনেই ফিরে তাকালো,,
আরহাম নুবার দিকে এক পলক তাকিয়ে পরির দিকে তাকালো,,নুবা চোখ সরিয়ে নিলো বিরবরি করে বললো
_ characterless,,,
পরি নুবার বিরবির শুনে বললো
_ কিছু বললে,,,
_ জ্বী না,,,এই বাড়িতে কিছু শকুন আছে সাবধানে থাকবেন,,,
পরি কপালে বেয়ে যাওয়া ছোট্ট চুল গুলো কানের পিছনে গুঁজে বললো
_ মানে,,উনারা কি শকুন পালে,,
নুবা ঠোঁট হেলিয়ে জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ না,,পালে না,, ভুলবশত ভালো মানুষের ঘড়ে হয়ে গেছে,, সাবধান,,,
নুবার কথা শুনে পরি ভুরু কুঁচকে নিলো,, কালকে মেয়েটা কতটা হাসি খুশি ছিলো আজ এরকম ঘুমড়ো মুখ করে রেখেছে কেন সেটাই বুঝলো না,,
আরহাম পরি পিছনে এসে দাড়িয়ে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ আয়ারকে দেও,,,
নুবা কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_ খাচ্ছে,,,,

আরহাম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে ওখানেই দাঁড়িয়ে রইলো,,মেয়েকে নিয়ে যাবে সে,,,
এদিকে পরি ইতস্তত হলো,,পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে ভাবতেই,,,নুবা কিছু সময় পর চোখ‌ তুলে আরহামের দিকে তাকিয়ে দেখলো আরহাম পরির চুলের দিকে তাকিয়ে আছে,,,,নুবাও বোঝার চেষ্টা করলো আর কোথায় কোথায় তাকাচ্ছে এই লোকটা,,,
তখন আরহাম নুবার দিকে তাকালো,, দুই জনের চোখে চোখ পড়ে গেলো,,নুবা মুখ বিকৃত করে পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_ চুল গুলো বেঁধেও আসতে পারেন মেম,,এতো সৌন্দর্য দেখার মানুষের অভাব নেই তাই না,,, কয়দিন পড় নজর লেগে ঝড়ে পড়বে,,সবার নজর আবার ভালো না,, কিছু কিছু মানুষের নজর বড্ড খারাপ হয়,,,
পরি শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ হ্যাঁ হ্যাঁ,, ঠিক বলেছো তবে আমি এভাবেই comfortable ফিল করি আরকি,,
নুবা আর কিছু বললো না,,পড়ায় মন দিলো,, কিছু সময় পর আয়ারা বুকের দুধ ছাড়তেই নুবা আয়ারকে আরহামের হাতে দিয়ে বললো
_ এখান থেকে যান,, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অন্যের সৌন্দর্য গিলে না খেএ,,,
আরামের রাগে দাত চেপে আসলো,, দাঁতে দাঁত পিষে ফিসফিস করে বললো
_ সিন ক্রিয়েট করতে আসিনি এখানে,,আসার পর থেকে অতিরিক্ত কথা বলছো,,,মুখ ভাঙ্গতে ২ মিনিটও লাগবে না,,,

পরি শুরু দুই জনের ফিসফিস করা হালকা শুনতে পেলো,,,
নুবা চুপ রইলো তার বয়েই গেছে তার সাথে মুখ নাড়তে,,,নুবা টেবিলে বসে বই খাতা বন্ধ করে বললো
_ আজ আর না মেম, আমার অনেক খারাপ লাগছে,,,
পরি মলিন কন্ঠে বললো
_কিন্তু,,,,নুবা অনেক পড়া বাকি তো
_ সমস্যা নেই শেষ হয়ে যাবে,,
পরি আর কথা বাড়ালো না,,নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে উঠে দাঁড়ালো,,পরপর পিছনে ঘুরতেই দেখলো আরহাম এখনো দাঁড়িয়ে আছে,,,পরি আরহামকে সৌজন্যমূলক ভাবে হাসি দিয়ে সালাম দিলো,,,
_ আসসালামুয়ালাইকুম ভাইয়া,,,
আরহাম কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_ “ওয়া আলাইকুমুস সালাম,,,
পরি এক পলক আয়ারাক দিকে তাকালো যে কিনা মাথা উল্টে পরির দিকে তাকিয়ে আছে,,,
পরি মুচকি হেসে বললো
_ আপনার বেবি,,,
_ হুম,,,
পরি এগিয়ে এসে বললো,,,
_ দিবেন একটু,,,

আরহাম নির্দ্বিধায় আয়ারাকে পরির কোলে দিলো,,কেন জানি আয়ারকে কোলে নিয়েই নুবার মনে হলো তার বুক থেকে আয়ারকে কেউ এই মাত্র কেড়ে নিলো,,এই মাত্র,,বুকের ভিতর বিষের মতো ব্যথা হলো তার,,,তবু চুপ থেকে পাশ কাটিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো,,,
পরি আয়ারকে কোলে নিয়ে গালে চুমু খেএ বললো
_ ও cute baby,,,
বলতে বলতে আয়ারকে নিয়ে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,, আরহাম কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে নিজেও রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,
এদিকে নুবার কেমন হিংসা হচ্ছে,,তাও আয়ারকে নিয়ে,,আয়রা কিভাবে পরির কোলে যাওয়ার জন্য তাকিয়ে ছিলো এটা ভেবেই নুবার বুক জ্বলে যাচ্ছে এতোটা জেলাস সে কখনো আরফকে নিয়েও করেনি যতটা আয়ারকে নিয়ে বুকে জ্বলন হচ্ছে,,, বিশেষ করে আয়ার পরির কোলে যাওয়ার জন্য তার দিকে তাকিয়ে ছিলো,,এই জিনিসটা তাকে বড্ড প্যারা দিচ্ছে,,
ভাই তুই বাচ্চা মানুষ,, অচেনা মানুষ কে দেখে কান্না করি,, তুই কেন কোলে যাওয়ার জন্য চেয়ে থাকবি,, তুই আরো যে তোকে আগলে রাগে তাকে খুজবি তা না তুমি নতুন মানুষের কোলে যাওয়ার জন্য ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থেকে নিজের দিকে আকর্ষণ করছিস,,,
পরপর নুবা ভালো একদম বাপের মতো,,গাছেরো খাবে তলারো কুড়াবে,,মায়ের কোলেও থাকবে মাশির কোলেও এমন অবস্থা,,,

আমিনা বেগম মিষ্টি হেসে বললো
_ আরে বসো তো,,গাড়ি দিয়েই তো যাবে,,একটু আলাপ করলে ক্ষতি কি,,
পরি একটু হেসে বললো
_ না মানে,,
_ কি না মানে,, আমাকে কি পছন্দ হয়নি নাকি,,
_ আরে তেমন আ না আন্টি,,
_ তালহে বসো ভালো মন্দ একটু আলাপ করি,আর দেখো আয়ারাও তোমার কোলে যেএ কতটা খুশি,,
নুবা ওয়াশরুম থেকে বেড় হয়ে দুই হাত মুখে চেপে ধরলো,,,এতোটা হিংসা হচ্ছে তার যা বলার মতো না,,,নুবা বুঝতে পারছে না কেন হিংসা হচ্ছে কারন আয়ারাতো তার সন্তান না,,
আসলে তার সন্তান না দেখেই হিংসে হচ্ছে কারণ কখন কে কোথা থেকে তার থেকে ছিনিয়ে নেয়, কিন্তু নিজের সন্তান হলে তো এমন লাগতো না,,যতো যাই হোক তার সন্তান তারি থাকতো

নুবা অনেকটা সময় পর রুম থেকে বেড় হলো,,প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে,,,আসলে সে দেখতে বেড় হয়েছে আয়ারা কি করছে,,,
নুবা লিভিং রুমে এসে রান্না ঘড়ে যেতে যেতে আর চোখে পিরর দিকে তাকালো,,তার চোখ যেনো তীক্ষ্ণ,,সরু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো আয়রার দিকে,,যে কিনা পরির চুল ধরে খেলছে আর খিলখিল করে হাসছে,,,
পরি আমিনা বেগমের সাথে কথা বলছে আর আয়রা ভাবছে তার সাথে,,তাই হাত পা নেড়ে হাসছে,,,
অতঃপর নুবা আরো খেয়াল করলো আরহাম পরির পাশেই বসে আছে,,,পরির সাথে একটা single সোফায় বসে আছে,,,তার দৃষ্টি পরির কোলে থাকা আয়ারার দিকে,,,,
নুবা আয়রার দিকে চেয়ে চেয়ে রান্না ঘড়ে যেতে নিয়ে তানিয়ার সাথে ধাক্কা খেলো,,,তানিয়ার হাতে ছিলো সন্ধ্যার গড়ম গড়ম চা ,,,তা যেএ নুবার শরীরে পড়লো,,,
নুবা লাফিয়ে উঠলো,,,তানিয়া যেনো হতভম্ব হয়ে গেলো,,,নুবার শরীর থেকে চা ঝাড়তে ঝাড়তে বললো
_ কোন দিকে তাকায় চলো তুমি,,,
নুবার নাক মুখ কুঁচকে আসলো,,, একদম পেটে যেএ পড়েছে নুবা পেট চেপে ধরে বললো
_ খেয়াল করিনি,,,
বলেই গুজা হয়ে কোনো মতে হাঁটতে হাঁটতে রুমে চলে গেলো,,,,, এদিকে পরি,,আমিনা বেগম সবাই তাকিয়ে আছে কি হলো,,,হাজেরা বেগম পিছন থেকে ছুটৈ এসে বললো
_ কি হইলো,,
তানিয়া বিরবির করে বললো
_ নুবা আপার গায়ে গড়ম চা পড়ে গেছে,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ চোখ খুলে অন্য দিকে রেখে,,আর একদিকে যেতে গেলে এমন হবে স্বাভাবিক,,,

হাজেরা রুমে যেএ দেখলো নুবা ওয়াশরুমে যেএ পেটের উপর পানি ডালছে,,,হাজেরা এগিয়ে গেলো চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ দেখি কি হয়েছে,,,
নুবার চোখ যন্ত্রণায় ভরে উঠেছে,,,হাজের নুবার পেটের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলো,,,নাভি থেকে কিছুটা উপরে বাম দিকে চা পড়ে লাল হয়ে আছে,,,
হাজেরা বেগম অনেকটা চিন্তিত হয়ে বললো,,
_ দাঁড়া আমি বরফ নিয়ে আসি
বলেই রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,
রান্না ঘড়ের দিকে যেতে নিলেই আমিনা বেগম মৃদু কন্ঠে বললো
_ হাজেরা বেশি লেগেছে কি,,,
হাজেরা যেতে যেতে বললো
_ মেয়ের আমার পেট পুড়ে গেছে আপা,,,,
আমিনা বেগম উঠে দাঁড়ালো,,পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_ তুমি বসো একটু দেখে আসি,,একটা না একটা অকাজ না করলে এদের ভালো লাগে না,,,,
আমিনা এগিয়ে গেলেন,,সাথে হাজেরা,,

হাজেরা মেয়ের পেটে বরফ ঢলে দিতে দিতে বললেন
_ ভালো মতো চলাফেরা করতে পারিস না,,কি অবস্থা হলো,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ এই মেয়েটাও না,,, দাঁড়া আমি মলম নিয়ে আসি,,,
পরি আয়রার হাসি দেখে মুগ্ধ হলো,,, বাচ্চাটা এতো সুন্দর করে হাসে,, ইচ্ছা করছে কলিজার সাথে লাগিয়ে রাখতে,,,
পরি আয়রাকে দুই হাত দিয়ে উঠিয়ে গালে মুখে চুমু খেলো,, আরহাম গম্ভীর কন্ঠে বললো্
_ Don’t kiss, it will cause infection.,,
আরহামের কথায় পরি একটু তাজ্জব বনে গেলো,,চুমু খেলে ইনফেকশন হয়ে যাবে,,আজব মানুষ তো,,,পরি আয়রাকে কোলে রেখে বিরবির করে বললো
_ oh,,, sorry,,,,
আরহাম উঠে দাঁড়ালো অতঃপর পরির কোল থেকে মেয়েকে নিয়ে নুবার রুমের দিকে গেলো,, হঠাৎ এরকম আয়ারাকে কেড়ে নেওয়ায় পরি হতভম্ব হয়ে গেলো,,, শুধু আরহামের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো,,,
আরহাম রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ভিতরে ফেলে দেখলো নুবা শুয়ে আছে,,,আমিনা বেগম মলম লাগিয়ে দিচ্ছে,,, নিশ্চয় অনেকটা পুড়েছে,,,
আমিনা বেগম মলম দেওয়া শেষ করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো

_ কোন দিকে তাকিয়ে হাঁটিসরে মা তুই,,,আর এই তানিয়াও দেখে কাজ করে না,,,সব কানা এক সাথে,,
নুবা চুপটি করে রইলো,, চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,,ভিতরে ভিতরে এখনো জ্বলছে,,,নুবা দুই হাত দিয়ে মাথায় দেওয়া বালিশ খামচে ধরে সাপের ন্যায় মুচড়ে উঠে বললো
_ অনেক জ্বলছে,,
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ জ্বলবেই তো,,তোকে কে বলেছিলো কানার মতো চলতে,,একদম ঠিক হয়েছে,,,
আরহাম ওখান থেকে সরে গেলো আর বিরবির করে বললো
_ একদিকে তাকিয়ে অন্য দিকে হাঁটলে এমনি হয়,,
আসলে সে খেলায় করেছিলো নুবা আয়ারার দিকে তাকিয়ে সামনের দিকে হেঁটে যাচ্ছে,,, দুর্ঘটনা ঘটবে স্বাভাবিক,,,,

তখন প্রায় রাত,,, স্বাভাবিক ভাবেই যে যার মতো কাজে ব্যস্ত,,নুবা সোজা হয়ে শুয়ে আছে,,,আয়রা বুকের দুধ টানছে,,,তবে এভাবে খেতে আয়ারার বেশ কষ্ট হচ্ছে,,,,
তবে নুবা মোটেও কাত হবে না,,,এখনো ভিতরে ভিতরে জ্বলছে তার,,,তাখন পরির কোলে যেএ কি হাসি টাই না হাসলো,,,এখন যাক তার কাছে,,,
নুবা সোজা হয়ে থাকায় আয়রার মুখ থেকে বার বরা তার অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিসটা ছুটে যাচ্ছে,,আর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে উঠছে সে,,,নুবা সব শুনেও চুপ,,আয়ারকে কাঁদতে দেখে নুবা প্রায় কান বন্ধ করে রেখছে,,,
একটু পরে আয়ারা না খেতে পেরে একটু বেশিই জোরে কেঁদে উঠলো,,, হিংসুটে নুবা আয়ারকে পাশে শুইয়ে দিয়ে অন্য পাশে ঘুরে বললো

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৭

_ অন্য মানুষের কোলে যাওয়ার জন্য ওত পেতে থাকোস,,এখন যা,,, আমার কাছে কি,,,,
আয়রা নুবার পিঠে ছোট্ট ছোট্ট হাত ছুঁয়ে কান্না করলো,,,যেনো বিনতি করলো এতো নিষ্ঠুর না হতে,,,
তবে নুবা এক হাত দিয়ে কান চেপে ধরে রইলো,,,আর ভাবলো অন্ততপক্ষে ৫ টা মিনিট কান্না করুক তার মনটা শান্ত হয়ে যাবে,,, হিংসে ভাবটা একটু হলেও কমবে,,,
তবে কিছু সময় পড়েই আয়ার কান্না অফ হয়ে গেলো,,, হঠাৎ করেই আয়রার কান্না অফ হয়ে যাওয়াতে নুবা ভুরু কুঁচকে নিলো,,,হলোটা কি,,এই মেয়ে তো এ

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here