নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৯
সুরাইয়া জিয়াসমিন
তবে কিছু সময় পড়েই আয়ার কান্না অফ হয়ে গেলো,,, হঠাৎ করেই আয়রার কান্না অফ হয়ে যাওয়াতে নুবা ভুরু কুঁচকে নিলো,,,হলোটা কি,,এই মেয়ে তো এভাবে কান্না অফ করার মতো মানুষ না,,
নুবা ভুরু কুঁচকে কিছুটা ঘুরে পিছনে তাকালো,,তবে আয়রা নেই,,,নুবা পুরোপুরি পিছনে ঘুরে সামনে তাকাতেই দেখলো,, আরহাম মেয়েকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,,
নুবার মুখের রং উড়ে গেলো,ফাল দিয়ে বিছানায় উঠে বসে,,আরহামের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো,,,
আরহাম কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_ কান্না করছিলো,,কানে যায়নি সেই শব্দ,,,
নুবা ঘ্যাড়ত্যারার মতো মাথা আস্তে আস্তে দুই পাশে ঝুঁকিয়ে বললো
_ নাআআআ,,,,
পরপর আরহাম নুবার মাথা থেকে মুখ সরিয়ে পেটের দিকে তাকালো,,,থ্রিপিস সরে আছে,,পেটে মলম লাগানো,,,
আরহামকে এভাবে তাকাতে দেখে নুবা খেয়াল করলো তার ড্রেস ঠিক নেই,,,নুবা তাড়াতাড়ি পেট ডেকে রাগি কন্ঠে বললো,,
_ রুম থেকে বেড় হোন,,,আসতে না করেছি তাও নির্লজ্জর মতো চলে আসেন
আরহাম কিছু বললো না,, শুধু চেয়ে রইলো,,নুবার ভয় হলো তাই সে বিছানা থেকে নেমে বললো
_ ওকে রেখে আপনি রুম থেকে বেড় হোন,, উল্টা পাল্টা কিছু করার ভাবলে আমি এখনি চিৎকার করে সবাইকে একত্রিত করবো বলে দিলাম,,,
নুবার কন্ঠ কাঁপছে,, স্পস্ট সে আরহামের এরকম এক ধীকা চাওহনি দেখে ভয় পাচ্ছে ,,তবে চোখে মুখে রাগ প্রকাশ পাচ্ছে,,,
আরহাম কিচ্ছুটি বললো না,,আয়ারকে বিছানায় রেখে চলে গেলো,,,,
নুবা বুকে হাত দিয়ে নিশ্বাস ফেললো,,পরপর আয়রার দিকে এগিয়ে যেএ একটু রাগি কন্ঠে বললো
_ কান্না করে বাপকে ডাকছিস,,,আমি তোকে না খাওয়ালে তোর কোন বাপ এসে তোকে খাওয়াই সেটাই দেখবো আমি,,,
আয়রা ঠোঁট ফুলালো,,,এখন গলা ফাটিয়ে কেঁদে দিবে এমন অবস্থা,,,নুবা পাশে শুয়ে আয়ারকে টেনে বুকের দুধ দিলো,,পিঠে হাত বুলিয়ে বললো
_ চুপ,, শুধু কান্না,,,,কানের পোকা মেরে ফেলছে আমার,,
আয়রা ফিড করতে করতে ফুঁপিয়ে উঠলো,,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আয়রার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
_থাক কান্না করে না,,, আন্টি তো মজা করেছে মা,, তুমি আন্টিকে ছাড়া কারো কাছে যাবে না,,, তাহলে আন্টি একটুও রাগ করবে না,,,
বলতে বলতে মাথা ঝুঁকিয়ে আয়রার মাথায় চুমু খেলো,,,আয়রা আরো গেঁথে গেলো তার সাথে,,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,, এতোটা ঈর্ষা কি নিয়ে,,, শুধু কি বাচ্চাটাকে নিয়ে,,??
কেটেছে কয়েকটা দিন, পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছু। সময় বদলেছে, মানুষও বদলেছে, তবু কিছু স্মৃতি আজও আগের মতোই রয়ে গেছে,,
নুবা পরির কাছে পড়ছে,,, ইদানিং পরির সাথে আমিনা বেগম একটু বেশিই মিশে গেছে,,, তবে এতে নুবার যায় আসে না,,,
নুবাকে পড়ানো শেষ করে পরি মিষ্টি কন্ঠে বললো
_ তুমি কিন্তু বড্ড পড়া চোর,,,কাল যাতে এগুলো সুন্দর মতো পাই
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ আচ্ছা,,,
পরি উঠে দাঁড়ালো,,নিজের জিনিস পত্র নিয়ে বাইরে গেলো,,নুবা সব গুছিয়ে রেখে পরির পিছন পিছন গেলো,, কারণ সে জানে আমিনা বেগম এখন পরিকে বসিয়ে রাখবেন,, সন্ধা হলে যেতে দিবেন,,এই পুরো সময়টা আয়রা পরির কাছেই থাকবে,,,এই জিনিস টা নুবাকে বড্ড প্যারা দেয়,,,
আরশি সামনে রাখা বিস্কুট খেতে খেতে মাকে ফিসফিস করে বললো,,
_ তুমি তো বেশ চালাক আম্মু,,,আয়রার সাথে মেমের ভালো একটা বোর্ডিং তৈরি করে প্রথমে মেমকে হাত করছো তাই না,,বুঝি বুঝি সব বুঝি,,
আমিনা বেগম মেয়ের হাত চেপে ধরে ফিসফিস করে বললে
_ হ্যাঁ হ্যাঁ,,এবার মুখটা বন্ধ রাখ,,,
পরপর আমিনা বেগম পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_ তা তোমার আম্মু আব্বু কেমন আছে,,
_ হ্যাঁ সবাই ভালো আছে,,,
তাদের কথাপোকথনের ভিতরে নুবা এসে ঠিক পরির সামনের সোফায় বসে আয়রার দিকে তাকালো,,যে কিনা বরাবরের মতোই প্রচন্ড খুশি,,,
আমিনা বেগম আয়রার দিকে তাকিয়ে ইনিয়ে বনিয়ে বললেন
_ আয়রার হয়তোবা তোমাকে অনেক পছন্দ হয়েছে,,কিভাবে খালছে,,
নুবা একটু হেসে কথার ভিতর খোঁচা মেরে বললো
_ হ্যাঁ সুন্দর মানুষকে ভালো তো লাগবেই,,,বাপেল মতো লুচ্চা যে,,(লাস্ট কথা টুকু বিরবির করে বললো)
আমিনা বেগম হাতে হাত কচলে হেসে বললো
_ না মানে,,আয়ার অচেনা মানুষের কাছে গেলে কান্না করে কিন্তু তোমার কাছে কতটা comfortable,,
পরি একটু হাসলো আর বললো
_ আমার বাচ্চা অনেক ভালো লাগে,,, আমার ছোটো বোনকে নিজের হাতে মানুষ করেছি তো তাই,,
পাশ থেকে নুবা জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ কিন্তুআমার জানা মতে,,অচেনা মানুষের কোলে তো আয়ারা কখনোই যায়ই নি,,, ,,,
ইশিতা পাশ থেকে তাল মিলিয়ে বললো
_ হ্যাঁ,,তার উপর আমিও তো আয়রার জন্য অচেনা তবে কখনোই ও আমার কোলে এসে কান্না করেনি
বলেই ইশিতা হাসলো,,আসলে সেও চায় না পরি এই বাড়িতে আসুক,, কারণ আরাফের নজর যে ভালো না তা সে ইতি মধ্যেই বুঝতে পেরেছে,,সে কিছুতে চায় না তার সংসারে অশান্তি লাগুক,, অবশ্য কয়দিনের ভিতরে তারা হানিমুনে যাচ্ছে,,,তবে তাও ইশিতা চায় না তার থেকে সুন্দর মানুষ এই বাড়িতে আসুক,,,
কেউ যাতে না বলতে পারে ছোটো বউ এর থেকে বড় বউ সুন্দর,,আর এদিক দিয়ে নুবা শুধু আয়রার জন্য তেতে আছে,,তাছাড়া কে এই বাড়িতে আসে না আসে তার কোনো যায় আসে না,,,
তাদের conversation করে ভিতরে আরহাম পকেটে হাত গুটিয়ে সিরি দিয়ে নেমে আসলো,,,পরি এক পলক সেদিকে তাকালো,, অতঃপর আবার আয়ারার দিকে,,,,
আরহাম নামতে নামতে নুবার দিকে তাকালো যে কিনা আয়ারার দিকে তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি তাকিয়ে আছে,,বারবার হাত কচলাচ্ছে,,,যেনো আয়ারাকে পরির থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য বাজ পাখির মতো সুযোগ পেতে আছে,,,
নুবার মন বারবার বলছে,,”একটু কান্না কর আয়রা,,একটু কান্না কর” যাতে ফিড করানোর বাহানায় সে আয়ারকে এখান থেকে নিয়ে যেতে পারে,,,তার হিংসায় কেমন যেনো শরীর পুড়ে যাচ্ছে,,,
নুবা পাশ ফিরে তাকাতেই দেখলো আরহাম আসছে,,সে উঠে যেতে চাইলো তবে আয়ারকে এভাবে অন্যের কোলে মন খুলে আনন্দ করতে দেখে নুবার অসহ্য লাগলো,,,মনে হচ্ছে আয়রা শুধু তার,,,,
নুবা উঠে এসে পরির সামনে হাত পেতে বললো
_ ওকে দেন মেম,, ক্ষুধা লাগেছে হয়তোবা,,,
পরি আয়রাকে নুবার কোলে দিতে নিলো,,নুবার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে করে উঠলো,,
তবে আমিনা বেগম পরির হাত ধরে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ ক্ষুধা লাগলে তো কান্নাই করবে,,,এখন খাবে না ও,,,
নুবা কাতর কন্ঠে বললো
_ না মানে দুপুর থেকে কিছু খায়নি,,,
আমিনা বেগম বিরক্তি নিয়ে বললেন
_ ওর ক্ষুধা লাগলে ও কান্না করে বুঝিয়ে দিবে,,,তোর এতো চিন্তা করবে হবে না,,,
নুবা তাও যেনো যেতে চাইলো না,,,বিরবির করে বললো
_ দুপুর থেকে কিছু খায়নি চাচি হয়তোবা সবার সাথে আছে দেখে কান্না করছে না,,,
পরি আয়রাকে এগিয়ে দিয়ে বললো
_ আচ্ছা তুমি ফিড করিয়ে নিয়ে আসো,,,
তবে আমিনা বেগম আয়ারকে দিতে দিলেন না,,,নুবাকে একটু ধমকে বললেন
_ বল্লাম তো ওর পেট খালি হলে ও কান্নাই করবে,,,যা তুই,,,তোর না সামনে পরিক্ষা,,এখানে বসে আড্ডা না দিয়ে পড়তে বস,,যা,,,
নুবার আমিনা বেগমের কথায় প্রচন্ড খারাপ লাগলো,,বাড়িয়ে দেওয়া হাত গুটিয়ে নিলো সে,,আয়রা ফিরেও তাকালো না নুবার দিকে এই জিনিস টা নুবাকে আরো পিরা দিলো,,
নুবা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বললো
_ আচ্ছা,,,
নুবার অনেক খারাপ লাগলো,,,বারিতে দেওয়া দু হাতে সে কিছুই পেলো না,, শুধু শূন্যতা,,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ধীরো পায়ে রুমে চলে গেলো,,,,
আমিনা বেগম পরির দিকে তাকিয়ে বললেন
_ ,,,ও একটু আয়ারকে ফিড করায় তো তাই আর কি একটু আয়রার জন্য চিন্তিত থাকে,,,
পরি হেসে বললো
_ ও,,,
নুবা রুমে যেএ খালি হাতে বিছানায় বসলো,,,সবার সমানে অপমান হয়ে গেলো তার,,,এতো করে চাইলো তবে পেলো না,,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নিজেকে বুঝালো,,,
_ অতিরিক্ত করছিস তুই,,,তোর দায়িত্ব শুধু আয়ারাকে ফিড করানো,,এর ব্যতিত কিছু না,,, just চিল নুবা,,,কুল,,,এখানে কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই,,,
নুবা নিজেকে অনেক টা শান্ত করলো,,,
নুবা পড়ার টেবিলে বসে আছে,,তখন অনেকটাই রাত,,,হাজেরা হাতে সময় পেয়ে খেতা সেলাই করছেন,,,নুবা এমন সময় বলে উঠলো
_ মা তোমার কি মনে হয় না চাচি পরি মেমের সাথে একটু বেশিই ওভার অ্যাকটিং করছে,,,আয়ারকে সবসময় জোর করে তার কাছে ধরিয়ে দিচ্ছে,,,
বলেই নুবা মুখে কলম দিয়ে চিবাতে লাগলে,,,
আমিনা খেতায় ফোর তুলতে তুলতে বললেন
_ করবেই তো,,তানিয়ার থেকে শুনলাম পরিকে নাকি তোর চাচির মনে ধরেছে,,আরহামের সাথে বিয়ে দিবে,,,তাই হয়তোবা আয়রার সাথে ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে,,,
কথা টুকু শুনে নুবার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেলো,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,এই কারনে না যে পরি আর আরহামের বিয়ে হবে,,এই কারনে যে আয়রা তার থেকে আলাদা হয়ে যাবে,, তাদের বিয়ে হওয়ার পর হয়তোবা নুবার আর কোনো অধিকার থাকবে না আয়রার উপর,,তখন তো নুবার আয়ারকে ফিডো করাতে হবে না,,
কথাটুকু ভেবে নুবা শুকনো ঢোক গিললো,,,বুকটা কাঁপছে তার,,
নুবা বই এর দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো
_ ও,,তালহে আরহাম ভাইয়ের বিয়ে হয়ে গেলে তো আয়ারাকে আর আমার কাছে দিবে না,,,
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ কে জানে বাবা,,,না দিলে নাই,,,কেন তোর আবার কি হয়েছে,,
বলেই মেয়ের দিকে তাকালেন হাজেরা,,নুবা মৃদু কন্ঠে বললো
_ না তেমন কিছু না,,,এমনি বল্লাম আর কি,,
হাজের মেয়ের কথার ধরন দেখে কিছু একটা টের পেয়ে বললেন
_ আয়রা আমাদের কিছুই হয় না নুবা,,, হ্যাঁ এতো দিন নিজের কাছে রেখেছিস হঠাৎ করেই সরিয়ে নিলে খারাপ লাগবে এটাই স্বাভাবিক,,তবে মেনে নেওয়াই উত্তম,, কারণ আয়রা আমাদের রক্তের কিছু না,,আর না সম্পর্কে তোর কিছু হয়,,, এমন যদি কিছু হয় মনে করবি কয়দিন তোর কাছে রেখেছিলো এখন যার মেয়ে সে নিয়ে যাচ্ছে,,,বুঝলি,,
নুবা মাথা ঝুকালো,,তবে চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে বইয়ের পাতায় পড়লো,,,আর ভাবলো সেই সময় নুবা চাইলেও আয়ারকে তার মায়ের কাছ থেকে নিতে পারবে না,,নুবার বুক ফেটে দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো,,,
এরকম কম একটা মূহুর্তে আমিনা বেগম আয়ারকে নিয়ে এসে হাঁপিয়ে যাওয়া কন্ঠে বললেন
_ একটু খাওইয়ে দে তো মা,,,
নুবা সেদিকে এক পলক তাকিয়ে বললো
_ দেও,,
আমিনা বেগম এগিয়ে যেএ আয়রাকে কোলে দিতে দিতে বললো
_ আহারে তোর পড়ার সময় বিরক্ত করলাম,,
নুবা আয়ারকে ফিড করাতে করাতে বললো
_ না সমস্যা নেই,,,
নুবা শুধু নিরব আয়ারার দিকে তাকিয়ে রইলো,,বুক ফেটে দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো তার,,নুবা শুধু বিরবির করে বললো
_ sorry রে আমি ভুলেই গেছিলাম তুই আমার কিছু না,, শুধু শুধু হিংসা করে আমার লাভ নেই,,,যারটা তারি থাকে আমি বললেই কি আমার হবে নাকি,,
বলেই নুবা আয়রার কপালে চুমু খেএ বললো
_ আর মায়া বাড়াবো না,,, আমার থেকে distance রাখবি বুঝলি,,,
আরহাম চুপচাপ বসে আছে,,মাথার ভিতরে তার অনেক কথা ঘুরছে,,,আজকের ঘটনা তাকে বেশ চিন্তিত করছে,,তখন নুবার আয়রাকে কোলে নেওয়ার জন্য হাত পেতে থাকা,,তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া,,, কেমন জানি অদ্ভুত সব কিছু,,,
গত কয়দিন ধরেই আরহাম খেলায় করছে নুবা আয়ারকে পরির কাছে দেওয়া সয্যই করতে পারে না,,যখনি আয়রা পরির কোলে থাকে তখনি নুবা সবকিছু রেখে পরির আগে পিছে ঘুরতে থাকে,,,চোখে মুখে তার এক রকম তৃষ্ণা আর আগুন দেখা যায়,,,
যেনো কিছু নিয়ে সে হিংসায় জ্বলে পুরে ছাই হচ্ছে,,, আরহাম বিছানায় উঠে বসে মেয়ের দিকে তাকালো,,আর ভাবলো আয়রাকে নিয়ে নুবার মনে হিংসা নয় তো,,নাকি অন্য ব্যপার,,নাকি পরির সৌন্দর্যে ফলে নুবা ঈর্ষা অনুভব করে,,,
কিন্তু এমন না,,নুবা এমন মেয়ে না,,, যতটুকু নুবাকে চিনে সে সুন্দর মেয়েদের দেখলে ছেলেদের মতো ফ্লাট করা শুরু করে,, সেদিন নিজ চোখে আরহাম দেখছে নুবা লিভিং রুমে বসে পরির সাথে মজা করছিলো,, প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলো তার,,যতখন না আয়রাকে তার কোলে দেওয়া হলো,,আয়রাকে তার কোলে দিতেই নুবার মুখটা চুপসে গেলো,,যেনো মুখের সব রং উড়ে গেলো,,,
আরহাম কিছু সময় মাথা খাটিয়ে আরো ভাবলো,,,যত সময় আয়রা পরির কোলে থাকে তত সময় নুবার চোখ একটুও পরির থেকে সরে না,,নুবা খেলতে থাকা আয়রার দিকে তাকিয়ে থাকে,,,ইনিয়ে বিনিয়ে কোলে নিতে চায়,,তবে কি বাচ্চাটাকে নিয়ে সে জেলাস,,তার কোলে ব্যতিত অন্যদের কোলে দিয়ে,,
নাকি বাড়ির সবাই তাকে priority না দিয়ে পরিকে দেওয়ায় সে জেলাস,,না এমন টা না,, কারণ এমন হলে নুবা পরির দিকে তাকিয়ে থাকতো,,তবে সে আয়রার দিকে তাকিয়ে থাকে,,, প্রশংসা করার সময় নুবার মুখে মিথ্যের ছলনা ছিলো না তাই পরিকে নিয়ে জেলাস না,,,
পরপর কিছু একটা ভেবেই আরহাম চোখ খুলে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_ আয়রা কে নিয়ে এতো কিসের জেলাস ওর,,,বাড়ির কেউ আয়ারকে কোলে নিলে কখনোই ওর চোখে অস্থিরতা দেখি না তবে পরি কোলে নিলে কেন এমন করে,,,
আসলে নুবা বুঝতে পারে পরিকে স্থায়ী ভাবে আয়ারার মা বানানো হবে,,তার পর পরি আয়ারকে কেড়ে নিবে তার থেকে,,,এই জিনিসটা তাকে ভিষন প্যারা দেয়,,
দুপুর ২ টা,,পরি কিছু সময় পড়েই নুবাকে পড়াতে আসবে,,,নুবা দুপুর থেকে আয়ারকে ফিড করায়নি,,, কারণ একটাই বিকালে পরি যখন আয়রাকে কোলে নিবে তখন ফিড করাবে,,,সেদিন রাতে নিজেকে এতো বুঝিয়েও নুবা বুঝতে পারেনি এটা সে ঠিক করছে না,,,
বিকাল ৫ টা প্রতিদিনের মতো আমিনা বেগম পরিকে নিয়ে গল্পের আশরে বসেছেন,,পরিও ইদানিং সবার সাথে বেশ ফ্রি হয়েছে,, বিশেষ করে আমিনার সাথে,,
এদিকে ইশিতা আর আরাফ কাল করশু টিকিট কেটে মালদ্বীপ গেছে,,, ছোট্ট খাটো টুর দিতে,,, বিশেষ করে হানিমুনের জন্য,,,ইশিতার ওখানে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো তাই,,,
আরহাম তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নুবার দিকে তাকিয়ে আছে,,, প্রতিদিন বিকালে আমিনা এক প্রকার জোর করে ছেলেকে এনে এই আশরে বসায়,,এতে অবশ্য আরহামের কোনো intrastd নেই,,,
আরহাম তো শুধু নুবার বাচ্চামো কর্মকান্ড দেখতে আসে,,, এদিকে নুবা আয়রার দিকে তাকিয়ে আছে,, ঠোঁট দিয়ে কিছু জপ করছে সে যেনো মন্ত পড়ছে,,,হাত দুটো একটা আর একটার সাথে ঢলছে,,ভিষন চিন্তিত লাগছে তাকে,,
কিছু মিনিটের মধ্যেই আয়রা দুপুর থেকে কিছু না খাওয়ায় ক্ষুধার তারনায় ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে উঠলো,,,নুবার রহস্যময়ী মুখে সাথে সাথে হাসি ফুটে উঠলো,,, আস্তে করে খুশি হয়ে বাচ্চাদের মতো হাতে তালি দিলো সে,,,
আমিনা বেগম নুবাকে কিছু বলার আগেই ঝড়ের গতিতে এসে আয়ারকে পরির কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে বললো
_ ওর ক্ষুধা লেগেছে আমি খাওইয়ে আসি,,
বলেই দাঁত কেলালো,,আজ সে সফল পরির থেকে আয়ারকে কেড়ে নিতে,,,আমিনাও আয়রার কান্না দেখে কিছু বলতে পারলো না,,নুবা বিরবরি করে বললো
_ প্রত্যেকদিন এই সময়ে কান্না করবি মা,,,
বলেই আয়রার মুখে ঠোঁটে,,, গালে ঠেসে ঠেসে চুমু খেলো,,আয়রা দুই হাত দিয়ে নুবার মুখ আঁকড়ে ধরলো,,, সামনের চুল টেনে ধরলো,,
নুবাকে এভাবে চুমু খেতে দেখে পরি মিষ্টি কন্ঠে বলে উঠলো
_ ইনফেকশন হয়ে যাবে নুবা এভাবে চুমু খায় না,,,
নুবা ফিরে তাকালো কিছু একটা বলতেই যাবে তার আগেই আরহাম বলে উঠলো
_ সবার চুমুতে ইনফেকশন হয় না মিস,,,তাই না নুবু,,,
বলেই নুবার দিকে তাকালো,,,নুবার প্রথম বার আরহামকে একটা ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছা হলো,,,তবে দিলো না সে,,আয়ারকে নিয়ে চলে গেলো,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,,আয়ারাকে কোলে নেওয়ার জন্য সাপের মতো মুচরামুচরি করছিলো মেয়েটা,,এখন আয়ারকে পেয়ে যেনো বিশ্ব জয় করে ফেলেছে,,,এতোটা হিংসুটে কি করে হতে পারে একটা মানুষ তাও একটা বাচ্চাকে নিয়ে,,যে তার কিছু হয়ও না,, how possible,,
কাল থেকে exam শুরু,,নুবা কোনো মতে সব পড়েছে,,,জানে না কি হবে,,,,নুবা গত কয়দিন পড়ার টেবিল থেকে উঠেনি সে ফেল করতে চায় না,,,
নুবার পড়ার ভিতরে হারুন মির্জা নুবাদের রুমে প্রবেশ করলো,,সাথে আরহাম,,,,
হারুন মির্জা এসেই নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
_ পড়ছিস মা,,
হঠাৎ কারো কথা বলায় নুবা চম্কে উঠলো ,,পিছন ঘুরে তাদের দেখে বললো
_ হ্যাঁ,, হ্যাঁ পড়ছি,,, হঠাৎ তুমি এখানে যে,,,
হারুন মির্জা নুবার পাশের চেয়ার টেনে বসে বললো
_ তোর মা কোথায়,,
_ বাইরে মনে হয়,বসো ডেকে আনছি,,
তখনি পিছন থেকে হাজেরা বলে উঠলো,,
_ ডাকতে হবে না এখানেই আছি,,
মাকে দেখে নুবা আবারো চেয়ারে বসে পড়লো,,
হারুন মির্জা হাজেরাকে ডেকে বললো
_ এখানে এসে বসো হাজেরা,,,
হাজেরা যেএ বিছানায় বসে বললো
_ কিছু বলবেন নাকি,,আপা বললো
হারুন মির্জা হেসে বললো
_ হ্যাঁ,,, তোমার আর নুবার কিছু সাইন দরকার,,,
হাজেরা ভুরু কুঁচকে নিলো,,, হারুন মির্জা হাজেরার মতলব বুঝে বললো
_ দাঁড়াও বলছি,,,নুবা তুই শুন,,তোর মা এই সব বুঝবে না,,,
নুবা তাকালো চাচার দিকে,,, হারুন মির্জা শান্ত কন্ঠে বললেন
_ কম্পানিতে কিছু সেয়ার কিনেছি তোদের নামে,,আশা করছি লাভ হবে,, সেগুলো তোর নামে কথা সঞ্চয়ে জমা হবে,,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে বললো
_ সঞ্চয়,,তাও আমার নামে,,,,
_হ্যা,,বেশি ভাবার দরকার নেই,,যা করছি তোদের ভালোর জন্যই করছি,, অনেক কিছুই আছে তোদের নামে যা সময় হলে বলবো এখন এখানে সাইন করে দে,,,,
নুবা কাগজ গুলোর দিকে তাকিয়ে রইলো,, হারুন মির্জা হেসে বললো.
_ তোর অবিশ্বাস হলে তুই পড়ে দেখতে পারিস,,
নুবা অবাক হয়ে বললো
_ না না,, অবিশ্বাস হওয়ার কি আছে চাচা,,, তোমাকে আমরা ভরসা করি,,দেও কোথায় সাইন করবো,,,
হারুন মির্জা দেখিয়ে দিলেন কোথায় কোথায় সাইন করতে হবে,,নুবা নির্দ্বিধায় সাইন করে দিলো,,,,তবে সাইন করার সময় নুবার মনটা কু ডাকছিলো,,মনে হচ্ছিলো কিছু একটা ফতে চলেছে তার সাথে,,যা খুবি খারাপ,,তবে সে এই নিয়ে বেশি ভাবলো না,,
অতঃপর অন্য সব কাগজে হাজেরা সাইন নেওয়া হলো,,, হারুন মির্জা কিছু কথা বলে ছেলেকে নিয়ে বাইরে চলে আসলেন,,পরপর ছেলের হাতে কাগজ গুলো ধরিয়ে দিয়ে বললেন
_ এগুলো নিয়ে যেএ জমা দিয়ে দিবি,, আমার হাতে সময় নেই বুঝলি,,
আরহাম কিছু বললো না,, হারুন মির্জা সিরি বেয়ে উপড়ে চলে গেলেন,, আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে একটু মুচকি হাসলো,,বুকের উপর রাখা পাথরটা একটু সরে গেলো তার,,,পেপার গুলো নিয়ে রুমে চলে গেলো সে পরপর নুবার পেপার গুলো ঘেটে একটা আলাদা কাগজ বেড় করলো,,সব কাগজ থেকে একদমি ভিন্ন,,,
আরহাম পেপার টার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো,,নিচে নুবার সাইন”নুবাইরা রহমান”
আরহাম সাইনটাতে হাত বুলিয়ে বিরবির করে বলল
_ Mom ঠিকি বলেছিলো,,এখন অশান্ত মনটা শান্ত হয়েছে,,ভালো ফিল হচ্ছে,,, but আমি এতো তাড়াতাড়ি আপনাকে নিজের সাথে জাড়াতে চাই না,, গোলক ধাঁধার ভিতরে ঘুরপাক খান আপনি,,, আমার আপনার বোক বোক মুখ মন্ডল দেখতে বেশ ভালো লাগে,,,আর একটু ঈর্ষায় ভুগুন আনপি,,আমিও দেখি জ্বলে ছাই না হয়ে যাওয়া পর্যন্ত আপনার দেমাগ,,,
পরপর আরহাম study টেবিল থেকে একটা কলম উঠিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে সাইন করে দিলো,,, অতঃপর কাগজটা সুন্দর করে ড্রয়ারে রেখে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে মেয়ের দিকে তাকালো,,যে কিনা নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে,,,,
আরহাম মেয়ের কাছে যেএ তাকে বুকে আগলে নিয়ে বললো
_ শুধু ফিড করানোর না,,তাকে আপনার দেখা শোনার অধিকারো দিলাম,,,ভিষন দেমাগ তার ভিতরে একটু আমিও দেখি কত সময় সেটা বরাদ্দ রাখতে পারে,,,
নুবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। মিষ্টি বাতাস বারবার এসে তার চুলগুলো এলোমেলো করে দিচ্ছে। দূরের আকাশে ভেসে বেড়ানো মেঘগুলোর দিকে তাকিয়ে সে আনমনে হারিয়ে গেছে নিজের ভাবনার জগতে। চারপাশে এক অদ্ভুত শান্তি বিরাজ করছে। পাখিদের মৃদু ডাক আর বাতাসের সুর যেন তার মনকে আরও নরম করে তুলছে। চোখের কোণে জমে থাকা অজানা অনুভূতিগুলো নিয়ে সে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে। যেন এই মুহূর্তটুকু শুধু তারই, যেখানে সময়ও ধীরে ধীরে থেমে গেছে
লিভিং রুমে পরির কাছে আয়রা,,আজ জায়নি,,কাল থেকে exam এই সব থেকে সে আলাদা থাকতে চায়,,চোখের সামনে থাকলে হিংসা হবে তবে দূরে থাকলে না,,তাই দূরে থাকাই উত্তম,,
বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিজেকে শান্ত করতে চাইছে নুবা,, এমন একটা মূহুর্তে হঠাৎ তার কানে সুন্দর একটি কন্ঠ ভেসে আসলো,, কেউ গুনগুন করে গান গাইছে,,,
_তুই দেখবি ঠিকই জিতে নেবো একদিন তোকে চেয়ে দেখবি আমি সোনা হবো তোর নোলকে
এই দুনিয়া জানে, আল্লাহ জানে তুই আমার কে আর তাইতো এলেও প্রেম দেবো না কাউকে তোকে ছাড়া
দিল আওয়ারা কেন দিল আওয়ারা কেন রে মন মরা তুই ছাড়া…
এই মনের রেডিও যদি বাজতে থাকে হায় ঘরেতে ঘুমিয়ে আর কি থাকা যায়
এই মনের রেডিও যদি হঠাৎ কেউ চালায় ঘরেতে ঘুমিয়ে আর কি চলে রে কাউকে ছাড়া
দিল আওয়ারা কেন দিল আওয়ারা কেন রে মন মরা তুই ছাড়া…
নুবা গানের শব্দে মেতে গেলো কিছু সময়,,পরপর মনে পড়লো কে গাইছে,,আর তার রুম থেকে শব্দ টা আসছে,, এতো টুকু খেয়াল করতেই নুবা পিছনে ফিরে তাকালো তখনি কেউ তার খোঁপা করা চুল পিছনে ঘুরতে ঘুরতে টেনে খুলে দিলো,,,
পাতলা কুকড়ানো চুল গুলো কমড় পর্যন্ত ছড়িয়ে গেলো,,আজি শ্যাম্পু করেছিলো তাই বাতাসের তেজে এলোমেলো হয়ে গেলো,,,
নুবা দুই হাত দিয়ে ঠেলে চুল পিছনে নিয়ে দেখার চেষ্টা করলো কে এই বেয়াদবটা,,,তবে বেয়াদব চোখে পড়লো না,,আয়ারকে চোখে পড়লো,,কেউ একজন আয়রাকে দুই হাত দিয়ে উঁচু করে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,,যার ফলে লোকটার মুখ দেখা যাচ্ছে না,,,
আয়ারাকে দেখে নুবার ভিগরে যাওয়া মেজাজ ঠিক হয়ে গেলো,,,আরু বাবু এসেছে,,,,
নুবা দেখার চেষ্টা করলো কে ধরে রেখেছে আয়ারকে তাই উঁকি দিলো আরহাম মেয়েকে মুখের সামনে থেকে সরালো,,নুবার ভুরু কুঁচকে আসলো,,,
আরহাম মেয়েকে নুবার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো
_ আজ আয়রাকে কোলে নেওয়ার বাহনা খুঁজতে আসলেন না যে,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_রুম থেকে বেড় হোন,,,
নুবার কাঠকাঠ কন্ঠ ,,,, আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ আপনার চুল গুলো সুন্দর,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,,দুই হাত দিয়ে চুল গুলো খোঁপা করে বললো
_ নিজের নজর ঠিক করুন,,দেখলেও শরীর রিরি করে উঠে,,রুম থেকে বেড় হোন,,না হলে আমি বেড় হয়ে যাবো,,,
_ প্রশংসা করছি আর আপনি আমার তাড়িয়ে দিচ্ছেন,,,
নুবা বুকের ওরনা টেনে ঠিক করে বললো
_ characterless দের সবার সবকিছু ভালো লাগে,,তাই এতো আদিখ্যেতা করার প্রয়োজন নেই,,,আর আপনার সাহস কি করে হয় আমার চুলের খোঁপায় হাত দেওয়ার,,,
আরহাম গম্ভীর কন্ঠে বললো
_ আমি দেয়নি,,,আয়ার দিয়েছে,,,
নুবা আয়ারার দিকে তাকালো,,,যে কিনা বাপের কোলে ঝুলে মজা পাচ্ছে তাই খিলখিল করে হাসছে,
নুবা মুখ ঘুরিয়ে বললো
_ওকে নিয়ে রুম থেকে বড়ে হোন আমি পড়তে বসবো,,
_ তাই নাকি,ওকে
আরহাম মেয়েকে কোলে নিয়ে চলে যেতে লাগলো,,নুবা শুকনো ঢোক গিললো,,হাতদুটো তার বারবার আয়ারকে কোলে নেওয়ার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিলো তবে সে কোনো মতে আঁটকে ফেলেছে,,
তবে আরহাম আয়ারাকে বিছানায় শুইয়ে রেখে গেলো,,,
আরহাম অনেক বার খেলায় করেছে নুবা বারবার লিভিং রুমে যেএ উঁকি মারছিলো তবে ভিতরে প্রবেশ করেছে,,,তাই সে আয়ারকে পরির থেকে নিয়ে এখানে নিয়ে আসলো,,আর সে এটাও ভালো করে জানে এখন আয়ারকে রেখে রুম থেকে বেড় হতেই নুবা এসে আয়ারকে জপটে ধরবে,,
আর হলোও তাই,, আরহাম যেতেই নুবা এসে আয়রাকে কোলে তুলে শ খানিক চুমু খেলো,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৮
আজ প্রথম পরিক্ষা,,,নুবা প্রচন্ড নার্ভাস কারন কি হবে কে জানে,,,সকাল ১০ টার থেকে পরিক্ষা,,,হাজেরা মেয়েকে নিজ হাতে খাওইয়ে দিলো,,,আর বুঝ দিতে লাগলো,,,ভালো মতো সবকিছু দিতে,,,
এদিকে নুবার মাথায় টেনশন আয়ারা সকালে ফিড করেনি,, পরিক্ষা দিয়ে ফিরতে ফিরতে দুপুর,,মেয়েটা কি করে থাকবে,,,
