Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫০

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫০

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫০
সুরাইয়া জিয়াসমিন

এদিকে নুবার মাথায় টেনশন আয়রা সকালে ফিড করেনি,, পরিক্ষা দিয়ে ফিরতে ফিরতে দুপুর,,মেয়েটা কি করে থাকবে,,,
নুবা ভাবনা চিন্তা করতে করতে রেডি হলো,,৯:২০ বেজে গেছে,,আজ নুবা শেষ,,সময়ের আগে কেন্দ্রে না পৌঁছালে সে আজ শেষ,,,
নুবা কোনো মতে রেডি হয়ে ছুটে গেলো রুমের বাইরে
হাজেরা পিছন পিছন যেএ বললো
_ ভালো মতো যা,, তাড়াতাড়ি করিস না
নুবা পায়ের তেজ বাড়িয়ে বলো
_ মা দেরি হয়ে গেছে,,দোয়া করো যাই,,
পরপর নুবা রান্না ঘরে ছুটে গেলো,,তানিয়া কাজ করছিলো তানিয়াকে এক গাল হেসে বললো
_ আন্টি পরিক্ষা দিতে যাচ্ছি দোয়া করবেন,,
তানিয়া মুচকি হেসে বললো

_ ইনশাআল্লাহ পরিক্ষা ভালো হবে,সব ভালো মতো দিও,,,
পরপর নুবা সিরি দিয়ে উপড়ের দিকে ছুটে গেলো,,তখনি আরশির সাথে দেখা হলো,,নুবা উপরের দিকে উঠতে উঠতে বললো
_ আপু পরিক্ষা দিতে যাচ্ছি,,দোয়া করো,,,
আরশি পিছন ফিরে বললো
_ উপরে কোন পরিক্ষা দিতে যাচ্ছিস তুই,,
নুবা ব্যস্ত কন্ঠে বললো
_ চাচির কাছে যাচ্ছি,,
_ আম্মু আরহমা ভাইয়ের রুমে,,,,
_ ও আচ্ছা thanks,,
বলেই নুবা দৌড়ে আরহামের রুমে সামনে যেএ আমিনা বেগম কে ডাকলো,,,
_চাচি চাচি,,,
আমিনা বেগম শান্ত কন্ঠে বললো

_ কি হয়েছে রে ভিতরে আয়,,,
নুবা দরজা ঠেলে ভিতরে যেএ হাঁপিয়ে যাওয়া কন্ঠে বললো
_ পরিক্ষা দিতে যাচ্ছি,,,বসে বসে দোয়া করো,, আল্লাহ হাফেজ যাই,,দেরি হয়ে গেছে,,,
বলেই নুবা রুম থেকে বেড় হতে গেলেই আমিনা বেগম ধমকে বললেন
_ এই মেয়ে দাঁড়া,,,
নুবা থমকে গেলো,,,ফিরে তাকালো তার দিকে,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ এভাবে হাঁপিয়ে,,হাইপার হয়ে কেউ পরিক্ষা দিতে যায়,,, আস্তে ধীরে যা,, মস্তিষ্ক শান্ত রাখবি,,,যাতে সব পড়া মনে থাকে,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ আচ্ছা,,,,এখন যাই,,,সারে ৯ টা বেজে গেছে,,,
আরহাম চোখ তুলে ব্যস্ত নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ আয়রা তো এখনো সকালের নাস্তা করেনি,,,
কথাটা শুনে নুবার মস্তিষ্ক কিছু সময়ের জন্য ঠান্ডা পড়ে গেলো,,একে তো সে নার্ভাস কি হবে না হবে তার ভিতরে মাত্র ৩০ মিনিট পর পরিক্ষা শুরু,,,
নুবার এক পলক আয়রার দিকে তাকিয়ে আমিনা বেগমের দিকে তাকালো,,আমিনা বেগম নুবার অবস্থা দেখে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললো

_ আয়ার এক বেলা না খেলে কিছু হবে না,,,নুবা তুই আল্লাহর নাম নিয়ে বেড় হ,,,
নুবা হাঁসফাঁস করে উঠলো,,,আয়রা একবার ধরলে ছাড়তে চাইবে না,,,নুবা অস্থির কন্ঠে বললো
_ না খেএ থাকবে,,না খেএ থাকবে,,কি করবো,,
নুবাকে এরকম বিচলিত হতে দেখে আরহাম উঠে দাঁড়ালো,,,পড়নে তার শর্টস আর ডিলা গেঞ্জি,,,, আরহাম উঠে দাঁড়িয়ে মেয়েকে কোলে নিয়ে বললো
_ চলেন,,,গাড়িতে যেতে যেতে ফিড করিয়ে দিয়েন,,,
নুবা একবার মাথা নাতে ঝুঁকিয়ে আর একবার হ্যাঁতে ঝুঁকিয়ে বললো
আমিনা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বললেন
_ তুই দিয়ে আসবি
_ হুম,,(আরহামের ছোট্ট জবাব)
_হ্যা তা তো ভালোই,,যেতে যেতে আয়রা ফিড করে নিবে,,তবে সাবধানে,,,
নুবা নিচে দৌড়ে এসে একটা বই নিয়ে নিলো যতটুকু পড়তে পারে আরকি,,

আরহাম গাড়ি ড্রাইভ করছে,,নুবা আয়ারকে নিয়ে পিছনে বসে আছে,,আয়রা ফিড করছে আর নুবা এক হাতে বই নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিক পড়ছে,, যেটা আসলে ঠিক না,,,এই মূহুর্তে ঠান্ডা মাথায় থাকা সব থেকে বুদ্ধিমানের কাজ,,,
এদিকে আরহাম ড্রাইভ করছে আর সামনে ছোট্ট Mirror দিয়ে পিছনে নুবার দিকে তাকাচ্ছে,,,এসির ভিতরেও নুবা টেনশনে ঘেমে একাকার,,কোথায় সিট পড়বে,, কেমন প্রশ্ন হবে তার উপর প্রথম পরিক্ষায় দেরি,,,যদি ভিতরে ডুকতে না দেয়,,,
এদিকে রাস্তায় জ্যাম পড়েছে,,আজ যেনো নুবার কপালে দুঃখ আছে,,
নুবা অস্থির কন্ঠে বললো
_ তাড়াতাড়ি চলুন,,,আর মাত্র ৩ মিনিট আছে,,
বলতে বলতে নুবা কেঁদে ফেললো প্রায়,,,
আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ জ্যাম পড়েছে দেখছো না,,,অন্য গাড়ির উপর দিয়ে উঠিয়ে দিবো নাকি,,,আর হাই হুতাশ করা বন্ধ করো,,, অতিরিক্ত,,,
নুবার রাগ হলো,,সে কি বুঝতে নুবার ভিতরে কি চলছে,,কতটা ভীত সে, অনেক টা সময় পর নুবা নিজের পরিক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে গেলো,,তবে গাড়ি থেকে পা নিচে রাখতেই তার মস্তিষ্ক ঠান্ডা হয়ে গেলো,,,
বাইরে কেউ নেই,, নীরবতা বইছে,,, আরহাম গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ালো,,,নুবা তাড়াতাড়ি করে আয়রাকে আরহামের কাছে দিয়ে ছুটে গেলো,,

প্রায় মিনিট খানিক অতীবাহিত হতেই আরাহাম গাড়িতে বসতে যেএ দেখলো নুবা তাড়াতাড়ির চোটে ফাইল ফেলে রেখে গেছে,,,
আরহাম কপাল চাপড়ালো,,,এই মেয়েটার মাথার ঘেলু বলতে কিছু নেই,,,না নিয়েছে কলম,,এডমিট কার্ড,,না বোর্ড,,, আশ্চর্য
আরহাম ফাইল নিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে এগিয়ে গেলো

_ please আঙ্কেল ডুকতে দেন,,,
দারোয়ান কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_ ১০:৫ বেজে গেছে,, তোমাকে ঢুকালে আমার চাকরি যাবে,,যেখানে ৯ টা বাজে উপস্থিত থাকার কথা সেখানে ১০:৫ এ এসেছো,,,,
নুবা ভয়ে কম্পিত হলো,,এতো দেরি কি করে হয়ে গেলো,,,নুবা লোহার গেট ধরে টানাটানি করে বললো
_ আঙ্কেল আমার একটা বছর নষ্ট হয়ে যাবে,,,দয়া করে খুলুন,,, please,,,
দোরোয়ানের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা teacher বসে উঠলো
_ এক কথা বুঝো না,, ঢুকতে দেওয়া যাবে না,, প্রশ্ন পত্র অলরেডি দিয়ে দেওয়া হয়েছে,,,এখন কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই,,,
নুবা হাই হুতাশ করে বললো

_ sir,, আমার কাছে এডমিট আছে,,এই যে __
বলেই নুবা নিজের দুই হাতের দিকে তাকিয়ে দেখলো সে ফাইল রেখেই চলে এসেছে,,,নুবার পেশার হাই হয়ে গেলো,,বুকটা ধুকপুক করতে লাগলো,,,
নুবার মাথা ঘুরে উঠলো,,নুবা আবার গাড়ির দিকে ছুটলো,,এখন যদি যেএ দেখে আরহাম চলে গেছে তবে তার প্রথম পরিক্ষাটাই বাতিল হয়ে যাবে,,তার সাথেই কেন এমন হয়,,,ভেবেই নুবা ফুঁপিয়ে উঠলো,,,
নুবা ছুটতে ছুটতে দেখলো আরহাম এদিকেই আসছে,,,নুবার জানে পানি ফিরে আসলো,,,নুবা দৌড়ে যেএ হাঁপিয়ে যাওয়া কন্ঠে বললো
_,,ফা,,ফাইলা কোথায় আমার,,,গাড়িতে,,গাড়িতে,,,
আরহাম বিচলিত নুবার দিকে ফাইল এগিয়ে দিয়ে ভুরু কুঁচকে বললো
_ কান্না করছো কেন কি হয়েছে,,
নুবা কান্না করতে করতে হাইহুতাশ করে বললো
_ আ,, আমাকে ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না,,বলছে ১০ টার বেশি বেঁজে গেছে,, প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেছে,,এখন আর ডুকতে দেওয়া যাবে না,,,
বলেই নুবা কপালে হাতের তালু চেপে ধরে অন্য হাত কমড়ে ধরে ঘামতে শুরু করলো,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নুবার হাত ধরে সামনে এগিয়ে যেএ বললো
_ দেখি কি ঢুকতে দিচ্ছে না,,,

_ ওকে হলে যেতে দিন,,,(বেশ ভদ্র ভাবেই বললো আরহাম,,)
অপাশে থাকা teacher গেট খুলে বাইরে বেড় হয়ে এসে বললো
_ time দেখছেন,,১০:১০ বাজে,,,বাড়িতে কি ঘোড়ার ঘাস কাটছিলো,,,তাল ছিলো না ১০ টার আগে হলে উপস্থিত থাকতে হবে,,,একটা নিয়ম কানুন আছে তো তাই না mr,,,
দায়িত্বে থাকা teacher ও বেশ রেগে কথা গুলো বললো
আরহাম ঠোঁট বাঁকালো,,পরপর বলে উঠলো
_ভিতরে যেতে দিবেন কিনা না,,,
Teacher শান্ত কন্ঠে বললো
_ sorry,,এটা আমাদের স্বনামধন্য কলেজের নিয়মে পড়ে না,,,কাল থেকে ঠিক সময়ে আসতে বলবেন,,, যত্তসব ফালতু মেয়ে জামাই bf নিয়ে বাড়িতে চিৎ হয়ে থাকে আর বেটাইমে আছে পরিক্ষা দিতে,,,
সাথে সাথে teacher এর গালে ঠাস করে একটা থাপ্পড় পড়লো,,নুবা এতো সময় চুপ করে সব দেখলেও এবার অনেকটা আত্মমকিত হয়ে দুই হাত মুখে চেপে চম্কে উঠলো,,,
এদিকে teacher পুরাই অবাক বনে গেছে,,এভাবে শিক্ষকের গায়ে হাত তুলতে দেখে দারোয়ান এগিয়ে আসলো আর বললো

_ কেডা আপনি,,, গুরুজনের গায়ে হাত তুলেন,,
আরহাম গর্জে উঠে বললো
_ গুরুজন গুরুজনের মতো কথা বলবে,,, student এর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে না,,, শিক্ষক হয়ে একজন ছাত্রীকে উল্টা পাল্টা বলার সময় মনে থাকা দরকার সে গুরুজন,, উল্টা পাল্টা কথা বললে দু একটা তো পরবেই,,,
নিজে নির্লজ্জ হয়ে অন্যকে লজ্জার জ্ঞান দিলো সে আরকি,,তবে ভালোই হয়েছে কয় একজন শিক্ষক এমন থাকে তাদের উচিৎ শিক্ষা দেওয়া দরকার
( সত্যি বলতে এরকম একটা ঘটনা আমার বেঞ্চে পিছনে বসা friend এর সাথে ঘটছিলো,,ও বিবাহিত ছিলো,,খাতায় কি যেনো উল্টা দাগিয়ে ফেলেছিলো তাই মেম তাকে অনেকটা এরকম বিচ্ছিরি কথা শুনিয়েছিলো,,যা আমার অনেকটা খারাপ লেগেছিলো,,🙃🫠)
Teacher টা গালে হাত দিয়ে বললো

_ তবে রে,, আজকে কেন বাকি কোনো পরিক্ষায় এই মেয়ে কেন্দ্রে ঢুকতে পারবে না,,সেই ব্যবস্থা করছি আমি,,
বলতে দেরি আরহাম রুখে আসতে দেরি নেই,,তবে এবার পিছন থেকে নুবা দুই হাত দিয়ে আরামের হাত টেনে ধরে কান্না করতে করতে বললো
_ please সিন ক্রিয়েক্ট করবেন না,,, অনেক সময় নষ্ট হয়েছে,,, please,,,
আরহাম থেমে গেলো,পরপর নুবার হাত ধরে মেইন গেট দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে বললো
_ ভিতরে চলো আজ দেখবো কে তোমাকে হলে যেতে থেকে আটকায়,,,
Teacher দারোয়ানকে গেটের সামনে দাঁড় করিয়ে রেখে এগিয়ে এসে বললো
_ বেড় হও,, তোমাদের ডুকতে দেওয়া হবে না,,এই মেয়েকে পরিক্ষা থেকে বহিষ্কার করবো আমি,,

আরহাম নুবাকে নিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে মৃদু কন্ঠে বললো
_ তোর পাছায় সাহস থাকলে করিস,,, আরহাম শাহারিয়ার মির্জা কে তুই হারে হারে টের পাবি ,, just wait and see,,,
বলেই লোকটার দিকে লুক দিলো,,এক থাপ্পর খেএ দ্বিতীয় থাপ্পর খাওয়ার ভয়ে teacher দুই কদম পিছিয়ে যেএ বিরবির করে রাগে বলে উঠলো
_ পরিক্ষা দে,, কিন্তু সেই খাতা জমা হবে না,,,

অনেকটা খোঁজার পর নুবা নিজের হল রুম পেয়ে গেলো,,, আরহামো সাথেই ছিলো,,,নুবা ভিতরে দরজার সামনে যেএ দাড়িয়ে “May I coming “বলতেই হলে থাকা একজন শিক্ষক বলে উঠলো
_ এতো লেট,,,
আরহাম কিছু বলতে যাবে তার আগে নুবা দুই হাত জোর করে বললো
_ sorry sir লেট হয়ে গেছে আর হবে না,,
Teacher,ভুরু কুঁচকে বললো
_ come,,এখান থেকে খাতা নিয়ে যাও,,,
নুবা এক পলক আরহামের দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় ধন্যবাদ দিয়ে ভিতরে চলে গেলো,, আরহাম সেদিকে এক পলক তাকিয়ে ওখান থেকে সরে গেলো,,,
এদিকে হলের teacher ভাবছে এখন প্রায় ১০:২০ বাজে,,এই সময়ে কে একে হলে ডুকতে দিলো,,খবর নিতে হবে,,,

হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে principal এর দিকে তাকিয়ে বললো
_ actually আমার ছেলের দোষটা শুধু দিবেন না,, নিশ্চয় teacher এর কোনো দোষ আছে,,,
Principal শান্ত কন্ঠে বললো
_ হলে ঢুকতে না দেওয়ায় আপনার সুপুত্র উনাকে আঘাত করেছে,,
বলেই ওই teacher এর দিকে ইশারা করলো,, হারুন মির্জা ছেলের দিকে তাকালেন,,যে কিনা মেয়েকে কোলে নিয়ে মোবাইল scroll করছে,,,
হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ শুধু হলে না ঢুকার জন্য আরহাম,,
আরহাম মোবাইলের দিকে তাকিয়ে কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_ ছাত্রী এতো সময় বাড়িতে জামাই নাকি bf এর সাথে শুয়ে ছিলো তাই প্রশ্ন করেছিলো তাই আমি সঠিক শিক্ষা দিয়েছি অবশ্য কম হয়ে গেছে,,,
পরপর বাপের দিকে তাকিয়ে বললো
_ তাই না dad,,কম হয়ে গেছে,,নুবুকে নিয়ে bad বাজে মন্তব্য করছিলো,,,এটা কি ওর ব্যক্তিগত ব্যপরা নিয়ে টানা হেচড়া হলো না,,,

হারুন মির্জা কপাল চাপড়ালেন,,এই বয়সে এসে ছেলের নালিশের শালিস করতে এখানে তাকে ডাকা হয়েছে,,কি লজ্জা,,একটা ৩২ বছরের বুড়ো লোকের বিরুদ্ধে নালিশ করা হয়েছে যা সমাধান করতে বাপ এসেছে,,,,
উনি এমনি মহান ব্যক্তি যে কিনা অপরাধ করার পর আবার নিজে principal এর রুমে এসে বলেছেন,,তিন একজন teacher কে থাপ্পর মেরেছেন তার বাপকে ডেকে যাতে সমাধান করা হয়,,, আশ্চর্য,,
আসলে আরহাম জানতো ওই teacher খাতা নিয়ে ঝামেলা করবে,,আর তার নুবুর ক্ষেত্রে ঝামেলা হোক সে চায় না,,তাই নিজে এসেছে এসেছে অপরাধের সমাধান করতে,,সাথে বেচারা বাপকেও ফাঁসিয়েছে,,,
Principal কিছু সময় চুপ থেকে teacher এর দিকে তাকিয়ে বললেন

_ আপনি এই সব বলেছিলেন,,,
_ আসলে sir এভাবে না আসলে কাজের চাপ ছিলো আমি বলতে __
_ আমি জিগ্গেস করেছি বলেছেন কিনা কোনো রকম Excuse চাচ্ছি না,,,
Teacher মাথা নিচু করে নিলো,,,বুঝতে বাকি রইলো না সে বলেছে,,,
আরহাম ঘাড় বাঁকিয়ে teacher এর দিকে তাকালো এখন আর একবার না করলে লোকটার মুখ ঘুষি মেরে বাকিয়ে দিতো,,,তবে যাক স্বীকার করেছে,,
Principal লজ্জিত বোধ করে বললো
_ আপনি একজন teacher হয়ে এরকমটা কি করে বলতে পারেন,,, next time এরকম ভুল করলে আপনাকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হবে,,যান
উনি মাথা নিচু করে চলে গেলো,, principal বিনয়ের সাথে বললো
_ আমি দুঃখীত sir ,,আসলে পরিক্ষা তো অনেক কাজ তাই হয়তোবা,,তবে next time থেকে এরকম হবে না,,, শুধু শুধু আপনার সময় নষ্ট করলাম,,
হারুন মির্জা শান্ত কন্ঠে বললেন
_ সমস্যা নেই,, আমার ছেলেরো দোষ আছে,, তবে এই ব্যপার যাতে ছাত্রীর উপর প্রভাব না ফেলে,,,নুবাকেও যেনো সবার মতো একি ভাবা হয়,,আশা রাখছি আপনি আমার কথা বুঝতে পারছেন,,,না হলে মেয়েটা প্যানিক করবে,,, সবাইকে যতটুকু এটেনশন দিবেন ওকেও ততটুকু,,,

_ ইনশাআল্লাহ,,কোনো সমস্যা হবে না,,তা,,কফি তো ঠান্ডা হয়ে গেলো
হারুন মির্জা উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ অন্য কোনো দিন,,,আজ আসি,, অনেকটা কাজ ফেলে এসেছি,,
Principal উঠে দাঁড়ালো,, হারুন মির্জার সাথে হান্ড্র সেক করে বললো
_ হ্যাঁ,,, আল্লাহ হাফেজ,,কোনো রকম সমস্যা হলে আমাকে কল দিয়ে জানাবেন
_ নিশ্চয়,,
(অতঃপর ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন )
_আরহাম চলো,,,
বলেই তিনি বাইরে চলে গেলেন,,, আরহাম উঠে দাঁড়িয়ে principal কে বিরবির করে বললো
_ এই ব্যপার নিয়ে যদি ওর (নুবার)উপর কোনো প্রভাব পড়ে তবে,,,,,,, মাথার যা চুল আছে তাও পাবেন না,,, কারণ মাথাটাই থাকবে না,,
বলেই principal কে এক আঙ্গুল দিয়ে শাশিয়ে বাইরে বেড় হয়ে আসলো সে,, principal শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ আজব,, এরকম ভালো মানুষের ঘরে এরকম জল্লাদ কি করে জন্মালো,,,,

পরিক্ষা শেষ,,বেশ কোনো মতে পরিক্ষা ভালোই হয়েছে,,,নুবা সবকিছু গুছিয়ে পরিক্ষা হল থেকে বেড় হয়ে আসলো,,পরপর মেইন গেট পার করে দেখার চেষ্টা করলো কেউ তাকে নিতে এসেছে কিনা,,তবে না কেউ আসেনি
তাই আনমনে নুবা সামনের দিকে এগিয়ে গেলো,,পরপর নজরে পড়লো ভেলপুরির দোকান ভিড়ো তত নেই,,নুবার ভেলপুরি অনেক পছন্দ,,,
নুবা এক গাল হেসে এগিয়ে গেলো,,কাল রাতে পরিক্ষার বোনাস হিসাবে আমিনা বেগম হাজার টাকা দিয়েছিলেন,,, সেই টাকা নুবা রেখে দিয়েছে,,
নুবা খুশি খুশি মনে এগিয়ে গেলো,, অনেক দিন পর ভেলপুরি খাবে,,নুবাএ এগিয়ে যেএ আনন্দিত কন্ঠে বললো
_ মামা এক প্লেট ভেলপুরি দেন তো,,
_ এক প্লেট ৫০ টাকা আফা,,
_ দেন,,,
_ আচ্ছা ওখানে যেএ বসেন,,,

নুবা ভেলপুরি মুখে তুলছে,,,এতো স্বাদ কেন,,,নুবার খাওয়ার ভিতরে বিপত্তি ঘটিয়ে হঠাৎ পিছন থেকে কেউ বলে উঠলো
_ ভেলপুরির বিলটা যদি আমি দেই মন্দ হবে কি মিস,,
হঠাৎ কারো কন্ঠ শুনে নুবা পিছন ঘুরে তাকালো,,,সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে ঠিক সে চিনতে পারলো না,,চিবাতে থাকা ভেলপুরি গিলে বললো
_ ঠিক চিনলাম না ভাইয়া,,
ছেলেটি হেসে বললো
_ এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে হবে চুরা ম্যাডাম,,,
নুবা কিছু সময় চেয়ে থেকে হঠাৎ ঠোঁট হেলিয়ে বললো
_ তৌসিফ ভাই,,
তোসিফ হেসে বললো
_ যাক চিনেছেন তবে,,,
নুবা একটু হাসার চেষ্টা করে বললো
_ আসলে অনেক বছর পর হঠাৎ করে দেখছি তো তাই আর কি,,পুরো বদলে গেছেন,,আগে তো কত শুকনা ছিলেন,,,
তৌসিফ হেসে বললো
_ সবি আল্লাহর রহমত,,
নুবা শুকনো ঢোক গিললো,,,সেদিন মেসেজে কত কিছু বললো তবে আজ গলা চেপে আসছে,,সে ভাবেনি হঠাৎ এভাবে দেখা হয়ে যাবে,,,
তৌসিফ শান্ত কন্ঠে বললো
_ খেএ শেষ করেন,,বিলটাও তো দিতে হবে,,,
নুবা জোরপূর্বক হাসলো,, কেমন অস্থির লাগছে তার,,খাওয়ার সময়ই আসতে হলো,,,

আরহাম সেই সকাল থেকে গাড়ি নিয়ে নুবার জন্য অপেক্ষা করছে,,, এদিকে আয়রারো খবর নেই,,বাইরে ঘুরতে এসে চুপচাপ আছে,,,
এদিকে সবাই পরিক্ষা শেষ বেড় হয়ে গেলো তবে নুবা এখনো বেড় হলো না কেন,,সেটাই সে বুঝতে পারছে না,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে মেয়েকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো,,,তবে না পুরো মাঠ ফাঁকা,,, অতঃপর আরহাম রাস্তার দিকে এগিয়ে গেলো,,, একবার ভাবলো হয়তোবা বাড়িতে চলে গেছে,, আবার মন বললো আশে পাশেই আছে,,

তৌসিফ মুখে ভেলপুরি পুরে বললো
_ একটুও ঝাল দেয়নি,,,মামা আর একটু ঝাল দেন,,
নুবা বিরবির করে বললো
_ তা হঠাৎ করে দেখা হলো নাকি অন্য ব্যপার,,
তৌসিফ হেসে বললো
_ না চুরাবানি,,এটা পুরাই ভাগ্য,, আসলে আমি অফিস থেকে ফিরছিলাম আর এদিকে ওদিকে তাকাচ্ছিলাম,, কারণ তুমিই তো বলেছিলে এই কেন্দ্রে সিট পড়েছে তাই আরকি,,
_ ও,,,যাক,,দেখা হয়ে গেলো,,আগের দিন গুলো মিস্ করি,,,
_ হ্যাঁ,,তা তো অবশ্যই,,, তোমার চিটিংবাজি গুলো,, ইস্,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ আপনিও কিন্তু কম চিটিংবাজ ছিলেন না ভাইয়া,, আমকে এই জন্য নিজের দলে নিতেন কারণ আমি যেকনো মতে খেলা জিতে যেতাম,,
তৌসিফ একটু হেসে বললো

_ হ্যাঁ তা তো আছেই,,, কিন্তু চুরাবানিতে তুমি সেরা ছিলে,,কেউ ধরতেও পারতো না,, একদম পটু,,, কিন্তু মেসেজে একটু বেশিই দুষ্টু তুমি,,,, বাস্তবে না,,
নুবা তৌসিরে কথায় মন খুলে হেসে বললো
_ তাই বলে আমাকে চুরাবানি বলবেন,,,আর রইলো কথা মেসেজের ,, মেসেজে একটু আকটু বলা যায় কিন্তু সামনাসামনি হয়ে উঠে না,,,
তৌসিফ ঠোঁট হেলিয়ে বললো
_ মেসেজে যা জাওরামি করেছিলে আমি তো ভেবেছিলাম তুমি বড় হয়ে একদম ন্যাকা হয়েছো তবে না,, ঠিকঠাক আছো,,i like it,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ what,,কি ন্যাকামি করলাম ভাইয়া,,আপনি যেমন কথা বলেছেন আমিও তেমন উত্তর দিয়েছি,,
তৌসিফ মুখে ভেলপুরি পুরে ফ্যাস ফ্যাস করে বললো
_ তুমি আমাকে তুমি করে ডাকবে,, আমাদের বয়সের এতোটাই পার্থক্য না,,,আপনি আপনি বললে,, আমার নিজেকে নিজের কাছে বুড়ো লাগে,,,
নুবা তৌসিফের কথায় দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো

_ আহারে সম্মান দিচ্ছি ভালো লাগছে না,,
_ না,,আগে যেমন,, তুমি বলে ডাকতে এমনি ডাকো,,, আমার ওতো সম্মান হজম হবে না,,,
নুবা কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_ আমি ভাবিনি এতো বছর পড়েও আমাকে কেউ মনে রাখবে,,
তৌসিফ খাওয়া শেষ করে টিস্যু দিয়ে হাত মুছে বললো
_ আমিও তো ভাবিনি,, তুমি তো মনে রেখছো,,, তোমাকে দেখে আবার ছোটো বেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছা করছে,,তবে অবশ্য যদি এরকম বারবার দেখা হয় তবে একদিন সবাইকে একত্রিত করে আবারো বউ ছুট,,বরফ পানি খেলবো,,,
নুবা এক গাল হেসে বললো
_ ইনশাআল্লাহ,,তবে হঠাৎ করে দেখা হবে ভাবিনি,,
_ হঠাৎ করে না নুবা,, তোমাকে অনেক আগে থেকেই মাঝে মাঝে রাস্তা ঘাটে দেখতাম তবে এগিয়ে যেতে পারিনি চিনবে কিনা,,,তাও সেদিন ফেসবুক প্রোফাইল সামনে পড়ায় নক দিয়েছিলাম,,তার পর দেখলাম না আমাকে বড্ড মনে রেখেছো,,,
নুবা ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো,, সবকিছু এলোমেলো তার কাছে গুছিয়ে দেওয়া মানুষের অভাব,, যাক তৌসিফ পুরানোর দিনের কথা মনে করিয়ে দিলো,,,ওখান থেকে সরে যাওয়ার পর আর কখনোই মাঠে ঘাটে খেলা হয়নি,,,
তৌসিফ ভেলপুরির বিল মিটিয়ে দিয়ে বললো

_ আন্টি কেমন আছে,,
_ আলহামদুলিল্লাহ ভালো,,
_সেদিন হাজেরা আন্টি আসছিলো মানে হয় ঘড় খুঁজতে তা তোমার কি নতুন ঘড় নিয়েছো,,
নুবা কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_ না,,
_ তাহলে কোনো সমস্যা হয়েছিলো নাকি,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে হেসে বললো
_ তেমন কিছু না,, হারুন আঙ্কেল কোথাও যেতে দেয়নি বাদ দেন,,
তৌসিফ ভুরু কুঁচকে বললো
_ তুমি,, তুমি বলো,,,আপনি না,,
নুবা উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ আচ্ছা,,,তুমিই বলবো বাবা,,,
তৌসিফ ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,,আর বললো
_ আর কিছু খাবে,,,
নুবার উত্তর দেওয়ার আগেই কেউ একজন বলে উঠলো,,
_ এখানে কি তোমার,,,, পরিক্ষা শেষে বাড়ি যাওয়ার কথা ছিলো না তোমার,,,
নুবা মাথা তুলে সামনে তাকিয়ে দেখলো আরহাম,,নুবার ভুরু একটু কুঁচকে গেলো,,পরপর স্বাভাবিক কন্ঠে বললো

_আপনি এখানে,, বাসায় যাননি,,,
_ একটু আগে আসলাম আম্মু পাঠিয়েছে,,তার উপর আয়ারা কান্না করছিলো (ডাহা মিথ্যা কথা)
মিথ্যা কথা পছন্দ না করা মানুষটাও কেন জানি মিথ্যা বলে ফেললো,, আদব ব্যপার মহব্বতে সবকিছু জায়েজ,,,
নুবা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকা আয়ারকে কোলে তুলে নিলো,,, তৌসিফ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আরহামের দিকে তাকালো এটা আবার কে,, আর বাচ্চাটাই বা নুবা কেন এমন করে আগলে নিচ্ছে,,যেনো তার মা,,,
তৌসিফকে এরকম ভাবে তাকিয়ে থাতকে দেখে নুবা ঝেড়ে কাশলো,,বিরবরি করে বললো
_ হারুন আঙ্কেলের বড় ছেলে,,,আর এটা উনার নাতনি,,,(আয়রার দিকে ইশারা করে বললো নুবা)
তৌসিফ মুখ গোল করে বললো
_ oh,,,তা তোমার সাথে কিসের কানেকশন,,,
ইনিয়ে বিনিয়ে কথাটা বললো তৌসিফ,,,নুবা সামনে এগিয়ে যেএ পিছন ফিরে বললো
_ তেমন কিছু না,,এমনি ,,,বড় ভাইয়ের মতো,,আর এটা আমার মেয়েই ধরতে পারো,,,
তৌসিফ মাথা ঝুকালো,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আচ্ছা আজ আসি ভাইয়া,, সময় পেলে আসবেন,,,মাঝে মাঝে ভেলপুরির বিলটা দিয়ে দিবেন,,আমি খুবি কিপটা বুঝলেন,,

তৌসিফ এক গাল হেসে হাসফাস করে বললো
_ রিকশার ভাড়াটাও আমিই দিয়ে দিতে চাইছিলাম আর কি,, কিন্তু তুমি তো মনে হচ্ছে উনার সাথে যাবে,,,
নুবা এক পলক আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ অন্য কোনো দিন দিয়েন,,আজ আসি,, আল্লাহ হাফেজ,,
নুবা হাঁটতে নিলে তৌসিফ বলে উঠলো
_ next exam কবে,,,
নুবা পিছন ফিরে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল
_ কেন কিছু খাওয়াবেন,,
_ হ্যাঁ খাওয়াতেও পারি,,, তুমি চাইলে,,
_২ দিন পর,,,,সকাল ১০ টা,, পরিক্ষা দুপুর দিকে শেষ হয়,,মাঝে মাঝে ভেলপুরির দোকানে আসবেন,,আপনি না আসলেও আমি খেএ আপনার নামে বিল তুলে রেখে যাবো,,এতোই যখন সখ খাওয়ানোর,,
তৌসিফ এক গাল হেসে বললো
_ ওকে,,, ইনশাআল্লাহ আবার দেখা হবে,,,আসি

নুবার মনটা বেশ ফুরফুরে আজ কত দিন পর পুরাতন মানুষের সাথে দেখা হলো,,,এভাবেই যদি পুরোনো দিনে ফিরে যাওয়া যেতো,, তৌসিফ প্রচন্ড ভালো,,নুবা জানে,,আগে খেয়াল সময় নুবা একটু ব্যথা পেলে তৌসিফ তার ছোট্ট বোনের মতো খেলায় রাখতো,,,ছোট্ট বেলায় দুই জনে এক সাথে মিলে অনেক জাওরামি করেছে,,তাদের একটা দোলো ছিলো তার লিডার ছিলো তৌসিফ,,তবে সময়ের সাথে সাথে সবাই হারিয়ে গেছে,,
তবে জানা নেই কখন বন্ধুক্ত ভালোলাগা থেকে ভালোবাসায় পূর্ণতা পায় তবে তৌসিফের ক্ষেত্রে,, কারণ নুবার ভাঙ্গা যন জোরার দেওয়ার কারো সাধ্য নেই,,তা অবশ্য সময়ের পরিবর্তনে দেখা যাবে

নুবা গাড়িতে বসে আছে,,কোলে আয়রা,,তবে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে সে,,নুবা পিছনে বসতে চাইলো কিন্তু আরহামের সম্মানে লাগে
” আমি কি আপনার ড্রাইভ,, চুপচাপ সামনে এসে বসুন”
তার পর আর কি বলার এসে বসলো,, কিছু সময় পর আরহাম শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো
_ ছেলেটা কে,,,
আরহামের প্রশ্ন শুনেও নুবা চুপচাপ রইলো,, আরহাম একবার তার দিকে ফিরে তাকিয়ে আবারো প্রশ্ন করলো
_ জিগ্গেস করেছি ছেলেটা কে,,,
নুবা বাইরের দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো
_ আপনার কাছে কৈফিয়ত দিবো আমি,,,কেন দিবো,,কোনো কারণ আছে,,,,
কথাটা বলতে দেরি আরহাম গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দিলো,,,গাড়ি একে বেঁকে চলতে লাগলো,,,নুবা চম্কে উঠলো হঠাৎ এমন হওয়ায়,,,বোকার মতো পাশ ফিরে তাকিয়ে দেখলো শক্ত হাতে ডাইভিং করছে আরহাম,,, দাঁতে দাঁত চেপে আছে তার ফলে সাইডের কপালের রগ ফুলে গেছে,, Jo line টা একটু বেশিই দৃশ্যামান হচ্ছে,,

আরহাম ফুল স্পিডে গাড়ি চালানো শুরু করলো নুবা হতভম্ব হয়ে বললো
_ কি করছেন,,আয়ারা ভয় পাবে,,(কিন্তু আশ্চর্য জনক ভাবে এখন নুবাই ভয় পাচ্ছে আর আয়রা গাড়ি বারবার আকা বাকা রাস্তায় ঝাঁকি খাচ্ছে দেখে সে দুলছে আর খুশি হচ্ছে ,,আজব বাচ্চা মনের ভিতরে ভয় ডর নেই)
নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ এতো তাড়াতাড়ি মরতে চাই না আস্তে চালান,,,
তবে কে শুনে কার কথা,,, রাস্তায় সকল গাড়িকে ওভার টেকিং করে সে এগিয়ে চলেছে,,সামনের দিকে তাকিয়ে নুবার মাথা ঘুরে উঠলো,,,এতোগুলো গাড়ির চিপা চাপা দিয়ে আরহাম স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছে ,,,
তখনিওভার টেকিং করতে যেএসামনে একটা ট্রাক চলে আসলো,,নুবা দুই হাত মাথায় চেপে ধরে চিৎকার করে উঠলো

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৯

_ আল্লাহ গোওওওওও,,,,,, আস্তে চালান,,, এক্সিডেন্ট হয়ে যাবে,,,ট্রাক ট্রাক ট্রেক,,, আস্তে _____
আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ ছেলেটা কে,,,,
নুবা বুঝতে পারলো এটা জানার জন্যই এতো অত্যাচার সে একবার সামনে একবার পাশে তাকালো,,, ট্রাক টা যদি একটু স্পিড কমিয়ে দেয় তবে এখনি এক্সিডেন্ট হয়ে_

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here