Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৭

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৭

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৭
সুরাইয়া জিয়াসমিন

নুবার বুক ফাটা নিঃশ্বাসে ধুলো গুলো উড়ে গেলো,,,থেমেও যেনো থামলো না কেউ,,,,যেখান থেকে এসেছিলো যেখানে চলে যাওয়ার জন্য রওনা হলো ,,,যে ছুটার ছুটতে থাক,,এক পর্যায়ে হাঁপিয়ে উঠে থেমে যাবে তবে একবার কি পিছন ফিরে তাকানো উচিত ছিলো??
আয়রা বলে চিৎকার কিছুটা আরহামের কানে লেগছে,,যখনি সে চাইলো তখনি নুবা মুখ থুবড়ে পড়ে গেলো,,,আর আরহামের বুকটা ধক করে উঠলো,,, আরহাম সিটে হেলান দিয়ে বসে ছিলো নুবাকে পরতে দেখে সে সাথে সাথে সোঁজা হয়ে গেলো,,, হাতের ইশারায় ড্রাইভকে গাড়ি থামাতে বললো,,,
নুবার এক পাশ ধুলো দিয়ে মেখে গেছে,,,সে ধুলা মাখা মুখ নিয়ে ছলছল চোখ করে গাড়িটার দিকে তাকালো,,, সাথে সাথে তার ঠোঁটে এক চিলতি হাসি ফুটে উঠলো,,,নুবা আবারো উঠে দাঁড়ালো,,,গাড়িটা থেমেছে তবে কি শুনলো তার কন্ঠ,,,

নুবা কোনো মতে দাঁড়িয়ে সেই দূরে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির দিকে আঁকাবাঁকা পায়ে ছুটে গেলো,,,
আরহাম আয়রাকে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ালো ততখনে নুবা প্রায় গাড়ির কাছে চলে এসেছে,,পড়ে যাওয়া ফলে মুখের এক পাশে ধূলোর বিচরণ,,
আরহাম কান্ত নুবার দিকে তাকালো,,নুবা ছুটে এসে বলদ মার্কা একটা হাসি দিয়ে বললো
_ এতো ডাকলাম শুনেননি
আরহাম কম্পিত কন্ঠে বললো
_ না
কন্ঠ কাঁপছে তার নিজেই নিজের কন্ঠ শুনে অবাক হলো সে,,
নুবা এক পলক আয়রার দিকে তাকালো যে কিনা বরাবরের মতো মুখে আঙ্গুল দিয়ে নুবার দিকে তাকিয়ে আছে,,নুবা কম্পিত কন্ঠে বললো
_আপনি তো আমাকে দেখেছিলেন ,,চিনতে পারেননি,,
আরহাম সোজাসুজি উত্তর দিলো
_না,,,
নুবা আয়রার গাল ছুঁয়ে বললো
_ শুনলাম চলে যাচ্ছেন,,,
আরহাম মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ হুম,,,
নুবা আহত কন্ঠে বললো
_ আবার কবে আসবেন,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো

_ আর কখনোই না তবে মরলে হয়তোবা লাশ এই দেশ পর্যন্ত আসতে পারে,,,
নুবার বুকটা ছ্যাত করে উঠলো,, আসবে না,,তার মানে আয়রাও আসবে না,,নুবা গলায় দলা পাকিয়ে কান্না আসলো,,পরপর আয়রার দিকে হাত বাড়িয়ে বললো
_ একটু নেই,,
আরহাম মেয়েকে এগিয়ে দিলো,,,আয়ারকে কোলে নিয়ে চুমু খেলো নুবা,,, ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ চলে যাচ্ছেন,, একবার আন্টির সাথে দেখা করে গেলে কি বেশি ক্ষতি হতো,,,
আয়রা টানা এক বেলা পর নুবাকে পেয়ে বুকে মুখ বিচরন করলো,,নুবার চোখ ফেটে পানি চলে আসলো,,আয়ারকে দুই হাত দিয়ে সোজা করে বুকের সাথে চেপে ধরে শ খানিক চুমু খেএ বললো
_ আন্টি আপনাকে অনেক মিস করবে,, অনেক,,আবার সময় পেলে আসবেন,,,আমি অপেক্ষায় থাকবো,,
তবে আয়রা হয়তোবা কিছুটা ক্ষুধার্ত তাই নুবাকে দুই হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে বুকে মুখ ডুবালো,,নুবা কিছু সময় চুপ থেকে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো

_ ও মনে হয় ক্ষুধা পেয়েছে,,কত দূরের রাস্তায় যাবেন,,ওর জন্য কিছু তো নেনোনি একটু খাওইয়ে দি,,, হ্যাঁ,,,
আরহাম উত্তর দিলো না নুবা উত্তরের প্রয়জন বোধ করলো না,,, রাস্তার পাশে মানুষ হাটার জন্য একটু উঁচু করে জায়গা তৈরি করে রাস্তা বানানো হয়েছে,,নুবা আয়ারকে নিয়ে যেখানে বসে পড়লো,,,নিজের শরীরের ময়লা ঝেড়লো,,আয়রার চোখে মুখে ময়লা যেতেই পারে আয়রা নাক কুঁচকালো,,,নুবা আয়রার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বললো
_ ও কিছু না,,একটু পড়ে গেছিলাম,,তাই ময়লা,,,
বলেই আয়ারকে এই রাস্তায় ফিড করাতে লাগলো,,গায়ে বড় সুতির ওরনা তার,,মাথায় মেটিং হিজাব,,গোলা জামার সামনে দিয়ে চেইন লাগানো,, এগুলো আয়রার জন্য লাগিয়েছিলো নুবা,,,মাঝে মাঝে এই সুতির ড্রেস গুলো বাড়িতেও পড়ে নুবা তাই,,,
আয়ারকে বুকে আগলে নিলো নুবা,,পরপর তাওরনা হিজাব দিয়ে পেঁচিয়ে মাথা নিচু করে তার শরীরে মুখ লুকালো নুবা,, অতঃপর শব্দ বিহীন কান্না করে উঠলো,,আরু বাবু চলে যাবে আর আসবে না,,,আর কখনো না,,,
নুবা ভারি কন্ঠে বিরবরি করে বললো

_ ভেবেছিলাম পর হয়ে গেলে তাও চোখের সামনে থাকবি,,,কে জানতো এতো দূরে চলে যাবি,,আর কয়টা দিন থেকে যা না মা,, তোর অভ্যাস হয়ে গেছে তো,,,
নুবা বিরবির করে আলাপ করতে লাগলো আয়রার সাথে,,,আজ যেনো আয়রাও স্বার্থপর হয়ে গেলো,,,১০ মিনিট খানিকের ভিতরে নুবার বক্ষ স্থল থেকে মুখ সরিয়ে নিলো,,,নুবা আবারো ফিড করানোর চেষ্টা করলো তবে মুখ সরিয়ে নিলো এস,,নুবার এতো কষ্ট হলো,,,আর একটু খানি খেলে কি হতো,,এই সময়টাতো তাকে পেতো,,,
তবে না আর আয়রাও বাবার সাথে সবাইকে ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য উতলা হয়ে পড়েছে,,,
কিছু মুহূর্ত পর নুবা কম্পিত হাতে আয়ারকে দিয়ে দিতে চাইলো আরহামকে তবে পারলো না,,পরপর আর একটু দেখে নিলো তাকে,,একটু আদর করে দিলো,,,ভাবলেই তার কলিজা কাঁপছে এই আয়রা আর কখনোই জ্বালাবে না তাঁকে,,কখনো না,,
নুবা অনেক কষ্ট করে বুকে পাথর চেপে আয়ারকে আরামের নিকট দিয়ে সুধালো,,,
_ যেতেই হবে,,না গেলে হয় না,,,
নুবার চোখ বেয়ে উপড়ে পড়া নোনা পানি প্রমান করছে আয়ারকে সে কতটা ভালোবাসে,,,নিজের কাছে নিজেরি লজ্জা লাগলো নুবার কি নির্লজ্জ সে অন্যের সন্তানরে জন্য কাঁদছে,,,যার প্রতি তার কোনো অধিকার নেই তাও কাঁদছে,,

আজ থেকে নুবার খাওয়া দাওয়া খেয়াল রেখে খেতে হবে না,,দিন রাত মিলিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে না,,,এতো গুলো করে ওষুধ খেতে হবে না,, অর্ধ রাতে কেউ দরজায় এসে কড়া নাড়বে না,,, কাউকে নিয়ে সে জেলাস ফিল করবে না,,,কারো সাথে আর খুনসুটি করা হবে,,তাকে ছাড়া অন্য কারো কোলে গেলে অভিমান করে দুটো রেগে কথা শুননো হবে না,,,সব শেষ,,
কিছু সময় নিরবতা কাটলো,, আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ তাহলে আসি,,,
নুবার ইচ্ছা করলো আরহামকে জেতে ধরে রাখতে তাহলেই আয়রা যাবে না তবে তা সম্ভব না,,,নুবা ছলছল চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_ আচ্ছা,,,আরু বাবুর খেয়াল রাখবেন,,,
আরহাম শুকনো ঢোক গিলে আয়ারকে নিয়ে গাড়িতে উঠার জন্য পিছনে ঘুরলো,,তখনি নুবা আরহামের শার্ট আলতো করে টেনে ধরে মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ বাসার সবাই অনেক কান্না করছে বিশেষ করে চাচি,,,আপনি হুট করে চলে গেলে অনেক কষ্ট পাবে,,আ,,আপনি অন্ততপক্ষে একটা ভালো পরিবেশে যান,,এভাবে অশান্তি লাগিয়ে,,, please,, আমার যতটুকু বলার ছিলঝ বলে দিয়েছি,,,
আরহাম পিছন ঘুরে তাকিয়ে কাতর কন্ঠে বললো

_ আমার সাথে যাবে,,,???
নুবা মাথা উঁচু করে আরহামের দিকে তাকালো,, আরহাম চাপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আয়রার জন্য,,,যাবে আমার সাথে,,,??
আরহামের প্রশ্নে নুবা আরো কেঁদে উঠলো বিরবির করে বললো
_ এটা কি আদেও সম্ভব,,,আপনি বরং আয়ারকে দিয়ে চলে যান,,,আয়রা এখানে ভালো থাকবে,,এখানে সবাই আছে আপনি একা ওকে সামলাতে পারবেন না,,,,
বলেই নুবা আয়রার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো,,,
আরহাম নুবার কথা শুনে আহত হলো,,বিরবির করে বললো
_ আমি থাকলে বা না থাকলে কোনো যায় আসে না তাই না,,আমি বড্ড খারাপ মানুষ তো তাই,,,সবাই অপছন্দ করে,,,
নুবার মাথায় কথা ঢুকলো না শুধু আয়রার দিকে তাকিয়ে রইলো,, আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ বাসায় যাও,, নিজের খেয়াল রেখো,,, যদি ভাগ্যে থাকে তবে হয়তোবা দেখা হতে পারে,,,আসতে পারি একটা কাজ বাকি আছে,,, কয়দিন পর এসে সবাইকে মুক্ত করে দিয়ে যাবো,,,
নুবা কিছু বললো না,, শুধু দাঁতে দাঁত চেপে নিজের কষ্ট নিবারণের চেষ্টা করলো,,,
আরহাম আয়ারকে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসে এক পলক কান্নারত নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ এখানে দাঁড়িয়ে না থেকে বাসায় যাও,,

অতঃপর আরহাম ড্রাইভারকে গাড়ি stared দিতে বললো,,,গাড়ি আবারো চলতে শুরু করলো,,,নুবা নাক টেনে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো,,,চলে গেলো,,,
নুবা চোখের পানি মুছে রাস্তায় হাঁটতে লাগলো,, আরহাম যতসময় নুবাকে Mirrorদিয়ে দেখা যাচ্ছিলো তত সময় তাকিয়ে রইলো,,পরপর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,
বয়ে আসা কান্না গুলো নুবা গিলে ফেললো,,,জোর করার অধিকার নেই তার একদমি নেই,,,পরপর নুবা দুই হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে অন্যমনষ্ক হয়ে রাস্তা পাড় হতে নিলো,,তখনি দূর্ঘটনা বসতো কোথা থেকে একটা গাড়ি এসে নুবাকে ধাক্কা মেরে দিলো,,নুবার ক্লান্ত শরীর টা ছিটকে যেএ পড়লো দূরে,,,তবে গাড়ি নুবার শরীরের উপর দিয়ে উঠানোর আগেই গাড়ির ড্রাইভার ব্রেক কষলো,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে ওখানেই পড়ে রইলো,,, এদিকে ড্রাইভার কি ভেবে যেনো পিছনে তাকিয়ে ছিলো তখনি এই ঘটনা ঘটলো,, ড্রাইভার সাথে সাথে গাড়ির ব্রেক কষে স্তব হয়ে বললো

_ sir ওই মেমটা,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ কেন মেম,,,
ড্রাইভার ব্যস্ত কন্ঠে সুধালো
_ এই মাত্র যার সাথে আপনি কথা বললেন তাকে একটা গাড়ি ঠুকে দিয়েছে,,,
আরহামের চোখ যেনো কঠোর থেকে বেড়িয়ে আসবে আরহাম চোখ বড় বড় করে বাইরে তাকালো পরপর গাড়ির দরজা খুলে মেয়েকে সিটে রেখে বাইরে বেড় হয়ে দেখলো কিছুটা দূরেই অনেক ভিড় হয়েছে,,,আরহামের শরীরে যেনো বরফ শীতল বাতাস হয়ে গেলো,,, আরহাম চিৎকার করে উঠলো
_ নুবুউউউউউউ
পরপর ছুটে গেলো সে,,,

নুবা টিপটিপ করে তাকালো কিলিজা ধুকধুক করছে তার,,, সবকিছু এলোমেলো লাগছে এমন সময় গাড়ির ড্রাইভার এসে বিচলিত কন্ঠে বললো
_ তুমি ঠিক আছো,,,(মধ্যে বয়স্ক লোক)(সবসময় যে সুদর্শন আর সাইড নায়ক এসে নায়কার accident করবে এমন তো কোনো কথা না 😁)
নুবা শুকনো ঢোক গিললো ,,মাথা ঘুরছে,,,গাড়ির ড্রাইভার ব্যতিত কেউ এগিয়ে আসছে না সবাই মোবাইল দিয়ে ভিডিও করছে যেনো এখানে সার্কেস চলছে,, মানুষগুলো কতটা অমানুষ হয়ে গেছে এমন একটা অবস্থায় সাহায্য না করে দূর থেকে দাঁড়িয়ে ভিডিও করছে নাটক দেখছে,,,কি একটা অবস্থা,,
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে যাওয়ার আগেই ভির ঠেলে আরহাম ছুটে আসলো,,,নুবার কিছুই হয়নি,,,গাড়ির স্পিড কম ছিলো,,, শুধু ধাক্কা লেগেছে তবে তবে হঠাৎ কিছুটা জোরে ধাক্কা লাগায় ছিটকে পড়ার সাথে সাথে একটু ব্যথাও পেয়েছে,, ভাগ্যিস এটা মেইন রোড না,,ধুলোর রাস্তা যার ফলে মাথা ফাটেনি,, সত্যি কথা বলতে এটাকে আল্লাহর রহমত বলে,,,
কারণ এর একটু পিছনে পাকা রাস্তা করা হচ্ছে ভাগ্যিস এখানে পড়েনি না হলে আজ শেষ দিন হতো,,
আরহাম এসেই হাঁটু গেড়ে নুবাকে বুকে টেনে নিলো,, নুবা শরীরের Bleu de Chanel পারফিউমের ঘ্রান টের পেয়েই বুঝতে পারলো এটা আরহাম,,নুবার এই ঘ্রানটা প্রচন্ড ভালো লাগে,,,সে জানে না কেন,,, আরহাম বাড়িতে বা রুমে ডুকলেই এই ঘ্রানে পুরো রুম মোমো করে উঠে,,তাই মাঝে মাঝে আরহাম আশে পাশে থাকলে নুবা টের পায়,,
নুবা টিপটিপ করে তাকালো,,, আরহাম নুবার দুই গাল চেপে ধরে কম্পিত কন্ঠে বললো

_ are you ok,,নুবু,,এই নুবু,,তাকাও আমার দিকে,,
নুবা ভিজ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বিরবির করে বললো
_ I am ok,,
আরহাম নুবাকে নিজের বুকের সাথে আগলে নিলো,,বুকটা কাঁপছে তার,, অনেক কাঁপছে,, কেমন ভয় হচ্ছে,,,
আরহাম আশে পাশে তাকাতে চাইলো যে কে এই কাজটা করেছে,,আজ তাকে কবর দিবে কিন্তু তার আগেই নুবা বিরবির করে বলে উঠলো,,
_ আপনি যাওয়ার আগেই ৩ বার বাঁধা পড়ে গেছে এবার গেলে আল্লাহও নিরাশ হবেন,,,
যেনো আরহামকে আটকানোর জন্য এই দুর্ঘটনাটা ঘটলো,,,তাই বলে আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী,,, হয়তোবা সে না চাইলে এতো সময় আরাহাম এই এরিয়া ছেড়ে চলে যেতো,,
আরহাম নুবাকে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো,,,নুবা চুপ করে কিছু সময় মনোনিবেশ করে ভাবলো যদি এখন সে বলে সে তেমন ব্যথা পায়নি নির্ঘাত এই লোকটা তাকে এভাবে ফেলে রেখে চলে যাবে,,,এর থেকে ভালো এই বেটাকে আগে বাড়িতে নেওয়া উচিত,,,তাই ভেবে নুবা চোখ মুখ কুঁচকে বললো
_ ahhh অনেক ব্যথা হচ্ছে,,একটুও দাঁড়াতে পারবো না,,,
আরহাম বিচলিত কন্ঠে বললো

_ কোথায় লেগেছে,,,ওই bs**** টাকে এখনি দেখছি দাঁড়াও,,
নুবা আরহামের শার্ট আঁকড়ে ধরলো,,,*কত বড় বেয়াদব বেডা,,আমি মরে যাচ্ছি আমাকে কোলে তুলবে,,তা না যাচ্ছে ড্রাইভারকে মারতে আজব”
পরপর নুবা নাক মুখ কুঁচকে নাটকিও ভঙ্গিতে বললো
_আরেএএ উনাকে ছাড়ুন আমাকে ধরুন,,,বাসায় নিয়ে চলুন আমি মরে গেলে আপনার উপর সব দোষ পড়বে তাড়াতাড়ি করুন,, ahhhhhhhhhhh,,জ্বলে গেলো ফেটে গেলো,,,মরে গেলামরে,,মরি যাই মরি যাই,,,
বলেই নুবা এক চোখ খুলে আরহামের দিকে তাকালো,, আরহাম অস্থির হয়ে নুবাকে কোলে তুলে বললো
_ হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে,,
নুবা আরহামের কলার চেপে ধরে তেতে উঠে বললো
_ আরে বাল বাসায় চল,,মারার আগে অন্ততপক্ষে আমার এতিম মাকে একটু দেখে নি,,,
আরহাম ড্যাবড্যাব করে নুবার দিকে তাকালো,,,নুবা বুঝতে পারলো অভিনয়ে খুবি কাঁচা সে আরাফের মতো দক্ষ না তাই সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে আরহামের গলা জড়িয়ে ধরে গুনগুন করে বললো
_ বাসায় চলেন,,,
আরহাম টের পেলো সবি নাটক তবু কিছু বললো না,,,নুবা ঠিক আছে ভেবে শান্তি লাগলো,,,নুবা বিরবির করে বললো
_কি হলো চলেন,,,

আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে এগিয়ে আসা গাড়ির ড্রাইভারকে বললো,,,
_ আয়ারকে নিয়ে আপনি যান আমি আসছি
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,আয়ারকে নিয়ে যাবে মানে,,,নুবা চোখ বড়বড় করে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো,,
_ যাবে মানে,,যাবে মানে,,, ছাড়ুন তো আমাকে,,,
বলেই শরীরের মৃদু ব্যাথা নিয়ে নুবা লাফ দিয়ে নিচে নামলো,, আরহাম নামতে দিলো তাই নামলো,,
নুবা ড্রাইভের হাতে থাকা আয়রাকে ছো মেরে নিয়ে নিলো পরপর আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপনি গেলেও পরে যাবেন,,, শান্ত পরিস্থিতিতে ঝগড়া করে বা বাড়ির সবাইকে কান্না করিয়ে রেখে না,,,
বলেই নুবা একটু সাহস নিয়ে হাঁটতে লাগলো,, আরহাম যদি কিছু বলে এখনি আয়ারকে নিয়ে চোরের মতো দৌড় দিবে সে,, মেয়ের পিছন পিছন বাপো চলে আসবে ইনশাআল্লাহ,
আরহাম পিছন থেকে ডাকে উঠলো,,,
_ এই মেয়ে,,এই না তুমি মরে যাই মরে যাই করছিলে,,

নুবা পিছন ফিরে দিলো এক দৌড় তবে বেশি দুর যাওয়ার আগেই আরহাম এসে ধরে ফেললো,,নুবা আয়ারকে বুকের সাথে আগলে ধরে চোখ মুখ খিচে নিলো তার মানে হলো মিথ্যা বলার কারনে আরহাম এখন তাকে ঠাস করে একটা মেরে বসবে,,,তবে আশ্চর্য জনক ভাবে এমন কিছু হলো না,,
আরহাম মনে মনে হেসে আয়ারকে সহ নুবাকে পাঁজা কলো তুলে নিলো,,,নুবা ‌ভয়ে এক হাত দিয়ে আরহামের গলা অন্য হাত দিয়ে আয়ারকে আঁকড়ে ধরলো,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস বললো,,
এই পাগল টাকে ফেলে চলে যাচ্ছিলো সে,, একবার সব ঝামেলা দেখে মনে হয়েছিলো সে আসবেই না,,নুবাকে কোনো ছলনার ভিতরে রেখে দ্বিতীয় দফা এসে ডিভোর্স পেপারে সাইন করিয়ে নিবে,,,তবে আসলেই কি সে এরকম করতো,, পরিস্থিতির কাছে হেরে যেএ চলে যেতো,, হয়তোবা রাগ ছুটলে মেয়ের ক্ষুধা নিবারণের জন্য,,,বা নুবার জন্য,,বা তার মায়ের জন্য ফিরে আসতো,,,
নুবা অদ্ভুত চোখে আরহামের দিকে তাকালো,,,তার থুতনি,, খোঁচাখোচা দাড়ি আর সুরু নাকটা ভুরুটা দেখা যাচ্ছে,, সিল্কি চুল গুলো বাতাসে উড়ছে,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৬

নুবা পলক হীন তাকিয়ে রইলো,, ইদানিং আরহাম কেমন বদলে গেছে সেই আরহাম শুধু গলা ফাটিয়ে চিৎকার করার জন্য তাকে মেরেছিলো সেই আরহাম ৪/৫ মাসেই বদলে গেছে,, অনেক বদলে গেছে,,, কিন্তু কিভাবে??
পরপর নুবা চোখ সরিয়ে নিলো,,,পুরাটা রাস্তা নুবা চুপ রইলো কেমন অদ্ভুত লাগছে তার,,বুকটা ভার ভার লাগছে,,তবে শান্তি লাগছে আয়রা বুকে দেখে,,,
নুবা আর আয়রা তখনো আরহামের কোলে,,,এই অবস্থায় ওদের নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলো আরহাম তবে বাড়ির অবস্থা বেশি ভালো না __

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here