নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৯
সুরাইয়া জিয়াসমিন
আমিনা বেগম স্বামীর কথায় চমকে উঠলেন,,, হারুন মির্জা এক কথার মানুষ যা বলবেন তাই করবেন,, একবার যেহেতু বলেছে নুবার সাথে আরহামের কোনো সম্পর্ক হতে দিবে না,,মানে দিবে না,,তার জন্য সে যেকনো কিছু করতে পারে,,,
পরি সব গুছিয়ে নিচ্ছে,,একটু আগে হারুন মির্জা কালকের ব্যপারে কল দিয়েছিলো,,পরশ সাহেব রাজি হয়েছেন,,
পরির মা কিছুটা বিচলিত কন্ঠে বললেন
_ আপনি কি এটা ঠিক করলে পরির আব্বু,,,বিয়ের আগে,,,
পরশ হাওলাদার দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ আমার মির্জা পরিবারের উপর ভসরা আছে,,আর মুখের উপর কি করে না করে দেই এতো করে বলছে,,,আর আগে থেকেই ওখানে থাকলে পরিরো মন ঠিকে যাবে,,
_ তার পড়েও আমার বিষয়টা ভালো লাগছে না
পরশ হাওলাদার হেঁসে বললেন
_ চিন্তা করো না,,মেয়ে আমাদের ছোটো না,,আমিনা ভাবি যেহেতু বলেছে খেলায় রাখবে তবে রাখবে,, তাদের কথা ফেলে দেওয়ার মতো না,, অবশ্যই ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছে,,,আমি তো কখনো ভাবিইনি পরি এতো বড়ো ঘড়ে যেএ পড়বে,,
একটু থেমে উনি আবারো বললেন
_ বুঝলে পিরর মা, আজকাল ঘর পেলে বর পাওয়া যায় না,,বর পেলে ঘর পাওয়া যায় না,,সেখানে আরহাম আল্লাহ রহমতে খুবি সুদর্শন,,,বাড়ির সবাই কত ভালো ,,চিন্তা করো না ,,তার উপর সব থেকে ভয় আমার নাবিলকে নিয়ে,,,ওই বখাটে ছেলে যদি জানতে পারে পরির বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে টিকতে দিবে না,,,ওই এলাকা থেকে সরে তো এসেছি তবে বেশি দিন লাগবে না আমাদের খুঁজে বেড় করতে,,,এর থেকে ভালো পরি মির্জা বাড়িতেই সেভ থাকবে,,,
_ সেটাই তো,, আল্লাহ আল্লাহ করছি নাবিল জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার আগে আমার মেয়েটার ভালোই ভালোই বিদায় হয়ে যাক,,,
_ থাক চিন্তা করো না,,,বছর খানিক এখনো জেলেই থাকবে ওই ছেলে,,
পরির মা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ যদি ছাড়া পেয়ে যায় তাই তো ভয়,,,
_ আরে পাবে না,,,টেনশন করো না,,
নাবিল,,আগে যেই এলাকায় পরিরা থাকতো সেখানের নাম করা গুন্ডা বললে কম হবে,,দিনে দুপুরে মানুষ খুন করে,,,সেই আস্ত শয়তানের চোখে পরি পড়েছিলো যার ফলে কখনোই এলাকার কেউ পরির দিকে চোখ তুলে তাকানোর চেষ্টা করেনি,,,,,
একবার পরি তাকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় পরিকে তুলে নিয়ে গেছিলো তাই গুজব ছিলো তুলে নিয়ে পরির সর্বনাশ করেছে,,তবে এমন কিছুই হয়নি পরি নিজের ইজ্জত বাঁচিয়ে কোনো মতে ফিরেছিলো,,,
অতঃপর ওখান থেকে সরে যায় পরিরা,,এর কয়দিন পর পরিদের খুঁজতে এসে বাড়ি ওয়ালাকে খুন করে সেই নাবিল,,যার ফলে জেলে যেতে হয় তাকে,,, এর ভিতরে বেড় হতে চেয়েছিলো তবে বাপ রাজনৈতিতে থাকায় মানুষের চোখে ভালো হওয়ার জন্য ছেলেকে জেলেই আটকে রেখেছে,,, মূলতো নাবিলের বাপি পরিদের ওখান থেকে সরে যেতে বলেছিলো,, কারণ পররি জন্য নাবিল উন্মাদ হয়ে গেছিলো,,যেকনো সময় যেকনো ভাবে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করে দিতো তাই,,,
বিশেষ করে এই কারনেই পরশ হাওলাদার নিজের পরির মতো মেয়েকে বিবাহিত ছেলের হাতে তুলে দিতে চাইছে,, মির্জা পরিবারের দাপট অনেক,,, ভবিষ্যতে কোনো ঝামেলা হলে নাবিলদের সাথে লড়াই করতে পারবে,, তার উপর আরহামও দেখতে শুনতে খারাপ না,,এই কারনেই মেয়েকে বাঁচানোর জন্য এই কাজটা করলো পরশ হাওলাদার,,,
এদিকে আগে যেই এলাকায় পরিরা থাকতো সেই এলাকায় আরহামরা খোঁজ নেয়নি যার ফলে কিছুই জানে না তারা,, পরশ হাওলাদার এই বিষয়ে জানাতেও চায় না,,কোনো ঝামেলা সে চায় না,,বিয়েটা হলেই সে বাঁচে
তখন প্রায় বিকাল,,আরহাম মাথার তলে দুই হাত দিয়ে বসে আছে এমন সময় আমিনা বেগম এসে ছেলের সামনে বসলেন,,, আরহাম টিপটিপ করে তাকালো,,,মাকে রুমে দেখে একটু বিব্রত হলো সে,, উঠে বসে বললো
_ তুমি আসতে গেলে কেন,, আমাকে ডাকলেই হতো,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ছেলের চোখ মুখের অবস্থা দেখে বললেন
_ একটা কথা বলবো সরাসরি উত্তর দিবি আরহাম,,,
আরহাম কেন জানি বিরক্ত হলো কারণ সে ভাবলো হয়তোবা পরির ব্যপারে,,,
_ হুম বলো,,
আমিনা বেগম আরহামকে চমকে দিয়ে বলে উঠলেন
_ তুই নুবাকে পছন্দ করিস,,,
আরহাম পিলে চম্কে উঠে মায়ের দিকে তাকালো,,,বুকটা ধুকপুক করে উঠলো তার,,,
আমিনা বেগম ছেলের হাতের উপর হাত রেখে বললেন
_ কি হলো বল,,
আরহাম শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ হুম,,,
ঠাস করে একটা থাপ্পর পড়লো আরহামের গালে,,আরহাম ডান গালে থাপ্পড় পড়ায় বাম দিকে ঝুঁকে গেলো,,,আমিনা বেগম দাঁতে দাঁত পিষে বললেন
_ছোটো বোন হয় না তোর,, হ্যাঁ,,,
আরহাম জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো
_ কোন রক্তের বোন,,,
আমিনা বেগম হাসফাস করে বললেন
_ আবার কথা বলে লজ্জাও লাগে না,,, নির্লজ্জ কোথাকার,,, হাঁটুর বয়সি একটা মেয়েকে কু নজরে দেখে ছি ছি,,,তোকে ছেলে বলতেও লজ্জা হচ্ছে,,,তোর লজ্জা করে না রে এ,,,মাইঙ্গের পুত,,, লজ্জা শরম নাই,,
আরহাম ঠোঁটে ঠোঁট চেপে মশকরা করে বললো
_ না আমার কোনো শরম টরম করে না আর আমার actually একদম সরম নাই ,, আমার ভিতরে অনেক প্রেম আছে but আমার শরম টরম নাই 🙃
আমিনা বেগম কপাল চাপড়ালো,, দুঃখে দুঃখী হয়ে বললো
_ আল্লাহ,, আমার কপালেই কেন এমন সন্তান দিলা কি পাপ করেছিলাম,,,
আরহাম বিরবির করে বললো
_ পাপ করোনি লাভ করেছো,,,,
_ তোর বাপ এই সব জানলে প্রথমে আমাকে কবর দিবে তার পর তোকে,,কেন এমন করলি বাবা,,,
অনেকটা সময় ছেলে আর মায়ের ভিতরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চললো,,এখন দুই জনেই কান্ত হয়ে বসে আছে,,আমিনা বেগম শান্ত কন্ঠে বললেন
_ এখন কি করবি,,,
_ আমি কি জানি,,,
আমিনা বেগম সোঁজা হয়ে বসে বললেন
_ দেখ বাবা,,এই জনমে তুই নুবাকে পাবি না,,,তোর বাপ কোখনোই এই সম্পর্ক মেনে নিবেন না,,,আর নুবাও তো এরকম চাইবে না,,,যদি নুবা চাইতো তবে একটা কথা ছিলো,,
আরহাম চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ তাহলে নুবিকেই জিগ্গেস করো,,,
আমিনা বেগম দাঁতে দাঁত চেপে বললেন
_ কি জিগ্গেস করবো আমি,,” তুই আমার ছেলেকে বিয়ে করবি নুবা” ডিরেক্টর জুতা ছুঁড়ে মারবে,,তবে ভদ্রতা বজায় রেখে হয়তোবা মুখের উপর না করে দিবে,,,কখনোই এরকম হবে না,
আরহাম ভারি নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ trust মা আমার ওই বিচ্ছুকেই লাগবে,,, mom please তুমি চাইলে সব হবে,,,,
আমিনা বেগম ছেলের চোখে মুখে আগ্রহ দেখে বললেন
_ আচ্ছা আগে আমরা দেখে নি নুবা তোর সম্পর্কে বা দ্বিতীয় বিয়ে সম্পর্কে কি মনোভাব রাখে তার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিবো,,,পরি এই বাড়িতে আসবে নাকি নুবা,,,
আরহাম মাথা ঝুকালো,,,
আরশি নাক মুখ কুঁচকে বললো
_ আমিই কেন মা,,,
আমিনা বেগম মেয়েকে ধমকে বললেন
_ আমি যা বলছি তাই যেএ জিগ্গেস করবি,,,
আরশি ভুরু কুঁচকে বললো
_ আগে সব খুলে বলো কি হচ্ছে,,এই সব কেন,,
_ দেখ আরশি সময় হলে খুলে বলবো এখন যা তো মা,, আমাকে একটু শান্তি দে,,না হলে বাড়ি ছেড়েই আমি চলে যাবো,,,
আরশি চোখে মুখে কান্নার ভাব এনেই দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আয়ারকে নিয়ে নুবাদের রুমে প্রবেশ করলো,,, এদিকে আরহাম আর আমিনা বেগম চোরের মতো রুমে উঁকি মেরে দেখতে লাগলো কি হবে এখন,,
আরশিকে রুমে ডুকতে দেখে নুবা শোয়া থেকে উঠে বসে বললো
_ তুমি যে আপু,,,
আরশি বিছানায় বসে আয়ারকে নুবার কোলে দিতে দিতে বললো
_ কি করছিলি,,,
নুবা আয়রাকে কোলে নিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ কি আর করবো,, তোমার ভাই আমার ফোনটা ভেঙ্গে রেখেছে তাই সন্ধ্যা বেলায় শুয়ে শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছিলাম,,
আরশি এক পলক বাইরের দিকে তাকালো,,,আমিনা বেগম চোখের ইশারায় আরশিকে কিছু একটা বুঝালো,,,আমিনা বেগম নিচু হয়ে উঁকি মেরে আছে আরহাম মায়ের উপরে,,, দুই জেনের মাথা এক সাথে,,কেউ হঠাৎ দেখলে নির্ঘাত ভয় পাবে,,,
নুবা আয়রার গালে শ খানিক চুমু খেএ বললো
_ কি আজকে তো চলেই যাচ্ছিলেন,,,এখন থাকতেন কোথায় হুম,,সবি আমার কেরামতি বুঝলেন,,একটা ধন্যবাদ দেওয়া উচিত আমাকে,,,
আয়রা হাত নেড়ে উ আ করে হাসলো,,,
আরশি জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বিরবির করে বললো
_ তা শুনলাম ভার্সিটিতে উঠলে নাকি তোকে বিয়ে দিয়ে দিবে,,,
নুবা আরশির দিকে বিকৃত মুখে তাকিয়ে বললো
_ কে বলছে এই কথা,,,
_ না মানে শুনলাম,,
_ কই আমি তো শুনি নাই,,
আরশি একটু ধমকে বললো
_ তোর বিয়ের কথা তোর সামনে বলবে বলদ,,,
নুবা একটু হেঁসে লজ্জা পাওয়ার ভান করে বললো
_ হ্যাঁ তাই তো,,,
আরশি নুবার দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_ বুকের দুধ দে ভাই,, খাওয়ার জন্য লালস ফলস করছে দেখছিস না,,,
নুবা চম্কে উঠে বললো
_ ও ভুলেই গেছিলাম,,,
নুবা আয়ারাকে ফিড করাতে করাতে বললো
_ তা কিছু বলবে আপু,,মনে হচ্ছে কিছু বলবে,,
আরশি ইনিয়ে বিনিয়ে বললো,,
_ তেমন কিছু না,,,না মানে তোর কেমন ছেলে পছন্দ নুবা,,,
নুবা ঠোঁট গোল করে আরশির দিকে তাকিয়ে বললো
_ হঠাৎ এই প্রশ্ন,,,
আরশি বিরক্তি নিয়ে বললো
_ আরে বাল,,মানে জানা থাকা ভালো না,,এর আগে প্রেম টেম করেছিস কিনা,,,
নুবার বুকটা চবি মেরে আসলো,,,পুরানো ব্যথা যেনো জাগান দিলো,, ইদানিং আরফের সাথে দেখা হয় না বললেই চলে,,, হয়তোবা বউকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে,,এটাই ভালো,,,
আরশি নুবার ভাবনার ভিতরে খোঁচা মেরে বললো
_ কি হলো বল,,
নুবা ভিতরে ভিতরে এক রাশ কষ্ট পেলেও উপর দিয়ে হেসে বললো
_ওই তেমন কিছু না,,ভালো একটা মানুষ হতে হবে,, আমাকে ভালোবাসবে,,দেখতে সুন্দর না হলেও চলবে,,, সুন্দর ছেলে ভালো লাগে না আমার,, তাদের মনটা কালো হয়,,, এমন ছেলে হবে যাতে সবাই দেখে বলে নুবা তোর জামাই জিতে গেছে,,,যাতে ভবিষ্যতে আমি ব্যতিত কারো দিকে নজর না দেয়,,,বেটার অপশন না খুঁজে,,যে আমি সুন্দর আমার,, আমার থেকেও সুন্দর বউ লাগবে এরকম চিন্তা ভাবনা থেকে দূরে থাকে,,
আরশি জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ বাআ বাআ,,ভালো চিন্তা ভাবনা,,, ফিনান্সিয়াল দিকটা কেমন হতে হবে
নুবা একটু ভাবুক হয়ে বললো,,
_ তিন বেলা খাবার,,৩/৪ মাসে ২/৩ সেট করে জামা কাপড় দিলেই হবে,,সাথে সপ্তায়ে এক আদ দিন ঘুরতে নিয়ে গেলে মন্দ হয় না,,,
আরশি মুখ বাঁকিয়ে বললো
_ ভালোই তো জামাই এর উন্নতি করে দিবি তুই,,,
আমিনা বেগম মাথা উঁচু করে ছেলের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললো
_ দেখলি ও সুন্দর ছেলে পছন্দ করে না,,আর তুই তো মেয়ে মানুষের মতো ফর্সা,,, তোর আশায় তেল ডেলেছে বাবা,,,এবার চল,,,
আরহাম মায়ের মুখ চেপে ধরে বললো
_ ধূর আসল কথাটা শুনতে দেও,,,
আরশি কিছু সময় কথা বলে ইনিয়ে বিনিয়ে বললো
_ 2nd marriage সম্পর্কে কি মতামত,,
নুবা হাতের আঙ্গুল খুটে আরশির দিকে তাকিয়ে বললো
_ মানে,,
আরশি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ ধর এমন হলো তোর husband এর দ্বিতীয় বিয়ে এটা,,, এমন কি ১/২ টা বাচ্চাও আছে,,,মানে দূভাগ্যে বশত হয়ে গেলো,,,
কথাটা শুনে নুবার মুখে অন্ধকার নেমে আসলো অভিমানী কন্ঠে বললো
_ তুই কিন্তু অনেক খারাপ আপু,,সেদিনো একবার বলেছো আমার কপালে বুড়ো বেডা জুটবে আর আজতো হাদ হো গায়ই( অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে)
আরশি একটু হেসে বললো
_ আরে রাগ করছিস কেন মজা করলাম,,আমি তো শুধু তোর opening জানতে চেয়েছি আর কি,,বললে কি হয়,,,
নুবা শান্ত কন্ঠে বললো
_ ভাই আমি অবিবাহিত আমি কোন দুঃখে বিবাহিত তাও বাচ্চা ওয়ালা ছেলেকে বিয়ে করবো,,, তুমি কি আমাকে পরি মেমের মতো পেয়েছো যে বললেই রাজি হয়ে যাবো,,
আরশি ভুরু কুঁচকে বললো
_ তুই কিন্তু আমার ভাইকে অপমান করছিস,,,
_ অপমান করিনি,, আমার সোজাসুজি কথা হলো আমার এতোও খারাপ দিন আসেনি যে আমি use করা মাল use করবো,,, হয়তোবা জীবনে অনেক পাপ করেছি কিন্তু বিয়ে তো করিনি,,তালহে কেন কারো ব্যবহার করা জিনিস ব্যবহার করবো হুম,,,
নুবার কথায় আরশির তেমন কিছু হলো না কারণ ও এই ব্যপারে কিছুই জানে না তবে আমিনা বেগমের মুখ কালো হয়ে গেলো,, আরহাম যেনো হতভম্ব হয়ে গেলো,,এই মেয়ে তাকে ডিরেক্ট used মাল বললো,,আরহামের ইচ্ছা হলো এখনি যেএ নুবার ঠোঁট চেপে ধরে বলতে
” এই মেয়ে এখনি তোর মুখের কথা মুখে ডুকা”
ভিতরে ভিতরে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে গেলো তার,,
আরশি মুখ বাঁকিয়ে বললো
_ এতোটাও নিটকাইস না নুবা,,জানিস তো যে যা বেশি নাক সিঁটকায় তার কপালে তাই পরে,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আমি জানি না আপু,,, তবে এর থেকে সারাজীবন একা থাকাও উত্তম,,
পরপর নুবা একটু থেমে বেশ স্বাভাবিক আর শান্ত কন্ঠে বললো
_আমার অস্তিত্বের গভীরে বয়ে যাওয়া তার প্রতিটি বীর্য কনা, প্রতিটি স্পর্শ যেন শুধু আমার জন্যই বরাদ্দ থাকে। আমি চাই না যে পুরুষ তার সন্তান অন্য কারো গর্ভে ধারন করিয়েছে সে আমার হোক,,,আমিই শুধু তার সন্তানরে মা হবো ,,তার ভালোবাসার ঠিকানায় যেন শুধু আমার নাম লেখা থাকে, সে যেন হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে শুধু আমাকেই চায়,,এটাই,,,
আরশি নুবার কথা মনযোগ দিয়ে শুনে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ সেটাই তো সবার এটাই চাওয়া থাকে,,,
নুবা অন্যমনষ্ক হয়ে বললো
_ বিয়ের আগে যাই করুক না কেন তবে বিয়ের পর আমিই তার সব হবো,,,অন্য কারো প্রমিককে বিয়ে করা যায় তবে বিবাহিত পুরুষকে না,,, জীবনে এমন কেউ নেই যে বলতে পারবে না বিয়ের আগে প্রেম করেনি বা কাউকে পছন্দ করেনি,,যে বলবে নির্ঘাত তারা আল্লাহর ইমানদার ব্যক্তি,,তবে আমি এতো ভালো না,,পাপ আমিও করেছি তাই বলে বিবাহিত পুরুষ না,,,
পরপর নুবা আরশির দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বললো
_ অন্য কাউকে ছোঁয়া পর আমাকে ছুবে গা গুলিয়ে আসবে না আপু,,(কথা টুকু আরফকে মনে করে বললো নুবা,,,এই সব বাক্যের গভীরতা আরফ ছিলো ,, প্রতিটা শব্দ ছিলো ঘৃনায় জরিত,,, ঘৃনা করে সে ওই মানুষ টাকে,, শুধুই ঘৃনা)
আরশি নিজেও বেশ আবেগ প্রফুল্ল হয়ে বললো
_ কখনো কাউকে ভালোবেসেছিস নুবা,,,
নুবা আরশির দিকে তাকিয়ে বললো
_ ভালো তো আমি সবাইকেই বাসি,, তোমাকে,,আয়ারকে আমার মাকে চাচ চাচিকে,, সবাইকে তবে ভালোবাসার ধরন আলাদা,,,সবার থেকে সবার ভালোবাসা আলাদা,, তুমি কোনটা জানতে চাইছো,,
_ প্রেম করেছিস কখনো,,
নুবা কিছু সময় চুপ থেকে শব্দ করে হেসে বললো
_ ভালোবেছিলাম,, অনেক,,,তবে সে আমাকে বাসেনি,, আমাকে রেখে অন্য কাউকে বিয়ে করেছে,,,বাদ দেও অতীতের কথা তুললেও চাই না,, কাউকে বলো না,, তোমাকে বিশ্বাস করে বললাম,,
আরশি হাসলো,,সে জানে এই মানুষ টা আর কেউ না আরাফ,,,নুবার কথার গভিরতা টের পেলো আরশি,,কেনো নুবা সুন্দর ছেলে চায় না,,তারা বেটার অপশন পেলে চলে যায়,,, আজকের পর আরশির কাছে সব ক্লিয়ার হলো যে আরাফের সাথে নুবার সম্পর্ক ছিলো,,,
আরশি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নুবার হাতটা চেপে ধরে বললো
_ জানি না কে তোর মতো মেয়েকে ছেড়েছে,,তবে বিশ্বাস কর সে অনেক প্রস্তাবে,, আল্লাহর কাছে দোয়া করি সে যাতে কঠিন শাস্তি পায়,,,ওই জঘন্য মানুষ টার উপরে যাতে আল্লাহর লালত পড়ে,,
নুবার চোখ গড়িয়ে পানি পড়লো,,,নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ না জেনে অভিশাপ দিও না আপু,,পরে দেখা গেলো তোমারি কষ্ট হলো,,
আরশি একটু হেসে বললো
_ এতোটাও বদল আমি নই নুবা,,, শুধু এতো টুকু বলবো আল্লাহর ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না,,,
আরশি উঠে দাঁড়ালো,,আর বললো
_ আয়রা ঘুমিয়ে গেলে আম্মুর কাছে দিয়ে আছিস,,,
আরহামের বুকটা ভারি হয়ে আছে,,,যেনো এখনি ঝড়ের তান্ডব শুরু হবে,,,,নুবার দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কথা বলার পর আর কিছুই শুনার আগ্রহ পায়নি সে,,আরহাম মনে হয় ভুল মানুষকে চেয়ে ফেলেছে,,নুবা ছোটো হলেও তার মনোভাব অনেকটা অতুলনীয়,,,
আরশি রুম থেকে বেড় হওয়ার পর তার মাকে আর জিগ্গেস করেনি এই ব্যপারে,, কারণ তার নিজেরি মন মেজাজ ঠিক নেই,,রিহান কল ধরছে না,,আর এমনিতেও কিছু হলে পড়ে জানতে পারবে,,,
আয়রা নুবার কাছে,,,আমিনা বেগম ছেলের রুমে কপালে হাত দিয়ে বসে আছেন,,, আরহাম বিছানায় হেলান দিয়ে যেনো দুই জনি ছ্যাঁকা খেয়েছে এরকম,,, যতটুকু আশা ছিলো সব শেষ,,,
তবে আরহামের ভিতরে কি চলছে সে নিজেও জানে না,,, ইচ্ছা করছে সব ধংস করে দিতে,,নুবাকে ধরে একটা আছার মারতে,,,কেন সে জানে না,, আরহামের মনে হচ্ছে নুবা তাকে মুখের উপর রিজেক্ট করলো,,,তার মানে আয়রাই সবকিছু তার কাছে,,, আরহাম কিছুই না,,,
আমিনা বেগম ছেলের শুকনো মুখ দেখে এগিয়ে আসলেন,,,ছেলের গালে এক হাত রেখে বললেন
_ বাপ যা হয়েছে ভুলে যা,,,নুবার এই সবে কোনো intrastd নেই,, তুই বরং পরিকেই মেনে নে বাপ,,,কেউ এই সম্পর্কে খুশি হবে না,, অন্ততপক্ষে নুবা যদি রাজি থাকতো তবে একটা কথা ছিলো,,তোর বাপের সাথে,,হাজেরার সাথে আমি লড়াই করতাম,, কিন্তু বোঝার চেষ্টা কর বাবা,,,
আরহাম অস্বাভাবিক কন্ঠে বললো
_ মা ওকে আমি তুলে নিয়ে গেলে কেমন হবে,,
আমিনা বেগম নাক মুখ কুঁচকে বললো
_ জুতার বারি একটাও মাটিতে পড়বে না বাপ আমার,, একদম পিঠের উপর পড়বে,,,আর নিয়ে গেলেও সে থাকবে না,, শুধু তার থেকে ধিক্কারি পাবে,,শেষ পর্যন্ত তোর মেয়েও কঠিন ভাবে ক্ষুধার্ত হয়ে পড়বে,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,মাথা ঘুরছে তার,,নুবা কতটা ছোটো ও নিচু ভাবে কি করে বললো,,তার কি একটু মায়া দয়া হলো না,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আদুরে কন্ঠে বললো
_ মানুষকে মানুষেরি ভালো লাগবে এটাই স্বাভাবিক,,তবে মন বদলায় আরহাম,,, তুই একবার পরি কে আপন করার____
_ আমি নুবাকে বিয়ে করে ফেলেছি,,,
মুখের কথা শেষ হওয়ার আগেই এরকম একটা কথা শুনে আমিনা বেগম ডান হাত দিয়ে বাম বুক চেপে ধরে মিনমিন করে বললো
_ মনে হচ্ছে আমি হার্ড এট্যাক করবো আরহাম,, আমাকে ধর,,,,
বলেই ঠোঁটে ঠোঁট চাপলো,, আরহাম মাকে ধরার জন্য এগিয়ে আসলো,,সাথে সাথে আমিনা বেগম ফ্লোর থেকে স্লিপার তুলে আরহামকে ২/৩ টা বারি দিয়ে রাগে গজগজ করে বললো
_ মাথা ঠিক আছে তোর,,আবল তাবল কি বলছিস,,,
আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালো,,,ড্রয়ার থেকে রেজিস্ট্রি পেপার বেড় করে মায়ের সামনে ধরে বললো
_ বিশ্বাস না হলে দেখো,,
আমিনা বেগম কম্পিত হাতে কাগজ টা হাতে নিলেন,,নিচে নুবার সাইন দেখে সে হতভম্ব হয়ে গেলেন,,তার মাথা ঘুরছে,,এই ছেলে কি করলো এটা,,,আরশির বাপ জানতে পারলে কি হবে,,নুবাই বা জানতে পারলে কি হবে,,,সব শেষ,,একটা অশান্তি লেগে যাবে,,,
আমিনা বেগম ধপ করে বিছানায় বসে পড়লেন,,তখনি সন্ধ্যার আযানের ধ্বনি শুনা গেলো,,,আমিনা বেগম অস্বাভাবিক কন্ঠে বললেন
_ নুবা এই ব্যপারে জানে,,,
_ না,,,
আমিনা বেগমের হাত থেকে কাগজটা পড়ে গেলো,,,দুই হাত মাথায় চেপে ধরে তিনি হাই হুতাশ করে উঠলেন,,,কপাল চাপড়ে বললেন
_ এটা কি করেছিস তুই,, একবার,, অন্ততপক্ষে আমাকেও জিগ্গেস করার প্রয়োজন বোধ করিসনি,,,মেরে ফেল তুই আমাকে মেরে ফেল,,তোর বাপ আমাকে মারার আগে তুই মেরে ফেল,,,তোর বাপ আমাকে জেন্ত কবর দিবে,,,হায় আল্লাহ,, তুই একটা বার আমাকে জিজ্ঞেস তো করবি,,,এখন কি করবো আমি,,,,
আমিনা বেগমের চিন্তা বাড়লো,,নুবা মানবে না,,না হারুন মির্জা,,আর না হাজেরা,,,,পরি কালকে এই বাড়িতে আসছে,,, ঝামেলা কোথা থেকে লাগছে কিছু বোঝা যাচ্ছে না,,,
মাকে এভাবে অস্থির হতে দেখে আরহাম এগিয়ে আসলো,,, বিচলিত কন্ঠে বললো
_ মা please অস্থির হয়েও না,,, তোমার পেশার বেড়ে যাবে,, শাঁস কষ্ট হবে তো,,
আমিনা বেগম ছেলের নাকে মুখে থাপ্পর দিয়ে বললেন
_ সুস্থ থাকার পর রেখেছিস আমার,,,কেন করলি এরকম,,,কবে করেছিস এই কাজ,,,
আরহাম ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো
_ দের মাস খানিক হবে,,dad এর share এর কাগজের সাথে দিয়ে সাইন করিয়েছি,,,
আমিনা বেগম কি বলেন বুঝতে পারলেন না,,এই খবর যদি বাড়ির সবাই জানে কি হবে,, এদের কেউ তো মেনে নিবেই না তার উপর নুবার চোখে এই বাহির সবাই কালারিং হয়ে যাবে,,,কি ভাববে মেয়েটা,,হাজেরাই বা কি ভাববে,,আর হারুন মির্জা সে তো তুফান তুলে ফেলবে,,,নুবা রাজি থাকলে একটা কথা ছিলো,,,দুই জন মিলে দেশ ছেড়ে চলে যেতো তবে নুবা তো এই ব্যপরে জানেই না,,আর না এই সব তার পছন্দ,,,
আমিনা বেগম বাচ্চাদের মতো কেঁদে উঠে বললেন
_ তোর বাপ তোকে বাড়ি থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বেড় করবে,, আজকে কি বলেছে জানিস,, তুই বেশি বাড়াবাড়ি করলে নুবাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিবে,,এটা কি করেছিস তুই,,,এখন কি করবো,,,
আরহাম চুপচাপ রইলো,,তার মাথায়ও ঢুকছে না কি করবে,,,
এক পর্যায়ে আমিনা বেগম অনেক অস্থির হয়ে পড়লেন,,এই ব্যপারে কত বড় ঝামেলা যে লাগতে পারে আরহাম বুঝতে পারছে না,, হারুন মির্জা আমিনা বেগম কেও ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বেড় করবেন,,, কারণ সে তো জানে তার স্বামী কেমন,,,উনি ডিরেক্টর বলবেন,”সব আমিনা বেগমের দোষ,,তাই লাই পেয়ে আরহাম এরকম করেছে”
নুবার সাথে পেচআপ তো হবেই না বরং এই পরিবারটা টুকরো টুকরো হয়ে যাবে,,,হাজেরা এবার নিশ্চিত বাড়ি ছাড়বে,,এবার তাকে আটকানো যাবে না,,,
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত,,,তখন প্রায় রাত রাত,,, এমন সময় নুবা আয়ারকে দিতে আসলো,,,আমিনা বেগম তখন চুপচাপ বসে আছেন,,, আরহাম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুকছে,,,,
এমন সময় নুবা দরজায় কড়া নাড়লো,,,আমিনা বেগম বুঝতে পারলো কে এসেছে তাই মৃদু কন্ঠে বললো
_ ভিতরে আয়,,
নুবা ঘুমন্ত আয়ারকে নিয়ে গুটিগুটি পায়ে ভিতরে ডুকলো,,,তবে ভিতরে ডুকে আমিনা বেগম কে এরকম চিন্তিত দেখে ভুরু কুঁচকে নিলো,, ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ভাবলো এদের আবার কি হয়েছে এমন দেখাচ্ছে কেন,,,
নুবা এসে আয়ারকে বালিশ টেনে বিছানায় শুইয়ে দিলো,,,পরপর এক পলক আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চলে যাওয়ার জন্য পিছন ঘুরতেই আমিনা বেগম বসে উঠলো
_ বস,এসেই চলে যাচ্ছিস,,,
নুবা একটু হেসে মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ না,,,
আমিনা বেগম নুবার দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললেন
_ কেন তোর মা না করেছে,,
কথাটা শুনে নুবা চম্কে উঠলো,,তার মা যে না করেছে আমিনা কি করে জানলো,,,নুবাকে চুপ হয়ে যেতে দেখে আমিনা বেগম টের পেলো হ্যাঁ,,তার আন্দাজে ঢিল মারা ঠিক হয়েছে,,তার মানে মেয়েকে সাবধান করা হয়ে গেছে হাজেরার,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ যা,,মায়ের কথা অমান্য করতে নেই,,,
নুবা কিছু সময় চেয়ে থেকে চলে যেতে চাইলো তখনি আরহাম ডেকে উঠলো
_ নুবু,,,,
নুবা যেতে যেতে ফিরে তাকালো,,, আরহাম নুবার মুখের দিকে তাকিয়ে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো,,,
_ আচ্ছা যাও,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,বুঝতে পারলো না ডাকলোই বা কেন,,আর যেতেই বা বললো কেন আজব,,,
আমিনা বেগম ছেলের শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ এখন তার হাতে ২ টা অপশন আছে,,প্রথম নুবাকে পটাতে পারলে তোর বাপেরো সাধ্যে নেই কিছু করার,,তবে নুবা যদি নাচোক করে তবে তোর সাধ্য নেই কিছু করার,,, দ্বিতীয় সব ভুলে যেভাবে লুকিয়ে সাইন করেছিয়েছিস সেভাবেই ডিভোর্স পেপারে সাইন করিয়ে নিয়ে পরিকে বিয়ে করে ফেল,,,
আরহাম চোখের পলক ফেললো,,,তার মস্তিষ্কও স্তব হয়ে গেছে কাজ করা অফ করে দিয়েছে,,,
_ কি হলো কিছু বলছিস না কেন
আমার জেদি কন্ঠে বললো
_ আমার ওকেই লাগবে,,,
আমিনা বেগম একটু রেগে বললো
_ লাগবে মানে কি,,,বাজের কোনো পন্য চাইলি আর আমি যেএ এনে দিলাম,,,
আরহাম সিগারেটে শেষ টান দিয়ে বললো
_ যেকনো মূল্যে আমার ওকেই লাগবে,,,নুবা,,মানে নুবা not পরি,,,
আমিনা বেগম উঠে দাড়িয়ে রাগি কন্ঠে বললেন
_ তাহলে তোর যা ইচ্ছা তাই কর,,, শুধু ঝামেলা হওয়ার আগে বলিস আমি নিজ দায়িত্বে বাড়ি থেকে বেড় হয়ে যাবো,,,এতো অশান্তি আমার আর ভালো লাগে না,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ পরির সাথে বিয়েটা ক্যানসেল করে দেও,,,তার পর দেখছি কি করা যায়,,
আমিনা বেগম হতভম্ব হয়ে বললেন
_ এটা করলে তুমি কচুও করতে পারবে না,,, তোমার বাপ চোখের পলকে নুবাকে বিয়ে দিয়ে দিবে,,নুবা যদি তোকে না চায় তোর সাত পুরুষের সাধ্য নেই কিছু করার,,,
আরহাম বেশ বিরক্ত নিয়ে বললো
_ তাহলে কি করবো আমি,,,,
আমিনা বেগম চাপা নিঃশ্বাস ফেলে কিছু সময় চুপ থেকে বললেন
_ যা যেভাবে চলছে সেভাবেই চলতে দে,,,পরি আসুক,,, তুমি দেখ এই মাস খানিকের ভিতরে নুবাকে হাত করতে পারিস কিনা,,,,দেখ আরহাম সব ঠিক আছে কিন্তু তোকে একটা ওয়াদা করতে হবে
বলেই ছেলের দিকে এগিয়ে আসলেন আমিনা মির্জা ছেলের এক হাত নিজের মাথায় রেখে বললেন
_ কসম কাট আমি যা বলবো তুই তা করবি
আরহাম হাত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বললো
_ যদি পারি তবে,, আজগুবি কথা বলো না তো,,,
আমিনা বেগম শান্ত কন্ঠে বললেন
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৮
_ মানুষের মন পরিবর্তনশীল বাবা,,আজ নুবাকে ভালো লাগছে কাল পরিকেও লাগতে পারে,,পরি আসুক কারণ এই মূহুর্তে আমি যদি তোর বাপেক বিয়ে ভাঙ্গার কথা বলি তবে সে বুঝে যাবে তোর মনে কি চলছে,,,নুবা চোখের পলকে এখান থেকে সরিয়ে ফেলবে,,,সে কখনোই চাইবে না তার বন্ধুর মেয়ের মতের বিরুদ্ধে কিছু হোক,,,এর থেকে ভালো তুই পরিকে আসতে দে,,,পরিও তোর মন জুগানোর চেষ্টা করিস,, শেষ মূহুর্তে যদি তোর মন পরিবর্তন হয় তবে পর
