নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬০
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_ মানুষের মন পরিবর্তনশীল বাবা,,আজ নুবাকে ভালো লাগছে কাল পরিকেও লাগতে পারে,,পরি আসুক কারণ এই মূহুর্তে আমি যদি তোর বাপেক বিয়ে ভাঙ্গার কথা বলি তবে সে বুঝে যাবে তোর মনে কি চলছে,,,নুবা চোখের পলকে এখান থেকে সরিয়ে ফেলবে,,,সে কখনোই চাইবে না তার বন্ধুর মেয়ের মতের বিরুদ্ধে কিছু হোক,,,এর থেকে ভালো তুই পরিকে আসতে দে,,,পরিও তোর মন জুগানোর চেষ্টা করিস,, শেষ মূহুর্তে যদি তোর মন পরিবর্তন হয় তবে পরির সাথেই তোর বিয়ে হবে,, চুপচাপ নুবার সাথে ডিভোর্স করিয়ে দিবো,,আর যদি নুবাকেই চাস তবে তোর নুবাকে হাত করতে হবে,,কোনো মতে নুবাকে যদি রাজি করাতে পারিস তখন তোর বাপো কিছু করতে পারবে না,,,বুঝেছিস আমার কথা,,,
আরহামের মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় রইলো কই,,সেও নুবারম নের বিরুদ্ধে কিছু করতে চায় না,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আচ্ছা,,
আমিনা বেগম কাতর কন্ঠে বললেন
_ যদি বিয়েটা পরিকে করিস তবে কোনো ঝামেলা হবে না কিন্তু যদি নুবাকে করিস,,পরি মেয়েটার মন ভেঙ্গে যাবে,,,, স্বার্থপরের মতো একটা কাজ করতে চলেছি আল্লাহোও মাফ করবে না,,দেখি ভাগ্য কাকে কোথায় নিয়ে যায়,,,যদি তেমন ভাবে নাই হয় তবে পরিকে ভালো একটা ছেলের হাতে তুলে দিবো,,,
দুই জনের মন জুরলে এক জনের ভাংবে স্বাভাবিক,, তৃতীয় পক্ষ কাঁদবে,,তবে ইচ্ছা করে সব হচ্ছে,,,তাও পরির কপালে হয়তোবা অন্য কোনো নিয়তিই লেখা আছে,,,,যা সবার ভাবনার বাইরে,,,২ টা মাসের ভিতরে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাবে টের পাচ্ছে আমিনা বেগম তাও চুপ,,, স্বার্থপর হয়েছে সে ছেলের জন্য,,,
মা ছেলের ভিতরে নিরবতা এম সময় আরহাম কাতর কন্ঠে বলে উঠলো
_ mom তুমি না বলতে কি কালা জাদু টাদু করে মানুষকে বশ করা যায়,,,নুবাকে আমার জন্য করে দিবা,,,
ছেলের কথায় আমিনা বেগম যেনো আকাশ থেকে পড়লো স্তব হয়ে গেলো সে,,এতোটা স্বার্থপর কখনোই হবে না সে,,
আমিনা বেগম অবাক চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ মোহাব্বতে সব কিছু জায়েজ আরহাম তাই বলে কাউকে এভাবে বশ করা না,,যদি জায়েজ হতো তবে ভালোবেসে মুখে এসিড মারাও জায়েজ হতো,,যদি জায়েজ হতো তবে ভালোবেসে খুন করলে পাপ হতো না,,, সবকিছু জায়েজ দেখে তো অবৈধ পথ না,,তোর জ্ঞান বুদ্ধি লোপ পেয়েছে,,,হুম,, তুই নিজে চেষ্টা কর,,কেন জাদু টনা করতে চাইছিস,,,
আরহাম জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজালো,,,তার মাথাই কাজ করছে না সে শুধু জানে তার নুবাকেই লাগবে তালহে কি আর বলবে সে,,,আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ কয়দিন বস করে রাখবি তুই,,১ মাস ২ মাস,,না হয় বছর খানিক,,তার পর,,তার পর কি হবে,,যখন জাদু টনা কেটে যাবে তখন কি নুবা থাকবে তোর সাথে,,কখনোই না,,,মন ঘুরে যাবে ওর,,এর থেকে ভালো তুই চেষ্টা কর,,মেয়ে আছে তোর,,তোর মেয়ের জন্য নুবা অর্ধ পাগল,,,পুরো পাগল বানাতে কি বেশিই সময় লাগবে,,মেয়েটা অনেক নরম একটু ভালো ব্যবহার করলে বিশ্বাস কর ও সব মেনে নিবে,,সময় দে ওকে,,,এই সব পাল্লায় ভুলেও পরিস না,,নুবার আর কোনো ক্ষতি করতে আমি চাই না আর ভুলেও যদি এমন করিস মনে রাখিস নুবাকে তো পাবিই না বরং উল্টাপাল্টা কিছু হলে নুবার মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে,,এই সব ভালো না বাবা,,মা তোর জন্য স্বার্থপর দেখে এই না পরের মেয়ের এতো বড় ক্ষতি করবো,,, আমার কথা গুলো বুঝিস,,
এতো গুলো কথা এক সাথে বলে থাকমলেন আমিনা পরপর বলে উঠলেন
_ আল্লাহ না চাইলে কখনোই তুই কিছু পাবি না,,যদি কোনো অলৌকিক ক্ষমতা মাধ্যমে ওকে চাস তবে তাহাজ্জুদের মোনাজাতে ওকে চা,,ওই সময় টায় দোয়া কবুল হয় বেশি,,, আল্লাহ ব্যতিত কেউ কিছু দিতে পারবে না,, নামাজ রোজা তো মনে হয় না করিস,,আমরাও শয়তান হয়ে গেছি বছরে একদিন পড়লে ১০ দিন পড়ি না,,, আল্লাহর পথ থেকে সরেই গেছি,,এতোটাই ব্যস্ত আমরা যে ভুলেই গেছি আমরা মুসলিম কে আমাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছে,,, আস্তে আস্তে আল্লাহ ওয়ালা হ,, দেখবি যা চাইবি তাই পাবি,,এর থেকে ভালো পরামর্শ আমি দিতে পারবো না,,, চেষ্টা কর,,,আর মনে রাখিস নুবা রাজি না হলে তোর পরিকেই বিয়ে করতে হবে,,,
তখন রাতের খাবার খাচ্ছে সবাই,,,বরাবরের মতো নুবা আর হাজেরা আরহামের ভয়ে টেবিলে বসেছে,,, এদিকে আরহাম খাচ্ছে ঠিকি কিন্তু বারবরা নুবার দিকে সরু দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে,,,যা কেউ না খেয়াল করলেও বারবার না চাইতেও হাজেরার চোখে পড়ছে,,
হাজেরা মেয়ের দিকে এগিয়ে যেএ ফিসফিস করে বললো
_ কত সময় লাগে খেতে,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ এখন কি খাবারো খেতে পারবো না
হাজেরা অস্থির হয়ে বললেন
_ মরার গিলা গিলে তাড়াতাড়ি রুমে যা,,,
_ উফ্ শান্তিতে খেতে দেও তো,,
হাজেরা পরপর হঠাৎ করে মেয়ের ভাতে পানি ডেলে দিলো,,নুবার তৃতীয় ভাগ খাওয়া প্রায় শেষ তবে এক ভাগ বাকি ছিলো,, হঠাৎ এমন হওয়ায় নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,
হাজেরা মেয়ের হাত টেনে ধুইয়ে বললো
_ রুমে যা,,,ভুলেও বেড় হবি না,,,
হাজেরা বুঝতে পারছে HSC রেজাল্ট দেওয়া পর্যন্ত মেয়েকে এভাবেই সামলে রাখতে হবে,,না হলে কখন কার নজর পড়ে যায় বলা তো যায় না,,, রেজাল্ট টা দিলে হোস্টেলে পাঠিয়ে দিবে না হলে বিয়ে দিয়ে দিবে এই ধান্দায় আছে হাজেরা,,,সে কিছুতেই নিজের মেয়ের জীবন আর নষ্ট করবে না,,
_ কি হলো মুখের দিকে তাকিয়ে আছিস কেন রুমে যা,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে হাত বেসেইনে ধুতে চলে গেলো,,, আরহাম চামচ দিয়ে খাবার তুলে মুখে দিয়ে চিবাতে চিবাতে নুবার দিকে তাকালো,,,আমিনা বেগম খাওয়া শেষ না করেই ঠিক মেয়ের বরাবর দাঁড়িয়ে বললো
_ এদিকে তাকিয়ে আছো যে বাবা কিছু লাগবে,,,গরুর কালা ভুনাটা দি খুবি মজা হয়েছে,,,
এর ভিতরে নুবা হাত ধুয়ে রুমে চলে গেলো,,, আরহাম বিরক্ত নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে হাজেরার দিকে তাকালো,,, প্লেটে শব্দ করে চামচ বারি দিয়ে জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ না,,, কিছু প্রয়জন নেই,,
হাজেরা মনে মনে মুখ বাঁকিয়ে নুবা আর তার প্লেট নিয়ে রান্না ঘড়ে চলে গেলো,,বয়েই গেছে তার নাদুসনুদুস মেয়েটাকে এই পাগলের গলায় ঝুলাবে,, দরকার পড়লে মেয়েকে সারাজীবন নিজে টানবে,বিয়েই দিবে না তাও মেয়েকে এই খচ্চরের সাথে বিয়ে দিবে না,,সে ভুলে যায়নি তার মেয়ের সাথে কি করেছিলো এই ছেলে,,,আর কোনো সম্পর্ক তৈরি হলে কি যে করবে তাও সে আন্দাজ করতে পারে,,,চুল তো আর বাতাসে পাকেনি,, শুধু নুবার রেজাল্ট টা বেড় হোক,,তার পড়েই এই বাড়ি থেকে মেয়েটাকে বিদায় করবে,,,
আরহাম খাওয়া রেখে পাশে বসা আমিনার দিকে তাকিয়ে বিরবরি করে বললো
_ এই মহিলা আস্ত একটা খবিশ,,, তুমি এটাকে সমাল দিও mom,,না হলে এই চালাক মহিলা নুবার কাছে আমাকে ঘেঁষতেই দিবে না,, এরকম জল্লাদ শাশুড়ি একটা জিবনে থাকলে আর শত্রুর দরকার পড়ে না,,,
আমিনা বেগম গালে ভাত চিবাতে চিবাতে বললো
_ আমিও হলেও এমন টা করতাম,,তবে যেহেতু আমি ছেলের মা তাই একটু আকটু সামাল দেওয়া যায়,,,তোরো দোষ আছে ইনিয়ে বনিয়ে তার সামনে তারি মেয়ের কথা বলবি সে বুঝবে না,,কেউ না ধরতে পারলেও তোর বাপ আর হাজেরা ঠিকি ধরে ফেলেছে,,,মাঝখানে পড়ে আমিই বুঝতে পারলাম না,,,
আমিনার কথার ভিতরে হারুন মির্জা গম্ভীর কন্ঠে বললেন
_ মা ছেলের ভিতরে এতো কিসের ফুসফাস,,, খাওয়ার সময় যে ভদ্রতা বজায় রাখতে হয় এটা জানেন না,,নাকি জ্ঞান বুদ্ধির সাথে ভদ্রতা লোপ পেয়েছে,,
আমিনা বেগম স্বামীর দিকে তাকিয়ে জোরপূর্বক হেঁসে বললেন
_ ওই আরকি কিছু না,,,পরি কালকে আসছে সেটাই বলছিলাম আর কি,,,
আরহাম জানে কালকে পরি আবসে তবে রিয়েক্ট করেনি,, কারণ তাহলেই এই হারুন মির্জা রিয়েক্ট করা শুরু করবে,,
আরহাম মুখে খাবার তুলে হারুন মির্জার দিকে তাকিয়ে চিবাতে চিবাতে বিরবির করে বললো
_ একবার শুধু নুবু হাতের নাগাল আসুক,,তার পর ব্যাটা তোমাকে আমি নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাবো,,বছরে বছরে download দিবো,,দেখবি আর জ্বলবি,,
হারুন মির্জা ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে খাবার মাখতে মাখতে বিরবির করে বললো
_ তোমার উল্টা পাল্টা দেখলেই নুবাকে আমি সরানোর ব্যবস্থা করবো বাছাধন ,, আমাকে তো চিনো না,,ঘুঘু দেখেছো ঘুঘুর ফাঁদ দেখোনি সোনা,,,এই মেয়েটার জীবন আমি নষ্ট হতে দিবো না,,
চোখে চোখে যেনো যুদ্ধ চললো তাদের,,,
আমিনা বেগম মাথা নিচু করে বললো
_ বেশি তাকিয়ে থেকো না বাপের দিকে,, তোমার বাপ চোখের ভাষা বুঝে ,,,ধরতে পারলেই এবার তুমি না,, সেই কপ বসাবে,,, জন্ম দিয়েছে সে তোমাকে বুঝলে মানিক,,,
এদিকে ইশিতা আরফ,,আরশি নিরপেক্ষ,,তারা নিজেদের মতো খাচ্ছে,,
রাত গভীর হয়ে এসেছে, চারপাশ জুড়ে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা,,নীরব আকাশের নিচে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে শান্তির ঘুমে,,,দূরের বাতাসও যেন ধীরে ধীরে কথা বলছে,,চাঁদের মায়াবী আলো জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ে,,,পুরো বাড়ি জুড়ে শুধু নীরবতার রাজত্ব,,এই গভীর রাতে কেউ হারিয়ে যায় ভাবনায়, কেউ খুঁজে পায় নিজের অনুভূতি,,
তখন রাত প্রায় ১২ টা নাগাত,,,বাড়িতে সবাই ঘুমালেও দুজন ব্যক্তির মরার মতো পড়ে আছে,,নুবা আর হাজেরা,,কোনো হুস নেই তাদের,, জ্ঞান ছাড়া এমন অবস্থা,,
রাত ১২:২০ বাজতেই আরহাম আয়ারকে ঘুম পাড়িয়ে চুপি চুপি রুম থেকে বেড় হয়ে আসলো,, পরপর পকেটে হাত গুঁজে আস্তে আস্তে নিচে নেমে আসলো সে,,ভুল ক্রমে আসে পাশে তাকাতে ভুলে গেলো সে,,,পরপর যেএ নুবাদের রুমের দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে দেখলো দুই মা জি সেই ঘুম দিয়েছি,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,পরপর নুবার সামনে যেএ হাত নড়ালো,,না হুস নেই,,,
আরহামের দুই হাত মুঠো করে ধরে খুশিতে বললো
_ yes,,,
পরপর নুবার শরীর থেকে খেতা সরিয়ে তার গালে ঠোঁট হেলিয়ে বললো
_ ঘুমে আচ্ছন্ন আপনি,,তবে এতোটা কেন বলুন তো,, আপনার উপর যে শকুনের নজর পড়েছে আপনার কি জানা না,,my বিচ্ছু,,,
আরহাম জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নুবাকে কোলে তুলে নিলো,,গুনগুন করতে করতে তার বউ কে নিয়ে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,, এদিকে আমিনা বেগম আসছিলো রান্না ঘরে,,, হারুন মির্জার হঠাৎ করেই ঠান্ডা লেগছে তাই রাত করে লেবু দিয়ে গড়ম গড়ম চা বানাতে এসেছিলো তবে হঠাৎ বাইরে কারো গুনগুন শুনে কিছুটা ভয় পেলো আমিনা বেগম,,,ভুরু কুঁচকে ধিরো পায়ে রান্না ঘড় থেকে বেড় হয়ে ডাইনিং রুম পার করে লিভিং রুমে এসে দেখলো তার গুনোধর ছেলে নুবাকে কোলে করে নিয়ে হয়তোবা নিজের রুমের দিকে যাচ্ছে,,,
আমিনা বেগম হতভম্ব হয়ে গেলো,,এক হাত মুখে চেপে ধরে বিরবির করে বললো
_ হায় আল্লাহ এই দিনো দেখতে হলো,,,
পরপর চুপিচুপি ছেলের পিছনে গেলো সে,,,দেখতে যে কি করেই এই হারামজাদা,,,
আরহাম নুবাকে আনতে আনতে যেনো শ খানিক চুমু খেলো,,আমিনা বেগম অবাক হয়ে গেলো,,এই ছেলে দেখি সব শেষ করেই ছাড়বে,,,
আরহামের মনে হলো কেউ তার পিছন পিছন আসছে,,তাই সে ভুরু পিছনে তাকালো তবে সুযোগ মতো আমিনা বেগম দরজার পর্দায় লুকিয়ে পড়লো,,আরহাম কাউকে না দেখে বিরবির করে বললো
_ ধূর কেউ না মনের ভুল,,
এদিকে পুরো বাড়িতে হালকা আলো জ্বলছে তবে সবি প্রায় ভালো মতো দেখা যাচ্ছে এতোটা অন্ধকার না,,
আরহাম নুবাকে রুমে ঢুকে গেলো,,পরপর দরজা আটকানোর জন্য পিছনে ঘুরতেই দেখলো আমিনা বেগম কমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,, হঠাৎ করে এভাবে কাউকে সামনে দেখে পিলে চম্কে উঠে নুবাকে নিয়ে ঠাস করে পড়ে গেলো আরহাম,,
আমিনা বেগম রাগি কন্ঠে বললো
_ এই রাত দুপুরে কি হচ্ছে কি,,তোর নিয়তটা কি একটু বলতো,,
আরহাম নুবাকে ফ্লোরে রেখে উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ উফ্ মা তুমি,,আমি তো ভেবেছিলাম কে না কে,, তুমি এই রাত করে এখানে কি করছো,,
আমিনা বেগম ঘুমন্ত নুবার দিকে তাকিয়ে তেতে যাওয়া কন্ঠে বললো,,
_ সেটাই তো আমি জিগ্গেস করছি এখানে কি হচ্ছে,,,,
আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ না মানে তুমি আসার সময় পেলে না,,,
_ আগে তুই উত্তর দে কি করতে চাইছিস তুই,,,ওকে কেন নিয়ে এসেছিলো আর এই আহাম্মক এরকম মরার মতো ঘুমিয়ে আছে কেন,,
বলতে বলতে আমিনা বেগম নিচে বসে নুবাকে ঠেলা দিয়ে ডাকলো
_ এই মেয়ে,,,নুবা,,,এই নুবা,,
আরহাম ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো,,,
_ উঠবে না মা,,,খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ দিয়েছি,,
ছেলের কথা শুনে আমিনা বেগম হতভম্ব হয়ে গেলো,,বড়বড় চোখ করে ছেলের দিকে তাকিয়ে তুতলানো কন্ঠে বললো
_ কি,,কেন,,কেন খাওইয়েছিস,,কি করতে এনেছিস ওকে,,,
আরহাম বিরক্তি নিয়ে বললো
_ উফ্ মা বউ ছাড়া ভালো লাগে না কি করবো,, তুমি ভুল সময়ে সঠিক জায়গায় এন্টি না নিলেই পারতে,,,
আমিনা বেগম মুখে হাত দিয়ে হতভম্ব হয়ে বললেন
_ তওবা তওবা তওবা,,,হায় আল্লাহ,,, তুই না বললি নুবার মতামত নিবি এখন মেয়েটাকে অজ্ঞান করে,, আস্তাগফিরুল্লাহ,,, বাচ্চা টাচ্চা পেটে চলে আসলে তখন কি করবি তুই,,,
কথা টুকু বলেই আমিনা বেগম আবারো পা থেকে স্লিপার খুলতে লাগলেন,,আজ যেনো জুতার বারিই আরহামের কপালে আছে,,,
আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ উফ্ mom তুমি একটু বেশি গভীর ভেবে ফেলেছো,,এতোটা গভিরে যাওয়ার কথা আমি এখনো ভাবিনি,, এমন কিছুই না,, আমার just ওর কথা মনে পড়ছিলো,,কি করতাম আমি জেগে থাকলে গেলে আমাকে খুন করতো,, তুমি কি চাও তোমার ছেলে এই বিচ্ছুর হাতে খুন হোক,,,
আমিনা বেগম হাইহুতাশ করে বললেন
_ তাই বলে তুই,,,হাজেরা হাজেরা,,ও যদি টের পেয়ে যায়,,মারবি আমাকে,,
আরহাম গলা ছেড়ে কেশে বললো
_ ইয়ে মানে নুবার সাথে উনাকেও ওষুধ দিয়ে দিয়েছি মা ,সকালের আগে উঠবে না তুমি চিন্তা করো না,,,
কথাটা শুনে আমিনা বেগম স্তব হয়ে গেলেন,,,রাজকিও দরজা ধরে কপালে একটা বারি দিয়ে বললেন
_ এটা দেখার আগে তুই আমাকেও ঘুম পাড়িয়ে রাখতি বাবা,,,
আরহাম নিষ্পাপ কন্ঠে বললো
_ আচ্ছা কালকে তোমাকেও খাওইয়ে দিবো,,এখন যাও তো,,,এভাবে ফ্লোরে পড়ে থাকলে আমার বউটার ঠান্ডা লেগে যাবে,,,
আমিনা বেগম কান্নার সুর তুলে হাসফাস করে বললেন
_ না বাবা,, তুই বরং বাড়ির সবাইকে ওষুধ খাওইয়ে শুইয়ে দে,,তালহে তোর সুবিধা হবে তাই না,,,বউ টার সাথে একটু সময় কাটাতে পারবি কেউ ডিস্টার্ব করবে না,,,
মায়ের কথা শুনে আরহামের চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠলো,,এক চিলতি হাসি দিয়ে বললো
_ ভালো বুদ্ধি তো মা,,,আমি try করবো,,,
আমিনা বেগম কপাল চাপড়ালেন আর বলেন
_ এখনি ওকে রুমে রেখে আয়,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ কি,,?? কখনো না,,এতো কষ্ট করে খাবারের সাথে ওষুধ মিশিয়ে জ্ঞান শূন্য করেছি ,,কোলে তুলে রুম পর্যন্ত এনেছি অন্ততপক্ষে শ খানিক চুমু খেএ তবেই ওকে রুমে রেখে আসবো,,
আমিনা বেগম এবার সত্যি স্লিপার তুলে আরহামের দিকে ছুরে মেরে বললেন
_ তোর চুমুর গুষ্টি কিলাই,,, তুই ভুলেও স্পর্শ করবি না ওকে,,, যতদিন সবাই সবকিছু না জানতে,,এই ব্যপারে নুবা যদি কিছু না জানে এটা পাপ আরহাম,,বাবা ওকে রুমে রেখে আয়,,,
মায়ের কথা শুনে আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আচ্ছা,,,বলেই নুবাকে কোলে তুলে নিলো,,,
আমিনা বেগম ছেলেকে বুঝিয়ে বললো
_ দেখ বাবা নুবা তো তোরি একটু ধৈর্য ধর,,,আগে মেয়েটাক পটিয়ে নে,,না হলে কিন্তু তোর পরিকেই বিয়ে করতে হবে ভুলে যাস না,,,দয়া করে সব ক্লিয়ার করার আগে ওকে ভুলে করেও স্পর্শ করিস না,,আমি চাই না ওর মতো নিষ্পাপ ফুলের ক্ষতি হোক,,,
আরহাম মনে মনে ভাবলো “ধূর বাল আজকাল বউ টাকে আদর করেও শান্তি নেই,, মাঝখানে মা বাপ চলে আসে””
আরহামের ভাবতে ভাবতে আমিনা বেগম খেয়াল করলো করিডোরের শেষ কোনায় আমিনাদের রুম থেকে পায়ের শব্দ আসছে তার মানে হারুন মির্জা বেড় হচ্ছে,,,
সে পায়ের শব্দ শুনেই বুঝে গেলো উনার স্বামী এদিকেই আসছেন,,,আমিনা বেগমের চোখ কঠোর থেকে বেড় হয়ে আসলো প্রায় ছেলেকে ধাক্কা দিয়ে বললো
_ রুমে যা রুমে যা,,
আরহাম বিরক্ত নিয়ে বললো
_ এই মাত্র তো রুমে রাখে আসতে বললে,
_ আরে অজাত,,,বেজাত,, হারামজাদা তোর বাপ আসছে,,তোর বাপ,,,
আরহাম চোখ ছোটোখাটো করে বললো
_ কি করোব,,
_ রুমে যা,,
আরহাম উল্টো ঘুরে নুবাকে নিয়ে রুমে ঢুকে গেলো,,,এর ভিতরে হারুন মির্জা রুম থেকে বেড় হয়ে করিডোর দিয়ে এগিয়ে আসলেন,,,পরপর তার মনে হলো কোনো ছায়া মুর্তি এই মাত্র সরে গেলো,,
হারুন মির্জা ভালো মতো তাকিয়ে দেখলেন আমিনা বেগম,,,
উনি এগিয়ে যেএ বললেন
_ চা কোথায়,,এতো সময় লাগে,,চা করতে গেছো নাকি পুরো বিয়ে বাড়ির মিলাদ হ্যাঁ,,চা কোথায়,,
আমিনা বেগম মুখের ঘাম মুছে বললো
_ আনছি,,
_ আনছি মানে,,এখনো বানাওনি,,,কি করেছিলে তুমি বলো তো,,
আমিনা বেগম শুকনো ঢোক গিলে বললেন
_ এই তো,,,আপনি রুমে জান আমি আসছি,,,
হারুন মির্জার সন্দেহ হলো আমিনা বেগমের মুখ দেখে উনি ভুরু কুঁচকে বললো
_কি হয়েছে বলো তো আমিনা,, তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন,,
আমিনা বেগম জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ কি,,কি হবে,,,আপনি রুমে যান আমি চা আনছি,,
হারুন মির্জা কিছু একটা ভেবে বললো,,,
_ তোমার দামড়া ছেলে কোথায়,,আবার কি করেছে,, নিশ্চয় কিছু করেছে,,,আজ খাবারের টেবিলেও ওর মুখ কেমন চোরের মতো লাগছিলো,,,
আমিনা বেগম পিলে চমকে উঠে বললেন
_ কি করবে আবার,, কিছু করেনি তো,,
_ কিছু তো একটা করেছে,,,রুমের দরজাও খুলা মনে হচ্ছে,,,দেখি সরো,,,
আমিনা বেগম স্বামীকে টেনে ধরে বললেন
_ আরে রুমে চলুন তো,,
_ সরো তুমি,,,দেখে আসি,, তোমার চেহারা দেখে আমার ভালো ঠেকছে না,,আজ উল্টা পাল্টা করলে ওর একদিন কি আমার একদিন,,,
বলেই স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে আরহামের রুমের দিকে গেলেন,,আমিনা বেগম শুকনো ঢোক গিললো,,,কোনো মতে যদি নুবাকে দেখে ফেলে তবে আজ কি যে একটা অশান্তি লাগবে,,এই সব ভেবে আমিনা মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ করলেন,,, ছেলেটার যাতে বুদ্ধি জ্ঞান হয় মেয়েটাকে যাতে লুকিয়ে রাখে
হারুন মির্জা এসে সোজা রুমে ডুকে লাইট জ্বালালেন,,পিছন পিছন আমিনা বেগম আসলো,,লাইট জ্বালাতে চোখে পড়লো আরহাম উল্টো হয়ে শুয়ে আছে,,পাশে আয়রা,, দুই জনের শরীরেই মোটা কম্বল,,,, এমন এক ভান ধরেছে আরহাম যেনো ঘুমিয়ে আছে সে,,আসলে সে এখনো রাতে একটুও ঘুমিয়ে দেখেনি,,,
হারুন মির্জা এক পলক তাকিয়ে রইলো,,রুমের আশে পাশে তাকিয়ে লাইট অফ করে বাইরে চলে আসলেন,,,আমিনা বেগম স্থির নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ বল্লাম না কিছুই করেনি,,ছেলেটা আমার ঘুমাচ্ছে,,আমি তো একটু ভয় পেয়ে রুমের দিকে যাচ্ছিলাম আপনাকে ডাকতে নিচে কেউ নেই,,,আপনি বরং রুমে যান আমি চা নিয়ে আসি,,,
হারুন মির্জা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ আচ্ছা তাড়াতাড়ি আসো,,
বলেই হারুন মির্জা বড় বড় কদম ফেলে রুমে চলে গেলো,,, হারুন মির্জা যেতেই আমিনা বেগম আরহামের রুমে ঢুকে মৃদু কন্ঠে বললো
_ আরে drama বাজ উঠ,,তোর বাপ চলে গেছে নুবা কই,,
আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস উঠে বসলো,,আমিনা বেগম বিছানার দিকে তাকিয়ে হতবাক হয়ে গেলেন,,,নুবার ছোট্ট দেহটা বিছানায় পড়ে আছে,,উপরে আরহাম যে কিনা নুবার পেটের কাছে দুই পাশ দিয়ে পা হাঁটু গেঁড়ে বসে আছে,,,
আমিনা বেগম এগিয়ে যেএ ছেলের মাথার চুল ধরে টেনে বললেন
_ নিচে নাম,,
আরহাম কোনো মতে নিচে নেমে বললো
_ আস্তে বলো,, আমার মেয়েটা উঠে যাবে,,
আমিনা বেগম দাঁতে দাঁত চেপে বললেন
_ অন্যের মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে নিজের মেয়ে উঠে যাবে সেই ভয় পাচ্ছেন,,,
_ উফ্ mom চুল ছাড়ো,, আমার চুল আমার খুবি সাধনার,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ চুল ধরেছি তাই আপনার এমন লাগছে,,হাজেরা যদি জানে আপনি নুবাকে ধরেছেন তাহলে তার কেমন লাগবে,,মেয়েটা কি তার সাধনার না,,,
আরহাম এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ কিসের ভিতর কি পান্তা ভাতে ঘি,,এবার যাও তো,,
_ যাবো মানে কি,,ওকে রখার আর জাগা পেলি না তোর বাপ যদি এসে কম্বল সরাতো তবে কি হতো,,
_ তাড়াতাড়ি করে কোথায় রাখবো আমি,,ও ছোটো বাচ্চা নাকি,,মিনি হাতি একটা,,খেএ খেএ ৭০ কেজির শরীর বানিয়েছে,,এই নাদুসনুদুস টাকে কোথায় রাখতাম বলো,,যদি ব্যাথা পেতো,,
আমিনা বেগম চোখ উল্টে বললেন
_ এখন আমি চা নিয়ে রুমে যাওয়ার পর তুই ওকে রুমে রেখে আসবি আরহাম,,,আমি আবারো বলছি রুমে রেখে আসবি,,আমি চাই না ওর সাথে কোনো অন্যায় হোক,,,,
আরহাম নাক মুখ কুঁচকে বললো
_ বউ হয় আমার,,
_ না বউ হয় না,, তোদের বিয়ে পরিপূর্ণ ভাবে হয়নি,,,যা বলছি তাই কর,,সব এখন খুলে বলতে গেলে এখন আবার তোর বাপ চলে আসবে,,
_ আচ্ছা ঠিক আছে তুমি যাও,,
আরহাম ঘুমন্ত নুবার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,পরর ঝুঁকে তার ফুলো ফুলো গালে নাক ঘষে বললো
_ উফ্,,, আমার ধৈর্য কুলাচ্ছে না বিচ্ছু,,,আপনি কেন আমাকে পছন্দ করেন না,,, একটু পছন্দ করলে কি হয়,, trust me আমি আপনাকে ভালো রাখবো,, অনেক ভালো,,, অনেক সুখে,,,
পরপর আরহাম নুবাকে বুকে জরিয়ে ওরধ স্পর্শ করলো,, কারণ এতো কষ্ট করেছে সে অন্ততপক্ষে একটা চুমু তো তার জন্য বরাদ্দ থাকা দরকার,,,
অতঃপর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আমিন বেগম রুমে ডুকতেই আরহাম মায়ের কথা মতো নুবাকে রুমে রেখে আসলো,,
সকাল ৮ টা প্রায় আশে পাশে আলোর ঝলকানি দেখা যাচ্ছে,,হাজেরা মাত্র ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধুয়ে রান্না ঘড়ে এসছে ততখনে তানিয়া সব করে ফেলেছে,,,
হাজেরা হাতের কিছু কাজ চিন্তিত হয়ে সারতে লাগলো তা দেখে তানিয়া বলে উঠলো
_ কি হয়েছে আপা আজকে ভিশন চিন্তিত লাগছে আপনাকে,,
হাজেরা নাক মুখ কুঁচকে বললো
_ তেমন কিছু না,, কালকে ঘুমটা ভালো হয়েছে আরকি,,সারা রাতে টের পাইনি,,
_ সেটাই তো ভালো আফা,,,
_ আরে না,,কথা হচ্ছে কখনো আমি এমন ঘুম দেইনি যে একটুও টের পাবো না,,,
তানিয়া হেঁসে বললো
_ সারাদিনের ক্লান্তির পর মাঝে মাঝে এরকম হয় আফা এই চিন্তা করবেন না,,,
নুবা ঘুম থেকে উঠে ঝিম মেরে বসে আছে,, কেমন শরীর ভারভার লাগছে তার,,,শরীর থেকে সুন্দর একটা ঘ্রাণ বেড় হচ্ছে,,,এটাই বসে বসে নিঃশ্বাসের সাথে টানছে নুবা,,,আরহামের শরীরে যেই পারফিউম দেয় সেই ঘ্রান পাচ্ছে তবে চিন্তিত সে কেন এই ঘ্রান আসছে,,এই নিয়েই ভাবছে নুবা,,,
পুরো বাড়িটা আজ হৈ হুল্লোড়ে ভরে উঠেছে।
যে যার মতো নিজের কাজে ব্যস্ত, কেউ রান্নাঘরে, কেউ ঘর গোছাতে ব্যস্ত হয়ে আছে,,সবাইয়ের মাঝে এক ধরনের ব্যস্ততা আর আনন্দের ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে।কারণ হারুন মির্জা নিজে নিয়ে এসেছেন পরিকে,,তার আগমনে মির্জা বাড়ির পরিবেশটা যেন একটু অন্যরকম হয়ে উঠেছে,,
সবাই পরিকে আপ্যায়ন করতে ব্যস্ত,,,পরির বোন প্রিউকেও সাথে নিয়ে এসছে,,,আসবে সখ করেছে তাই নিয়ে আসা,,থাকতে পারে ২ একদিন,,,
আমিনা বেগম সব জেনেও পরিকে সেই আগের মতোই আগলে নিলেন কারণ সে চান না শুধু ছেলের পক্ষে থাকতে,,উনি দুই দিকে,,,
আরহাম যদি নুবাকে পটাতে পরাএ তাও তিনি খুশি,,পরি যদি আরহমাকে পটাতে পারে তাও তিনি খুশি,,, কারন এ ছাড়া উপায় নেই,,পরি মেয়েটার সাথেও খারাপ ব্যবহার করা যাবে না কারণ তার কোনো দোষ নেই,, বরং তাকে আগলে রাখতে হবে না হলে হারুন মির্জা সন্দেহের চোখে দেখবেন,,,
বাইরে হৈ হুল্লোড় শুনে নুবাও বেড় হয়ে আসলো তবে রুমের বাইরে পা রাখার আগেই হাজেরা এসে মেয়ের হাত ধরে টেনে রুমে ঢুকিয়ে বললেন
_ কোথায় যাচ্ছিস
নুবা গোলগোল চোখ করে বললো
_ বাইরে
_ রুম থেকে বেড় হবি না,,যা ভিতরে যা,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৯
নুবার মুখটা কালো হয়ে গেলো,,কি একটা জ্বালা,,কি দোষ বেচারির,,
টেনে ভিতরে নিয়ে গেলো নুবাকে,,, এদিকে আরহাম নুবাকে বেড় হতে দেখে সিরির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো তবে এভাবে গড়ম চোখে নুবাকে শাসিয়ে রুমে নিয়ে যাওয়ায় আরহামের মুখটা দেখার মতো ছিলো,,
