Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৯

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৯

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৯
সুরাইয়া জিয়াসমিন

নুবা হাতে মেহেদি নিয়ে ছুটছে,,,হাজেরা কাজ করছে এই ফাঁকে সে বেড় হয়ে এসেছে ,,বাম হাত ভরে মেহেদি দিয়েছে,,বেশ গুনবতি নুবা মেহেদি দিতে পরে তাও খুব সুন্দর করে,,
নুবা ছুটে আরহামের রুমে প্রবেশ করলো,,নজরে পড়লো আরহাম বারান্দায় দাঁড়িয়ে কি যেনো করছে,,আর আয়রা ঘুমিয়ে আছে,,,
নুবা চুপচাপ এগিয়ে যেএ আয়রার কাছে আসাম করে বসে বিরবির করে বললো
_ মেহেদি দিবা আম্মু,,, সুন্দর দিবা সুন্দর,,, আম্মু দিয়ে দি,,ফুপির বিয়েতে সুন্দর দিবে আরু,,
বলতে বলতে নুবা আরয়ার গোলুমলু হাতটা ধরে হালকা করে মেহেদি পড়িয়ে দিতে লাগলো,,
আরহাম নিজের কাজ শেষ করে এলোমেলো পায়ে রুমে এসে ভুরু কুঁচকে তাকালো যে নুবা কি করছে,,পরপর খেয়াল করলো নুবা আয়রার হাতে মেহেদি দিয়ে দিচ্ছে,,আরহামের ভুরু কুঁচকে আসলো,,, কেমন মাথাটা ঘুরছে তার,, এগুলো যে বাচ্চাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর এটা কি নুবা জানে না ,,
আরহাম নুবাকে ধমকে উঠে এলোমেলো কন্ঠে বললো

_ এই কি করছো তুমি,,
নুবা হঠাৎ ধমকে চম্কে উঠলো,,পিছন ফিরে তাকিয়ে থতমত খেএ বললো
_ কি হয়েছে,,,
আরহাম পাশ থেকে টিস্যু নিয়ে,,মেয়ের দিকে ঝুঁকে গেলো,,,পরপর মেয়ের হাত মুছে রাগি আর ভাঙ্গা শব্দে বললো,,
_এগুলো ওকে দিচ্ছো কেন,,কোনো common sense আছে তোমার,,
নুবা মুখ কালো করে বললো
_ এভাবে বলছেন কেন,,,ও কি আমার মেয়ে না আমার কি অধিকার নেই,,
আরহাম তেতে উঠৈ তুতলানো কন্ঠে বললো
_ তাই বলে যা ইচ্ছা তাই করবে,,,
নুবা অভিমান করে সুধালো
_ একদম গলা উঁচু করে কথা বলবেন না,,, আমার ইচ্ছা আমি দিবো,,আর এটা অরগ্যানিক মেহেদি,,কিছুই হবে না আমি আরশি আপুকে জিগ্গেস করেছি,,,
আরহাম চেপে রাখা নিঃশ্বাস ফেলে শান্ত কন্ঠে বললো

_ ও আগে বলবেন না,,,
নুবা বিছানা থেকে নামতে নামতে বললো
_ পড় পড়ি থাকে যতোই আপন করো না কেন,,, আম্মু ঠিকি বলে,,আজ যদি নিজে জন্ম দিতাম তাহলে এভাবে বলতে পারতেন,,,বলেন পারতেন,,,
আরহাম জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে কান্ত চোখে নুবার দিকে তাকালো,,পরপর ঠোঁট কামড়ে,,নুবার হাত ধরে বলবো,,
_ আমি বুঝতে পারিনি
নুবা হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলো,,,তবে পারলো না,,আরহাম হঠাৎ টেনে নুবাকে বিছানায় ফেলে দিলো,,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,,উঠতেই যাবে তার আগেই আরহাম নুবাকে বিছানার সাথে চেপে ধরলো,,পরপর তার মুখ বরাবর এসে দুই হাতের কব্জি বিছানার সাথে চেপে ধরলো,,
নুবা মৃদু চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ আমার মেহেদী,,, ahhh ছাড়ুন,,,
আরহাম খেয়াল করলো নুবা হাতে মেহেদি দিয়েছি তবে তা শুকিয়ে কাঠ কাঠ হয়ে গেছে,,তা খেলায় করে নুবাকে আরো বিরক্ত করতে মেহদি পড়া হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে আঙ্গুল ঢুকিয়ে চেপে ধরলো দুষ্টু আরহাম,,,
নুবার চোখ বড় বড় করে বললো
_ কি করছেন আপনি,, ছাড়ুন,,
আরহাম ঝুঁকে গেলো নুবার দিকে,,,নুবা ছটফট করে উঠলো,,, আরহাম ঝুঁকে নুবার নাকের সাথে নাক ঘঁষে কেমন মাতাল কন্ঠে বললো

_ sorry,,
নুবা কিছুটা শান্ত হয়ে আরহামের চোখের দিকে তাকালো, কেমন অদ্ভুত লাগছে আরহামকে যেনো নিজের ভিতরেই নেই সে,,,পরপর শুকনো ঢোক গিললো নুবা ,মিষ্টি কন্ঠে বললো
_ আচ্ছা ,, ছাড়ুন,,
আরহাম কিছুটা এগিয়ে এসে গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো
_ শুনেছি ,, মেহেদী দিলে প্রিয় মানুষ টার নাম লিখতে হয় তুমি লিখোনি,,
নুবা মুখ বাঁকিয়ে সুধালো
_ কোন দুঃখে,, আম্মার হাতে কেলানি খাওয়ার জন্য,,,
আরহাম মুখ দিয়ে বিরক্তে চ উচ্চারণ করে নাক মুখ কুঁচকে বললো
_ ও,,একটা কাজ করি,,মেহেদি দিয়ে লিখলে উঠে যাবে,, বরং ছুরি গড়ম করে বুকে লিখে দেই,,আমি ব্যতিত কেউ দেখবেও না আর এই দাগ উঠবেও না,,
নুবা আরামের কথায় হতভম্ব হয়ে গেলো,, ভীতু কন্ঠে বললো
_ পাগল হয়ে গেছেন,,,
আরহাম কেমন করে হেসে ঝাঁপসা চোখে,,মাতাল কন্ঠে বললো,,
_ লিখে দি নুবু,, সুন্দর লাগবে,,,
নুবা স্তব হয়ে গেলো এরকম আবদারে,,নুবা টের পেলো আরহাম ঠিক নেই,,, কেমন এলোমেলো লাগছে তাকে,,,তবে আজ যেনো সে প্রমাণ পেলো তার মা ঠিকি বলে এই লোকটা পাগল,,,পুরো পাগল,,,
নুবা ছটফট করে উঠে বললো

_ ছাড়ুন তো,,,
আরহাম আদুরে কন্ঠে বললো
_ লিখে দেই,, একটুও ব্যথা পাবে না,, promise,,
নুবা চোখ বড় বড় করে আরহামের দিকে তাকিয়ে অবাক কন্ঠে বললো,,
_ পাগল আপনি,,,
আরহাম নুবার দুই হাত উপরের দিকে দিকে তার এক হাত দিয়ে চেপে ধরলো,, নুবা অস্থির কন্ঠে বললো
_ কি করছেন,,
আরহাম নুবার কথা পাত্তা না দিয়ে বক্ষ স্থল উপরে থাকা মোড়ানো ওরনা সরিয়ে দিলো,,,নুবা চোখ মুখ খিচে ছটফট করে উঠে বললো
_ ছাড়ুন অসহ্য লাগছে,,,
আরহাম কোনো পাত্তা দিলো না,, বরং নুবার ড্রেস গলা এক পাশ দিয়ে টেনে বুকের কিছুটা উপরে গলার নিজের সমতল অংশে হাত ছুঁইয়ে বললো

_ এখানে খুদাই করলে ভালো লাগবে,,,
নুবা আশ্চর্য বনে গেলো,,ভয় পেলো বেশ,, কেমন serious দেখাচ্ছে তাকে,, সত্যি সত্যি না এই কাজ করে বসে,,,নুবা ভীতু কন্ঠে চেঁচিয়ে উঠলো,,
_ পাগল কোথাকার,, ছাড়ুন,,
আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_ এই মেয়ে,,,আমি তোমার husband না,, সামান্য আমার নাম টুকু লিখতে পারবে না,, কেমন স্ত্রী তুমি হুম,,,
নুবা কোনো মতে আরহামের থেকে হাত ছাড়িয়ে নিলো,,পরপর তার বুকে ধাক্কা দিয়ে তাকে দূরে সরিয়ে দিলো,,, বিছানায় উঠে বসলো নুবা কিছুটা চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ পাগল আপনি,,, অসহ্য,,,এখানে কেন যে আসছিলাম,,,
আরহাম নুবাকে রেখে অন্য দিকে এগিয়ে গেলো,,নুবা দুই দন্ড শাঁস নিবে তার আগেই আরহাম কোথা থেকে ছোট্ট একটা ছুরি আর গ্যাস্ট্রাইটিস এনে নুবার সামনে দাঁড়ালো,,,
নুবার চোখ যেনো কঠোর থেকে বেড় হয়ে আসছে এমন,,নুবা দুই হাতের সাহায্যে বিছানায় পিছিয়ে যেতে লাগলো,,, প্রচন্ড ভয় পেয়ে কম্পিত কন্ঠে বললো

_ কি,,কি করবেন আপনি,,
আরহাম বিছানায় উঠে হাঁটুর সাহায্যে এগিয়ে এসে‌ বললো,,
_ তুমি যেহেতু নামটা লিখবেই না তালহে আমিই লিখে দি,, trust me একটুও কষ্ট হবে না,,, ব্যথাও লাগবে না,,
নুবার মাথা ঘুরে উঠলো,,ওরনা পড়ে আছে বিছানার এক কোনায় আর সে এক কোনায়,, আরহাম এগিয়ে আসছে,,এক পর্যায়ে নুবা বিছানার এক বারে মাথায় এসে তার পিঠ ঠেকে গেলো,,পাশেই কিছুটা দূরে আয়রা শুয়ে,,, আরহাম ছুরি গড়ম করতে করতে এগিয়ে আসলো,,নুবার জান মনে হয় দেহ নামক খাঁচা থেকে উড়ে পালালো,,,যেই না বিছানা থেকে নামতে যাবে তার আগেই আরহাম নুবার এক পা ধরে টেনে বিছানায় ফেলে দিলো,পরপর নিজে নুবার উপর উঠৈ তাকে চেপে ধরলো,,নুবা প্রচন্ড ভয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো, কারণ এই লোকের মতলব ভালো মনে হচ্ছে না,,এই ছুরি দিয়ে তার নরম মাংস কাটলে কি সে আদেও বাঁচবে,,,মনে তো হয় না,,
আরহাম নুবাকে কাঁদতে দেখে বিরক্ত নিয়ে বললো

_ এই মেয়ে কান্না করছো কেনো,,,
নুবা চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ পাগল কোথাকার,, ছাড়ুন,, আল্লাহ কার পাল্লায় পড়লাম,,,
আরহাম ছুরি রেখে নুবাকে উঠিয়ে নুবার দুই হাত পিছনের দিকে কোর্স করে ধরে আবারো শুইয়ে দিলো,,পরপর নুবার দুই হাতে হাঁটু চেপে ধরলো যাতে হাত বেড় না করতে পারে,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,,
আরহামের এই সব কান্ড দেখে যেনো খুবি দক্ষ সে এই কাজে,,, এমন ভাবে তার দুই হাত চেপে ধরেছে নুবা চাইলেও খুলতে পারছে না,,, এরকম টেকনিক্য অবলম্বন করা কি মুখের ব্যপার,,
নুবা এবার সত্যি ভয় পেয়ে চোখের পানি ফেলে বললো
_ ছাড়ুন,,কি করছেন,, দেখুন অনেক ব্যথা লাগবে,, ছাড়ুন,,, আল্লাহর দোহাই লাগে,, আরহাম,,,
আরহাম পাত্তা দিলো না তাকে এক হাত দিয়ে নুবার ড্রেস টেনে ধরলো যেনো সে নিজের ভিতরেই নেই,,,পরপর পাশ থেকে গড়ম ছুরিটা উঠিয়ে নিলো,,নুবা চোখ মুখ খিচে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো,,, মস্তিষ্ক যেনো কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে,, সত্যি কি এই লোকটা এখন এরকম করবে,,,
নুবা চেঁচিয়ে উঠে বললো

_ ছাড়ুন আয়রার পাপা,,,কি করছেন ,,,
তবে উত্তর আসলো না,,,নুবার সমতল বুকের উপরের অংশ আরহাম দুই আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরলো,,ছুরিটা এগিয়ে নিয়ে আসলো,,নুবা ভয়ে হুহু করে কেঁদে উঠে চিৎকার করে বললো
_ অমানুষ,,জানোয়ার,,ছাড়,, আম্মু,,,,
নুবার বকা শুনে এতো সময় শান্ত থাকা আরহাম চেঁচিয়ে উঠে বললো,,
_ তাহলে লিখাসনি কেন আমার নাম,,,কেনো লিখলি না,,,
নুবা আর এক দফা চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ তাই বলে আপনি এরকম করবেন,,কোনো বিবেক আছে,, ছাড়ুন,,,
_ না,,, কিচ্ছু হবে না,,,চুপ করে থাক,,
নুবা হিচকি তুলে বললো
_ লিখেছি,,,লিখেছি,,, মিথ্যা বলেছিলাম,,,লিখেছি,,,
আরহামের তাও ছাড়লো না,,, শুধু বিরবির করে বললো,,
_ ওটা মুছে যাবে,,এটা থেকে যাবে,, আমার জন্য একটু সহ্য করতে পারবি না,,
নুবা ছলছল চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে কান্ত কন্ঠে বললো
_ কি হয়েছে,, এমন করছেন কেন,,,ছাড়েন না,, ব্যথা লাগবে তো,,
আরহাম আদুরে কন্ঠে বললো

_ লাগবে না,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না করে বললো
_ আরহাম please,, এমন করবেন না,,,কেনো বাচ্চাদের মতো করছেন,,, আমার অনেক কষ্ট হবে,,, আপনি কি ২০/২২ বছরের যুবোগ যে এরকম আচরণ করছেন,,, আমার অনেক কষ্ট হবে,,
জেদি আরহাম ঝুঁকে এসে চুমু খায় নুবাকে,, নুবা ভয়ে
মাথা ঝুঁকিয়ে না করে,, আরহাম আদুরে কন্ঠে সুধায়,,
_ একটু ,,কিচ্ছু হবে না,, কান্না করে না,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না করে কাতর কন্ঠে বললো
_ না,, অন্ততপক্ষে এই আবদার করবেন না,,
আরহাম না শুনে একটু ক্ষিপ্ত হয়ে বললো
_ কেনো না,,, তুমি যে আমার এটার একটা সিলমোহর প্রয়জন না,,হুম,,
নুবা চোখ খুলে আরহামের মুখের দিকে তাকিয়ে কম্পিত কন্ঠে বলে,,,
_ কেনো এমন করছেন,, আমার লাগবে না সিলমোহর আমি তো আপনারি,,,
আরহামের মাথায় কি ভূত ঢুকেছে কে জানে,, সে মাথা ঝুঁকালো অর্থাৎ তার এই কাজটা করতেই হবে,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো,,
_এই বেহুদা জেদ আবদার কেনো করছেন,,
_ আমার লাগবে,,, কান্না করে না,, বললাম তো কিছু হবে না,,,
নুবা কিছু সময় চুপ থেকে মৃদু কন্ঠে বললো
_ কোনদিন না প্রান টা চেয়ে বসেন আমার,,,যদি আমাকে কষ্ট দিয়ে আপনার ভালো লাগে তবে যা ইচ্ছা তাই করুন,,,,

আরহাম ঝুঁকে এসে ভুরু কুঁচকে বললো
_ এভাবে বলছো কেনো,,,
_ বাচ্চা না আপনি,,,আর কিছু বল্লাম না,,,হাতে ব্যথা পাচ্ছি,,,
আরহাম নুবার ভীতু চেহারার দিকে তাকিয়ে অভিমানী কন্ঠে বললো
_ এতটুকু পারবে না আমার জন্য,,,
নুবা নাক টেনে ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ আল্লাহ হেদায়েত দান করুক আপনাকে,,
আরহাম বিরক্ত করলো,,,নুবার বুক চেপে ধরলো,,,নুবা চোখ মুখ খিচে নিলো আর্তনাদ করার জন্য,,, আরহাম আস্তে আস্তে নিজের কাজ শুরু করলো,,,নুবা গুঙ্গিয়ে উঠলো,,, ঠোঁটে ঠোঁট চেপে রাখলো তবে একটু পরেই আর্তনাদ করে উঠলো,,
নুবার আর্তনাদে আয়রা ঘুম থেকে উঠে ভয় পেয়ে কাঁদতে লাগলো,,,
নুবার শরীর কেঁপে উঠলো,,,গলা শুকিয়ে গেলো,,, চোখ মুখ খিচে শাঁস নিলো সে,,আগে যদি জানতো এই মেহেদী তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে তাহলে সে কখনোই এটা হাতে দিতো না,,না এখানে আসতো,,,
আরহাম খুবি ছোট্ট করে ইংরেজিতে A লিখলো,,,গলগল করে ওখান থেকে রক্ত বেড় হলো,,,নুবা ছটফট করে উঠলো,,,ঘামতে শুরু করলো নুবা,,, আরহাম নুবার হাত ছেড়ে দিলো,,,নুবা ছাড়া পেতেই বিছানার হালকা নীল রঙ্গা চাদর খামচে ধরলো,,,তার শরীর কাঁপছে,,, ব্যথায় বুক ধরে গেছে,,,মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে তার,,,মনে হচ্ছে তার মাথা ঘুরছে,,,

আরহাম পুরোপুরি নুবাকে ছেঁড়ে দিয়ে উঠে যেএ প্রয়জনীয় জিনিস পত্র নিয়ে আসলো,,নুবা উঠার শক্তি পেলো না চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি পড়লো,,, অনুভব করলো সে এই মানুষ টা সুবিধার না,,,
আরহাম তুলা এনে ছোট্ট খত স্থানে চেপে ধরলো,,,পরপর হালকা রক্ত মুছে ওষুধ লাগিয়ে দিলো,,,নুবার ছটফটানি একটু কমে আসলো,,, আরহাম সুন্দর করে সেই স্থান ব্যান্ডেজ করে দিলো,,, এদিকে নুবার অবস্থা খারাপ,, ব্যথা যেনো সহ্য করার মতো না শরীর আবাস হয়ে আসছে,,,
আরহাম নিজের কাজ সেরে নুবাকে টেনে তুলে বুকের সাথে লাগিয়ে বিরবির করে বললো
_ দেখলে একটুও ব্যথা লেগেছে,,,হুম,,এতো ভয় পাচ্ছিলে,,
বলেই নুবার মাথায় চুমু খেলো,নুবার শরীর জ্বলে উঠলো,,, ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো আরহামকে,,,পরপর হু হু করে কেঁদে উঠে বললো
_ অমানুষ,,, আম্মু ঠিকি বলে,,আমিই এতো কিছুর পর আপনাকে চিনতে ভুল করেছিলাম,,,আর কক্ষনো আমার সামনে আসবেন না,,অন্যকে কষ্ট দিয়ে যে খুশি হতে পারে,,, আনন্দ পেতে পারে সে কখনো মানুষি ছিলো না,,,

বলেই নুবা ক্লান্ত শরিরে বিছানা থেকে নেমে গেলো,,,ওরনা নিতে ভুলে গেলো সে,,, আরহাম যেতে দিলো না তাকে,,,সামনে এসে দাঁড়ালো,,,নুবা যেএ আরহামের বুকে ধাক্কা খেলো,,পরপর এক হাত দিয়ে তাকে ঠেলে সরাতেই চাইলো,,চিনচিন ব্যথা হচ্ছে বাম বুকে,,মনে হচ্ছে কেউ গড়ম সিক চেপে ধরে আছে,,,,
আরহাম নুবার হাত ধরে কেমন অদ্ভুত কন্ঠে বললো
_ পাপ করেছি,, এতো টুকু সহ্য করতে পারবে না আমার জন্য,,,
নুবা কান্ত শরীরে আরহামকে সরিয়ে দেয়,,,তবে হলে দুলে পড়ে যেতে নেয় সে,,, আরহাম ধরে ফেলে নুবাকে,,,নুবা হু হু করে কেঁদে উঠে,, আরহাম কোলে তুলে নেয় নুবাকে,,এনে বিছানায় বসায়,,,,
নুবা রাগি কন্ঠে কান্না করতে করতে সুধায়,,,
_ আপনি একটা সাইকো,, প্রতিবন্ধী,,, পাগল,,, জানোয়ার,, অমানুষ,,, আপনি আমাকে ভালোই বাসেন না,,,না হলে আমার এতো না করা শর্তেও আমাকে কষ্ট দিয়ে নিজের মন মর্জি করতেন না,,, অমানুষ কোথাকার,,,আমরি ভুল ছিলো,,,,বারবার ভুল মানুষকে বেছে নেই,,,
আরহাম আলতো করে নুবার গাল চেপে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়,নুবা হিচকি তুলে সরে যায়,,, আরহাম আদুরে কন্ঠে বলে,,

_ কে বলেছে ভালোবাসি,,এটা আবার কি,, তুই তো আমার ,,,নীরব উন্মাদনা,Obsession,, Trust me তোকে ছাড়া আমার কাউকে মনে ধরে না,,, তোকেই লাগবে আমার,,,,এই তুই জানিস আমি না একটুও ভালো না,,, কিন্তু তোর ক্ষেত্রে সবার থেকে আলাদা হয়েছি,,আর তুই সামান্য ব্যথা সহ্য করতে পারছিস না,,তাহলে আমার লোড কি করে নিবি,, তোর চিৎকার শুনে আমার মেয়েও কাঁদতে কাঁদতে আবার ঘুমিয়ে গেছে,,, তুই কতটা দুর্বল সামান্য এক চিলতি ব্যাথা সহ্য হয় না,,,
নুবা রেগে চেঁচিয়ে বললো
_ না হয় না,,,হয় না সহ্য,,বুঝতে পারছি আপনি একটা আস্ত শয়তান,,, আপনার সাথে জীবন জড়ালে আমার নির্ঘাত অকালে মৃত্যু,,,,আমি চাই না আপনাকে,,,চাই না,, আমার কাঁটা ছিরা সহ্য হয় না আর আপনি সেই সবি বারবার করছেন আমার সাথে,,,বারবার,,
বলেই নুবা হাত পা ছড়িয়ে বাচ্চাদের মতো কাঁদতে লাগলো,, ওষুধ দেওয়ার কারনে বুকের ব্যথা উধাও হয়ে গেছে,,,কি দিলো কে জানে,,,তবে এখনো মনের ভিতরে ভয় কাজ করছে,,,রাগ হচ্ছে আরহামের প্রতি,,,
আরহাম শান্ত কন্ঠে সুধালো
_ সহ্য করতে হবে,, আমার সাথে থাকলে করতে হবে,,,
নুবা চিৎকার করে বললো

_ করবো না আমি সহ্য,,আর না থাকবো আপনার সাথে,,, আপনার এই কাজে আমার আপনার প্রতি সখ মিটে গেছে,,আপনি যে কি তা আমার বুঝা হয়ে গেছে,,,করবো না বিয়ে,, দরকার পড়লে কাউকে বিয়ে করবো না,, কারণ আমি এই অপবিত্র শরীর কাকে দিবো,, কাউকে না,,,তবু আপনার সাথে থাকবো না,, অমানুষ আপনি,,,কি করে পারলেন এরকম করতে,,,
আরহাম নুবার কান্না দেখে দুই হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে বললো
_ hss কিচ্ছু হয়নি তো,,,চুপ,, কান্না আফ কর,,
নুবা আরহামকে ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিয়ে বললো
_ থাকবো না আপনার সাথে,,সামনে আসবেন না আমার,,, অসভ্য লোক কোথাকার,,, অসভ্য,,, অমানুষ,,সব নাটক করেছিলো,, আমার জন্য একটুও মায়া থাকলে আমার চোখের পানি দেখেও এরকম কাজ করতে পারতো না,,সামনে থেকে সরুন,, আপনাকে দেখলে আমার শরীর জ্বলে উঠছে,,
বলতে বলতে নুবা চুপ হয়ে গেলো,, কান্ত হলো সে,,হাতের শুকনো মেহেদী ঝড়ঝড় করে ঝড়ে পড়লো,,,নুবা হাতটা সামনে এনে হাতের তালু দেখিয়ে বললো

_ ভুলিনি আমি আপনার কথা,,এক মূহুর্তের জন্যও,, লিখেছিলাম,,,আপনি এরকম পাষান আগে জানলে কখনোই লিখতাম না,,,ছি,, হৃদয়হীন কোথাকার,,, আপনার সাথে আমার সব শেষ,,,এখনি সব শেষ,,,
আরহাম খুব শান্ত থেকে সহ্য করছিলো তবে বারবার,, সম্পর্ক শেষ,,তার সাথে থাকবে না,, তাকে বিয়ে করবে না শুনে রেগে উঠলো,,,নুবার নাদুসনুদুস গাল চেপে ধরে সুধালো
_ বলেছিলাম,, তুই শুধু আমার,, তুই ছেড়ে যেতে চাইছিস কোন সাহসে,,,মেরে তক্তা বানিয়ে ফেলবো,,
নুবা চোখের পানি মুছে নাক টেনে বললো
_ সর সামনে থেকে,,, শয়তান,,, পাষান কোথাকার,,,সর,, আমাকে যেতে দে,,
আরহাম যেতে দিলো না বরং নুবার ঠোঁট চেপে ধরলো নিজের ঠোঁট দিয়ে,,
নুবা ছটফট করে উঠলো,, নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো তবে পারলো না,,,নুবা না পেরে শান্ত হয়ে গেলো,,,নুবা শান্ত হতেই আরহাম তাকে ছেড়ে দিলো,,,নুবা অনুভব করলো এই লোকটাকে দেখলেই তার শরীর জ্বলছে,,তাই কিছু বললো না সে,, আস্তে করে বিছানা থেকে কান্ত শরীরে নেমে এসে হাত লাম্বা করে ওরনা কুড়িয়ে নিলো,,,

আরহাম ঠোঁটে ঠোঁট চেপে এগিয়ে এসে নুবাকে শক্ত করে নিজের সাথে জরিয়ে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে সুধালো,,
_ মেরে ফেলবো তোকে,,যদি ছেড়ে যাওয়ার কথা মুখেও আনিস,,কত বড় সাহস তোর,, আমাকে ছেড়ে যাবি,,,
নুবা কান্না করতে করতে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ ছাড়ুন,,
আরহাম ঢলে পড়লো নুবার উপর কাঁধে মুখ গুজে বললো
_ ছেড়ে যাস না নুবু,,মরে যাবো আমি,,,
নুবা নাক টেনে ধাক্কা দিয়ে কান্ত আরহামকে সরিয়ে দিলো,, চোখের পানি মুছে রুম থেকে বের হয়ে লাগলো,,আজ সকালে কার মুখ দেখে উঠেছিলো কে জানে,,, আরহাম নুবার হাত টেনে ধরে বললো
_ জানে মেরেছি তোকে,, এতটুকু অধিকার নেই আমার,, আচ্ছা ঠিক আছে,, ব্যথা পেয়েছো তাই কি হয়েছে,,মরে তো যাওনি,,, অনেক গুলো আদর করে দিবো সব সেরে যাবে,,, কান্না করে না নুবু,,,
নুবা মুখ দিয়ে শব্দ বেড় করতে চাইলো না,তবে খেলায় করলো আরহাম স্বাভাবিক নেই কেমন ঢুলছে,,,মনে হচ্ছে সে ঠিক নেই,,, তবু নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলো,,, আরহাম ছাড়লো না,,,নুবা ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ আগে নিজের চিকিৎসা করান আপনি,, অসভ্য,,,

বলেই নুবা নিজেকে ছাড়িয়ে রুম থেকে চলে গেলো,,আরহাম যেতে দিলো তাকে,,,আরহাম এক হাত দিয়ে মাথার চুল খামচে ধরে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে ভাবলো,,,সকাল সকাল কি করলো সে,,মাথা তো এখন কাজ করা বন্ধ হয়ে গেছে তার,,কেনো এমন করলো,,, আরহাম নিজের কাজে নিজেই হতবাক,,,যেনো নিজের ভিতরেই ছিলো না সে,,,আসলেই এখন নিজেকে অর্ধ পাগল মনে হচ্ছে তার,,ভাবতে ভাবতে আরহাম বিছানায় যেএ ধুপ করে শুয়ে পড়লো,,বিরবির করে বললো
_ নুবু,,,আয়রা সকাল থেকে কিছু খায়নি,,নিয়ে যাও,,এই নুবু শুনছো,,জান,,,,নুবু,,ও নুবু,,,

নুবা কোনো মতে রুমে প্রবেশ করলো,,, হাজেরা রুমে নেই তাই শান্তি পেলো নুবা,,,নুবা রুমে এসেই ওয়াশরুমে চলে গেলো,,আরহামের উপর এতো রাগ হচ্ছে তার,,, শয়তান লোক,,আর কথাই বলবে না সে,,, অন্ততপক্ষে ২/৩ দিন নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাবে,,, অসভ্য লোক কোথাকার,,
আরহামকে বকতে বকতে নুবা ব্যান্ডেজ টা খুলে দেখতে চাইলো কতটুকু ক্ষতো করেছে,,,
নুবা নাক মুখ কুঁচকে ব্যান্ডেজ খুলে অবাক হলো,,একদম ছোট্ট করে a লিখেছে,,, সুক্ষ্ম হাতের লেখা আরহামের,, ছোট্ট,,,দূর থেকে দেখলে কেউ বুঝবে না কি লেখা,,,এতোটা গভীর ভাবে লিখেছি শুরু উপরের পাতলা চামড়া হালকা কেটেছে,,তবে ব্যাথা এতো কেনো লাগলো,,, হয়তোবা নুবার মনের ভয় বেশি ছিলো,,তবে জেন্ত মানুষে শরীরে ক্ষতো করা কি কম ব্যপার,,,নুবা ওয়াশ রুমে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কিছু সময় তাকে বকে নিলো,,,

নুবা রুমে বসে আরহামকে ইচ্ছা মতো বকছিলো এমন সময় ২/৩ জন বাচ্চা কাচ্ছা নিয়মিত গোসল আমিনা বেগম রুমে প্রবেশ করলো,,নুবা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো,,,
আমিনা বেগম এসে ব্যস্ত কন্ঠে বললো
_ মা ওদের একটু মেহেদি দিয়ে দে তো,,আরশির রুমে যেএ জ্বালিয়ে খাচ্ছে,,,
নুবা মাথা ঝুঁকালো,,,নুবার এরকম কান্ত মুখ দেখে আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে এগিয়ে আসলেন,, কপালে হাত রেখে বিরবির করে বললেন
_ জ্বর এসেছে নাকি এমন দেখাচ্ছে কেন,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে অভিমানি কন্ঠে বিচার দিয়ে বললো
_ তোমার ছেলে একটা অর্ধ পাগল,,উনার চিকিৎসা করাও না কেন,,
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললো
_ আবার কি হলো,,
নুবা ওরনা সরিয়ে ব্যান্ডেজের দিকে ইশারা করে বললো
_ তোমার আহাম্মক ছেলে আমার শরীরের মাংশ কেটে নিজের নামের অক্ষর লিখেছে,,, জ্ঞান বুদ্ধি হাঁটুতে নিয়ে ঘুরে উনি,,,
আমিনা বেগম হতভম্ব হয়ে গেলো আর বললো

_ পাগল হয়েছে ও,,
_ কে জানে,,, অসভ্য লোক কোথাকার,,,
আমিনা বেগম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ আচ্ছা আমি দেখছি,, তুই ওদের ঝামেলা একটু শেষ কর,,
পরপর বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে বললো
_ এই আপুর কাছে বসো তোমাদের এক এক করে দিয়ে দিবে,,উপরে যেএ আরশিকে একদম জ্বালাতন করবে না,,রাগ করবে কিন্তু ঠিক আছে
বাচ্চা গুলো মাথা ঝুকালো,,

আমিনা বেগম ব্যস্ত পায়ে ছেলের রুমে প্রবেশ করলেন,,,রুমে প্রবেশ করেই দেখলেন ছেলে তার উল্টো হয়ে পা ঝুলিয়ে শুয়ে আছে,,আয়রা গুনগুন করে কান্না করছে,,
আমিনা বেগম এগিয়ে যেএ আয়রাকে কোলে তুলে নিলেন,,আদুরে কন্ঠে সুধালেন,,
_ কি হয়েছে নানু ভাই,,, আজকে আম্মু কি একটু কোলে নেয়নি,,,একটুও নেয়নি,,কি করে নিবে পাপা পঁচা কাজ করেছে তো,,,
বলতে বলতে আমিনা বেগম আয়রাকে নিয়ে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলেন,,আগে নাতনিকে থামিয়ে তার পর আরহামের বিচার করা হবে,,,

আমিনা বেগম আয়রাকে নিয়ে নুবার রুমে প্রবেশ করতে করতে সুধালেন,,
_ সকালে খাওইয়ে দিসনিরে নুবা,, বাচ্চাটা কান্না করছে,,
নুবা মেহেদি দিতে দিতে এক পলক সেদিকে তাকিয়ে নাক ফুলিয়ে বললো
_ তোমার নতনিকে খাওয়াতে যেয়েই তো বিপদে পড়েছি,,,
_ খাওইয়ে দে রে মা,,দেখ কিভাবে খাওয়া জন্য ছটফট করছে,,,
নুবা মেহেদি রেখে হাত বাড়িয়ে আয়রাকে কোলে তুলে নিলো,,,পরপর আয়রার পুরো মুখে চুমু খেএ বললো
_ ক্ষুধা লেগেছে আমার মার,,আগে বলবে না,,হুম,,
নুবা ওরনা দিয়ে ডেকে আয়রাকে বুকের দুধ দিলো,,আয়রা শান্ত হলো,,,নুবা সামনে বালিশ রেখে বললো
_ দেও হাত দেও,,দিয়ে দি
একজন বাচ্চা মেয়ে হাত এগিয়ে দিলো,,,নুবা আয়ারকে ফিড করাতে করাতে মেহেদি দিয়ে দিলো,,

আরহাম চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ ahhh mom ,,কি করলে,,,
আমিনা বেগম হাত থেকে পানির মগ রেখে রাগি কন্ঠে বললো
_ উঠ,,উঠে বস,,
আরহাম ঢুলে ঢুলে পড়ে গেলো,,,আমিনা বেগম হাতে বেশি করে লেবু দেওয়া শরবত নিয়ে এগিয়ে আসলেন,,আরহামের সুন্দর চুল গুলো টেনে ধরলেন,, আরহাম ব্যথায় নাক মুখ কুঁচকে বললো
_ কি করছো,,
_ উঠ,,
আরহাম দুই হাতে ভর দিয়ে উঠে বসলো,,, ঝাঁপসা চোখে মা”য়ের দিকে তাকিয়ে বিরক্তি নিয়ে বললো
_ what happened,,
আমিনা বেগম হাতের থাকা গ্লাস আরহামের মুখে চেপে ধরে বললেন
_ তাড়াতাড়ি এটা গিল,,,
আরহাম বাচ্চাদের মতো নাক মুখ কুঁচকে সরিয়ে দিয়ে বললো
_ no,,
_ আরহাম,,,জুতার বারি কিন্তু একটাও মাটিতে পড়বে না,,
আরহাম ঠোঁটে ঠোঁট চেপে সুধালো,,
_ please mom,, just 2 hour,,,একটু ঘুমাতে দেও,,
আমিনা বেগম রেগে ছেলের নাক চেপে ধরে মুখে গ্লাস ঠেকিয়ে বললেন
_ হা কর,,,

আরহাম দুই হাত দিয়ে সরিয়ে দিলো,,,আমিনা বেগম ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললেন
_ খাবি নাকি নুবাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিবো,,,
আরহাম চম্কে মায়ের দিকে স্বচ্ছ চোখে তাকিয়ে হতবাক হয়ে বললো
_ ও আমার বউ,,,
_ আগে এটা খেএ নে,,
আরহাম বাচ্চাদের মতো ঠোঁট ফুলিয়ে মায়ের দিকে তাকালো,,পরপর গ্লাস হাতে নিয়ে ঢোক ঢোক করে বিষাদ শরবত টুকু খেএ নিলো,,
বেশি সময় লাগলো না মাত্র ২ মিনিটের ভিতরে আরহামের ঘুম উড়ে গেলো,,নেশা কেটে গেলো,,,, আরহাম মাথা ঝাঁকি দিয়ে কেমন করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বললো
_ দিলে তো আমার স্বাদের ঘুম উড়িয়ে,, শান্তি মিলেছে,,,
আমিনা বেগম দাঁতে দাঁত চেপে ছেলের গালে ঠাস করে একটা থাপ্পর মেরে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন
_ সকাল সকাল গু গবর খেয়েছিস তাই না,,
আরহাম নির্লজ্জের মতো ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,,বিরবির করে বললো
_ পুরো রাত একটুও ঘুম হয়নি mom,,এতো মাথা ধরেছিলো আমি Anxiety নিতে পরিনি,, আমার ঘুমের দরকার ছিলো,,,নুবাও রাতে আসেনি একটুও ঘুম হয়নি mom,,আমি কি করবো,,,
আমিনা বেগম কপাল চাপড়িয়ে বললেন
_ নুবার সাথে কি করেছিস,,,
আরহাম চোখ বন্ধ করে সুধালো
_ কি এমন করেছি,,ও তো সকাল থেকে রুমেই আসেনি,কি করবোওওওওওও,,,
পরপর মস্তিষ্কে চাপ পড়তেই নুবার কান্নারত চেহারা ভেসে উঠলো,,এক মূহুর্তের ভিতরে আরহামের সব মনে পড়ে গেলো,,এতোটাও নেশায় ধুত ছিলো না সে যে কিছু মনে থাকবে না,,, আরহাম পিলে চম্কে মায়ের দিকে তাকালো,,নুবার বলা প্রতিটা শব্দ আরহামের মনে হানা ছিলো,,এই তো কিছু সময় আগের ঘটনা,, হয়তোবা ঘন্টা খানিক হয়েছে,,,
আরহাম মাথায় হাত দিয়ে হতভম্ব হয়ে বললো

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৮

_ oh shit ,,
আমিনা বেগম উঠে দাড়িয়ে রাগি কন্ঠে বললেন
_ তুই কি এই সব ছাড়বি,,,,
আরহাম ভুরু ,,,
(আরহামের এই পাগলামি না নুবার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়)

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here