Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮০

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮০

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮০
সুরাইয়া জিয়াসমিন

আরহাম মাথায় হাত দিয়ে হতভম্ব হয়ে বললো
_ oh shit ,,
আমিনা বেগম উঠে দাড়িয়ে রাগি কন্ঠে বললেন
_ তুই কি এই সব ছাড়বি,,,,
আরহাম ভুরু উঁচিয়ে বললো
_ হুম ছাড়বো তো,,
_ কবে,,
আরহাম শয়তানি হাসি দিয়ে সুধালো
_ নুবাকে এনে দেও,,,ও রাতে আমার সাথে থাকলে ঘুম ভালো হয়,,আর ঘুম ভালো হলে আমি কেনো এই সব নিবো বলো,,ওকে পারমানেন্ট আমার করে দেও,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো

_ এই নিয়ে তিন বার,,তিন তিন বার তুই এই সব খেএ নুবরা ক্ষতি করেছিস,,, next time এরকম কিছু করলে আমি তোর বাপকে বলে নুবাকে ভালো কোনো জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিবো,,,বলে দিলাম,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আর আমি হতে দিবো এটা,,, দরকার পড়লে ওকে জানে মেরে দিবো তাও আমি ব্যতিত কাউকে ওর দিকে চোখ তুলে তাকাতে দিবো না,,
ছেলের কথায় আমিনা বেগম স্তব হয়ে গেলেন,, শুকনো ঢোক গিলে অশান্ত কন্ঠে বললেন
_ অতিরিক্ত হচ্ছে না আরহাম,,ওর ব্যক্তিগত ব্যপার,, তুই দখল দারি করার কে,,
আরহাম বেশ রেগে গেলো,,,তখন একবার নুবা ছেড়ে চলে যাবে,থাকেব না কতকিছু বলে গেলো এখন তার মাও একি কথা বলছে,,
আরহাম চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ ও শুধু আমার,,, উল্টা পাল্টা কথা বলে মাথা গড়ম করো না,
বলেই আরহাম বিছানা থেকে উঠে গটগট করে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,আমিনা বেগম অনেকটা ভীতু হয়ে গেলেন,,তার মনে হলো এই ছেলে নুবার জীবনে কোনো না কোনো বিপদ ডেকে আনবে,,

_ হুম,,এটা সুন্দর,,এটা দিয়ে দি,,,
বাচ্চা মেয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ আচ্ছা আপু,,
নুবা মোবাইল দেখে দেখে মেহেদি দিতে লাগলো,, এদিকে আয়রা কোলের ভিতরে,,,হাত পা নাড়ছে,, মাঝে মাঝে হাত বাড়িয়ে খাবলা মারছে,,,নুবা শুইয়ে দিয়েছিল একবার কিন্তু কান্না করে তাই আবার কোলে নিয়ে বসে আছে,,,
আয়রা হাত পা নাড়তে নাড়তে খিলখিল করে হাসলো,,,নুবা ঝুঁকে আয়রার গালে চুমু খেএ বললো
_ নড়ে না মা,,বড় আপু মেহেদি নষ্ট হয়ে যাবে তো,,
আয়রা নুবার ওরনা দুই হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে মুখে পুরে হাসে,নুবাও হাসি দেয়,,সাথে বাচ্চা গুলাও,,
এমন একটা মূহুর্তে আরহাম এলোমেলো পায়ে রুমে প্রবেশ করলো,, আরহামকে দেখে নুবার শরীর জ্বলে উঠলো,,,তবে বাচ্চারা সামনে দেখে নুবা কিছু বললো না,,
আরহাম জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে এসে নুবার সামনে কিছু সময় দাঁড়িয়ে রইলো তবে নুবা দেখেও না দেখার ভান করে মেহেদি দিতে লাগলো,,

আরহাম কেমন ভয় পেলো,,কিসের ভয়,,নুবা রাগ দেখাবে চেঁচিয়ে উঠবে সেই ভয়,,ছেড়ে চলে যাবে সেই ভয়,,এখন আরহামো কাউকে ভয় পায়,,, আশ্চর্য,,,
অনেক টা সময় কেটে গেলো,,,নুবা এক বাচ্চার হাতে দিয়ে অন্যদের হাত দিতে বললো,,,, আরহাম অনেকটা সাহস নিয়ে নুবার বা কাঁধে হাত রেখে আদুরে কন্ঠে বললো
_ দেখি নুবু কোথায় লেগছে,,,বেশি ব্যথা হচ্ছে,,
নুবা চোখের পলক ফেলে মুখ দিয়ে বিরক্তিকর শব্দ বেড় করে ঝাড়া মেরে আরহামের হাত সরিয়ে দিয়ে আবারো নিজের কাছে মনোযোগী হলো,,
আরহাম আয়রার দিকে তাকালো,,যে কিনা তার বাবার দিকে তাকিয়ে চোখ ছোটো ছোটো করে হাসছে,,,
আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে সুধালো

_ আচ্ছা sorry আর হবে না,,
নুবা রেগে গেলো তাও শান্ত কন্ঠে বললো
_ প্রতিবার জুতা মেরে গরু দান করতে চলে আসেন,, লজ্জা লাগে না,,এখান থেকে যান বাচ্চাগুলোর সামনে আমি কিছুই বলতে চাইছি না,,,
_ আচ্ছা একটু দেখি কোথায় কি করেছি,, আমার ওতো খেলায় নেই,,,দেখি না,,,দেখি,,,
বলেই নুবার ওরনায় হাত দিলো,,,নুবা দাঁতে দাঁত চেপে রেগে কুনুই দিয়ে আরহামের পেটে ধাক্কা দিলো,, ব্যথা পেয়ে আরহাম চোখ মুখ কুঁচকে নিলো,,নুবা রেখে দাঁতে দাঁত পিষে ফিসফিস করে বললো
_ যান এখান থেকে, আমার কথা,,বা আমার কান্না আপনি শুনেছিলেন আমি কেন শুনবো,, বাচ্চাগুলোর সামনে তামাশা করবেন না,,,দূর হোন,,আর মেয়েকে নিয়ে যান কোলের ভিতরে শুয়ে শুয়ে ওদের মেহেদী এবরোথেবরো করে দিচ্ছে,,,

সকাল পার হলো,, মেহেদী অনুষ্ঠান শেষে হয়ে বিকাল হয়ে আসলো,,তবে নুবা আর কোনো শব্দ বিনিময় করলো না আরহামের সাথে,,, আরহাম সারাটা দিন নুবার সাথে একটু কথা বলার জন্য ছটফট করলো তবে নুবা দেখেও না দেখার ভান করে উপেক্ষা করলো যেমন আরহাম তখন তার কান্না গুলো এড়িয়ে গেছিলো,,,
নুবা লিভিং রুম থেকে একটা হলুদের শাড়ি উঠিয়ে নিলো,,সবার জন্য এক রকম শাড়ি আনা হয়েছে,,,ছেলেদের জন্য সাদা পাঞ্জাবি,,,
নুবা শাড়ি নিয়ে দেখতে দেখতে সামনে এগিয়ে গেলো,,তখনি আরহাম সমানে এসে দাঁড়ালো,,,নুবা চোখের পলক ফেলে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইলো আরহাম সামনে যেএ দাঁড়ালো,,,নুবা আবারো সরে যেতে চাইলো আরহাম আবারো একি কাজ করলো,,নুবা বিরক্ত হয়ে মাথা উঁচু করে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো

_ সমস্যা কি,,,
আরহাম অনুনয় করে সুধালো
_ কথা বলছো না কেন,,,
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আপনার সাথে কথা বলার আমার কোনো ইচ্ছা নেই,,সামনে থেকে সুরুন,
_ নুবু,,আমি বুঝতে পারিনি,,, next time এমন হবে না,,,
_ next time এর জন্য আপনি সুযোগি পাবেন না,,,
বলেই নুবা আরহামের বাহুতে ধাক্কা দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো,,,, এভাবে ignore আরহাম সহ্য করতে পারলো না,,রাগে মস্তিষ্ক out হয়ে গেলো,,,
বাড়ি প্রায় ফাঁকা,,, সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে,,সবাই রেডি হতে ব্যস্ত,,,নুবা সব গুছাচ্ছে কি কি পড়বে,,,সব গুছিয়ে রেখে নুবা তার মাকে খুঁজতে বাইরে গেলো,,,তবে জানতে পারলো হাজেরা ছাদে,,,ওখানেই এক পাশে স্টেজ করা হয়েছে,,,
নুবা সিরি বেয়ে করিডোরে উঠার আগেই দেখতে পেলো আরহাম কেমন ছন্নছাড়া হয়ে এদিকেই আসছে,,সকাল থেকে নুবা তার সাথে কথা বলছে না,,,আরহামের বুক পুড়ে যাচ্ছে,,নুবা কথা বলে না তার সাথে,,,

নুবা আরহামকে দেখে মুখ বাঁকালো ,,ছাদের দিকে যেতে নিলো সে,,, আরহাম তেতে এসে নিজের ডান হাত দিয়ে নুবার বাম হাতের কব্জি চেপে ধরলো,,
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো,, কারণ সে জানতো এমন কিছু হবে,,, আরহাম নুবাকে নিজের দিকে ঘুরালো,,নুবা শান্ত দৃষ্টিতে আরহামের দিকে তাকিয়ে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে সুধালো
_ সমস্যা কি,,,
আরহাম ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললো
_ কথা বলছিস না কেন,,, আমার,, আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে,,, কেমন অস্থির লাগছে নুবু,,,তুই বুঝিস না,,,
বলতে বলতে আরহাম নুবার এক হাত তুলে নিজের গালে রাখলো,,পরপর হাতের তালুতে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো,,,,
নুবা শুধু চেয়ে রইলো,,,নিজের উত্তর না পেয়ে আরহাম নিজের কম্পিত বাম হাত নুবার ডান গালে রেখে কাতর কন্ঠে সুধালো
_ কি হয়েছে,, আচ্ছা অনেক বেশি ব্যথা দিয়ে ফেলেছি,,,কি করবো আমি,,ভুল করে ফেলেছি তো,, আমি নিজের ভিতরে ছিলাম না,,,নেশা করে আমার কেমন উল্টা পাল্টা লাগছিলো তুই বুঝবি না,,,
শেষ বাক্যে নুবা ভুরু কুঁচকে নিলো,,আরহামের হাত গাল থেকে সরিয়ে দিয়ে কাতর কন্ঠে বললো

_ আপনি নেশাও করেন,,,
আরহাম শুকনো ঢোক গিললো,,কার ভিতরে কি বলে ফেললো কে জানে,,
_ কি হলো উত্তর দিচ্ছেন না কেন,,
_ মাঝে মাঝে,, but তুই কাছে থাকলে আর হাতো দিবো না ওই সবে,,,ঘুম আসে না আমার,,,আর ঘুম না হলে মাথা ধরে যায়,,,দেখ না এখনো কেমন অস্থির লাগছে,,, trust me আর কখনো___
বাকি কথা বলার আগেই নুবা আরহামের হাত ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিয়ে বললো
_আমি আগে যদি জানতাম আপনি একটা গাঁজা খোর তবে আমি কখনোই আপনার সাথে কোনো সম্পর্কে জড়াতাম না,,, নেশা খোর রা কখনোই ভালো হয় না,,,দূরে থাকবেন আমার থেকে,,,
বলেই নুবা সরে যেতে চাইলো,, আরহাম নুবার কথায় তেতে উঠলো,,,কত বড় সাহস আবারো তার থেকে দূরে থাকতে বলছে,,,

আরহাম নুবার হাত চেপে ধরলো,,নুবা কিছু বলতেই যাবে তার আগেই আরহাম তাকে টেনে কোথাও নিয়ে যেতে লাগলো,,,নুবা হতভম্ব হওয়ার সময় পেলো না তার ভিতরেই খেয়াল করলো নুবার ধরে রাখা আরহামের বাম হাত থেকে ঝড়ঝড় করে রক্ত পড়ছে,,,
নুবা বড় বড় চোখ করে তাকালো,,,পরপর নিজের ডান গাল হাতিয়ে দেখলো তার গালেও হালকা রক্ত লেগে আছে,,,নুবার শরীর ঝিমঝিম করে উঠলো,,,
আরহাম নুবাকে নিজের রুমে নিয়ে যেএ ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিলো,,আয়রা আমিনা বেগমের কাছে বিধায় কোনো সমস্যা হলো না এতো শব্দ করার পড়েও,,
আরহাম নুবাকে এনে দরজার সাথে চেপে ধরলো,,,পরপর আরহাম কিছু করতেই যাবে তার আগেই নুবা আরহামের বাম হাত আঁকড়ে ধরে আতংকিত হয়ে সুধালো
_ আপনার হাতে কি হয়েছে,,দেখি,,,,
আরহাম হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বিচলিত হয়ে নুবার ওরনা সরাতে ব্যস্ত হলো,,সে দেখতে চায় কতটুকু ক্ষতো হয়েছে,,
নুবা অস্থির হয়ে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ হাতে কি হয়েছে আপনার,,দেখতে দেন,,দেখি,,
নুবার ধমকে বেচারা আরহামের মতো পুরুষ মানুষো যেনো লাফিয়ে উঠলো,,,
আরহাম নুবার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলো নুবা আবারো ধমকে উঠে বললো
_ স্থির হয়ে দাঁড়ান বলছি,,

নুবা আরহামের কাটা ছিরা হাতে কম্পিত হাতে ব্যান্ডেজ করতে করতে ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ এই সবের মানে কি,,
আরহাম হাত সরিয়ে নিয়ে নুবার কাছে ঘেঁষতে চায়,, কারণ এখান তার মনে হচ্ছে নুবাকে জরিয়ে ধরলে তার শান্তি ,,
নুবা বিরক্ত হয়ে ধমকে উঠে বললো
_ স্থির হয়ে বসবেন আপনি,,নাকি চলে যাবো,,,
আরহাম চোখ ছোটো ছোটো করে বাচ্চাদের মতো করে বললো
_ একটু কাছে আসতে দেও,, শান্তি লাগছে না তো,,,
নুবা ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে এগিয়ে এসে আরামের ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়,,,আরহামের বিচলিত মন যেনো শান্ত হয় এটা ভেবেই যে তার নুবার রাগ ভেঙ্গেছে ,,,
নুবা নাক টেনে ফিসফিস করে বলে
_ এরকম কেনো করেছেন,, আপনি কি নিব্বি (ছোটো) যে এই সব করেছেন,,,মাথা ঠিক আছে আপনার,,,
অসভ্য আরহাম আবারো এগিয়ে এসে সুধায়,,
_ তুমি অনেক ব্যথা পেয়েছো তাই না,,,তাই দেখলাম কেমন লাগে,,,

নুবা আরহামের কাটা ছিরা হাত দেখে আরো ফুঁপিয়ে উঠে,, কেমন করে কেটেছে,,এই লোকটার বোধ শক্তি নেই,,তার এরকম ক্ষতো হলে সে এতো সময় গলা কাটা মুরগীর মতো ছটফট করতো,,,কি সুন্দর করে পটি পটি করে কেটেছে,,,খুবি দক্ষ হাতে না হলে হাতের সিরা কেটে যাওয়ার কথা ছিলো,,,মরার ভয় আছে তাই একটু একটু উপর দিয়ে মাংস বহুল জায়গায় কেটেছে,,,নুবা যদি একটু ভালো মতো খেয়াল করতো তবে হয়তোবা দেখতে পারতো কি সুন্দর করে বড় হাতের N লিখেছে তবে এখন বোঝা যাচ্ছে না তেমন,, কারণ দাগ গুলো একটা আর একটার উপর দিয়ে চলে গেছে,,,
যেই সব নুবার না পছন্দ সেই গুলাই যেনো বেশি করে তার কপালে এসে জুটৈ,,
এদিকে আরহাম বাচ্চাদের মতো ছটফট করছে,,,যেনো কিছু না পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাকে ভিতর থেকে অস্থির করে তুলছে,,নুবা আরহামের মুখ ভঙ্গি দেখে কিছু টের পেলো,, বুঝতে পারলো এই লোক তাকে শান্তিতে নিজের কাজ করতে দিবে না,,

আরহামের ডান পায়ের উপর নুবা বসে আছে,,, আরহাম নুবার কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে আছে যেনো ঘুমাচ্ছে,,তবে এদিক দিয়ে ডান হাত নুবার পেটের উপর যা অনাবরত চলছে,,, আঙ্গুল গুলো নড়ছে নুবার ছুরছুরি লাগছে তাও সে চুপচাপ বসে আছে,,মাঝে মাঝে আবার আরহাম নড়েচড়ে উঠছে,,, ঠিক আয়রার মতো যেমন আয়ার ঘুমের ভিতরে হঠাৎ নড়েচড়ে উঠে,,
এদিকে নুবা খুব মনোযোগ দিয়ে আরহামের হাতে মলম লাগিয়ে দিচ্ছে,,এই সব তার পছন্দ নয় তবে এখন দেখা যাচ্ছে যে তার এগুলোই শিখতে হবে,, বিশেষ করে doctor হতে হবে তার , যা শুরু করেছে আরহাম,,,
নুবা হাতের মলম আরহামকে দেখিয়ে বললো
_এটা দিবো,,,আমি কিন্তু বুঝতে পারছি না কোনটা দিবো,,
আরহাম বিরবির করে বললো
_ হুম দেও,,
_ আরে তাকিয়ে দেখুন তো,,
আরহাম টিপটিপ করে চেয়ে দেখে বললো
_ দেও,,,
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো আরহাম এখন পুরো শান্ত বাচ্চার মতো নুবার কাঁধে মুখ গুজে শুয়ে আছে,,,,
নুবা আস্তে আস্তে আরহামকে জিগ্গেস করে করে হাতে ব্যান্ডেজ করে দিলো,,পরপর হাতের তালুতে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো

_ আর কাখনো এরকম করবেন না,, আমার ভীষণ ভয় লাগে,,
আরহাম মাথা ঝুকালো,,,পরপর নুবা বলে উঠলো
_ আয়রা কোথায়,,,
_ আম্মুর কাছে,,,
নুবা ছোট্ট করে হুম বলে বললো
_ একটু পরে অনুষ্ঠান শুরু হবে,,আপনি কি আমাকে ছাড়বেন না,, আম্মু হয়তোবা আমাকে খুঁজছে,,,
আরহাম নাক মুখ কুঁচকে বললো
_ না,, কোথাও যাবে না তুমি,,এখানেই থাকো,,, আমার তোমাকে ছাড়া ভালো লাগে না বুঝো না তুমি,,,
বেশ আদুরে কন্ঠে বললো আরহাম,,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আচ্ছা চাচিকে বলে তো আসি,,যাতে অন্ততপক্ষে আমার আম্মাকে সামাল দেয়,,না হলে কেলানি তো আমার খেতে হবে,,,
আরহাম তাও ছাড়তে চাইলো না,,,নুবা জোর করে উঠে দাড়িয়ে বললো
_আমি আছসি,,, অপেক্ষা করুন,,,
আরহাম বারবার না করলো তবে নুবা রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,আরহামের কেমন রাগ হলো,,, তবু অপেক্ষা করতে থাকলো সে,,যে তার নুবু আসবে,,

নুবা রেডি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,, ঘন্টা খানিক পার হয়ে যাচ্ছে,,নুবা আর আরামের রুমে যেতে পারেনি,,,আসার পরেই হাজেরার হাতে পড়ে গেছে বেচারি,,,
নুবা রেডি হয়ে সুযোগ খুঁজলো আরহামের রুমে যাওয়ার,,লোকটা নিশ্চয় রেগে গেছে,, ঘন্টা পার হলো নুবা কেন আসছে না এই ভেবে,, তবে নুবা কোনো ভাবেই সুযোগ পাচ্ছে না,,,
হাজেরা রেডি হয়ে নুবার কালো মুখের দিকে তাকিয়ে সুধালো
_ কি হলো এমন করে আছিস কেন,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো

_ কিছু না,,,
হাজেরা মাথায় সুতির ওরনা টেনে বললো
_শাড়িটা না পড়লেও পারতি,,, হলুদ শাড়ি তো তোকে একবারে বিয়ের দিন পড়াতে চেয়েছিলাম,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো
_ সবাই পড়েছে মা,,,তাই কি হয়েছে,,
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আচ্ছা চল,,,তোর চাচি আবার ডাকা শুরু করবে,, অনুষ্ঠান তো শুধু হয়ে গেছে,,,
বলেই হাজেরা মেয়ের হাত ধরে ছাদে চলে গেলো,,ছাদেই সব করা হয়েছে,,, যেহেতু বেশি মানুষ না,,,
নুবা করিডোর দিয়ে হাঁটার সময় একবার পিছন ফিরে তাকালো,,,বুকটা চিনচিন করছে তার,,, অন্ততপক্ষে একবার যদি বলে আসতে পারতো,,, কেমন ছটফট করছিলো লোকটা,,,
আরশিকে স্টেজে বসানো হয়েছে,,,সামনে চেয়ার রাখা সবাই বসে আছে,,হাজেরা মেয়ের হাত ধরে এক কোনায় নিয়ে যেএ বসলো,,সবাই হলুদের ভিতরে হালকা গোলাপি শাড়ি পড়েছে নুবারো সেম,, যেমন ভাবে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা তেমন ভাবেই হলো,,নুবা মায়ের পাশে বসে হাঁসফাঁস করতে লাগলো,,আজ কেন তার মা একটু দূরে যাচ্ছে না তার থেকে,,,
নুবা আশে পাশে তাকিয়ে আমিনা বেগম কে খুঁজলো তবে পেলো না,,,

গানের সুরে জমে উঠেছে গায়ে হলুদের আসর।একদল নেচে-গেয়ে আনন্দে মেতে উঠেছে, আরেকদল হাসিমুখে বর-কনেকে হলুদ মাখিয়ে দিচ্ছে।চারদিকে ভেসে আসছে হাসির শব্দ, উলুধ্বনি আর করতালির উচ্ছ্বাস।রঙিন পোশাকে সেজে ওঠা আত্মীয়-স্বজনেরা একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছে।হলুদের রঙে, গানের তালে আর নাচের উল্লাসে পুরো বাড়িটাই যেন এক টুকরো উৎসবে পরিণত হয়েছে।প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী হচ্ছে, আর স্মৃতির পাতায় যোগ হচ্ছে নতুন এক সুন্দর অধ্যায়,,, অনুষ্ঠান ছোটো হলেও বেশ বড়োই,, কারণ মানুষ কম না,,

আরহাম বিছানায় শুয়ে ছটফট করছে,,আমিনা বেগম এসেছিলো আরহামকে নিতে তবে আরহাম যায়নি বরং নুবাকে ডেকে দিতে বলেছে,,, এখন রাত ১০ টা প্রয়া টানা ৩/৪ ঘন্টা ধরে আরহাম প্রান ছাড়া পাখির মতো ছটফট করছে,,নুবু আসবে,,আবসে তবে আসলো না নুবু,,,
আরহাম এবার উঠে বসলো,,রাগে শরীর ফাটতে লাগলো তার,,পড়নে থাকা Navy Blue রং এর শার্টার উপর থেকে দুটো বোতাম টেনে ছিরে ফেললো,,,এই মেয়ে মিথ্যা বলে গেলো তাকে,,আসলো না,,,
আরহামের নীল রংটা একটু বেশিই পছন্দ,,কেন সে জানে না তবে পছন্দ তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সে এই রংঙগের সব কিছু ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে,,
আরহাম উঠে দাঁড়ালো,, শরীর রিরি করছে তার,, আজকে নুবাকে কাঁচা চিবিয়ে খাবে সে,, আরহাম নুবার সুন্দর ভাবে করে দেওয়া ব্যান্ডেজ টেনে খুলে ফেললো,,সাথে সাথে হালকা রক্তে আবারো তার হাত মেখে উঠলো,,, ছন্নছাড়া আরহাম এলোমেলো পায়ে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,

হাজেরার মনোযোগ সরেছে নুবার থেকে,,, কারণ আমিনা বেগম হাজেরাকে নিয়ে নিচে গেলো এই মাত্র,, অনেক আগে থেকেই আমিনা হাজেরাকে সরানোর চেষ্টা করছে তবে পারছে না,, অতঃপর দেখা গেলো নিচে আরো কিছু মেহমান এসেছে এই বাহানায় তাকে নিচে নিয়ে গেলো আর নুবাকে চোখের ইশারায় কিছু বুঝিয়ে গেলো,,
মা যেতে নুবা স্থির ভাবে নিঃশ্বাস ফেললো,,, এদিকে couple ডান্স চলছে,,আরশি অনেক এনজয় করছে,,,রিহানো আরশিকে দেখতে চলে এসেছিলো এই নিয়ে কি মাতামাতি আর হাসাহাসি,,,
নুবা উঠে দাঁড়ালো,,, আজকে তার কপালে শনি আছে,,মনে হচ্ছে তার,,,নুবা উঠে শাড়ি ধরে দুই কদম সামনে এগোতেই সামনে তৌসিফে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো,,,চোখ বড়বড় করে বললো
_ তুমি এখানে,,,,
তৌসিফ নুবাকে শাড়িতে দেখে এক দফা বাশ অর্থাৎ crush খেএ সুধালো
_ অনেক সুন্দর লাগছে,,একটু ফুলের গয়না পড়তে আরো সুন্দর লাগতো,,,
হঠাৎ এমন কথায় নুবা একটু লজ্জা পেয়ে গেলো,,বিরবরি করে বললো
_ আম্মু এটাই পড়তে দিচ্ছিলো না,, আচ্ছা যাই হোক তুমি এখানে কি ভাবে,,,
তৌসিফ বরাবরের মতো হেসে বললো
_ তুমি অনেক দিন ধরে খবর নিচ্ছিলে না,,কত গুলো মেসেজ করেছি কল করেছি ধরছিলে না তাই চলে আসলাম,,,
নুবা একটু জোরপূর্বক হেঁসে বললো

_ actually আমার আম্মুর কাছে মোবাইল তাই আরকি,,,
একদম মিথ্যা বললো নুবা,,আসলে সে দেখেছে তোসিফ যে কল দিয়েছে মেসেজ দিয়েছে তবে সিন করেনি,, কারণ তার ভালো লাগে না,, আরহাম জানলে রাগ করবে তাই সে ignore করেছে,,
তৌসিফ এক গাল হেসে বললো
_ আন্টি কোথায়,,,
_ আম্মু তো নিচে,, তুমি যাও,,যেএ দেখা করে আসো,,
তৌসিফ একটু কান্ত কন্ঠে বললো
_ এই মাত্র সিরি বেয়ে আসলাম নামতে ইচ্ছা করছে না,,,তা এখানে বসো কথা বলি,,এখানে তো তুমি ব্যতিত কাউকেই ভালো মতো চিনি না,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিললো,,,কখন আবার হাজেরা চলে আসে,,,আরহামের কাছে যেতে হবে তাকে,,,
তৌসিফ বলতে বলতে চেয়ার টেনে বসলো,,পরপর নুবার হাত টেনে আর একটা চেয়ারে বসিয়ে দিলো,,,নুবা অস্থির হয়ে পড়লো,,, না কিছু বলতে পারছে না সহ্য করতে পারছে,,,
তৌসিফ সামনের দিকে তাকিয়ে সবার ডান্স দেখে মুচকি হেসে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ এতো অস্থির হচ্ছো কেন,,কি হয়েছে
নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো

_ আমার একটা কাজ আছে,আমি একটু পরে আসছি,,
_ আরে বসো তো,,,কত দিন ধরে একটু কথা বলো না,,এখন সামনে আসছি তাও পালাই পালাই করছো,,,
নুবার বুক ছটফট করে উঠলো,, তৌসিফ নুবার দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_আমার বড় ভাইয়াকে দাওয়া করা হয়েছিলো কারণ কয়দিন আগে ভাইয়া উনাদের কম্পানির সাথে কেমন ডিল করেছে সেই হিসাবে,,ভাইয়া খুব ব্যস্ত ছিলো তাই আমাকে পাঠিয়ে দিয়েছে,,,এই ফাঁকে তোমার সাথে দেখা হয়ে যাবে তাই আমিও না করিনি চলে আসলাম,,,
নুবা তৌসিফের কোনো থকায় ধ্যান দিলো না,,তার তো আরহামের জন্য মন পুড়ছে,,,
তৌসিফ কথা শেষ করে নুবার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ বারবার ওই দিকে কি দেখছো,,
নুবা চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ আমি একটু আসছি,,, তুমি বসো,, অনুষ্ঠান এনজয় করো,,,
তৌসিফ বিরক্তে ভুরু কুঁচকে বললো

_ কি এমন কাজ,,বসো তো,, তুমি চলে গেলে আমি খুব অপমান বোধ করবো নুবা,,,কত কষ্ট করে শুধু তোমার সাথে দেখা করতে এসেছি আর তুমি,,,,
নুবা তৌসিফ কে বুঝাতে পারলো না যে তার নিচে যাওয়া কতটা প্রয়জন,,, এদিকে নতুন একটা গান শুরু হলো ইশিতা আর আরফ এবার পারফরম্যান্স করলো,,,,আরশির খুব আফসোস হচ্ছে কারন রিহান এসেছিলো তবে আফসোস সে pageant থাকায় ডান্স করতে পারেনি,,,
মিনিট খানিক পর গান শেষ হলো,,পরপর বড় স্টেজে chunari chunari গান চলতে শুরু করলো,,নিচে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কোন জুরি যাবে,,,এর মধ্যে তৌসিফ নুবাকে নিজের প্রতি আকর্ষণ করার জন্য বলে উঠলো
_ এই নুবা চলো না একটা couple ডান্স দেই,,,
নুবা তৌসিফের কথায় হতভম্ব হয়ে গেলো,,চোখ বড় বড় করে বললো

_ ধূর,,না,,
তৌসিফ অনুনয় করে বললো
_ আরো চলো না,,আমি জানি তুমি ডান্স পারো,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো,,,আরহাম দেখলে তাকে মেরৈই ফেলবে,,,নুবা না করতে লাগলো,, তৌসিফ খুব অধিকার বোধ নিয়ে নুবার হাত চেপে ধরলো ,,, তৌসিফ ভাবলো হয়তোবা নুবা তাকে মানা করবে না,,তবে নুবা বারবার না করতে লাগলো,,,
তৌসিফ নুবাকে টেনে স্টেজে উঠে গেলো,,,সবাই খুশি হয়ে হৈ হুল্লোড় করে উঠলো,,আরশি চম্কে তাকালো,,, পরপর সিটি বাজিয়ে পিছন থেকে বলে উঠলো,,,
_ hey নুবা,,, সত্যি ডান্স করবি,,
নুবা কাঁদো কাঁদো চোখে পিছন ফিরে তাকালো,,,আরশি হাত তালি দিয়ে নুবাকে উৎসাহ দিলো,,,
আলাপের ভিতরে গান প্রথম থেকে শুরু হলো

_Chunari Chunari…
Teri Chunari Lipat Lipat
Ke Paagal Mujhe Banaye
Pehle Se Hi Tadap Raha
Tha Aur Mujhe Tadpaye
Jaane Tamanna Kar Na Aise Sitam
Kuchh Na Main Bolun Tujhe meri Qasam
Aayi Jawaani Sar Pe Mere
Tere Pe Kya Karun Jawaani Pe Reham
Haye
Aaja Na Chhule Meri
Chunari Sanam
Kuchh Na Main Bolun
Tujhe Meri Qasam

নুবা সবার দিকে তাকিয়ে জোরপূর্বক হাসলো,,এতো মানুষ এখন না নাচলে মান ইজ্জত সব ফুস হয়ে যাবে,,,তার উপর তৌসিফ ও বেশ অপমান বোধ করবে,,,
পরপর নুবা বাধ্য হয়ে তালে তাল মিলালো,,,মনে হচ্ছে তৌসিফ ডান্স স্টেপ মুখস্থ করে এসেছে,,নুবাও কম যায় নাকি,,,একটু চিন্তা মুখ হয়ে ডান্স চলমান করলো,,সবাই হৈ হুল্লোড় করে উঠলো,,,সব থেকে বেশি আরশি যেনো খুশি হলো,,,
এদিকে ইশিতা নুবার ডান্স দেখে নিচে দাঁড়িয়ে নিজেও নাচা শুরু করলো,,আরফ দাঁতে দাঁত চেপে তাকিয়ে আছে,,বুঝতে পারছে না এই ছেলে কে,,আর কেনোই না নুবার সাথে,,,,আরফ শুধু বিরবির করে বললো
_১২ ভাতারি,,,
তৌসিফ খুবি ভদ্রতার সাথে ডান্স করছে,, একদম দূরে দূরে যাতে অন্ততপক্ষে নুবা comfortable ফিল করে,,
পরি চুপচাপ ছাদের এক কোনায় দাঁড়িয়ে অসহায় চোখে নুবার দিকে তাকিয়ে আছে,,,আর ভাবছে এই ছেলে কে,,,আর আরহামি বা কোথায়,,,
নুবার ডানা কাটতে আর তাকে শায়েস্তা করতে যেনো আরহাম চলে আসলো ঠিক শেষ মূহুর্তে,,,এতো সময় সে নুবাকে সব জায়গায় খুঁজে এসেছে কারণ তার মতে অন্ততপক্ষে তাকে না বলে রেডি হয়ে অনুষ্ঠানে তো চলে যাবে না নুবা,,,

কিছু আশ্চর্য জনক ভাবে ছাদে পা রাখতেই তার ভুল ধারনা টুকু দূর হয়ে গেলো যখন নজরে পড়লো তার নুবু তাকে ফাঁকি দিয়ে অন্য কারো সাথে উড়ছে,,,
নুবাকে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে এভাবে ঢলাঢলি করতে দেখে আর তার হাসতে থাকা মুখ পরখ করে আরহামের বুকের ভেতর দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠল। চোয়াল শক্ত হয়ে গেল, মুঠোবদ্ধ হাতের শিরাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠল রাগে। চোখের দৃষ্টিতে জমে উঠল দহন, যেন এক মুহূর্তেই সবকিছু ভস্ম করে দিতে পারে। বুকের ভেতর ঈর্ষা, ক্ষোভ আর অধিকারবোধ একসঙ্গে তাণ্ডব শুরু করল। নিজেকে শান্ত রাখার শেষ চেষ্টাটুকুও যেন মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল,,,
আজ নুবা শেষ,,,ওকে মেরেই ফেলবে এতো বলার পড়েও এই মেয়েটা তার কথা serious নেয়নি কত বড় সাহস তাকে মিথ্যা বলে এখানে এসে শাড়ি পড়ে অন্য কারো সাথে রঙ্গ ঢঙ্গ হচ্ছে,
নুবা ডান্স করতে করতে হঠাৎ থমকে গেলো,,,হাত পা চলছে ঠিকি কিন্তু চোখ আর মন অন্য দিকে চলে গেলো,, আরহাম আসছে এদিকেই আসছে,,,নুবার ভয়ে শরীর জমে গেলো এখনি আসরা ছিলো,,,
পরপর গান শেষ হলো,,,নুবা স্থির হয়ে দাড়ালো তবে মাথা ঘুরে উঠলো তার,, ডান্স শেষ হতেই সবাই হাত তালি দিয়ে উঠলো,,নুবা যেনো হাঁপাতেও ভুলে গেলো,,,
সবার সাথে সাথে আরহামো হাত তালি দিলো,,,সবাই হৈ হুল্লোড় করে আর একটা গানে ডান্স করতে অনুরোধ করলো,,,নুবা শাড়ি দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে নেমে আসতে চাইলো তবে তৌসিফ হাত ধরে ফেললো,,,আর বললো

_ আর একটা please,,খুব মজা হলো,,
নুবা শুধু বড়বড় চোখ করে আরহামের দিকে তাকিয়ে রইলো,,,যে কিনা ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে নুবার হাতের দিকে তাকিয়ে আছে যেই হাতটা তৌসিফ ধরে আছে,,নুবা শুকনো ঢোক গিলে কোনো মতে হাত ছাড়িয়ে নিলো,,,
তবে তখনি আর একটা গান বেজে উঠলো ,,Aaj ki Raat maja __কোন বেয়াদব জেনো গানটা ছেড়ে দিলো,,,নুবার গানটার কথা ভেবে কান গড়ম হয়ে গেলো,,, তাড়াতাড়ি করে স্টেজ থেকে নামতে লাগলো,,,তখনি খেয়াল করলো আরহাম এদিকেই আসছে,,,তবে আসতে আসতে ব্রেক করলো সে,,,সামনের চেয়ারে পরি বসে ছিলো,,পরির মা বাবা কে দাওয়া দেওয়া হয়েছিলো তবে তারা আসেনি,,, তাদের পিছনে যদি কোনো মানুষ বাঁধিয়ে দেয় নাবিল সেই ভয়ে,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৯

নুবা স্টেজ থেকে নামছিলো তবে তখনি তার পা থমকে গেলো যখন আরহাম পরিকে নিয়ে স্টেজের দিকে আসতে লাগলো,, এদিকে পরি হতভম্ব,,সে তো শুধু দেখতে চাইছিলো নুবার সাথে এখন কি হবে তবে হঠাৎ তাকে এই সবের ভিতরে আনায় চমকে উঠলো সে,,,
নুবা চোখ বড়বড় করে দেখতে চাইছিলো আরহাম কি করতে চাইছে তবে তার আগেই নুবার হাতে টান পড়লো,,, তৌসিফ টেনে নিয়ে_

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here