Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৫

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৫

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৫
সুরাইয়া জিয়াসমিন

আরহাম নুবার হাতের উপর হাত রাখলো পরপর গুলি চালাতে যা যা করনীয় সব আস্তে আস্তে নুবাকে বুঝিয়ে দিতে লাগলো,, এদিকে নাবিল হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,যেনো এখানে সে মিয়া বিবির খুচুরপুচুর দেখতে এসেছে,, তাকে দামি দিচ্ছে না,,,
আরহাম নুবার গালে গাল ঠেকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো,,
_ সুট করার সময় একদমি ঘাবড়ে যাবেন না,,, দৃষ্টি লক্ষের দিখে রাখবে then,,,,
শব্দ টুকু উচ্চারণ করেই আরহামে নুবার আঙ্গুল গুলো চেপে ধরলো সাথে সাথে নাবিলের পাশ ছুঁয়ে সামনের কাঁচে যেএ গুলা লাগলো,,নুবা ভয়ে ফাল দিয়ে উঠলো,,পিলে চম্কে উঠে নাবিলের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকালো,,, নাবিলের চোখের পলকো পড়লো না কারণ সে অভ্যস্ত,,ভয় পাওয়ার মতো মানুষ সে না ,,,
আরহাম নাবিলের শক্ত মুখের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,
_ তোর আর আমার ভিতরে এক দন্ড মিল কি জানিস,, তুইও নারী পাগল আমিও,,, কিন্তু পার্থক্য এখানেই আমি তাদের ইচ্ছায় কাছে আসি আর তুই,,,,

বাকি কথা শেষ হলো না নাবিল সুট করলো,,, আরহাম পরিস্থিতি বুঝতে পেরে নুবাকে চেপে ধরে ঝুঁকে পড়লো,,,নুবা আবারো প্রচন্ড ভয় পেলো,,বিকট শব্দে তার কলিজা কেঁপে উঠলো,,তবে আরহাম শব্দ করে হেসে উঠলো,,,, এদিকে আরহামের হাসির শব্দে নাবিল তেতে উঠলো ,,ঘটনাটা এতোটাই তাড়াতাড়ি ঘটলো যে কে কাকে মারতে চাইছে কিছুই বোঝা গেলো না তবে ভয়ে নুবা আরহামের সাথে চেপে দাঁড়িয়ে রইলো,,,,,, নাবিল হুংকার ছেড়ে বললো
_ আমার উপরে গুলি চালাস,,আজ সব সাহস ঘুচাইয়া দিমু,,,
নবিলের দ্বিতীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই আরহাম গর্জে উঠে বললো,,
_ তোর কলিজায় দম থাকলে তুই পারলে কাগজ গুলো আমাকে দিয়ে সিগনেচার করাস,,,দেখবো কার ক্ষমতা কত বেশি,,,কার কত সাহস আর কে কাকে ভয় পায়,,,

নুবার দুই হাত কাঁপছে,,, আজকে একটুর জন্য তারা বেঁচে গেলো,,পিছনে ঘুরে আরহাম যদি না থাকতো তবে কি হতো,,,এতো সময় তাদের জানাজা হয়ে যেতো,,,নুবাকে এরকম ভীতু হতে দেখে আরহাম নুবাকে টেনে কোলে বসিয়ে নিলো,,দুই আঙ্গুল দিয়ে তার ফুলো গাল দুটু চেপে ধরে বললো,,
_ কত সাহস করে স্বামীকে রক্ষা করতে হাতে অস্ত্র তুলে নিলে তবে এখন এমন ভীত হচ্ছো কেন,,,
নুবা ছোটো ছোটো চোখ করে আরহামের দিকে তাকালো পরপর কম্পিত দুই হাত দিয়ে তার চুল টেনে ধরলো,, দাঁতে দাঁত চেপে হাঁসফাঁস করে বললো,,
_ আপনি তখন কেনো আমার হাত চেপে ধরলেন,,যদি ওই লোকটার গায়ে লেগে যেতো,,কি হতো,,,আর,,আর আমাদের যদি গুলি লাগতো,,
আরহাম নুবার চলতে থাকা হাত ধরে হাসতে লাগলো,,বুঝতে পারলো বউ তো তার বেশ ভয় পেয়েছে,,,আরহামকে হাসতে দেখে নুবা আরো রেগে গেলো,,, চেঁচিয়ে উঠে বললো,,
_ আমাকে দিয়ে মানুষ খুন করিয়ে আমাকে জেলে পাঠানোর ধান্দা করছিলেন,,, অসভ্য লোক,,,আমরা যদি মরে যেতাম,,

আরহাম নুবার দুই হাত ছাড়িয়ে নিয়ে আদুরে কন্ঠে বললো,,
_ এভাবে কেউ মারে, ,,ব্যাথা লাগে তো my sweet honey,,,এই নরম হাত গুলো মারার জন্য নয় ,,আদর করার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত,,, স্বামীকে আগলে নেওয়ার বলদে চুল ছিরাছিরি করছো,,,
নুবা চুল ছেঁড়ে দিয়ে দুই হাত দিয়ে আরহামের গাল চেপে ধরে বললো,,
_ তো কি করবো,, পূজা করবো,,, আমি কতটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম,,, উফ্,,ভাবলেই হাত পা কাঁপছে,,আজ যদি মরে যেতাম,,,
আরহাম নুবার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বিরবির করে বললো,,
_একদিন সবাইকে মরতে হবে hony ,,এতো ভয় পাওয়ার কি আছে,,,
_ সরুন তো,,আমি জীবনে দেখলাম টা কি,,এখনো আমার একটা ভালো মতো সংসার হলো না,, স্বামীর আদর ভালো মতো খেতে পারলাম না,,, বাচ্চাও দুনিয়াতে আনলাম না,জামাইয়ের ইয়ে টাও দেখলাম না,,,তার উপর আমরা তো s**,,,,, ও কিরিনিইইইই,,,
লাস্ট লাইন গুলো বলে নুবা নিজেই হতবাক হয়ে গেলো সাথে সাথে দুই হাত দিয়ে নিদের মুখ চেপে ধরে আদো আদো চোখে আরহামের দিকে তাকালো,,ভয়ের চোটে মুখ ফসকে কথা গুলো বের হয়ে গেছে,,,নুবার ভয় শেষ হলো তবে বেশ লজ্জা পেলো সে চোখের পলক ফেলে নাক মুখ কুঁচকে মাথা ঝুঁকিয়ে না বুঝালো,, অর্থাৎ সে এগুলো বলতে চায়নি,,,

আরহাম ঠোঁট চেপে হাসতে লাগলো,,,আরহামকে হাসতে দেখে নুবা আরো লজ্জা পেয়ে গেলো,,,আরহামের বুকে মৃদু থাপ্পর দিয়ে বুকে মুখ লুকালো,,,, আরহাম শব্দ করে হেসে বললো,,
_ মনে মনে এই ছিলো আপনার,,, তাহলে কি আমার থেকে আপনিই বেশি excited,,,হুম,,,
নুবা লজ্জায় নুইয়ে গেলো,,আরহামের শার্ট খামচে ধরে বললো,,
_ না মানে,,মুখ ফসকে গেছে,,আমি সত্যি বলছি ,আমি এমন না,,
আরহাম হু হু করে হেসে উঠলো,,,নুবা আরহামের গলা জরিয়ে ধরে লাল সবুজ হয়ে গেলো,,, আরহাম নুবার কান্ড দেখে আরো হাসতে লাগলো,, হয়তোবা সে এরকম মন খুলে কখনোই হাসেনি তবে এই মেয়েটা তার জীবনে আসার পর থেকে তার মুখ থেকে মুচকি হাসি কখনোই সরেনি,,
নুবা আরহামের হাসি শুনে আরো লজ্জা পেতে লাগলো,,মনে হলো তার বুক ভেদ করে ভিতরে ঢুকে যাবে,,,নুবা সময় নিয়ে বিরবির করে বললো,,
_ হাসছেন কেন,, সত্যিই তো বলেছি,,,
_ হ্যাঁ হ্যাঁ আমাকে দেখার অনেক সখ তোমার,,, তুমি চাইলে এখনি সব দেখে নিতে পারো এতো সখ,,,
নুবা আরহামের গলা খামচে ধরে বললো,,
_ চুপ করবেন আপনি,,,

আরহাম নুবার অস্থিরতা বুঝতে পেরে নিজের হাসি থামিয়ে নিলো,,,,আরহামকে থামতে দেখে নুবাও স্বস্তি পেলো,,, কিছু সময় নিরবতা কাটলো,,,নুবা একটু স্বাভাবিক হতেই মলিন কন্ঠে বললো,,
_ আমি সত্যিই ভয় পেয়ে গেছিলাম
আরহাম নুবাকে টেনে মুখ বরাবর করলো,,,নুবা মাথা নিচু করে নিলো,,, আরহাম মুচকি হেসে নুবার এক গাল হাত রেখে মৃদু কন্ঠে বললো
_like seriously,,,এই আমি ব্যতিত আপনি আর কাউকে ভয় পাবেন না,, কারণ আপনার স্বামী ব্যতিত কারো সাহস নেই আপনাকে ভয় দেখানোর,, কাউকে ভয় পাবেন না,,, একজন কঠিন নারী হবেন,,যাতে কেউ আঘাত করার আগে ১০০ বার ভাবে,,আমি চাই আমার নুবু স্ট্রং হোক,, নাকি এরকম লেতুর থাকুক,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে নিলো,,আরহামের গাল খামচে ধরে বললো,,
_ আমাকে লেতুর বললেন,, আজকে আমার কারনেই প্রানে বেঁচে গেলেন হুম,,
আরহাম নুবার হাতের তালুতে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো,,
_ তাই নাকি,,এর জন্য ধন্যবাদ,,আপনি না আসলে তো আমাকে মেরেই ফেলতো,, ইস্ কি সাহসী বউ আমার,,,

নুবার নিজের প্রতি গর্ব হলো, আরহাম নুবার মুখ জ্বলজ্বল করতে দেখে আদুরে কন্ঠে বললো
_ আমার কাছে আমার স্ত্রী দুনিয়ার সব থেকে নরম মাটির তৈরি হোক,, যাকে ছুঁয়ে দিলেই মোমের মতো গলে যাবে,,,ফিরে তাকালে লজ্জায় রাঙ্গা হয়ে বুকে মুখ লুকাবে,,তবে আমি ব্যতিত সবার কাছে আপনি কঠোর হন,, কারণ এই দুনিয়ায় নরম মানুষের দাম নেই,,,আমি চাই আমি না থাকলেও যাতে আপনি একজন আদর্শ মা এবার কঠিন নারী হয়ে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেন,,,,
আরহামের কথা গুলো নুবার ভালো লাগলো,,আসলেই তার কথা গুলো একটাও মিথ্যা না,,প্রতিটা শব্দে সত্যতা আছে,,নুবা নুইয়ে পড়লো,,আলতো করে আরহামের গলা জরিয়ে ধরে মৃদু কন্ঠে বললো,,
_ আপনি থাকতে আমার কিসের ভয়,,,তবে আপনি কি আমাকে ছেড়ে যাওয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন হুম,,, তবে কিন্তু আমি আপনাকে একদম মেরেই ফেলবো,,,আপনি সারা জীবন আমার পাশে থাকবে,,, ঠিক আছে,,,
আরহাম নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে পিঠে হাত বুলিয়ে বললো,,
_ ইনশাআল্লাহ,,, আল্লাহ আমাকে সেই ক্ষমতা প্রধান করুক যাতে আমি শেষ পর্যন্ত আপনার সাথে থাকতে পারি,,,
আরহাম পরপর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,নাবিল হুমকি দিয়ে গেছে,,,,,তার চোখের ভাষা কিছুটাও হলেও আরহাম ধরতে পেরেছে,,,আরহামের দূর্বল জায়গায় আঘাত করবে নাবিল খুব শীঘ্রই,,,নাবিলকে সে খুঁটে খুঁটে দেখেছে,,,তার প্রতিটা শব্দ দক্ষ অপরাধীর মতো ছিলো,,,আসলেই দক্ষ ভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে খুনি হয়েছে,,,

নাবিল অনবরত সিগারেটে টান দিচ্ছে,,,রাগে তার শরীর ফেটে যাচ্ছে,,,,বারবার মাঠের এদিক থেকে ওদিকে ঘুর ঘুর করছে,,,সামনেই দাঁড়িয়ে আছে নাবিলের চেলা পেলারা,,তারা একটু ভয়ে আছে,,,কখন কাকে মেরে দেয়,,,
নাবিল রাগে পাশে রাখা গাড়িতে আঘাত করলো,,, হুংকার ছেড়ে বললো,,
_ আমারে,, আমারে আমার পরিচয় নিয়ে কথা বলে,,, আমার দিকে বন্ধুক ত্যাগ করে,,আমারে চ্যালেঞ্জ করে,,,সব কয়টারে দেইখা নিমু,,, আমার পায়ে পড়বে আইয়া সেই ব্যবস্থা করমু,,,, মির্জা সাহেবকে দেখাইমু এই নাবিলের কি পরিচয়,,,, আমারে অবজ্ঞা করে,,,
সাগর পাশ থেকে বলে উঠলো,,,
_ ওরে ছাইরা কেমনে আইলেন ভাই,,মাইরা থুইয়া আইতে পারেন নাই,,,
নাবিল দাঁতে দাঁত চেপে সুধালো,,
_ শালা আমারে ভয় পায় না,,শালায় উল্টা আমারে ভয় দেখায়,,,সাথে আছিলো ওর মাগিডা কি তেজ,,আমার দিকে গুলি চালায়,,,
কথা টুকু ভেবে নাবিল থেকে গেলো,,পরির কথা মনে পড়লো তার,,,তারো একটা বউ আছে তবে আফসোস আরহামের বউ তো স্বামীকে রক্ষা করেছে আর পরি হলে উল্টো নাবিলকে মারার জন্য অস্ত্র এগিয়ে দিবে,, ইস্ এই জন্য বলে সবাই সব কিছু পায় না,,,

_ আমার পাকা বুড়িটা,,, আমার নানু ভাই,,,কলিজা,,,
বলতে বলতে হাজেরা বেগম আয়রার দুই পায়ের তলায় ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো,,,আয়রা খিলখিল করে হেসে উঠলো,,,হাজেরা আয়রাকে বুকে জরিয়ে নিলো,,সে কানোই অস্বীকার করতে পারবে না এটা তার মেয়ের সন্তান,, হয়তোবা জন্ম দেয়নি তবে তার মেয়ের কলিজা এই আয়রা,,, বাচ্চাটাকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে কতোই না কেঁদেছিলো,,,আর আজ তারি মা হয়ে বসেছে,,হাজেরা আর আয়রার আলাপের ভিতরে নুবা রুমে প্রবেশ করলো,,,তার মাকে এভাবে আয়রার সাথে মিশে যেতে দেখে আপনা আপনি তার চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো,,, এগিয়ে যেএ মৃদু কন্ঠে বললো
_ খাবার বেড়েছি মা,,,,রাতের খাবার টা না হয় খেয়েই ওর সাথে আলাপ করো,,,
হাজেরা আয়রাকে কোলে নিয়ে বললো
_ তুই যা আমি আসছি,,
নুবা মুচকি হাসলো,,, ডাইনিং টেবিলে যেএ সবার পাতে খাবার তুলে দিলো,, এদিকে আরফ কেমন চেন্জ হয়ে গেছে হয়তোবা বউ এর প্যারায় তবে আশ্চর্য জনক ব্যপার হলো নুবার সুখ দেখে আরাফের ভিতর কেমন ফেটে যাচ্ছে,,, হিংসে হচ্ছে হয়তোবা,,,তার পায়ের ধূলোর যোগ্য না বলা মেয়েটা তাদেরি বাড়ির বড় বউ হয়ে সুখে সংসার করছে,,এটা সহ্য হচ্ছে না তার,,,
নুবা আরহামের পাতে খাবার তুলে দিয়ে বললো,,

_ঝাল ,,ঝাল ডিমের কোরমা,,,খেএ দেখেন তো কেমন হয়েছে,,,
_ তুমি রান্না করলে ভালোই হবে,,
নুবা মৃদু হেসে ফিসফিস করে বললো
_ আপনার শাশুড়ি রান্না করেছে,,
আরহামের মৃদু কাশি উঠে গেলো,,,নুবার দিকে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে বললো,,
_ আগে তোমার মাকে জিজ্ঞেস করে আসো তরকারির সাথে আবার বিষ দিয়েছে কিনা,,,, ভাগ্যিস এখনো খাওয়া শুরু করিনি,,,
নুবা আরহামের কথায় মুখ কালো করে নিলো,,, দাঁতে দাঁত পিষে কিছু বলতেই যাবে তখনি হাজেরা পিছন থেকে বলে উঠলো,,,

_ শাশুড়ির হাতের বিষো মধুর মতো লাগবে খেএ দেখো,,,
আরহাম ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হাজেরার দিকে তাকিয়ে বললো,,
_ আগে আপনি নিজে একটু খান আম্মা,,ভরা যৌবনে আমার মারার সখ নেই,,এখনো বাসর টাও করতে পারলাম না তার আগে মরে গেলে আত্মাও শান্তি,,,,
নুবা গ্লাস দিয়ে আলতো করে আরহামের মাথায় বারি মেরে দিলো,, আরহাম হতভম্ব হয়ে গেলো,,,,নুবা দাঁতে দাঁত পিষে বললো,,,
_ আর একটা কথা বললে মগ দিয়ে মুখের বারি লাগিয়ে দিবো,,,,
হারুন মির্জা এতো সময় চুপ ছিলেন তবে আরহামের মতো মানুষকে বউ এর হাতে মার খেতে দেখে ঠোঁট টিপে হেসে বললেন,,
_ এভাবেই চলাতে থাক নুবা,,দেখবি একদিন তোর হাতেই নতুন ভাবে ভদ্র হওয়ার শিক্ষা গ্ৰহন করবে,,
সবাই মিটমিট করে হাসলো,,আরাফ টের পেলো শুধু সে না তার ভাইও বউ এর হাতে কেলানি খায়,,কি দিনকাল চলে আসলো,,নিজ ইচ্ছায় বিয়ে করে জেনে নিজেরাই ফেঁসে গেলো,,,
আরহাম নুবার দিকে ছোটো ছোটো চোখে তাকিয়ে বললো

_ দিন দিন হাত লম্বা হয়ে যাচ্ছে,,রুমে চলো,,,বুঝাবো আমি কি জিনিস,,,
হাজেরা আরহামের পাশে বসে প্লেটে খাবার তুলে নিয়ে বললো,,
_ কি বুঝাবে তুমি,,, তোমার মতো অভদ্রের জন্য আমার মেয়েই ঠিক আছে,,দু একটা না খেলে সোজা হয়ে না তুমি,,এক বাচ্চার বাপ হয়েছো তবু লাজ লজ্জা কিছুই হলো না,,,,
আরহাম হাজেরার কথায় রাগ করার বদলে এক চিলতি হেসে বললো
_ তার মানে মানছেন নুবা আমার জন্যই তৈরি,,যাক স্বীকার করলেন তবে,,আজ আমি ধন্য আপনার স্বীকারোক্তি শুনে,,,
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,, হারুন মির্জা মৃদু কন্ঠে বললো
_ কথা কম বলো আরহাম,,,খেতে বসেছো ভুলে যেও না,,,
নুবা আরহামের পাশে বসলো তবে আরহাম শান্তি দিলো কই,,বাম হাত এখানে ওখানে নিক্ষেপ করতে লাগলো,,নুবা শুধু চেপে ধরে রইলো আরহামের শক্তপোক্ত হাতটাকে,,,,

নুবা আয়রাকে ফিড করাচ্ছিলো,সাথে মেয়েটার হাত পায়ে,হাত বুলাচ্ছিলো সাথে বিরবির করে মেয়ের সাথে আলাপ করছিলো,,,
এমন সময় আরহাম হট ব্যাগ এনে নুবার সামনে রাখলো,,নুবা মাথা উঁচু করে আরহামের দিকে তাকিয়ে চাঁপা কন্ঠে বললো
_ কালকে না বল্লাম আমার এগুলো লাগে না,,,
আরহাম এগিয়ে এসে বিছানায় উঠে নুবার পেটে গড়ম পানির ব্যাগ চেপে ধরে বললো
_ ভালো ফিল হবে,,,,
নুবা হাত দিয়ে ঠেলে আরহামকে সরিয়ে দিয়ে বললো
_ আরে বাবা বল্লাম তো আমার এই সব লাগে না,, আমার পেইন হয় না,,যে এগুলো দিয়ে বসে থাকবো,
_ আচ্ছা দিয়ে রাখতে সমস্যা কি,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ আমার প্রয়জন পড়ছে না আমি কেন দিবো,,, আমার প্রথম দুই দিন একটু তলপেটে ব্যাথা হয় তবে এগুলো দিতে হয় না,,, শুধু শুধু কেন এই সব দিবো,,,
আরহাম ব্যাগটা সরিয়ে নিয়ে বললো

_ আচ্ছা মেডিসিনো নেও না তুমি,,,
নুবা অদ্ভুত কন্ঠে বললো
_ কালকেই তো বললাম “না”,,,
আরহাম এগিয়ে এসে নুবার সমনে বসে মাথা নিচু করে ফিসফিস করে বললো,,
_ কয়দিন চলছে,,,,?
নুবা বুঝতে পারলো কেনো এতো ভনিতা,,সে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে সুধালো,,,
_ এটা সোজাসুজি জিজ্ঞেস করলেই তো হয়,,এতো ভনিতা করার কি দরকার,,,
_ বলো না,,,,
নুবা আঙ্গুল উঁচু করে দেখালো,,,”৪ দিন”
আরহাম আয়রার পাশে শুয়ে বিরবির করে বললো,,,
_ ও,,তাহলে এখনো ৩ দিন ,,তবে ৩ টা দিন ৩ বছরের মতো লাগবে,,,
নুবা কপাল চাপড়ে বিরবির করে বললো,,
_ আপনার mind টা ভালো করুন,,, সবসময় মাথায় এই সব ঘুরে,,,

পরি নিস্তব্ধ হয়ে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে আছে,,,
বুকটা চিনচিন করছে,,,শরীরের কাঁচা ক্ষতো তার যা এখনো টকবক করছে তবু নিস্তার নেই,,,
পরির চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে,, থাপ্পর টা মারার পর তাকে প্রচন্ড খারাপ ভাবে আঘাত করেছিলো নাবিল,,,একটা থাপ্পর মেরে সে শ খানিক থাপ্পর খেয়েছে,,সাথে তার অর্ধেক চুল যেনো সেদিন নাবিলি টেনে ছিরেছে,,এতো কিছুর পর কবুল না বলায়,,
ছোটো বোনের গলা চেপে ধরে তার মুখ দিয়ে কবুল বলানো হয়েছে,,,, রেজিস্ট্রি পেপারে সাইন না করায় নিজ বাপের গড়িয়ে পড়া উষ্ণ রক্ত দিয়ে রেজিস্ট্রি পেপারে পরির আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হয়েছে,, সাক্ষী রাখা হয়েছে,,তাকে টেনে হিচরে খান বাড়িতে এনে ফেলা হয়েছে,,,তবে আফসোস এই জঘন্য বিয়েটা পরি কিছুতেই মানে না,,,

রাত ১ টা নাগাত,,,খুব খারাপ ভাবে পরির উপর শারীরিক অত্যাচার চলছে,,,পরি নিঃশ্বাস বন্ধ করে মরে যাওয়ার চেষ্টা করছে,,তবে আফসোস এতো তাড়াতাড়ি মরন তার কপালে নেই,,,
নাবিল নিজেও বেশ ক্লান্ত হয়ে গেলো,,,আসলে তার রাগে মাথা ফাটছে,,আরসামের ব্যপারটা সে মেনে নিতে পারছে না,,,এই বিষয় নিয়েই তার যতো তেজ সব পরির নিস্তেজ দেহে ফলাচ্ছে,,
নাবিল পাশে ধুপ করে শুয়ে পড়লো পরপর পরির দিকে তাকিয়ে ভুরু কুঁচকে নিলো,,মরার মতো পরে আছে,,,না কোনো রকম অনুভুতি না কোনো রেসপন্স,,,নাবিল বিরক্ত হলো,,,পরির খতো গাল দুটো চেপে ধরে হাঁসফাঁস করে বললো,,
_ মরে গেছোস,,হো,,,মাগি জামাই হই তোর আদর সোহাগ দিয়ে ভরাই দিবা কিনা মরার মতো পইড়া আছোস,,,
পরি গত দুই দিন ধরে এই বাড়িতে এসেছে তবে এখন পর্যন্ত বিছানা থেকে উঠার সাহস পায়নি,,,না মনোবল আছে না শক্তি,,, অবশ্য বাড়ির কাজের লোক এসে পরিকে খাবার খায়ানোর চেষ্টা করেছিলো তবে সে কিছুই মুখে তুলেনি,,, শুধু পানির পরে এই দুই দিন টিকে আছে,,,, হয়তোবা এরকম চললে আর বেশি দিন টিকবে না,,

ব্যতিক্রম কিছু হয়নি,,, কালকের মতো আজো সকাল সকাল বউ বাচ্চা নিয়ে অফিসে হাজির হয়েছে আরহাম,,,নুবারো কোনো আপত্তি নেই,,,
আসল কথা হচ্ছে আরহাম অফিসে আছে সবার থেকে আলাদা হয়েছে নুবার সাথে romance করতে একদমি কাজ করতে না,,,
যেমন ভাবনা তেমন কাজ,,নুবাকে টেবিলের উপর বসিয়ে রেখে আরহাম চেয়ারে বসে আলাপ করছে,,,দুই জন কথায় ব্যস্ত,, এদিকে আয়রা ঘুমাচ্ছে,,,,
তাদের কথাপোকথনের ভিতরে বাইরে থেকে কেউ নক করলো,,, আরহাম পিছন ফিরে তাকিয়ে বললো
_ coming,,
একটা মেয়ে হাতে কিছু ফাইল নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো,,তবে ভিতরের পরিবেশ দেখে সে নিজেও বিব্রত হলো,,,,তার Boss যে বউ নিয়ে ব্যস্ত তার তো আর জানা ছিলো না,,,,
মেয়েটা মাথা নিচু করে এগিয়ে এসে টেবিলে অর্থাৎ নুবার পাশে কিছু ফাইল রেখে মৃদু কন্ঠে বললো
_ বড় sir পাঠিয়েছে,,,সব চেক করে সিগনেচার করে দিতে বলেছে,,,
মেয়েটা ভদ্রতার সাথে কথা গুলো বলে আরহামের দিকে তাকালো,,,,আরহাম হাত লাম্বা করে ফাইল গুলো নিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো,,

_ আমি সিগনেচার করে পাঠিয়ে দিবো,,,You can go.
_ yes sir,,
বলেই মেয়েটা ধীরো পায়ে সরে গেলো,,নুবা পিছন ফিরে তাকিয়ে নাক মুখ কুঁচকে নিলো,,,ছি কিরকম ড্রেস পড়েছে,,,তার উপর ওরনা নেয়নি,, western dress পড়ে,,,
নুবা আরহামের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো,,
_ আচ্ছা একটা কথা বলি,,,
আরহাম এগিয়ে এসে ফাইলে চোখ বুলাতে বুলাতে বললো
_ বলো,,
নুবা আরহামের মাথার চুল আলতো করে ধরে মৃদু কন্ঠে বললো,,
_ মেয়েটা কি কালার ড্রেস পড়া ছিলো,,,
আরহাম ঠোঁট চেপে বিরবির করে বললো,,
_ black ,,,
নুবার মাথার বাতি জ্বলে গেলো,,, কারণ মেয়েটা নোট কালারের একটা ড্রেস পড়া ছিলো,,,নুবা একটু খুশি হয়ে বললো,,

_ কিরকম ড্রেস পড়া ছিলো,,
_ থ্রিপিস,,,
নুবা চোখ ছোটো ছোটো করে তাকালো,,,পরপর কিছু মনে হতেই সে খিলখিল করে হেসে উঠলো,,,আরহামের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,,
_ good,,,তবে আমার বর্ননা দেওয়ার কি দরকার ছিলো,,অতী ভক্তি চোরের লক্ষন,,,
আসলে নুবা black কালার+ থ্রিপিস পড়েছে,, আরহাম নুবারি বর্ননা দিচ্ছিলো,,,
আরহামের কথায় নুবা বেশ সন্তুষ্ট হলো,,,দুই হাত দিয়ে আরহামের গাল টেনে বললো,,
_ আয়রার পাপা বেশ বুদ্ধিমান,,,
_ বুদ্ধিমান না হলে আপনাকে পেতাম,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ আচ্ছা এদের বলতে পারেন না,,তারা যাতে শালীনতা বজায় অফিসে আছে,,, বলুন,,, কেমন দেখা যায়,, এদের জন্য অন্যের সংসারে আগুন লাগে,,
আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ কালকেই ঘোষণা করে দিবো যাতে সবাই শালীনতা বজায় অফিসে আছে ঠিক আছে মহারানি,,,
নুবা খুশি হয়ে মাথা ঝুকালো,,,, আরহাম ফাইল বন্ধ করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,

পরি বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছে,,,তার অবস্থা অনেকটা খারাপ,,, সৌন্দর্য যেনো ঝড়ে পড়ছে,,কি একটা করুন অবস্থা হয়েছে তার,,,দুপুরের খাবার নিয়ে নজমা বেগম নিজে আসলো,,,
রুমে প্রবেশ করতেই দেখলো মরার মতো বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছে,,,যেনো একটা টোকা দিলেই নুইয়ে পড়বে,,,
নাজমা বেগম এগিয়ে যেএ পরির সামনে বসে মৃদু কন্ঠে বললো,,
_ আর কতদিন না খেএ থাকবে,,,এখানে আসার পর থেকে মুখে দানা পানি তুলোনি এভাবে কি চলে,,
পরি উত্তর দিলো না শুধু চেয়ে রইলো,,,নজমা বেগম খাবারের প্লেট এগিয়ে দিয়ে বললো
_ খেএ নেও,,,এই সব থেকে মরেও মুক্তি পাবে না,,তাই নিজের জানকে কষ্ট দিও না,,,
পরির চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,নাজমা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো,,
_ একসময় আমিও তোমার মতো ভেঙ্গে পড়েছিলাম,, ভেবেছিলাম মরে গেলে ভালো হবে তবে আফসোস মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বারবার,,, ভেবেছিলাম এবার মুক্তি পাবো তবে দেখো এখন তোমার সামনে বসে আছি,,,
তাদের কথার ভিতরে বাড়ির ছোটো বউ রুমে প্রবেশ করলো,,,নাম তার ইশা,,,পরির মতো চোখ ধাঁধানো সুন্দরী,,,ইশাও এভাবেই এই বাড়িতে এসেছিলো,,,এখন এক সন্তানের মা,,সব মানিয়ে নিয়েছিলো,,এখনো মানিয়ে চলছে,,,,

ইশা এগিয়ে আসতেই নাজমা বেগম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ বসো,,,,সব কাজ শেষ,,,
ইশা মৃদু কন্ঠে মাথা নিচু করে বললো,,
_ সব কাজ করা শেষ আম্মা,,,খালা কাজ শেষ করে চলে গেছে,,,
_ তোমার শশুর বলেছিলো বুটের হালুয়া খাবে,,করে দিয়ে গেছে,,,
ইশা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ না আম্মা,,,আমি করে দিবোনে,,,
_ না থাক,,,নাহিয়ান আবার তোমাকে কাজ করতে দেখলে রাগারাগী করবে,,, তুমি বরং সিমুকে বলো,ও করে দিবে,,
ইশা মাথা ঝুকালো,,,মাথার ওরনা টেনে চলে যেতে চাইলো নাজমা বেগম পিছন থেকে বলে উঠলেন,,
_ বিকালে বললেই হবে,, তোমার শশুর রাতে বাড়ি ফিরবে,,,
ইশা আবারো ফিরে এসে বললো
_ আচ্ছা,,,
নাজমা বেগম কথা শেষ করে পরির দিকে তাকালেন,,, মৃদু কন্ঠে বললেন
_ খেএ নেও,,,আর যদি মনে হয় এভাবে নিজেকে কষ্ট দিয়ে মুক্তি পাবে তাহলে তুমি নিশ্চয় একটা বলদ ব্যতিত কিছু না,,,
বলেই নজমা বেগম উঠে দাড়িয়ে ইশার দিকে তাকিয়ে বললো,,,
_ এই আহাম্মকে একটু বুঝাও,,যাতে এই অবস্থায় না থাকে,,,আমি গেলাম,, আমার কাজ আছে,,
বলেই নাজমা বেগম চলে গেলো,,,
ইশা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,পরির ক্ষত বিক্ষত শরীর দেখে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,, এগিয়ে যেএ মৃদু কন্ঠে বললো,,

_ খেএ নেন ভাবি,,,এভাবে থাকলে আপনারি ক্ষতি হবে কারো কিছু হবে না,,,
পরি নিরব কিছুই বললো না,,ইশা পরির সামনে বসে তার এক হাঁটুতে হাত রেখে মলিন কন্ঠে বললো ,,
_ অসুস্থ হয়ে থাকবেন কিন্তু ছাড় পাবেন না ভাবি,,এটা এই বাড়ির বউ দের নিয়তি হয়তোবা,,,এই বাড়িতে তিন বউ আমরা,,, আপনার মতো করেই সবাই এই বাড়িতে এসেছে,,,,এমন কি আম্মার সাথেও এমন হয়েছিলো,, এই বাড়ির পুরুষদের এটাই স্বাভাব ,,যে মানিয়ে নিতে পেরেছে সেই সুখী হয়েছে,,,
পরি নিশ্চুপ হয়ে ইশার দিকে তাকালো,,মেয়েটাও তার মতো সুন্দর,,পরি মনে মনে হাসলো ভাঙ্গা কন্ঠে বললো,,
_ তুমিও তো সুন্দর,,তাহলে নিজের ভাসুরের সাথে কয়বার শুয়েছো,,, অমানুষদের তো আবার সুন্দর মেয়ে দেখলে জিভ লালসায় ভরে উঠে,,,
পরির কথায় ইশা স্তব হয়ে গেলো,,,পরি কাউকে সহ্য করতে পারছে না,, সবাইকে তার কাছে বিষের মতো লাগছে,,,ইশা মাথা নিচু করে বললো,,
_ আপনি যা ভাবছেন এমনটা নয় ভাবি,,,এই বাড়িতে আপনাকে যার জন্য আনা হয়েছে সেই তার জন্যই বরাদ্দ থাকবেন আপনি,,,এছাড়া বাকি সবার জন্য আপনি হারাম,,,
পরি ভাঙ্গা কন্ঠে হেসে উঠলো ইশার কথায়,,,তাচ্ছিল্য করে বললো,,
_ আর সৌন্দর্য সব নিংড়ে খেএ ছুরে ফেলে দিবে,,

ইশা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো,, কারণ এটাই সত্যি,,, দ্বিতীয় বারের মতো কারো হাতে পড়তে চায় না ইশা তাই তো সব কষ্টের ভিতরেও নিজের সৌন্দর্য ধরে রাখছে সে,,,
ইশা কিছু সময় চুপ থেকে বললো,,
_ আপনি এই সব নিয়ে বেশি ভাববেন না ভাবি,, কারণ শুধু আপনাকে না আমাকেও উঠিয়ে এনে বিয়ে করা হয়েছিলো,,বাড়ির ছোটো বউ রুমে বন্দি দোষ সে এখনো কিছু মেনে নেয়নি,,আমি চাই না আপনার সাথেও এমন হোক,, সব মেনে নিন,,
পরি কাতর কন্ঠে বললো
_ উঠিয়ে আনা হয়েছিলো তোমাকে,,আর আমাকে ধর্ষণ করে আমার পরিবারকে অর্ধ মৃত করে আমাকে জোর করে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে,,কি করে মেনে নিবো,,, এমন জানোয়ারের সাথে মানিয়ে নিতে বলছো,,,
ইশার চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো,,,ভেজা কন্ঠে বললো,,

_ তাও তো আপনার পরিবার বেঁচে আছে ভাবি,, আমার তো বাবা ছাড়া কেউ ছিলো না,,,গ্ৰামে স্বপ্নের মতো দু বেলা ভাত খেএ জীবন যাপন করতাম,,বাবা সবসময় আমাকে লুকিয়ে রাখতো যাতে কারো নজর না পড়ে,তবে আফসোস একদিন শকুনের নজর পড়েই গেলো,,,বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলো,,বাবা জানতো এরা কেউ ভালো না তাই সরাসরি আমাকে দিতে না করে দিলো,,, আমার চোখের সামনে আমার শেষ আস্তা টুকুকে কুপিয়ে হত্যা করা হলো,,, সেদিন যদি তাদের কথা না শুনতাম তবে আমাকে না মারলেও আপনার মতো কিছু করা হতো,,, শেষে ইজ্জত হারানোর ভয়ে রাজি হয়ে গেলাম,,,বাবার রক্তাক্ত দেহে অতিক্রম করে এই বাড়িতে এসেছিলাম,,এবার বলুন আমার থেকে বেশি খারাপ ভাবে আপনাকে আনা হয়েছে,,,, আমার জন্য আমার বাবা প্রান হারালো,,,,সেই আমি‌ এখন বাবার খুনির সাথে সংসার করছি তার বাচ্চার,,,,,,
বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই ৩থেকে সারছ তিন বছরের একটা মেয়ে বাচ্চা”আম্মু আম্মু” করতে করতে দৌড়ে আসলো,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৪

ইশা মেয়েকে দেখে মুচকি হাসলো,,,নীরা এসেই মায়ের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়লো,,মাথার দুটো ঝুঁকি করা,,দেখতে খুব মিষ্টি,,চোখ দুটো বাপ চাচাদের মতোই ঘোলা,,বিলাই চক্ষু যাকে বলে,,,,
নীরা ড্যাবড্যাব করে পরির দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_ এতা কে আমমু(এটা কে আম্মু)
ইশা উঠে দাড়িয়ে বললো,,
_ তোমার বড় চাচি মা,,
নীরা ছোট্ট করে উচ্চারণ করলো,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here