নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৩০
রূপন্তী সরকার
এরমধ্যেই ঋষভের ফোনে একটা জরুরি কল আসায় ও কথা বলতে বলতে আবার নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। ওদিকে ফুলদানিটা সজোরে এসে হাতে লাগায় শুভ্র বেশ
ভালোই ব্যথা পেয়েছে। ও ব্যথায় হাত চেপে ধরে মুখ কুঁচকে রইলো। তা দেখে জ্যোতি দ্রুত এগিয়ে এসে নিজের লাল শাড়ির আঁচল দিয়ে শুভ্রর হাতটা আলতো করে মুছে দিতে দিতে ফু দিতে লাগলো।
শুভ্র জ্যোতির দিকে তাকিয়ে একটু নরম সুরে বললো, “চলো, ঘরে গিয়ে একটু মলম লাগিয়ে দেবে।”
সবাই যখন শুভ্র আর জ্যোতির এই মিষ্টি কান্ড দেখছে, তখন ইয়াশফা দুই হাত কোমরে দিয়ে রাগী চোখে সবার দিকে তাকালো। তারপর ঠোঁট উল্টে অভিমানী গলায় বললো,
“তোমরা খুব খারাপ! তোমরা আমাকে না জানিয়ে, আমাকে রেখে শুভ্র ভাইয়ের বিয়ে দিয়ে দিলে? আমি এতই পর তোমাদের কাছে? ঠিক আছে, কাউকে লাগবে না আমার! আমার কাছে কিসমিস, বাঘা, ম্যাও আর পিপাই আছে। আমি এবার ওদের চারটার একে অপরের সাথে বিয়ে দেবো, তখন দেখবো কেমন লাগে! তোমাদের কাউকে দাওয়াতও দেবো না,!”
পেছন থেকে রুহি এগিয়ে এসে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, “এরা আবার কারা? কিসমিস, বাঘা এগুলো কি মানুষের নাম? আচ্ছা, প্লিজ রাগ করো না আপু! শুভ্র ভাইয়ার বিয়েটা এক্কেবারে হুট করে হয়ে গেছে। তুমি তো তখন গ্রামে ছিলে, তাই কাউকে জানানোর সুযোগই হয়নি।”
শুভ্র ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে হেসেল ফেলে বললো, “আচ্ছা বাবা, রাগ করতে হবে না। চলো, তোমাকে একদম শুরু থেকে সব ঘটনা খুলে বলছি।”
কথাটা শেষ হতেই কোথা থেকে যেন উড়ে এলো মুগ্ধ! বিয়ের পর থেকে এই বেডার আর কোনো খোঁজখবর পাওয়া যায় না, সারাক্ষণ বউয়ের পেছনেই ঘোরে। ওকে দেখেই অদ্রীতের ফাজলামি শুরু হয়ে গেল। ও মুখ টিপে হেসে মুগ্ধকে খোঁচা মেরে বললো,
“কী রে! তোর বউ কই আজকে? বউ বুঝি আজকে তোকে আঁচলে বেঁধে রাখেনি?”
মুগ্ধ অদ্রীতের দিকে কটমট করে তাকালো। তারপর নিজের পুরুষত্ব জাহির করার জন্য বুক ফুলিয়ে গম্ভীর গলায় বললো, “আঁচলে বেঁধে রাখবে কেন? আমি কি ওকে ভয় পাই নাকি? ও আমাকে ভয় পায়, বুঝলি!”
মুগ্ধর এমন আকাশকুসুম বান্দোয়ান আর ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা দেখে উপস্থিত সবাই হেসেই খুন হলো। কেউ আর ওর কথা বিশ্বাসই করলো না।
এরপর আর কেউ করিডোরে দাঁড়িয়ে রইলো না। ইয়াশফা, মুগ্ধ, শুভ্র, জ্যোতি, রুহি আর অদ্রীত সবাই মিলে একসাথে শুভ্রর ঘরের দিকে পা বাড়ালো। ঘরে গিয়ে সবাই বিছানায় গোল হয়ে বসলো। তারপর একে একে শুভ্র আর জ্যোতির বিয়ের পেছনের আসল ঘটনাটি ইয়াশফাকে খুলে বলতে শুরু করলো।
ইয়াশফা বললো, “তারপর কী হলো? তোমরা কাল রাতে বাসায় আসার পর ঠিক কী কী ঘটেছিল?”
শুভ্র মুচকি হেসে বললো, “শোনো তাহলে কী হয়েছিল…”
কাল রাতের বেলা ঋষভ আমাদের বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে নিজের গাড়ির চাকা ঘোরালো। ও চলে যাওয়ার পর, আমরা সবাই চোরের মতো পা টিপে টিপে ‘রায়ান কুঞ্জে’ ঢুকলো! কিন্তু ড্রয়িংরুমে পা দিতেই সবার আত্মারাম খাঁচা ছাড়া! দেখে রিদ তখনো সোফায় গম্ভীর হয়ে বসে আছে। ওদের দেখেই রিদ উঠে দাঁড়ালো। জ্যোতি একটু ভয় পেয়ে এগিয়ে গিয়ে রিদকে নিচু হয়ে সালাম করলো। রিদ জ্যোতির দিকে তাকিয়ে মুহূর্তেই নরম হয়ে গেলো, মুখে চওড়া হাসি এনে বললো, “মাশাল্লাহ! আমার বড় বউমা তো ভারী মিষ্টি দেখতে!”
শুভ্র রিদকে একটু আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করলো, “কাকাই, পাপারা কোথায়?”
রিদ এবার রাগ দেখিয়ে গম্ভীর গলায় বললো,
“অভ্র এখনো বাড়ি ফেরেনি। আর তোর মা গিয়ে আমার বউয়ের ঘরে ঘুমে কাদা হয়ে আছে। তোর মায়ের সাথে গল্প করবে বলে আমার বউ আমাকে রীতিমতো ঘাড় ধরে রুম থেকে বের করে দিয়েছে!”
রিদের এই করুণ দশা আর রসিকতা শুনে সবার দমফাটা হাসি পেয়ে গেল। হাসাহাসি করার মাঝেই সদর দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলো অভ্র। অভ্রকে আসতে দেখেই রিদ সোফা থেকে চেঁচিয়ে উঠলো, “কী রে অভ্র! এত দেরি করে বাড়ি ফিরলি কেন? তোর এই বড় ছেলেটার কীর্তি দেখ! আর ওদিকে তোর বউ ভয় পেয়ে আমার রুম দখল করে বসে আছে, আমার আজ রাতে বিছানাও জুটলো না!”
অভ্র ক্লান্তি ভুলে অবাক হয়ে জ্যোতির দিকে তাকালো। জ্যোতিও চটপট এগিয়ে গিয়ে অভ্র কে সালাম করলো। অভ্র ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো, “কে এই মেয়ে?”
রিদ বুক ফুলিয়ে জবাব দিল, “তোর বড় ছেলের বউ!”
অভ্র তো আকাশ থেকে পড়লো! তারপর সবাই সংক্ষেপে অভ্রকে রাতের সব ঘটনা খুলে বললো। সব শুনে অভ্রর রাগ তো দূর, উল্টো মুখে চওড়া হাসি ফুটে উঠলো। ও জ্যোতির দিকে তাকিয়ে বললো, “বাহ! আমার মেয়েটা তো ভারী মিষ্টি, লক্ষ্মী একটা মেয়ে। তা নাম কী তোমার মা?”
জ্যোতি মাথা নিচু করে লাজুক সুরে বললো, “নুসরাত জাহান জ্যোতি।”
অভ্র এবার শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বললো, “কী রে রিদ, শুভ্রর মতো একটা আস্ত ছাগলের গলায় যে এত সুন্দর, লক্ষ্মী একটা বউ জুটবে এটা কি আসলেই বিশ্বাস করা যায়? অলৌকিক কাণ্ড!”
বাপের মুখে নিজের এমন ‘তারিফ’ শুনে শুভ্রর মুখটা এক্কেবারে ছোট হয়ে গেল। ঘরের সবাই আবারও হো হো করে হেসেই খুন।
সবশেষে রিদ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বললো, “আচ্ছা, এখন অনেক রাত হয়েছে, আপাতত তোমরা সবাই ঘুমাতে যাও। মিহি আর তিথিকে সকালে শান্ত মাথায় সব বুঝিয়ে বলা যাবে। কাল সকালেই কাজি ডেকে ওদের অফিসিয়ালি বিয়ে পড়িয়ে দেবো। এখন আপাতত জ্যোতি গিয়ে রুহির রুমে ঘুমাও, আর অদ্রীত তুই আজ রাতের জন্য শুভ্রর রুমে চলে যা।”
সবাই যখন যে যার ঘরের দিকে রওনা দেবে, তখনই রিদ হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো, “আচ্ছা, কিরে? আমার সুযোগ্য পুত্র কোথায়? সেও তো তোদের সাথেই গিয়েছিল!”
রিদের প্রশ্নে অদ্রীত একটু থতমত খেয়ে আমতা আমতা করে বললো, “ইয়ে কাকাই, ঋশের একটা খুব জরুরি কাজ পড়ে গেছে, তাই ও রাতে ঢাকার দিকে চলে গেল।”
শুভ্র আগের কথা টেনে আবার বলতে লাগলো, “তারপরের ঘটনা আরও মারাত্মক! কাল রাতে অদ্রীত আর আমি এক রুমে ঘুমাতে গেলাম। কিন্তু আমার কি আর চোখে ঘুম আসে? আমি সারারাত অদ্রীতের মাথা চিবিয়ে খেয়েছি! ওকে বারবার এক কথা জিজ্ঞেস করছিলাম আমি আমার বউকে কখন আবার নিজের রুমে নিয়ে আসতে পারবো? ও বেচারা ঘুমাতে না পেরে একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে আমার পেছনে কষে এক লাথি মারলো! তারপর গজগজ করতে করতে রুম থেকে বের হয়ে গেল এবং যাওয়ার আগে প্রতিশোধ নিতে আমার দরজার লকটা বাইরে থেকে আটকে দিল!”
অদ্রীত পাশ থেকে ফোড়ন কেটে বললো, “হুম! তারপর আমি আর কোথায় যাবো? সোজা গিয়ে ফাঁকা পেয়ে ইয়াশফার রুমে ঠাস করে ঘুমিয়ে পড়লাম। এরপর সকাল হতেই বাড়ির দুই মহারানী মিহি আন্টি আর তিথি আন্টি সব কথা খুলে বলা হলো। তিথি আন্টি খুশি হলেও এভাবে মেয়ে তুলে আনাটা প্রথমে একদমই মেনে নিতে পারছিলেন না। কিন্তু পরে ছেলের উদাস মুখের দিকে তাকিয়ে শান্ত হলেন। আর মিহি আন্টি তো বরাবরের মতোই গম্ভীর, ওনার কোনো রিয়াকশনই নেই! যাইহোক, সকাল সকাল কাজি ডেকে ঘরোয়াভাবেই আমাদের শুভ্র আর জ্যোতি ভাবীর বিয়েটা পড়িয়ে দেওয়া হলো। পরে পরিস্থিতি বুঝে বড় করে অনুষ্ঠান করা যাবে।”
সব কথা শোনার পর ইয়াশফা একদম চুপ মেরে গেল। মনে মনে পুরো হিসাবটা মেলাতেই ওর বুকের ভেতরটা ছ্যাৎ করে উঠলো। তার মানে ঋষভ কাল রাতে ঢাকা যায়নি! ও কাল রাতে গ্রামে চলে গিয়েছিল এবং সারারাত ইয়াশফার ঘরেরই ছিলো।
সত্যিটা বুঝতে পেরেই ইয়াশফা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে হঠাৎ খকখক করে কেশে উঠলো। কাশতে কাশতে ওর অবস্থা একদম কেরোসিন!
তা দেখে অদ্রীত চোখ কপালে তুলে বললো, “এ মা! লাড্ডু, তুমি এভাবে কাশছো কেন? কী হলো?”
ইয়াশফা কোনোমতে নিজের আমতা আমতা ভাব সামলে নিয়ে বললো, “উফফ, এমনিই! গলায় হুট করে কিছু একটা আটকে গেছে।”
অদ্রীত কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো, “কী আটকে গেছে?”
ইয়াশফা মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে বললো, “কিছু না! আচ্ছা, যাই হোক, তোমরা গল্প করো, আমি যাই। আমার অনেক কাজ আছে।”
রুহি চট করে ওর হাতটা টেনে ধরে আদুরে গলায় বললো, “এই একদম না! রাগ করো না বুনু। কাল রাতে যদি আমরা জ্যোতি ভাবীকে ওভাবে তুলে আনতে না যেতাম, তবে আমাদের শুভ্র এতক্ষণে কাঁদতে কাঁদতে দেবদাস হয়ে মরে যেত!”
ইয়াশফা একটু হেসে বললো, “আচ্ছা বাবা, রাগ করিনি। দাঁড়াও, তোমাদের সাথে আমার বাচ্চাদের পরিচয় করিয়ে দিই”
কথাটা বলেই ইয়াশফা এক ছুটে নিচের বাগানে চলে গেল। সেখানে ওর পুরো বিচ্ছু বাহিনী মহা আনন্দে খেলছিল। ইয়াশফাকে দেখামাত্রই কিসমিস, বাঘা, ম্যাও আর পিপাই ছুটে এসে ওর গায়ের ওপর উঠতে চাইলো। ও আদর করে ওদের কোলে কাঁদে নিয়ে আবার সিঁড়ি দিয়ে শুভ্রর রুমে এসে হাজির হলো। ও ঘরের দরজায় দাঁড়াতেই হরিণটা টুকটুক করে হেঁটে গিয়ে সোজা মুগ্ধর পায়ের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।
হরিণের শিং দেখেই মুগ্ধর চেচিয়ে উঠলো ও “মা গো, বাঁচাও!”
বলে এক বিশাল লাফ দিয়ে সোজা অদ্রীতের কোলের ওপর গিয়ে উঠলো! অদ্রীতও আচমকা মুগ্ধর ওজনে ধপাস করে সোফায় পড়ে গেল। মুগ্ধ অদ্রীতকে জড়িয়ে ধরে কাঁপতে কাঁপতে চেঁচিয়ে উঠলো, “ইয়াশফা! এসব তুই কই পাস রে বইন? এটা তো আস্ত একটা চিড়িয়াখানা!”
ইয়াশফা দুই হাত কোমরে দিয়ে মুগ্ধকে একটা কড়া ধমক দিয়ে বললো, “মুগ্ধ ভাইয়া! একদম চেঁচামেচি করবেন না বলে দিচ্ছি। আপনার এই ষাঁড়ের মতো চিৎকার শুনে আমার কচি কচি বাচ্চারা ভয় পাচ্ছে!”
ইয়াশফা তার পুরো বিচ্ছু বাহিনীকে সাথে নিয়ে শুভ্রর রুম থেকে বের হয়ে এলো। করিডোরে পা দিতেই ও দেখলো রিদ একা বসে আছে। ইয়াশফাকে দেখেই রিদ চমকে উঠে বললো, “কী ব্যাপার! তুমি কখন আসলে এটাম বোম? ”
ইয়াশফা মুখটা একটু ঝুলিয়ে বললো, “আপনার গুণধর ছেলে জোর করে ধরে এনেছে বাবা।”
ছেলের ওপর রিদের রাগ এক সেকেন্ডে চড়ে গেল। ওর কণ্ঠস্বর গম্ভীর হয়ে উঠলো, “কেন ও জোর করে আনবে কেন? কাছে থাকলে তো কামরায়, আর দূরে গেলে হামলায়? ডাকো ওকে এক্ষুনি!”
ঠিক তখনই কলে কথা বলতে বলতে সেদিক দিয়ে যাচ্ছিল ঋষভ। রিদ ওকে দেখা মাত্রই ডাকলো এবং কড়া গলায় জিজ্ঞেস করলো, “কী হয়েছে ঋষ? তুমি ইয়াশফাকে না জানিয়ে হুট করে ওরকম গ্রাম থেকে তুলে এনেছো কেন?”
ঋষভ কোনো স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে একদম খাপছাড়া গলায় বললো, “এমনি এনেছি, আমার ইচ্ছে হয়েছে।”
রিদ এবার সত্যিই রেগে গেল। ওর মেজাজ বিগড়ে গেল, “ঋষ, তোমার এমন বাচ্চামি কিন্তু আমার একদম ভালো লাগছে না! তুমি কি সংসারটাকে নাটক পেয়েছো নাকি? আমি আবার ইয়াশফাকে ওর গ্রামে রেখে আসবো। তোমার মতো বেয়াদবের কাছে ওকে রাখবো না।”
ঋষভ নিজের অজান্তেই, হঠাৎ বলে ফেললো,
“আমি তো নিজেই চলে যাবো পাপা, ও একটু আমার চোখের সামনে থাকুক না?”
কথাটা ও খুব আস্তে করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেও রিদের তীক্ষ্ণ কানে তার কিছুটা পৌঁছে গেল। ওর বুকের ভেতরটা কেমন যেন ছ্যাৎ করে উঠলো। ও সাথে সাথে ঋষভের দিকে এগিয়ে গিয়ে উদগ্রীব হয়ে বললো, “কী বললা ঋষ? চলে যাবে মানে? কোথায় চলে যাবে তুমি?”
বাবার প্রশ্নে ঋষভের হঠাৎ হুঁশ ফিরলো। ও নিজের আবেগ আড়াল করতে গিয়ে তড়িঘড়ি করে বানিয়ে বললো, “নাহ! কিছু না। এমনিই নিয়ে আসলাম। তুমি চাইলে এখনই আবার ওকে রেখে আসতে পারো, আমার কিচ্ছু যায় আসে না। এমনিতেও ওকে তো আমি আমার বউ বলে মানি না!”
কথাটা বলেই ঋষভ আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ালো না, হনহন করে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। ওদিকে রিদ একদম স্তব্ধ হয়ে চুপ করে গেল। ওর মনটা এক অজানা আশঙ্কায় কেমন যেন কু ডেকে উঠলো। একটু আগে ওটা কী বলতে চেয়েছিল? ওর মন কিছুতেই শান্ত হচ্ছিল না। ওখান থেকে চিন্তা ঝেড়ে ফেলে রিদ ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে নরম সুরে জিজ্ঞেস করলো,
“কিছু খেয়েছো মা?”
ইয়াশফা বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নেড়ে বললো, “নাহ।”
ঠিক তখনই মিহি দুই হাতে দুটো খাবারের প্লেট নিয়ে সেখানে এসে হাজির হলো। মিহি ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললো, “যাও, এই প্লেটটা আগে ঋষের ঘরে দিয়ে এসো। ওটা দিয়ে আসলে তারপর আমি তোমাকে নিজের হাতে খাইয়ে দেবো।”
ইয়াশফা খাবারের প্লেটটা হাতে নিয়ে গুটিগুটি পায়ে ঋষভের ঘরের দিকে চলে গেল। ঘরের দরজাটা খোলাই ছিল। ইয়াশফা ভেতরে ঢুকে দেখলো, ঋষভ যথারীতি কানে ফোন গুঁজে গভীর মনোযোগে কারোর সাথে কথা বলছে। লোকটা সারাক্ষণ শুধু ফোনেই কথা বলে! মনে হয় কোনো মেয়ের সাথে প্রেম-ট্রেম করে! ইয়াশফা টেবিলের ওপর খাবারটা ধপাস করে রেখে একটু চড়া গলায় বললো,
“আপনার খাবার!”
ঋষভ ফোনের ওপাশ থেকে চোখ না সরিয়েই ইশারা করে বললো, “রাখো ওইখানে।”
ইয়াশফা খাবার রেখে আর এক মুহূর্তও নষ্ট না করে যেই না চলে যেতে যাবে, অমনি পেছন থেকে ঋষভ হঠাৎ একটু নিচু স্বরে ডেকে উঠলো, “ক্যাকটাস…?”
ইয়াশফা ওভাবে নিজের পুরোনো ডাক শুনে একদম চট করে পেছনে ঘুরে উত্তর দিল, “কী! বলুন?”
নেশাক্ত প্রহর পর্ব ২৯
ইয়াশফার এমন চটজলদি সাড়া দেওয়া দেখে ঋষভ নিজের ফোনের আড়ালে মনে মনে বেশ একটা মুচকি হাসি হাসলো। তবে মুখে সেই কাঠিন্য ধরে রেখে বললো, “নাথিং। আউট!”
ইয়াশফা রেগেমেগে ঋষভের পিঠের দিকে তাকিয়ে একটা বিশাল ভেংচি কাটলো। তারপর গজগজ করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
