পৌষপার্বণ পর্ব ১৯
Irfa Mahnaj
পরিচিত এবং খুব কাছের মানুষদেরই দাওয়াত করা হয়েছে।বিয়ের পরিকল্পনা আগে থেকেই করা ছিলো তাই যৎসামান্য আয়োজনও করা হয়।
ভাদ্র ও চৈত্রের বিয়ে পড়ানো শেষ। খরচ কম করতে বৈশাখ জানান পৌষ ও পার্বণকেও একই আওয়াজনে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হবে।
বৈশাখের কথার সাথে তার দুই ভাই জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মত দিলেও তাঁদের অর্ধাঙ্গিনীগণ নাকোচ করেন।
তবে পুরুষ পার্টি তো পার্টিই। বউদের হাত পায়ে ধরে ঝুলে পড়ে রাজি করিয়েছে।
সত্যি বলতে এই বারোমাসি নীড়ের একটায় ও ভালো মানুষ না। সব গুলো একেকটা নমুনা।
এই নমুনাদের ঘর থেকেই জন্ম নেয় আপডেট ভার্সন নমুনা। তাঁদের মধ্যে অন্যতম পার্বণ।
বউ রাজি করানো তো শেষ এখন পালা ওই নমুনা পৌষ ও পার্বণকে নিয়ে আসা। ওদের পিছনে দৌঁড়াতে গিয়ে কত কেলোরি যে লস হয় আল্লাহই জানে।
তাই ভাদ্র ও চৈত্রের বিয়ে পড়িয়ে দিয়েছে আগেই।এখন মিশন শুরু করার পালা।
সারা বাড়ি খুঁজে খুঁজে অবশেষে পৌষপার্বণের দেখা মিলে ছাদে। ছাদের এক কোনায় বসে আছে দুজনেই।
ওদের নিকটে গেলেই আঁতকে উঠেন মাঘ। এমন চিৎকার দেন ঘরের সব এসে হাজির হয়। ফাল্গুন, বর্ষা তাঁদের ছাও দের এই অবস্থা দেখে রীতিমতো জ্ঞান হারাবে এমন উপক্রম।
বিয়ে উপলক্ষে দুজনকেই খুব সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সুন্দরের মায়রে বাপ করে দিয়েছে দুজনে।
জামা কাপড়ের অবস্থা আর রাখেনি। গাছ লাগানোর জন্য যে মাটি রাখা হয়েছিল সেগুলো জামায়, সারা শরীরে লাগিয়ে বসে আছে।
শুধু তাই না দুজনের চেহারার তো যাচ্ছে তাই অবস্থা। কামড়, চিমরের দাগ। আর সবচেয়ে ডেঞ্জারাস যে কাহিনী ঘটিয়েছে তা হলো।
পৌষের ঝুটি করা চুলের গোড়া থেকে নাই সেটা পার্বণের হাতে। আর পার্বণের চুলে চুইগ্গাম।
বোঝাই যাচ্ছে চুইগ্গাম মেরেছে বলে পার্বণ পৌষের চুল যে কেটেছে।
হায় হায় করতে করতে নিজ নিজ ছাওপোনাদের বগলদাবা করে নিয়ে হাঁটা দেয় মা গন্স। আর বাবা গন্স তাঁদের পিছু পিছু যান।
কিছুক্ষন আগের করা ভয়াবহ হুলিয়া পাল্টে গরু থেকে এখন মানুষে রূপান্তর করা হয় পৌষপার্বণকে।
দুটোকেই টাক করে দেওয়া হয়েছে। না দিয়েও উপায় ছিলো না। করেছেই এমন।
ভাদ্র যে বড় ভাই তবুও পুংটা কম না। ছোট ভাইকে চেতাতে ওস্তাদ। এখন তো সুযোগ পেয়ে গেছে।
পার্বণের কানের কাছে মুখ নিয়ে ছড়া কাটে,
— টাকু টাক টাক করে টাকুর বউ নাই ঘরে টাকু কাইন্দা মরে।
বলেই খেট খেট করে হাসা আরম্ভ করে। আর হাসতে হাসতেই আবারো বলে ওঠে,
— ও সরি ভুল হয়ে গেছে টাকুর তো বউ হতে চলেছে।
তারপর আবার বোনের দিকে তাকিয়ে বলে,
— ওই পৌষ টাকু রানী কিরে খবর কি তোর? টাকলা পার্বণের টাকলু বউ পৌষ। হাহাহাহা! কেয়া জুটি হে!
যেহেতু পৌষপার্বণ দুজনেই ছোট তাই দুটোতেই ভ্যা ভ্যা করে কান্না জুড়ে দেয়।
ওদের কাঁদতে দেরি ভাদ্রের পিঠ বরাবর বর্ষার লাথি পড়তে দেরি হয়না। সবার সামনেই কেলানি দিতে শুরু করে।
বাঙালি মায়েরা বোধহয় এমনই মাথা খারাপ হয়ে গেলে কোনোদিক খেয়াল থাকে না। উত্তম মধ্যম দিয়ে শান্তি হয় বর্ষা।
— বেয়াদব একটা। অসভ্যতে সারাক্ষন পুংটামি করবে।
উপস্থিত জনতা অবাকের উপর অবাক। এমন ঘটনা তারা আগে কোথাও দেখেছে নাকি!
সদ্য বিয়ে করা জামাইকে তার মা মেরে আধমরা বানিয়ে দিয়েছে আর দুই টাকলাকে বসিয়ে দিয়েছে বিয়ের জন্য!
সবার মধ্যে থেকে ভাদ্রকে মারায় খুশি হয়েছেন জনাব কাজী মহাশয়। কারণ এই ছেলে একটু আগেই তার নাম নিয়ে মজা উড়িয়েছে।
হয়েছে কি কাজীর নাম হচ্ছে দুদু মিয়া।তো ভাদ্র অতি কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করে,
— দুদু মিয়া!এ আবার কেমন নাম? উনি বুঝি দুধ দেন? যেমন গরু দেয়।
ব্যাস এটুকুই তো বলেছিলো বেচারা। কিন্তু তবুও ফেঁসে গেছিলো। বাবার হাতের কান মোলা খেতে হয়েছিল।
তারপর একে একে পৌষপার্বণের বিয়েটাও হয়ে যায়। আর চৈত্রের ফোনে যে সুন্দর ছবিটা তোলা হয়েছিল? সেটা এই দুটোকে সাজিয়ে গুছিয়ে বসিয়ে তোলা হয়েছিল।
বিয়ের সময় আর পৌষ পার্বণ বেশি নখরা করেনি। কারণ একেই ওরা কিছু বুঝেনি। তার উপর আকাম করার জন্য দুই টাকলু সেই মাইর খাইছে মায়েদের কাছে।
তবে হ্যা পার্বণকে যখন ফাল্গুন বলে,
— এবার থেকে তু্ই আর পৌষ একসাথে থাকবি।
তখন পার্বণ নাক সিটকে বলেছিলো,
— কি! আমি ওই জংলীর সাথে থাকবো? আমি ওর সাথে থাকতে পারবো না।
[অতীত শেষ~]
কু*ত্তার দৌড়ানি খেয়ে একপ্রকার রকেটের গতিতে দৌড় দিয়েছে বসন্ত আম্রপালি।এতো বার বলেছে সিঙ্গারা ফেলতে তাও ফেলেনি বসন্ত।
অগত্যা দৌঁড়াতে হয়েছে তাঁদের। দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে পিছনে ফিরে দেখে কুকুরগুলো আর নেই তখন থেমে যায় আম্রপালি।
কিছু একটা ভেবে কুটিল হাসে সে। তার থেকে সামনে দৌড়ানো বসন্তকে উদ্দেশ্যে করে বলে উঠে,
— বসন্ত কু*ত্তা তোর বামের পিছে।
বলতে না বলতেই বসন্ত জোরে সোরে এক চিৎকার দিয়ে সামনে যাকেই পায় তার কোলে উঠে পড়ে।
বসন্ত যেখানে যায় সেখানেই বিপদ নাকি বিপদ যেখানে সেখানে বসন্ত কি হবে কে জানে।
এই যেমন বেচারা কুমিরের থেকে বাঁচতে গিয়ে বাঘের কোলে উঠে বসে আছে। হ্যা। বাঘের কোলেই তো।
কোলে উঠলো তো উঠলো হিমসাগরের কোলেই। হিমসাগর তাঁদের বাড়ির রাস্তাতে হাঁটাহাঁটি করছিলো।
বসন্তরাও দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে কখন যে তাঁদের বাড়ির গলিতে ঢুকে পড়েছে সেই খেয়াল নেই।
আম্রপালি যখন বলল তার পিছনে কুকুর তখন দিশাবিশা না পেয়ে যাকে সামনে পেয়েছে তার কোলেই বাবুদের মত উঠে বসে আছে।
কোলে উঠার সময় কি আর এতো খেয়াল ছিলো নাকি যে কার কোলে উঠছে। সিংহ নাকি বাঘ।
ভয়ে থরথর করে কাঁপছে বসন্ত। ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকায় সাহায্যের জন্য। কিন্তু ওমা!আম্রপালি কই? আম্রপালির আমও দেখা যাচ্ছে না।
বড় করে একটা ঢোক গিলে ফের সামনে তাকায়। হিমসাগরের গালে হাত দিয়ে হেসে উঠে,
— হে হে হে!
সেই যে বোতলের বাড়ি খেয়ে বের হয়েছে বাসা থেকে এখনো ফিরেনি পার্বণ। সাথে আছে ভাদ্র।
রেস্ট্রুরেন্টে বসে আছে ওরা।পার্বণের সামনে সাজানো হরেক পদের খাবার।যা ও গোগ্রাসে গিলছে।
ওকে এভাবে গরুর মতো গিলতে দেখে ভাদ্র মুখ দিয়ে “চ” বর্গীয় আওয়াজ বের করে বলে,
— কয় বছরের না খাওয়া তু্ই?
বড় ভাইয়ের বিরক্ত বদনে একবার তাকিয়ে লাচ্ছির স্ট্রোটা মুখে দেয়। এক সিপ খেয়ে রেখে আওয়াজ করে “এহাহ”।বলে,
— বা রে বাবা হচ্ছি আমার কত এনার্জি লস হলো। আর এখনই তো সময় বেশি বেশি খাওয়ার।
— আমি তো জানি মায়েদের এই সময় বেশি খেতে হয়।
— এসব ভুলভাল লজিক পাও কোথায় ভাই? বাবাদের ও বেশি বেশি খেতে হয়। আফটারঅল বাবা হচ্ছি।
— ধুর রাখ তো তোর এইসব লজিক।
কথা বলতে বলতেই থেমে যায় ভাদ্র। কথার তালে তালে ও বলছিলো। কিন্তু একি!পার্বণ এটা কি বলল? ও তাও বাবা!
একটু জোরেই শব্দ করে বলে ওঠে,
— ওয়েট হোয়াট!!তু্ই আর বাবা?
পার্বণের দিকে আঙ্গুল তাক করে জানতে চাইলে পার্বণ মাথা নাড়িয়ে হ্যা বোঝায়।
মাথা ঘুরছে ভাদ্রের। এই বজ্জাত ছেলে ওকে জরুরি দরকার বলে ফোন দিয়ে আনায়। তারপরই তো অর্ডার দিয়ে গোগ্রাসে গিলছিলো।
বাপ হচ্ছে ও আর পকেট ফাঁকা করছে বড় ভাইয়ের!মানে যেখানে ওর ট্রিট দেওয়ার কথা সেখানে ওই ট্রিট খেয়ে বসে আছে!
এখন কথা সেটা নয় কথা হলো ও বাবা হচ্ছে!এটাই তো মানা যাচ্ছে না।
চৈত্রের সাথে একসাথে আছে অনেক বছর হবে। আজ পর্যন্ত কিছুমিছুর “ক” টাও করতে পারেনি ভাদ্র।
এদিকে এই ছেলে ওর ছোট হয়ে ছক্কা মেরে দিলো!বাংলা ছবি গুলোতে একটা বিট দেয় না? ধুম তানা না না ধুম তানা না না।
তারপর আকাশে মাথা ভেঙ্গে পড়ে। ও মিস্টেক হয়ে গেছে। মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।
সাথে বুকে ব্যথা উঠে। সেরকম অবস্থা হয়েছে ভাদ্রের বর্তমানে। ও কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।
তাও বলে,
পৌষপার্বণ পর্ব ১৮
— বড় ভাইয়ের আগে বাবা হয়ে গেলি?
— আমার ডিএনএ দেওয়ার এবিলিটি আছে তাই আমি বাবা হয়েছি।
— কিহ!!!
— তোমাদের মতো ডিএনএ অপচয় না করে ঠিক জায়গায় সাপ্লাই দিয়েছি তাই আজ বউ আমার বাচ্চার মা আর আমি বাচ্চার বাবা হয়েছি।
