পৌষপার্বণ ঈদ স্পেশাল
Irfa Mahnaj
ঈদের বাকি মাত্র দুইদিন। আজকে যাবে বৈশাখ হাটে। সঙ্গে যাবে বারোমাসি নীড়ের ভন্ডের দলেরা। পার্বণ, ভাদ্র, বসন্ত ও হেমন্ত।সবাই ড্রয়িংরুমে অপেক্ষা করছে পার্বণের জন্য।
কিন্তু বান্দার আসার নাম নেই। এই নিয়ে চার কাপ চা খাওয়া হয়ে গেছে বৈশাখের ছেলের অপেক্ষা করতে করতে। হেমন্ত মোবাইল টিপছে। বসন্ত সোফায় আয়েশ করে বসে নখ কাটছে হাত পায়ের। আর ভাদ্র বসে থেকে ঝিমুতে ঝিমুতে ধপ করে চৈত্রের গায়ে হেলে পড়তেই সেটা একধাক্কায় মক্কায় পাঠিয়ে দেয় চৈত্র।
চোখ পিট পিট করে তাকিয়ে গাল চুলকে পরক্ষনেই আবার পাড়ি জমায় ঘুমের রাজ্যে। পাঁচ পাঁচ করে দশ আঙ্গুলের নখ কাঁটা শেষ। হাত পায়ের দুটোই। এখন করবে কি বসন্ত? উপায় না পেয়ে এবারে কথা পাড়ে।
— বড় চাচ্চু পার্বণ ভাই এখনো আসছে না কেনো?
ফাল্গুনকে আরেক কাপ চা দিতে বলে রাগে গজরাতে গজরাতে উত্তর দিলো বসন্তের কথার।
— গত রাতে মাথা পাগল করে দিয়েছিলো গরুতে গরু গরু করে। এখন দেখো আহাম্মেকের আসার কোনো নামই নেই। আজ আসুক। ওকেই আমি হাটে বেঁচে দিয়ে আসবো।
ফাল্গুন চা নিয়ে এসে স্বামীর ধরিয়ে দিলো। সঙ্গে খেঁক করে উঠলো,
— চাই গিলতে থাকো। চা গিলতে গিলতে দিন আজকেরটা কাভার করে দেও। এবারে এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে এখন আরো দেরি করো।
চা নিয়ে তাতে চুমুক দিতে দিতে স্ত্রীর রাগী মুখের পানে তাকিয়ে থমথমে সুরে বলে উঠে বৈশাখ,
— সাধে কি আর দেরি করছি তোমার আহাম্মক ছেলের তো আসার কোনো নাম গন্ধই নেই। রাতে আবার বুক ফুলিয়ে সবাইকে ভাষণ দিলো তাড়াতাড়ি উঠে রেডি হওয়ার অথচ এখন তার টিকিরও দেখা নেই।
কামিজের ওড়নার আঁচলে হাত মুছতে মুছতে বাপ ছেলে মেয়েকে ঝাড়লেন।
— আমার হাতে সময় থাকলে আমি তোমাদের বাপ ছেলে মেয়ে তিনজনকেই বেঁচে দিয়ে আসতাম। অন্তত এতে আমার লাভ তো ছিলো। এরা আমার জীবন পুরা ফাতা ফাতা করে ফেললো।
মেহেদির ডিজাইন দেখতে থাকা চৈত্র মায়ের কথা শুনে আসমান থেকে পড়ে। আশ্চর্য! এখানে আবার ও করলো কি? মানে হুদাই। চিল্লিয়ে মায়ের উদ্দেশ্য বলে,
— অদ্ভুদ তুমি আমাকে নিয়ে টানা হেঁচড়া করছো কেনো? টপিক যাই হোক চৈত্রকে ঢুকাতেই হবে না?
ফাল্গুন মনে হয় শুনলো না নায়হ এতক্ষনে ঝাড়ুর বাড়ি একটাও মাটিতে পড়তো না। সব গুলো পড়তো চৈত্রের পিঠে। ফাল্গুন গেলো পার্বণের রুমের দিকে। দেখতে বলদটায় করছে কি এতক্ষণ বসে।
পার্বণের রুমের দরজা হাঁট করে খোলা। তবুও এটা ছেলে আর ছেলের বউয়ের বেডরুম। অনুমতি ছাড়া ঢোকা ভালো দেখায় না। অনুমতি নিয়ে রুমের মধ্যে প্রবেশ করতেই ওনার মাথায় হাত!
পৌষ সেই কখন থেকে খাটের উপর বসে আছে। আর পর্যবেক্ষণ করছে পার্বণকে। ওর কার্যকলাপ দেখে পৌষের বারংবার ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। যেই বান্দা সকালে উঠে না সে এলার্ম সেট করে রেখেছে তাও কিনা গরুর হাটে যাবে বলে।
মোটেও শুধু যাওয়ার জন্য নয়। যাওয়ার আগে রেডি হওয়ার জন্য দেরি যাতে না হয় তাই। যাকে ঠেলে গোসলে পাঠায় পৌষ সে সকাল সকাল গোসল করেছে। তাও কি আবার পৌষের বডি ওয়াশ, শ্যাম্পু, সোপ সব লাগিয়ে। নিজের তো আর এগুলো নেই তাই।
পৌষ অনেকবার গোসলে ব্যবহারিত জেন্টস সোপ, বডি ওয়াশ, শ্যাম্পু কেনার কথা বললেও পার্বণের জবাব ছিলো,
— ওসব তোদের মেয়েদের ঢঙের জন্য আমরা ছেলেরা তো হুইল পাউডার দিয়েও গা, মাথা, কাপড় চোপড় ধোঁয়া সব সারতে পারি।
অবশ্য করেও একই। পৌষ এতো করে বুঝায়, শ্যাম্পু, সাবান এগুলোর আলাদা আলাদা কাজ। কিন্তু কিসের কি দেখা যাবে হাতের কাছে যা পাবে তাই দিয়েই কাম সারবে। হোক সেটা গায়ে দেওয়া সাবান কিংবা কাপড় ধোঁয়া।
তবে আজ এতো পরিবর্তন পৌষ তো অবাক। এই গেলো এক কাহিনী। গোসল করে বের হয়ে ড্রয়ার খুঁজে খুঁজে জামা বের করছে। সবচেয়ে সুন্দর জামাটাই নাকি আজ পড়বে।
হেল্প হিসেবে পৌষকেও জিজ্ঞেস করছে। একেকটা বের করছে আর ট্রায়াল দিচ্ছে পছন্দ না হলে আবার ছুড়ে মারছে। এই করতে করতে খাটের মাঝখানে কাপড়ের স্তুপ হয়ে রয়েছে।
অবশেষে অ্যাশ রঙের একটা পাতলা শার্ট ও ব্ল্যাক ডেনিম জিন্স পড়ে। ড্রেস পড়তেই পার্বণকে দেখে টাস্কি খায় পৌষ। কি সুন্দর লাগছে এই ছেলেকে।
পার্বণ অলওয়েজ এলোমেলো, ছন্নছাড়া ছাড়া থাকবে। তা বাড়ি হোক বা অনুষ্ঠান। কিন্তু আজ হাটে যাওয়ার পুরো নায়ক সেজে যাচ্ছে!
এটুকুতেই থেমে নেই জনাব পার্বণ। এখন বসেছে সাজতে। হ্যা সাজতেই। সাজতে বলতে ক্রিম, পাউডার, এসব মাখছে যে জীবনে ভালো মতো মুখ ধুয়েছে কিনা সন্দেহ! তাও সব পৌষের জিনিস মাখছে।পৌষ কিছু বললেই বলে,
— উফ জান আমি তোর অর্ধাঙ্গ না? তোর সব জিনিসের তো অর্ধেক আমারই।
কথা বলতে গিয়ে বখাটের মতো লুচ্চা দৃষ্টিতে আবার পৌষের নারী কায়ার ভাঁজ গুলো স্ক্যানও করছে। কেমন অঙ্গভঙ্গি করছে। ব্যাস পৌষের মুখ চুপ। চুপ হতো না। শার্টয়ের হাতা কনুই অব্দি গোটাতে গোটাতে পৌষের মুখের উপর ঝুকেই বলে,
— পৌষ তুই কি আমাকে কাছে পেতে চাচ্ছিস গভীর ভাবে? লজ্জা না করে বলে ফেল। আমি রেডি। আমার এনার্জি অলওয়েজ টপে থাকে।
তারপর আর কি পার্বণকে নিজের থেকে ঠেলে দিয়ে বলেছে,
— যা ইচ্ছা কর।
কিছু বলাই যাচ্ছে না। এই অসভ্যর জ্বালায় এক ধাক্কায় মা হয়ে গেছি পড়ে দেখা যাবে বাচ্চা ডেলিভারি হওয়ার পর ডাক্তার বলবে পৌষ আবার প্রেগ*ন্যান্ট! যদিও কথার কথা তবুও কোনো ভরসা নেই।
এসবের মাঝেও একটা জিনিস কিছুতেই পৌষের মাথায় ঢুকছে না। এই যে মানুষ তো ডেটে গেলেও এতো সাজে না যেভাবে পার্বণ হাটে যাচ্ছে সেজে!
পার্বণ যখন সাজতে ব্যাস্ত তখনই ঘরে আগমন ঘটে ফাল্গুনের। তেতে উঠলেন উনি। কোনো কথা ছাড়াই বাসায় পড়া পায়ের জুতা খুলে ছুড়ে মারলেন। ঠিক নিশানায় গিয়ে লাগে। আকস্মিক পার্বণের মুখের উপর জুতার বাড়ি পড়তেই হকচকিয়ে গেলো পার্বণ।
দরজার দিকে নজর দিলেই নজরে আসে মায়ের রণমুদ্রি রুপ। বোকা হেসে হায় জানায় মাকে। ব্যাস ফাল্গুনের ধৈর্য্য ভেঙ্গে গড়াগড়ি খায়।
গিয়েই পিঠের উপর এক বাড়ি বসিয়ে বলে,
— তুই বিয়ে বাড়ি যাস নাকি হাটে যাস? এমনে সাজে? নিচে সবাই অপেক্ষা করছে নবাবের আর উনি বসছে সাজতে। বলি গরু কিনতে যাবি নাকি তুই নিজে বেঁচতে যাবি।
— দেখছো কারবার! এই ছেলের জাউড়ামি আর গেলো না। এই পোলায় নাকি কয়দিন পর বাপ হইবো!
প্রথমত বউয়ের সামনে মার খেয়ে ব্যাপক ইজ্জতে লাগছে পার্বণের। দ্বিতীয়ত কিছু থেকে কিছু হলেই বাবা হওয়া নিয়ে খোটা মারে।
এখন তো বউয়ের সামনে মার খাচ্ছে কিছুদিন গেলে নিজের ছেলে মেয়ের সামনেও মার খাবে। না আজকে এর একটা বিহিত করতেই হবে। গলা খাকারি দিয়ে ভোঁতা মুখে মাকে বলে,
— মা প্রথমত এভাবে আমাকে যার তার সামনে মারবে না। আমি বড় হয়েছি।ইগোতে লাগে। দ্বিতীয়তো বার বার বাবা হওয়ার খোটা দেও কেনো?
কান টেনে ধরলেই “আহ” আওয়াজ তুলে ছেড়ে দিতে বলে পার্বণ। তবে ফাল্গুন ছাড়ে তো নাই। বরং বলে ওঠে ,
— এহ! যে পোলার হা*গলে এখনো সুচু করিয়ে দেওয়া লাগে তার নাকি আবার ইগো! গত কালকেও তো বাপের জা*ই*ঙ্গা নিয়ে টানাটানি করলি। ভাড়ার জন্য আমার পিছে পিছে ঘুরলি। ভাত খাওয়াইয়া দেওয়া লাগে জামাকাপড় ধুয়ে দেই আমি এখনো সে আসছে বড় হয়েছে বলতে! আর নাক টিপলে নিজেরই যার দুধ বের হয় সে আবার বলে নাকি তাকে বাপ হওয়া নিয়ে খোটা দেই কোনো।
পার্বণ স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ। বলার মতো কিছু আছে? মায়েরা এমন ছেলেদের রোস্ট করে? কেউ না করলেও পার্বণের মা করে। এই যে মাত্রই পুরো তালা লাগিয়ে দিলো!
এদিকে পৌষ আর নিজের হাসি ধরে রাখতে পারেনি। পেট চেপে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। কথায় আছে না? “যত হাসি ততো কান্না!” সেরকমই হয়েছে দশা।
বর্ষা আসে রুমে। বৈশাখই পাঠায়। ফাল্গুনের দেরি হওয়াতে। এসে তো উনি আবার আরেক বোম মারে। পৌষকে হাসতে দেখে শুধায়,
— তুই হাসছিস কেনো? তুই বুঝি একদম ভালো? চুল বেঁধে দেওয়া থেকে শুরু করে পারলে গোসলও আমিই করে দেই সে আসছে দাঁত কেলাতে!আর পার্বণ বাবা ওর থেকে মায়েদের বেশি দায়িত্ব। তোরেই তো এখনো আমি পালি। আমারে ছাড়া তো এক পাও দিতে পারিস না। সে আবার দাঁত বের করে হি হি করে।
ব্যাস মায়ের খোঁচা মার্কা কথা শুনতেই পৌষের হাসি থেমে মুখটা চুপসে ফাঁটা বেলুনের মতো হয়ে যায়। অন্যদিকে পৌষের রোস্টিং এ এবার পার্বণ পেট ফাঁটা হাসিতে ফেটে পড়তেই ওর পশ্চাতে এক লাথি বসায় ফাল্গুন।
— ওয় এখনো না গিয়ে এখানে হাসছে। নিচে যা তুই। সবাই বসে আছে আর হাটে যাওয়ার সাহেব সাজে। আমার হাতের ঝাড়ুর বাড়ি না খাওয়ার আগে যা।
মায়ের হাতের লাথি খেয়ে তৎক্ষণাৎ জায়গা ত্যাগ করে পার্বণ। পৌষও মুখটা এইটুকুনি করে দাড়িয়ে থাকে। আজ জামাই বউ দুজনেরই রোস্ট হয়ে গেছে!
হাটে এসেই বিপদের মধ্যে পড়ে বসন্ত। ও শুধু ভাবে ওর নাম কে বসন্ত রাখতে বলেছিলো? বিপদ মনে হয় নিজের নামের আলফাবেটের জন্য ওর উপর রুষ্ট।
নাহলে শালার এতো মানুষ থাকতে ওর গলায়ই কেনো ঝুলতে হয়? বেশ ভাবসাব নিয়ে হাটের মধ্যে ডুকে ও। ঘুরছিলো আর দেখছিলো। দেখতে দেখতেই নিজের পিঠে বুলেটের গতিতে গরুর মূত্র এসে পড়ে।
মানে বেচারা পুরো গরুর মু*তে গোসল করে উঠে। গায়ে মু*তের গন্ধে বমি আসার উপক্রম। বসন্তের অবস্থা দেখে হেমন্ত পার্বণ তো হাসতে হাসতেই শেষ।
নিজের করুন অবস্থায় হাসার কারণে অভিশাপ দেয় সে।
— এতো হাসছিস না? দেখিস তোদের আমার থেকেও খারাপ অবস্থা হবে।
হেমন্ত কথাটা গায়েই মাখেনি এমন ভাব করে বলে উঠে,
— হু শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
কথাটা শেষ করতেই পারলো না। এরই মাঝে যেই গরুর কাছে দাড়িয়ে ছিলো। সেই গরু গুঁতা মেরে হেমন্তকে ফেলে দূরে। শুকনো মাটিতে পড়লেও হতো। পড়েছে পড়েছে একদম গোবরের উপর মুখ থুবড়ে পড়ে।
এবারে হাসে বসন্ত। ভ্রু নাচায় হেমন্তের দিকে তাকিয়ে। যার অর্থ এই ” কিরে বলেছিলি না? শকুনের দোয়ায় নাকি গরু মরে না!”
হাসাহাসি শেষ হলে দুই ভাইই পার্বণের দিকে তাকিয়ে সাহায্যের আবেদন করে। ভাইয়েদের করুন অবস্থায় পার্বণ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে? কাভি নেহি।
বুক ফুলিয়ে এগিয়ে গেলো গরুটির দিকে।গরুর মুখের ঘাস ছিনিয়ে নেয়। কিন্তু কাজ হলো না। গরুর শিং নিয়ে টানা টানি করে। তাও কিছু হয়নি দেখে শেষে গরুর লেজ উঠিয়ে লাঠি দিয়ে পিছনে দিলো খোঁচা।
ব্যাস গরু তার পা উঠিয়ে এমন ছক্কা হাকায় যে বল সোজা বাউন্ডারির বাইরে। গরু বি লাইক
— কিরে মদন শান্তিতে ছেড়ে দিচ্ছিলাম পছন্দ হয়নি না? খোঁচাখুঁচি করা লাগলো এখন তাহলে নে লাথি খা।
ভাদ্র আর বৈশাখ বসে আছে। আর ওদের সামনে কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে দাড়িয়ে আছে পার্বণ, বসন্ত আর হেমন্ত। হুংকার ছাড়লেন বৈশাখ,
— ভাদ্র এই তিন গরুকে নিয়ে যা আমার চোখের সামনে থেকে । আহাম্মেকের দল! জাউড়ামি করাই লাগবে!
আজ চাঁদ রাত। চৈত্র যেহেতু পার্লারে কাজ করে তাই ও খুব সুন্দর মেহেদি দিতে পারে।সন্ধ্যা থেকেই ওদের বাড়ির মেয়েদের ভিড় পড়েছে বারোমাসি নীড়ে।
রাত দশটা অব্দি চৈত্র শুধু ওদের বাসায় ভাড়া থাকা ছোট মাঝারি পিচ্চিদের হাতে মেহেদি পড়িয়ে দেয়। এদের তাড়াতাড়ি বিদেয় করে ওরা যারা পরিচিত তারা বসবে।
পরিচিত বলতে বনচাঁপা, আম্রপালি, পূর্ণা আর চৈত্র। পৌষ এবারের চাঁদ রাতে ওদের সাথে জয়েন হতে পারেনি। কারণ আজকে পৌষের শরীরটা ভীষণ খারাপ। কিছু খেয়ে ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে আছে।
এতে অবশ্য পৌষ সহ ওদের সবার মন খারাপ। তবে কিছুই করার নেই। সবার আগে পৌষের স্বাস্থ্য। এতদিন পর আজকে হঠাৎ বমি করে দুর্বল হয়ে যায়।
এলাকার মাঠে বাজি পটকা ফুটাচ্ছে বসন্ত, হেমন্ত, ভাদ্র সহ আরো অনেক ছেলেপেলে। পার্বণ শুধু মাঠের এক কর্নারের দেওয়ালের উপর বসে ছিলো। নেহাত জোর করে ওকে নিয়ে এসেছে। কিন্তু মনটা তো ওর পৌষজানের কাছেই।
বসন্ত পার্বণকে উদাস হয়ে বসে থাকতে থেকে ডেকে উঠলো,
— পার্বণ ভাই? এখানে এসো।
নাকোচ করে দিলো পার্বণ। ওর ভালো লাগছে না। কেমন হাঁসফাঁস লাগছে। অস্থির অস্থির অনুভব করছে। পৌষকে দেখা লাগবে। আর থাকতে না পেরে ওদের থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো পার্বণ।
হেমন্ত আটকাতে গেলে বাঁধা দেয় ভাদ্র। মুচকি হেসে বলে,
— পৌষ অসুস্থ ওকে ধরে পারবি না। যতক্ষণ না পৌষ হাসবে ওর সাথে ততক্ষন পার্বণ নিজের চঞ্চলতা ফিরে পাবে না। ওকে আটকাতে পারবি না। এতক্ষন যে ছিলো এই অনেক।
এক প্রকার দৌড়ে নিজের রুমে যায় পার্বণ। ওর পরনে গোল গলার সবুজ গেঞ্জি আর ব্রাউন থ্রি কোর্য়াটার প্যান্ট। বাহিরে থাকায় আর এভাবে ছুটে আসায়। গেঞ্জি ভিজে গেছে ঘামে।
রুমের ড্রিম লাইট জ্বালানো। বিছানায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে পৌষ। বিছানায় গিয়ে পৌষের মুখের উপর ঝুঁকে পড়লো পার্বণ। কি নিষ্পাপ আর স্নিগ্ধ লাগছে ঘুমন্ত পৌষকে!
হাসি ফুটলো পার্বণের অধর কোণে। ও ধীরে ধীরে বেডের উপর বসে। গায়ের গেঞ্জি খুলে পাশে রাখে। নিচ থেকে আগেই বলে এসেছে এখন খাবে না। পড়ে যদি ইচ্ছে হয় খাবে। এখন ওর রিচার্জ হওয়া দরকার।
খালি গায়েই পৌষের পাশে ধপ করে শুয়ে পড়ে পার্বণ। এক হাত পৌষের কোমরে রেখে পৌষকে টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। ওষুদের প্রভাবে ঘুমোচ্ছে পৌষ।
মুখের উপর পড়ে থাকা পৌষের অবিন্যস্ত চুলগুলো গুছিয়ে দিলো। আলগা করে খোপা করা চুল খুলে দিলো। চুলের ভাঁজে মুখ গুঁজে লম্বা লম্বা শ্বাস টানলো।
পৌষপার্বণ পর্ব ৩০
আবেশে চোখ দুটো বুজে এলো পার্বণের। মুখ এগিয়ে নিয়ে ঘাড়ে গুজলো। নাক ঘষে অধর ছোয়ায় সেথায়। সিক্ত করে তুলে চুম্বনে। ঘাড় থেকে মুখ তুলে খুব আস্তে কিন্তু গভীর ভাবে ওষ্ঠর পরশ দিলো পৌষের গলার ভাঁজে। ঘুমের মাঝেই কেঁপে উঠলো পৌষ।
গলা থেকে মুখ তুলে পৌষের বুকে মুখ গুজলো। নাক টেনে ঘ্রাণ নিলো। নাক ঘষে কিছুক্ষন চুমু খায়, অতপর আবারও মুখ গুঁজে রাখে পৌষের বুকে। নিজের সাথে পৌষকে মিশিয়ে নিলো।

পরের পর্ব দেন তাড়াতাড়ি প্লিজ 🫶❤️❤️🔥💭💭