হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৪১
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
“- কোনো এক ক্লান্ত দিনে, যখন সুখ আনবো কিনে,
সেদিন আবারও ফিরব তোমারি সনে, ততদিন রেখো আমায় মনে……!”
এই একটি ছন্দের তালে হুমায়রার জীবন থেকে চলে গেল পুরো ছ’টি মাস! প্রকৃতির রঙ বলদেছে, ঋতু বদলেছে, দিন বদলেছে, মানুষ বদলেছে তবে হুমায়রার অপেক্ষাদের প্রহর আজও বদলায়নি। সে আজও বেলা করে কৃশানের বলে যাওয়া এই শেষ কথাটি স্মরণে এনে একের পর এক দিন কাটাচ্ছে। সেদিন ঘুমের ঘোরে হুমায়রার কানে ফিসফিস করে এই একটি কথাই বলে গিয়েছিল কৃশান। তারপর যখন তার ঘুম ভাঙে তখন আর দেখা মেলেনি মানুষটার। চোখ খুলে নিজের সামনে অর্নাকে আবিষ্কার করেছিল হুমায়রা। মেয়েটা কিয়ৎক্ষণ বিস্ময়াভিভূত হয়ে তাকিয়ে ছিল। পরপর হকচকানো স্বরে অর্নার উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করেছিল,
“ আমি এখানে কিভাবে এলাম? তোর ভাইয়া কোথায়? ”
“ ভাইয়াই তোমাকে এখানে এনেছে। তারপর আম্মুর সাথে এতক্ষণ কথা বলে একটু আগেই কোথায় যেন চলে গেল! ”
রমণীর নেত্রযুগল অশান্ত হয়। পদযুগল ছোটে মামনির কাছে। রেখা বেগম রুমে শুয়ে শুয়ে ফোন স্ক্রোল করছিলেন। তখনি দরজার নিকট হতে ভেসে আসলো পরিচিত কণ্ঠের সালাম। তিনি স্বাভাবিক ভাবেই সালামের জবাব দিলেন। পরপর ভাগ্নির দিক ফিরে চাইলেন। সাথে সাথেই কাঙ্ক্ষিত প্রশ্নের সম্মুখীন হলেন,
“ উনি কোথায় গিয়েছেন মামনি? আপনাকে কিছু বলে গিয়েছে…? ”
“ কোথায় গিয়েছে জানিনা। বলেছে সময় হলে ফিরবে। ”
হুমায়রা নিজের রুমে ফিরে আসে। হাঁটুতে মুখ গুঁজে চুপ করে বসে রয়। ওমনিই স্মরণে আসে ঘুমের ঘোরে শোনা মানুষটার কণ্ঠ। কথাগুলোর অর্থ পুরোপুরি বুঝতে সক্ষম হয়না। শুধু বুঝতে পারে- তার জীবনে অপেক্ষা নামক অধ্যায়ের সমাপ্তি আরও বহুদূর! যার পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে আজ সাত মাসের কৌটায় গিয়ে পৌঁছেছে।
এই অব্দি কৃশানের সাথে সামান্য যোগাযোগটাও হয়নি হুমায়রার। ইয়াসমিন বেগম যে ফোনটা দিয়েছিল তা আনেনি সে। মামনির মোবাইল দিয়ে প্রথম এক দুই মাস কল করে দেখত মাঝেমধ্যে। তবে সবসময়ই নাম্বারটি বন্ধ পেয়েছে। একটা সময় থেমে যায় সে, সকল চেষ্টা বাদ দিয়ে দিন কাটাতে থাকে নিজের মতো। প্রতিবেশী মোহিলাগুলোর তাকে নিয়ে বড্ডো মাতামাতি! এই অব্দি বেশ কয়েকটা বিয়ের প্রস্তাবও নিয়ে এসেছেন তারা। হুমায়রাকে বারবার বুঝিয়েছেন – এসব নেশাখোর , বখাটে ছেলেরা কখনো ভালো হয়না। আর নাতো কারো পরোয়া করে। ভালোবাসা এদের কর্ম নয়, হুমায়রাকেও কখনো ভালোবাসেনি তার স্বামী। সে আর কখনোই ফিরবে না…!
আরো কতো কি! অথচ তাদের কোনো পরামর্শই কানে নেয়নি মেয়েটা। যার দরুন এখন সকলেরই তার প্রতি একটা অনিহা তৈরি হয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই ছ’মাসে রেখা বেগম একেবারেই ভদ্রমহিলা ছিলেন। এই অব্দি কোনোকিছু নিয়ে হুমায়রা কে কোনোরূপ কষ্ট দেননি তিনি। এতদিনে বোধ হয় মেয়েটার প্রতি একটু ভালোবাসা তৈরি হয়েছে তার। তবে সেটা কি আদৌ সত্যি? নাকি এর পেছনেও লুকিয়ে আছে অন্য কোনো কারণ বা দায়বদ্ধতা..!
মির্জা নিবাসের প্রতিটা কোণে আজকাল নীরবতা ছেয়ে যায়! কোথাও কোনো রাগারাগি নেই, ধমকা ধমকি নেই , কারো ঘাড়ত্যাড়ামী নেই। শুধু আছে এক অদ্ভূত শূন্যতা। যেই শূন্যতার ভিড়ে একেবারে গুটিয়ে গেছেন ইয়াসমিন বেগম। আজ তার দুটো সন্তানই তার থেকে দূরে। একজনকে তিনি নিজের দোষেই হারিয়েছেন। হাজার চেয়েও আর তার খুঁজ পাননি। আর অপরজন তার সাথে অভিমান করে এই অব্দি বাপের বাড়িতে পা রাখেনি আর নাতো কখনো কথা বলেছে। ভদ্রমহিলা এখন প্রতিনিয়তই কাঁদেন। নিজের ভুলের জন্য নিজেকেই ঘৃণা করেন। তিনি এখন বুঝেন- পরের সন্তান যতই গুণবান ও আদর্শ হোক না কেন। তারা কখনো নিজের হয়না। অথচ তিনি সব ক্ষেত্রেই তার ছেলেকে অবহেলা করেছেন। বারবার নিজের জা এর ছেলের চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে নিজের ছেলেকে কথা শুনিয়েছেন। কিন্তু এটা ভুলে বসেছিলেন যে, পর কখনো আপন হয়না। সেদিন আলভি বাড়িতে ফেরার পর জিনিয়ার আচরণ সম্পর্কে যখন তাকে সবকিছু খুলে বলেন ইয়াসমিন বেগম। তখন আলভির তরফ থেকে উত্তর আসে,
“ এখানে জিনিয়া যা বলেছে সবকিছু তো সত্যিই ছোট আম্মু। ”
শেষ! এরপর আর কোনো কথা বলেননি তিনি। চুপচাপ নিজের রুমে এসে ভেবেছিলেন সেই দিনগুলোর কথা- যেদিনে নিজের ছেলের চেয়েও বেশি আদর দিয়ে আলভিকে বড় করেছিলেন তিনি। অথচ তার স্ত্রী আজ তাদেরকেই থাকা- খাওয়ার খোটা দেয়! ঐদিন জিনিয়ার উপর বেশ রাগ হয়েছিল তার। তবে নাজমিন বেগম জবাব দেয়ায় আর নিজে কিছু বলতে পারেননি তিনি। যার দরুন সবটা রাগ ঝেরেছে কৃশানের উপর। অবশ্য তিনি সবসময়ই ছেলের উপর রাগ দেখাতেন তবে সেটা ছেলেকে ভালো করার আশায়। কথার দ্বারাতে যেন ছেলেটা শুধরায়। কিন্তু তার পন্থা ভুল ছিল। যা আজ হারে হারে টের পান তিনি। হয়তো বা এখন তার বখাটে ছেলেটা পুরোপুরিই শুধরে গেছে। কিন্তু আফসোস, সে এখন তার কাছে নেই। অবশ্য সেদিন ইচ্ছে করেই কৃশানকে আটকাননি তিনি। চেয়েছিলেন এই জেদ থেকেই তার ছেলে মানুষ হোক। তবে আজকাল বড্ডো বুক পুড়ে ছেলেটার জন্য।
রান্নাঘরে অন্যমনস্ক হয়ে রান্না করেছ জিনিয়া। এখন ঘরের বেশিরভাগ কাজকর্ম সেই করে। যা আগে হুমায়রা করত কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া হীন। নাজমিন বেগমের কথায় রান্নাঘরে এলেও কোনোকিছু পারেনা বিদায় নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকত সে। নাজমিন বেগম ও ইয়াসমিন বেগম জানতেন- সে হুমায়রাকে সাহায্য করে আর রান্না শেখার চেষ্টা করে। তবে তেমন কিছুই না, সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রান্না শেখার ভান করত। মাঝে মাঝে হুমায়রা কে টুকটাক প্রশ্ন করত রান্না নিয়ে। হুমায়রা অভ্যাস মোতাবেক বিনয়ী স্বরেই জবাব দিত। অতঃপর নিজেই নিজের মতো করে সব কাজ করত।
জিনিয়ার এখন মনে হয়, মেয়েটা আসলেই ভালো ছিল। তার বোধ হয় উচিত হয়নি সেদিন এরকম আচরণ করা। তবে ভিতরে থাকা ইগোর কারণে তা স্বীকার করে না। মনে মনে প্রায় সময়ই হুমায়রার স্মরণ এলেও চুপ থাকে।
যোহরের সালাত আদায় করে বিছানায় ক্ষণিকের জন্য গা এলিয়ে দিল হুমায়রা। তখনি ফোন হাতে রুমে এলো অর্না। শয়নরত বোনকে দেখেই প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“ আপু তোমার কি শরীর খারাপ? ”
“ না তো! ”
“ তাহলে এমন সময়ে শুয়ে পড়লে যে? মন খারাপ? ”
হুমায়রা সূক্ষ্ম হাসল। এই মেয়েটার একটু বেশিই চিন্তা তাকে নিয়ে। দিনে অগনিত বার জিজ্ঞেস করবে – আপু তোমার কি মন খারাপ? হুমায়রার মুখে একটু হাসি না দেখলেই হলো ওঁর !
“ নারে বনু, আপুর মন খারাপ না। এমনিতেই একটু শুয়েছিলাম। ”
শোয়া থেকে উঠতে উঠতে জবাব দিল হুমায়রা। পৃষ্ঠে অর্না এসে তার পাশে বসল বলল,
“ দুলাভাইয়ের কথা ভেবে মন খারাপ হয়েছে তোমার না? আচ্ছা তোমার কি মনে হয়- দুলাভাই কি আদৌ ফিরবে? ”
হুমায়রা অবাক হয় না বারো বছরের মামাতো বোনের কথায়। বয়সের তুলনায় একটু বেশিই পেকে গেছে তার বোনটা। শান্ত স্বরেই উত্তর করে,
“ জানিনা, সবকিছু আল্লাহর উপর ছেড়ে রেখেছি। তিনি যা চান তাই হবে। ”
অর্না কপাল কুঁচকায়। বলে,
“ তোমার কি কষ্ট হয়না? কখনো একটু কাঁদোও না তুমি। আবার অন্য জায়গায় বিয়েও করো না! ”
“ মানুষের সামনে কেঁদে নিজেকে ভাঙতে নেই। পরে মানুষ সেই ভাঙা হৃদয়টাকেই আরো আয়োজন করে ভাঙবে। আমি মানুষের সামনে ভেঙে পরি না, আমি ভাঙ্গি রবের দরবারে অতঃপর বুক ভরা শান্তি দিয়ে আমাকে পুনরায় জুড়ে দেন তিনি! ”
আর বিয়ে.? বিয়ে তো সেই কবেই হয়ে গেছে। কেবল সমাজের কাছে তা এখন শুধু এক বৃথা অপেক্ষা নামক শব্দের উপাধি পেয়েছে। তবে তাতে কি! এই এক অপেক্ষায় অপেক্ষিত হয়েই এই ইহজীবন দিব্যি কেটে যাবে আমার। যেদিন এই দেহটা সাদা কাফনে আবৃত হবে সেদিন বুঝে নিবি দুনিয়াতে আমার অপেক্ষার অধ্যায়ের এখানেই সমাপ্তি….! ”
“ আর যদি এর আগেই দুলাভাই ফিরে আসে..? ”
ঠোঁট জোড়া শুধু কিঞ্চিৎ প্রসারিত হলো রমণীর। কোনো শব্দ নিঃসৃত হলো না। বিরক্ত হলো অর্না। বলল,
“ ধেৎ, দুলাভাই এমন কেন? আর এইদিকে আমার পছন্দের একজন লেখক “-ফেরারি মানব-” তার স্ত্রীকে এতো ভালোবাসে যে তার স্ত্রীর উদ্দেশ্যে লিখা এক একটা ক্যাপশন দেখে সবাই জাস্ট মুগ্ধ হয়ে যায়! ”
“ এটা আবার কে? ”
“ হায় আল্লাহ, তোমাকে তো আরেকদিনও বললাম। একদিন ফেসবুক স্ক্রোল করতে গিয়ে সামনে উনার একটা পোস্ট এসেছিল। লোকটার প্রোফাইল পিক দেখে কৌতূহল বশত আমি আইডিতে ঢুকেছিলাম। তারপর দেখি লোকটা আমাদের আইডির সাথে ফ্রেন্ড। আম্মুকে পরিচয় জিজ্ঞেস করাতে বলেছে- “আম্মুর দূর সম্পর্কের কি যেন হয় নাকি। আমি চিনব না। ” উনার প্রোফাইল ঘাটাঘাটি করে প্রোফাইলে পিন করা উনার পেইজ পাই। পেইজের ক্যাটাগরিতে লিখা রাইটার। উনি শুধু ক্যাপশন লিখে উনার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে। অনেকেই কমেন্টে বলেছিল উনাদের নিয়ে গল্প লিখতে। উত্তরে উনি কি লিখে পোস্ট করেছে জানো?
“ তাঁকে নিয়ে আমি লিখতে বসলে লিখে শেষ করা যাবেনা। তবে তাঁর বর্ণনা শুনে কেউ তাঁর প্রেমে পড়বে তা আমার সহ্য হবেনা। ”
“ ওহ। ”
ছোট উত্তর হুমায়রার। অর্না থেমে নেই। পেইজ টাতে ঢুকে বেছে বেছে নিজের পছন্দের ক্যাপশনগুলো আওড়াতে লাগল,
“ শুনছো মেয়ে, আমার রুক্ষ চুলে তোমার তুলতুলে হাতের বিচরণ নেই বলে- ওরা আজ বড্ডো পাগলাটে হয়ে আছে….”
“ তোমারঐ মায়াবী চোখের পল্লব ঝাপটানো দেখতে না পেয়ে, আমার ঘুমের রাজ্যে আজ অনিদ্রা নেমেছে.! ”
“ তোমার স্নিগ্ধ ঠোঁটের হাসির অভাবে হৃদ গহীনের শান্তিরা আজ নিখোঁজ হয়েছে…..”
“ চুপ কর অর্না! ”
অত্যধিক শান্ত স্বর হুমায়রার। অর্নার বলা ক্যাপশন শুনে বারবার কৃশানের সাথে কাটানো নিজের অতীতের মাঝে চলে যাচ্ছে সে। ওমনিই ভিতরের শূন্যতারা জাগ্রত হয়ে উঠছে। অর্না চুপ হয়ে গেল। কিয়ৎক্ষণ পর থেকে বলল,
“ এইদিকে তুমি দুলাভাইকে এতো ভালোবাসার পরেও দুলাভাই তোমায় ছেড়ে চলে গেছে! আর অন্যদিকে “ ফেরারি মানব ” তার স্ত্রীকে এতো ভালোবাসার পরেও সে তাকে ছেড়ে চলে গেছে! ”
“ তুই কি করে জেনেছিস তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে? মামনি বলেছে? ”
“ না, আম্মুকে জিজ্ঞেস করতে গিয়েছিলাম আম্মু বলেছে – ঐ আইডিতে আর ঢুকতে দেখলে আমাকে ফোন ধরতে দিবে না। আমি ক্যাপশন দেখেই আন্দাজ করেছি! ”
“ মানুষের ব্যাপারে এতকিছু না ভেবে ঠিকমতো পড়াশোনা কর। নয়তো মামনির কাছে বিচার দিব। ”
বলেই টান মেরে ফোনটা নিয়ে নেয় হুমায়রা।
“ আরে, আপু এটা কি পড়ার সময় হলো নাকি? রাতে পড়ব এখন ফোন চালাব। আম্মুর থেকে বলে এনেছি মোবাইল। ”
হাত বাড়িয়ে ফোনটা নেয়ার চেষ্টা করল অর্না। হুমায়রা দিতে চাইল না। স্ক্রিনে তখন “ফেরারি মানব” আইডিটা ভাসছে। দুবোনের হাতাহাতির মাঝে মনোযোগ। কখন যে বেখেয়ালি হুমায়রার আঙুলে চাপ পড়ে আইডিতে কল চলে গেছে সেদিকে ধ্যান নেই।
ঢাকা উত্তরা,
ছোট খাটো একটা ব্যাচেলর রুম। সেখানে স্থান পেয়েছে গুটি কয়েক সিঙ্গেল বেড। তবে বেডগুলোতে তখন কোনো মানুষ নেই। তন্মধ্যে একটা বেড কাঁপিয়ে সেখানে রাখা ফোনটা বেজে উঠল। ঘরময় প্রতিধ্বনিত হলো “ মুস্তফা ” গজলটির কিছু লাইন,
“ সাইয়্যেদুল আওয়ালি, সাইয়্যেদুল আখিরি..(২X)
ওহে মেরা নাবি, ওহে মেরা নাবি….”
এর মাঝেই জায়নামাজ হাতে ফোনের মালিক এগিয়ে এলো। মাত্রই বোধ হয়, সালাত শেষ হয়েছে তার। মাথায় টুপি, ঘাড় সমান লম্বা সিল্কি চুলগুলো হালকা বাঁকানো। মুখে খুঁচা খুঁচা চাপ দাঁড়ি। পরনে ওয়াইন কালারের শার্টের সবগুলো বোতাম লাগানো। জায়নামাজ টা যথাস্থানে রেখে ধীরে সুস্থে এসে ফোন হাতে নিল সে। স্ক্রিনে তাকাতেই ঘন ভ্রূ যুগল কুঁচকাল পুরুষটির। এমন সময়ে বোধ হয় আশা করেনি কলটি। কিয়ৎক্ষণ সময় নিয়ে ফোন রিসিভ করল মানব। গমগমে স্বরে সালাম চুকল,
“ আসসালামু আলাইকুম ( বাকিটুকু মনে মনে) ”
ওপাশ থেকে কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া গেল না। অদ্ভূত নীরবতায় থমকে গেল পরিবেশ। হঠাৎ মোবাইলের ভিতর থেকে একটা পুরুষালী কণ্ঠ ভেসে আসতেই চমকে উঠল হুমায়রা ও অর্না। দুবোন তব্দা খেয়ে গেল। কণ্ঠটা কেমন যেন বড্ডো চেনা চেনা ঠেকল হুমায়রার নিকট। মেয়েটা তৎক্ষনাৎ স্ক্রিনে তাকাল সেখানে ঝলঝল করছে “ফেরারি মানব ” লিখাটা। প্রোফাইল পিকচারেও একই লিখার ছবি। মেয়েটা হতভম্ব, হকচকিত। বিস্ময়ে কথা বের হচ্ছে না। শুধু শোনা যাচ্ছে তার ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ। তখনি হুট করেই ওপাশ থেকে কল টা কেটে গেল। হুমায়রা তখনো স্তব্ধ হয়ে আছে। মেয়েটার বারবার মনে হচ্ছে- সে কৃশানের কণ্ঠ শুনেছে! পরক্ষণেই ফের ভাবল। এটা তো তার মামনির আত্মীয়। আর কৃশান হলে কি কলটা কেটে দিত? সেই আজকাল বেশি ভাবছে মানুষটাকে নিয়ে। মেয়েটা শান্ত হয়ে যায়! পরপর ফোনটা দিয়ে দেয় অর্নাকে।
অর্না এখন “ফেরারি মানব” আইডিটা নিয়ে খটকায় আছে। হুমায়রার মতো তারও কিছুটা সন্দেহ হয়েছে। মনে জাগছে অন্য প্রশ্ন, “ তার আম্মু তাকে মিথ্যে বলেনি তো? ” এটা আসলেই রেখা বেগমের কোনো দূর সম্পর্কের আত্মীযের আইডি?
খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পুনরায় আইডির সব ডিটেইলস চেক করতে লাগল মেয়েটা। আইডিটা ২০২২ সালের আর পেইজটা খুলা হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। পেইজে ফলোয়ার চল্লিশ হাজার। রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস- ম্যারিড। বিওতে লিখা-
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৪০
“ এই ফেরারি মানব কেবল এক পবিত্র নারীর কাছেই দৃশ্যমান ”
এর মাঝেই পেইজটি থেকে ফলোয়ার মেনশনের নোটিফিকেশন এলো। মাত্রই আরেকটি নতুন পোস্ট করা হয়েছে। সাথে সাথেই পেইজটিতে গেল অর্না। দেখতে পেল দুলাইনের একটা ক্যাপশন,
“ কিছু দূরত্ব সম্পর্ক শেষ করে, আবার কিছু দূরত্ব সম্পর্ক নতুন করে তৈরি করে…..”
