হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৪০
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
বাংলার বারোটি মাসের অন্তিম অধ্যায় লিখে ক্যালেন্ডারের প্রতিটি পাতায় নতুনত্ব নিয়ে আগমণ ঘটেছে এক নতুন বর্ষের। জরাজীর্ণ ও গ্লানিময় অতীতকে পেছনে ফেলে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনায় বেঁচে থাকার এক নতুন সূচনা যেন এই নববর্ষ। ধরণীর প্রতিটি প্রান্তে আজ ছড়িয়ে পড়েছে নতুনত্বের আমেজ। নববর্ষকে বরণ করে নিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বন্দোবস্ত করা হয়েছে বিরাট আয়োজনের। সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে জমে উঠেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কুমিল্লা শহরের সবচেয়ে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ আয়োজনের অন্ত নেই। মাঠভর্তি শিক্ষার্থী, মেয়েদের প্রায় সকলের গায়ে শোভা পেয়েছে লাল পাড়বিশিষ্ট সাদা শাড়ি।
লাল, সাদার মিশ্রণে এক অপরূপ সৌন্দর্য তারা ছড়িয়ে দিচ্ছে চারপাশে। তন্মধ্যে কিছু মেয়েদল মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করছে। তাদের নাচের সাথে তাল মিলিয়ে ক্ষণে ক্ষণে হইহুল্লোড় করছে বাকিরা। রবি, সাইফুল ও অভিও বাদ পড়েনি। শুধু এক জনেরই সেদিকে কোনো মনোযোগ নেই। আর সে হলো কৃশান মির্জা। সবার মাঝে বসে বসে ফোন স্ক্রোল করছে সে। এভাবেই অনুষ্ঠান এগোতে লাগল। নাচের পর্ব শেষ করে গানের পর্ব সূচিত হলো। প্রায় সব ইয়ার থেকেই কেউ না কেউ গানে অংশগ্রহণ করেছে তবে থার্ড ইয়ারের একজনেরও নাম নেই। অনুষ্ঠানের সবকিছু পরিচালনা করছে ফোর্থ ইয়ারের এক বড় ভাই। তার সাথে কৃশানের বেশ ভালো সম্পর্ক। আর এমনিতেও থার্ড ইয়ারে কৃশানদের গ্রূপটাই সবচেয়ে জনপ্রিয়, পড়ালেখা বা ভণ্ডামি দুদিক দিয়েই। বড় ভাইটি হুট করেই মাইকে কৃশানের নাম ধরে ডেকে উঠলেন। নিজের নাম মঞ্চে শুনতেই চকিত দৃষ্টিতে চাইল কৃশান। সাথে সাথেই বড় ভাইটি বললেন,
“ কৃশান প্লিজ মঞ্চে এসো, আমরা সবাই তোমার কণ্ঠে একটা গান শুনতে ইচ্ছুক। ”
“ না ঠিকি আছে! শেষ মেষ এই লাফাঙ্গা আর কাউকে পাইল না! যার সাথে গাওয়া- গাওয়ীর কোনো সম্পর্ক নেই তারেই ডাকল গান গেতে? তাও মঞ্চে……! ”
তাচ্ছিল্যের কণ্ঠ রবির। এর মাঝেই আবারও মাইকে ঘোষণা হলো কৃশানের নাম। সাথে সকল শিক্ষার্থীরাও সংবর্ধনা দিতে লাগল। এদিকে কৃশান এখনো নিস্পৃহ। অভি গলা উঁচিয়ে সিনিয়রের উদ্দেশ্যে বলতে নিল,
“ ভাই কৃশান এসব পারে ন…….”
শেষটুকু আর উচ্চারণ করতে পারল না বেচারা! এর আগেই তার সামনে দিয়ে লম্বা লম্বা পায়ে মঞ্চের দিকে এগোতে দেখা গেল কালো জিন্সের জ্যাকেট পরিহিত চিরচেনা বন্ধু নামক যুবকটিকে। তিন বন্ধুর চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল! অনড় আঁখিযুগল স্থির করে তাকিয়ে রইল স্টেজে মাইক হাতে দাঁড়ানো বন্ধুর দিকে। চারপাশে ছেলেমেয়েদের হইচই! সহসা সব কোলাহলের ঊর্ধ্বে গিয়ে কৃশানের পুরুষালী ভরাট কণ্ঠে ধ্বনিত হলো তানভির ইভানের একটি গান। মাঠ ভর্তি শিক্ষার্থীদের মুগ্ধ দৃষ্টি কৃশানের উপর নিবদ্ধ। একটা সময় গানের মাঝখানে চোখজোড়া বন্ধ করল মানব। ওমনিই চোখের পাতায় ভেসে উঠল একটি মায়াবী মুখ। কৃশানের মনে হলো গানের এই লিরিক্স গুলো যেন সেই মুখের জন্যই তৈরি হয়েছে। সে গলা ছেড়ে গেয়ে উঠল,
“ মায়া ভরা চোখে চেয়ে, আমাকে করেছে শেষ!
আমিও হয়েছি পাগল…….
তোকে ছাড়া আমার, কাটেনা সময়!
কিভাবে বুঝাই? তোকে কত করে চাই!
রাত দিন আমার, কাটে নিরালায় ভেবে!
কি জাদু চোখে? কি মায়া জড়ালে….? ”
এবেলায় এসে সবগুলো কণ্ঠ মিলিত হলো। কৃশানের সাথে গলা মিলিয়ে সকলে সমস্বরে গেয়ে উঠল,
“ আজ উড়ে উড়ে মন, ঘুরে ঘুরে……!
তোকে চাই কাছে- বারেবার….!
মন মানেনা, করে ছলনা…..!
তোকে খুঁজে ফিরি- বারেবার….!
তোমাকে চাই, তোমাকে চাই…!
আমি শুরু থেকে শেষ তোকে চাই….! ”
অতঃপর একটা সময় গানের লাইন শেষ হলো। কৃশানের কণ্ঠনালী শান্ত হলো। তখনি সকলের করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠল চারিপাশ। কৃশানের গলার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠল প্রত্যেকে। সিনিয়রের উদ্দেশ্যে একটা মুচকি হাসি উপহার দিয়ে স্টেজ থেকে নেমে এলো কৃশান।
“ কিরে মামা, আমরা তো ভেবেছিলাম তোর কাকের সুর, এখন দেখি তুই খাটি কুকিল…! ”
আশ্চর্য কণ্ঠে বলে উঠল রবি। তার কথার জবাব দিল সাইফুল,
“ প্রেমে পড়ে গায়ক হয়ে গেছে আমাদের বন্ধু! ”
“ নেহ, মামা এতো সুন্দর গানের জন্য আজকে আমার ভাগের একটা সিগারেট তোর! ”
কৃশানের মুখের সামনে সিগারেট টা ধরে বলল অভি। পৃষ্ঠে শোনা গেল কৃশানের কাটকাট নিষেধাজ্ঞা,
“ এটা সরা সামনে থেকে, অলরেডি দুটো খেয়ে ফেলেছি আর একটা রাতে খাব। এখন আর খাওয়া যাবে না। ”
তার কথায় হতাশার নিশ্বাস ত্যাগ করল তিন বন্ধু। যে কৃশান দিনে তিন/ চার প্যাকেট সিগারেট শেষ করত সে কিনা এখন গুণে গুণে সিগারেট খায়! সাথে ক্রমান্বয়ে খাওয়ার সংখ্যা কমায়! নেশা করা তো সেই কবেই বাদ দিয়ে দিয়েছে। তবে সিগারেট টা ছাড়তে সময় লাগছে। কেননা এটা তার নিয়মিত রুটিনের লিমিট লেস খাদ্য ছিল। কিন্তু এখন দিনদিন তা লিমিটের ভিতরে এসে গেছে। এইভাবেই হয়তো একটা সময় একেবারেই ছেড়ে দিতে পারবে।
“ এই দিলবার! ”
চার বন্ধুর কথোপকথনের মাঝেই হঠাৎ পেছন থেকে একটা নারী কণ্ঠ ভেসে আসলো। তৎক্ষনাৎ কৃশান ব্যতীত বাকি তিন জন সেদিকে তাকাল। দেখতে পেল কিছু সিনিয়র আপু এদিকটায় এগিয়ে আসছে। মেয়েগুলো একেবারে তাদের সামনে এসে থামল। সবার দৃষ্টি কৃশানের উপর। তন্মধ্যে মাঝখানের মেয়েটা তার সাথের মেয়েটার থেকে একটা গোলাপ নিল। হুট করেই বলে উঠল,
“ এই যে জুনিয়র, তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে। নাও ফুলটা দিয়ে আমাকে প্রোপোজ করো জলদি! ”
মেয়েগুলোকে ভার্সিটির সবায় চেনে। এদের কাজই সবসময় জুনিয়র দের খাটানো ও তাদের পিছে লেগে থাকা। যেমন সুন্দরী তেমন অভদ্র। সিগারেট সহ খায় এরা। চোখ তুলে মেয়েটার ফুল বাড়িয়ে রাখা হাতের দিক তাকাল কৃশান। পরপর তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,
“ ঘরে পবিত্র ফুল থাকতে, বাইরের নষ্ট বীজের দিক নজর দেয়ার মতো দুর্দিন আসেনি এই কৃশান মির্জার! ”
বড় সড় একটা বজ্রপাত পড়ল যেন উপস্থিত সকলের মাথায়। কৃশানের বলা- “ ঘরে ” শব্দটাতে পুরো হাই ভোল্টেজের ধাক্কা খেয়েছে রবি, অভি ও সাইফুল। তবে তারা মুখ খোলার আগেই চেঁচিয়ে উঠল সামনের রমণী,
“ হাউ ডেয়ার ইউ টু টক উইথ মি বাই থিজ ল্যাঙ্গুয়েজ! ”
“ আস্তে মামনি, গলা উঁচু করলেই ভিডিও ভাইরাল! ”
মেয়েটার মুখের সামনে ভিডিও ধরে বলল রবি। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে মেয়েটির কৃশানকে প্রোপোজ করার দৃশ্য। সাথে দুজনের কথাবার্তা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। মেয়েটি এবার দমে গেল। ভিডিও টা অন্যদের কাছে পৌঁছালে সবাই তাকে নিয়ে মজা উড়াবে। যেটা কখনোই হতে দেয়া যাবেনা। রাগে কিয়ৎক্ষণ সাপের ন্যায় হিসহিস করল সে। পরপর সঙ্গীদের নিয়ে স্থান ত্যাগ করতে করতে বলল,
“ তোদেরকে দেখে নিব আমি! ”
তার কথায় তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল তিন বন্ধু। পরপরই তিনজন ঝাপিয়ে পড়ল কৃশানের উপর,
“ এই লাফাঙ্গা! ঘরে পবিত্র ফুল মানে কি? ”
“ তুই না কাকে যেন ভালোবাসিস? তাহলে ঘরে আবার কে? ”
“ এই এক মিনিট, ঘরের টাই ঐটা নয়তো? কিন্তু……”
এতো এতো প্রশ্নের ভিড়ে বিরক্ত হলো কৃশান। ধমকে বলল,
“ কি ঘরের বাইরের লাগিয়ে দিয়েছিস! আমার জীবনে একজনই আছে আর এটা আমার বউ। ”
এক প্রকার আকাশ থেকে টপকে পড়ল যেন ছেলেগুলো। কণ্ঠনালী দিয়ে যেন বিস্ময়ে কথা বেরোচ্ছে না। সাইফুল খুব কষ্টে বলল,
“ এর মানে তুই বিবাহিত…!”
“ হুম। ”
“ ওরে বাটপার……! এই তুই সবাইকে জ্ঞান দিতি কখনো বিয়ে না করতে, বিয়ে মানে প্যারা ! আর এইদিকে নিজেই সবার আগে কাজ সেরে বসে আছিস! ”
“ তখন বিয়েটা চাপে পড়ে করেছিলাম আমি। ”
“ কিসের চাপ? ”
উত্তরে বিয়ের সব ঘটনা একেবারে খুলে বলল কৃশান। তিন বন্ধু সেই ঘটনা শুনল মনোযোগ দিয়ে।
অপরাহ্নে, নাজমিন বেগমের ডাক শুনে রুম থেকে বেরিয়ে এলো হুমায়রা। ড্রয়িং রুমে নাজমিন বেগম, ইয়াসমিন বেগম ও জিনিয়া উপস্থিত। কিছুক্ষন আগেই জিনিয়া ও হুমায়রার জন্য দুটো শাড়ি সাথে চুড়ি সহ বেশ কিছু জিনিসপত্র কিনে এনেছে আলভি। নববর্ষে সবসময়ই শাড়ি পরে জিনিয়া। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। আলভিকে সেই বলেছে শাড়ির কথা। আর হুমায়রার কথা যাওযার সময় নাজমিন বেগম বলে দিয়েছিলেন। এই কিছুদিনের অন্তরে আলভির সাথে জিনিয়ার সম্পর্ক খানেক স্বাভাবিক হয়েছে। সে যতটা মদন ভেবেছিল লোকটাকে ততোটাও মদন নয় লোকটা। বরং আগের থেকে এখনকার আলভি পুরোটাই ভিন্ন এবং সুদর্শনও হয়েছে।
হুমায়রা আসতেই তার দিকে একটা শাড়ি বাড়িয়ে দিলেন নাজমিন বেগম। বললেন,
“ নাও, এটা আলভি এনেছে তোমার জন্য। জিনিয়ার সাথে তুমিও পড়। দুই জা একসাথে পড়লে ভালো লাগবে। ”
হুমায়রা বিভ্রান্তিতে পড়ে গেল। একে তো নববর্ষ উপলক্ষে এসব উদযাপন করা ইসলামে জায়েজ নয়। আবার আলভির আনা কোনোকিছু নেয়ার ক্ষেত্রে কৃশানের তরফ থেকে নিষেধাজ্ঞা আছে। তবে সেটা সবার সামনে বলা যাবেনা। অগত্যা প্রথম কারণটাই বলার সিদ্ধান্ত নিল। তবে এর আগেই ইয়াসমিন বেগম বলে উঠলেন,
“ কৃশানের চিন্তা করার দরকার নেই। ওকে বলবে আমি এনে দিয়েছি। ”
নাজমিন বেগম কথাটা স্বাভাবিক ভাবে নিলেও জিনিয়ার ভ্রূ কুঁচকে গেল। বলল,
“ কেন আলভির এনে দেয়া জিনিস নিলে সমস্যা কি? ”
“ আসলে ওদের দুভাই এর মধ্যে একটু ঝামেলা আছে। ”
ইয়াসমিন বেগমের উত্তরে মনে মনে অনেককিছু ভাবনায় এলেও নিজেকে দমিয়ে রাখল জিনিয়া। পরপর হুমায়রার উদ্দেশ্যে বলল,
“ তুমি কি শাড়ি নিবে? ”
“ আসলে ভাবি, আমি কখনো এসব উদযাপন করি না। এগুলো ইসলামে জায়েজ নয়। তাই বলছিলাম……”
হুমায়রার কথায় মেজাজ খারাপ হলো জিনিয়ার। কোনোকিছু না ভেবেই মেয়েটাকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠল,
“ মাদ্রাসায় পড়েছ বলে সব বিষয়ে এমন ইসলাম টেনো না তো! বিরক্ত লাগে এসব। আর সবচেয়ে বড় কথা, আমার স্বামীর কোনো জিনিস নিবে না কিন্তু আমার স্বামীর টাকার রোজগার তো ঠিকি খাচ্ছ তোমরা দুজন! তোমার স্বামী জীবনে এক টাকা ইনকাম করেছে? ঘরের যত খরচ এর বেশিরভাগই তো আমার শ্বশুর আর স্বামীরই। সব জায়গায় নিজের স্বামীকে নিয়ে এতো গর্ব করো কোন যোগ্যতায়! কিছুদিন আগেও আমার বাড়ির মানুষকে কথা শুনিয়েছ নিজের স্বামীর জন্য! ”
অপ্রত্যাশিত বাক্যগুলো কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই উপস্থিত সকলে নির্বাক হয়ে গেল। হুমায়রা শীতল চোখে চাইল সামনের রমণীর পানে। সে এটুকু বুঝতে পেরেছিল যে, জিনিয়া তাকে তেমন একটা পছন্দ করে না। এজন্য সর্বদাই নিজেকে জিনিয়ার থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে এসেছে। তবে এরকম ব্যবহার মোটেও আশা করেনি মেয়েটা! নাতো কোনোদিন কল্পনা করেছে! ঠিক একই অবস্থা হয়েছে ইয়াসমিন বেগমের। ভদ্রমহিলা পুরো থ হয়ে আছেন! মুখে বলার মতো ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। এর মাঝেই শোনা গেল নাজমিন বেগমকের চড়া কণ্ঠ,
“ জিনিয়া! এগুলো কীরকম কথা বলছো তুমি? ”
“ আমিতো ভুল কিছু বলিনি আম্মু! ”
“ তুমি রুমে যাও! ”
কথা শুনল না জিনিয়া। নিজের জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে রইল সে। নাজমিন বেগম নিজেই এগিয়ে এলেন। পরপর ছেলে বউয়ের হাত ধরে, টেনে নিয়ে যেতে লাগলেন।
“ আম্মু আপনি আমাকে রুমে নিয়ে যাচ্ছেন কেন? আমি ভুল কিছু বলেছি নাকি? প্রায় সবকিছুর টাকাই তো আব্বু আর আপনার ছেলে দেয়! ”
যেতে যেতে জিনিয়ার বলা কথাগুলো শুনতেই ধপ করে সোফায় বসে পড়লেন ইয়াসমিন বেগম। তখনি চৌকাঠে দেখতে পেলেন ছেলের অবয়ব। রণমূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে কৃশান। একটু আগেই বন্ধুদের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেছিল সে। সবাই তার সাথে বাসায় আসতে চেয়েছিল হুমায়রারকে দেখার জন্য। তবে কৃশান কোনোমতেই তাতে সায় দেয়নি। উল্টো শাসিয়ে চলে এসেছে। এখানে এসে জিনিয়ার বলা কথাবার্তা কর্ণপাত হতেই পা থেমে গেছে তার। ইয়াসমিন বেগম তাকে দেখতেই কান্নাভেজা কণ্ঠে চেঁচিয়ে উঠলেন,
“ মানুষের থেকে এভাবে কথা শোনার জন্যই তোকে জন্ম দিয়েছিলাম আমি। কোন পাপের ফলস্বরূপ তোর জন্ম হয়েছিল আমার পেটে! আর কি করলে একটু মানুষ হবি তুই? ভেবেছিলাম বিয়ে করালে বউয়ের টানে ভালো হবি, কাজ করবি। কিন্তু না, তুই কোনোদিন মানুষ হবি না। সারাজীবন আমার মাথার উপর বসে আমার মাথা খাবি! এর চেয়ে ভালো মেরে ফেল আমায়, মরে যদি একটু শান্তি মেলে তোর মেল থেকে! ”
ভদ্রমহিলা হুশে নেই। রাগে দুঃখে মুখ দিয়ে যা বেরোচ্ছে বলে যাচ্ছেন। তখনি ভেসে আসলো কৃশানের ঠান্ডা স্বর,
“ আমি বেঁচে থাকতে আমার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মরতে হবে না তোমায়। আজকের পর থেকে এই কৃশান আর কখনো মির্জা পরিবারে অশান্তি নিয়ে আসবে না। ”
মুহূর্তেই শান্ত হয়ে গেল পরিবেশ। হুমায়রা তখনো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ হাতে টান পড়তেই চমকে তাকাল মেয়েটা। শুনতে পেল মানুষটার কণ্ঠ,
“ চল…! ”
মুখে শব্দ উচ্চারণের আগেই তাকে নিয়ে রুমের দিক হাঁটা ধরল কৃশান। রুমে এসেই আদেশ ছুঁড়ল,
“ বোরকা পর! ”
“ কোথায় যাবেন? ”
“ যেখানে ইচ্ছা, তোকে যা বলেছি সেটা কর। ”
কথা বাড়াল না হুমায়রা। চুপচাপ মিনিট পাঁচেকের মাথায় তৈরি হয়ে গেল। অতঃপর পূর্বের মতোই তার হাতটা মুঠোয় পুরে নিল কৃশান। বেরিয়ে পড়ল নিজ গন্তব্যে। সোফায় বসে সে প্রস্থান শান্ত চোখে দেখলেন ইয়াসমিন বেগম।
ইকরা আজ ভীষণ খুশি। খুশিতে যেন মাটিতে পা পড়ছে না তার। সে মা হতে চলেছে- এই একটা বাক্যই মেয়েটাকে যেন দুনিয়ার সকল সুখ এনে দিয়েছে। প্রথম দফায় খুশিতে কতক্ষণ কেঁদেছে উমরের বুকে মাথা রেখে। এবেলায় এসে বাড়িতে ফোন লাগাল। বেশ সময় নিয়েই তার কল ধরলেন ইয়াসমিন বেগম। কল রিসিভ হতেই মায়ের উদ্দেশ্যে সালাম চুকে, ভালোমন্দ জিজ্ঞেস করে নিল। পরপর মায়ের কণ্ঠ কেমন অস্বাভাবিক ঠেকতেই প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“ কিছু হয়েছে আম্মু? আর হুমায়রার কোথায়? ওকে কল দিলাম ধরছে না? ”
কিয়ৎক্ষণ নীরব থেকে ঝরঝর করে কেঁদে দিলেন। ইকরা হতবম্ব,হকচকিত। বিচলিত গলায় জানতে চাইল,
“ আম্মু কাঁদছ কেন তুমি? কি হয়েছে বলো আমায়? ”
ইয়াসমিন বেগম কেঁদেই যাচ্ছেন। অতঃপর ভাঙ্গা গলায় মেয়ের কাছে সব খুলে বললেন। পৃষ্ঠে অপর পাশ থেকে কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া গেল না। কিছুটা সময় নীরব রইল। এরপর হুট করেই কল কাটার শব্দ হলো। ইয়াসমিন বেগম সাথে সাথেই কল ব্যাক করলেন তবে কোনো রেসপন্স মিলল না। একের একের পর কল দিয়েও আর মেয়েকে পেলেন না।
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৩৯
কৃশানের সাথে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এর জার্নিতেও নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছে হুমায়রা। গাড়ি চলার মাঝেই কখন যে চোখ লেগে আসায় মানুষটার কাঁধে ঘুমিয়ে পড়েছে জানা নেই। একটা সময় ঘুম ভাঙল তার। তবে চোখ খুলে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে দেখার পরিবর্তে যা দেখল তা স্বপ্নেও আশা করেনি মেয়েটা। সবটাই ছিল অপ্রত্যাশিত, অকল্পনীয়, ভাবনার সম্পূর্ণ বিপরীত…..
প্রথম পরিচ্ছেদ সমাপ্ত

ditio poricadar porbo gula taratari dio plz………….
Next part please 🙏🏻🙏🏻
আপু এর পরের পরিচ্ছেদ একটু তাড়াতাড়ি দিবেন। এটা আমার অনেক অনেক পছন্দ।।
প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ আপু। শুধু আমার না , আরো অনেকে ই পছন্দ করে । একটু তাড়াতাড়ি দিবেন প্লিজ
অনেক সুন্দর হয়েছে
Next part please 🥺
Apu druto porbo dan
Next part plz plz plz……
ditio porbo taratari diben plzz…
আপু গল্পটা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ ♥️ পরবর্তী পর্বগুলো তাড়াতাড়ি দেওয়ার জন্য অনুরোধ রইল প্লীজ ♥️