Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৩

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৩

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৩
সুরভী আক্তার

সময় অতিবাহিত হয়েছে কিছুটা ।
কাবির ম্যানসন শান্ত, নিস্তব্ধ । দুপুর প্রায় একটা বাজতে চললো । সদ্য শাওয়ার নিয়ে ব্যালকনির ইজি চেয়ারটায় বসেছে মেঘা । চেয়ারের পিঠে ভেজা চুল গুলো মেলে দিয়েছে । মেঝেতে লুটোচ্ছে কৃষ্ণ কেশরাশী । একস্থির হয়ে নিচে বাগানের দিকে চেয়ে আছে মেঘা । দুচোখ ফোলা । চেহারা লালচে । আঁখি দ্বয়ের আদ্র কিনারা রক্তিম বর্ন ধারন করেছে কান্নার দরুন । সেই তখন থেকে কেঁদেছে মেয়েটা ‌। চেন খুঁজে পাওয়া যায় নি এ অবধি । পুরো বাড়ি খোঁজা হয়েছে তন্ন তন্ন করে । এখনো চলমান খোঁজা খোঁজি । তবে মিলছে না । মেঘার কান্নার মূল হেতু হারানো চেন , এটাই সবার ধারনা । তবে শুধু হারানো চেনের জন্য নয় , মেঘা আরো একটা কারনে কেঁদেছে এতক্ষণ । সেটা সিরাত ব্যাতীত কেউ আন্দাজ করতে পারে নি ।

সেই তখন থেকেই মনমরা হয়ে আছে মেঘা । কথা বলছে না মুখ ফুটে । এখন সবাই বেরোবে শপিংয়ের উদ্দেশ্যে । শাফাহ্ তৈরি হয়ে মেঘা কে ডাকলো । নিচে আদ্র আছে । শুভ্র অফিস থেকে সোজা মার্কেটে আসবে । শাফাহ্ ডাকতেই মেঘা সোজাসুজি বললো…ও যাবে না , ডিস্টার্ব না করতে । শাফাহ্ বেশ কবার জোড়া জোড়ি করলো । কাজ হলো না । মেঘা একই কথা বললো‌ বারংবার , যে ও যাবে না ।
শেষমেষ হাল ছেড়ে নিচে নামলো শাফাহ্ । আদ্র কে বলতেই আদ্র উপরে উঠলো । ব্যালকনিতে গিয়ে মেঘা কে ডাকলো স্বাভাবিক ভাবেই…
” মেঘ , রেডি হোস নি এখনো ? যাবি না ? দেরি হয়ে যাচ্ছে , তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে ।
মেঘা না ফিরে, না তাকিয়ে মলিন কাঠ স্বরে উত্তর করলো…
” আমি যাবো না ভাইয়া , তোমরা যাও ।
” যাবি না মানে । ওয়েট করছি আমি । যা, গিয়ে তৈরি হয়ে নে ।
” বললাম তো ভাইয়া , আমি যাবো না । তোমরা যাও । আমার ভালো লাগছে না এসব । জোর করো না আমায় প্লিজ ।
আদ্র একটু এগোলো । আদর দেখিয়ে নরম কন্ঠে বলল….

” তোকে ডিস্টার্ব করছি আমি ?
সহসা চাইলো মেঘা । শুকনো মুখে চেয়ে বললো…
” সেটা কখন বললাম ?
” এই যে বললি জোর করছি ? জোর করা আর ডিস্টার্ব করা আলাদা কোথায় ? আচ্ছা , এসব বাদ দে । চল , দেরি হয়ে যাচ্ছে । মুড অফ করে রাখতে হবে না আর । বাড়িতে থাকলে চেনটা ঠিক খুঁজে পাওয়া যাবে । এখন এই চিন্তা ঝেড়ে ফেল । তোকে এভাবে মনমরা থাকলে মোটেও ভালো লাগে না । শুনবি না আমার কথা ? যাবি না ?
মেঘা কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বললো মৃদু স্বরে…
” যাচ্ছি । তুমি নিচে যাও । আমি আসছি তৈরি হয়ে ।
আদ্র মুচকি হেসে বেরিয়ে আসলো কথা না বাড়িয়ে । মিনিট কয়েকের মাথায় মেঘা তৈরি হয়ে নেমেছে । শাফাহ্ সহ তিন জনে বাড়ি থেকে বেরোলো ওরা ।
গেইটের বাইরে গাড়ি রাখা একপাশে । আদ্র ঘুরে গিয়ে ড্রাইভিক সিটের ডোর আনলক করতে করতে বললো মেঘা আর শাফাহ্’র উদ্দেশ্যে….

” উঠে বস জলদি ।
দরজা খোলার সাথে সাথে ভেতরে নজর পড়তেই কপাল কুঁচকে আসলো আদ্রের । ভেতরে ড্রাইভিং সিটে রৌদ্র বসে । স্টিয়ারিংয়ে দুহাত রেখে কঠোর ভঙ্গিতে ঠিক সামন বরাবর তাকিয়ে আঙ্গুল নাচাচ্ছে । আদ্র অকস্মাৎ ওকে দেখে তব্দা খেয়ে সন্দিহান হলো । প্রশ্ন করলো সহসা…
” রুডি ? তুই ? তুই যাবি মার্কেটে ?
রৌদ্রের নাম শুনেই হকচকিয়ে তাকালো মেঘা । ঝুঁকে ভেতরটায় নজর বোলালো । রৌদ্র কে দেখে কেমন ধক্ করে উঠলো ।
রৌদ্র কোনো উত্তর করলো না । গলা ভার করে মুখ খুললো সেভাবেই সটান বসে থেকে….
” টুকটুকি , উঠে বস সকলে । দেরি হয়ে যাচ্ছে ।
ঢিল ছোঁড়া কথাটার সম্পুর্ন মানে বুঝতে বাকি রইলো না । সোজা হলো আদ্র । সেখান থেকে মেঘার দিকে তাকালো । দুজনের চোখাচোখি হতেই আদ্র ইশারা করে উঠতে বললো গাড়িতে ।

নিজে ঘুরে গিয়ে বসলো ফ্রন্ট সিটে । শাফাহ্ আর মেঘা নিজেরাও উঠে বসলো । রৌদ্রের পেছনের সিটে জানালার ধার ঘেঁষে বসেছে মেঘা । খুব কাছ ঘেঁষে বসে সম্পুর্ন জানালা খুলে দিয়েছে । একহাত আড় ভাবে রেখে মাথা এলিয়ে দিয়েছে হাতের উপর । গাড়ি চলছে বাড়ি ছাড়িয়ে মার্কেটের উদ্দেশ্যে । দমকা হাওয়া জানালা গলিয়ে শিরশির করে লাগছে মেঘার শরীরে । খুলে রাখা চুল গাছি উড়ছে উতল বাতাসে । ভেজা ছিলো, তাই বাঁধা হয় নি । দীর্ঘ অলক বাতাসের ঝাপটায় ঢেউ খেলে এলোমেলো হয়ে আছড়ে পড়ছে শাফাহ্’র চোখে মুখে । মেঘা খেয়াল করে নি । শাফাহ্ ওর চুল গুলো সরিয়ে দিয়ে খানিক বিরক্তি সূচকে বললো….
” মেঘা , চুল গুলো বাঁধ না । উড়ছে ভীষণ ।
তড়িঘড়ি করে চাইলো মেঘা ।

এলোমেলো চুল আলগোছে গুছিয়ে হাত খোঁপা করলো । সে জানালা ঘেঁষে ইচ্ছাকৃত বসেছে । যাতে ভুল করেও ঐ লোকটার মুখ দর্শন ও না হয় । একটা বারও সামন পানে তাকায় নি মেঘা । চুল বেঁধে আবার জানালার কাছে ঘেঁষতে গেলেই আকস্মিক ধীরে ধীরে বন্ধ হলো জানালা টা । মেঘা একবার নিচে তাকালো , অন্যবার উপরে । এটা আপনা আপনি বন্ধ হচ্ছে কি করে ? ও তো সুইচ লক করে নি । মেঘা সুইচ নিচে করে আবার খোলার চেষ্টা করলো , পারলো না । কাজ হলো না । কিছু একটা ধারনা করতেই চট করে সামনে তাকালো । ফ্রন্ট মিররে মুহুর্তেই চোখাচোখি হলো রৌদ্রের সাথে । দৃষ্টির মিলন হওয়া মাত্রই বাঁকা হাসলো রৌদ্র । এক মুহুর্ত পর নির্বিকারে দৃষ্টি সরালো । উইন্ডো কন্ট্রোল প্যানেল থেকে হাত সরালো অতঃপর । সবটা ঠাহর হওয়া মাত্রই নরম চোয়াল শক্ত করে দাঁত পিষলো মেঘা ।

ওদের গাড়িটা গিয়ে থেমেছে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে । পথিমধ্যে গাড়িতে কেউ টু শব্দও করে নি । পুরোপুরি নীরবতা ছিলো । সায়ান আর মেহের আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলো সেখানে । মেঘা আর শাফাহ্ গাড়ি থেকে নেমেই মেহেরের কাছে ছুটেছে । মেহের ওদের থেকে বছর দুয়েক বড় হবে । তবে তিনজনার বন্ধুত্ব বেশ গাঢ় । শুভ্র ও আসলো খানিক পর । একসাথে ভেতরে ঢুকলো সকলে । রৌদ্র পিছিয়েছে এই পর্যায়ে । সে যায় নি ভেতরে । এতো সব কেনা কাটায় সে মাথা ঘামাতে চায় না । প্রথম দেড় ঘন্টার মধ্যেই মেহের আর শুভ্রর কেনা কাটা হয়ে গেছে । বেশি বাছাই করতে হয় নি । ব্রাইডাল জোনে মেহের এক দেখায় নিজের জন্য লেহেঙ্গা পছন্দ করেছিলো । সে বেশি খুঁতখুঁতে নয় । এক বারেই পছন্দ হয়েছে যেটা , সেটাই কিনেছে । খুঁতখুঁতে তো শাফাহ্ ‌। মোটে চারটে শপ ঘুরেছে এতক্ষণে । কোথাও ওর পছন্দ মতো কিছুই পায় নি এখনো অবধি । বাড়ি থেকে ঠিক করে এসেছে শাড়ি কিনবে ও । তবে এখানে এসে মত পাল্টেছে । এখন আর শাড়ি কিনবে না । বিয়ের দিন পড়ার জন্য গাউন কিনবে আগে । তবে এতগুলো শপে ঘোরার পরও একটাও পছন্দ হয় নি ওর । আদ্র চটে গেছে ওর পিছু ঘুরতে ঘুরতে । এই এক মেয়ের পেছনে সবাই ঘুরছে । তবুও এর কোনো কিছু পছন্দ হচ্ছে না । কত সুন্দর সুন্দর ড্রেস দেখলো এতক্ষণে । অথচ এই মেয়ের চয়েসে আসে না একটাও । ওর জন্য বাকিদের কেনা কাটা আটকে আছে । ধৈর্য হারিয়ে চড়া গলায় ধমকালো আদ্র…..

” থাপ্পর খাবি গবেট । কতগুলো দেখেছিস এতক্ষণে ? এ অবধি একটাও পছন্দ হয়েছে তোর ? তোর পিছু পিছু ঘুরবো আমরা ? আমাদের আর কাজ নেই ? কতগুলো শপিং বাকি আছে এখনো , খেয়াল আছে ? তোর পেছনেই পড়ে থাকবো শুধু ?
শাফাহ্ চিবুক নামিয়ে চুপসে যায় । এই ভয়েই ছিলো সে , মনে মনে ভাবছিলো এই বুঝি আদ্র বিরক্ত হয়ে ধমকাবে ওকে । আর এটাই হলো । ও কি করবে , ওর তো একটাও পছন্দ হচ্ছে না । আদ্রের ধমকে সায়ান থামালো ওকে….
” আদ্র , ধমকাচ্ছিস কেনো ওকে ?
” তো কি করবো ? ওর পিছু পিছু আর কতক্ষন ঘুরবো আমরা ? একেই হাঁটতে পারছে না, বললাম আসিস না তুই । না শুনে নাচতে নাচতে চলে এলো । এখন আবার ম্যাডামের পছন্দ হচ্ছে না কিছু । কি করা উচিত ওকে ?
” তোকে ওর পিছু পিছু ঘুরতে হবে না । তোরা অন্য দিকে যা । বাকি যা যা কেনার কিনে নে । আমি ওর সাথে আছি । কিউটি পাই , চল । যতক্ষণ না পছন্দ হয় ততক্ষণ সব দেখবি তুই । আমি আছি তোর সাথে । অন্য শপে যাই চল । যেখানে যেটা পছন্দ হবে সেটাই কেনা হবে তোর জন্য । অপছন্দের কিছু জোর পূর্বক চাপিয়ে নিতে হবে না । চল আমার সাথে ….
সায়ানের পায়ে পা মিলিয়ে পিছু ফিরে আদ্র কে ভেংচি কাটলো শাফাহ্ । আদ্র চিবিয়ে বললো….
” ওকে বেশি মাথায় তুলো না ভাইয়া । নিচে নামাতে পারবে না নয়তো ।
পরিপ্রেক্ষিতে মৃদু হেসে বিড়বিড়ায় সায়ান…
” ওকে আমি মাথায় করেই রাখবো । নিচে নামতেই দেবো না কখনো ।
মেঘার কিছু কেনা হয় নি । একটা শাড়ির শপে ঢোকা হয়েছে ‌। বাড়ির সবার শাড়ি এখানেই কেনা হবে । বড়রা যেহেতু আসে নি , তাই সব কিছু পছন্দের দায়িত্ব মেহেরের উপর । মেহের সবার পছন্দ বোঝে । ওর পছন্দ মতোই সবকিছু কেনা হচ্ছে । মেঘা কে আনমনা হয়ে একপাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আদ্র গলা নামিয়ে শুধালো….

” মেঘ ! তুই কি নিবি ?
অন্যমনস্ক ছিলো মেঘা । আদ্রের কথায় চটজলদি ফিরলো ‌। হতচকিতে বললো….
” কি নেবো ? যা খুশি একটা নিয়ে নেবো ।
” কি নিবি বল ! আমি কিনে দেবো ।
” না ভাইয়া । তোমায় কিনে দিতে হবে না । আমি নিতে পারবো ।
কথার পৃষ্ঠে ধীরে শ্বাস ফেলে বললো আদ্র….
” ভাইয়া বলছিস , আবার দিতে হবে না এটাও বলছিস ? আজ আর বাঁধা মানবো না । আজ অবধি তোকে কিছু দিই নি । নিস নি তুই । একটা অকেশন পেয়েছি এবার । এই সুযোগে তোকে কিছু দিতে পারবো । কিছু পছন্দ হয়েছে ?
” না ভাইয়া , আমায় কিছু দেওয়ার প্রয়োজন নেই । তোমরা নিজেদের সবকিছু কিনে নাও । আমি আমার টা কিনে নেবো । এই সামর্থ্য আমায় দিয়েছে ।
” সামর্থ্য দেখাচ্ছিস আমায় ? আমার ভালোবাসা টা দেখছিস না ? আমি আমার মেঘ বুড়ি কে ভালোবেসে কিছু দিতে পারি না ?

” ভালোবাসা দিচ্ছো , সবাই দিয়ে এসেছো এতো দিন । এই আমার জন্য অনেক ভাইয়া । আমার আর কিছু লাগবে না তোমাদের থেকে ।
আদ্র কিছুটা সময় তাকিয়ে রইল । এবার মুখ খোলার আগে পকেটের ফোনটা বেজে উঠলো শব্দ করে । চকিতে সেদিকে মনোযোগ ফেরালো । দরকারি ফোন এসেছে । পকেট থেকে ফোন বের করে দ্বিতীয় বার মেঘার দিকে তাকিয়ে ধীরুজ স্বরে বলল….
” এখানে দাঁড়া , আমি কথা শেষ করে আসছি ।
ঘাড় কাত করে সায় দিলো মেঘা । দরজা ঠেলে ফোন রিসিভ করতে করতে শপের বাইরে বেরিয়ে গেলো আদ্র ‌। আদ্র কে পাশ কাটিয়ে শপের দিকে আসলো রৌদ্র ‌। বাহিরে আর ভালো লাগছে না ।
এদিকে ছাড় পেয়ে মেঘা পিছু ফিরলো । এই শপে ঢোকার পর থেকেই একটা শাড়ি বেশ নজর কাড়ছে ওর । শাড়িটা আলাদা করে একদিকে সরিয়ে রাখা । বেগুনি রঙের একটা সিল্কের কারুকাজ খচিত শাড়ি । এই রঙটা মেঘার ফেভারিট । তাই এটাই নজর কেড়েছে সবার আগে ‌। মেঘা ফাঁক পেয়ে পিছু হটলো । শুভ্র আর মেহের অন্যদিকে ।
মেঘা একজন স্টাফ কে ইশারা করে শাড়িটা দেখিয়ে ধীরে বললো….

” এক্সকিউজ মি , ঐ শাড়িটা একটু দেখাবেন ?
শপের স্টাফ ইশারা অনুযায়ী শাড়িটা দেখে মলিন হেসে তৎক্ষণাৎ বললো….
” সরি ম্যাম , ওটা সোল্ড আউট । কাস্টমার প্যাকিংয়ের জন্য রেখে গেছেন ‌। নিয়ে যাবেন একটু পর । আপনি অন্য কিছু দেখুন ।
” ঐ ডিজাইনের আরেকটা শাড়ি দেখান আমাকে ।
আবারো মলিন উত্তর আসলো…
” এবারো সরি ম্যাম ! ওটা এক পিস’ই ছিলো । যেটা অলরেডি সোল্ড আউট । তবে ঐ ডিজাইনের পাশাপাশি সেম ধাঁচের অন্য কিছু দেখাতে পারি আপনাকে ।
মেঘা হাসার চেষ্টা করলো । বললো শুকনো কন্ঠে….
” ইটস ওকে । লাগবে না ।
বলেই সরে আসলো ওখান থেকে ।
আবারো পিছু ফিরে একবার শাড়িটার দিকে তাকিয়ে নীরবে শ্বাস ফেললো । যেটা একবার চোখে লাগে , সেটার উর্ধ্বে আর কিছুই হয় না । নিজের ভুল পছন্দ কে উপেক্ষা করে চোখ সরিয়ে মাথা ঝাঁকালো মেঘা । মেহের আর শুভ্রর দিকে এগোলো অতঃপর ।

সব শপিং শেষ করে বাড়িতে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা গড়িয়েছে ওদের । বাড়ির সবার জন্য অনেক কিছু কেনা হয়েছে । বাড়িতে ফিরেই নিজ ঘরে উঠেছে মেঘা । নিচে নামে নি আর । সব ফাংশনের জন্য আলাদা আলাদা থিমে ড্রেসাপ ধার্য করে সবকিছুই কেনা হয়েছে আজ । মেঘা নিজে পছন্দ করে নিজের জন্য আলাদা করে সব কিনেছে ‌ । নিজের ব্যাগ দুটো আলাদা করে নিয়ে একেবারেই ঘরে উঠেছে ও ।
মাথা ধরেছে । শুয়েছে ফ্রেশ হয়ে । ফাঁকা গলায় বারবার হাত উঠছে আপনা আপনি । আজ মেয়েটা একেবারেই মনমরা । হাসে নি তেমন । খালি বুক চিরে কান্না আসছে ক্ষণে ক্ষণে । কান্না চেপে চোখ বুজেছে মেঘা । সদ্য চোখ দুটো লেগে এসেছিলো । টুকটুকির উদ্ভট ডাকে ভড়কে তড়িঘড়ি করে উঠে বসলো মেঘা । চমকেছে আচানক । টুকটুকি ওর দিকে একটা ব্যাগ বাড়িয়ে দিয়ে বললো….

” এটা নিচে ফেলে এসেছিলি ?
মেঘা চোখ সরু করে চায় ব্যাগটার দিকে । বলে….
” এটা কি ?
” তোর শাড়ি হয়তো ।
” আমার গুলো কাবাডে রেখেছি আমি । এটা আমার নয় !
” আমাদের ও তো কারোর নয় । ভাইয়া বললো এটা তোর । তাইতো নিয়ে আসলাম । এটা রাখ , আমি ওয়াশ রুমে যাবো ।
ব্যাগটা বিছানার উপর রেখে ওয়াশ রুমে ঢুকলো শাফাহ্ । মেঘা ভ্রু গুটালো । এক মুহুর্ত বাদ ব্যাগটা টেনে হাতে নিয়ে খুললো । ভেতরের শাড়িটা দেখে চোখ কপালে উঠলো ওর । এটা তো সেই শাড়ি টাই, যেটা দেখেছিলো ও । কিন্তু এটা এখানে কি করে এলো ? মেঘা তো কেনে নি । আর এটা তো সোল্ড আউট ছিলো । অন্য কেউ কিনেছিলো , তাহলে এখানে আসলো কি করে ?
মেঘা তড়িঘড়ি করে শাড়ির ভাঁজ খুললো । একটু আধটু দেখলো হাত বুলিয়ে । আদ্র কেনে নি তো এটা ? মেঘার ধারনায় এটাই ধরা পড়লো । নিশ্চয়ই আদ্র ওর অগোচরে এটা কিনেছে । কিন্তু সোল্ড আউট হওয়ার পর এটা কিনলো কি করে ?
সব ভাবনা ছেড়ে এই মুহুর্তেই বিছানা ছেড়ে ব্যাগ হাতে আদ্রের ঘরের দিকে এগোলো মেঘা । বাইরে থেকে নক করে ঘরে ঢুকলো । আদ্র ফের বাইরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো । ড্রেস চেঞ্জ করেছে আবার বেরোনোর জন্য । মেঘা ঘরে ঢুকেই বললো ভার গলায়…..

” ভাইয়া , এই শাড়িটা তুমি কিনেছো ?
আদ্র তাকালো । না বুঝে শুধালো….
” কোনটা ?
” এটা !
শাড়িটা দেখিয়ে বললো মেঘা । আদ্র কপাল তুলে বলল…
” না তো । কার এটা ?
” মিথ্যে বলবে না ভাইয়া ‌। আমার জন্য এটা কিনেছো তুমি ? তোমাকে বললাম আমার কিছু লাগবে না । কারোর থেকে কিছু নেবো না আমি । তবুও তুমি এটা কিনেছো ?
আদ্র কপালে ভাঁজ ফেলে কয়েক স্তরের । সবকিছু মাথার উপর দিয়ে গেলো । বুঝলো না সেভাবে । মেঘার চরম দ্বিমত বুঝে জোরপূর্বক ওর জন্য কিছু কেনে নি আদ্র । কিনলেও এই মেয়ে সেসব গ্রহণ করতো না । তাহলে এই মেয়ে কিসব বলছে ? খোলসা করে শোনার মতো হাতে সময় নেই । ডান হাতের কব্জিতে ঘড়ি পেঁচাতে পেঁচাতে দ্রুত স্বরে বললো আদ্র….
” আমি তো তোর জন্য কিছু কিনি নি মেঘ । হয়তো ভুল হচ্ছে কোথাও । সময় নেই হাতে । আমি বেরোলাম । এসে কথা বলছি …..

তড়িঘড়ি করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলো আদ্র । মেঘা আহম্মক বনে দাঁড়িয়ে রইলো । আদ্র মিথ্যে বলে না । আর এখানে মিথ্যে বলেও লাভ নেই । এই শাড়িটা কি তাহলে ভুল করে ওদের ব্যাগের সাথে চলে এসেছে ? দোটানায় পড়লো মেঘা । নিজ ঘরে গিয়ে শাফাহ্ কে প্রশ্ন করলো সন্দিহান হয়ে…..
” এটা যে আমার ব্যাগ ? তোকে এটা কে বললো ? কোন ভাইয়া…
চুলে চিরুনি করতে করতে বেখেয়ালে উত্তর করলো শাফাহ্…..
” রৌদ্র ভাইয়া । আমাকে ব্যাগটা দিয়ে বললো ওটা নাকি তোর । তাইতো তোকে দিলাম । আর তুই কি তখন থেকে ওটা নিয়ে পড়ে আছিস । নিয়ে আয় তো দেখি কি কিনেছিস !
উঠে এসে মেঘার থেকে ব্যাগটা নিয়ে বিছানায় বসলো শাফাহ্ । মেঘা ওর কথার হিসেব মেলাতে ব্যাস্ত । শাফাহ্ ব্যাগ হতে শাড়িটা বের করে দেখতেই হা বনলো । ঝিকঝিকে উজ্জ্বল কারুকাজ খচিত গর্জিয়াস একটা শাড়ি । পুরো চোখ ঝলসানোর মতো । বিষ্মিত হয়ে শাড়িটা উল্টে পাল্টে দেখে বুলি ফুটালো শাফাহ্..
” ওয়াও,, মেঘা । কি সুন্দর এই শাড়িটা । তুই কিনেছিস এটা ? কত নিলো ? কি সুন্দর , তোকে খুব মানাবে এটাতে…
মেঘা কিছু বললো না । এক মুহুর্ত পর এগিয়ে আসলো । এক হাতে আরো একবার শাড়িটা উল্টে দেখলো । দীর্ঘ শ্বাস ফেললো নাক ফুলিয়ে । দাঁত খিচলো কিছু একটা অনুমান করে । বললো মেকি হেসে…..

” পছন্দ হয়েছে ? নিয়ে নে তুই । আমার আরেকটা আছে । সেটাই পড়বো আমি ।
” সে কি , তোর জিনিস আমি কেনো নেবো ? তুই কখনো আমাদের জিনিস নিস ? নিজের টাকায় কিনেছিস , তুই নিজেই রাখ । অনেক দামি মনে হচ্ছে । তোর উপর খুব সুন্দর মানাবে এটা । তুলে রাখ এখন , বিয়ের দিন এটা পড়বি , কেমন ?
মেঘা কেবলই দাঁত চেপে নিজেকে সামলায় । অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটেছে অনাকাঙ্ক্ষিত জনের দ্বারা । মেঘা আন্দাজ করেই চরম পর্যায়ে বিরক্ত হলো ।
শাফাহ্ শাড়িটা ছাড়তেই সেটাকে খামচে ধরলো মেঘা ।

পরদিন সকালেও ব্রেকফাস্টের টেবিলে মেঘার দেখা মেলে নি । সেই যে কাল শপিং থেকে ফিরেই উপরে উঠেছে , বাইরে খেয়ে এসেছে বিধায় ডিনারেও নিচে নামতে হয় নি আর । আজ সকালেও ব্রেকফাস্ট করে নি সবার সাথে । শুক্রবার আজ । সবকিছু অফ ‌। বাড়িতেই আছেন সবাই । জুমার আজান পড়েছে । কর্তারা সহ বাড়ির দুই ছেলে বেরিয়ে গেছে মসজিদে । এক ছেলে যায় নি । কবেই বা গেছিলো সে ? বাড়ির গিন্নিরা ব্যাস্ত কিচেনে । নামাজ সেরে এসেই খেতে বসবেন সকলে ।
গোসল সেরে ভেজা কাপড় নিয়ে ছাদে উঠলো মেঘা । খিদে পেয়েছে ভীষণ । ব্রেকফাস্টে একলা ঘরে খাবার ঠুকরে রেখেছিল একটু । খাওয়া হয় নি । পেট চুইচুই করছে খিদের জ্বালায় । ভেজা কাপড় গুলো ছাদে মেলে দিয়ে খানিক দাঁড়ালো সেখানে ‌। ভেজা চুল সময় নিয়ে মুছলো ধীরে ধীরে । চুল হতে টুপটাপ পানি ঝড়ছে এখনো । মেঘা চুল মুছতে মুছতে ছাদ হতেই নিচে তাকিয়ে দেখলো তোফায়েল কাবির, তৌসিফ কাবির, আদ্র আর শুভ্র গেইট পেরিয়ে বাড়িতে ঢুকছে । সবাইকে একসাথে দেখে মুচকি হাসলো মেঘা । বুকটা হালকা লাগছে একটু ।

চেনের কথা ভুলেছে খানিকটা । মনে পড়তেই আবার হালকা বুক ভার হতে সময় লাগবে না ।
শ্বাস ফেললো মেঘা । চুলে টাওয়েল পেঁচিয়ে ছাদ ত্যাগের জন্য পা বাড়ালো । ঠিক রোজকার মতো আজও ছাদের দরজার কাছে রৌদ্রের মুখোমুখি হওয়াটা বাদ পড়লো না । অগত্যা সামনাসামনি হওয়া মাত্রই তিরিক্ষি মেজাজ ঠিকড়ে উঠলো মেঘার । গা জ্বলে উঠলো রি রি করে । ও যতই এই লোকটা কে কাটানোর চেষ্টা করে , ততই এই লোকটা ওর সামনে এসে হাজির হয় । এই লোকের সামনে বিভৎস বিভ্রম হয় মেঘার । গা জ্বলে অনলের দাহে । মেঘা এক পলক চেয়েই মুখ ঝামটালো । রৌদ্রের দুই ঠোঁটের মাঝে একটা সিগারেট পিষ্ট হচ্ছে । সেটাকে ফুক দিয়ে দুই আঙ্গুলের ফাকে নিলো রৌদ্র । সিগারেটের বিষাক্ত ধোঁয়া ফুঁ দিয়ে ছাড়লো মেঘার মুখের উপর । চোয়াল খিচে শ্বাস রোধ করে চোখ বুজে নিলো মেঘা ।
কয়েক কদম পাশে সরে দাঁড়ালো । ঠিক দরজার চৌকাঠে রৌদ্র দাঁড়িয়ে । নড়ছে না । মেঘা হাত মুঠো করে আরো বেশি সরে আসলো । রৌদ্রের নড়চড় না দেখে মিনিটের মাথায় দৃষ্টি তুললো উপরে । দুজনার চোখাচোখি হতেই ভ্রু নাচালো রৌদ্র । ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো । আধো খাওয়া সিগারেট টা পায়ের নিচে মারিয়ে বললো মুখের সামনে বাতাস করে…..

” হোয়াটসঅ্যাপ সানি ?
থাপ্পরের টাল সামলাতে পেরেছিস ?
মেঘা মুখ ফিরিয়ে নেয় । রৌদ্র একটু এগিয়ে আবার বলে খানিক হাস্কি টোনে….
” রাগ করেছিস সুইটহার্ট ?
সরি জান , তোকে মারতে চাই নি ট্রাস্ট মি । মেরেছি তোর বেয়াদবির জন্য ! দেখ , একটা থাপ্পর খেয়েই বেয়াদবী ভুলে আদব শিখে গেছিস কেমন । নিজ পানে চেয়ে দেখ গায়ে ওরনা জড়িয়েছিস আজ ।
মেঘা তড়িতে নিজের দিকে তাকায় । আসলেই গায়ে ওরনা জড়িয়েছে ও । ছাদে উঠছিলো বলে আসার সময় গায়ে জড়িয়ে উঠেছে । এই লোকের কথায় তো নয় ।‌
মেঘা মুখ বিকৃত করলো । রৌদ্রের উপর জেদ দেখিয়ে মুখ ঝামটালো তিরষ্কারের সহিত । খিটখিটে স্বরকে চেপে নিলো । ও এই লোকটার বিপরীতে জবান ও খুলতে চায় না । কিছু বলবে না মেঘা । তাকাবেও না আর । দেয়াল ঘেঁষে মাঝামাঝি দূরত্ব বাড়ালো । এই লোক না সরলে ও যেতেও পারছে না এখান থেকে । রৌদ্র ও সরছে না আপন মনে ।
মেঘা কে বিমূঢ় দেখে রৌদ্র চাহনি তীক্ষ্ণ করে । ঘাড় ঝাঁকিয়ে ডাকে মৃদু নোয়ানো স্বরে….

” MP ?
মেঘা চোখ তোলে না । পায়ের নখ খুঁটতে থাকে ছাদের ফ্লোরে । রৌদ্র আরেক পা এগিয়ে ধীরে দূরত্ব ঘুচিয়ে বলে…
” তাকা আমার দিকে ।
দরজার কাছে একটু ফাঁক পেয়েই মুখ তুলে পাশে তাকায় মেঘা । মুহুর্ত অপেক্ষা না করে দরজার দিকে এগোতে গেলে রৌদ্র টেনে ধরে । তবে এবার হাত নয় । মাথা থেকে প্যাচ খোলা টাওয়েল টেনে ধরে চুল সমেত । ভেজা চুলে টান টান পেতেই মৃদু কুকিয়ে পিছু ফেরে মেঘা । ঝাঝিয়ে ওঠে…..
” ইউ রাইনো ,,, সমস্যা কি আপনার ? আমি আপনার উপর বিরক্ত হচ্ছি বুঝতে পারছেন না ? কেনো সবসময় আমার পিছে লেগে থাকেন ? কাজ নেই কোনো ? বেকার লোক । মিনিমাম লজ্জা বোধ নেই আপনার মাঝে ? সবসময় একটা মেয়েকে হ্যারাস করেন এভাবে ! স্পাইনলেস পার্সোন কোথাকার ।
মেঘার কন্ঠে স্পষ্ট বিরক্তি । রৌদ্র হেয়ালি ছেড়ে শক্ত হলো ।
” ইডিয়ট , থাপ্পর খাবি আরেকটা । তোকে হ্যারাস করছি আমি ?
” রাইনো মুখো….

মেঘা এটুকু নিই বললো পরিপ্রেক্ষিতে । পা বাড়াতে গেলে ওর চুলে পেঁচানো টাওয়েল টা খুলে আসলো ‌রৌদ্রের হাতে । প্যাঁচ খুলতেই ভেজা চুল গাছি ঝাঁপিয়ে পড়লো পিঠে ।
রৌদ্র তেঁতে কিছু বলার আগেই দ্রুত কদমে প্রস্থান করলো মেঘা । পেছনে নিরেট মূর্তি ধারণ করে কিড়মিড় করলো রৌদ্র । রাগে হাতের টাওয়েল টা ঝাড়া মারলো । ভেজা টাওয়েলের ঝিরিঝিরি পানি ছুটে আসলো রাগি মুখশ্রীর উপর । অগত্যা সেটার দিকে তাকালো । মুখ ভঙ্গিমা স্বাভাবিক করে টাওয়েল টা তুলে ধরলো মুখ সম্মুখে । কাছে আনতেই মিষ্টি একটা ঘ্রাণ নাকে বিধলো । চোখ সরু করে কপাল গুটালো রৌদ্র । সফেদ রঙা বাথ টাওয়েল । এটা থেকেই ক্ষিণ একটা সুঘ্রাণ আসছে । মেয়েলি শ্যাম্পুর ঘ্রাণ হয়তো । রৌদ্র আরো গাঢ় ভাবে অনুধাবনের জন্য টাওয়েল টা কাছে আনলো আরো , ঠিক নাকের কাছটায় চেপে ধরলো । ক্ষিণ সুঘ্রাণের তোপ গাঢ় হয় এতে । মনোরম সুবাসে পুরুষালি দুটো ক্ষুব্ধ চোখ বুজে আসে মাদকীয় অনুভূতিতে । দীর্ঘ শ্বাস টানে রৌদ্র । চোখ মেলে মিনিটের মাথায় । দুহাতে টাওয়েল টা চেপে ধরে দপাদপ পা ফেলে নিচে নামে ।
দুটো বাজে প্রায় । লাঞ্চে বসেছে সকলে । বাড়ির সবাই উপস্থিত । পরশু বিয়ে । আজ বিকেলে ডেকোরেশন থেকে লোক আসবে বাড়ি সাজানোর জন্য । খাওয়া দাওয়ার পর থেকেই ব্যাস্ত হয়ে পড়বে সকলে ।

রৌদ্রের কথা মোতাবেক ওর ফেরার দিন ঘনিয়ে এসেছে । সতেরো তারিখ ওর ফিরে যাওয়ার ডেট । দিনগুলো পেরোলো চোখের পলকে । ওর ফেরার দিনকে কেন্দ্র করে সেদিনই বিয়ের ডেট ফাইনাল করা হয়েছে । এই নিয়ে রৌদ্রের সাথে কথা হয় নি এখনো অবধি । ও থাকবে কি থাকবে না , এটা কেউ জানে না । রুবিনা কাবির এক বুক আশা নিয়ে আছেন , এই বিয়ের অছিলায় তার ছেলে আর ফিরবে না । বিয়ের তোড়জোড়ে কটা দিন পেরোলেই রৌদ্রের মন পরিবর্তন হবে হয়তো । একবার যাওয়া ক্যান্সেল হলে দ্বিতীয় বার আর জোর থাকবে না অদূরে যাওয়ার । তোফায়েল কাবির খাচ্ছেন , আর এক মুহূর্ত পর পর তাকাচ্ছেন নিজের স্ত্রীর দিকে । রুবিনা কাবির চোখের ইশারায় কিছু বলছেন তাকে । তোফায়েল কাবির জানেন সবটা । হাঁফ ছেড়ে বাধ্য হয়ে খেতে খেতে মুখ খুললেন তৌসিফ কাবিরের উদ্দেশ্যে….
” ভাইয়া তোমার আদরের রৌদ্র কে জিজ্ঞেস করো তো , সে তোমার ছেলের বিয়েতে থাকবে কি না ?
রৌদ্রের হাত থামে খাওয়ার মাঝে । শুভ্র বলে….

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১২

” কেনো থাকবে না ? অবশ্যই থাকবে ।
” সেদিন ওর ফিরে যাওয়ার ডেট , এটা ভুলে যেও না ।
” তো কি হয়েছে ? রৌদ্র যাবে না কোথাও । সেদিন ও না , আর অন্য কোনো দিনও না । ও ফিরেছে সবশেষে , ওকে আর যেতে দিচ্ছে কে ?
শুভ্র একটু থেমে আবার বললো….
” রুডি ,, ফিরবি তুই ?
” হুঁ ।
” সিরিয়াসলি ? কবে ?
” তোমার বিয়ের পর ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৪