আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪২
সুরভী আক্তার
” যাবো না আমি । মেঘা , চল এখান থেকে ।
শিশির মেঘার হাত ধরে । অহমিকায় পা বাড়ায় উল্টো পথে । অমনি বাইকে বসে থেকেই ওর বাম হাতটা খপ করে টেনে ধরে আয়ান । কেঁপে ওঠে রমনী । থরথর করে কম্পিত হয় পুরো শরীর । ঝট করে মেঘার হাত ছেড়ে তড়াক করে তাকায় আয়ানের দিকে । ততক্ষণে ও বাইক থেকে নেমে পড়েছে । শিশিরের মুখোমুখি উঠে দূরত্ব ঘুচলো কিড়মিড় করে । ভড়কে পেছায় রমনী । আয়ান চিবিয়ে বলে….
” এইই বস্তি ,,, কোথায় যাচ্ছিস ? বলেছি না তুই আমার সাথে যাবি ? আমার সাথেই যাবি তুই…
তোর সাহস তো কম নয় , আমায় ইগনোর করে চলে যাচ্ছিস ?
আদ্র দেখেছে এটুকু । ছেলেটা যেইনা শিশিরের হাত খামচে ধরলো , তেড়ে গেলো ওর দিকে । সেই তৎক্ষণাৎ আদ্র গাড়ি থেকে নেমেছে ধড়ফড়িয়ে ।
শিশির নিজের হাত মুচড়ে ছাড়াতে চেষ্টা করে বলে…
” ছাড়ুন আমায় ,, দেখুন বিয়ে হয় নি আমাদের এখনো । আপনি বলেছিলেন আমার সাথে কিছু কথা বলার আছে আপনার । তাই আমি বাইরে বেরিয়েছি । আপনার সাথে অন্য কোথাও যাওয়ার জন্য নয় । মুখের ভাষা ঠিক করুন ,, অসভ্যতামো করবেন না । ছাড়ুন আমার হাত ।
আয়ান না ছেড়ে আরো শক্ত করে চেপে ধরে । ধাপে ধাপে মেয়েটার দিকে এগোয় , বিপরীতে উল্টো পায়ে পেছায় মেয়েটা । রাস্তার খাঁজে পা উঁচু নিচু হয়ে টাল হারাতে পারে যেকোনো সময় ।
আয়ান ক্ষুব্ধ । খুব কাছাকাছি থাকায় , মদ আর সিগারেটের বিশ্রী গন্ধ অনুভব করতে পারছে শিশির । অপ্রত্যাশিত স্পর্শ আর এমন বিদঘুটে গন্ধে গা গুলিয়ে আসার দশা । কেমন রি রি করে উঠলো রমনীর কোমলাঙ্গ । স্পর্শ টুকু বড্ড তিক্ত লাগছে ।
আচমকা সেই তিক্ততা থেকে রেহাই পায় শ্যামলিনী কন্যা । এক ঝটকায় ওর হাত সেই বখাটে ছেলেটার থেকে ছাড়িয়ে নেয় কেউ ।
আয়ানের হাতটা এক ঝটকায় উপড়ে ফেলার ন্যায় ছিটকে ফেলে হে । আকস্মিক জোরে পিছিয়ে যায় আয়ান । আদ্র শিশিরের সামনে দাঁড়িয়ে ওকে নিজের সুঠাম দেহের আড়াল করে রাগে হিসহিসিয়ে ওঠে বজ্রকণ্ঠে…..
” ইউ বাস্টার্ড ,,, তোর সাহস কি হয় ওকে ছোঁয়ার ?
একসাথে চমকায় তিন রমনী । এক মুহুর্ত থেমে আদ্র আবারো চেঁচিয়ে ওঠে….
” জানোয়ার ,, হাত ভেঙে গলায় ঝুলিয়ে রাখবো , যদি দ্বিতীয় বার ওকে টাচ করার চেষ্টা করিস তবে ! বাস্টার্ড….
আদ্রের হুংকার পৌঁছেছে অদূর পর্যন্ত । আয়ান থতমত খেলো । ভড়কালো । আশপাশের লোকজন সহ গুটিকয়েক স্টুডেন্ট থেমে তাকিয়েছে এদিকে । সিকিউরিটি গার্ড বেরিয়ে আসলো গেটের সামনে থেকে । আদ্র কে দেখেই বিনয়ী হয়ে মাথা নামালো । ধমকালো আদ্র….
” সিকিউরিটি ,,, ভার্সিটির বাইরে দাঁড়িয়ে ভার্সিটির স্টুডেন্ট কে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে । চোখ কান কোথায় থাকে আপনাদের ? থ্রো দিজ আনরুলি বয়েজ আউট অফ মাই সাইট !
তৎক্ষণাৎ আদেশ তামিল হলো । আয়ান কিছু বুঝে ওঠার আগেই সিকিউরিটি গার্ডরা চেপে ধরলো ওকে । ওর বন্ধু কেও ছাড়লো না । বাইক রেখে পুরো ভার্সিটি চত্বরের বাইরে ছুড়ে ফেলা হলো ওদের । ফিরে এসে মাথা নুইয়ে ভুল স্বীকার করলো….
” সরি স্যার ,, আমরা দেখতে পাই নি । নেক্সট টাইম আর ভুল হবেনা ।
শিশির মাথা নুইয়ে রেখেছে । জমে এসেছে পুরো শরীর । কেমন শিরশির করছে । মেঘা ওর কাছে গিয়ে ঝাঁকায় ওকে….
” শিশির , আর ইউ ওকে ?
মেয়েটা কেবল নড়েচড়ে ওঠে ।
এতক্ষণে পিছু ফেরে আদ্র । মেয়েটা কে চিবুক নুইয়ে থাকতে দেখে দীর্ঘ পলকে তাকায় । কেমন রাগ লাগছে । এই মেয়েটার উপর আরো বেশি ! ঐ ছেলেটা এর ফিউচার হাজবেন্ড ? ভাবতেও মাথা চক্কর দিচ্ছে ।
নিজেকে সংবরণ করে চড়া গলায় আদেশ করলো সে…
” মেঘ , গাড়িতে উঠে বস তিনজনে ।
এই বলে গটগটিয়ে পা বাড়িয়ে গাড়িতে উঠে বসলো নিজে ।
গাড়িতে উঠেই মেঘা দম খিচে প্রশ্ন করলো শিশিরের হাত টেনে ধরে……
” এসব কি হলো শিশির ? ঐ ছেলেটার সাথে তোর বিয়ে ? মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোর ? ও একটা বখাটে, বাজে ছেলে । তুই জানতিস না এসব ?
গাড়িতে কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে বসে রমনী । যেনো বিশাল বড় শক্ খেয়েছে আজ । নড়ছে না । পলক ও ফেলছে না চোখে । দীর্ঘ সময় বাদ বাদ ধীরে ধীরে চোখ নিভছে । ঘোলাটে হয়ে আসছে চোখ জোড়া । মেঘার প্রশ্ন শুনলো সে । নিজেও তো দেখলো ! লজ্জায় চিবুক নুইয়ে আসছে ।
আজ কি দেখলো ? এতে কি বুঝলো ? ঐ লোকটার সম্পর্কে কিছু জানা ছিলো না !
এই লোক যে এমন হবে , তা ওর কভু কল্পনাতেও ছিলো না । যেদিন আংটি পড়ালো , সেদিন আবিদ বলেছিলো যেনো শিশির এই বিয়েটা না করে । অনেক কথা কাটাকাটি হয়েছে সেদিন ও । আজ শিশির ভালো মতোই বুঝতে পারছে , আবিদ সেদিন কেনো এই বিয়েতে অসম্মতি দেখিয়েছিলো । আবিদ তার ভাইয়ের সম্পর্কে কিছু বলে নি , বোঝানোর চেষ্টা করেছিলো না বলেই । ওর না বলা কথা গুলো বোঝেনি শিশির । ইকরার কথা ভেবে নিজের দিকটা না ভেবেই অন্য কারোর নামের আংটি হাতে পড়েছে । এখন বিয়েও হবে । বাকি নেই বেশিদিন । আর এখন এসবের সম্মুখিন হলো সে ? নিজেকে বোঝাতে ব্যস্ত রমনী । মনে হচ্ছে সব ভুল । কিন্তু তা নয় ।
মেঘা আবার ওকে ঝাঁকায়…
” কি রে বল , কি করে এই বিয়েতে রাজি হয়েছিস তুই ? ঐ ছেলেটার সম্পর্কে কিছু জানিস না ?
শিশির কেবল ঠোঁট ফাঁক করে অস্ফুটে বিড়বিড় করে….
” নাহহ…
” হোয়াট ? না জেনেই বিয়ে টা হচ্ছে ? তেইশ তারিখ তোর বিয়ে , আর তুই এখন এসব….
শিশির , বুঝতে পারছিস ? ঐ ছেলেটা ভালো নয়….
” গাড়ি থামান স্যার , আমি নামবো ।
এক বাক্য । মেয়েটার কন্ঠ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আসছে । গলায় দলা পাকিয়ে আটকাচ্ছে নিঃশ্বাস । জ্বলছে দুচোখ । যখন তখন পানি গড়াবে । কিন্তু এ দুচোখের আবার সহজে ঝর্না নামানোর অভ্যেস নেই । নির্জনতা প্রয়োজন ।
আদ্র নিরেট চোয়ালে ড্রাইভ করছিলো । দৃষ্টি ছিলো ফ্রন্ট মিররে । দপদপ করে আগুন জ্বলছে মাথায় । চোখ হয়ে উঠেছিলো রক্তিম । রক্তবর্ণ চোখের ক্ষোভ ঢাকার জন্য গাড়িতে উঠেই চোখে সানগ্লাস লাগিয়েছে ।
এখনো আছে তা । শিশিরের এক কথাতেই বিনা বাক্যে গাড়ি থামালো সে । মেয়েটা গাড়ির দরজা খুলে নামতে গেলে শাফাহ্ বাঁধা দেয়….
” এইই শিশির , এখানে মাঝ রাস্তায় নামছিস কেনো ? ঠিক নেই তুই….
” আ’ম ওকে শাফাহ্ । ডোন্ট ওয়ারি । চলে যেতে পারবো একা । তোরা যা । খুব শীঘ্রই তোদের বাড়িতে আসবো । বিয়ের দাওয়াত নিয়ে….
এটুকুনি বলে ছলছল চোখে চেয়ে মুচকি হাসলো মেয়েটা । বাঁধা উপেক্ষা করে নামলো গাড়ি থেকে । একটা রিকশা ডেকে উঠে পড়লো সেটায় । হুড তুলতেই হেঁচকি উঠলো গলা চিরে । চোখ ছাপিয়ে সকলের অগোচরে টুপ করে গাল ভিজলো । রিকশা ওয়ালা শুধালেন….
” কোথায় যাবেন আপা ?
দম খিচে নেয় রমনী । জবান রুদ্ধ । উত্তর করার শক্তি নেই । হাতে ইশারা করে সামনের রাস্তা দেখালো । রিকশা চালক চলতে নিলেই ভরাট ডাক পড়লো পিছন থেকে….
” দাঁড়ান !
থামলেন রিকশা চালক । আদ্র এগিয়ে আসলো । গাড়ি থেকে নেমেছে শিশির রিকশায় ওঠার সাথে সাথে । মেয়েটার কাঁধে ঝোলানো ভারী ওরনার একপাশ নিচে নেমে এসেছে বাঁধন ছুটিয়ে । চাকা ছুঁই ছুঁই হয়ে ঝুলছে । ঢুকে যেতে পারে । অঘটন ঘটার আগে আদ্র এসে ওরনার এক কোণা ধরে সরিয়ে নিয়ে আসলো । পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হুড ছাপিয়ে চোখ তুললো শিশিরের পানে । অমনি রমনীর ভেজা চোখ মুখ দেখে আঁতকে উঠলো সে । মেয়েটা হাতের উল্টো পিঠে গাল মুছে নেয় আদ্র কে দেখে ।
এক পলকেই যেনো ভেজা চোখ দুটোতে কত বিষন্নতা খুঁজে পেলো আদ্র । শিশির ওরনা সামলে নেয় । নিজেকে স্বাভাবিক দেখিয়ে তাড়াহুড়ো করে বলে….
” ধন্যবাদ স্যার ,,
মামা চলুন আপনি ।
রিকশা চালক থামলেন না । মূর্ত বনে থমকে যাওয়া আদ্র কে রেখেই চলে গেলেন পাশ কাটিয়ে ।
আজকাল আর বৃষ্টি হয় না । ঠান্ডা নেমেছে প্রচন্ড ।
জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ চলে । সন্ধ্যায় পুরো পরিবারের আড্ডা মজেছে । মেঘা সেই কবে থেকে রান্না শিখতে চায় রুবিনা কাবিরের থেকে । মাঝে রুবিনা কাবির শেখাতে চাইলেন , পরে আর শেখানো হয় নি ।
রান্না করবে করবে করেও করা হয় না মেঘার । আজকাল গুটিয়ে রাখে নিজেকে । নিচেও নামে না । কাল ভার্সিটি থেকে ফেরার পর ঐ যে ঘরে উঠেছে , আর নামে নি । ওর খাবার ঘরেই পৌঁছানো হয় ।
তবে আজ সন্ধ্যায় রুবিনা কাবির নিজে ডেকে নিচে নামিয়েছেন মেঘা কে ।
কাল থেকে মেয়েটা আরো বিষন্ন শিশিরের চিন্তায় । ওর সাথে কন্টাক্ট হয় নি আর ।
কিচেনে বাহারি পিঠা বানাতে ব্যস্ত দুই গিন্নি । সিরাত আর মেহের ও আছে । মেঘাও যোগ দিলো । হরেক রকম পিঠা বানানো হবে ঠান্ডার এই মৌসুমে ।
চিতই বানানো হয়েছে কতগুলো । সিরাত নকশী পিঠার নকশা বুনছে মেহের কে সাথে নিয়ে । চুলার একপাশে ভাপা পিঠা বানাচ্ছেন শাহিনা কাবির । অন্যপাশে দুধ জ্বাল করছেন রুবিনা কাবির । মেঘা একে একে সবাইকে দেখলো চোখ গোল করে । গায়ের চাদরটা ভালোভাবে টেনে নিয়ে রুবিনা কাবিরের কাছ ঘেঁষে দাঁড়ালো । পেছন থেকে কাঁধের কাছে থুতনি ঠেকিয়ে জানতে চাইলো….
” দুধ জ্বাল করে কি করবে মা ?
” দুধ চিতই !
” ওও , আমার ফেভারিট !
মুচকি হাসলেন ভদ্রমহিলা । দ্বিধাহীন বললেন….
” রৌদ্র ও খুব ভালোবাসে ।
অমনি মুখ চুপসে গেলো মেঘার । চোখ নামিয়ে সরে আসলো । শাহিনা কাবির একে একে ভাপা পিঠা বানাচ্ছেন আর ড্রইং রুমে পাঠাচ্ছেন ।
দুই কর্তা সহ ছেলেরা খাচ্ছে ওখানে । প্লেটে আর কয়েকটা পিঠা তুলে মেঘার দিকে বাড়িয়ে দিলেন তিনি….
মেঘা সেসব নিয়ে বেরিয়ে আসলো কিচেন থেকে । সোফার একপাশে বসলো । আদ্র খাচ্ছে না । তা দেখে ধীরে শুধালো….
” ভাইয়া , খাবে না তুমি ?
” উঁহু ।
ছোট্ট জবাব । মন উতলা ।
একটু পর চাপা স্বরে নিজে জানতে চাইলো হাজার ইতস্ততা ঠেলে….
ডাকলো প্রথমেই…
” মেঘ ?
মেঘা চেপে বসে । উত্তর করে…
” হু ?
” ঐ যে , ঐ মেয়েটা । ওর নাম যেনো কি ?
” কোন মেয়েটা ?
” কালকের জন ! কি যেনো নাম , ভুলে গেছি !
” কে , শিশির ?
” হু । শিশির ! কথা হয়েছে ওর সাথে ? ঐ স্কাউন্ড্রেল ছেলেটার সাথে ওর বিয়ে ?
মেঘা মুখ কালো করে দীর্ঘ হুতাশ হয়ে বললো…
” কথা হয় নি ভাইয়া । কাল থেকে ফোন করছি , ধরছে না ! আর বিয়েটা তো ওর ফ্যামিলি থেকে ঠিক করা । ঐ ছেলেটা যে অমন , শিশির তো জানতোও না বোধহয় । তুমি জানো , শিশির ওর আপুর জন্য এই বিয়েতে রাজি হয়েছে । ঐ ছেলেটাকে ও চেনেও না । কাল সেকেন্ড টাইম মিট করেছে ওরা । তাও ছেলেটা নিজে ডেকেছিলো । আর এই বিহেভিয়ার , আমার তো ভাবতেই অবাক লাগছে ! ভয় হচ্ছে । শিশির কি করবে এখন ?
” কি আবার করবে ? বিয়ে করবে না,ব্যস ! ও এডাল্ট একটা মেয়ে । সবকিছু জেনে, নিজ চোখে ঐ ছেলের ব্যাড সাইট দেখার পরও এই বিয়ে করবে ও ?
” করবে ভাইয়া , তুমি শিশির কে জানো না । ওকে যতটা নরম দেখো, তার থেকেও বেশি নরম ও । ওকে আমরাই এখনো অবধি বুঝতে পারি নি ঠিকমতো ।
আদ্র আর কিছু বললো না ।
খাওয়ার মাঝে সবার নীরবতা ভাঙলো বেপরোয়া ছেলের বিচলিত স্বরে….
” হেয়য়য় গাইসস , কি হচ্ছে এখানে ? সবাই একসাথে ,, কি খাচ্ছো ?
বলতে বলতে এসে বসলো সোফায় । এই ঠান্ডাতেও শরীরে উষ্ণ কাপড় নেই । জ্যাকেট ছিলো , খুলে কাঁধে ঝুলিয়ে বাড়িতে ঢুকেছে । এলোমেলো চুল গুলো কপালের এখানে ওখানে লুটোচ্ছে । বসেই শব্দ করে হাঁফ ছাড়লো । যেনো খুব ক্লান্ত । শাফাহ্ একপাশে চুপচাপ বসে ছিলো বড়দের মাঝে । রৌদ্রের কথায় প্রত্যুত্তর করলো সে…..
” পিঠা খাচ্ছি ভাইয়া , খাবে ?
” কি পিঠা ?
” ভাপা ! আরো আছে…
রৌদ্র মেঘার দিকে তাকায় । আদ্র কে ওর পাশে দেখে মাড়ি খেঁচে । রমনীর ভাবান্তর নেই । ঠোঁট বাঁকিয়ে হাঁক ছাড়লো রৌদ্র…
” মম , ঝাল পিঠা নেই কোনো ? অনেক দিন ধরে মিষ্টি খাওয়া হয় না ! একটু মিষ্টি খাওয়ায় ফিলিংস হচ্ছে মম । ঝাল ঝাল কিছু নিয়ে এসো তো ।
নিমিষেই কটমট করে তাকায় মেঘা । বাঁকা হাসি প্রগাঢ় হয় বেপরোয়া লোকটার ঠোঁটে । না বুঝে বলে শাফাহ্….
” মিষ্টি খাবে , তাহলে ঝাল পিঠা কেনো খুঁজছো ভাইয়া ?
” ও তুই বুঝবি না । ঝাল কিছু খাওয়ার পর মিষ্টি খেতে হয় , তাই না সুইটহার্ট ?
মেকি স্বরে রসিকতা ।
নীরবে ভিড়মি খায় রমনী ! আদ্র আড়চোখে মেঘার দিকে তাকায় । দুই কর্তা নিশ্চুপ । ছেলের অযথা ভেঙ্গানো কথায় কান দিলেন না ।
রৌদ্রের সামনে থাকবে না মেঘা । সে উঠে দাঁড়ায় । ধুপধাপ পা ফেলে প্রস্থানের জন্য সিঁড়ির দিকে এগোতেই রৌদ্র নিজেও উঠে দাঁড়ায় । রমনীর পিছু নিতে নিতে বলে সবাইকে শুনিয়েই….
” আ’ম কামিং ওয়াইফি….
সিঁড়িতে পা মিললো দুজনার । মেঘার বন্দি খোঁপার কাঁটা টেনে বের করে রৌদ্র । উত্তাল কুন্তল অবিন্যস্ত হয়ে ঝাপাতে সময় লাগে না । তবুও রমনীর হেড়ফের নেই । সে নির্জিব । রৌদ্র কপাল কুঁচকে নেয় , আবেশিত হয়ে বলে রমনীর পিছু নিয়ে…
” হোয়াট হ্যাপেন্ড MP ,, মুখ ভার কেনো ?
তৌসিফ কাবির নিচ থেকে বেপরোয়া ছেলের কর্মকাণ্ড নীরবে পরখ করে বলেন ভাইয়ের উদ্দেশ্যে….
” মেঘা কে দূরে থাকতে বলছিস , অথচ নিজের ছেলে ? এই ছেলেকে আটকাবি কি করে তুই ?
নিরুত্তর তোফায়েল কাবির ।
মেঘা পায়ের গতি বাড়িয়ে দ্রুত কদমে ঘরে ঢুকেছে । দরজা আটকাতে গেলে রুখে দাঁড়ালো রৌদ্র । তবুও চোখ তুললো না রমনী । রৌদ্র দরজা ঠেলে ঝুঁকে বলে….
” হোয়াট সুইটহার্ট ,, কিছু বলছিস না কেনো ?
কদিন ধরে দেখছি কথা বলছিস না ! তাকাচ্ছিস না আমার দিকে ! কি হয়েছে ?
মেঘা সরে আসে । ব্যালকনিতে গিয়ে বুকে হাত গুটিয়ে দাঁড়ায় নিরেট ভঙ্গিতে । রৌদ্র সেখানেও পিছু নেয় ।
” এইইই ইভারা , কি হয়েছে জান ? রেগে আছিস কোনো কারনে ? ওও সরি , রেগে আছো কোনো কারনে ? কি করেছি আমি , বলো ?
এবার চুপ না থেকে চিবিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলো মেঘা…..
” রাইনো মুখো ,, দেখছেন না আমি আপনাকে ইগনোর করছি ? তবুও কেনো ঘুরছেন আমার পিছু পিছু ?
” ইডিয়ট ,, তুই দেখছিস না আমি তোর ইগনোর পেয়ে মরে যাচ্ছি ? কেনো করছিস এভাবে ইগনোর ? কষ্ট হচ্ছে যে ভীষণ । সহ্য হচ্ছে না আর । প্লিজ আমাকে এড়িয়ে চলিস না এমন করে । আমি পারি না সহ্য করতে । আই ডেসপারেটরি ওয়ান্ট ইউর এটেনশন জান পাখি…..
” বেরিয়ে যান আমার রুম থেকে ! প্লিজ , একলা থাকতে দিন আমায় ! আমি বিরক্ত হচ্ছি আপনার উপর ।
” কি হয়েছে ? সেদিন থেকে এভাবে এড়িয়ে চলছিস আমায় ! ঐ লোকটা কি বলেছে তোকে ? বকেছে ? একবার বল শুধু ! তুই তোর হাজবেন্ডের সাথে ছিলি সেদিন , ওনার কি এসে যায় এতে ?
” ……
” ইভারা ,, স্পিক আপ ,,,
রাগ প্রকাশ পেলো এবার । মেঘার বিমুখতা দেখে রাগ বাড়লো । কনুই চেপে নিজের দিকে ঘোরালো ওকে । দাঁত পিষে বললো….
” এইই ইডিয়ট , কি চাই তোর ?
” আপনার থেকে মুক্তি । কজ , আই হেইট ইউ…
রমনীর দ্বিধা হীন তেজি উত্তর ।
” এ জীবনে এ চাওয়া টা আর পূরণ হবে না তোর ! কজ , আই ওয়ান্ট ইউ ।
” সমস্যা কি আপনার ?
” তুই ।
” তাহলে আমি নামক এই সমস্যার পিছে সবসময় পড়ে থাকেন কেনো ? লিভ মি…
” সলিউশন ও যে তোর মাঝেই নিহিত ! কি করে ছাড়ি ?তোর আসক্তি যে বড্ড নেশা , জান পাখি । কি করে বোঝাই তোকে..?
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪১
” গত পাঁচ বছর এই নেশা কোথায় ছিলো ? কোথায় ছিলো এই বেপরোয়া আসক্তি ? ঢং দেখাতে এসেছেন । দূরে যান আমার থেকে । খবরদার নাটক করতে আসবেন না ।
” উফফফ সুইটহার্ট ,, তোর নেশার আসক্তি যদি পাঁচ বছর আগে প্রকাশ করতাম না , তাহলে আর খুঁজেই পাওয়া যেতো না তোকে । রুডভিক কাবির রৌদ্রের বেপরোয়া আসক্তির তোপের মুখে পড়ার দম ছিলো তোর সেই বয়সে । এই বয়সে আছে ।
