হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৩৯
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
ওয়ালিমার আয়োজনে জমজমাট মির্জা নিবাস। ইকরার শ্বশুর বাড়ি,আলভির শ্বশুর বাড়ি থেকে শুরু করে সকল আত্মীয় স্বজন ও গরীব দুঃখীদেরও দাওয়াত করা হয়েছে ওয়ালিমায়। বিস্তর ড্রয়িং রুমটায় তখন মানুষের গেদাগেদি।
বাপের বাড়িতে আজই ইকরার বেড়ানো শেষ- এটা নিয়ে মন খারাপ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়েটাকে বেশ খুশি দেখাচ্ছে। কারণ তার শাশুড়ি ফরিদা বেগম তাকে নিতে এসেছে। ভদ্রমহিলার রাগটা বোধ হয় ঝরে গেছে। ইয়াসমিন বেগম কয়েকবার বলাতেই কোনোরূপ দ্বিরুক্তি হীন রাজি হয়ে গেছেন তিনি। তবে আজকে সবাই এলেও আজাদ আসেনি। সে পড়ালেখার সূত্রে আপাতত বাড়িতে নেই। এতে অবশ্য কারোরি কোনো মাথা ব্যথা নেই। বরং বলা যায়, অনেকটা ভালোই হয়েছে। তার অনুপস্থিতিতে শান্তিমত চলাফেরা করতে পারছে হুমায়রা। আপাতত জিনিয়ার রুমে এক গাদা মহিলাদের সামনে তাকে শাড়ি পড়িয়ে দিচ্ছে হুমায়রা।মহিলাগুলো সব জিনিয়াদের বাড়ির অর্থাৎ এখানকার প্রতিবেশী বললেই চলে। মেয়েটার মুখে কোনো শব্দ নেই, চুপচাপ শাড়ি পড়াচ্ছে সে। জিনিয়ার সাথে গতকাল রান্নাঘরেই যে একটু কথা হয়েছে এরপর আর কোনো সংলাপ হয়নি। হুমায়রা বরাবরই চাপা স্বভাবের, যে তার সাথে মিশবে সেও তার সাথেই মিষ্টিমুখে কথা বলবে। নয়তো কারো সাথে যেচে পড়ে ভাব করায় অভ্যস্ত নয় সে। ক্ষণিক আগেই নাজমিন বেগম তাকে ডেকে এনেছে জিনিয়াকে শাড়ি পড়িয়ে দেওয়ার জন্য। এতক্ষণ সাথে ইকরাও ছিল। মহিলা গুলো হুমায়রাকে তার পারিবারিক ও শিক্ষাগত ব্যাপারে যত প্রশ্ন করেছে সব উত্তর দিয়েছে বসে বসে। মাত্রই বাইরে থেকে ডাক পড়ায় বেরিয়ে গেছে সে। ইকরা যেতেই ভদ্র মহিলারা নিজেদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু করলেন,
“ এমন একটা মাদ্রাসায় পড়ুয়া, শান্ত শিষ্ট মেয়ের কপালে কিনা নেশাখোর, বদমেজাজি, বখাটে স্বামী জুটল!
শুধু তাই নয় আপা, এই ছেলেকে রাস্তা ঘাটে মারাপিট ও করতে দেখেছি আমি। ঘরের কারো কথাই শুনে না। বাপ – মা কাউকেই মানে। আমার তো মনে হয়, মেয়েটাকেও মারে! জীবনটা নষ্ট হবে মেয়েটার। সৃষ্টিকর্তা যে কীভাবে এমন একটা মেয়ের কপালে এতো খারাপ একটা জীবনসঙ্গী দিল তিনিই জানেন! দুজন দুই মেরুর মানুষ! মেয়েটার সাথে মোটেও যায় না এই ছেলেকে। আরো ভালো জায়গায় বিয়ে হতো মেয়েটার! ”
একেক জনের একেক কথা। হুমায়রার কানে স্পষ্ট পৌঁছাল কথাগুলো। সাথে বেজায় বিরক্ত হলো সে। ততক্ষণে শাড়ি পড়ানো শেষ। মেয়েটা সোজা হয়ে দাঁড়াল। পরপর সহ্য করতে না পেরে মহিলাগুলোর উদ্দেশ্যে বলল,
“ আমার স্বামী বিরিখোর, নেশাখোর, বদমেজাজি,বখাটে যাই হোক না কেন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছানুযায়ী পবিত্র বিধান মেনে আমাদের ভাগ্য একত্র হয়েছে! তিনি পাপীষ্ঠ কিংবা পবিত্র উভয় রূপেই আমার অর্ধাঙ্গ। সুতরাং এখন তার সম্মান মানেই আমার সম্মান। দয়া করে আমার সামনে তার বদনাম করবেন না। আর মনে রাখবেন, নিশ্চই মহান আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারী! আমার কোনো কথায় কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী! আসসালামু আলাইকুম……”
মেয়েটার মাথা নিচু, কণ্ঠ শান্ত অথচ প্রতিটা কথায় যেন লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য গাম্ভীর্যতা! উপস্থিত সকলে নির্বাক! সবগুলো হকচকিত দৃষ্টি হুমায়রার যাওযার পানে নিবদ্ধ। এমনকি জিনিয়াও স্তব্ধ! তার চোখের পাতা যেন পড়ছেই না।
এইদিকে দরজার বাইরে থেকে রমণীর বলা বাক্যগুলো শুনে কারো পদ যুগল থমকে গেল। থমকল তার মস্তিষ্ক। এক লহমার জন্য নিজেকেই নিজের বিশ্বাস হলো না তার!
“ আপনি এখানে….? ”
দরজার বাইরে কিছুটা অদূরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা কৃশানকে দেখতেই প্রশ্ন ছুঁড়ল হুমায়রা। মানুষটা বোধ হয়, অন্য ভাবনাতে ডুবে ছিল গলার আওয়াজে কেমন যেন সম্বিৎ ফেরার ন্যায় নড়ে উঠল। সময় নিয়ে সোজা সাপ্টা উত্তর করল,
“ তোকেই খুঁজছিলাম। এখানে কি করছিলি? ”
“ বড় ভাবীকে শাড়ি পড়াতে এসেছিলাম। ”
“ নাহ, বলতে হবে জীবনে সবদিক দিয়ে হেরে গেলেও বউয়ের দিক দিয়ে একেবারে গর্জিয়াস ভাবে জিতেছি! ”
মনে মনে বলল কৃশান। মুখে বলল,
“ ওহ, ”
তাদের কথার মাঝেই একজন ভদ্রমহিলা এদিকটায় এলেন। রুমে প্রবেশ করতে নিবেন তখনি হুমায়রার দিক নজর যেতে না চিনতে পেরে কৃশানকে জিজ্ঞেস করলেন,
“ এটা কে? ”
“ ইকরার বান্ধবী! ”
অভ্যাস মোতাবেক কোনোকিছু না ভেবেই উত্তর দিয়ে বসল কৃশান। অথচ পাশে থাকা রমণীর বুকে গিয়ে বিধল কথা খানি। মহিলাটি আর কিছু বললেন না। হুমায়রার পাশ কাটিয়ে রুমে চলে গেলেন তিনি। পুরোটা সময় নির্জীব প্রাণীর মতো থ হয়ে রইল মেয়েটা। কিচ্ছুটি বলল না আর।
ঘড়ির কাঁটায় তখন চারটা ত্রিশে পৌঁছেছে। বাড়ি তখন শূন্যের কৌটায়। একাধারে সকল আত্মীয় স্বজনের বিদায় হয়েছে। আকাশের অবস্থা সুবিধার নয়। নাজমিন বেগমে ও ইয়াসমিন বেগম দুই জা তৈরি হয়ে আসতেই তড়িঘড়ি করে বাড়ির জন্য রওনা শুরু করল মোল্লা পরিবার অর্থাৎ ইকরার শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এতক্ষণ এই অপেক্ষাতেই বসে ছিলেন তারা। যাওযার সময় হুট করেই দুই বেয়াইনকে তাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য আবদার ছুঁড়ে বসলেন ফরিদা বেগম। দুজনেই প্রথমে অমত করেছিল। তবে ফরিদা বেগম নাছোড়বান্দা! আর এমনিতেই সবে মন মালিন্যতার পর্ব শেষ হয়েছে তাই এখন ফরিদা বেগমের এতো অনুরোধের বিরুদ্ধে যেতে পারেনি দুই জা। বাধ্য হয়েই মেয়ের বাড়িতে যেতে হচ্ছে তাদের। ইকরা তো মহা খুশি! কতক্ষণ হুমায়রার পেছনেও লেগে ছিল যাওযার জন্য। তবে হুমায়রাকে কোনোভাবেই রাজি করানো সম্ভব হয়নি। অগত্যা তাকে বাড়িতে একা রেখেই যেতে হচ্ছে।
সবাই চলে যেতেই দরজা লাগিয়ে এসে রুমে বসল হুমায়রা। আপাতত বাড়িতে সে ছাড়া কেউ নেই। কৃশান আরো আগেই বাইরে বেরিয়ে গেছে।
সময়ের সাথে পাল্লা ধরে আকাশের অবস্থা ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। প্রবল বাতাসের সাথে অম্বর জুড়ে কালো মেঘ মালারা ছুটাছুটি করছে। যেকোনো সময় ভারী জল রাশির ধারা হয়ে জমিনে লুটিয়ে পড়বে তারা। মাগরিবের সালাত সম্পন্ন করে করিডোর দিয়ে আকাশের এমন অবস্থা দেখে ব্যস্ত পায়ে রুমে এলো হুমায়রা। এর মাঝেই বিদ্যুৎ চলে গেল। বিছানা হাতড়ে ফোন বের করে কৃশানের নাম্বারে কল লাগাল। একবার, দুবার, তিনবার – গুণে গুণে পাঁচবার কল দেয়ার পরেও যখন ওপাশ থেকে রেসপন্স মিলল না। তখন বিষন্ন মনটা আরো বিষিয়ে উঠল মেয়েটার। আর কল দিল না সে। সময় নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে একটা মেসেজ লিখল,
“আসসালামু আলাইকুম, বাড়িতে কেউ নেই। আম্মু, বড় আম্মুকে ইকরার শ্বাশুড়ি জোড় করে তাদের সাথে নিয়ে গেছে। পারলে একটু তাড়াতাড়ি বাড়িতে আসার চেষ্টা করবেন। ”
রবির ছোট খাটো ব্যাচেলর রুমটায় আজকে দারুণ আড্ডা জমেছে। একটু পর পরই অশান্ত প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শোনা যাচ্ছে চারটি পুরুষালী কণ্ঠের হইচই। চার বন্ধু মিলে বাজি ধরে লুডু খেলছে, আর ঝালমুড়ি খাচ্ছে। খেলাটা চলছে রবির ফোনে। আর বাদ বাকি সবার ফোন বিছানার এখানে সেখানে পড়ে আছে। খেলা একেবারে শেষ পর্যায়ে। সকলের ভিতর টানটান উত্তেজনা। দুর্ভাগ্য ক্রমে এবার তিন বারের বেলায়ও হেরে গেল রবি। সাথে সাথেই আরেকদফা হইচই পড়ল। কৃশানের মুখে বিশ্বজয়ের হাসি। তিনবারই প্রথম হয়েছে সে। মসজিদে তখন এশারের আজান পড়ছে। রবি মন খারাপ করে বলল,
“ আজকে আর খেলব না, আজকে লাক খারাপ আমার! ”
“ প্রতিবার হারার পর একই কথা বলিস! ”
বলতে বলতেই কিছুটা দূরে বালিশের কাছ থেকে মোবাইলটা আনলো কৃশান। পরপরই স্ক্রিনের দিক তাকিয়ে চারশ আশি ভোল্টেজের ধাক্কা খেল। কণ্ঠনালী চিরে বেরিয়ে আসলো অস্পষ্ট আর্তনাদ,
“ ওহ, ন্যো! ”
“ কিরে কি হয়েছে? ”
কৃশানের মধ্যে তাড়, সে কোনোদিক না তাকিয়ে উঠে দাঁড়াল। বাইরের উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই ভিতর থেকে বাকিরা চেঁচিয়ে উঠল,
“ এই এই, বৃষ্টির মধ্যে কোথায় যাচ্ছিস তুই? ছাতা নিয়ে যা। আর জিতলি যে ট্রিট নিয়ে যাবি না! ”
“ গো টু দ্যা হ্যাল! ”
ভিতরে শুধু তার গলার আওয়াজ টাই পৌঁছাল। কন্ঠের মালিকের অবয়ব ততক্ষনে চোখের আড়াল হয়ে গেছে।
বাইরে তুমুল বর্ষণ, আধারে ঢাকা মির্জা নিবাস। বিদ্যুৎ লাইনের বিচ্ছিন্নতায় চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে এসেছে। মানবশূন্য নির্জীব বাড়িটার নামাজঘরে গুটিসুটি মেরে বসে আছে হুমায়রা। দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে হাঁটুতে মুখ গুঁজে রেখেছে। কোনোরূপ নড়চড় নেই। সহসা ভেড়ানো দরজার ফাঁক গলে হালকা কৃত্রিম আলোর রেখা প্রবেশ করল কক্ষটিতে। ধীরে ধীরে সেই আলোর উৎসটি হুমায়রার একদম নিকটে এলো। ধ্বনিত হলো একটি হীম শীতল কণ্ঠ,
“ হুমায়রা…..”
কৃশানের অবস্থা ভিজে চুপচুপে হয়ে আছে। ললাটে থাকা চুলের থেকে টুপ করে এক ফোঁটা পানি হুমায়রার শরীরে পড়তেই আস্তে ধীরে মাথা তুলে তাকাল সে। সেদিকে তাকাতেই বুকটা ছ্যাৎ করে উঠল কঠোর মানবের। কান্নার দরুন মেয়েটার চোখ মুখ ফুলে গেছে, রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে ফর্সা আদল। ছেলেটা উদ্বিগ্ন হলো, উতলা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“ বেশি ভয় পেয়েছিস? ”
তার এমন মোলায়েম কণ্ঠের পৃষ্ঠে কোনো বাক্য বিনিময় করল না রমণী। সময় নিয়ে দুদিকে মাথা নাড়াল- বুঝাল ভয় পায়নি সে। পরক্ষণেই বসা থেকে উঠে দাঁড়াল। হাঁটা ধরল কক্ষের উদ্দেশ্যে। তার কাণ্ডে কিছুটা অবাক হলো কৃশান। তবে কিছু বলল না, নিজেও চলল পিছু পিছু।
কক্ষে এসে সরাসরি বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল হুমায়রা। সেদিকে এক পল তাকিয়ে নিঃশব্দে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল কৃশান। ভেজা শার্ট প্যান্ট পাল্টে নিজেও এসে শুয়ে পড়ল। পিনপতন নীরবতা বহমান কক্ষজুড়ে।
“ তখন ফোনটা হাতের কাছে ছিল না আর আমার ফোন তো সবসময় সাইলেন্ট থাকে জানিসই- সেজন্য কল মেসেজ দেখিনি। ”
অকস্মাৎ নীরবতা চিরে কানে ভেসে আসলো কৃশানের পুরুষালী কণ্ঠের স্বীকারোক্তি। উত্তরে হুমায়রার তরফ থেকে কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া মিলল না। ফের শোনা গেল একই স্বর,
“ কারেন্ট কখন গিয়েছিল? ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে রাখলেই তো এতোটা ভয় পেতি না! ”
“ আমি অন্ধকারে ভয় পাইনা, এর আগেও এমন পরিস্থিতিতে একাই ছাদে ছিলাম! ”
কৃশানের স্মরণে এলো সেই রাতের কথা। বুঝতে পারল মেয়েটা ভয়ে কাঁদে নি অন্য কারণে কেঁদেছে। তৎক্ষনাৎ প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“ তাহলে চোখ মুখের এই অবস্থা কেন? ”
“ ……………. ”
“ কেউ কিছু বলেছে? ”
“ না! ”
“ তাহলে? ”
“ ………………”
“ কথা বলছিস না কেন? ”
এবারও নিরুত্তর রইল হুমায়রা। মেয়েটার এমন নীরবতা মোটেও সহ্য হচ্ছে না কৃশানের। সে হুট করেই পেছন থেকে কোমড় জড়িয়ে ধরল, পরপর হ্যাঁচকা টানে হুমায়রার ছোট্ট দেহটাকে নিজের দিক ফিরাল। মুহূর্তেই দুজনের মধ্যবর্তী দুরত্ব ঘুচে গেল। ব্যাপারটা বোধ হয় পছন্দ হলো না হুমায়রার। সে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলে উঠল,
“ ছাড়ুন আমায়…….”
তার প্রতিক্রিয়া দেখে কপাল কুঁচকে গেল কৃশানের। গম্ভীর আওয়াজে শুধাল,
“ কি হয়েছে? ”
“ কিছুনা, ছাড়ুন আমায়! ”
“ তাহলে এমন করছিস কেন? আর চোখ মুখেরই বা এমন অবস্থা কেন? ”
“ কিছু হয়নি আমার আর হলেই বা আপনার কি? কে হই আমি আপ……….”
বাক্য শেষ করতে পারল সে। এর আগেই কৃশানের ঠান্ডা হাত মেয়েটার ঘাড় চেপে ধরল। বলিষ্ঠ হাতে কিছুটা শক্তি প্রয়োগ করে তার ছোট্ট মুখটা একেবারে কাছাকাছি নিয়ে এলো। এতোটা কাছাকাছি যে, শ্বাস প্রশ্বাসের বারিতে হুমায়রার জবান আপনা আপনিই বন্ধ হয়ে গেল। তখনি হৃদয়ে ঝড় তুলল মানুষটার অদ্ভূত স্বর,
“ ট্রাস্ট মি, যদি আজকে সিগারেট না খেতাম তাহলে এক্ষুনি তোর দেহের প্রতিটা অঙ্গ প্রতঙ্গে তোকে চেনার চিহ্ন এঁকে দিতাম আমি! নিজের দিক তাকালেই বুঝতে পারতি তুই এই কৃশান মির্জার কে…! ”
ক্ষণিকের জন্য গা সুদ্ধ শিউরে উঠল হুমায়রার। নড়াচড়া বন্ধ করে স্তব্ধ হয়ে রইল সে। এর মাঝেই কৃশান আবারও জিজ্ঞেস করল,
“ কি হয়েছে? আজ হঠাৎ এতো জেদ দেখচ্ছিস কেন? কারো জেদ সহ্যে অভ্যস্ত নই আমি। পরে রেগে গিয়ে তোকে কষ্ট দিয়ে ফেলব কিন্তু! তাড়াতাড়ি বল কি হয়েছে? ”
একটু থেমে বলল,
“ কেউ কিছু বলেছে? নাকি আমার কোনো আচরণে কষ্ট পেয়েছিস? ”
“ না….”
ছোট উত্তর হুমায়রার। এবারও না সূচক শব্দে মেজাজ খারাপ হলো কৃশানের। কপালের রগ ফুলে উঠল নিমিষেই। রাগ চরম পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে বুঝতেই কপালে কপাল ঠেকিয়ে দিল সে। শ্বাস নিয়ে নিজেকে দমানোর চেষ্টা করে অত্যধিক শান্ত গলায় বলল,
“ শুন হুজুরনী-আমি জানি আমি অগোছাল, আমার অনুভূতিগুলোও অগোছাল জানিনা কি নিয়ে অভিমান করেছিস বা কিভাবে তোর অভিমান ভাঙ্গাব। শুধু এটুকু জানি- তোর নীরবতা এ হৃদয়টাতে জ্বালা সৃষ্টি করে। সহ্য হয়না একদম….!
খানেক থেমে ফের কাতর কণ্ঠে ডেকে উঠল,
“ এই হুজুরনী, কথা বলবি না…? ”
“ আপনি কি এখনো আমায় বউ হিসেবে মানেন না? ”
এতক্ষণে এসে মুখ খুলল হুমায়রা। অপ্রত্যাশিত প্রশ্নটা শুনতেই ভ্রূ উঁচু হলো কৃশানের। বলল,
“ না মানলে এভাবে আমার বুকে থেকে আমার সাথে জেদ দেখাতে পারতি..! ”
“ তাহলে তখন ঐ আন্টি আমার পরিচয় জিজ্ঞেস করাতে যে বললেন – ইকরার বান্ধবী? ”
হোঁচট খাওয়ার মতো দৃষ্টি নিক্ষেপ করল কৃশান। ভীষন অবাক হলো। হুমায়রা যে এই ব্যাপারটা নিয়ে রাগ করবে তা কল্পনাতেও আসেনি। তার মতো নেশাখোর, বখাটের বউয়ের পরিচয় না পেয়ে এতো অভিমান এই মেয়ের!
দুহাতে চাপ প্রয়োগ করে স্ত্রীর লতানো দেহখানা এবার নিজের উপর নিয়ে এলো কৃশান। হুমায়রার পুরো শরীরের ভার তখন তার উপর। আবছা আলোয় রমণীর ফোলা ফোলা মুখপানে তাকিয়ে সে বিকৃত কণ্ঠে বলল,
“ এই নেশাখোর, বিরিখোর, বখাটে ছেলেটার বউয়ের স্বীকৃতি পাওয়ার এতো ইচ্ছে তোর? মানুষ যখন তোকে নেশাখোরের বউ বলবে তখন? ”
“ মানুষের বলায় কি! সত্য তো এটাই আপনি আমার স্বামী আর আমি আপনার……”
শেষদিকে এসে থেমে গেল মেয়েটা। ঠোঁট চেপে হাসল কৃশান। পরক্ষণেই হুমায়রার অসম্পূর্ণ বাক্যটাকে পূর্ণতা দিতে তার কানের কাছে মুখ নিয়ে, নেশাতুর কণ্ঠে ফিসফিস করে উচ্চারণ করল,
“ বউ…..!
আমার বউ….!
এই কৃশান মির্জার বউ…..!
বখাটে কৃশানের একমাত্র আদুরে বউ……! ”
বউ, বউ, বউ….! ”
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৩৮
অদ্ভূত ভালোলাগার অনুভূতিতে ক্লান্ত আঁখিযুগল নিভে এলো হুমায়রার। আবেশে মুখ গুঁজে দিল মানুষটার চওড়া বুকে। ভিতরে তখন তোলপাড়! তবে উপরে একেবারে স্থির হয়ে আছে সে। কৃশানের আলগা হাত এবার শক্ত হলো। শক্ত পোক্ত এক বন্ধনে জড়িয়ে নিল স্ত্রীর অনড় দেহ টাকে। পরপর দুজনেই পারি জমাল ঘুমের দেশে।

porar porbo gula taratari dio plz….
How sweet…. Episode ta sundor hoice ajk…